Tajbidul Quran (Code: 201102) – ২০২১ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২১ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তাজভীদুল কুরআনিল কারীম ও হিফয (تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষায় আসা সবকটি প্রশ্নের (অথবাসহ) পূর্ণাঙ্গ উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
مجموعة (الف) / (ক) অংশ (মান—৩০)
[ أجب عن اثنين من الأسئلة التالية / নিম্নের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও ] (মান—২০)
১। (ক) [ইলমুল ক্বিরাআত-এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর সাত ও দশ ক্বিরাআত সম্পর্কে আলোচনা কর।]
উত্তর:
ইলমুল ক্বিরাআত-এর সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে ‘ক্বিরাআত’ (قراءة) শব্দটি قَرَأَ (সে পড়লো) ক্রিয়ামূলের মাজদার, যার অর্থ পড়া বা পাঠ করা। পারিভাষিক অর্থে, ইলমুল ক্বিরাআত হলো এমন একটি শাস্ত্র বা বিদ্যা, যার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি উচ্চারণের পদ্ধতি, হরফগুলোর আদায়রীতি এবং বর্ণনাকারীদের সূত্র (সনদ) সম্পর্কে জানা যায়।
সাত ও দশ ক্বিরাআত (القراءات السبع والعشر):
রাসুল (সা.) উম্মতের সুবিধার্থে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে সাতটি হরফে বা পঠনরীতিতে কুরআন পড়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রহ.) হিজরি চতুর্থ শতকে মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা ও সিরিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ সাতজন ইমামের ক্বিরাআতকে চূড়ান্ত ও বিশুদ্ধ হিসেবে সংকলন করেন। একেই ‘ক্বিরাআতে সাবআ’ বা সাত ক্বিরাআত বলা হয়। এই সাতজন ইমাম হলেন: (১) ইমাম নাফে’ (২) ইমাম ইবনে কাসীর (৩) ইমাম আবু আমর (৪) ইমাম ইবনে আমের (৫) ইমাম আসিম (৬) ইমাম হামযা (৭) ইমাম কিসাই।
পরবর্তীতে আল্লামা ইবনুল জাযারি (রহ.) আরো তিনজন মশহুর ইমামের ক্বিরাআতকে এর সাথে যুক্ত করে একে ‘ক্বিরাআতে আশারা’ বা দশ ক্বিরাআত হিসেবে স্বীকৃতি দেন। শেষের তিনজন হলেন: (৮) ইমাম আবু জাফর (৯) ইমাম ইয়াকুব (১০) ইমাম খালাফ।
১। (খ) [কুরআন ও সুন্নাহর দলিল উল্লেখপূর্বক তাজভীদসহকারে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।]
উত্তর: কুরআন মাজিদের প্রতিটি হরফের মাখরাজ ও সিফাত ঠিক রেখে পড়াকেই ‘তাজভীদ’ বলা হয়। তাজভীদসহকারে কুরআন তেলাওয়াত করা ফরজ।
কুরআনের দলিল: আল্লাহ বলেন: ﴿ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا ﴾ “আর তুমি কুরআন তিলাওয়াত করো ধীরস্থির ও সুষ্পষ্টভাবে (তাজভীদসহকারে)।” (সূরা মুযযাম্মিল: ৪)
সুন্নাহর দলিল: রাসুল (সা.) বলেন: «زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» “তোমাদের কণ্ঠস্বর দ্বারা কুরআনকে সুশোভিত করো।” (আবু দাউদ)
তাজভীদ ছাড়া কুরআন পড়লে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়, যার ফলে সওয়াবের বদলে গুনাহ হয় এবং নামাজও বাতিল হয়ে যেতে পারে।
১। (গ) [البسملة এবং الاستعاذة কাকে বলে? এদের শাব্দিক গঠন ও বিধানসমূহ কী কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
ইস্তিয়াজা (الاستعاذة): শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করাকে ইস্তিয়াজা বলে। এর গঠন বা শব্দাবলি হলো: “أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ” (আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম)। কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার আগে ইস্তিয়াজা পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (কারো কারো মতে ওয়াজিব)।
বিসমিল্লাহ (البسملة): আল্লাহর নামে শুরু করাকে বিসমিল্লাহ বা তাসমিয়াহ বলে। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: “بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ” (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)। সূরা তওবা ব্যতীত কুরআনের প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত। এক সূরা শেষ করে অন্য সূরা শুরু করার সময়ও বিসমিল্লাহ পড়তে হয়।
১। (ঘ) [اللحن পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ এবং হুকুমসমূহ উদাহরণসহ আলোচনা কর।]
উত্তর:
লাহনের পরিচয়: ‘লাহন’ (اللحن) অর্থ ভুল করা বা সুর বিকৃত করা। তাজভীদের পরিভাষায়, কুরআন তিলাওয়াতে নিয়মাবলি ভঙ্গ করে ভুলভাবে পড়াকে লাহন বলে।
প্রকারভেদ ও হুকুম: লাহন দুই প্রকার:
- লাহনে জলি (اللحن الجلي): এটি হলো বড় বা স্পষ্ট ভুল। যেমন, এক হরফের জায়গায় অন্য হরফ পড়া (ط এর জায়গায় ت পড়া) অথবা যবর-যের-পেশে ভুল করা (যেমন: اَنْعَمْتَ এর বদলে اَنْعَمْتُ পড়া)। এই লাহন করা হারাম বা কবিরা গুনাহ। এতে অর্থ বিকৃত হলে নামাজ ফাসেদ হয়ে যায়।
- লাহনে খফি (اللحن الخفي): এটি হলো ছোট বা অস্পষ্ট ভুল। যেমন, গুন্নাহ আদায় না করা, মদের স্থানে মদ না করা ইত্যাদি। এই ধরনের লাহন করা মাকরুহ, তবে এতে সাধারণত অর্থ বিকৃত হয় না।
[ أجب عن اثنين من الأسئلة التالية / নিম্নের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও ] (মান—১০)
২। (ক) [দলিল উল্লেখপূর্বক কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত আলোচনা কর।]
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতগুলোর অন্যতম। রাসুল (সা.) বলেন: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ» “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” (বুখারি)
কুরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতে ১০টি করে নেকি পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) বলেন, “আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।” (তিরমিযি)। কিয়ামতের দিন এই কুরআন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে।
২। (খ) [الراء এর বিধানসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
উত্তর: ‘রা’ (ر) হরফটি কখনো মোটা বা পুর (تفخيم) করে পড়তে হয়, আবার কখনো চিকন বা বারিক (ترقيق) করে পড়তে হয়।
- মোটা বা পুর করে পড়ার নিয়ম: ‘রা’ এর ওপর যবর বা পেশ থাকলে, অথবা ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্বের হরফে যবর বা পেশ থাকলে ‘রা’ কে মোটা করে পড়তে হয়। (যেমন: رَبِّ، رُزِقْنَا، يَرْحَمُ)
- চিকন বা বারিক করে পড়ার নিয়ম: ‘রা’ এর নিচে যের থাকলে, অথবা ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্বের হরফে আসল যের থাকলে ‘রা’ কে চিকন করে পড়তে হয়। (যেমন: رِزْقًا، فِرْعَوْن)
২। (গ) [الوقف এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর আলামতসমূহ লিপিবদ্ধ কর।]
উত্তর: ‘ওয়াকফ’ (الوقف) অর্থ থামা বা বিরতি দেওয়া। কুরআন পড়ার সময় শ্বাস নেওয়ার জন্য শব্দের শেষে আওয়াজ ও শ্বাস বন্ধ রাখাকে ওয়াকফ বলে।
কুরআনে ওয়াকফের বিভিন্ন আলামত বা চিহ্ন রয়েছে, যেমন:
- (م) ওয়াকফে লাযিম: এখানে অবশ্যই থামতে হবে।
- (ط) ওয়াকফে মুতলাক: এখানে থামা উত্তম।
- (ج) ওয়াকফে জায়িয: এখানে থামা ও মিলিয়ে পড়া উভয়ই জায়েজ।
- (ز) ওয়াকফে মুজাওওয়ায: এখানে না থামাই ভালো।
- (لا) লা-তাকিফ: এখানে থামা যাবে না, মিলিয়ে পড়তে হবে।
২। (ঘ) [المد এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর হরফসমূহ উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]
উত্তর: ‘মদ’ (المد) অর্থ দীর্ঘ করা বা টেনে পড়া। মদের হরফ আসলে স্বরকে প্রলম্বিত করে বা টেনে পড়াকে মদ বলে।
মদের হরফ মোট তিনটি: আলিফ (ا), ওয়াও (و), এবং ইয়া (ي)।
- যবরের বাম পাশে খালি আলিফ থাকলে মদ হয়। (যেমন: قَالَ – ক্ব–লা)
- পেশের বাম পাশে জযমওয়ালা ওয়াও থাকলে মদ হয়। (যেমন: يَقُولُ – ইয়াক্বূ–লু)
- যেরের বাম পাশে জযমওয়ালা ইয়া থাকলে মদ হয়। (যেমন: قِيلَ – ক্বী–লা)
مجموعة (ب) / (খ) অংশ — সূরা মুখস্থ লিখন (মান—২০)
৩। [হরকতসহ নিম্নের যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লেখ:]
(الف) سورة الاعلى (সূরা আল-আ’লা)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ﴿١﴾ الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ ﴿٢﴾ وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ ﴿٣﴾ وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَىٰ ﴿٤﴾ فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَىٰ ﴿٥﴾ سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰ ﴿٦﴾ إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ ﴿٧﴾ وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٨﴾ فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ الذِّكْرَىٰ ﴿٩﴾ سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ ﴿١٠﴾ وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى ﴿١١﴾ الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَىٰ ﴿١٢﴾ ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ ﴿١٣﴾ قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ﴿١٤﴾ وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ ﴿١٥﴾ بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ﴿١٦﴾ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ ﴿١٧﴾ إِنَّ هَٰذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَىٰ ﴿١٨﴾ صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ ﴿١٩﴾
(ب) سورة البينة (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ ﴿١﴾ رَسُولٌ مِّنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفًا مُّطَهَّرَةً ﴿٢﴾ فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ ﴿٣﴾ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ ﴿٤﴾ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ﴿٥﴾ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ ﴿٦﴾ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ ﴿٧﴾ جَزَاؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۖ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ ﴿٨﴾
(ج) سورة الزلزال (সূরা আয-যিলযাল)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١﴾ وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾ وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ﴿٣﴾ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ﴿٤﴾ بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ﴿٥﴾ يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ ﴿٦﴾ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ﴿٧﴾ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ﴿٨﴾
(د) سورة القارعة (সূরা আল-কারিআহ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الْقَارِعَةُ ﴿١﴾ مَا الْقَارِعَةُ ﴿٢﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ ﴿٣﴾ يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ ﴿٤﴾ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ ﴿٥﴾ فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ ﴿٦﴾ فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ﴿٧﴾ وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ﴿٨﴾ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ﴿٩﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ﴿١٠﴾ نَارٌ حَامِيَةٌ ﴿١١﴾
مجموعة (ج) / (গ) অংশ — অনুবাদ ও বিশ্লেষণ (মান—٣٠)
৪। [নিম্নের যে কোনো দুটি কুরআনের আয়াতের বঙ্গানুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
(الف) فاذا جاءت الصاخة- يوم يفر المرء من اخيه وامه وابيه، وصاحبته وبنيه- لكل امرئ منهم يومئذ شأن يغنيه- وجوه يومئذ مسفرة، ضاحكة مستبشرة- وجوه يومئذ عليها غبرة-
বঙ্গানুবাদ: অতঃপর যখন কান-ফাটানো আওয়াজ (শিঙ্গায় ফুৎকার) আসবে। যেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, এবং তার মাতা ও তার পিতার কাছ থেকে, এবং তার স্ত্রী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন গুরুতর অবস্থা হবে যে, নিজেকে নিয়েই সে ব্যস্ত থাকবে। সেদিন অনেক চেহারা হবে উজ্জ্বল, হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল। আবার অনেক চেহারা হবে সেদিন ধূলিমলিন।
(١) الصاخة এর অর্থ ও কিয়ামতের ১০টি নাম:
الصاخة অর্থ বধিরকারী বা কান-ফাটানো বিকট আওয়াজ। কিয়ামতের ১০টি নাম: ১. يوم القيامة (কিয়ামত দিবস) ২. الحاقة (সুনিশ্চিত বিষয়) ৩. القارعة (মহা বিপদের দিন) ৪. يوم الدين (প্রতিদান দিবস) ৫. يوم الحساب (হিসাবের দিন) ৬. يوم الفصل (ফায়সালার দিন) ৭. يوم الجمع (একত্রিত করার দিন) ۸. الغاشية (আচ্ছন্নকারী বিপদ) ۹. الواقعة (সংঘটিত বিষয়) ۱۰. الساعة (নির্ধারিত সময়)।
(٢) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الاتية):
- يَفِرُّ: صيغة (সাদামাটা শব্দরূপ): واحد مذكر غائب (নাম পুরুষ একবচন)। بحث (অধ্যায়): اثبات فعل مضارع معروف। مصدر (মূল ধাতু): فَرٌّ। مادة (মূল অক্ষর): ف ر ر। باب (অনুচ্ছেদ): ضرب يضرب। অর্থ: সে পলায়ন করবে।
- يُغْنِيْهِ: صيغة: واحد مذكر غائب। بحث: اثبات فعل مضارع معروف। مصدر: اِغْنَاءٌ। مادة: غ ن ي। باب: افعال। ضمير الهاء (হুঁ সর্বনাম) হলো مفعول به। অর্থ: তাকে অমুখাপেক্ষী করবে / তাকে ব্যস্ত রাখবে।
- مُسْفِرَةٌ: صيغة: واحد مؤنث। بحث: اسم فاعل। مصدر: اِسْفَارٌ। مادة: س ف ر। باب: افعال। অর্থ: উজ্জ্বল / আলোকিত।
- غَبَرَةٌ: صيغة: واحد مؤنث। بحث: اسم (বিশেষ্য)। مادة: غ ب ر। অর্থ: ধূলিমলিন / মলিনতা।
(ب) الم تر كيف فعل ربك بعاد- ارم ذات العماد- التى لم يخلق مثلها فى البلاد وثمود الذين جابوا الصخر بالواد وفرعون ذى الاوتاد- الذين طغوا فى البلاد- فاكثروا فيها الفساد- فصب عليهم ربك سوط عذاب-
বঙ্গানুবাদ: আপনি কি দেখেননি আপনার রব আদ জাতির সাথে কী আচরণ করেছেন? ইরাম গোত্রের সাথে, যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী? যাদের সমকক্ষ অন্য কোনো দেশে সৃষ্টি করা হয়নি। এবং সামুদ জাতির সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল? এবং বহু সৈন্য-সামন্তের অধিকারী ফিরআউনের সাথে? যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল এবং সেখানে ব্যাপক ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। অতঃপর আপনার রব তাদের ওপর শাস্তির কশাঘাত হানলেন।
(١) আদ জাতির নবী ও তাদের ধ্বংসের কারণ:
আদ জাতির প্রতি প্রেরিত রাসুল ছিলেন হযরত হুদ (আ.)। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছিলেন কারণ তারা অহংকারী হয়ে আল্লাহর সাথে শিরক করেছিল, হুদ (আ.)-কে অস্বীকার করেছিল এবং পৃথিবীতে চরম অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করেছিল। তাই আল্লাহ এক প্রচণ্ড ও ধ্বংসাত্মক ঝঞ্ঝাবায়ু দিয়ে তাদের সমূলে বিনাশ করে দেন।
(٢) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الاتية):
- جَابُوْا: صيغة: جمع مذكر غائب। بحث: اثبات فعل ماضى معروف। مصدر: جَوْبٌ। مادة: ج و ب। باب: نصر ينصر। অর্থ: তারা কেটেছে / ছিদ্র করেছে।
- طَغَوْا: صيغة: جمع مذكر غائب। بحث: اثبات فعل ماضى معروف। مصدر: طُغْيَانٌ। مادة: ط غ ي। باب: فتح يفتح। অর্থ: তারা সীমালঙ্ঘন করেছে।
- أَكْثَرُوْا: صيغة: جمع مذكر غائب। بحث: اثبات فعل ماضى معروف। مصدر: اِكْثَارٌ। مادة: ك ث ر। باب: افعال। অর্থ: তারা বেশি মাত্রায় করেছে।
- صَبَّ: صيغة: واحد مذكر غائب। بحث: اثبات فعل ماضى معروف। مصدر: صَبٌّ। مادة: ص ب ب। باب: نصر ينصر। অর্থ: তিনি ঢেলে দিয়েছেন / বর্ষণ করেছেন।
(ج) اذا السماء انفطرت- واذا الكواكب انتثرت- واذا البحار فجرت- واذا القبور بعثرت- علمت نفس ما قدمت واخرت- يا ايها الانسان ما غرك بربك الكريم- الذى خلقك فسواك فعدلك فى اى صورة ما شاء ركبك-
বঙ্গানুবাদ: যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, এবং যখন নক্ষত্রমণ্ডল ঝরে পড়বে, এবং যখন সমুদ্রগুলোকে উত্তাল করে তোলা হবে, এবং যখন কবরগুলোকে উন্মোচিত করা হবে, তখন প্রত্যেকেই জানতে পারবে সে কী আগে পাঠিয়েছে এবং কী পিছনে ছেড়ে এসেছে। হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন। তিনি যে রূপ চেয়েছেন, সে রূপে তোমাকে গঠন করেছেন।
(١) “واذا القبور بعثرت” এর তাফসির: এর অর্থ হলো কিয়ামতের দিন কবরসমূহ বিদীর্ণ হবে এবং মাটি ওলটপালট হয়ে যাবে। এর ভেতরে থাকা মৃতদেহগুলোকে জীবিত করে বের করে আনা হবে আল্লাহর দরবারে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য।
(٢) اشراط الساعة (কিয়ামতের আলামত) সম্পর্কে আলোচনা:
কিয়ামতের আলামত বা লক্ষণগুলো প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। ১. ছোট আলামত (علامات صغرى): যেমন—অমানতদারি উঠে যাওয়া, ব্যভিচার ও মদ্যপান বৃদ্ধি পাওয়া, অজ্ঞতা বেড়ে যাওয়া, নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া, বড় বড় দালানকোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতা হওয়া ইত্যাদি। ২. বড় আলামত (علامات كبرى): যেমন—দাজ্জালের আগমন, ঈসা (আ.) এর আকাশ থেকে অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব, সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া, দাব্বাতুল আরদ (অদ্ভুত প্রাণী) এর আত্মপ্রকাশ ইত্যাদি। এই আলামতগুলো প্রকাশ পাওয়ার পরপরই শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং কিয়ামত সংঘটিত হবে।
(د) ان بطش ربك لشديد- انه هو يبدئ ويعيد- وهو الغفور الودود ذو العرش المجيد- فعّال لما يريد- هل اتاك حديث الجنود فرعون وثمود- بل الذين كفروا فى تكذيب- والله من ورائهم محيط- بل هو قرآن مجيد فى لوح محفوظ-
বঙ্গানুবাদ: নিশ্চয়ই আপনার রবের পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন। নিশ্চয়ই তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং তিনিই আবার সৃষ্টি করবেন (পুনরুত্থান ঘটাবেন)। আর তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম প্রেমময়। তিনি আরশের অধিপতি, মহা সম্মানিত। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। আপনার কাছে কি সেই বাহিনীগুলোর খবর পৌঁছেছে? ফিরআউন ও সামুদ সম্প্রদায়ের? বরং কাফিররা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করায় লিপ্ত। আর আল্লাহ তাদেরকে পেছন থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন। বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লওহে মাহফুজে (সুরক্ষিত ফলকে) লিপিবদ্ধ।
(١) “بل هو قرآن مجيد فى لوح محفوظ” এর ব্যাখ্যা:
মক্কার কাফিররা কুরআনকে জাদু, কবিতা বা মানুষের রচিত বলে মিথ্যা সাব্যস্ত করত। এর জবাবে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, এটি কোনো সাধারণ কিতাব নয়, বরং এটি এক মহা সম্মানিত কুরআন। এটি সরাসরি আল্লাহর কালাম, যা ‘লওহে মাহফুজ’ বা সুরক্ষিত ফলকে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে সংরক্ষিত রয়েছে। সেখান থেকেই জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে রাসুল (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। একে বিকৃত করার ক্ষমতা কারো নেই।
(٢) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الآتية):
- يُعِيْدُ: صيغة: واحد مذكر غائب। بحث: اثبات فعل مضارع معروف। مصدر: اِعَادَةٌ। مادة: ع و د। باب: افعال। অর্থ: তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন।
- فَعَّالٌ: صيغة: واحد مذكر غائب। بحث: مبالغة اسم فاعل। مصدر: فِعْلٌ। مادة: ف ع ل। باب: فتح يفتح। অর্থ: তিনি অত্যন্ত বেশি কর্মসম্পাদনকারী / যা ইচ্ছা তাই করেন।
- مُحِيْطٌ: صيغة: واحد مذكر غائب। بحث: اسم فاعل। مصدر: اِحَاطَةٌ। مادة: ح و ط। باب: افعال। অর্থ: পরিবেষ্টনকারী / ঘেরাওকারী।
- مَحْفُوْظٌ: صيغة: واحد مذكر غائب। بحث: اسم مفعول। مصدر: حِفْظٌ। مادة: ح ف ظ। باب: سمع يسمع। অর্থ: সুরক্ষিত / সংরক্ষিত।






