Bengali (বাংলা) 201104 – Fazil Hons Al Quran 1st Year 2023 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
bengali 201104 fazil hons al quran 1st year 2023 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

বাংলা (Code: 201104) – ২০২৩ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ এর বাংলা বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের ক, খ, গ এবং ঘ বিভাগের ‘অথবা’ সহ সবগুলো প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল উত্তর দেওয়া হলো।

ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)

১। (ক) চর্যাপদের কবিদের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনা করো।

উত্তর: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন। এর রচয়িতা বা কবিগণ (সিদ্ধাচার্যগণ) মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের সাধক ছিলেন। তাদের রচিত পদগুলোর মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

সামাজিক অবস্থা:
চর্যাপদ যখন রচিত হয়, তখন হিন্দু সেন রাজাদের শাসনকাল চলছিল। সমাজে বর্ণপ্রথা ও জাতিভেদ প্রথা অত্যন্ত তীব্র ছিল। চর্যাপদে সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের চেয়ে নিচু স্তরের অন্তজ শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। ডোম, চণ্ডাল, শবর, কাপালিক—এসব অবহেলিত মানুষের পেশা ও দারিদ্র্যের কথা কবিরা তুলে ধরেছেন। যেমন—ডোমনিরা তাঁত বুনত বা বাঁশের ডালা তৈরি করত, শবররা পাহাড়ে শিকার করত। তৎকালীন সমাজে চুরি-ডাকাতি এবং চরম দারিদ্র্যের চিত্রও পাওয়া যায় (যেমন: “হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী”)।

ধর্মীয় অবস্থা:
চর্যাপদের কবিদের ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া বা তান্ত্রিক মতবাদ। তারা বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান, মূর্তিপূজা বা জাঁকজমকপূর্ণ উপাসনার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাদের মতে, ঈশ্বর বা পরম শান্তি মন্দিরে থাকে না, বরং তা নিজের দেহের মধ্যেই নিহিত। গুরুর উপদেশের মাধ্যমে কঠোর সাধনা করে ‘মহাসুখ’ বা নির্বাণ লাভ করাই ছিল তাদের ধর্মীয় লক্ষ্য। হিন্দু সমাজের বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের এক ধরনের নীরব প্রতিবাদও চর্যাপদের ধর্মীয় ভাবধারার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

অথবা

১। (খ) টীকা লেখো: (i) চন্ডীদাস (ii) হানিফা-কায়রাপরী।

(i) চন্ডীদাস:
চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় আদি কবি। বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাসের নাম পাওয়া যায় (যেমন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস), যা ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ নামে পরিচিত। তবে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক তাঁর রচিত পদগুলো গভীর আবেগ, বিরহ-যাতনা এবং মানবীয় প্রেমে পরিপূর্ণ। তাঁর পদাবলি এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে স্বয়ং শ্রীচৈতন্যদেব সেগুলো শুনে ভাবাবিষ্ট হতেন। তাঁর বিখ্যাত ও কালজয়ী উক্তি হলো—”সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”, যা বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী বাণীর একটি।

(ii) হানিফা-কায়রাপরী:
‘হানিফা-কায়রাপরী’ হলো মধ্যযুগের বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্যতম নিদর্শন ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকাহিনি বা চরিত্র। মহাকবি আলাওল এই কাব্যটি রচনা করেন। এই কাব্যের মূল নায়ক সয়ফুলমুলুক এবং নায়িকা বদিউজ্জামাল হলেও, হানিফা ও কায়রাপরীর প্রেমকাহিনি একে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। হানিফা ছিলেন একজন অসীম সাহসী মুসলিম বীর, আর কায়রাপরী ছিলেন এক পরীকন্যা। কাব্যে হানিফার বীরত্ব, অলৌকিক পরীদের সাথে তাঁর যুদ্ধ এবং অবশেষে কায়রাপরীর সাথে তাঁর প্রেমের পরিণতির কাহিনি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকরভাবে বর্ণিত হয়েছে।

২। (ক) “কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরেই ধর্ম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার মহামিলন ঘটেছে” —যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে এক বিরল প্রতিভার অধিকারী। তাঁকে মূলত ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হলেও, তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্ম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার যে অপূর্ব মহামিলন ঘটেছে, তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অদ্বিতীয়।

নজরুল ছিলেন একাধারে সুফি দর্শনে বিশ্বাসী এবং চরম অসাম্প্রদায়িক একজন মানুষ। তাঁর সাহিত্যে ইসলাম ধর্মের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুফি আধ্যাত্মিকতা অত্যন্ত প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বাংলা সাহিত্যে ইসলামি গজল, হামদ ও নাত-এর প্রবর্তক। “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে”, “মোহাম্মদ নাম জপেছিলি” ইত্যাদি তাঁর অমর সৃষ্টি।

অন্যদিকে, হিন্দু ধর্ম, দর্শন ও পুরাণের প্রতিও তাঁর অগাধ পান্ডিত্য ও শ্রদ্ধা ছিল। তিনি অসংখ্য শ্যামাসংগীত, ভজন ও কীর্তন রচনা করেছেন যা আজও হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র ও সমাদৃত। তাঁর কবিতায় হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের মিথ বা পুরাণের সফল সমন্বয় ঘটেছে। তিনি গাইলেন—”মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।”

তাঁর দর্শন ছিল মানবতার দর্শন। তাঁর আধ্যাত্মিকতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল বিশ্বস্রষ্টার প্রতি গভীর প্রেম এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি মানুষের হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো উপাসনালয় দেখেননি। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, কাজী নজরুল ইসলামের উদার সাহিত্যকর্মের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে হিন্দু-মুসলিম ধর্ম, সুফি ও বেদান্ত দর্শন এবং প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার এক অভূতপূর্ব মহামিলন ঘটেছে।

অথবা

২। (খ) বাংলা গদ্য বিকাশে সমসাময়িক মুসলিম সাহিত্যিকগণের সম্পাদিত পত্রিকার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

উত্তর: উনিশ শতকের শেষার্ধে এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে সমসাময়িক মুসলিম সাহিত্যিকদের সম্পাদিত পত্রিকাগুলো এক অসামান্য ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। এই পত্রিকাগুলো কেবল গদ্যের আধুনিকায়নই করেনি, বরং পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।

প্রথমত, মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত ‘আজীজন নেহার’ এবং মুন্সী মেহেরুল্লাহর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো মুসলিম সমাজে গদ্যচর্চার প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত ‘কোহিনূর’ এবং সৈয়দ এমদাদ আলী সম্পাদিত ‘নবনূর’ পত্রিকা মুসলিম লেখকদের মুক্তচিন্তার সুযোগ করে দেয়।

বিশ শতকে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সম্পাদিত ‘সওগাত’ পত্রিকা বাংলা গদ্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এটি কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়াসহ অসংখ্য নতুন প্রতিভাবান লেখকের গদ্য রচনার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এরপর ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা (আবুল হুসেন ও কাজী আবদুল ওদুদ সম্পাদিত) “বুদ্ধির মুক্তি” আন্দোলনের মাধ্যমে প্রগতিশীল, যুক্তিবাদী ও আধুনিক বাংলা গদ্যের প্রসার ঘটায়।

এছাড়া মওলানা আকরম খাঁ সম্পাদিত ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকাও ইসলামি দর্শন ও সমাজ সংস্কারমূলক সাবলীল গদ্য রচনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, এসব পত্রিকা যদি না থাকত, তবে মুসলিম সাহিত্যিকদের প্রতিভা বিকশিত হতো না এবং বাংলা গদ্যও তার বর্তমান সার্বজনীন, আধুনিক ও প্রাঞ্জল রূপ লাভ করতে পারত না।

খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

৩। (ক) “সত্যের তরে খোঁজ সব ঠাঁই
        পূর্ব পশ্চিম কোনো ভেদ নাই।”
—লেখকের উক্ত ভাবনার তাৎপর্য তুলে ধরো।

উত্তর: উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কবিতার অংশ। এর তাৎপর্য হলো, প্রকৃত সত্য এবং জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে মানুষের কোনো ভৌগোলিক, ধর্মীয় বা জাতীয় সীমানা থাকা উচিত নয়।

কবি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, সত্য সর্বজনীন। এটিকে প্রাচ্য (পূর্ব) বা পাশ্চাত্য (পশ্চিম)-এর সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ করে রাখা বোকামি। যেখানেই ভালো কিছু, কল্যাণকর কিছু বা সত্যের সন্ধান পাওয়া যাবে, একজন মুক্তমনা মানুষের উচিত তা নির্দ্বিধায় গ্রহণ করা। জ্ঞান-বিজ্ঞানে পাশ্চাত্য উন্নতি করলে সেখান থেকে শিখতে হবে, আবার প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতাকেও ধারণ করতে হবে। লেখক এখানে মানুষের মনকে অন্ধবিশ্বাস ও আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বজনীনতা ও উন্মুক্ত মানসিকতা পোষণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

অথবা

৩। (খ) “যে তৈল দিতে পারিবে তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসর হইতে পারে”—লেখকের এ উক্তির আলোকে আমাদের সমাজ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরো।

উত্তর: প্রাবন্ধিক হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বিখ্যাত ‘তৈল’ প্রবন্ধের এই উক্তিটি আমাদের বর্তমান সমাজের এক চরম নগ্ন ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। এখানে ‘তৈল’ বলতে তোষামোদ বা চাটুকারিতাকে বোঝানো হয়েছে।

বাস্তব সমাজে আমরা প্রতিনিয়ত দেখি, প্রকৃত মেধা, শিক্ষা ও যোগ্যতার কোনো মূল্যায়ন নেই। একজন ব্যক্তির বিদ্যা বা যোগ্যতা না থাকলেও সে যদি ক্ষমতাবান বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ‘তেল’ মারতে বা তোষামোদ করতে পারে, তবে সে সহজেই বড় বড় পদে (যেমন: প্রফেসর বা কর্মকর্তা) আসীন হতে পারে। অন্যদিকে প্রকৃত মেধাবীরা চাটুকারিতা করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া এই তোষামোদ নীতির কারণেই আজ দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। লেখক শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে সমাজের এই তেলবাজ শ্রেণির উত্থানকেই তুলে ধরেছেন।

৪। (ক) ‘সমাপ্তি’ গল্পের নায়িকা মৃন্ময়ী চরিত্র বিকাশে প্রকৃতির ভূমিকা তুলে ধরো।

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ গল্পের নায়িকা মৃন্ময়ী হলো এক দুরন্ত, চঞ্চল ও বাঁধনহারা কিশোরী। তার চরিত্র বিকাশে প্রকৃতির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মৃন্ময়ীর বেড়ে ওঠা প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে। নদীর পাড়ে ছোটাছুটি করা, গাছে ওঠা, মাঠে ঘুরে বেড়ানো—এসবই ছিল তার স্বভাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতি তাকে স্বাধীনতার স্বাদ শিখিয়েছে এবং তাকে এক বন্য ও সরল রূপ দিয়েছে। পরবর্তীতে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির চার দেয়ালের বদ্ধ পরিবেশে যখন তাকে আবদ্ধ করা হয়, তখন প্রকৃতির সন্তান মৃন্ময়ী খাঁচায় বন্দি পাখির মতো ছটফট করতে থাকে। সে প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অবশেষে প্রকৃতি থেকে পাওয়া এই সরলতাই তাকে ধীরে ধীরে স্বামীর নিখাদ ভালোবাসা উপলব্ধি করতে এবং এক দুরন্ত কিশোরী থেকে এক দায়িত্বশীল ও প্রেমময় নারীতে পরিণত হতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।

অথবা

৪। (খ) “’পাদটীকা’ গল্পের পন্ডিত মশাই বর্তমান শিক্ষক সমাজের যোগ্য প্রতিনিধি”—তোমার মতামতসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পাদটীকা’ গল্পের পণ্ডিত মশাই চরিত্রটি বর্তমান শিক্ষক সমাজের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা ও আদর্শের যোগ্য প্রতিনিধি।

গল্পে পণ্ডিত মশাই একজন অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। অভাব-অনটনের মাঝে দিন পার করলেও তিনি কখনোই নিজের আদর্শ থেকে একচুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি। বর্তমান সমাজে যখন অনেক শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁস এবং অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে শিক্ষকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত করছেন, তখন পণ্ডিত মশাইয়ের মতো নির্লোভ ও জ্ঞাননিষ্ঠ শিক্ষকরাই এই পেশার আসল মর্যাদা ও পবিত্রতা ধরে রেখেছেন। তাঁর সততা, ছাত্রদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং নীতিবোধ প্রমাণ করে যে, অর্থের চেয়ে আত্মসম্মান বড়। তাই আমার মতে, পণ্ডিত মশাই কেবল যোগ্য প্রতিনিধিই নন, বরং বর্তমান অবক্ষয়িত শিক্ষক সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

গ বিভাগ

৫। (ক) শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার আলোকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এক অনবদ্য সৃষ্টি। এই কবিতায় স্বাধীনতা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতিটি স্পন্দনে মিশে থাকা এক বাস্তব রূপ।

কবির কাছে স্বাধীনতা মানে কেবল একটি স্বাধীন ভূখণ্ড বা একটি পতাকা নয়। স্বাধীনতা হলো রবিঠাকুরের অজর কবিতা, নজরুলের ঝাঁকড়া চুল, শহিদ মিনারের স্পন্দন, কৃষকের হাসি, রোদেলা দুপুরে পুকুরে সাঁতার কাটা এবং চায়ের স্টলে আড্ডা। অর্থাৎ, বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি, মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন জীবনযাত্রাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা বাঙালির অস্থিমজ্জায় মিশে থাকা এক অনন্ত প্রেরণার নাম। কবিতাটিতে স্বাধীনতাকে অত্যন্ত আপন ও আবেগময় একটি সত্তা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবিকে মূর্ত করে তোলে।

অথবা

৫। (খ) “কবি জীবনানন্দ দাশ প্রেম ও প্রকৃতির কবি”—’বনলতা সেন’ কবিতার আলোকে আলোচনা করো।

উত্তর: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেমের কবিতা, যেখানে প্রেম এবং প্রকৃতির এক অভাবনীয় ও মোহময় সমন্বয় ঘটেছে।

কবিতায় কবি হাজার বছরের ক্লান্ত পথচলার পর বনলতা সেনের কাছে এসে দণ্ডদুমুহূর্তের শান্তি খুঁজে পান। বনলতা সেনের সৌন্দর্য বর্ণনায় কবি প্রকৃতির অসাধারণ উপমা ব্যবহার করেছেন। তিনি বনলতার চুলকে বলেছেন ‘বিদিশার নিশা’ (অন্ধকার রাত) এবং মুখাবয়বকে বলেছেন ‘শ্রাবস্তীর কারুকার্য’। পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে বনলতা সেন যখন আশ্রয় দেয়, তখন তা এক গভীর প্রাকৃতিক প্রশান্তির অনুভূতি জাগায়। এখানে প্রেম কেবল কোনো শারীরিক আকর্ষণ নয়, বরং এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক ও প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নেওয়ার মতো স্নিগ্ধ অনুভূতি। প্রকৃতির উপাদানগুলো দিয়েই কবি তাঁর প্রেমের ক্যানভাস তৈরি করেছেন, যা প্রমাণ করে জীবনানন্দ দাশ প্রকৃত অর্থেই প্রেম ও প্রকৃতির সার্থক রূপকার।

৬। (ক) “’বলাকা’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মিক ও দার্শনিক তত্ত্বের যোগসূত্র ঘটেছে”—যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা ‘বলাকা’ একটি গভীর দার্শনিক ও আত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ কবিতা। এখানে উড়ন্ত বলাকা বা হাঁসের ঝাঁক কেবল একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়, বরং এটি অনন্ত গতি ও পরম সত্তার পানে মানবাত্মার ছুটে চলার প্রতীক।

কবিতায় সন্ধ্যার আঁধারে উড়ে যাওয়া বলাকার ডানার শব্দে কবি স্থবির পর্বতেরও যেন ডানা মেলার আকাঙ্ক্ষা দেখতে পান। কবির দার্শনিক তত্ত্ব হলো—জড়ত্ব বা থেমে থাকা মানেই মৃত্যু, আর গতিই হলো প্রকৃত জীবন (“হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে”)। সৃষ্টির প্রতিটি কণা অনন্তের দিকে ছুটে চলেছে। এই মহাজাগতিক গতির সাথে মানবাত্মার ঊর্ধ্বমুখী ও অসীম অজানার পানে ছুটে চলার ব্যাকুলতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বলাকার গতির রূপকের আড়ালে আত্মার এই চিরন্তন যাত্রার প্রকাশই হলো কবিতায় আত্মিক ও দার্শনিক তত্ত্বের অপূর্ব যোগসূত্র।

অথবা

৬। (খ) ‘ওমর ফারুক’ কবিতা অবলম্বনে হযরত ওমরের সাম্য ও মানবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরো।

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘ওমর ফারুক’ কবিতায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর অসীম সাম্যবাদ, ন্যায়বিচার ও মানবতার অসামান্য দিকগুলো অত্যন্ত আবেগময় ভাষায় ফুটে উঠেছে।

হযরত ওমর (রা.) ছিলেন অর্ধ-পৃথিবীর একচ্ছত্র শাসক, অথচ তাঁর জীবনযাপন ছিল অতি সাধারণ ও আড়ম্বরহীন। তাঁর সাম্যবাদের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো জেরুজালেম বিজয়ের সময় ভৃত্যের সাথে উটের পিঠে পালাক্রমে চড়ে সেখানে পৌঁছানো। যখন ভৃত্যের উটে চড়ার পালা এল, তখন খলিফা নিজে উটের রশি ধরে টেনে নিয়ে গেলেন। তাঁর কাছে রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব বা মালিক-ভৃত্যের কোনো ভেদাভেদ ছিল না।

মানবতার মূর্ত প্রতীক ওমর (রা.) রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে গরিব-দুঃখীদের অবস্থা দেখতে বের হতেন। ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না সইতে না পেরে তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বয়ে নিয়ে তাদের খাবার রান্না করে খাইয়েছিলেন। নিজের সন্তানের অপরাধের ক্ষেত্রেও তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি, যা তাঁর কঠোর ন্যায়বিচারের প্রমাণ। কবিতায় কবির ভাষায় এই মহান খলিফার সাম্য ও মানবতার আদর্শই বিশ্বের শোষিত মানুষের একমাত্র মুক্তির পথ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।

ঘ বিভাগ (ব্যাকরণ ও নির্মিতি)

[ ৭। যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান—৫x৪=২০ ]

(ক) বাংলা ভাষা কাকে বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করো।

বাংলা ভাষা: যে ভাষার মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের মনের ভাব, আবেগ ও অনুভূতি একে অপরের কাছে প্রকাশ করে, তাকে বাংলা ভাষা বলে। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের একটি সমৃদ্ধ ভাষা।

ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব: ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির পর তাকে কথা বলার ক্ষমতা বা ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা রহমানে বলা হয়েছে—”তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন।” সূরা রূমের ২২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, মানুষের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য আল্লাহর এক মহান নিদর্শন। এছাড়া আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবী ও রাসূলকে তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের মাতৃভাষায় প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁরা দ্বীনের দাওয়াত সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। অর্থাৎ ইসলাম মানুষের মাতৃভাষাকে সম্মান ও স্বীকৃতি দিয়েছে।

(খ) ভাষার রূপতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাস বলতে কী বুঝ? উদাহরণসহ বর্ণনা করো।

রূপতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাস: পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার বাক্য ও শব্দের গঠনপদ্ধতি বা আকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভাষাকে যে শ্রেণিতে ভাগ করা হয়, তাকে ভাষার রূপতাত্ত্বিক বা আকৃতিগত (Morphological) শ্রেণিবিন্যাস বলে।

শ্রেণিবিভাগ ও উদাহরণ: রূপতত্ত্বের ভিত্তিতে ভাষাকে প্রধানত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:
১. বিচ্ছিন্ন ভাষা (Isolating): এসব ভাষায় শব্দের রূপ পরিবর্তন হয় না, শুধু বাক্যে বসার স্থানের ওপর অর্থ নির্ভর করে। (যেমন: চীনা ভাষা)।
২. সমাসবদ্ধ ভাষা (Agglutinative): এসব ভাষায় প্রত্যয়গুলো মূল শব্দের সাথে যুক্ত থাকে কিন্তু মূল শব্দের কোনো পরিবর্তন হয় না। (যেমন: তুর্কি ভাষা)।
৩. বিভক্তিপ্রধান ভাষা (Inflectional): এসব ভাষায় মূল শব্দের সাথে বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দের কিছুটা পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন রূপ তৈরি করে। (যেমন: বাংলা, সংস্কৃত, আরবি)। উদাহরণ: মানুষ + কে = মানুষকে।
৪. উপসর্গপ্রধান ভাষা (Incorporating): এসব ভাষায় একাধিক শব্দ মিলে একটি অখণ্ড বাক্য বা শব্দগুচ্ছ তৈরি করে। (যেমন: আমেরিকার কিছু আদিবাসী ভাষা)।

(গ) প্রমিত বাংলা বানানে অতৎসম শব্দের ৪টি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানে অতৎসম (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র) শব্দের ৪টি নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

  1. ই-কার ও উ-কার এর ব্যবহার: সকল অতৎসম শব্দে কেবল হ্রস্ব ই-কার (ি) এবং হ্রস্ব উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘ ঈ-কার বা ঊ-কার হবে না। (যেমন: দাদি, নিচু, গাড়ি, তরকারি)।
  2. ‘ষ’ ও ‘ণ’ এর ব্যবহার: বিদেশি শব্দে সাধারণত ‘ষ’ (মূর্ধন্য-ষ) ও ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হবে না। (যেমন: স্টেশন, কোরআন, হর্ন, স্টল)।
  3. ‘ও’-কার এর ব্যবহার: ক্রিয়াপদ বা বিশেষণ বোঝাতে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চারণ স্পষ্ট করার জন্য শব্দের শেষে ‘ও’-কার দেওয়া হয়। (যেমন: ভালো, কালো, খেলো, বলো)।
  4. রেফ (র্) এর ব্যবহার: অতৎসম বা বিদেশি শব্দে রেফ (র্) এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব (দুবার উচ্চারণ) হবে না। (যেমন: কর্জ, ধর্ম, শর্ত, ফারমার)।

(ঘ) বিরামচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ না ঘটলে কীভাবে বাক্যের অর্থ বদলে যায় দেখাও।

উত্তর: বিরামচিহ্ন বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করে এবং পড়ার সময় বিরতি নির্দেশ করে। বিরামচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ না ঘটলে বা ভুল জায়গায় বসলে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে যেতে পারে। নিচে একটি উদাহরণের মাধ্যমে তা দেখানো হলো:

উদাহরণ:
১. “এখানে দাঁড়াবেন না, দাঁড়ালে জরিমানা হবে।”
এই বাক্যে ‘না’ এর পর কমা (,) দেওয়ায় অর্থ বোঝাচ্ছে যে, এখানে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ এবং দাঁড়ালে শাস্তি হবে।

২. “এখানে দাঁড়াবেন, না দাঁড়ালে জরিমানা হবে।”
একই বাক্যে কমা (,) টি স্থান পরিবর্তন করে ‘দাঁড়াবেন’ এর পর দেওয়ায় অর্থ সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। এর অর্থ হলো, এখানে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক এবং না দাঁড়ালেই বরং শাস্তি হবে।

উপরোক্ত উদাহরণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, কেবল একটি কমা (,) এর স্থান পরিবর্তনের কারণে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যায়।

(ঙ) নিচের শব্দগুলোর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ করো: (পাঁচটি)

  • মরূদ্যান = মরু + উদ্যান
  • দুর্ঘটনা = দুঃ + ঘটনা
  • প্রত্যুষ = প্রতি + উষ
  • দর্শক = দৃশ্ + অক
  • অন্বেষণ = অনু + এষণ
  • মনোরম = মনঃ + রম
  • কুলটা = কুল + অটা

(চ) নিচের শব্দগুলো ভুল হলে শুদ্ধরূপ লেখো:

ভুল বানান শুদ্ধরূপ
পৈত্রিক পৈতৃক
মরীচীকা মরীচিকা
নূন্যতম ন্যূনতম
মনিষি মনীষী
অহরাত্রি অহোরাত্র
বিভিষিকা বিভীষিকা
মুহুর্ত মুহূর্ত
প্রাণীবিদ্যা প্রাণিবিদ্যা
ইতিমধ্যে ইতোমধ্যে

(ছ) ভাবসম্প্রসারণ করো : স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।

মূলভাব: স্বাধীনতা যে কোনো দেশ ও জাতির জন্মগত ও পবিত্র অধিকার। অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে তা স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা বা রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন কাজ।

সম্প্রসারিত ভাব: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার জন্য একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন করলেই একটি জাতির সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় না। বরং একটি পরাধীন ও শোষিত দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সংগ্রাম তখন থেকেই শুরু হয়। স্বাধীন দেশের ভেতরে ও বাইরে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় তৎপর থাকে। দেশের ভেতরে দুর্নীতি, স্বার্থপরতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, হানাহানি এবং অর্থনৈতিক সংকট স্বাধীনতার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা অর্থনৈতিক শোষণের ভয় তো থাকেই। এই অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশি চক্রান্ত থেকে দেশকে মুক্ত রেখে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করাই হলো স্বাধীনতা রক্ষা করা। এর জন্য প্রয়োজন অবিরাম সতর্কতা, গভীর দেশপ্রেম, নিরলস পরিশ্রম এবং জাতীয় ঐক্য।

উপসংহার: স্বাধীনতা একটি অমূল্য সম্পদ। এটি পাওয়া যত কঠিন, তার মর্যাদা রক্ষা করা ও তাকে অর্থবহ করে তোলা তার চেয়েও হাজার গুণ বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।

(জ) তোমার মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদনপত্র লেখো।

বরাবর,
অধ্যক্ষ মহোদয়,
[আপনার মাদরাসার নাম],
ঢাকা।

বিষয়: মাদরাসায় ‘স্পোকেন আরবি কোর্স’ বা ‘আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স’ চালু করার জন্য আবেদন।

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা আপনার মাদরাসার ফাজিল (স্নাতক) শ্রেণির সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ। আমাদের মাদরাসা একটি স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইসলামি জ্ঞান অর্জন, বিশেষ করে পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ইসলামি সাহিত্য গভীরভাবে বোঝার জন্য আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা আমাদের জন্য অপরিহার্য। তদুপরি বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বে আরবি ভাষার ব্যবহারিক বা কথ্য রূপের (Spoken Arabic) গুরুত্ব ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে。

কিন্তু আমাদের নিয়মিত সিলেবাসে আরবি ব্যাকরণের ওপর জোর দেওয়া হলেও আরবিতে সাবলীলভাবে কথা বলার পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ নেই। ফলে আমরা ব্যবহারিক আরবিতে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছি। এমতাবস্থায়, নিয়মিত ক্লাসের বাইরে একটি আলাদা আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে。

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা, শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের স্বার্থে আমাদের মাদরাসায় একটি অতিরিক্ত ‘আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স’ চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের বাধিত করবেন。

বিনীত নিবেদক,
মাদরাসার শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষে,
নাম: মো. আব্দুল্লাহ
শ্রেণি: ফাজিল ১ম বর্ষ
তারিখ: ১২ জুন, ২০২৬ খ্রি.

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now