Bangladesh Studies (Code: 201107) – ২০২৩ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাংলাদেশ স্টাডিজ (الدراسات البنغلاديشية) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের আরবি প্রশ্নসহ ক-বিভাগ (রচনামূলক) এবং খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত) এর সবগুলো প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল উত্তর দেওয়া হলো।
مجموعة (أ) [ক বিভাগ] — রচনামূলক প্রশ্ন
أجب عن أربعة من الأسئلة التالية [নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
[ ১। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা বর্ণনা কর। ]
উত্তর: ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথম পদক্ষেপ বা বীজতলা। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার মানুষের মনে প্রথম বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চাইলে বাঙালি ছাত্রসমাজ তা রুখে দাঁড়ায়। ৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য সালাম, বরকত, রফিকদের বুকের তাজা রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে বাঙালির মধ্যে যে প্রতিবাদী চেতনা, আত্মত্যাগ ও ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টি হয়, তা পাকিস্তান সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেয়। বাঙালি বুঝতে পারে যে, শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র টিকতে পারে না; জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি প্রথমবার নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে শেখে। এর পথ ধরেই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবি (বাঙালির মুক্তির সনদ), ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। এককথায় বলা যায়, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন না হলে বাঙালির স্বাধীনতাস্পৃহা এত দ্রুত জাগ্রত হতো না; আর তাই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
[ ২। বাংলাদেশের বেকার সমস্যার কারণসমূহ ও তার সমাধানের উপায়সমূহ লেখ। ]
উত্তর: বেকারত্ব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা। কাজ করার ইচ্ছা ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়াকে বেকারত্ব বলে।
বেকার সমস্যার কারণসমূহ:
- অতিরিক্ত জনসংখ্যা: দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
- কর্মমুখী শিক্ষার অভাব: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সাধারণ বা পুঁথিগত। কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার অভাবে লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকার থাকছে।
- শিল্পায়নের অভাব: দেশে পর্যাপ্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না থাকায় এবং কলকারখানার প্রসার না ঘটায় কর্মক্ষেত্র অত্যন্ত সীমিত।
- কৃষিনির্ভরতা: দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষিতে মৌসুমী বেকারত্ব থাকে (যেমন- বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ থাকে না) এবং আবাদযোগ্য কৃষিজমিও কমে যাচ্ছে।
- মূলধনের অভাব: আত্মকর্মসংস্থান, ব্যবসা বা নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য যুবকদের কাছে পর্যাপ্ত মূলধন বা সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অভাব রয়েছে।
সমাধানের উপায়সমূহ:
- কারিগরি শিক্ষার প্রসার: গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষানির্ভর করতে হবে, যাতে পাস করার পর শিক্ষার্থীরা নিজেই কাজ জোগাড় করতে পারে।
- দ্রুত শিল্পায়ন: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যাপক হারে নতুন শিল্পকারখানা ও গার্মেন্টস শিল্প স্থাপন করতে হবে।
- আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি: যুবসমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে কুটির শিল্প, মৎস্য চাষ, পোলট্রি ফার্ম ইত্যাদি আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে হবে এবং সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে।
- কৃষির আধুনিকায়ন: কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের (Agro-based industry) প্রসার ঘটাতে হবে।
- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে জনসম্পদকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে বিদেশে রপ্তানি করতে হবে।
[ ৩। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব বর্ণনা কর। ]
উত্তর: বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এর ভৌগোলিক অবস্থান একে বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদের বিবরণ:
১. মাটি ও কৃষিসম্পদ: পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় এ দেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর, যা কৃষিকাজের জন্য আদর্শ।
২. নদ-নদী ও মৎস্য সম্পদ: জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদ-নদী মিষ্টি পানির মাছের বিশাল উৎস এবং যোগাযোগের মাধ্যম।
৩. বনজ সম্পদ: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’, ভাওয়ালের গড় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি কাঠ, মধু ও গোলপাতার প্রধান উৎস।
খনিজ সম্পদের বিবরণ:
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান। এছাড়া দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় উন্নত মানের কয়লা, মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলা, জয়পুরহাটে চুনাপাথর এবং নেত্রকোনায় চিনামাটি ও সিলিকা বালি পাওয়া গেছে। বঙ্গোপসাগরে সামান্য খনিজ তেল-এরও সন্ধান মিলেছে।
অর্থনীতিতে এর প্রভাব বা গুরুত্ব:
১. জ্বালানি চাহিদা পূরণ: প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, কলকারখানা, সার কারখানা এবং গৃহস্থালির প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বিদেশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা ব্যাপক হারে কমায়।
২. শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা: খনিজ সম্পদ (যেমন- গ্যাস, চুনাপাথর) ব্যবহার করে দেশে ইউরিয়া সার, সিমেন্ট, কাঁচ ইত্যাদি বৃহৎ শিল্প গড়ে উঠেছে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আয়: নিজস্ব খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি কম করতে হয়, যা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে। আবার মৎস্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিকাজ এবং মাছ ধরার কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
[ ৪। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বর্ণনা কর। ]
উত্তর: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান দেশ। আবহমান কাল থেকে এ দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি। বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও জীবনযাত্রায় কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো:
- জাতীয় আয়ে অবদান: বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) একটি বড় অংশ সরাসরি কৃষি খাত থেকে আসে। যদিও শিল্পের প্রসার ঘটছে, তবুও অর্থনীতিতে কৃষির শক্ত ভিত্তি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
- কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস: দেশের শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় অংশ কৃষিতে নিয়োজিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০-৪৫% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল।
- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দেশের বিশাল জনসংখ্যার অন্ন বা খাদ্যের সম্পূর্ণ চাহিদা কৃষি খাত (চাল, গম, সবজি) থেকেই মেটানো হয়। কৃষি উৎপাদন ভালো হলে দেশে দুর্ভিক্ষ বা খাদ্যাভাব দেখা দেয় না এবং খাদ্য আমদানিতে ব্যয় বাঁচে।
- শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: এ দেশের অনেক বৃহৎ শিল্পের অস্তিত্ব কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পাট, তুলা, চা, আখ, তামাক ইত্যাদি কৃষিজাত পণ্য দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার (যেমন- পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকল) প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য, চা, হিমায়িত খাদ্য এবং চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ উন্নয়ন: দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং সাধারণ কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব, যা একমাত্র কৃষির উন্নতির মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে।
[ ৫। বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো কী? বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক শিল্পের ভূমিকা বর্ণনা কর। ]
বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো:
কৃষিপ্রধান দেশ হলেও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো হলো: ১. তৈরি পোশাক শিল্প (RMG), ২. পাট ও পাটজাত শিল্প, ৩. চা শিল্প, ৪. সার শিল্প, ৫. ঔষধ শিল্প (Pharmaceuticals), ৬. চামড়া শিল্প, ৭. সিমেন্ট শিল্প এবং ৮. চিনি শিল্প।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের ভূমিকা:
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তৈরি পোশাক শিল্প। এর ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
- রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪% এর বেশি আসে এককভাবে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং জিডিপিতে (GDP) এর অবদান বিশাল। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।
- বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তৈরি পোশাক খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর পাশাপাশি পরোক্ষভাবে আরও কয়েক লাখ মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িত (যেমন- পরিবহন শ্রমিক, সুতা ব্যবসায়ী)। এটি দেশের বেকারত্ব হ্রাসে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন: পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। গ্রামের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এই শিল্পে কাজ করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছে, যা পরিবারে ও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পোশাক শিল্পের প্রসারের কারণে দেশে ব্যাংক, বিমা, বন্দর, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে।
[ ৬। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান সম্পর্কে বর্ণনা কর। ]
উত্তর: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বর্তমানে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান অবিস্মরণীয়। গৃহকোণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা—সর্বত্রই আজ নারীদের সরব উপস্থিতি।
- পোশাক শিল্পে অবদান: দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বা প্রধান রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প (RMG)। এই শিল্পের প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৮০% শ্রমিকই নারী। তাদের নিরলস ঘাম ও শ্রমের বিনিময়েই দেশ প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
- কৃষিকাজে অংশগ্রহণ: প্রথাগতভাবে পুরুষরা মাঠে ফসল ফলালেও, ফসল ঘরে তোলার পর বীজ সংরক্ষণ, ধান ভানা, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে গ্রামীণ নারীরা বিশাল ভূমিকা রাখছে, যা কৃষির জিডিপিতে নীরব অথচ বড় অবদান।
- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ভূমিকা: নকশিকাঁথা, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোগে (Micro-credit) নারীদের অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেছে।
- পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা হিসেবে: বর্তমানে নারীরা শুধু গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যাংকার, পুলিশ, সামরিক বাহিনী এমনকি সফল উদ্যোক্তা (SME) হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখছে।
- প্রবাসী রেমিট্যান্স: অনেক নারী শ্রমিক বিদেশে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে) নার্স, গৃহকর্মী ও পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।
[ ৭। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর। ]
উত্তর: সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
- লিখিত সংবিধান: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এটি ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৪টি তফসিল নিয়ে গঠিত। এর একটি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- দুষ্পরিবর্তনীয়: এটি একটি দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান, অর্থাৎ এটি সহজে পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানের কোনো ধারা সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের ভোটের প্রয়োজন হয়।
- রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: সংবিধানে দেশের সকল নাগরিকের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, চলাফেরা, সমাবেশ, বাকস্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতাসহ মৌলিক মানবাধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা: সংবিধানে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি হবেন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন সরকার প্রধান ও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী।
- এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র: বাংলাদেশে কোনো প্রদেশ বা রাজ্য নেই। এটি একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র, যা একটি মাত্র সরকার (কেন্দ্রীয় সরকার) দ্বারা সমগ্র দেশ পরিচালিত হবে।
- জনগণের সার্বভৌমত্ব: সংবিধানে বলা হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।” জনগণের পক্ষে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
[ ৮। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে হযরত শাহজালাল ইয়ামানি (রহ) এর অবদান বর্ণনা কর। ]
উত্তর: হযরত শাহজালাল (রহ) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের, বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক, ধর্মপ্রচারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। চতুর্দশ শতাব্দীতে তিনি সুদূর ইয়েমেন থেকে তাঁর ৩৬০ জন আউলিয়া বা সফরসঙ্গী নিয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সিলেট অঞ্চলে আগমন করেন। এ দেশে ইসলাম প্রচারে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়:
- সিলেট বিজয় ও মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন: তৎকালীন হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দ স্থানীয় মুসলমানদের ওপর চরম অত্যাচার করত (যেমন- বোরহান উদ্দিনের শিশুপুত্র হত্যা)। হযরত শাহজালাল (রহ) মুসলিম সেনাপতি সৈয়দ নাসিরুদ্দিনের সাথে মিলে ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে অত্যাচারী রাজা গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করেন এবং সিলেটে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলাম প্রচার: তিনি সিলেটে সুফি খানকাহ স্থাপন করে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক উপায়ে সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির বাণী পৌঁছে দেন। তাঁর অনুপম তাকওয়া, সততা ও উন্নত চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে হাজার হাজার অমুসলিম স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
- মানবসেবা ও অসাম্প্রদায়িকতা: তিনি কেবল ধর্ম প্রচারই করেননি, বরং সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে তিনি সেবা প্রদান করতেন এবং তাঁর লঙ্গরখানা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।
- শিষ্যদের মাধ্যমে সমগ্র বাংলায় ইসলাম প্রচার: সিলেট বিজয়ের পর তিনি তাঁর ৩৬০ জন সফরসঙ্গী বা আউলিয়াকে ইসলাম প্রচারের জন্য বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে (যেমন- কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম) পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই সমগ্র বাংলাদেশে ইসলামের দ্রুত প্রসার ঘটে এবং বাংলার ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে যায়।
مجموعة (ب) [খ বিভাগ] — সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
أجب عن أربعة من الأسئلة التالية بالاختصار [সংক্ষেপে নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
[ ৯। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ভূমিকা বর্ণনা কর। ]
উত্তর: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ও মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে (জাতীয় পরিষদের ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টিতে জয়লাভ করে)। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই নির্বাচনের ফলে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি (ছয় দফা) গণতান্ত্রিক বৈধতা পায়। বাঙালি পরিষ্কার বুঝতে পারে যে, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পথে পাকিস্তানিদের কাছ থেকে অধিকার আদায় করা আর সম্ভব নয়। এই উপলব্ধিই বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার বৈধ পটভূমি তৈরি করে।
[ ১০। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা লেখ। ]
উত্তর: বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এর ভৌগোলিক সীমারেখা হলো:
উত্তরে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্য।
দক্ষিণে: সুবিশাল বঙ্গোপসাগর।
পূর্বে: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার (বার্মা) রাষ্ট্র।
পশ্চিমে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের তিন দিক (উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম) ভারত দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণের সামান্য অংশে মিয়ানমার অবস্থিত।
[ ১১। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বর্ণনা কর। ]
উত্তর: প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ। এটি দেশের শিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি। দেশে এ পর্যন্ত ২৯টির বেশি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর, এবং হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র। দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপন্ন হয়। এছাড়া ইউরিয়া সার কারখানা, বিভিন্ন শিল্পকারখানা, গাড়ির জ্বালানি (সিএনজি) এবং বাসা-বাড়িতে রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি বিদেশি তেল আমদানির বিপুল খরচ বাঁচিয়ে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত রেখেছে।
[ ১২। সংক্ষেপে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও। ]
উত্তর: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্রসৈকত (প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ)। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ ও মোহনীয়। একদিকে সুবিশাল ও অনন্ত নীলাভ বঙ্গোপসাগরের গর্জন, অন্যদিকে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়ের সারি—এই দুয়ের মিলনে এখানে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। সৈকতে আছড়ে পড়া বড় বড় ঢেউ, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য, বিস্তীর্ণ সোনালি বালুচর এবং ঝাউবনের স্নিগ্ধতা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিমোহিত করে। ইনানী সৈকতের প্রবাল পাথর একে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
[ ১৩। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ উল্লেখ কর। ]
উত্তর: বর্তমান সরকার সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ হলো:
১. নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে রাজধানীর সাথে যুক্ত করেছে।
২. ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে দেশের প্রথম ঢাকা মেট্রো রেল (MRT) এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু করা।
৩. কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সুড়ঙ্গ পথ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ।
৪. ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ এবং মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের মতো অসংখ্য উড়ালসড়ক নির্মাণ।
[ ১৪। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ লেখ। ]
উত্তর: বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান মৌলিক অধিকারগুলো হলো:
১. আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
২. জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার।
৩. স্বাধীনভাবে চলাফেরা, সমাবেশ ও সংগঠন করার অধিকার।
৪. চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা।
৫. স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার।
৬. বৈধ পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকার।
৭. সম্পত্তি অর্জন, ভোগ ও হস্তান্তরের অধিকার এবং জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
[ ১৫। সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা-এর ইতিহাস বর্ণনা কর। ]
উত্তর: সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা হলো ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এটি ১৭৮০ সালে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক ভারতের কলকাতায় প্রথম ‘কলকাতা আলিয়া মাদরাসা’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর এই ঐতিহাসিক মাদরাসাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং ‘ঢাকা আলিয়া মাদরাসা’ নাম ধারণ করে। ১৯৫৮ সালে এটি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এটি এই অঞ্চলে ইসলামি শিক্ষা, কুরআন-হাদিসের চর্চা এবং বিজ্ঞ আলেম সমাজ তৈরিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
[ ১৬। ইলমুল হাদিস বিষয়ে মুফতি আমিমুল ইহসান (রহ) এর অবদান লেখ। ]
উত্তর: মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান (রহ) ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মাওলানা এবং বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব। তিনি ইলমুল হাদিসের প্রসার ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও অমর কীর্তি হলো “ফিকহুস সুনান ওয়াল আছার” (فقه السنن والآثار) নামক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা, যা হাদীস ও হানাফি ফিকহের এক অনবদ্য সংকলন। এছাড়া তিনি হাদিসের উসুল বা মূলনীতি নিয়ে “কাওয়াইদুল ফিকহ” রচনা করেন। হাদিস শাস্ত্রের ওপর তাঁর এই গভীর পাণ্ডিত্য ও অসংখ্য আরবি গ্রন্থ এ দেশের আলেম সমাজের কাছে তাঁকে যুগ যুগ ধরে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।






