Tajbidul Quran (Code: 201102) – ২০২২ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২২ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তাজভীদুল কুরআনিল কারীম ও হিফয (تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষায় আসা সবকটি গ্রুপের সব প্রশ্নের (অথবাসহ) পূর্ণাঙ্গ উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
مجموعة (الف) / (ক) অংশ — (মান—৩০)
[ أجب عن اثنين من الأسئلة التالية / নিম্নের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও ] (মান—২০)
১। (ক) [علم التجويد এর সংজ্ঞা দাও। এর হুকুম ও প্রকারসমূহ কী? কেন মানুষকে এ علم শিখতে হয়? বিশদভাবে আলোচনা কর।]
উত্তর:
তাজভীদের সংজ্ঞা: ‘তাজভীদ’ (التجويد) অর্থ সুন্দর করা, সুবিন্যস্ত করা। পরিভাষায়: কুরআনের প্রতিটি হরফকে তার নিজস্ব মাখরাজ (উচ্চারণস্থান) থেকে সিফাতসহ (গুণাবলি) সঠিক নিয়মে উচ্চারণ করে পড়াকে ইলমুত তাজভীদ বলে।
হুকুম ও প্রকার: তাজভীদ প্রধানত দুই প্রকার:
১. তাজভীদে ইলমি (তাত্ত্বিক জ্ঞান): তাজভীদের নিয়মাবলি (যেমন- গুন্নাহ, মদ) তত্ত্বগতভাবে জানা ফরজে কিফায়া।
২. তাজভীদে আমলি (ব্যবহারিক প্রয়োগ): তিলাওয়াতের সময় তাজভীদের নিয়মগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করে কুরআন পড়া প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজে আইন বা অত্যাবশ্যক।
তাজভীদ শেখার প্রয়োজনীয়তা: আল্লাহ পাক কুরআনকে তারতীলের সাথে (ধীরস্থির ও শুদ্ধভাবে) পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। তাজভীদ ছাড়া পড়লে শব্দের অর্থ বিকৃত হয়ে যায়, যার ফলে সাওয়াবের বদলে গুনাহ হয় এবং নামাজও ফাসেদ (বাতিল) হয়ে যেতে পারে। আল্লাহর কালামের পবিত্রতা রক্ষা এবং লাহনে জলি (প্রকাশ্য ভুল) থেকে বাঁচার জন্য তাজভীদ শেখা অপরিহার্য।
১। (খ) [التلاوة এর অর্থ কী? কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব কী? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে লিপিবদ্ধ কর।]
উত্তর:
তিলাওয়াতের অর্থ: ‘তিলাওয়াত’ (التلاوة) অর্থ পাঠ করা, অনুসরণ করা বা পড়া।
কুরআনের আলোকে গুরুত্ব: আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমার দেওয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করে যাতে কখনো লোকসান হবে না।” (সূরা ফাতির: ২৯)। কুরআন তিলাওয়াত মুমিনের অন্তরকে প্রশান্ত করে।
সুন্নাহর আলোকে গুরুত্ব: রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” (সহিহ বুখারি)। তিনি আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে। আর একটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।” (তিরমিযি)। কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে।
১। (গ) [المد এর পরিচয় দাও। المد কত প্রকার? المد اللازم কী? প্রত্যেক প্রকার উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
মদ-এর পরিচয়: ‘মদ’ (المد) অর্থ দীর্ঘ করা বা টানা। মদের হরফ থাকলে আওয়াজকে প্রলম্বিত করে বা টেনে পড়াকে মদ বলে। মদের হরফ তিনটি: আলিফ, ওয়াও, ইয়া।
মদ-এর প্রকার: মদ প্রধানত দুই প্রকার: ১. মদ্দে আসলি বা তবায়ি (স্বাভাবিক মদ – ১ আলিফ টানতে হয়)। ২. মদ্দে ফারয়ি (শাখা মদ – এটি বিভিন্ন কারণে ৩ বা ৪ আলিফ টানতে হয়)।
মদ্দে লাযিম (المد اللازم): মদের হরফের পর যদি একই শব্দে জযমওয়ালা বা তাশদিদওয়ালা হরফ আসে, তবে তাকে মদ্দে লাযিম বলে। একে ৩ বা ৪ আলিফ (বা ৬ হরকত) পরিমাণ টানা ওয়াজিব বা লাযিম। মদ্দে লাযিম ৪ প্রকার:
- কালমি মুসাক্কাল: শব্দের মধ্যে মদের হরফের পর তাশদিদ আসলে। যেমন: وَلاَ الضَّآلِّينَ (ওয়ালাদ-দোয়া–ল্লিন)।
- কালমি মুখাফফাফ: শব্দের মধ্যে মদের হরফের পর জযম আসলে। যেমন: آلْآنَ (আ–ল-আনা)।
- হারফি মুসাক্কাল: সূরার শুরুর হরফে তাশদিদযুক্ত ইদগাম হলে। যেমন: الٓمّٓ (আলিফ-লা–ম-মী–ম)।
- হারফি মুখাফফাফ: সূরার শুরুর হরফে তাশদিদ না থাকলে। যেমন: نٓ، قٓ، صٓ (নূ–ন, ক্বা–ফ)।
১। (ঘ) [صفات الحروف দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এটা কত প্রকার? উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
সিফাতুল হুরুফের উদ্দেশ্য: ‘সিফাত’ অর্থ গুণ বা বৈশিষ্ট্য। হরফগুলো মাখরাজ থেকে উচ্চারণের সময় যে নির্দিষ্ট গুণ বা অবস্থা সৃষ্টি হয় (যেমন- মোটা হওয়া, চিকন হওয়া, আওয়াজ জারি থাকা বা বন্ধ থাকা), তাকে সিফাতুল হুরুফ বলে। এটি জানা জরুরি যাতে এক হরফের সাথে অন্য হরফের পার্থক্য বোঝা যায় (যেমন ‘সিন’-س এবং ‘সদ’-ص এর পার্থক্য)।
প্রকারভেদ: সিফাত প্রধানত দুই প্রকার:
- সিফাতে লাযিমাহ (স্থায়ী গুণ): যা হরফ থেকে কখনো আলাদা হয় না। এটি আবার দুই প্রকার:
– বিপরীতমুখী (المتضادة): যেমন হামস (শ্বাস জারি থাকা) এবং জাহার (শ্বাস বন্ধ থাকা)।
– বিপরীতমুখী নয় এমন (غير المتضادة): যেমন কালকালাহ (আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হওয়া—ق ط ب ج د), সাফির (শিস দেওয়া আওয়াজ—ص ز س)। - সিফাতে আরিযাহ (অস্থায়ী গুণ): যা হরফের নিজস্ব গুণ নয়, কিন্তু অন্য হরফের সাথে মিললে বা বিশেষ অবস্থায় সৃষ্টি হয়। যেমন- ‘রা’ (ر) হরফকে পুর (মোটা) ও বারিক (চিকন) করে পড়া, ইদগাম, ইখফা ইত্যাদি।
[ أجب عن اثنين من الأسئلة التالية باختصار / নিম্নের যে কোনো দুটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও ] (মান—১০)
২। (ক) [البسملة এর পরিচয় দাও। তা কি সূরাসমূহের অংশ নাকি অংশ নয়? স্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]
উত্তর: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-কে সংক্ষেপে বিসমিল্লাহ বা বাসমালাহ বলে।
এটি সূরাসমূহের অংশ কি না তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। বিশুদ্ধ ও হানাফি মাজহাবের মত হলো—বিসমিল্লাহ সূরা নামলের একটি আয়াতের অংশ (إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ)। এছাড়া প্রত্যেক সূরার শুরুতে যে বিসমিল্লাহ লেখা হয়, তা সম্পূর্ণ আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াত, যা দুটি সূরার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য নাজিল হয়েছে। এটি সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো সূরার নিজস্ব অংশ নয় (সূরা তওবা ব্যতীত)।
২। (খ) [اللحن অর্থ কী? তা কত প্রকার? বর্ণনা কর।]
উত্তর: ‘লাহন’ (اللحن) অর্থ ভুল করা বা বিকৃত করা। তাজভীদের পরিভাষায়, কুরআন তিলাওয়াতে নিয়মাবলি ভঙ্গ করে ভুলভাবে পড়াকে লাহন বলে।
লাহন প্রধানত দুই প্রকার:
১. লাহনে জলি (প্রকাশ্য ভুল): বড় ধরনের ভুল। যেমন, এক হরফের জায়গায় অন্য হরফ পড়া (ط এর জায়গায় ت পড়া) অথবা যবর-যের-পেশে ভুল করা। এই লাহন করা হারাম, এতে নামাজ ফাসেদ হয়ে যায়।
২. লাহনে খফি (অপ্রকাশ্য ভুল): ছোট ভুল। যেমন, গুন্নাহ আদায় না করা, বা মদের স্থানে মদ না করা। এটি মাকরুহ, তবে এতে সাধারণত অর্থ বিকৃত হয় না।
২। (গ) [মীম সাকিনের হুকুমসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর: মীম সাকিন (مْ) পড়ার হুকুম তিনটি:
- ইখফায়ে শাফাবি: মীম সাকিনের পর ‘বা’ (ب) আসলে গুন্নাহর সাথে অস্পষ্ট করে পড়তে হয়। (যেমন: تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ)।
- ইদগামে শাফাবি (বা ইদগামে মিসলাইন): মীম সাকিনের পর আরেকটি ‘মীম’ (م) আসলে গুন্নাহর সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। (যেমন: فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ)।
- ইজহারে শাফাবি: মীম সাকিনের পর ‘বা’ ও ‘মীম’ ছাড়া অন্য কোনো হরফ আসলে স্পষ্ট করে পড়তে হয়, গুন্নাহ হয় না। (যেমন: أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ)।
২। (ঘ) [علم التجويد এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
উত্তর: তাজভীদ মূলত ওহি হিসেবে সরাসরি আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে নাজিল হয়েছে। জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-কে তাজভীদসহ কুরআন শিখিয়েছেন এবং রাসুল (সা.) সেভাবেই সাহাবিদের শিখিয়েছেন। প্রথম দিকে আরবরা স্বভাবগতভাবেই তাজভিদের সাথে পড়ত, তাই আলাদা কোনো শাস্ত্রের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু অনারবদের ইসলাম গ্রহণের পর উচ্চারণে ভুল (লাহন) হতে শুরু করলে ওলামায়ে কেরাম এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি সর্বপ্রথম হরফে নুকতা ও হরকত দেন। পরবর্তীতে খলিল ইবনে আহমদ, আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম প্রমুখ পণ্ডিতগণ তাজভিদ শাস্ত্রের নিয়মকানুনগুলো গ্রন্থবদ্ধ করেন।
مجموعة (ب) / (খ) অংশ — সূরা মুখস্থ লিখন (মান—২০)
৩। [হরকতসহ নিম্নের যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লেখ:]
(الف) سورة الانفطار (সূরা আল-ইনফিতার)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِذَا السَّمَاءُ انفَطَرَتْ ﴿١﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَتْ ﴿٢﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿٣﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿٤﴾ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿٥﴾ يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ ﴿٦﴾ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾ فِي أَيِّ صُورَةٍ مَّا شَاءَ رَكَّبَكَ ﴿٨﴾ كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِالدِّينِ ﴿٩﴾ وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ﴿١٠﴾ كِرَامًا كَاتِبِينَ ﴿١١﴾ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿١٢﴾ إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ﴿١٣﴾ وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ ﴿١٤﴾ يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ ﴿١٥﴾ وَمَا هُم عَنْهَا بِغَائِبِينَ ﴿١٦﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٧﴾ ثُمَّ مَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٨﴾ يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَيْئًا ۖ وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِّلَّهِ ﴿١٩﴾
(ب) سورة الطارق (সূরা আত-তারিক)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ ﴿١﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ ﴿٢﴾ النَّجْمُ الثَّاقِبُ ﴿٣﴾ إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ ﴿٤﴾ فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ ﴿٥﴾ خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ ﴿٦﴾ يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ ﴿٧﴾ إِنَّهُ عَلَىٰ رَجْعِهِ لَقَادِرٌ ﴿٨﴾ يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ﴿٩﴾ فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ ﴿١٠﴾ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ ﴿١١﴾ وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ ﴿١٢﴾ إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ ﴿١٣﴾ وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ ﴿١٤﴾ إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا ﴿١٥﴾ وَأَكِيدُ كَيْدًا ﴿١٦﴾ فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا ﴿١٧﴾
(ج) سورة الزلزال (সূরা আয-যিলযাল)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١﴾ وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾ وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ﴿٣﴾ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ﴿٤﴾ بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ﴿٥﴾ يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ ﴿٦﴾ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ﴿٧﴾ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ﴿٨﴾
مجموعة (ج) / (গ) অংশ — অনুবাদ ও বিশ্লেষণ (মান—٣٠)
৪। [নিম্নের যে কোনো দুটি কুরআনের আয়াতের বঙ্গানুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
(الف) ألهكم التكاثر- حتى زرتم المقابر- كلا سوف تعلمون- ثم كلا سوف تعلمون- كلا لو تعلمون علم اليقين- لترون الجحيم- ثم لترونها عين اليقين- ثم لتسئلن يومئذ عن النعيم-
বঙ্গানুবাদ: প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহগ্রস্ত করে রেখেছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরসমূহে পৌঁছবে (মৃত্যুবরণ করবে)। কখনোই নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে। আবারও বলি, কখনোই নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে। কখনোই নয়, যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের অধিকারী হতে (তবে মোহগ্রস্ত হতে না)। তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে। অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই চাক্ষুষ নিশ্চয়তার সাথে দেখবে। অতঃপর সেদিন তোমাদেরকে অবশ্যই দেওয়া নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
(١) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الآتية):
- التَّكَاثُرُ: صيغة (রূপ): مصدر। مادة (মূল): ك ث ر। باب (অনুচ্ছেদ): تفاعل। অর্থ: প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা।
- لَتَرَوُنَّ: صيغة: جمع مذكر حاضر/مخاطب (نون التوكيد الثقيلة)। مادة: ر أ ي। باب: فتح يفتح। অর্থ: তোমরা অবশ্যই দেখবে।
- لَتُسْئَلُنَّ: صيغة: جمع مذكر حاضر/مخاطب مجهول (نون التوكيد الثقيلة)। مادة: س أ ل। باب: فتح يفتح। অর্থ: তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে।
- تَعْلَمُوْنَ: صيغة: جمع مذكر حاضر। مادة: ع ل م। باب: سمع يعلم। অর্থ: তোমরা জানবে।
(٢) শানে নুযুল (اكتب شان نزول هذه السورة): মক্কার কুরাইশদের দুটি গোত্র—বনু আবদ মানাফ এবং বনু সাহম—নিজেদের ধন-সম্পদ, প্রতিপত্তি ও বংশের আধিক্য নিয়ে গর্ব করত। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মৃত ব্যক্তিদের গোরস্থানে গিয়ে গুনে গুনে বলতে লাগল যে, মৃত ব্যক্তিসহ হিসাব করলে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান ও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তখন তাদের এই মূর্খতা ও পার্থিব সম্পদের মোহান্ধতার কঠোর নিন্দা করে আল্লাহ তায়ালা এই সূরাটি নাজিল করেন।
(ب) ألم نشرح لك صدرك- ووضعنا عنك وزرك- الذى أنقض ظهرك- ورفعنا لك ذكرك- فإن مع العسر يسراً- إن مع العسر يسراً- فإذا فرغت فانصب- وإلى ربك فارغب-
বঙ্গানুবাদ: আমি কি আপনার বক্ষকে আপনার জন্য প্রশস্ত করে দিইনি? এবং আমি অপসারণ করেছি আপনার সেই বোঝা, যা আপনার পিঠকে নুয়ে দিয়েছিল। এবং আমি আপনার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। অতএব, যখনই আপনি অবসর পান, ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করুন, এবং আপনার রবের প্রতিই মনোযোগ নিবদ্ধ করুন।
(١) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الآتية):
- نَشْرَحْ: صيغة: واحد متكلم (فعل مضارع مجزوم بلم)। مادة: ش ر ح। باب: فتح يفتح। অর্থ: আমি প্রশস্ত করেছি।
- أَنْقَضَ: صيغة: واحد مذكر غائب (ماضي)। مادة: ن ق ض। باب: افعال। অর্থ: যা নুয়ে দিয়েছিল/ভেঙে দিয়েছিল।
- رَفَعْنَا: صيغة: جمع متكلم (ماضي)। مادة: ر ف ع। باب: فتح يفتح। অর্থ: আমি উন্নীত করেছি/উচ্চ করেছি।
- فَانْصَبْ: صيغة: واحد مذكر حاضر (أمر)। مادة: ن ص ب। باب: ضرب يضرب। অর্থ: আপনি কঠোর পরিশ্রম করুন (ইবাদতে)।
(٢) বক্ষ প্রশস্তকরণ (شرح صدر) এর ব্যাখ্যা: আল্লাহ তায়ালা কীভাবে রাসুল (সা.) এর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তার দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে। ১. বাহ্যিক বা শারীরিক: ফেরেশতারা রাসুল (সা.) এর বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর অন্তর থেকে শয়তানের অংশ বের করে তা জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে ঈমান ও হিকমত দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছিলেন (যা মেরাজের আগে বা শৈশবে ঘটেছিল)। ২. আত্মিক: নবুয়তের গুরুভার বহন করা এবং কাফিরদের বিরোধিতা সহ্য করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁর অন্তরকে আধ্যাত্মিক আলো, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও বিশালতা দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিয়েছিলেন, ফলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার তাঁর কাছে অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।
(ج) لا يصلاها إلا الأشقى- الذى كذب وتولى- وسيجنبها الأتقى- الذى يؤتى ماله يتزكى- وما لأحد عنده من نعمة تجزى- إلا ابتغاء وجه ربه الأعلى- ولسوف يرضى-
বঙ্গানুবাদ: সেখানে প্রবেশ করবে না (পুড়বে না) কিন্তু সে-ই, যে নিতান্ত হতভাগ্য। যে সত্যকে মিথ্যা বলেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে তাকে, যে চরম মুত্তাকি (পরহেজগার)। যে আত্মশুদ্ধির জন্য নিজের সম্পদ দান করে। এবং তার কাছে কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে। বরং সে তো কেবল তার মহান রবের সন্তুষ্টি লাভের জন্যই তা করে। আর সে শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবে।
(١) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الآتية):
- الْأَشْقَى: صيغة: اسم تفضيل (واحد مذكر)। مادة: ش ق ي। باب: سمع يشقى। অর্থ: সবচেয়ে হতভাগ্য।
- كَذَّبَ: صيغة: واحد مذكر غائب (ماضي)। مادة: ك ذ ب। باب: تفعيل। অর্থ: সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।
- يُؤْتِى: صيغة: واحد مذكر غائب (مضارع)। مادة: أ ت ي। باب: افعال। অর্থ: সে দান করে/দেয়।
- تُجْزَى: صيغة: واحد مؤنث غائب مجهول (مضارع)। مادة: ج ز ي। باب: ضرب يضرب। অর্থ: যার প্রতিদান দেওয়া যায়।
(٢) الأشقى এর পরিচয় ও গুণাবলি: الأشقى বা সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি হলো সে, যার বৈশিষ্ট্য এই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তার প্রধান গুণ বা স্বভাব হলো দুটি: ১. সে আল্লাহর নবি ও তাঁর সত্য বাণীকে চরম অহংকারের সাথে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে (كذب)। ২. সে ঈমান আনা ও সৎপথে চলা থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে (تولى)। আয়াতের আলোকে, এই হতভাগ্যরাই জাহান্নামের লেলিহান আগুনে জ্বলবে। (অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে আবু জাহেল, উমাইয়া বিন খালাফ বা অনুরূপ কাফিরদের কথা বোঝানো হয়েছে)।
(د) والعصر- إن الإنسان لفى خسر- إلا الذين آمنوا وعملوا الصّلحت- وتواصوا بالحق- وتواصوا بالصبر-
বঙ্গানুবাদ: সময়ের (বা যুগের) কসম। নিশ্চয়ই সকল মানুষ চরম ক্ষতির নিমজ্জিত। তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আর একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছে।
(١) শব্দ বিশ্লেষণ (حلل الكلمات الأتية):
- خُسْرٍ: صيغة: مصدر / اسم جامد। مادة: خ س ر। باب: فرح يخسر। অর্থ: ক্ষতি / লোকসান।
- الصَّلِحَتِ: صيغة: جمع مؤنث سالم (اسم فاعل)। مادة: ص ل ح। باب: كرم و نصر। অর্থ: সৎকর্মসমূহ।
- تَوَاصَوْا: صيغة: جمع مذكر غائب (ماضي)। مادة: و ص ي। باب: تفاعل। অর্থ: তারা একে অপরকে উপদেশ দিয়েছে।
- الصَّبْرِ: صيغة: مصدر। مادة: ص ب ر। باب: ضرب يصبر। অর্থ: ধৈর্য।
(٢) শানে নুযুল (اكتب شان نزول هذه السورة): ইসলাম-পূর্ব অজ্ঞতার যুগে মক্কার মুশরিকরা ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান হলে বা কোনো বিপদ আসলে সময় বা যুগকে (আসর) গালি দিত এবং দোষারোপ করত। তাদের এই ভুল ধারণা দূর করার জন্য আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং সময়ের কসম করে জানিয়ে দেন যে, যুগের কোনো দোষ নেই, বরং মানুষ নিজেই তার কুফরি ও কর্মের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেবল তারাই সফল যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে এবং সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।






