কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: দিরাসাতুত তাফসীর (৫০২১০৫) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Dirasatul Tafsir (502105) QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: দিরাসাতুত তাফসীর (৫০২১০৫) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Dirasatul Tafsir (502105) QnA
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٣م

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদী) পরীক্ষা, ২০২৩]

الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة التفسير [দিরাসাতুত-তাফসীর]

বিষয় কোড: 502105 | সময় : ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০

الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة.
[দ্রষ্টব্য : বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক]


مجموعة (الف) – تفسير البيضاوى (الدرجات – ٥٠)
[গ্রুপ (ক) – তাফসিরে বায়যাবী (মান – ৫০)]

١- ترجم اثنين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : ٤٠ = ٢ × ٢٠
[১. নিচের অংশগুলো থেকে যেকোনো দুটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

أولئك على هدى من ربهم وأولئك هم المفلحون – إن الذين كفروا سواء عليهم أأنذرتهم أم لم تنذرهم لا يؤمنون – ختم الله على قلوبهم وعلى سمعهم وعلى أبصارهم غشاوة ولهم عذاب عظيم –

[অনুবাদ: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়েতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে, আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান; তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহে ও তাদের শ্রবণশক্তির ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টির ওপর রয়েছে আবরণ। আর তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।]

  • (۱) ما الحكمة فى تكرار كلمة “أولئك” فى الآية؟ وما المراد بـ على هدى؟ بين –
    [(১) আয়াতে “উলাইকা” (أولئك) শব্দটি পুনরাবৃত্তি করার হিকমত কী? এবং “আলা হুদা” (على هدى) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: তাফসিরে বায়যাবীর আলোকে “উলাইকা” (أولئك) শব্দটি পুনরাবৃত্তি করার হিকমত হলো, মুত্তাকিদের তাকওয়া ও ঈমানের পূর্ণতার কারণে তাদের বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা এবং তাদের সফলতার বিষয়টি জোরালো করা। “আলা হুদা” (على هدى) দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি সুদৃঢ় ও স্পষ্ট হেদায়েতের (নূর বা প্রজ্ঞার) ওপর প্রতিষ্ঠিত।
  • (۲) حلل الكلمتين : مفلحون، أنذرتهم –
    [(২) শব্দ দুটির তাহকিক (বিশ্লেষণ) করো: মুফলিহুন (مفلحون), আনযারতাহুম (أنذرتهم)।]

    উত্তর: مفلحون: সীগাহ: জমঈ মুজাক্কার সালিম, বাহাস: ইসমে ফায়েল, বাব: إفعال (ইফ’আল), মাদ্দাহ: ف-ل-ح (ফা-লাম-হা), অর্থ: সফলকাম ব্যক্তিরা।
    أنذرتهم: সীগাহ: ওয়াহিদ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: ইসবাত ফেলে মাজি মারুফ, বাব: إفعال (ইফ’আল), মাদ্দাহ: ن-ذ-ر (নুন-যাল-রা), অর্থ: আপনি তাদেরকে সতর্ক করেছেন।
  • (۳) أوضح قوله تعالى : “ختم الله على قلوبهم” –
    [(৩) আল্লাহর বাণী “খাতামাল্লাহু আলা কুলুবিহিম” (আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন)-এর ব্যাখ্যা করো।]

    উত্তর: সত্যকে বারবার প্রত্যাখ্যান করা এবং কুফরির ওপর অটল থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা শাস্তিস্বরূপ তাদের অন্তরে এমন মোহর বা সিল মেরে দিয়েছেন যে, সেখানে আর ঈমানের আলো প্রবেশ করতে পারে না। তাফসিরে বায়যাবীর মতে, এটি তাদের চরম অহংকার ও অবাধ্যতার স্বাভাবিক পরিণতি।

(ب) [খ]

يأيها الناس اعبدوا ربكم الذى خلقكم والذين من قبلكم لعلكم تتقون – الذى جعل لكم الأرض فراشا والسماء بناء وأنزل من السماء ماء فأخرج به من الثمرات رزقا لكم، فلا تجعلوا لله أندادا وأنتم تعلمون –

[অনুবাদ: হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকাস্বরূপ ফলমূল উৎপাদন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ সাব্যস্ত করো না।]

  • (۱) ما المراد بالناس فى قوله تعالى “يأيها الناس”؟ بين –
    [(১) আল্লাহর বাণী “ইয়া আইয়্যুহান নাস” (হে মানবজাতি)-এ ‘নাস’ দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: এখানে “নাস” (الناس) দ্বারা সাধারণভাবে সমগ্র মানবজাতিকে বোঝানো হয়েছে। তবে অনেক মুফাসসিরের মতে, মাক্কি সূরাগুলোতে সাধারণত এর মাধ্যমে মক্কার কাফির ও মুশরিকদের সম্বোধন করা হয়েছে, যারা শিরকে লিপ্ত ছিল।
  • (۲) ما معنى العبادة؟ هل العبادة خاص لله تعالى؟ بين –
    [(২) ইবাদত-এর অর্থ কী? ইবাদত কি কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ‘ইবাদত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ চূড়ান্ত বিনয়, আনুগত্য ও দাসত্ব প্রকাশ করা। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের নামই ইবাদত। হ্যাঁ, ইবাদত সম্পূর্ণভাবে কেবল এক আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট (খাস)। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা শিরক।
  • (۳) ركب : لعلكم تتقون –
    [(৩) তারকিব (বাক্য বিশ্লেষণ) করো: লা’আল্লাকুম তাত্তাকুন (لعلكم تتقون)।]

    উত্তর: لعلّ (লা’আল্লা): হরফে মুশাব্বাহ বিল-ফেল (حرف مشبه بالفعل)। كم (কুম): যমিরে মুত্তাসিল, এটি لعلّ এর ইসিম (اسم لعل)। تتقون (তাত্তাকুন): ফেলে মুজারে মারুফ, এর ভেতরে أنتم (আনতুম) যমির এর ফায়েল। ফেল ও ফায়েল মিলে জুমলায়ে ফি’লিয়্যাহ হয়ে لعلّ এর খবর (خبر لعل)। ইসিম ও খবর মিলে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ হয়েছে।

(ج) [গ]

وإن كنتم فى ريب مما نزلنا على عبدنا فأتوا بسورة من مثله، وادعوا شهداءكم من دون الله إن كنتم صادقين – فإن لم تفعلوا ولن تفعلوا فاتقوا النار التى وقودها الناس والحجارة، أعدت للكافرين –

[অনুবাদ: আর আমি আমার বান্দার ওপর যা নাজিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তোমরা তা করতে না পারো—এবং তোমরা তা কখনোই করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।]

  • (۱) اذكر الآيات القرآنية التى ذكر الله فيها التحدى بإتيان مثل القرآن الكريم –
    [(১) পবিত্র কুরআনের সেই আয়াতগুলোর উল্লেখ করো, যেগুলোতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ করেছেন।]

    উত্তর: আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে এই চ্যালেঞ্জ করেছেন: ১. পুরো কুরআনের মতো আনার চ্যালেঞ্জ (সূরা বনি ইসরাইল: ৮৮), ২. দশটি সূরার মতো আনার চ্যালেঞ্জ (সূরা হুদ: ১৩), ৩. একটি সূরার মতো আনার চ্যালেঞ্জ (সূরা ইউনুস: ৩৮ এবং সূরা বাকারাহ: ২৩)।
  • (۲) بين صفة النار فى ضوء القرآن الكريم –
    [(২) পবিত্র কুরআনের আলোকে জাহান্নামের আগুনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।]

    উত্তর: কুরআনের আলোকে জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের মতো নয়। এই আগুনের ইন্ধন বা জ্বালানি কাঠ হবে মানুষ এবং পাথর (বিশেষ করে গন্ধক পাথর বা মূর্তিসমূহ)। এই আগুন কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা তাদের চামড়া ও হাড় পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেবে।
  • (۳) حقق الكلمات : فأتوا، فاتقوا، أعدت –
    [(৩) শব্দগুলোর তাহকিক করো: ফা’তু (فأتوا), ফাত্তাকু (فاتقوا), উ’ইদ্দাত (أعدت)।]

    উত্তর: فأتوا: সীগাহ: জমঈ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: আমরে হাজির মারুফ, বাব: ضرب (যরাবা), মাদ্দাহ: أ-ت-ي (হামযা-তা-ইয়া)।
    فاتقوا: সীগাহ: জমঈ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: আমরে হাজির মারুফ, বাব: افتعال (ইফতি’আল), মাদ্দাহ: و-ق-ي (ওয়াও-কাফ-ইয়া)।
    أعدت: সীগাহ: ওয়াহিদ মুআন্নাস গায়েব, বাহাস: ফেলে মাজি মাজহুল, বাব: إفعال (ইফ’আল), মাদ্দাহ: ع-د-د (আইন-দাল-দাল)।

٢- أجب عن واحد مما يلى : ١٠ = ١ × ١٠
[২. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

اكتب نبذة من حياة الإمام البيضاوى مع ذكر مساهمته فى علم التفسير –
[ইমাম বায়যাবী (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো এবং ইলমে তাফসিরে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।]

উত্তর: জীবনী: তাঁর পুরো নাম নাসিরুদ্দীন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-বায়যাবী। তিনি পারস্যের (ইরান) ফারস প্রদেশের বায়যা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাফেয়ি মাজহাবের একজন শীর্ষস্থানীয় ফকিহ, মুফাসসির এবং উসুলবিদ ছিলেন। তিনি শিরাজের প্রধান বিচারপতি (কাজীউল কুজাত) ছিলেন। ৬৮৫ হিজরিতে (মতান্তরে ৬৯১ হি:) তিনি তাবরিজে ইন্তেকাল করেন।
অবদান: ইলমে তাফসিরে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো ‘আনোয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তাবিঈল’ (تفسير البيضاوي)। এটি মূলত তাফসিরে কাশশাফের সারসংক্ষেপ, তবে তিনি সেখান থেকে মুতাজিলা আকিদাগুলো বাদ দিয়ে আহলুস সুন্নাহর আকিদা অনুযায়ী তা সংকলন করেছেন এবং এর সাথে ব্যাকরণ ও ফিকহ চমৎকারভাবে যুক্ত করেছেন। মাদরাসা সিলেবাসে এটি অত্যন্ত সমাদৃত।

(ب) [খ]

اذكر أحوال المنافقين وعلاماتهم فى ضوء ما جاء فى سورة البقرة –
[সূরা বাকারাহ-তে বর্ণিত মুনাফিকদের অবস্থা ও তাদের লক্ষণসমূহ উল্লেখ করো।]

উত্তর: সূরা বাকারাহ-এর প্রথম দিকে মুনাফিকদের কয়েকটি অবস্থা ও লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে: ১. তারা মুখে ঈমান আনার দাবি করে কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস করে না। ২. তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, কিন্তু বাস্তবে নিজেদেরকেই ধোঁকা দেয়। ৩. তাদের অন্তরে ব্যাধি (সন্দেহ ও কপটতা) রয়েছে। ৪. তারা পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, কিন্তু দাবি করে যে তারা শান্তি স্থাপনকারী। ৫. তারা মুমিনদেরকে বোকা বা নির্বোধ মনে করে উপহাস করে। ৬. শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হলে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

مجموعة (ب) – تفسير الكشاف (الدرجات – ٥٠)
[গ্রুপ (খ) – তাফসিরে কাশশাফ (মান – ৫০)]

٣- ترجم اثنين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : ٤٠ = ٢ × ٢٠
[৩. নিচের অংশগুলো থেকে যেকোনো দুটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

هو الذى أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات هن أم الكتاب وأخر متشابهات، فأما الذين فى قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله، وما يعلم تأويله إلا الله، والراسخون فى العلم يقولون آمنا به كل من عند ربنا، وما يذكر إلا أولوا الألباب –

[অনুবাদ: তিনিই আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘মুহকাম’ (সুস্পষ্ট) আয়াতসমূহ; এগুলোই কিতাবের মূল। আর অন্যগুলো হলো ‘মুতাসাবিহ’ (অস্পষ্ট বা রূপক)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও এর অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাসাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া এর প্রকৃত ব্যাখ্যা কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, ‘আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত।’ এবং কেবল বুদ্ধিমানরাই উপদেশ গ্রহণ করে।]

  • (۱) هات أقوال المفسرين فى آيات محكمات –
    [(১) ‘আয়াতুন মুহকামাতি’ (সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ) সম্পর্কে মুফাসসিরদের অভিমতগুলো নিয়ে এসো।]

    উত্তর: ‘মুহকাম’ আয়াত সম্পর্কে মুফাসসিরদের অভিমত হলো: এগুলো এমন আয়াত যার অর্থ সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট এবং এর মধ্যে কোনো সন্দেহ বা ব্যাখ্যার জটিলতা নেই। হালাল-হারাম, ফিকহি বিধান, ফরজ, ওয়াজিব ও শাস্তির বিধানগুলো এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি (উম্মুল কিতাব)।
  • (۲) ما المتشابهات؟ بين –
    [(২) মুতাসাবিহাত কী? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ‘মুতাসাবিহাত’ হলো সেই সব আয়াত, যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না। যেমন: সূরাসমূহের শুরুর বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলো (হুরুফে মুকাত্তাআত), আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলি (যেমন- আল্লাহর হাত, আল্লাহর আরশে আরোহণ) ইত্যাদি। এর প্রতি শুধু ঈমান রাখতে হয়, এর ধরন নিয়ে গবেষণা করা নিষেধ।
  • (۳) ما المراد بـ “الراسخون فى العلم”؟ بين –
    [(৩) “আর-রাসিখুনা ফিল ইলম” (জ্ঞানে সুগভীর) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: “আর-রাসিখুনা ফিল ইলম” বলতে এমন বিজ্ঞ আলেমদের বোঝায়, যাদের ইলম অত্যন্ত মজবুত ও সন্দেহমুক্ত। তারা মুহকাম আয়াতের ওপর আমল করেন এবং মুতাসাবিহ আয়াতের প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন এবং বিশ্বাস করেন যে, উভয় প্রকার আয়াতই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

(ب) [খ]

قل للذين كفروا ستغلبون وتحشرون إلى جهنم وبئس المهاد – قد كان لكم آية فى فئتين التقتا، فئة تقاتل فى سبيل الله وأخرى كافرة يرونهم مثليهم رأى العين، والله يؤيد بنصره من يشاء ، إن فى ذلك لعبرة لأولى الأبصار –

[অনুবাদ: কাফিরদের বলে দিন, শীঘ্রই তোমরা পরাভূত হবে এবং তোমাদের জাহান্নামে সমবেত করা হবে; আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস! নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল সেই দুটি দলের মধ্যে, যারা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল। একটি দল যুদ্ধ করছিল আল্লাহর পথে আর অপর দল ছিল কাফির; তারা তাদেরকে (মুসলিমদের) স্বচক্ষে নিজেদের দ্বিগুণ দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।]

  • (۱) أوضح تفسير قوله تعالى : “يرونهم مثليهم رأى العين” فى ضوء تفسير الكشاف –
    [(১) তাফসিরে কাশশাফের আলোকে আল্লাহর বাণী “ইয়ারাওনাহুম মিসলাইহিম রা’য়াল আইন” (তারা তাদেরকে স্বচক্ষে নিজেদের দ্বিগুণ দেখছিল)-এর ব্যাখ্যা করো।]

    উত্তর: তাফসিরে কাশশাফ অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা হলো, বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা কাফিরদের দৃষ্টিতে মুসলিমদের সংখ্যা তাদের (কাফিরদের) প্রকৃত সংখ্যার (১০০০ এর) দ্বিগুণ দেখিয়েছেন, যাতে কাফিররা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে যায়। অথবা, মুসলিমরা নিজেদের চোখের সামনে ফেরেশতাদের সাহায্যে নিজেদের দলকে দ্বিগুণ শক্তিশালী দেখছিল।
  • (۲) بين نتيجة غزوة البدر –
    [(২) বদর যুদ্ধের ফলাফল বর্ণনা করো।]

    উত্তর: বদর যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা মাত্র ৩১৩ জন হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর সাহায্যে তারা এক হাজার কাফির বাহিনীর বিরুদ্ধে অভাবনীয় বিজয় লাভ করেন। মক্কার শীর্ষ ৭০ জন কুরাইশ নেতা (যেমন আবু জাহেল) নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে মাত্র ১৪ জন মুসলিম শহীদ হন। এটি ছিল সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী যুদ্ধ।
  • (۳) بين محل الإعراب : فئة، كافرة، لعبرة –
    [(৩) শব্দগুলোর ই’রাব (ব্যাকরণগত অবস্থান) বর্ণনা করো: ফিআতুন (فئة), কাফিরাতুন (كافرة), লা’ইবরাতান (لعبرة)।]

    উত্তর: فئة: উহ্য মুবতাদা (إحداهما) এর খবর হিসেবে মারফু (رفعي অবস্থান)।
    كافرة: এটি (فئة أخرى) এর সিফাত হিসেবে মারফু।
    لعبرة: ಇಲ್ಲಿ (ل) হলো লামে তাকিদ, আর ‘عبرة’ হলো 인্না (إن) এর ইসমে মুআখখার (اسم إن مؤخر), তাই এটি মানসুব (نصبي অবস্থান)।

(ج) [গ]

إن الله اصطفى آدم ونوحا وآل إبراهيم وآل عمران على العالمين – ذرية بعضها من بعض والله سميع عليم – إذ قالت امرأة عمران رب إنى نذرت لك ما فى بطنى محررا فتقبل منى، إنك أنت السميع العليم – فلما وضعتها قالت رب إنى وضعتها أنثى، والله أعلم بما وضعت وليس الذكر كالأنثى، وإنى سميتها مريم وإنى أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم –

[অনুবাদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতের ওপর মনোনীত করেছেন। তারা একে অপরের বংশধর; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। স্মরণ করো, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল: ‘হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে তা আমি একান্ত আপনার জন্য মানত করলাম, সুতরাং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ অতঃপর যখন সে কন্যা সন্তান প্রসব করল, তখন বলল: ‘হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি!’—অথচ সে যা প্রসব করেছে সে সম্পর্কে আল্লাহ ভালো করেই জানেন—’আর পুত্র তো কন্যার মতো নয়। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম এবং আমি তাকে ও তার বংশধরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে সোপর্দ করছি।’]

  • (۱) أوضح تفسير قوله تعالى : “ذرية بعضها من بعض” فى ضوء تفسير الكشاف –
    [(১) তাফসিরে কাশশাফের আলোকে আল্লাহর বাণী “যুররিয়্যাতান বা’দুহা মিন বা’দ” (তারা একে অপরের বংশধর)-এর ব্যাখ্যা করো।]

    উত্তর: তাফসিরে কাশশাফের মতে, এর অর্থ হলো এই নবী ও মনোনীত বংশধররা দ্বীন, তাকওয়া, পবিত্রতা এবং নবুওয়াতের দিক থেকে একে অপরের সদৃশ ও অনুসারী। অর্থাৎ তারা সকলেই সত্য দ্বীন ও আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে এক বংশ অন্য বংশের পরিপূরক ছিল।
  • (۲) حقق الألفاظ : اصطفى ، قالت ، الشيطان –
    [(২) শব্দগুলোর তাহকিক করো: ইস্তাফা (اصطفى), কালাত (قالت), আশ-শাইতান (الشيطان)।]

    উত্তর: اصطفى: সীগাহ: ওয়াহিদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: ফেলে মাজি মারুফ, বাব: افتعال (ইফতি’আল), মাদ্দাহ: ص-ف-و (সোয়াদ-ফা-ওয়াও), অর্থ: মনোনীত করেছেন।
    قالت: সীগাহ: ওয়াহিদ মুআন্নাস গায়েব, বাহাস: ফেলে মাজি মারুফ, বাব: نصر (নাসারা), মাদ্দাহ: ق-و-ل (ক্বাফ-ওয়াও-লাম)।
    الشيطان: এটি ইসমে জামিদ। এর মাদ্দাহ ش-ط-ن (শিন-ত-নুন, অর্থ: সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়া) অথবা ش-ي-ط (শিন-ইয়া-ত)।
  • (۳) ركب : إنك أنت السميع العليم –
    [(৩) তারকিব করো: ইন্নাকা আনতাস সামি’উল আলিম (إنك أنت السميع العليم)।]

    উত্তর: إنّ (ইন্না): হরফে মুশাব্বাহ বিল-ফেল। ك (কা): ইসমে ইন্না (اسم إن)। أنت (আনতা): যমিরে ফাসল (বা দ্বিতীয় মুবতাদা)। السميع (আস-সামি’উ): প্রথম খবর। العليم (আল-আলিমು): দ্বিতীয় খবর। মুবতাদা ও খবর মিলে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ হয়ে إنّ এর খবর (خبر إن)। অথবা, أنت কে তাকিদ ধরলে, السميع العليم সরাসরি إنّ এর খবর।

٤- أجب عن واحد مما يلى : ١٠ = ١ × ١٠
[৪. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

اكتب نبذة من حياة صاحب الكشاف مع ذكر مساهمته فى علم التفسير –
[তাফসিরে কাশশাফ-এর লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো এবং ইলমে তাফসিরে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।]

উত্তর: জীবনী: ‘তাফসিরে কাশশাফ’ এর রচয়িতা হলেন আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর আয-যামাখশারী। তিনি ৪৬৭ হিজরিতে খাওয়ারিজমের ‘যামাখশার’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরবি ভাষা, ব্যাকরণ (নাহু) ও অলংকারশাস্ত্রে (বালাগত) অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় মক্কায় অবস্থান করায় তাকে ‘জারুল্লাহ’ (আল্লাহর প্রতিবেশী) উপাধি দেওয়া হয়। ৫৩৮ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
অবদান: ইলমে তাফসিরে তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ “আল-কাশশাফ”। যদিও তিনি আকিদাগতভাবে মুতাজিলা ছিলেন এবং এই তাফসিরে মুতাজিলা মতবাদ প্রচার করেছেন, তবুও আরবি ভাষার সূক্ষ্মতা, ই’জাজুল কুরআন (কুরআনের অলৌকিকতা) এবং শব্দালংকারের বিশ্লেষণে এই তাফসিরের কোনো সমকক্ষ নেই। পরবর্তীকালের মুফাসসিরগণ (যেমন বায়যাবী, নাসাফী) ভাষাগত বিষয়ের জন্য কাশশাফের ওপরই নির্ভর করেছেন।

(ب) [খ]

اكتب أسماء وفضائل سورة الفاتحة مفصلا –
[সূরা ফাতিহার নামসমূহ এবং এর ফজিলত বিস্তারিত লেখো।]

উত্তর: নামসমূহ: সূরা ফাতিহার অনেকগুলো নাম রয়েছে। যেমন- ১. আল-ফাতিহা (সূচনা বা প্রারম্ভিকা), ২. উম্মুল কুরআন (কুরআনের মূল), ৩. উম্মুল কিতাব, ৪. আস-সাবউ’ল মাসানী (পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত), ৫. আশ-শিফা (রোগ নিরাময়), ৬. আল-হামদ (প্রশংসা), ৭. আস-সালাত (নামাজ)।
ফজিলত: এটি পবিত্র কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “তাওরাত, জাবুর বা ইঞ্জিলে সূরা ফাতিহার মতো কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়নি।” এটি নামাজে পড়া ফরজ, এটি ছাড়া নামাজ হয় না। এই সূরায় বান্দা ও আল্লাহর মাঝে সরাসরি কথোপকথন হয়। তাছাড়া, এই সূরা পড়ে ফুঁ দিলে আল্লাহর ইচ্ছায় সাপে কাটা রোগী বা যেকোনো অসুস্থতা থেকে আরোগ্য (শিফা) লাভ করা যায়।
Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now