কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: ফিকহুল হাদীস (৫০২১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Fiqhul Hadith (502104) QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: ফিকহুল হাদীস (৫০২১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Fiqhul Hadith (502104) QnA
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٣م

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদী) পরীক্ষা, ২০২৩]

الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

فقه الحديث [ফিকহুল হাদীস]

বিষয় কোড: 502104 | সময় : ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০

الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن اثنين من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة.
[দ্রষ্টব্য : (أ) অংশ হতে পাঁচটি এবং (ب) অংশ হতে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) (الدرجات – ١٦ × ٥ = ٨٠)
[গ্রুপ (ক) – মান: ৮০]

(ترجم خمسة من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[নিচের হাদিসগুলো থেকে যেকোনো পাঁচটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও]

١. [১]

عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده رضى الله عنهم مرفوعا : مروا أبناءكم بالصلاة لسبع سنين واضربوهم عليها لعشر سنين، وفرقوا بينهم في المضاجع.
وعن حنظلة الكاتب رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم يقول : من حافظ على الصلوات الخمس ركوعهن وسجودهن ووضوءهن ومواقيتهن وعلم أنهن حق من عند الله دخل الجنة.

[অনুবাদ: আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (রা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন: তোমরা তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে (নামাজ না পড়লে) নামাজের জন্য তাদের প্রহার করো, আর তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।
এবং হানজালা আল-কাতিব (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রুকু, সিজদা, অজু এবং এর সময়সমূহের সংরক্ষণ করবে এবং বিশ্বাস করবে যে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সত্য, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।]

  • (أ) اكتب أهمية الصلاة فى الإسلام.
    [(ক) ইসলামে নামাজের গুরুত্ব লেখো।]

    উত্তর: ইসলামে কালিমার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। এটি ইসলামের পাঁচটি পিলারের একটি। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “মুমিন এবং কাফিরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।” কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। এটি মানুষকে সকল অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
  • (ب) تحدث عن منهج الإسلام في تربية الأولاد.
    [(খ) সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করো।]

    উত্তর: ইসলামে সন্তান প্রতিপালনে ছোটবেলা থেকেই ইসলামী মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাত বছর বয়সে তাদের ইবাদত ও শৃঙ্খলার (যেমন নামাজ) সাথে পরিচিত করতে হবে। দশ বছর বয়সে তাদের কিছুটা কড়াকড়ি বা শাসন করে হলেও অভ্যস্ত করতে হবে। পাশাপাশি এই বয়সে পর্দা ও শিষ্টাচার শেখানোর জন্য ভাই-বোনদের বিছানা আলাদা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

٢. [২]

عن أبي هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا أمن الإمام فأمنوا، فإنه من وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه.

[অনুবাদ: আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: ইমাম যখন ‘আমিন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমিন’ বলো। কারণ যার ‘আমিন’ বলা ফেরেশতাদের ‘আমিন’ বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের সব (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।]

  • (أ) أيجهر التأمين أم يخفي به؟ بين بالأدلة.
    [(ক) ‘আমিন’ কি জোরে বলবে নাকি নীরবে? প্রমাণসহ বর্ণনা করো।]

    উত্তর: হানাফি মাজহাব মতে, নামাজে ‘আমিন’ নীরবে বা চুপে চুপে (সিররান) বলা মুস্তাহাব। দলিল হলো কুরআনের আয়াত “তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও নীরবে” (সূরা আরাফ: ৫৫)। এছাড়া ইবনে মাসউদ (রা) সহ অনেক সাহাবির আমল ছিল তারা আমিন নীরবে পড়তেন। অন্যদিকে শাফেয়ি ও আহলে হাদিসদের মতে আমিন জোরে বলা সুন্নাত।
  • (ب) هل الذنوب تغفر بغير توبة؟ بين.
    [(খ) তওবা ছাড়া কি গুনাহ মাফ হয়? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: সগিরা (ছোট) গুনাহসমূহ আল্লাহ তাআলা নেক আমলের বদৌলতে (যেমন- নামাজ, অজু, আমিন বলা, রোজা রাখা ইত্যাদি) তওবা ছাড়াই ক্ষমা করে দেন, যেমনটি এই হাদিসে উল্লেখ আছে। তবে কবিরা (বড়) গুনাহ মাফ পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিশুদ্ধ তওবা (তওবাতুন নাসুহা) করা শর্ত।

٣. [৩]

عن ابن مسعود رضى الله عنه مرفوعا : يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا فى القراءة سواء فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا فى السنة سواء فأقدمهم هجرة، فإن كانوا فى الهجرة سواء فأقدمهم سنا، ولا يؤمن الرجل الرجل فى سلطانه ولا يقعد فى بيته على تكرمته إلا بإذنه، وفي لفظ فى أهله ولا سلطانه.

[অনুবাদ: ইবনে মাসউদ (রা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: মানুষের ইমামতি সে ব্যক্তি করবে, যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে ভালো তিলাওয়াত করতে পারে (বা বেশি জানে)। যদি তিলাওয়াতে তারা সমান হয়, তবে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। যদি সুন্নাহর জ্ঞানেও সমান হয়, তবে যে আগে হিজরত করেছে। হিজরতের ক্ষেত্রেও সমান হলে বয়সে যে বড়। আর কোনো ব্যক্তি যেন অন্য ব্যক্তির কর্তৃত্বের জায়গায় গিয়ে তার ইমামতি না করে এবং অনুমতি ছাড়া কারো বাড়িতে তার বসার নির্দিষ্ট জায়গায় না বসে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তার পরিবার ও কর্তৃত্বের জায়গায়।]

  • (أ) من احق بالإمامة؟ بين مفصلا.
    [(ক) ইমামতির বেশি হকদার কে? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]

    উত্তর: হাদিস ও ফিকহের আলোকে ইমামতির যোগ্যতার একটি ক্রম রয়েছে: ১. শরীয়ত ও সুন্নাহ সম্পর্কে যিনি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী (ফিকহবিদ) এবং অন্তত জরুরি পরিমাণ শুদ্ধ তিলাওয়াত জানেন। ২. এরপর যিনি তিলাওয়াতে সবচেয়ে পারদর্শী। ৩. এরপর যিনি তাকওয়া বা পরহেজগারিতে শ্রেষ্ঠ। ৪. এরপর বয়সে যিনি জ্যেষ্ঠ। ৫. এরপর যার চরিত্র ও বংশমর্যাদা ভালো। তবে মসজিদের নির্ধারিত ইমাম উপস্থিত থাকলে তিনিই সবচেয়ে বেশি হকদার।
  • (ب) اذكر الصفات اللازمة للإمام وواجباته نحو المجتمع.
    [(খ) ইমামের জন্য অত্যাবশ্যকীয় গুণাবলি এবং সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্বসমূহ উল্লেখ করো।]

    উত্তর: গুণাবলি: তাকওয়া, দ্বীনি ইলম, সুকণ্ঠ ও শুদ্ধ তিলাওয়াত, সুন্দর চরিত্র এবং ধৈর্যশীল হওয়া। দায়িত্বসমূহ: শুধু নামাজ পড়ানোই নয়, বরং সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ করা, মানুষকে দ্বীনি মাসআলা শিক্ষা দেওয়া এবং সমাজের ঐক্য বজায় রাখা ইমামের অন্যতম দায়িত্ব।

٤. [৪]

عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لو يعلم الناس ما في النداء والصف الأول ثم لا يجدون إلا أن يستهموا عليه لاستهموا، ولو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا إليه، ولو يعلمون ما في العتمة والصبح لأتوهما ولو حبوا.

[অনুবাদ: আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: মানুষ যদি জানত আজান দেওয়ার মধ্যে এবং নামাজের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী ফজিলত রয়েছে, আর লটারি করা ছাড়া তা পাওয়ার কোনো উপায় না থাকত, তবে তারা অবশ্যই এর জন্য লটারি করত। তারা যদি জানত আগে ভাগে মসজিদে যাওয়ার কী ফজিলত, তবে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর তারা যদি জানত এশা ও ফজরের নামাজের কী ফজিলত, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো।]

  • (أ) اذكر صفة المؤذن وفضله.
    [(ক) মুয়াজ্জিনের গুণাবলি ও ফজিলত উল্লেখ করো।]

    উত্তর: গুণাবলি: মুয়াজ্জিনকে অবশ্যই তাকওয়াবান, সুকণ্ঠের অধিকারী, সময়নিষ্ঠ এবং নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ফজিলত: হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের ঘাড় সবচেয়ে লম্বা হবে (অর্থাৎ তারা সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান হবেন)। মুয়াজ্জিনের আজানের আওয়াজ যে জিন, মানুষ বা জড়পদার্থ শুনবে, তারা সবাই কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।
  • (ب) اكتب ألفاظ الأذان عند الأحناف والشوافع.
    [(খ) হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী আজানের শব্দগুলো লেখো।]

    উত্তর: হানাফি মাজহাব মতে আজানের শব্দ মোট ১৫টি। শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ ৪ বার, এরপর অন্যান্য বাক্য ২ বার করে এবং শেষে ‘আল্লাহু আকবার’ ২ বার ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ১ বার। কিন্তু শাফেয়ি মাজহাব মতে আজানের শব্দ ১৯টি; কারণ তারা ‘তারজি’ (শাহাদাতের বাক্য দুটি প্রথমে মনে মনে একবার করে পড়ে আবার উচ্চস্বরে পড়া) অবলম্বন করেন।

٥. [৫]

عن أبى سعيد الخدري رضى الله عنه مرفوعا : إذ شك أحدكم في صلاته فلم يدر كم صلى ثلاثا أم أربعا فليطرح الشك وليبن على ما استيقن ثم يسجد سجدتين قبل أن يسلم، فان كان صلى خمسا شفعن له صلاته، وإن كان صلى إتماما لأربع كانتا ترغيما للشيطان.

[অনুবাদ: আবু সাঈদ খুদরি (রা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: তোমাদের কারো যদি নামাজে সন্দেহ হয় যে, সে তিন রাকাত পড়ল নাকি চার রাকাত, তবে সে যেন সন্দেহ পরিত্যাগ করে এবং যে বিষয়ে তার দৃঢ় বিশ্বাস তার ওপর ভিত্তি করে নামাজ পূর্ণ করে। অতঃপর সালাম ফেরানোর পূর্বে সে যেন দুটি সিজদা (সাহু) দেয়। যদি সে (বাস্তবে) পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে, তবে এই সিজদা তার নামাজকে জোড় (ছয়) বানিয়ে দেবে। আর যদি সে চার রাকাতই পূর্ণ করে থাকে, তবে এই সিজদা শয়তানকে লাঞ্ছিতকারী হবে।]

  • (أ) عرف سجود السهو مع بيان كيفية أدائها.
    [(ক) সিজদায়ে সাহু-এর পরিচয় দাও এবং এটি আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা করো।]

    উত্তর: পরিচয়: নামাজে ভুলবশত কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে বিলম্ব হলে তার ক্ষতিপূরণস্বরূপ নামাজের শেষে যে দুটি অতিরিক্ত সিজদা দিতে হয়, তাকে সিজদায়ে সাহু (ভুলের সিজদা) বলে। পদ্ধতি: হানাফি মতে, শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদা করতে হবে। এরপর পুনরায় বসে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
  • (ب) متى تجب سجود السهو؟ بين.
    [(খ) সিজদায়ে সাহু কখন ওয়াজিব হয়? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় মূলত দুটি কারণে: ১. ভুলবশত নামাজের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে (যেমন- প্রথম বৈঠকে না বসা, সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা না মিলানো)। ২. ভুলবশত কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে বিলম্ব করলে (যেমন- এক রুকনের জায়গায় অন্য রুকন আদায় করা বা চিন্তায় পড়ে চুপ থাকা)। ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ছাড়লে সিজদায়ে সাহু যথেষ্ট নয়, নামাজ পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

٦. [৬]

عن أبى سعيد الخدرى رضى الله عنه قال : خطبنا النبى صلى الله عليه وسلم ذات يوم فقال : إن الله كتب عليكم الجمعة فى مقامى هذا فى ساعتى هذه فى شهرى هذا فى عامى هذا إلى يوم القيامة ـ من تركها من غير عذر مع إمام عادل أو إمام جائر، فلا جمع الله شمله ولا بورك له أمره.

[অনুবাদ: আবু সাঈদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা) একদিন আমাদের সামনে খুতবা দিলেন এবং বললেন: আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর জুমআ ফরজ করেছেন আমার এই স্থানে, আমার এই সময়ে, এই মাসে এবং এই বছরে, যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যে ব্যক্তি কোনো ন্যায়পরায়ণ বা জালিম ইমাম থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে জুমআ ত্যাগ করবে, আল্লাহ তার কাজ-কর্মে ঐক্য দেবেন না এবং তার কোনো কাজে বরকত দেবেন না।]

  • (أ) على من تجب عليه الجمعة؟
    [(ক) জুমআর নামাজ কার ওপর ফরজ?]

    উত্তর: জুমআর নামাজ ওই ব্যক্তির ওপর ফরজ, যার মধ্যে নিম্নলিখিত শর্তগুলো বিদ্যমান: স্বাধীন হওয়া (ক্রীতদাস না হওয়া), প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া, মুকিম হওয়া (মুসাফির না হওয়া), পুরুষ হওয়া (নারীদের ওপর ফরজ নয়) এবং দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ও সুস্থ হওয়া (অন্ধ বা অসুস্থ না হওয়া)।
  • (ب) اذكر آداب يوم الجمعة.
    [(খ) জুমআর দিনের আদবগুলো উল্লেখ করো।]

    উত্তর: জুমআর দিনের গুরুত্বপূর্ণ আদব বা সুন্নাতগুলো হলো: ১. ভালো করে গোসল করা, ২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা, ৩. সুগন্ধি বা আতর লাগানো, ۴. মিসওয়াক করা, ৫. আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া, ৬. ইমামের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করা এবং ৭. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা।

٧. [৭]

عن أنس رضى الله عنه قال : قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال ماهذان اليومان قالوا كنا نلعب فيهما فى الجاهلية ـ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن الله قد ابدلكم بهما خيرا منها، يوم الأضحى ويوم الفطر.

[অনুবাদ: আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) মদিনায় আগমন করে দেখলেন, মদিনাবাসীদের দুটি নির্দিষ্ট দিন আছে যাতে তারা খেলাধুলা ও আনন্দ-উৎসব করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এ দিন দুটি কী? তারা বলল: আমরা জাহিলি যুগে এ দুই দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে এ দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন: ঈদুল আজহা এবং ঈদুল ফিতরের দিন।]

  • (أ) بين سنن عيد الفطر.
    [(ক) ঈদুল ফিতরের সুন্নাতসমূহ বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ঈদুল ফিতরের উল্লেখযোগ্য সুন্নাত হলো: ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, গোসল করা, সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি মাখা, ঈদগাহে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া, ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা, এবং যাওয়ার সময় নিচু স্বরে তাকবির পড়া।
  • (ب) بين كيفية أداء صلاة العيدين.
    [(খ) ঈদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ঈদের নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সাথে দুই রাকাত পড়া ওয়াজিব। হানাফি মতে পদ্ধতি হলো: প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ছানা পড়ার পর ৩ বার অতিরিক্ত তাকবির বলা (প্রতিবার হাত তুলে ছেড়ে দেওয়া এবং ৩য় বার হাত বাঁধা), এরপর স্বাভাবিকভাবে কেরাত পড়ে রুকু-সিজদা করা। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাত পড়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩ তাকবির বলা (হাত তুলে ছেড়ে দেওয়া) এবং ৪র্থ তাকবির বলে রুকুতে যাওয়া।

٨. [৮]

عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يجمع بين الرجلين من قتلى أحد فى ثوب واحد ثم يقول أيهم أكثر أخذا للقرآن فاذا أشير له إلى أحدهما قدمه فى اللحد وقال أنا شهيد على هؤلاء وأمر بدفنهم بدمائهم ولم يصل عليهم ولم يغسلهم.

[অনুবাদ: জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) উহুদ যুদ্ধে নিহত দুজন শহীদকে এক কাপড়ে (কাফনে) জমা করতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন, এদের মধ্যে কুরআনের জ্ঞান কার বেশি ছিল? যখন দুজনের একজনের দিকে ইশারা করা হতো, তখন তাকে কবরে (লাহাদে) আগে রাখতেন। তিনি বলতেন: আমি এদের ওপর সাক্ষী। তিনি তাদেরকে তাদের রক্তমাখা অবস্থাতেই দাফন করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদের জানাজাও পড়েননি এবং গোসলও দেননি।]

  • (أ) عرف الشهيد ـ وكم قسما له؟ بين.
    [(ক) শহীদ-এর পরিচয় দাও এবং এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো।]

    উত্তর: পরিচয়: যে মুসলমান আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাফির বা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হন, বা অন্যায়ভাবে মাজলুম হয়ে নিহত হন, তাঁকে শহীদ বলা হয়। প্রকারভেদ: শহীদ প্রধানত ৩ প্রকার: ১. দুনিয়া ও আখেরাতের শহীদ (যিনি জিহাদের ময়দানে নিহত হন), ২. শুধু দুনিয়ার শহীদ (যিনি জিহাদে নিহত হয়েছেন কিন্তু নিয়ত খাঁটি ছিল না), ৩. শুধু আখেরাতের শহীদ (যেমন- কলেরায় বা আগুনে পুড়ে মৃত, নারী যে সন্তান প্রসবকালে মারা যায়)।
  • (ب) هل يصلى على الشهداء؟ بين مع اختلاف الأئمة.
    [(খ) শহীদদের কি জানাজা পড়া হয়? ইমামদের মতবিরোধসহ বর্ণনা করো।]

    উত্তর: এই বিষয়ে ইমামদের মাঝে ইখতিলাফ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম মালিক (রহ)-এর মতে, উহুদের শহীদদের এই হাদিসের ভিত্তিতে শহীদদের জানাজা পড়তে হয় না এবং তাদের গোসলও দিতে হয় না। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ)-এর মতে, শহীদদের গোসল দেওয়া হবে না ঠিকই, তবে তাদের জানাজার নামাজ অবশ্যই পড়তে হবে। উহুদের পর অন্যান্য যুদ্ধে রাসূল (সা) শহীদদের জানাজা পড়েছেন বলে প্রমাণ রয়েছে।

مجموعة (ب) (الدرجات – ١٠ × ٢ = ٢٠)
[গ্রুপ (খ) – মান: ২০]

(أجب عن اثنين من الأسئلة التالية)
[নিচের যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

٩. تحدث عن منهج تأليف فقه السنن والآثار موضحا.
[৯. ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’ গ্রন্থের রচনা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করো।]

উত্তর: ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’ গ্রন্থটি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলিম মুফতি আমীমুল ইহসান আল-বারকাতী (রহ) রচনা করেছেন। এই গ্রন্থের মূল রচনার পদ্ধতি হলো, তিনি হানাফি ফিকহের মাসআলাগুলোকে ভিত্তি ধরে এর অনুকূলে যে সমস্ত সহিহ ও হাসান হাদিস রয়েছে, তা অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে সংকলন করেছেন। যেখানে বিরোধপূর্ণ হাদিস রয়েছে, সেখানে তিনি ইলমি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে হানাফি মাজহাবের মতের যথার্থতা তুলে ধরেছেন। এটি ফিকহ ও হাদিসের একটি অপূর্ব সমন্বয়।

١٠. اكتب حياة المفتي عميم الإحسان البركتى ودوره فى علم الحديث.
[১০. মুফতি আমীমুল ইহসান আল-বারকাতী (রহ)-এর জীবনী ও ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান লেখো।]

উত্তর: জীবনী: সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান আল-বারকাতী (রহ) ১৯১১ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মাওলানা ছিলেন এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অত্যন্ত উঁচু মাপের ফিকহবিদ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।
অবদান: ইলমে হাদিস ও ফিকহে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’, ‘কাওয়ায়েদুল ফিকহ’, ‘মিযানুল আখবার’, ‘লুব্বুল উসুল’ সহ অসংখ্য অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আজও মাদরাসার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত।

١١. بين حكم الدعاء برفع اليدين أدبار الصلوات الخمس فى ضوء الأحاديث النبوية.
[১১. নববী হাদিসের আলোকে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করার বিধান বর্ণনা করো।]

উত্তর: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর হাত তুলে মুনাজাত বা দোয়া করা মুস্তাহাব। নবী করিম (সা) বলেছেন, “রাতের শেষাংশে এবং ফরজ নামাজের পর দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়” (তিরমিজি)। হাত তুলে দোয়া করা সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যেখানে রাসূল (সা) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা লজ্জাশীল, বান্দা তাঁর দিকে হাত তুললে তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান” (আবু দাউদ)। তাই জামাতের সাথে ফরজ নামাজের পর সংক্ষেপে হাত তুলে দোয়া করা একটি শরীয়তসম্মত আমল এবং এটি সালাফদের দ্বারা প্রমাণিত।

١٢. علق على اثنين مما يلى :
[১২. নিচের যেকোনো দুটির ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো:]

  • (أ) صلاة الإستخارة؛
    [(ক) সালাতুল ইস্তিখারা;]

    উত্তর: ‘ইস্তিখারা’ অর্থ কল্যাণ প্রার্থনা করা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের (যেমন- বিয়ে, ব্যবসা বা সফর) সিদ্ধান্তে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লে আল্লাহর কাছে সঠিক পথের নির্দেশনা ও কল্যাণ চেয়ে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়া এবং এরপর হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়া পড়াকে সালাতুল ইস্তিখারা বলে। এটি একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নাত।
  • (ب) وقت صلاة الظهر؛
    [(খ) জোহরের নামাজের ওয়াক্ত;]

    উত্তর: সূর্য ঠিক মাথার ওপর থেকে পশ্চিম দিকে হেলে পড়া (যাওয়াল) থেকে জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয় যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া (দুপুরের মূল ছায়া বা ছায়া আসলি বাদে) তার দ্বিগুণ হয়ে যায়। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়।
  • (ج) صلاة الإستسقاء؛
    [(গ) সালাতুল ইস্তিসকা;]

    উত্তর: ‘ইস্তিসকা’ অর্থ পানি প্রার্থনা করা। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে বা খরা দেখা দিলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে খোলা মাঠে গিয়ে জামাতের সাথে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এবং বিনয়ের সাথে দীর্ঘ দোয়া করাকে সালাতুল ইস্তিসকা বলা হয়। এটি সুন্নাত।
  • (د) شروط الصلاة وأركانه.
    [(ঘ) নামাজের শর্ত ও রুকনসমূহ;]

    উত্তর: নামাজের বাইরের বিষয়গুলোকে শর্ত বা আহকাম বলা হয় (মোট ৭টি): শরীর পাক, কাপড় পাক, জায়গা পাক, সতর ঢাকা, কেবলামুখী হওয়া, ওয়াক্ত হওয়া এবং নিয়ত করা। আর নামাজের ভেতরের বিষয়গুলোকে রুকন বা আরকান বলা হয় (মোট ৬টি): তাকবিরে তাহরিমা বলা, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া, কেরাত পড়া, রুকু করা, দুই সিজদা করা এবং শেষ বৈঠকে বসা। এগুলো বাদ পড়লে নামাজ হয় না।
Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now