اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٤
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]
الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
تاريخ الحضارة الإسلامية [তারীখুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ]
বিষয় কোড: ৫০২১০৬ | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
مجموعة (أ) [গ্রুপ-ক]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب) | الدرجة— ٢٠×٤ = ٨٠
১. حلل أبرز مظاهر الحياة السياسية في الجاهلية ثم ناقش كيف غيرها الإسلام .
[জাহেলি যুগের রাজনৈতিক জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ কর। অতঃপর ইসলাম কীভাবে সেগুলো পরিবর্তন করেছে তা আলোচনা করো]
জাহেলি যুগের রাজনৈতিক জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ: ইসলামপূর্ব আরব সমাজ বা জাহেলি যুগে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল না। সমগ্র আরব সমাজ গোত্রীয় প্রথায় (Tribal System) বিভক্ত ছিল। প্রতিটি গোত্রের প্রধানকে ‘শেখ’ বলা হতো, যিনি সাধারণত বীরত্ব, অভিজ্ঞতা ও সম্পদের ভিত্তিতে নির্বাচিত হতেন। গোত্রীয় সংহতি বা ‘আসাবিয়্যাহ’ ছিল অত্যন্ত প্রখর। সামান্য কারণে এক গোত্র অন্য গোত্রের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হতো, যা যুগ যুগ ধরে চলত (যেমন: বাসুসের যুদ্ধ ও বুয়াসের যুদ্ধ)। কোনো লিখিত আইন ছিল না, জোর যার মুলুক তার—এই নীতিতেই সমাজ পরিচালিত হতো। মক্কায় ‘মালা’ নামক একটি প্রবীণ বা এলিট কাউন্সিল ছিল, যা কেবল পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করত, কিন্তু তাদের কোনো বাধ্যতামূলক আইনি ক্ষমতা ছিল না।
ইসলামের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন: ইসলামের আগমনের পর আরবের এই রাজনৈতিক নৈরাজ্য সম্পূর্ণ দূর হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) মদিনা সনদের মাধ্যমে মদিনায় বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানভিত্তিক একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলাম গোত্রীয় আভিজাত্যের স্থলে ‘ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ’ (উম্মাহ) প্রতিষ্ঠা করে। গোত্রপ্রথার অবসান ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও কুরআনের আইনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়, যেখানে শাসক ও শাসিতের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আরবে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন করে ইসলাম।
২. تحدث عن دور الرسول ﷺ في محو الأمية ونشر العلم موضحاً .
[নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে রসুল (স) এর ভূমিকা বিশদভাবে আলোচনা করো।]
রাসুলুল্লাহ (স) এর ওপর অবতীর্ণ প্রথম ওহী ছিল ‘ইকরা’ অর্থাৎ “পড়ো”। ফলে ইসলাম শুরু থেকেই জ্ঞানার্জনকে ফরজ বা আবশ্যিক ঘোষণা করেছে। তৎকালীন নিরক্ষর আরব সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে রাসুল (স) ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন:
- দারুল আরকাম প্রতিষ্ঠা: মক্কী জীবনে ইসলামের সূচনা লগ্নেই তিনি হযরত আরকাম (রা)-এর গৃহকে ইসলামের প্রথম গোপন শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন।
- বদরের যুদ্ধের বন্দিমুক্তি: বদরের যুদ্ধে মক্কার যেসব শিক্ষিত কাফের বন্দি হয়েছিল, তাদের মুক্তিসণদ হিসেবে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, প্রত্যেকে মদিনার ১০ জন করে শিশুকে সাড়াক্ষরতা ও শিক্ষা দান করবে। এটি ছিল নিরক্ষরতা দূরীকরণে পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।
- সুফ্ফা শিক্ষায়তন: মদিনায় মসজিদে নববীর বারান্দায় ‘আসহাবে সুফ্ফা’ নামে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন, যা ছিল সর্বক্ষণের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র।
- নারী শিক্ষার প্রসার: রাসুল (স) নারীদের শিক্ষার জন্য বিশেষ দিন নির্ধারণ করেছিলেন এবং হযরত আয়েশা (রা) নিজেই ছিলেন তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান নারী শিক্ষাবিদ ও মুহাদ্দিস।
৩. ما ملامح النظام الاقتصادي في عصر الرسول ﷺ والخلفاء الراشدين؟ وما الأسس التي قام عليها؟ بين مفصلاً .
[রাসুল (স) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো কী ছিল? কোন ভিত্তির উপর তা প্রতিষ্ঠিত ছিল? বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো।]
অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ: রাসুলুল্লাহ (স) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে একটি শোষণমুক্ত, কল্যাণমুখী ও সাম্যবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। এর মূল ভিত্তি ছিল সম্পদের সুষম বণ্টন এবং আল্লাহর মালিকানা। প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
- বাইতুল মাল গঠন: রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা ‘বাইতুল মাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা জনগণের আমানত হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে হযরত উমর (রা)-এর যুগে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
- উৎসসমূহ: রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল যাকাত, উশর (কৃষি পণ্যের যাকাত), জিজিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর), খারাজ (ভূমি কর) এবং গনীমত (যুদ্ধের লব্ধ মাল)।
- সুদ ও মজুতদারী নিষিদ্ধকরণ: অর্থনীতি থেকে সুদ (রিবা), ঘুষ, জুয়া এবং কৃত্রিম সংকটের জন্য পণ্য মজুতদারি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
ভিত্তি: এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল— ক. সমস্ত সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা, খ. মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি তবে তা হালাল উপায়ে অর্জিত হতে হবে, গ. সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত ও সদকার বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ।
৪. كيف تولى معاوية بن أبي سفيان (رض) الخلافة؟ وما خلفيته السياسية والإدارية؟ بين أهم الآثار السياسية المترتبة على ذلك .
[হযরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা) কীভাবে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন? এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটভূমি কী ছিল? এর ফলে সৃষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবগুলো বর্ণনা করো।]
খেলাফত লাভ ও পটভূমি: হযরত মুয়াবিয়া (রা) দীর্ঘকাল সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল। হযরত আলী (রা)-এর শাহাদাতের পর মদিনায় হযরত হাসান (রা) খলিফা নির্বাচিত হন। তবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষা এবং গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ৪১ হিজরিতে (যাকে ‘আমুল জামায়াত’ বা ঐক্যের বছর বলা হয়) হযরত হাসান (রা) হযরত মুয়াবিয়া (রা)-এর পক্ষে খেলাফতের দাবি ত্যাগ করে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। এভাবে তিনি খেলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন।
রাজনৈতিক প্রভাবসমূহ: হযরত মুয়াবিয়া (রা)-এর ক্ষমতা গ্রহণের ফলে ইসলামী ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়:
- রাজতন্ত্রের সূচনা: ইসলামী খেলাফতের গণতান্ত্রিক ও শুরাভিত্তিক পদ্ধতির অবসান ঘটে এবং খেলাফত বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রে (Monarchy) রূপান্তরিত হয়।
- রাজধানী পরিবর্তন: খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু মদিনা বা কুফা থেকে সিরিয়ার দামেস্কে স্থানান্তরিত হয়।
- প্রশাসনিক আধুনিকায়ন: বাইজান্টাইন ও পারস্য সাম্রাজ্যের আদলে দিওয়ানুল বারিদ (ডাক বিভাগ) ও দিওয়ানুল খাতাম (মোহর সংরক্ষণ বিভাগ) সহ নতুন নতুন প্রশাসনিক সেল গঠন করা হয় এবং প্রথম শক্তিশালী মুসলিম নৌবাহিনী গঠিত হয়।
৫. حلل تطور النظام الإداري في العهد الأموي ثم ناقش أثره في الاستقرار السياسي .
[উমাইয়া যুগে প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিকাশ বিশ্লেষণ কর। অতঃপর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর এর প্রভাব আলোচনা করো।]
উমাইয়া যুগে প্রশাসনিক বিকাশ: উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) পূর্ববর্তী সরল শাসনব্যবস্থাকে একটি জটিল ও সুসংগঠিত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কাঠামোতে রূপান্তর করে। আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের যুগে ‘আরবিকরণ’ নীতি গ্রহণ করা হয়, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আরবি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নিজস্ব ইসলামিক মুদ্রা (দীনার ও দিরহাম) চালু হয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে (দিওয়ান) বিভক্ত করা হয়: দিওয়ানুল খরাজ (অর্থ বিভাগ), দিওয়ানুল রাসাইল (চিঠিপত্র), দিওয়ানুল খাতাম (সিলমোহর), দিওয়ানুল বারিদ (ডাক ও গোয়েন্দা) এবং দিওয়ানুল জুন্দ (সামরিক)।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব: এই শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো বিশাল উমাইয়া সাম্রাজ্যে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ (যেমন খারেজি ও শিয়াদের তৎপরতা) দমন করতে সাহায্য করে। সুসংগঠিত গোয়েন্দা ও ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হওয়ায় কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী প্রদেশগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হয়েছিল, যা সাম্রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনে দেয় এবং সিন্ধু থেকে স্পেন পর্যন্ত বিজয় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
৬. كيف ساهم العلماء المسلمون في بناء صرح الحضارة الإنسانية في مجالات الطب والفيزياء، والرياضيات؟ بين مفصلاً .
[মুসলিম বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা, পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে মানব সভ্যতার সৌধ নির্মাণে কীভাবে অবদান রেখেছেন? বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।]
মধ্যযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক মানব সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। প্রধান তিনটি ক্ষেত্রে তাদের অবদান নিচে আলোচনা করা হলো:
- চিকিৎসা বিজ্ঞান (Medicine): ইবনে সিনা (Avicenna) চিকিৎসা বিজ্ঞানের রাজপুত্র হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine) শত শত বছর ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রধান পাঠ্যবই ছিল। আল-রাজি (Rhazes) গুটিবসন্ত ও হামের পার্থক্য প্রথম আবিষ্কার করেন এবং আল-জাহরাভিকে আধুনিক সার্জারির জনক বলা হয়।
- পদার্থ বিজ্ঞান (Physics): ইবনে আল-হাইথাম (Alhazen) অপটিক্স বা আলোকবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটান। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুল মানাজির’-এ তিনি প্রমাণ করেন যে চোখ থেকে আলো বের হয় না, বরং বস্তু থেকে আলো চোখে আসার কারণেই আমরা দেখতে পাই। তিনি পিনহোল ক্যামেরার নীতিও আবিষ্কার করেন।
- গণিত শাস্ত্র (Mathematics): আল-খাওয়ারিজমি হলেন বীজগণিতের (Algebra) জনক। তাঁর বিখ্যাত বই ‘কিতাব আল-জাবর ওয়াল মুকাবিলা’ থেকে ‘অ্যালজেব্রা’ শব্দের উৎপত্তি। এছাড়া মুসলিম গণিতবিদরাই শূন্য (Zero) এর সঠিক ব্যবহার এবং দশমিক পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন।
مجموعة (ب) [গ্রুপ-খ]
الدرجة— ٥×٤ = ٢٠
৭. بين مساهمة علي بن أبي طالب رضي الله عنه في تطور العلوم .
[জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (রা) এর অবদান বর্ণনা করো।]
হযরত আলী (রা) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক বিশাল সমুদ্র। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, “আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দরজা।” তাঁর অন্যতম প্রধান অবদান হলো আরবি ব্যাকরণ (নাহু) শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। তিনি তাঁর শিষ্য আবু আসওয়াদ আদ-দুয়ালীকে আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষায় ব্যাকরণের নিয়ম প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এছাড়া কুরআন সুন্নাহর জটিল আইনি ব্যাখ্যা, ফিকহ এবং ইলমে তাসাউফের বিকাশে তাঁর গভীর প্রজ্ঞা পরবর্তী যুগের ইসলামী জ্ঞানতত্ত্বের মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর বক্তব্য ও চিঠিসমূহের সংকলন ‘নাহজুল বালাগাহ’ আরবি সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ।
৮. كيف كانت الأوضاع الثقافية للمجتمع الإسلامي في العهد الأموي؟ اكتب موجزاً .
[উমাইয়া যুগে মুসলিম সমাজের সাংস্কৃতিক অবস্থা কেমন ছিল? সংক্ষেপে লেখো।]
উমাইয়া যুগে মুসলিম সংস্কৃতিতে এক বিশাল রূপান্তর ঘটে। এই যুগে ইসলামী স্থাপত্যকলার অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে, যার অনন্য নিদর্শন জেরুজালেমের ‘কুব্বাতুস সাখরা’ (Dome of the Rock) এবং দামেস্কের ‘উমাইয়া মসজিদ’। তৎকালীন সময়ে কবি আল-আখতাল, ফারাজদাক এবং জারিরের হাত ধরে আরবি কবিতার পুনরুজ্জীবন ঘটে। এ যুগে হাদিস সংকলনের প্রাথমিক সরকারি উদ্যোগ (খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের মাধ্যমে) শুরু হয় এবং জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে মক্কা, মদিনা, কুফা ও বসরা মুখরিত হয়ে ওঠে।
৯. اكتب أهم أسباب انحطاط الأمويين .
[উমাইয়াদের পতনের গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো লিপিবদ্ধ করো।]
উমাইয়া বংশের পতনের প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র ও অযোগ্য উত্তরাধিকারী: খলিফা হিশামের পর একের পর এক অযোগ্য ও বিলাসী খলিফাদের সিংহাসন আরোহণ।
- মাওয়ালী অসন্তোষ: অনারব মুসলমানদের (মাওয়ালী) সাথে উমাইয়া শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ ও অতিরিক্ত কর আদায়।
- আব্বাসী প্রচারণ ও শিয়াদের বিরোধিতা: হাশেমী ও আব্বাসী বংশের সুসংগঠিত গোপন প্রচারণ এবং কারবালার ট্র্যাজেডির পর থেকে শিয়াদের অবিরাম উমাইয়া বিরোধী আন্দোলন।
- মুদার ও ইয়েমেনী গোত্রীয় দ্বন্দ্ব: আরবদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ গোত্রীয় কোন্দল ও মারওয়ানের শেষ যুদ্ধ (জাবের যুদ্ধ, ৭৫০ খ্রি.)-এ পরাজয়।
১০. تحدث عن حركة الترجمة في عهد الخليفة العباسي المأمون موجزاً .
[আব্বাসী খলিফা আল-মামুনের যুগে অনুবাদ কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
আব্বাসী খলিফা আবদুল্লাহ আল-মামুন (৮১৩-৮৩৩ খ্রি.)-এর শাসনামল ছিল অনুবাদ আন্দোলনের স্বর্ণযুগ। তিনি বাগদাদে ‘বাইতুল হিকমাহ’ (House of Wisdom) নামক বিশ্ববিখ্যাত একাডেমি ও গ্রন্থাগারকে পুনর্গঠিত ও সম্প্রসারিত করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে গ্রিক, পারসিক, সিরিয়াক এবং সংস্কৃত ভাষার মূল্যবান বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গ্রন্থগুলো আরবিতে অনূদিত হয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাকের মতো পণ্ডিতরা স্বর্ণের ওজনে অনূদিত গ্রন্থের পারিশ্রমিক পেতেন। এই অনুবাদ আন্দোলনের ফলেই প্লেটো, অ্যারিস্টটল, ইউক্লিড এবং চরক-সুশ্রুতের জ্ঞান মুসলিম বিশ্বে সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তীতে তা রেনেসাঁস আনতে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।
১১. تحدث عن نظام التعليم في العهد العباسي باختصار .
[আব্বাসী যুগের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।]
আব্বাসী যুগের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তা ধর্মীয় ও সেক্যুলার শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয় ছিল। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ‘কুত্তাব’ বা মক্তব চালু ছিল যেখানে কুরআন, ভাষা ও প্রাথমিক গণিত শেখানো হতো। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসা ও একাডেমি গড়ে ওঠে, যার মধ্যে সেলজুক উজির নিজামুল মুলক প্রতিষ্ঠিত ‘মাদ্রাসায়ে নিজামিয়া’ এবং খলিফা মুসতানসির প্রতিষ্ঠিত ‘মুসতানসিরিয়া মাদ্রাসা’ অন্যতম। পাঠ্যসূচিতে উলূমুন নাকলিয়াহ (ধর্মীয় জ্ঞান যেমন— তাফসীর, হাদীস, ফিকহ) এবং উলূমুল আকলিয়াহ (যৌক্তিক জ্ঞান যেমন— দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১২. تحدث عن حركة الشعوبية وآثارها السياسية باختصار .
[‘শুউবিয়া আন্দোলন’ ও এর রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।]
শুউবিয়া আন্দোলন: শুউবিয়া মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলন ছিল যা আব্বাসী যুগে অনারব মুসলমানদের (বিশেষ করে পারসিয়ান বা ইরানীদের) মধ্যে তীব্র রূপ ধারণ করে। উমাইয়াদের চরম আরব জাতিপ্রীতির প্রতিক্রিয়ায় এই আন্দোলনের উৎপত্তি। এর মূল বক্তব্য ছিল— ইসলামে আরবরা অনারবদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয় এবং অনারবদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কোনো অংশে কম নয়।
রাজনৈতিক প্রভাব: এই আন্দোলনের ফলে আব্বাসী খিলাফতে আরবের একক রাজনৈতিক আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হয় এবং পারস্য সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব তৈরি হয়। খলিফারা পারসিয়ানদের উচ্চ রাজপদ ও উজির (যেমন: বার্মাকি পরিবার) হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য হন। এটি উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত করতে এবং আব্বাসী খেলাফতের প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ অনারবীকরণ ও আন্তর্জাতিক রূপ দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।


