দিরাসাত আত-তাফসীর প্রশ্ন ও সমাধান – কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৪ | Dirasat At-Tafsir (502105) QnA – Kamil Masters Exam 2024

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
DirasatAt Tafsir502105QnA
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)
পরীক্ষা কোড: ۵۰۱ | প্রশ্নপত্র কোড: ۹۱۱

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٤

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]

الحديث والدراسات الإسلامية
[আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة التفسير
[দিরাসাত আত-তাফসীর]

বিষয় কোড: ۵۰۲۱۰۵

الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]

الدرجة الكاملة—١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]

الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة.
[দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

مجموعة (أ)—تفسير البيضاوي
[ক-বিভাগ — তাফসীরে বায়যাবী]

الدرجة—٥٠ [মান—৫০]

١. ترجم اثنين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (الدرجات ٢٠×٢=٤٠)

[১. নিচের যেকোনো দুটি অনুচ্ছেদ অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: (মান: ২০×২=৪০)]

(أ)

الم . ذلك الكتاب لا ريب فيه هدى للمتقين . الذين يؤمنون بالغيب ويقيمون الصلوة ومما رزقناهم ينفقون . والذين يؤمنون بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك وبالآخرة هم يوقنون . أولئك على هدى من ربهم وأولئك هم المفلحون .

অনুবাদ: আলিফ-লাম-মীম। এ সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনে এবং আখিরাতের প্রতি তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর আছে এবং তারাই সফলকাম।

  • (١) ما المراد بالحروف في قوله تعالى: ‘الم’ عند الإمام البيضاوي؟

    [১. ইমাম বায়যাবী (রহ.) এর মতে ‘الم’ হরফগুলো দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

    উত্তর: ইমাম বায়যাবী (রহ.) এর মতে এগুলো হুরুফে মুকাত্তা’আত। এগুলোর প্রকৃত অর্থ আল্লাহই ভালো জানেন। তবে তিনি এর কয়েকটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন: প্রথমত, এগুলো আল্লাহর নাম বা সিফাতের সংক্ষেপ (যেমন: ‘আলিফ’ দ্বারা আল্লাহ, ‘লাম’ দ্বারা জিবরাঈল এবং ‘মীম’ দ্বারা মুহাম্মদ সা.)। দ্বিতীয়ত, এগুলো কুরআনের অলৌকিকত্বের চ্যালেঞ্জ স্বরূপ, অর্থাৎ এই কুরআন তোমাদের পরিচিত আরবি হরফ দিয়েই গঠিত, পারলে এর মতো কিছু রচনা করে দেখাও। তৃতীয়ত, এগুলো সংশ্লিষ্ট সূরার নাম।
  • (٢) من هم المتقون؟ اكتب أوصافهم موجزًا.

    [২. মুত্তাকী কারা? সংক্ষেপে তাদের বৈশিষ্ট্য লেখ।]

    উত্তর: ‘মুত্তাকী’ হলেন তারা যারা আল্লাহর শাস্তির ভয়ে যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং তাঁর নির্দেশিত ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করে। আয়াতে তাদের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: (ক) গায়েবে বা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করা (যেমন- আল্লাহ, ফেরেশতা, জান্নাত-জাহান্নাম)। (খ) যথাযথ শর্ত ও রুকনসহ সালাত কায়েম করা। (গ) আল্লাহর দেওয়া হালাল রিযিক থেকে সৎপথে (যাকাত ও সাদাকা হিসেবে) ব্যয় করা।
  • (٣) ما معنى الإنفاق؟ وما المراد بقوله تعالى “ومما رزقناهم ينفقون”؟

    [৩. ইনফাক এর অর্থ কী? “ومما رزقناهم ينفقون” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

    উত্তর: ‘ইনফাক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ব্যয় করা বা খরচ করা। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সৎপথে সম্পদ ব্যয় করাকে ইনফাক বলে। “ومما رزقناهم ينفقون” দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, প্রকৃত মুমিনগণ কেবল দৈহিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং আল্লাহ তাদেরকে যে হালাল রিযিক দিয়েছেন, তা থেকে তারা কৃপণতা না করে আল্লাহর রাস্তায়, গরিব-দুঃখী ও অভাবীদের মাঝে ব্যয় করেন। এর মধ্যে ফরজ যাকাত এবং নফল সাদাকা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

(ب)

مثلهم كمثل الذي استوقد نارا فلما أضاءت ما حوله ذهب الله بنورهم وتركهم فى ظلمات لا يبصرون . صم بكم عمى فهم لا يرجعون . أوكصيب من السماء فيه ظلمات ورعد وبرق يجعلون أصابعهم فى آذانهم من الصواعق حذر الموت والله محيط بالكافرين .

অনুবাদ: তাদের উপমা ঐ ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালালো; এরপর যখন আগুন তার চারপাশ আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের আলো কেড়ে নিলেন এবং তাদেরকে এমন ঘোর অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন যে, তারা কিছুই দেখতে পায় না। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; কাজেই তারা ফিরে আসবে না। অথবা (তাদের উপমা) আকাশ থেকে বর্ষিত মুষলধারে বৃষ্টির ন্যায়, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে বজ্রের গর্জনে তারা তাদের আঙুলসমূহ কানে ঢুকিয়ে দেয়। আর আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন।

  • (١) ما وجه التمثيل فى قوله تعالى: مثلهم كمثل الذى استوقد نارا؟

    [১. “مثلهم كمثل الذى استوقد نارا” বাণীর উপমার কারণ কী?]

    উত্তর: এখানে মুনাফিকদের অবস্থাকে এমন এক ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে যে রাতের অন্ধকারে আগুন জ্বালালো, কিন্তু আলো হওয়ার পরই তা নিভে গেল এবং সে পুনরায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো। মুনাফিকরা মুখে ঈমানের প্রকাশ ঘটিয়ে মুসলমানদের সাথে মিশে সাময়িক নিরাপত্তা ও পার্থিব সুবিধা (বিবাহ, জানমালের নিরাপত্তা) লাভ করে (যা আগুনের আলোর মতো)। কিন্তু তাদের অন্তরে কুফর থাকায় মৃত্যুর সাথে সাথেই এই আলো নিভে যায় এবং তারা পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নামের অন্ধকারে নিপতিত হয়।
  • (٢) بين محل الإعراب لقوله تعالى : ذهب الله بنورهم.

    [২. “ذهب الله بنورهم” এর ই’রাবের অবস্থান বর্ণনা কর।]

    উত্তর: এটি একটি জুমলা ফি’লিয়্যা (ক্রিয়াবাচক বাক্য)। এখানে ‘ذهب’ (যাহাবা) হলো ফি’লে মাদি (অতীতকালীন ক্রিয়া)। ‘الله’ (আল্লাহু) হলো ফায়িল (কর্তা), যা মারফু। ‘ب’ (বা) হরফে জার, ‘نور’ (নূর) মাজরুর, যা মুযাফ এবং ‘هم’ (হুম) মুযাফ ইলাইহি। যার-মাজরুর মিলে ‘ذهب’ ফি’ল এর সাথে মুতা’আল্লিক (সম্পর্কিত) হয়েছে। ব্যাকরণগতভাবে এই পুরো বাক্যটি ‘فلما أضاءت’ (শর্ত) এর জওয়াব (ফলাফল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
  • (٣) لم قيل أصابع دون أنامل فى قوله تعالى : ‘يجعلون أصابعهم’؟ بين.

    [৩. “يجعلون أصابعهم” বাণীতে কেন ‘আনামীল’ (আঙুলের অগ্রভাগ) এর পরিবর্তে ‘আছাবি’ (সম্পূর্ণ আঙুল) বলা হয়েছে? বর্ণনা কর।]

    উত্তর: এখানে আরবি অলংকারশাস্ত্রের ‘মাজাযে মুরসাল’ ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে ‘কুল’ (সমগ্র) উল্লেখ করে ‘জুয’ (অংশ) বোঝানো হয়েছে। বিকট বজ্রপাতের আওয়াজে কাফির ও মুনাফিকরা চরম আতঙ্কে কানের ছিদ্র সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে চায়। তাদের ভীতি এতই তীব্র থাকে যে, মনে হয় যেন তারা শুধু আঙুলের অগ্রভাগ নয়, বরং পুরো আঙুলই কানে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তাদের এই চরম ভীতি ও আতঙ্কের তীব্রতা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্যই কুরআন এখানে ‘আছাবি’ (পুরো আঙুল) শব্দটি ব্যবহার করেছে।

(ج)

إن الله لا يستحى أن يضرب مثلاً ما بعوضة فما فوقها . فأما الذين امنوا فيعلمون أنه الحق من ربهم وأما الذين كفروا فيقولون ماذا أراد الله بهذا مثلا يضل به كثيرًا ويهدى به كثيرًا وما يضل به إلا الفاسقين . الذين ينقضون عهد الله من بعد ميثاقه ويقطعون ما أمر الله به أن يوصل ويفسدون فى الأرض أولئك هم الخاسرون .

অনুবাদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো কিছুর উপমা দিতে সংকোচ বোধ করেন না। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে, তারা জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য। আর যারা কুফরি করেছে, তারা বলে- “এর উপমা দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?” এর মাধ্যমে তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হিদায়াত দান করেন। আর তিনি ফাসিকরা ছাড়া অন্য কাউকেও এর দ্বারা পথভ্রষ্ট করেন না। যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

  • (١) ما سبب نزول قوله تعالى: إن الله لا يستحى أن يضرب مثلاً ما بعوضة؟

    [১. “إن الله لا يستحى أن يضرب مثلاً ما بعوضة” আয়াতটির শানে নুযূল কী?]

    উত্তর: যখন আল্লাহ তা’আলা কুরআন মাজিদে মুনাফিক ও মিথ্যা উপাস্যদের অসারতা বোঝানোর জন্য মাকড়সা ও মাছির উপমা (সূরা হজ্জ ও আনকাবূতে) অবতীর্ণ করলেন, তখন ইহুদি, মুশরিক ও মুনাফিকরা সমালোচনা শুরু করে। তারা বলতে লাগল, “আল্লাহর মতো মহান ও পরাক্রমশালী সত্তা মশা-মাছি বা মাকড়সার মতো তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র জিনিসের উপমা কেন দেবেন? এটি আল্লাহর কালাম হতে পারে না।” তাদের এই অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্যের জবাবে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করে স্পষ্ট করেন যে, সত্য ও তত্ত্ব সুন্দরভাবে বোঝানোর জন্য বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যশীল যেকোনো ক্ষুদ্র বা বৃহৎ উপমা দিতে আল্লাহ সংকোচ বোধ করেন না।
  • (٢) ما معنى قوله تعالى: ‘لا يستحى’ فى تفسير البيضاوى؟

    [২. তাফসীরে বায়যাবী অনুযায়ী ‘لا يستحى’ এর অর্থ কী?]

    উত্তর: ইমাম বায়যাবী (রহ.) এর তাফসীর অনুযায়ী, আল্লাহর ক্ষেত্রে ‘লজ্জা’ বা ‘সংকোচ’ (হায়া) শব্দের আক্ষরিক অর্থ (যা মানুষের ক্ষেত্রে এক ধরনের দুর্বলতা বা ভীতির কারণে সৃষ্টি হয়) প্রযোজ্য নয়। বরং এখানে ‘لا يستحى’ এর রূপক অর্থ হলো- আল্লাহ তা’আলা সত্য প্রকাশ করতে এবং হিকমতের খাতিরে সঠিক উপমা প্রদান করতে বিরত থাকেন না বা ছেড়ে দেন না। অর্থাৎ, মানুষের সমালোচনার ভয়ে তিনি হক কথা বলা বর্জন করেন না।
  • (٣) فسر قوله تعالى : ويقطعون ما أمر الله به أن يوصل.

    [৩. “ويقطعون ما أمر الله به أن يوصل” এর তাফসীর কর।]

    উত্তর: এই আয়াতে ফাসিকদের একটি জঘন্য বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। “আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তারা তা ছিন্ন করে” -এর তাফসীরে মুফাসসিরগণ বলেন, এর দ্বারা মূলত ‘সিলাহ রেহমী’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও এর দ্বারা নবী-রাসূলদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা (কাউকে মানা কাউকে না মানা), এবং মুমিনদের মধ্যকার পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্যের বন্ধন ছিন্ন করাকেও বোঝানো হয়। ফাসিকরা এই পবিত্র বন্ধনগুলো নষ্ট করে সমাজে অশান্তি ও ফাসাদ সৃষ্টি করে।
٢. أجب عن واحد مما يلى : (الدرجات ١٠×١=١٠)

[২. নিচের যেকোনো একটির উত্তর দাও: (মান: ১০×১=১০)]

  • (أ) اكتب نبذة من حياة الإمام ناصر الدين البيضاوى مع ذكر مساهمته فى علم التفسير.

    [২(ক). ইলমে তাফসীরে অবদান উল্লেখপূর্বক ইমাম নাসিরুদ্দীন বায়যাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

    উত্তর:
    জীবনী: তাঁর পুরো নাম আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী। উপাধি নাসিরুদ্দীন এবং লকব আবুল খায়ের। তিনি ইরানের ফারস প্রদেশের রাজধানী শিরাজের নিকটবর্তী ‘বায়যা’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন, তাই তাঁকে ‘আল-বায়যাবী’ বলা হয়। তাঁর জন্মসন সম্পর্কে মতভেদ থাকলেও তিনি ৭ম হিজরী শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিম ছিলেন। তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং শিরাজ প্রদেশের প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুযযাত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৬৫৮ হিজরীতে (অথবা মতান্তরে ৬৮৫ হিজরীতে) তিনি তাব্রিজ শহরে ইন্তেকাল করেন।

    ইলমে তাফসীরে অবদান: ইলমে তাফসীরে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো “আনোয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তাবী’ল” নামক বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থটি রচনা করা, যা ‘তাফসীরে বায়যাবী’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি তাঁর এই গ্রন্থে আল-কাশশাফের ভাষাতাত্ত্বিক সৌন্দর্য এবং তাফসীরে কাবীরের দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রের যুক্তিগুলোকে চমৎকারভাবে সমন্বয় করেছেন, কিন্তু কাশশাফের মুতাযিলা আকিদাগুলো বর্জন করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শত শত বছর ধরে এটি পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পড়ানো হয়, যা তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর অবদানের এক কালজয়ী সাক্ষী।

  • (ب) تحدث عن مزايا التفسير للبيضاوى ومنزلته بين كتب التفاسير.

    [২(খ). তাফসীরে বায়যাবীর বৈশিষ্ট্য এবং তাফসীর গ্রন্থগুলোর মাঝে এর মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা কর।]

    উত্তর:
    বৈশিষ্ট্য: ১. সংক্ষিপ্ততা ও ব্যাপকতা: অত্যন্ত অল্প কথায় গভীর অর্থ প্রকাশ করা এই তাফসীরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ২. ব্যাকরণ ও অলংকারশাস্ত্রের প্রয়োগ: আয়াতের ই’রাব (ব্যাকরণগত অবস্থান), বালাগত এবং শব্দের সূক্ষ্ম অর্থ নিরূপণে এটি অনন্য। ৩. আহলে সুন্নাতের আকিদা: আল-কাশশাফের মুতাযিলা মতবাদগুলো খণ্ডন করে এতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ৪. ফিকহি মাসআলার সমাধান: শাফেয়ী মাজহাবের আলোকে ফিকহি বিধানগুলো যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়েছে।

    মর্যাদা: তাফসীর গ্রন্থগুলোর মধ্যে তাফসীরে বায়যাবী এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। আল্লামা সুয়ূতী একে সর্বোত্তম তাফসীরগুলোর একটি বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর গ্রহণযোগ্যতা এতোই ব্যাপক যে, যুগে যুগে শত শত আলিম এই তাফসীরের ওপর হাশিয়া (টীকা) ও শরাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রচনা করেছেন, যার মধ্যে ‘হাশিয়াতুল খাফাযী’ এবং ‘হাশিয়াতু শাইখযাদাহ’ বিখ্যাত। এটি একইসাথে মুফাসসির, ফকীহ এবং ভাষাবিদদের কাছে সমান সমাদৃত।


مجموعة (ب)—تفسير الكشاف
[খ-বিভাগ — তাফসীরে কাশশাফ]

الدرجة—٥٠ [মান—৫০]

٣. ترجم اثنين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (الدرجات ٢٠×٢=٤٠)

[৩. নিচের যেকোনো দুটি অনুচ্ছেদ অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: (মান: ২০×২=৪০)]

(أ)

إياك نعبد وإياك نستعين . اهدنا الصراط المستقيم . صراط الذين أنعمت عليهم . غير المغضوب عليهم ولا الضالين.

অনুবাদ: আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যারা গযবপ্রাপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট।

  • (١) لماذا سميت سورة الفاتحة بالفاتحة؟

    [১. সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহা’ কেন বলা হয়?]

    উত্তর: ‘ফাতিহা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘সূচনা’, ‘উদ্বোধন’ বা ‘প্রারম্ভিকা’। যেহেতু পবিত্র কুরআন মুসহাফে লেখার সময় এই সূরা দিয়েই শুরু করা হয়েছে, এবং নামাজেও কিরাত এই সূরা পড়ার মাধ্যমেই শুরু করা হয়, তাই এই সূরাটিকে ‘সূরাতুল ফাতিহা’ (কুরআনের শুরু বা প্রারম্ভিকা) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
  • (٢) ما الفرق بين العبادة والاستعانة؟

    [২. ইবাদত ও ইসতি’আনাহ এর মাঝে পার্থক্য কী?]

    উত্তর: ‘ইবাদত’ (نعبد) হলো চরম বিনয়, ভালোবাসা ও পূর্ণ আনুগত্যের সাথে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব স্বীকার করা এবং তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করা। এটি বান্দার করণীয় কাজ। অন্যদিকে, ‘ইসতি’আনাহ’ (نستعين) হলো নিজের পূর্ণ অক্ষমতা স্বীকার করে ইবাদতসহ দুনিয়া ও আখিরাতের যেকোনো কাজে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও তৌফিক প্রার্থনা করা। অর্থাৎ, ইবাদত হলো উদ্দেশ্য আর ইসতি’আনাহ হলো সেই উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম।
  • (٣) ما المراد بالمغضوب عليهم؟ ومن هم الضالون؟

    [৩. ‘গজবপ্রাপ্ত’ ও ‘পথভ্রষ্ট’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?]

    উত্তর: হাদীস ও অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, ‘আল-মাগদুবী আলাইহিম’ (যাদের উপর আল্লাহর গজব বা ক্রোধ পতিত হয়েছে) বলতে ইহুদিদের বোঝানো হয়েছে, কারণ তারা সত্য জানার পরও অহংকারবশত তা অস্বীকার করেছিল এবং নবীদের হত্যা করেছিল। আর ‘আদ-দাল্লীন’ (যারা পথভ্রষ্ট) বলতে খ্রিস্টানদের বোঝানো হয়েছে, কারণ তারা অজ্ঞতাবশত দ্বীনের মাঝে বাড়াবাড়ি করে তাওহীদের পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে ঈসা (আ.) কে আল্লাহর পুত্র বানিয়েছিল।

(ب)

الم . الله لا إله إلا هو الحى القيوم . نزل عليك الكتاب بالحق مصدقًا لما بين يديه وأنزل التوراة والإنجيل . من قبل هدى للناس وأنزل الفرقان ، إن الذين كفروا بآيات الله لهم عذاب شديد ، والله عزيز ذو انتقام .

অনুবাদ: আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্বের কিতাবগুলোর সত্যায়নকারী এবং তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছিলেন। এর পূর্বে, মানুষের হিদায়াতের জন্য; আর তিনি ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

  • (١) أعرب قوله تعالى : من قبل هدى للناس.

    [১. “من قبل هدى للناس” এর ই’রাব বর্ণনা কর।]

    উত্তর: ‘من’ (মিন) হরফে জার, ‘قبل’ (কবলু) মাজরুর (এটি যরফে যামান বা সময়বাচক বিশেষ্য, যা অপর মুযাফ ইলাইহির দিকে ইশারা করে মাবনী হয়েছে)। যার-মাজরুর মিলে মুতা’আল্লিক হয়েছে পূর্ববর্তী ‘أنزل’ (আনযালা) ফি’ল এর সাথে। ‘هدى’ (হুদ্যান) শব্দটি ‘أنزل’ এর মাফ’উল লাহু (কারণবাচক কর্ম) অথবা হাল (অবস্থা) হওয়ার কারণে মানসুব (যবরযুক্ত)। ‘ل’ (লি) হরফে জার, ‘الناس’ (নাস) মাজরুর।
  • (٢) علق على ‘التوراة’ و ‘الإنجيل’.

    [২. ‘তাওরাত’ ও ‘ইনজীল’ এর উপর মন্তব্য কর।]

    উত্তর: তাওরাত এবং ইনজীল হলো মহান আল্লাহর প্রেরিত প্রসিদ্ধ দুটি আসমানী কিতাব। তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত মূসা (আ.) এর ওপর বনী ইসরাঈলদের হিদায়াতের জন্য, যাতে বহু বিধিবিধান (শরিয়ত) অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর ইনজীল অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত ঈসা (আ.) এর ওপর। উভয় কিতাবই মূলগতভাবে সত্য ছিল এবং তাতে শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের সুসংবাদ ছিল। তবে কালের পরিক্রমায় ইহুদি ও খ্রিস্টানরা এগুলোতে মানবিক বিকৃতি সাধন করেছে। কুরআন অবতীর্ণ হয়ে পূর্ববর্তী এসব কিতাবের মূল সত্যকে সত্যায়ন করেছে।
  • (٣) فسر قوله تعالى : ‘وأنزل الفرقان’ فى ضوء تفسير الكشاف.

    [৩. তাফসীরে কাশশাফের আলোকে ‘وأنزل الفرقان’ এর ব্যাখ্যা কর।]

    উত্তর: আল্লামা যামাখশারী (রহ.) তাফসীরে কাশশাফে ‘আল-ফুরকান’ এর ব্যাখ্যায় বলেন, ফুরকান হলো এমন দলিল, প্রমান বা গ্রন্থ যা হক ও বাতিল, সত্য ও মিথ্যা এবং হিদায়াত ও গোমরাহীর মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য সৃষ্টি করে। এখানে ফুরকান শব্দটি আম (সাধারণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি শুধু কুরআন নয়, বরং পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাব (যাবুর, তাওরাত, ইনজীল) এবং নবীদের দেওয়া মুজিযাকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা মানুষের সামনে সত্যকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দেয়।

(ج)

زين للناس حب الشهوات من النساء والبنين والقناطير المقنطرة من الذهب والفضة والخيل المسومة والأنعام والحرث، ذلك متاع الحياة الدنيا والله عنده حسن المآب .

অনুবাদ: মানুষের জন্য আকর্ষণীয় করা হয়েছে তাদের বাসনার বস্তুসমূহকে— নারী, সন্তান-সন্ততি, সোনা ও রূপার স্তূপীকৃত ভাণ্ডার, চিহ্নিত (উন্নত জাতের) ঘোড়া, গবাদি পশু এবং খেত-খামার। এগুলো পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু মাত্র। আর উত্তম আশ্রয়স্থল তো কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

  • (١) من الذين فى قوله تعالى : زين للناس حب الشهوات؟

    [১. “زين للناس حب الشهوات” বাণীতে ‘মানুষ’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?]

    উত্তর: এখানে ‘নাস’ বা মানবজাতি বলতে মূলত কাফির, মুশরিক এবং দুনিয়াপূজারীদের বোঝানো হয়েছে যারা পার্থিব জীবন ও এর ভোগ-বিলাসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয় এবং এগুলোতেই মত্ত থাকে। তবে সাধারণ অর্থে সকল মানুষের মাঝেই এই স্বভাবজাত আকর্ষণ বা প্রবৃত্তি রয়েছে। পার্থক্য হলো, মুমিনরা এই আকর্ষণগুলোকে শরীয়তের সীমারেখায় রেখে ব্যবহার করে এবং আখিরাতকে ভুলে যায় না।
  • (٢) لما خص الشهوات بهذه الأشياء؟

    [২. কেন শাহওয়াত (বাসনা বা আকর্ষণ) কে এই জিনিসগুলোর সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে?]

    উত্তর: আয়াতে উল্লিখিত নারী, সন্তান-সন্ততি, সোনা-রূপার স্তূপ, সেরা ঘোড়া, গবাদি পশু ও খেত-খামার—এই ছয়টি জিনিস হলো মানবজাতির জন্য পার্থিব জীবনের মূল সম্পদ ও আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। যুগ যুগ ধরে মানুষ সাধারণত এই জিনিসগুলোর জন্যই সবচেয়ে বেশি মোহগ্রস্ত হয়। এসবে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে পরকাল ভুলিয়ে দেয় এবং পাপাচার, অহংকার ও আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত করে। তাই সতর্ক করার জন্য বিশেষভাবে এগুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • (٣) كيف يشرح الزمخشرى قوله تعالى : ذلك متاع الحياة الدنيا؟

    [৩. যামাখশারী কীভাবে “ذلك متاع الحياة الدنيا” এর ব্যাখ্যা করেছেন?]

    উত্তর: আল-যামাখশারী (রহ.) এর মতে, “যালিকা মাতাউল হায়াতিত দুনয়া” এর অর্থ হলো এই বস্তুগুলো শুধুমাত্র ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের সামান্য ভোগের সামগ্রী। এগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে, ধ্বংসশীল এবং এগুলোর কোনো চিরস্থায়ী মূল্য নেই। বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত এই ক্ষণস্থায়ী ধোঁকার সামগ্রীর প্রতি মোহগ্রস্ত না হয়ে, সেই মহান আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া যাঁর কাছে প্রকৃত এবং চিরস্থায়ী উত্তম আশ্রয়স্থল (জান্নাত) রয়েছে।
٤. أجب عن واحد مما يلى : (الدرجات ١٠×١=١٠)

[৪. নিচের যেকোনো একটির উত্তর দাও: (মান: ১০×১=১০)]

  • (أ) اكتب نبذة من حياة صاحب الكشاف مع ذكر مساهمته فى علم التفسير.

    [৪(ক). ইলমে তাফসীরে অবদান উল্লেখপূর্বক তাফসীরে কাশশাফের রচয়িতার সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

    উত্তর:
    জীবনী: তাফসীরে কাশশাফের রচয়িতা হলেন আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর আল-যামাখশারী (রহ.)। তিনি খাওয়ারিজম এর ‘যামাখশার’ নামক গ্রামে ৪৬৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরবি ভাষা, সাহিত্য, ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) এবং অলংকারশাস্ত্রে (বালাগত) তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিত ছিলেন। মক্কায় দীর্ঘকাল অবস্থান করার কারণে তাঁকে ‘জারুল্লাহ’ (আল্লাহর প্রতিবেশী) উপাধি দেওয়া হয়। তিনি আকিদাগতভাবে মুতাযিলা মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। ৫৩৮ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

    ইলমে তাফসীরে অবদান: ইলমে তাফসীরে তাঁর অনবদ্য অবদান হলো “আল-কাশশাফ আন হাকায়িকিত তানজিল”। এটি ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত শ্রেষ্ঠ তাফসীর। কুরআনের ভাষার অলৌকিকতা, শব্দের সুনিপুণ ব্যবহার, ই’রাব এবং বালাগত (উপমা, রূপক) তিনি যেভাবে এই তাফসীরে বিশ্লেষণ করেছেন, তা এর আগে কেউ করতে পারেননি। আকিদাগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শুধু এর ভাষাতাত্ত্বিক উৎকর্ষের কারণে পরবর্তী প্রায় সকল মুফাসসির আল-কাশশাফের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

  • (ب) قارن بين تفسير البيضاوى وتفسير الكشاف بالإيضاح.

    [৪(খ). তাফসীরে বায়যাবী এবং তাফসীরে কাশশাফ এর মধ্যে বিস্তারিত তুলনামূলক আলোচনা কর।]

    উত্তর:
    তাফসীরে বায়যাবী ও কাশশাফ উভয়টিই বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ হলেও উভয়ের মাঝে বেশ কিছু তুলনামূলক পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান:

    ১. আকিদাগত পার্থক্য: তাফসীরে কাশশাফ মুতাযিলা আকিদার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এতে যামাখশারী নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআনের আয়াতের দূরবর্তী ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, তাফসীরে বায়যাবী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার ওপর রচিত। ইমাম বায়যাবী অত্যন্ত সফলভাবে কাশশাফের মুতাযিলী মতবাদগুলো খণ্ডন করে সঠিক আকিদা তুলে ধরেছেন।
    ২. রচনাশৈলী ও উৎস: তাফসীরে কাশশাফ হলো বায়যাবীর অন্যতম প্রধান উৎস। ইমাম বায়যাবী কাশশাফের ভাষাতাত্ত্বিক ও অলংকারশাস্ত্রীয় (নাহু, বালাগত) সৌন্দর্য হুবহু গ্রহণ করেছেন, কিন্তু বিতর্কিত বিষয়গুলো ছেঁটে ফেলেছেন।
    ৩. বিষয়ের ব্যাপকতা: কাশশাফ প্রধানত ভাষা ও অলংকারশাস্ত্রের উপর জোর দিয়েছে। আর বায়যাবী ভাষা ও অলংকারশাস্ত্রের পাশাপাশি তাফসীরে কাবীর থেকে দার্শনিক আলোচনা এবং ফিকহি মাসআলা যুক্ত করে একে আরও সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ করেছেন।
    ৪. গ্রহণযোগ্যতা: মুতাযিলা আকিদার কারণে কাশশাফ সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, যদিও ভাষাবিদদের কাছে এর কদর সর্বাধিক। পক্ষান্তরে, সঠিক আকিদা এবং চমৎকার সমন্বয়ের কারণে তাফসীরে বায়যাবী মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে সর্বাধিক পঠিত ও সর্বজনস্বীকৃত।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now