Economics and Islamic Economics (অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি) 201106 – Fazil Hons Al Quran 1st Year 2020 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
economics 201106 fazil hons al quran 1st year 2020 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

Economics and Islamic Economics (Code: 201106) – ২০২০ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি (Economics and Islamic Economics) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বিঃদ্রঃ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষায় আসা প্রতিটি প্রশ্নের (অথবাসহ) উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো।

ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন (মান—১৫x৪=৬০)

১। ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।

ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা:

ইসলামি অর্থনীতি বলতে এমন এক অর্থব্যবস্থাকে বোঝায়, যা কুরআন ও সুন্নাহর সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের সীমাহীন অভাব ও সীমিত সম্পদের মাঝে সমন্বয় সাধন করে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পথ নির্দেশ করাই ইসলামি অর্থনীতির মূল লক্ষ্য।

প্রখ্যাত ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. এম. এ. মান্নানের মতে, “ইসলামি অর্থনীতি হলো এমন একটি সমাজবিজ্ঞান, যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে।”

ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:

পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা থেকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। এর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  1. সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহর: ইসলামি অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, মহাবিশ্বের যাবতীয় সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিকানা একমাত্র মহান আল্লাহর। মানুষ কেবল আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে এসব সম্পদ নির্দিষ্ট নীতিমালায় ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার রাখে।
  2. হালাল-হারামের সুস্পষ্ট বিধান: ইসলামি অর্থনীতিতে কোন পথে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয় করা যাবে এবং কোনটি নিষিদ্ধ (হারাম), তার সুস্পষ্ট সীমারেখা টানা আছে। মদ, জুয়া, সুদ বা মজুতদারির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা: ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হলো সুদ (রিবা) বর্জন করা। এখানে সুদের পরিবর্তে মুদারাবা (অংশীদারি কারবার), মুশারাকা, মুরাবাহা ইত্যাদি লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
  4. যাকাতভিত্তিক সমাজ ও সম্পদের সুষম বণ্টন: সমাজে যেন গুটিকয়েক মানুষের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত না হয়, সে জন্য ইসলাম যাকাত, ফিতরা, সাদাকা ও ওশরের বিধান দিয়েছে। ধনীদের সম্পদে গরিবের নির্দিষ্ট অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইসলাম সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে।
  5. ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি: সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত মালিকানা অস্বীকার করা হয়, কিন্তু ইসলামি অর্থনীতিতে ব্যক্তিকে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত আকারে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই মালিকানা জনকল্যাণবিরোধী হতে পারবে না।
  6. শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা: ইসলামি অর্থনীতিতে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক হবে ভাইয়ের মতো।
  7. অপচয় ও কৃপণতারোধ: ইসলামি অর্থনীতিতে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে এবং কৃপণতাকেও কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা মধ্যপন্থা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  8. নৈতিকতা ও অর্থনীতির সমন্বয়: আধুনিক অর্থনীতিতে নৈতিকতার কোনো স্থান নেই, কিন্তু ইসলামি অর্থনীতি পুরোপুরি নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ওপর ভিত্তিশীল। পরকালীন জবাবদিহিতার ভয় মানুষকে দুর্নীতি ও জুলুম থেকে বিরত রাখে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি অর্থনীতি এমন একটি সুষম অর্থব্যবস্থা, যা মানুষের জাগতিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি আত্মিক ও নৈতিক উন্নতি সাধন করে এবং শোষণমুক্ত একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

২। চাহিদাসূচি ও চাহিদা রেখার পার্থক্য নির্ণয় কর। একটি কাল্পনিক চাহিদাসূচি থেকে চাহিদা রেখা অংকন কর।

চাহিদাসূচি ও চাহিদা রেখার পার্থক্য:

চাহিদা বিধি অনুযায়ী, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদা বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদা কমে। এই দাম ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্ককে যখন ছক বা রেখার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখনই তাকে যথাক্রমে চাহিদাসূচি ও চাহিদা রেখা বলে। এদের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

চাহিদাসূচি (Demand Schedule) চাহিদা রেখা (Demand Curve)
১. কোনো দ্রব্যের বিভিন্ন দাম এবং সেই দামে ক্রেতা কী পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করতে ইচ্ছুক, তা যখন একটি তালিকা বা ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে চাহিদাসূচি বলে। ১. চাহিদাসূচির দাম ও পরিমাণের পরিসংখ্যানকে যখন জ্যামিতিক চিত্রের সাহায্যে বা গ্রাফে রেখাচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে চাহিদা রেখা বলে।
২. এটি হলো চাহিদা বিধির গাণিতিক বা সাংখ্যিক প্রকাশ। ২. এটি হলো চাহিদা বিধির জ্যামিতিক বা লৈখিক প্রকাশ।
৩. চাহিদাসূচি প্রথমে তৈরি করা হয়। ৩. চাহিদাসূচির ওপর ভিত্তি করেই চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হয়।
৪. এতে দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের সম্পর্ককে সরাসরি সংখ্যার মাধ্যমে দেখা যায়। ৪. এতে দাম ও চাহিদার সম্পর্ককে একটি ঢালু রেখার (যা সচরাচর বাম থেকে ডানে নিম্নগামী) মাধ্যমে দেখা যায়।

কাল্পনিক চাহিদাসূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন:

ধরা যাক, একজন ক্রেতার চালের প্রতি কাল্পনিক চাহিদাসূচি নিচে দেওয়া হলো:

চালের দাম (প্রতি কেজি টাকায়) চাহিদার পরিমাণ (কেজিতে) প্রাপ্ত বিন্দু
৪০ ১০ A
৩০ ২০ B
২০ ৩০ C
১০ ৪০ D

রেখা অঙ্কনের বর্ণনা:
ওপরের সূচি থেকে দেখা যাচ্ছে, চালের দাম যখন ৪০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ মাত্র ১০ কেজি (বিন্দু A)। দাম কমে ৩০ টাকা হলে চাহিদা বেড়ে ২০ কেজি হয় (বিন্দু B)। দাম আরও কমে ২০ টাকা ও ১০ টাকা হলে চাহিদা যথাক্রমে বেড়ে ৩০ কেজি ও ৪০ কেজি হয় (বিন্দু C ও D)।

এখন, একটি গ্রাফ পেপারের OX (ভূমি) অক্ষে চাহিদার পরিমাণ এবং OY (লম্ব) অক্ষে দাম নির্দেশ করি। ভূমি অক্ষে ১০, ২০, ৩০, ৪০ এবং লম্ব অক্ষে ১০, ২০, ৩০, ৪০ একক বসাই।

সূচি অনুযায়ী দাম ও চাহিদার পরিমাণ সূচক বিন্দুগুলো (A, B, C, D) গ্রাফে স্থাপন করি। এবার A, B, C, D বিন্দুগুলো যোগ করলে যে ‘DD’ রেখাটি পাওয়া যাবে, সেটিই হলো নির্ণেয় চাহিদা রেখা

রেখাটি বাম দিক থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হবে, যা প্রমাণ করে যে দামের সাথে চাহিদার সম্পর্ক বিপরীতমুখী।

৩। ভোগ বলতে কী বুঝ? ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা কর।

ভোগের সংজ্ঞা:

সাধারণ অর্থে ভোগ বলতে কোনো কিছু খাওয়া বা ব্যবহার করাকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে ‘ভোগ’ কথাটি একটু ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থনীতিতে মানুষের অভাব মেটানোর উদ্দেশ্যে কোনো দ্রব্যের উপযোগ (Utility) নিঃশেষ করা বা ব্যবহার করাকেই ভোগ (Consumption) বলে। অর্থাৎ, যে ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রব্যের উপযোগিতা কমে যায় বা শেষ হয়ে যায়, তা-ই ভোগ। যেমন: তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পানি পান করা, শীত নিবারণের জন্য কাপড় পরা ইত্যাদি।

ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি:

পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ভোগের মূল উদ্দেশ্য হলো সর্বোচ্চ তৃপ্তি লাভ, সেখানে নৈতিকতার কোনো স্থান নেই। কিন্তু ইসলামি অর্থনীতিতে ভোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে:

  1. হালাল ও পবিত্র দ্রব্যের ভোগ: ইসলামি অর্থনীতিতে কেবল হালাল এবং পবিত্র জিনিস ভোগের অনুমতি রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “হে মানবমন্ডলী! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ কর।” (সূরা বাকারাহ: ১৬৮)। হারাম বস্তু যেমন: মদ, শূকরের মাংস, মৃত প্রাণী ইত্যাদি ভোগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  2. অপচয় ও অপব্যয় নিষিদ্ধ: ইসলামি অর্থনীতিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ বা সম্পদ নষ্ট করাকে অপচয় বলা হয়েছে। অপচয়কারীকে পবিত্র কুরআনে ‘শয়তানের ভাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ভোগের ক্ষেত্রে সংযম পালন করা ইসলামি অর্থনীতির একটি বড় দৃষ্টিভঙ্গি।
  3. কৃপণতা পরিহার: অপচয়ের পাশাপাশি কৃপণতা করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। সম্পদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও নিজের ও পরিবারের বৈধ প্রয়োজন মেটাতে কৃপণতা করা যাবে না। সম্পদ জমা করে রেখে সমাজকে এর সুফল থেকে বঞ্চিত করা ইসলামি অর্থনীতি সমর্থন করে না।
  4. মধ্যপন্থা অবলম্বন: ইসলামি অর্থনীতি ভোগের ক্ষেত্রে সর্বদা মধ্যপন্থা বা ভারসাম্য (Balance) অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ, ভোগের ক্ষেত্রে কৃপণতাও করা যাবে না, আবার অপচয়ও করা যাবে না। কুরআন মজিদে বলা হয়েছে, “তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয়ও করে না, আবার কার্পণ্যও করে না, বরং এই উভয়ের মাঝে তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।” (সূরা ফুরকান: ৬৭)
  5. পরকালীন জবাবদিহিতা: ইসলামি অর্থনীতিতে একজন ভোক্তাকে মনে রাখতে হয় যে, সে দুনিয়াতে কী ভোগ করেছে এবং কীভাবে তা অর্জন করেছে, এর জন্য তাকে আখিরাতে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এই অনুভূতি ভোক্তাকে যথেচ্ছাচার ভোগ থেকে বিরত রাখে।
  6. হারাম উপার্জনের ভোগ নিষিদ্ধ: কোনো হালাল খাবার বা বস্তু যদি অবৈধ বা হারাম উপায়ে (যেমন: সুদ, ঘুষ, চুরি, প্রতারণা) উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা হয়, তবে সেটি ভোগ করা ইসলামি অর্থনীতিতে হারাম।

৪। হালাল-হারাম বলতে কী বুঝ? মানব জীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও হারাম উপার্জনের অপকারিতা আলোচনা কর।

হালাল ও হারামের সংজ্ঞা:

  • হালাল: হালাল আরবি শব্দ, এর অর্থ হলো বৈধ, আইনানুগ বা অনুমোদনযোগ্য। ইসলামি শরিয়ত যে সমস্ত কাজ বা বস্তুকে মানুষের জন্য বৈধ ও অনুমোদন করেছে, তাকে হালাল বলে। যেমন: ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে উপার্জন করা।
  • হারাম: হারাম অর্থ অবৈধ, নিষিদ্ধ বা বর্জনীয়। ইসলামি শরিয়ত মানুষের জন্য যা কিছু নিষিদ্ধ ও অবৈধ ঘোষণা করেছে, তাকে হারাম বলে। যেমন: সুদ, ঘুষ, চুরি, প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জন করা।

মানব জীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব:

মানব জীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা আলোচনা করা হলো:

  1. ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত: ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো হালাল রুজি। রাসুল (সা.) বলেছেন, হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাই নামায, রোজা বা হজ কবুল হওয়ার জন্য উপার্জন হালাল হওয়া বাধ্যতামূলক।
  2. আত্মিক প্রশান্তি: হালাল উপায়ে উপার্জিত অর্থে আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। হালাল উপার্জনকারী সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত থাকেন এবং সমাজে সম্মানজনক জীবনযাপন করেন।
  3. সম্পদে বরকত লাভ: হালাল উপার্জনে পরিমাণ কম হলেও তাতে আল্লাহর রহমত ও বরকত থাকে। অল্প আয়েও পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং রোগ-বালাই কম হয়।
  4. সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা: সবাই যদি হালাল উপার্জনে আত্মনিয়োগ করে, তবে সমাজ থেকে চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জুলুম চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
  5. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন: হালাল রুজির সন্ধান করাকে ইসলামে একটি বড় ইবাদত (ফরজের পর ফরজ) বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরাসরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

হারাম উপার্জনের অপকারিতা:

  1. ইবাদত কবুল না হওয়া: হারাম উপার্জনের সবচেয়ে বড় অপকারিতা হলো, এর ফলে বান্দার কোনো ইবাদত বা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
  2. পারিবারিক ও মানসিক অশান্তি: হারাম পথে আসা সম্পদের পরিমাণ বেশি হলেও তাতে কোনো বরকত থাকে না। এ ধরনের পরিবারে সবসময় রোগ-বালাই, অভাব-অনটন এবং পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকে।
  3. নৈতিক অবক্ষয়: হারাম উপার্জন মানুষকে লোভী ও স্বার্থপর করে তোলে। এর ফলে মানুষের ভেতরে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয় এবং মানবতা লোপ পায়।
  4. সামাজিক বৈষম্য ও বিশৃঙ্খলা: সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো হারাম উপার্জনের ফলে সমাজের গুটিকয়েক মানুষের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হয়। ফলে সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
  5. জাহান্নামের শাস্তি: হারাম উপার্জনকারী দুনিয়াতে সাময়িক সুখ পেলেও পরকালে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

৫। ইসলামি ব্যাংক কী? ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি আলোচনা কর।

ইসলামি ব্যাংকের সংজ্ঞা:

যে ব্যাংক পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলামি শরিয়তের নীতিমালা মেনে পরিচালিত হয় এবং যার আমানত গ্রহণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে কোনো প্রকার সুদের (রিবা) লেনদেন থাকে না, তাকে ইসলামি ব্যাংক বলে। ইসলামি ব্যাংক মূলত লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (Profit and Loss Sharing) ব্যবসায়িক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

ওআইসি (OIC)-এর সংজ্ঞানুযায়ী, “ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার গঠনতন্ত্র, নিয়মকানুন ও কার্যপ্রণালিতে ইসলামি শরিয়তের নীতিমালার প্রতিফলন ঘটে এবং যা সুদী লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।”

ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি:

একটি ইসলামি ব্যাংক সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:

  1. আমানত গ্রহণ: ইসলামি ব্যাংক দুটি নীতিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে। ক. আল-ওয়াদিয়া (Al-Wadia): এটি চলতি হিসাবের সমতুল্য, যেখানে গ্রাহক যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারেন। খ. মুদারাবা (Mudarabah): এটি সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাবের সমতুল্য, যেখানে ব্যাংক গ্রাহকের মূলধন ব্যবসায় খাটিয়ে অর্জিত মুনাফা পূর্বনির্ধারিত হারে বণ্টন করে।
  2. সুদমুক্ত বিনিয়োগ: ইসলামি ব্যাংক সুদভিত্তিক ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন লাভজনক প্রকল্পে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে। উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ পদ্ধতিগুলো হলো— মুদারাবা, মুশারাকা (যৌথ মূলধনি কারবার), মুরাবাহা (ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি), বাই-মুয়াজ্জাল (বাকিতে বিক্রি) এবং ইজারা (ভাড়া বা লিজিং)।
  3. বৈদেশিক বাণিজ্য সহজকরণ: আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইসলামি ব্যাংক এলসি (Letter of Credit) খোলা, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং বৈধ বাণিজ্যে অর্থায়ন করে থাকে।
  4. কল্যাণমূলক কাজ (কাজে হাসানা): ইসলামি ব্যাংক সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের কল্যাণে ‘কর্জে হাসানা’ বা বিনা সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে, যা কেবল মূল টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে দেওয়া হয়।
  5. যাকাত ফান্ড গঠন: ইসলামি ব্যাংক নিজস্ব আয়ের একটি অংশ এবং গ্রাহকদের স্বেচ্ছায় প্রদত্ত যাকাতের অর্থ দিয়ে একটি আলাদা যাকাত ফান্ড গঠন করে, যা অভাবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
  6. সম্পদের সুষম বণ্টন: সুদী ব্যাংকগুলোতে ধনীদের টাকা ধনীদের হাতেই ঘোরে। কিন্তু ইসলামি ব্যাংক মুদারাবা ও মুশারাকা নীতির মাধ্যমে সমাজের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও মূলধন সরবরাহ করে, যার ফলে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়।

৬। মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইসলামি সরকারের ভূমিকা আলোচনা কর।

ইসলামি অর্থনীতিতে পণ্যের দাম সাধারণত বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী অর্থাৎ ক্রেতার চাহিদা ও বিক্রেতার যোগানের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষ জোর করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করে না। রাসুল (সা.) স্বাভাবিক অবস্থায় মূল্য নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে বাজারে যখন বিকৃত বা অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়, তখন সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার্থে ইসলামি সরকার মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ ভূমিকাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  1. মজুতদারি (ইহতিকার) প্রতিরোধ: কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইসলামে এমন মজুতদারি কঠোরভাবে হারাম। ইসলামি সরকার এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুত করা পণ্য বাজেয়াপ্ত করে সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করে।
  2. সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া কারবার দমন: বাজারে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী যখন সংঘবদ্ধ হয়ে (সিন্ডিকেট করে) ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়ায়, তখন ইসলামি সরকার কঠোর হাতে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দেয় এবং বাজারকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য খুলে দেয়।
  3. জরুরি অবস্থায় ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ (তাসয়ির): দুর্ভিক্ষ, মহামারি বা যুদ্ধাবস্থায় যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা জীবনরক্ষাকারী পণ্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তখন জনকল্যাণের স্বার্থে (মাসলাহা) ইসলামি সরকার একটি নির্দিষ্ট ‘সর্বোচ্চ মূল্য’ বা ন্যায্যমূল্য বেঁধে দেয়। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (র.) এমন অবস্থায় মূল্য নির্ধারণকে বৈধ ও জরুরি বলেছেন।
  4. দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা: ইসলামি অর্থনীতিতে পণ্য সরাসরি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বাজারে আসবে, এটিই কাম্য। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালরা আগে থেকেই পণ্য কিনে দাম বাড়িয়ে দেয়, যা ইসলামে ‘তালাক্কির রুকবান’ নামে পরিচিত। সরকার এসব দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে উৎপাদনকারীকে সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেয়।
  5. বাজার তদারকি (হিসবা ব্যবস্থা): ইসলামি সরকার বাজারে ‘মুহতাসিব’ বা বাজার পরিদর্শক নিয়োগ করে। মুহতাসিবের দায়িত্ব হলো বাজারে কেউ ওজনে কম দিচ্ছে কি না, পণ্যে ভেজাল মেশাচ্ছে কি না বা অতিরিক্ত দাম রাখছে কি না, তা তদারকি করা এবং তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

উপসংহার: ইসলামি সরকার মূলত বাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং যারা প্রতারণা ও শোষণের মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করে দাম বাড়াতে চায়, সরকার তাদের দমন করার মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান—৫x৪=২০)

৭। ইসলামে শ্রম নীতির ব্যাখ্যা কর।

শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রম নীতি এক অনন্য ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। এর মূল ভিত্তি হলো মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্ববোধ। ইসলামি শ্রম নীতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  1. শ্রমের মর্যাদা: ইসলাম শ্রমকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নেই।”
  2. মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক: ইসলামি অর্থনীতিতে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক শোষক ও শোষিতের নয়, বরং দুই ভাইয়ের মতো। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা নিজেরা যা খাবে ও পরবে, তোমাদের অধীনস্থদেরও তা-ই খেতে ও পরতে দেবে।”
  3. ন্যায্য মজুরি ও দ্রুত পরিশোধ: শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পূর্ণ পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। কাজে নিয়োগের আগেই শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করে নিতে বলা হয়েছে।
  4. সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না দেওয়া: শ্রমিক কোনো যন্ত্র নয়, তাই তার ওপর সাধ্যাতীত বা অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো কারণে কাজ কঠিন হলে মালিককে নিজে সাহায্য করতে বলা হয়েছে।

৮। ইসলামি বিমার গুরুত্ব বর্ণনা কর।

ইসলামি বিমাকে তাকাফুল (Takaful) বলা হয়, যার অর্থ হলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিশ্চয়তা প্রদান। আধুনিক অর্থনীতিতে ইসলামি বিমার গুরুত্ব অপরিসীম:

  • সুদ, জুয়া ও অনিশ্চয়তামুক্ত: প্রচলিত বিমা ব্যবস্থায় সুদ, জুয়া (মাইসির) ও চরম অনিশ্চয়তা (গারার) বিদ্যমান, যা ইসলামে হারাম। ইসলামি বিমা এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
  • পারস্পরিক সহযোগিতা: তাকাফুল এমন একটি ফান্ড বা তহবিল, যেখানে সদস্যরা পারস্পরিক সাহায্য ও অনুদানের (তাবাররু) নিয়তে অর্থ জমা রাখে। কেউ বিপদে পড়লে এই ফান্ড থেকে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এটি ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
  • হালাল বিনিয়োগ: তাকাফুল কোম্পানি গ্রাহকদের জমা করা অর্থ মুদারাবা ও মুশারাকা ভিত্তিতে ইসলামি শরিয়ত সম্মত হালাল প্রকল্পে বিনিয়োগ করে এবং অর্জিত মুনাফা সদস্যদের মাঝে আনুপাতিক হারে বণ্টন করে।
  • আর্থিক নিরাপত্তা: কোনো সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা ব্যবসায়িক ক্ষতি হলে তাকাফুল তাকে ও তার পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে।

৯। ক্রমহ্রাস প্রান্তিক উপযোগ বিধিটি ব্যাখ্যা কর।

অর্থনীতিতে ভোক্তা আচরণের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধি হলো ‘ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি’ (Law of Diminishing Marginal Utility)

বিধির মূল কথা: অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন ভোক্তা যখন একই দ্রব্য ক্রমাগত একের পর এক ভোগ করতে থাকে, তখন ওই দ্রব্যের মোট উপযোগ (Total Utility) বৃদ্ধি পেলেও প্রান্তিক উপযোগ (Marginal Utility) ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। একেই ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে।

ব্যাখ্যা: মনে করি, একজন খুব তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকে এক গ্লাস পানি দেওয়া হলো। প্রথম গ্লাস পানি তার কাছে সবচেয়ে বেশি উপযোগ বা তৃপ্তি এনে দেবে। এরপর তাকে দ্বিতীয় গ্লাস পানি দেওয়া হলে সে তৃপ্তি পাবে, তবে প্রথম গ্লাসের চেয়ে একটু কম। এভাবে তৃতীয় বা চতুর্থ গ্লাস পানি দিলে তার তৃষ্ণা মিটে যাবে এবং একপর্যায়ে ওই পানির প্রতি তার আর কোনো আকর্ষণ বা উপযোগ থাকবে না। এমনকি জোর করে আরও খাওয়ালে উপযোগ ঋণাত্মক (Negative) হয়ে যাবে। অভাব পূরণের সাথে সাথে দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ কমে যাওয়াই এই বিধির মূল কারণ।

১০। মুনাফা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর।

ইসলামে ব্যবসালব্ধ মুনাফা (Profit) সম্পূর্ণ হালাল, কিন্তু ঋণের ওপর অর্জিত সুদ (Interest / Riba) সম্পূর্ণ হারাম। এ দুটোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যগুলো হলো:

মুনাফা (Profit) সুদ (Interest)
১. মূলধন, শ্রম ও মেধা খাটিয়ে ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে যে উদ্বৃত্ত আয় হয়, তা-ই মুনাফা। ১. ঋণগ্রহীতাকে মূলধন ধার দিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আসলের অতিরিক্ত যে পূর্বনির্ধারিত অর্থ আদায় করা হয়, তা-ই সুদ।
২. মুনাফায় লাভ এবং ক্ষতি উভয়েরই ঝুঁকি (Risk) থাকে। ২. সুদে কোনো ঝুঁকি থাকে না। ঋণের টাকা লোকসান হলেও সুদগ্রহীতা নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করবেই।
৩. মুনাফার হার পূর্বনির্ধারিত থাকে না। ব্যবসা ভালো হলে মুনাফা বাড়ে, খারাপ হলে কমে বা ক্ষতি হয়। ৩. সুদের হার পূর্বনির্ধারিত ও নির্দিষ্ট থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে।
৪. মুনাফা ইসলামে হালাল এবং বৈধ ব্যবসার ফলস্বরূপ অর্জিত হয়। ৪. সুদ ইসলামে সর্বসম্মতিক্রমে হারাম এবং এটি একটি মারাত্মক শোষণমূলক ব্যবস্থা।

১১। যাকাতের গুরুত্ব আলোচনা কর।

যাকাত ইসলামের ৫টি মূলস্তম্ভের একটি এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মেরুদণ্ড। সমাজে এর ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম:

  • ধর্মীয় গুরুত্ব: যাকাত প্রদান করা ধনীদের ওপর ফরজ। এর মাধ্যমে অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয় এবং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। এটি বান্দার অন্তরের কৃপণতা ও সম্পদের মোহ দূর করে তাকে পরিশুদ্ধ করে।
  • সম্পদের সুষম বণ্টন: যাকাতের মাধ্যমে ধনীদের পুঞ্জীভূত সম্পদ সমাজের গরিব ও অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছায়। ফলে সমাজে ধনী-গরিবের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়।
  • দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: যাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্রদের সাবলম্বী করার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় (যেমন: সেলাই মেশিন, ভ্যানগাড়ি বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন প্রদান)। এতে সমাজে বেকারত্ব হ্রাস পায় এবং দারিদ্র্য বিমোচন হয়।
  • উৎপাদন বৃদ্ধি: যাকাতের ফলে গরিব মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তাদের ক্রয়ক্ষমতা (Purchasing Power) বৃদ্ধি পায়। ফলে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ে, যা দেশে উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।

১২। শ্রম বিভাগ কী?

শ্রম বিভাগ (Division of Labour) হলো আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ।

সংজ্ঞা: কোনো একটি দ্রব্যের পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে এক ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত না করে, সম্পূর্ণ কাজটিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি ধাপে বা অংশে বিভক্ত করে প্রত্যেক শ্রমিকের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে এক একটি ধাপের দায়িত্ব প্রদান করাকে অর্থনীতিতে ‘শ্রম বিভাগ’ বলা হয়।

উদাহরণ: একটি পোশাক কারখানায় একজন শ্রমিক হয়তো শুধু কাপড় কাটে, আরেকজন শুধু সেলাই করে, তৃতীয় জন বোতাম লাগায় এবং চতুর্থ জন ইস্ত্রি করে। এখানে সম্পূর্ণ শার্ট তৈরির কাজটি চার ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এটিই শ্রম বিভাগ।

সুবিধা: এর ফলে একজন শ্রমিক একই কাজ বারবার করতে করতে ঐ কাজে চরম দক্ষতা অর্জন করে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, সময় বাঁচে এবং দ্রব্যের মান উন্নত হয়।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now