Bangladesh Studies (Code: 201107) – ২০২০ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাংলাদেশ স্টাডিজ (Bangladesh Studies) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষায় আসা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো।
مجموعة (أ) / ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন (মান—১৫x৪=৬০)
[বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধিকার আদায়ের প্রথম সুসংগঠিত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ মূলত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই রোপিত হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: পাকিস্তান সৃষ্টির পর ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের অসারতা প্রমাণিত হয় এবং ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর উন্মেষ ঘটে। এই জাতীয়তাবোধই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল শক্তিতে পরিণত হয়।
- পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বরূপ উন্মোচন: উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক ও আধিপত্যবাদী চরিত্র প্রথম প্রকাশ পায়। বাঙালিরা বুঝতে পারে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা তাদের আপন নয়, বরং শোষক।
- রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ভাষা আন্দোলন এদেশের ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলে। অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামার সাহস তারা এই আন্দোলন থেকেই পেয়েছিল।
- পরবর্তী আন্দোলনগুলোর অনুপ্রেরণা: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সফলতাই ছিল পরবর্তী সব আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—এই প্রতিটি ধাপে ভাষা আন্দোলনের চেতনা কাজ করেছে।
- নেতৃত্বের বিকাশ: ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী, এ.কে. ফজলুল হকের মতো জাতীয় নেতাদের বিকাশ ঘটে, যারা পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছেন।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রাজপথে যে রক্তের দাগ লেগেছিল, সেই রক্তধারা বেয়েই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ভাষা আন্দোলন না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়তো কোনোদিনই সম্ভব হতো না।
[ছেষট্টির ছয়দফা আন্দোলন সম্পর্কে যা জান লিখ।]
ভূমিকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনা। একে বাঙালি জাতির ‘ম্যাগনাকার্টা’ বা মুক্তির সনদ বলা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শোষণের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
ছয় দফার মূল বিষয়বস্তু:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল (যুক্তরাষ্ট্রীয়) রাষ্ট্র। সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে।
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে— দেশরক্ষা (প্রতিরক্ষা) ও পররাষ্ট্র নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকবে।
- মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা: দেশের দুই অংশের (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকবে। অথবা, একটি মুদ্রা থাকলেও এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেন পূর্ব পাকিস্তানের মূলধন পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে।
- রাজস্ব ও কর আদায়: সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা কেবল অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো কর ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে না; তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রকে প্রদান করবে।
- বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা: বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব রাখতে হবে এবং অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে। অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেরাই বিদেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে।
- আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন: পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী (মিলিশিয়া বা প্যারামিলিটারি ফোর্স) গঠন এবং নিজস্ব নৌ-সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।
তাৎপর্য:
ছয় দফা মূলত ছিল বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার এক চূড়ান্ত রূপরেখা। এই দাবিগুলো পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অন্তরের কথায় পরিণত হয়েছিল। এর ফলেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় সম্ভব হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়।
[বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব বর্ণনা কর।]
ভূমিকা: বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও প্রকৃতি তাকে অকৃপণ হাতে সম্পদ দান করেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কৃষির প্রসারে এই প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।
প্রাকৃতিক সম্পদ:
- মৃত্তিকা বা ভূমি সম্পদ: বাংলাদেশের মাটি পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত উর্বর। এই উর্বর মাটি কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী, যা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
- পানি সম্পদ ও মৎস্য: জালের মতো ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অমূল্য পানি সম্পদ। এই জলাশয়গুলো থেকে প্রচুর মিঠা ও লোনা পানির মাছ পাওয়া যায়, যা দেশের আমিষের চাহিদা মেটায় এবং রপ্তানি আয় বাড়ায়।
- বনজ সম্পদ: সুন্দরবন, ভাওয়াল-মধুপুরের গড় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। বন থেকে কাঠ, বাঁশ, মধু, মোম ইত্যাদি পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল।
খনিজ সম্পদ:
- প্রাকৃতিক গ্যাস: বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জসহ দেশে অনেকগুলো গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা ও গৃহস্থালির কাজে প্রধান জ্বালানি।
- কয়লা: বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও জামালগঞ্জে উন্নতমানের কয়লা খনি রয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
- চুনাপাথর ও কঠিন শিলা: জয়পুরহাট, সুনামগঞ্জ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে চুনাপাথর পাওয়া যায় যা সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল। অন্যদিকে, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে উত্তোলিত পাথর রাস্তা ও সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
- সিলিকা বালি ও সাদামাটি: কাচ তৈরির প্রধান উপাদান সিলিকা বালি এবং সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল সাদামাটি (China Clay) বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে পাওয়া যায়।
অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের প্রভাব:
- শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান: গ্যাস ও কয়লার মতো জ্বালানি সম্পদের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার, কাচ, সিমেন্ট ও সিরামিকের মতো ভারী শিল্প গড়ে উঠেছে। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
- আমদানি ব্যয় হ্রাস: নিজেদের গ্যাস, কয়লা ও কৃষিপণ্য ব্যবহারের ফলে বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানির নির্ভরতা কমেছে, যা বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।
- কৃষি উন্নয়ন: উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত নদীর পানির কারণে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গ্যাসের সাহায্যে উৎপাদিত ইউরিয়া সার কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করছে।
- রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: মৎস্য সম্পদ (বিশেষ করে চিংড়ি) এবং কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
উপসংহার: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই সম্পদগুলোর সঠিক ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
[বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে যা জান লিখ।]
ভূমিকা: বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান জাতীয় সমস্যা হলো বেকারত্ব (Unemployment)। কর্মক্ষম কোনো ব্যক্তির কাজ করার ইচ্ছা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যদি সে প্রচলিত মজুরিতে কাজ না পায়, তবে সেই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত ও অশিক্ষিত যুবক আজ বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত।
বেকার সমস্যার কারণ:
- অতিরিক্ত জনসংখ্যা: দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যে হারে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেই হারে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না।
- ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত পুঁথিগত ও তাত্ত্বিক। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক (Vocational) শিক্ষার অভাব থাকায় শিক্ষিত যুবকরা সহজেই চাকরি পায় না বা আত্মকর্মসংস্থান করতে পারে না।
- শিল্পায়নের অভাব: দেশে ভারী ও মাঝারি শিল্পের পর্যাপ্ত বিকাশ না হওয়ায় কাজের সুযোগ সীমিত। এছাড়া মূলধনের অভাবে নতুন শিল্পকারখানাও সেভাবে গড়ে উঠছে না।
- কৃষির অনগ্রসরতা: বাংলাদেশের কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার কম এবং এটি মূলত মৌসুম-নির্ভর। ফলে কৃষিতে ছদ্মবেশী বেকারত্ব (Disguised Unemployment) বিরাজ করছে।
বেকার সমস্যার সমাধান:
- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: বেকার সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা এবং জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করা।
- কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে, যাতে পড়াশোনা শেষ করে যুবকরা নিজেরাই কিছু করতে পারে।
- শিল্পায়ন ও কুটির শিল্পের প্রসার: দেশে ব্যাপকহারে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটালে বেকারত্ব অনেক কমে যাবে।
- আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ ও ঋণ প্রদান: যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন ব্যাংককে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে বেকার যুবকদের ঋণ দিতে হবে, যাতে তারা খামার বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারে।
- জনশক্তি রপ্তানি: বিদেশে দক্ষ শ্রমিকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই যুবকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
[সংবিধানের সংজ্ঞা দাও। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ বর্ণনা কর।]
সংবিধানের সংজ্ঞা:
সংবিধান (Constitution) হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। যেসব লিখিত বা অলিখিত নিয়মনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনকাঠামো, সরকারের ক্ষমতা, জনগণের অধিকার এবং সরকার ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারিত হয়, তাকে সংবিধান বলে। অ্যারিস্টটলের মতে, “সংবিধান হলো এমন এক জীবনপদ্ধতি, যা রাষ্ট্র নিজের জন্য বেছে নিয়েছে।”
বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ:
মৌলিক অধিকার বলতে সেই সকল অধিকারকে বোঝায়, যা নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য এবং যা রাষ্ট্রের সংবিধানে লিখিতভাবে গ্যারান্টি দেওয়া থাকে। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭ক পর্যন্ত) ১৮টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- বৈষম্যহীনতা (অনুচ্ছেদ ২৮): ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩১): আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।
- জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩২): আইন অনুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।
- চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬): আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে অবাধে চলাফেরা করা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।
- সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭ ও ৩৮): শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশ করা এবং সমিতি বা সংগঠন করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।
- চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
- ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১): প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও ধর্ম পালনে বাধ্য না হওয়ার অধিকার রয়েছে।
- সম্পত্তির অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪২): আইন সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা বিলি-বণ্টনের অধিকার থাকবে।
প্রতিকার: এসব মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিকরা সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট (Writ) দায়ের করে প্রতিকার চাইতে পারেন।
[বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার প্রচার প্রসারে কতিপয় প্রসিদ্ধ আলেমের অবদান সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ দেশে ইসলাম তরবারির জোরে আসেনি, বরং বিভিন্ন যুগে পীর-মাশায়েখ, সুফি-দরবেশ এবং প্রসিদ্ধ আলেম-উলামাদের দাওয়াত, তাদরিস (শিক্ষাদান) এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ইসলামি শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। নিচে তাঁদের কয়েকজন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
- হজরত শাহজালাল (রহ.) ও ৩৬০ আউলিয়া: চতুর্দশ শতাব্দীতে হজরত শাহজালাল (রহ.) সুদূর ইয়েমেন থেকে সিলেটে আসেন। তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের পবিত্র জীবনযাপন, সত্যনিষ্ঠা এবং শিক্ষার মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেটসহ পুরো বাংলায় ইসলামের সুমহান বাণী ছড়িয়ে পড়ে।
- অন্যান্য আদি সুফি-সাধক: রাজশাহীতে হজরত শাহ মখদুম (রহ.), বাগেরহাটে খান জাহান আলী (রহ.), চট্টগ্রামে বায়েজিদ বোস্তামি (রহ.) প্রমুখ সুফি সাধকরা খানকাহ ও মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিয়া (রহ.): ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমানরা যখন শিরক, বিদআত ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল, তখন হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মুসলমানদের পুনরায় কোরআন-সুন্নাহর সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর ছেলে দুদু মিয়াও এই আন্দোলনকে বেগবান করেন।
- মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.): ঊনবিংশ শতাব্দীতে তিনি নৌকায় চড়ে বাংলার নদী-নালার পথে ঘুরে ঘুরে মুসলমানদের মাঝে দ্বীনের সঠিক শিক্ষা প্রচার করেন। শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন এবং তাঁর লেখা অনেক বই ইসলামি শিক্ষার বিস্তারে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
- মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.): বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষার বিস্তারে এই মহান আলেমের অবদান অবিস্মরণীয়। লালবাগ জামিয়া কুরআনিয়া, গওহরডাঙ্গা মাদরাসাসহ অসংখ্য দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর হাতে গড়া। তিনি পবিত্র কোরআনের সহজ বাংলা অনুবাদও করেছেন।
- ছারছীনার পীর মাওলানা নেছারউদ্দীন আহমদ (রহ.): তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামি শিক্ষা বিশেষ করে আলিয়া মাদরাসা ধারার বিস্তারে বিপুল অবদান রেখেছেন। ছারছীনা দারুসসুন্নাত আলিয়া মাদরাসা তাঁর অমর কীর্তি।
উপসংহার: এছাড়াও মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.), চরমোনাইর পীর সৈয়দ ফজলুল করিম (রহ.), শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) প্রমুখ প্রখ্যাত আলেমদের মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, ওয়াজ-নসিহত ও রচনাবলির মাধ্যমেই আজকের বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার এই ব্যাপক প্রসার সম্ভব হয়েছে।
مجموعة (ب) / খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান—৫x৪=২০)
[বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা লিখ।]
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এর ভৌগোলিক সীমারেখা নিম্নরূপ:
- উত্তরে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং আসাম রাজ্য অবস্থিত।
- পূর্বে: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার রাষ্ট্র অবস্থিত।
- পশ্চিমে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- দক্ষিণে: বিশাল বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের তিন দিক (উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম) জুড়েই ভারতের সীমানা বিস্তৃত, কেবল দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মিয়ানমারের সাথে সামান্য সীমান্ত রয়েছে এবং দক্ষিণে রয়েছে উন্মুক্ত সমুদ্রপথ।
[বাংলাদেশের উপজাতি ও আদিবাসী সম্পর্কে ধারণা দাও।]
বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙালি হলেও এ দেশে বেশ কিছু উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও ঐতিহ্য রয়েছে, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম: রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় সবচেয়ে বেশি উপজাতি বাস করে। এদের মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও ম্রো উল্লেখযোগ্য। এরা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
- সিলেট অঞ্চল: বৃহত্তর সিলেটে খাসিয়া, মণিপুরি ও গারো উপজাতি বাস করে।
- ময়মনসিংহ অঞ্চল: গারো ও হাজং সম্প্রদায় ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলে বাস করে। গারোরা মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।
- রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল: দেশের উত্তরাঞ্চলে সাঁওতাল, ওরাওঁ এবং রাজবংশী উপজাতি বাস করে। সাঁওতাল বিদ্রোহ ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।
[বাংলাদেশের কয়েকটি প্রসিদ্ধ নদীর পরিচয় দাও।]
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৭০০ নদীর মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকটি নদীর পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
- পদ্মা: ভারতের গঙ্গা নদী রাজশাহী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ‘পদ্মা’ নাম ধারণ করেছে। এটি গোয়ালন্দের কাছে যমুনার সাথে মিলিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সাথে মিশে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এর ইলিশ মাছ বিখ্যাত।
- মেঘনা: বাংলাদেশের দীর্ঘতম ও প্রশস্ততম নদী। আসামের বরাক নদী সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেটে প্রবেশ করে পরে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। এটি প্রচুর পলি বহন করে।
- যমুনা: ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা নদী যমুনা। ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- কর্ণফুলি: চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান নদী। আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এই নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
[১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে যা জান লিখ।]
প্রেক্ষাপট: পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দীর্ঘ এক দশকের শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তা-ই ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ প্রত্যাহার এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে আসাদুজ্জামান (আসাদ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা এবং বন্দি অবস্থায় সার্জেন্ট জহুরুল হক নিহত হলে এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
ফলাফল: প্রবল গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। এই দিনেই ছাত্রজনতা শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। অবশেষে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। এই গণঅভ্যুত্থানই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল।
[স্থলভাগের যোগাযোগ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর।]
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশের স্থলভাগের যোগাযোগ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো হলো:
- পদ্মা বহুমুখী সেতু: নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত প্রমত্তা পদ্মার ওপর ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলাকে রাজধানীর সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে।
- মেট্রোরেল (MRT): যানজট নিরসনে রাজধানী ঢাকায় অত্যাধুনিক বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল চালু করা হয়েছে, যা পরিবহন খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
- এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ করে শহরের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
- মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-সিলেটসহ দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোকে চার লেনে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু টানেল: কর্ণফুলি নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক।
[বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ লিখ।]
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে যতজন লোক বাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এর মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার, কিন্তু এই ছোট আয়তনের দেশে প্রায় ১৭ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করে। ফলে বর্তমানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,২০০ এর বেশি মানুষ বসবাস করছে। উর্বর সমতল ভূমি, অনুকূল আবহাওয়া এবং শিল্পের কেন্দ্রীকরণের কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, আবার পাহাড়ি অঞ্চল ও সুন্দরবন এলাকায় ঘনত্ব তুলনামূলক কম। এই উচ্চ ঘনত্বের কারণে বাসস্থানের অভাব, আবাদি জমি হ্রাস, পরিবেশ দূষণ এবং কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এই বিশাল জনসংখ্যাকে যদি কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তবে তা দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হতে পারে।






