Bangla (বাংলা) 201104 – Fazil Hons Al Quran 1st Year 2021 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
bangla 201104 fazil hons quran 1st year 2021 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

Bangla (Code: 201104) – ২০২১ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২১ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাংলা (Bangla) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষায় আসা প্রত্যেকটি বিভাগের সকল বিকল্প (অথবাসহ) প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর নিচে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো।

ক বিভাগ — রচনামূলক (মান—১০x২=২০)

১। (ক) বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদের গুরুত্ব আলোচনা কর।

উত্তর:

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম এবং একমাত্র নিদর্শন। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামক একটি পুঁথি আবিষ্কার করেন, যা পরে ‘চর্যাপদ’ নামে পরিচিত হয়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে আলোচনা করা হলো:

  1. ভাষাতাত্ত্বিক গুরুত্ব: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার আদি রূপের প্রমাণ। এতে ব্যবহৃত শব্দ, বাক্য গঠন ও বিভক্তি বিশ্লেষণ করে ভাষাবিজ্ঞানীরা প্রাচীন বাংলা ভাষার স্বরূপ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমাণ করেছেন যে চর্যার ভাষাই হলো প্রাচীন বাংলা ভাষা।
  2. সমাজচিত্রের দলিল: চর্যাপদ শুধু ধর্মতত্ত্বের কথাই বলেনি, এর ভেতর দিয়ে প্রাচীন বাংলার সমাজব্যবস্থার এক নিখুঁত চিত্র ফুটে উঠেছে। ডোম, চণ্ডাল, শবরদের জীবনযাপন, নৌকাবাওয়া, শিকার করা ইত্যাদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথা এতে বর্ণিত হয়েছে।
  3. সাহিত্যিক ও কাব্যিক মূল্য: চর্যাপদগুলোতে ব্যবহৃত রূপক, উপমা ও চিত্রকল্প প্রমাণ করে যে প্রাচীন যুগেই বাংলা সাহিত্য কতটা সমৃদ্ধ ছিল। যেমন, “টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী / হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”—এই পংক্তিগুলোতে চরম দারিদ্র্যের কাব্যিক প্রকাশ ঘটেছে।
  4. ধর্মীয় ও দার্শনিক গুরুত্ব: চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধনসঙ্গীত। এতে বৌদ্ধধর্মের দর্শন, নির্বাণ লাভ এবং মানবদেহের ভেতরের আধ্যাত্মিক শক্তির কথা রূপকের আড়ালে প্রকাশ করা হয়েছে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, চর্যাপদ না পাওয়া গেলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস অন্ধকারেই থেকে যেত। এটি হাজার বছর আগের বাঙালির ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল।

অথবা

১। (খ) চণ্ডীদাস সমস্যা সম্পর্কে সমালোচকদের মতামত উল্লেখ করে এ সমস্যার সমাধান কর।

উত্তর:

চণ্ডীদাস সমস্যা কী: বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ‘চণ্ডীদাস’ নামে একাধিক কবির ভনিতা পাওয়া যায়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ‘বড়ু চণ্ডীদাস’, বৈষ্ণব পদাবলীতে ‘চণ্ডীদাস’, ‘দ্বিজ চণ্ডীদাস’ এবং ‘দীন চণ্ডীদাস’ ইত্যাদি একাধিক নাম পাওয়া যায়। এরা কি সবাই একই ব্যক্তি, নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন কবি—এই জটিল ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্নটিই বাংলা সাহিত্যে ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ নামে পরিচিত।

সমালোচকদের মতামত:

  • ড. দীনেশচন্দ্র সেন: তাঁর মতে চণ্ডীদাস মাত্র একজনই ছিলেন। তিনিই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এবং বৈষ্ণব পদাবলী উভয়ই রচনা করেছেন। বয়সের সাথে সাথে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়ায় রচনায় ভিন্নতা এসেছে।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: তিনি মনে করেন চণ্ডীদাস তিনজন। প্রথমজন ‘বড়ু চণ্ডীদাস’ (শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা), দ্বিতীয়জন ‘দ্বিজ চণ্ডীদাস’ (পদাবলীর রচয়িতা) এবং তৃতীয়জন ‘দীন চণ্ডীদাস’।
  • ড. সুকুমার সেন: তিনি ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ভাষা এবং বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা সম্পূর্ণ আলাদা যুগের। তাই রচয়িতা একজন হতে পারেন না।

সমস্যার সমাধান: আধুনিক গবেষণা ও ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণাদির ওপর ভিত্তি করে পণ্ডিতগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, চণ্ডীদাস একাধিক। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা ‘বড়ু চণ্ডীদাস’ চতুর্দশ শতাব্দীর মানুষ। অন্যদিকে বৈষ্ণব পদাবলীর বিখ্যাত পদকর্তা ‘দ্বিজ চণ্ডীদাস’ চৈতন্য-পূর্ববর্তী বা চৈতন্য সমসাময়িক যুগের (পঞ্চদশ শতাব্দীর) কবি। এছাড়াও ‘দীন চণ্ডীদাস’ নামে আঠারো শতকে আরেকজন অপেক্ষাকৃত কম প্রতিভাধর কবির অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং, চণ্ডীদাস একজন নন, বরং ভিন্ন ভিন্ন যুগে একাধিক চণ্ডীদাসের আবির্ভাব ঘটেছিল।

২। (ক) বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান মূল্যায়ন কর।

উত্তর:

বাংলা গদ্যের উদ্ভব ও বিকাশে যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি এবং যাঁর হাতে বাংলা গদ্য একটি শৈল্পিক রূপ লাভ করেছে, তিনি হলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। বাংলা গদ্যে তাঁর অসামান্য অবদানগুলো নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

  1. গদ্যের ভাষাকে প্রাঞ্জল করা: বিদ্যাসাগরের পূর্বে বাংলা গদ্য ছিল নীরস ও সংস্কৃত শব্দবহুল। বিদ্যাসাগর সর্বপ্রথম গদ্য থেকে অপ্রয়োজনীয় সংস্কৃত শব্দের জঞ্জাল দূর করেন এবং সুমিষ্ট, শ্রুতিমধুর ও প্রাঞ্জল বাংলা গদ্যের সৃষ্টি করেন।
  2. যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার: বিদ্যাসাগরের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্নের (কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি ইত্যাদি) সার্থক ব্যবহার। কোথায় থামতে হবে, তা তিনিই প্রথম নির্দিষ্ট করে দেন।
  3. পদবিন্যাস ও ছন্দ সৃষ্টি: তিনি বাক্যের পদগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন যে, গদ্যের ভেতরেও এক ধরনের অন্তর্নিহিত ছন্দ বা ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি হয়েছিল।
  4. শিশুশিক্ষার প্রসার: শিশুদের জন্য সহজ সরল গদ্যে তিনি রচনা করেন ‘বর্ণপরিচয়’, ‘বোধোদয়’, ‘কথামালা’। এগুলো বাংলা ভাষা শেখার এক অনন্য সোপান।

বস্তুত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই প্রথম বাংলা গদ্যকে আড়ষ্টতা থেকে মুক্তি দিয়ে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেছিলেন। এজন্যই তাঁকে নিঃসঙ্কোচে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

অথবা

২। (খ) নজরুল শুধু বিদ্রোহের নন, প্রেমেরও কবি—এ কথার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর:

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও, তাঁর কাব্যজগৎ কেবল বিদ্রোহের আগুনে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর অন্তরে যেমন ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, তেমনি ছিল প্রেমের এক মহাসমুদ্র। তিনি নিজেই বলেছেন, “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য।”

প্রেমের কবি নজরুল: নজরুলের প্রেমচেতনায় রোমান্টিকতা, বিরহ-বেদনা, অভিমান এবং মিলনের আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। ‘দোলনচাঁপা’, ‘ছায়ানট’, ‘পূবের হাওয়া’, ‘সিন্ধু-হিন্দোল’ প্রভৃতি কাব্যে নজরুলের প্রেমিক সত্তার চরম প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর প্রেমের কবিতায় কোনো লুকোচুরি নেই, আছে এক উদ্দাম আবেগ। যেমন তিনি লিখেছেন:
“মোর প্রিয়া হবে এসো রানী, দেবো খোঁঁপায় তারার ফুল।”

বিরহ ও বেদনা: নজরুলের প্রেমে বিরহের গভীরতাও অপরিসীম। না-পাওয়ার বেদনা তাঁর কবিতাকে করেছে আরও করুণ ও হৃদয়স্পর্শী। ‘চক্রবাক’ কাব্যের বিভিন্ন কবিতায় এই বেদনা মূর্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রেম কেবল নারী-পুরুষের প্রেমে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা প্রকৃতিপ্রেম এবং মানবপ্রেমেও রূপান্তরিত হয়েছে।

যৌক্তিকতা: নজরুল যখন শোষকদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন, তখন তাঁর ভাষা আগ্নেয়গিরির মতো। আবার যখন প্রেমের কথা বলেছেন, তখন তা নদীর স্রোতের মতো স্নিগ্ধ। তাই একথা বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক যে, নজরুল শুধু বিদ্রোহের নন, প্রেমেরও এক মহান কবি।

খ বিভাগ — (মান—১০x২=২০)

৩। (ক) ‘ভাষার গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য ভাষা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে’—‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

আবদুল হক রচিত ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হলো ভাষার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ। প্রাবন্ধিক মনে করেন, ভাষা হলো একটি প্রবহমান নদীর মতো, আর সাধারণ মানুষই হলো সেই নদীর স্রোত। ভাষার ওপর পণ্ডিত বা বৈয়াকরণদের একচ্ছত্র আধিপত্য কখনোই কাম্য নয়।

ভাষার গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য: ভাষার একটি গণতান্ত্রিক রূপ রয়েছে। গণতন্ত্রে যেমন সাধারণ মানুষের মতামতের মূল্য সবচেয়ে বেশি, ভাষার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে মনের ভাব প্রকাশের জন্য যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, ভাষা সেভাবেই রূপ লাভ করে। ব্যাকরণ ভাষার পিছু পিছু চলে, ভাষা ব্যাকরণের পিছু চলে না।

ভাষা বিকাশে ভূমিকা: পণ্ডিতরা চাইলেই ভাষার ওপর কঠিন নিয়মকানুন বা অপ্রচলিত শব্দ চাপিয়ে দিতে পারেন না। যদি তারা এমনটা করেন, তবে ভাষা তার জীবনীশক্তি হারিয়ে ফেলবে। সাধারণ মানুষের বোধগম্য, সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশই একটি ভাষাকে দীর্ঘজীবী ও প্রাণবন্ত রাখে। যুগে যুগে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই বলা যায়, ভাষার এই গণতান্ত্রিক বা সর্বজনীন বৈশিষ্ট্যই ভাষার প্রকৃত বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অথবা

৩। (খ) “লঘু ভঙ্গিতে রচিত হলেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু গুরুতর”—উক্তিটির যথার্থতা লিপিবদ্ধ কর।

উত্তর:

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত ‘তৈল’ প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ। বাহ্যিক দৃষ্টিতে প্রবন্ধটির ভাষা ও ভঙ্গি অত্যন্ত হালকা মনে হলেও, এর অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু সমাজ ও মানবজীবনের এক রূঢ় সত্যকে তুলে ধরেছে।

গুরুতর বিষয়বস্তু: এই হাস্যরসের আড়ালে লেখক তৎকালীন (এবং বর্তমান) সমাজের এক চরম অধঃপতন ও তোষামোদী মানসিকতাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। এখানে ‘তৈল’ মানে খাওয়ার তেল নয়, বরং ‘তৈল’ হলো তোষামোদ করা বা চাটুকারিতা করা।

  1. যোগ্যতার চেয়ে তোষামোদের কদর: সমাজে অনেক যোগ্য ও সৎ মানুষ তোষামোদ করতে পারে না বলে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, অযোগ্য ব্যক্তিরা ঊর্ধ্বতনদের তেল দিয়ে বড় পদ দখল করে।
  2. তেলের সর্বজনীন ব্যবহার: লেখক দেখিয়েছেন যে, স্বার্থ হাসিলের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে মানুষ একে অপরকে তোষামোদ করছে।
  3. তেল দেওয়ার কৌশল: যাকে তেল দেওয়া হবে, তার মেজাজ বুঝে সঠিক মাত্রায় তেল দিতে হয়। অতিরিক্ত তেল দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

উপসংহারে বলা যায়, হাসি-তামাশার ছলে মানবচরিত্রের এই হীন প্রবৃত্তি ও চাটুকারিতাকে লেখক তীক্ষ্ণভাবে সমালোচনা করেছেন, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়।

৪। (ক) “ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য বিচারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ একটি আদর্শ গল্প”—আলোচনা কর।

উত্তর:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ একটি অনন্য ছোটগল্প। একটি সার্থক ছোটগল্পের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, তার সবগুলোই এই গল্পে বিদ্যমান:

  1. আকস্মিক শুরু: ছোটগল্পের শুরু হবে হঠাৎ করে। ‘সমাপ্তি’ গল্পটিও ঠিক সেভাবেই শুরু হয়েছে অপূর্বের গ্রামে ফেরার আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে।
  2. চরিত্রের সীমিত পরিধি: উপন্যাসের মতো ছোটগল্পে অনেক চরিত্র থাকে না। ‘সমাপ্তি’ গল্পে মূলত অপূর্ব এবং মৃন্ময়ী—এই দুটি চরিত্রকেই কেন্দ্র করে কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।
  3. মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব: চঞ্চল ও বন্য প্রকৃতির মেয়ে মৃন্ময়ী বিয়ের পর কীভাবে ধীরে ধীরে একজন দায়িত্বশীল ও প্রেমময়ী নারীতে রূপান্তরিত হয়, তার সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এখানে রয়েছে।
  4. একমুখী ঘটনা: গল্পটি কোনো শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়নি। অপূর্ব ও মৃন্ময়ীর বিয়ের পর তাদের মধ্যকার দূরত্ব এবং অবশেষে মিলনের দিকেই গল্পটি এগিয়েছে।
  5. অতৃপ্ত সমাপ্তি: ছোটগল্প শেষ হয়েও শেষ হয় না। গল্পের শেষে যখন তাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে মিলন ঘটে, তখনই গল্পের সমাপ্তি হয়, যা পাঠকের মনে রেশ রেখে যায়।

সুতরাং, বৈশিষ্ট্য বিচারে ‘সমাপ্তি’ একটি সার্থক ও আদর্শ ছোটগল্প।

অথবা

৪। (খ) ‘শিউলীমালা’ গল্পের আলোকে শিউলী চরিত্র অংকন কর।

উত্তর:

কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অন্যতম বিখ্যাত রোমান্টিক গল্প হলো ‘শিউলীমালা’। এই গল্পের প্রধান নারী চরিত্র হলো ‘শিউলী’। শিউলী চরিত্রটি অপরূপ রূপ, প্রবল আত্মসম্মানবোধ এবং নীরব প্রেমের এক অসামান্য উদাহরণ।

রূপবতী ও আকর্ষণীয়: শিউলী অত্যন্ত রূপবতী এক কিশোরী। তার রূপে স্নিগ্ধতা ও মাধুর্য মিশে আছে। লেখক তার রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে তাকে ভোরের শিউলী ফুলের সাথে তুলনা করেছেন, যা সুবাস ছড়ায় কিন্তু অহংকার করে না।

আত্মমর্যাদাসম্পন্ন: শিউলী চরিত্রে আত্মসম্মানবোধ খুব প্রখর। সমাজের নিচু স্তরের মানুষ হয়েও (বাগদি বা অন্তজ শ্রেণির) সে নিজের সম্মান সম্পর্কে খুব সচেতন। সে কারো করুণা বা দয়া প্রত্যাশা করে না।

নীরব প্রেমিকা: গল্পের কথক বা নায়কের প্রতি শিউলীর মনে এক গভীর প্রেম জন্ম নেয়। কিন্তু সে তার এই প্রেম কখনো মুখে প্রকাশ করেনি। শিউলী ফুলের মালা গেঁথে সে নীরবে তার ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু যখন সে বুঝতে পারে যে এই সমাজব্যবস্থায় তাদের প্রেম পূর্ণতা পাওয়ার নয়, তখন সে নিজের ভালোবাসাকে বুকে চেপে রেখে নীরবে বিদায় নেয়।

পরিশেষে, শিউলী চরিত্রটি নজরুল সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার ত্যাগ ও নীরব ভালোবাসা পাঠকের মনে গভীর দাগ কাটে।

গ বিভাগ — (মান—১০x২=২০)

৫। (ক) ‘বলাকা’ কবিতা অবলম্বনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিতত্ত্বের পরিচয় দাও।

উত্তর:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কাব্যের নাম-কবিতা ‘বলাকা’। এই কবিতায় কবির গভীর জীবনদর্শন এবং ‘গতিতত্ত্ব’ (Philosophy of Motion) মূর্ত হয়ে উঠেছে।

গতিতত্ত্বের স্বরূপ: এক সন্ধ্যায় ঝিলমের তীরে দাঁড়িয়ে কবি আকাশে একঝাঁক বলাকা বা বুনো হাঁসকে উড়ে যেতে দেখেন। হাঁসগুলোর ডানার তীব্র শব্দ শুনে কবির মনে হয়, এই বিশ্বচরাচর আসলে স্থির নয়। আপাতদৃষ্টিতে যা কিছু স্থির মনে হয়—পাহাড়, পর্বত, নদী, গাছপালা—সবকিছুর ভেতরেই এক অদম্য গতির স্পন্দন লুকিয়ে আছে। সবাই যেন নতুনের সন্ধানে অজানার দিকে ছুটে চলেছে।

“হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে”—এই আকাঙ্ক্ষাই হলো গতিতত্ত্বের মূল কথা। কবি উপলব্ধি করেন যে, জীবন মানেই হলো চলা। চলা থেমে গেলেই মৃত্যু। কিন্তু মৃত্যু মানেই সবকিছুর শেষ নয়, বরং এটি নতুনের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি পর্যায়মাত্র। সৃষ্টিজগৎ প্রতিনিয়ত পুরনো জীর্ণতাকে পিছনে ফেলে নতুনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বলাকা কবিতায় বুনো হাঁসের মুক্ত ডানা আসলে মানবাত্মার অনন্ত গতিরই প্রতীক।

অথবা

৫। (খ) ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় কবি শামসুর রাহমান স্বদেশের স্বাধীনতার যে বন্দনা করেছেন তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রচিত এক অমর সৃষ্টি। এই কবিতায় কবি স্বাধীনতাকে কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় বাঁধেননি, বরং স্বাধীনতাকে বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও হৃদয়ের খুব কাছের এক অনুভূতি হিসেবে বন্দনা করেছেন।

কবি স্বাধীনতাকে নানা রূপে দেখেছেন। স্বাধীনতা হলো—রবিঠাকুরের অজর কবিতা, নজরুলের ঝাঁকড়া চুল, মুক্তিযুদ্ধের অমর স্লোগান। আবার স্বাধীনতা হলো খুব সাধারণ মানুষের জীবনের অনুষঙ্গ—বটমূলে বসে থাকা গ্রাম্য মানুষের গান, গৃহিণীর রোদে দেওয়া শাড়ি, মেহেদি রাঙানো মেয়ের হাতের হাসি। স্বাধীনতা মানে অন্ধকার ঘরে হঠাৎ জ্বলে ওঠা আলোর মতো আনন্দ।

কবি বুঝিয়েছেন যে, স্বাধীনতা আমাদের রক্ত, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। এটি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং এটি বাংলার আপামর জনতার হাসি, কান্না, আশা ও স্বপ্নের এক বাস্তব রূপ। এভাবেই কবি একান্ত আপন করে স্বদেশের স্বাধীনতার অপরূপ বন্দনা করেছেন।

৬। (ক) ‘আমার পূর্ববাংলা’ কবিতায় কবি উপমা, রূপক, শব্দালংকার ও চিত্রকল্পের যে সুনিপুণ ব্যবহার করেছেন তা আলোচনা কর।

উত্তর:

সৈয়দ আলী আহসানের ‘আমার পূর্ববাংলা’ কবিতাটি বাংলার নিসর্গ-প্রকৃতির অপরূপ রূপবর্ণনার এক অনবদ্য দলিল। কবি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে উপমা, রূপক ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার স্নিগ্ধ ও শান্ত প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

উপমা ও চিত্রকল্প: কবিতায় কবি পূর্ববাংলাকে “এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ অন্ধকারের তমাল” এর সাথে তুলনা করেছেন, যা বাংলার ছায়াসুনিবিড় শান্ত রূপের চিত্রকল্প তৈরি করে। কবি বাংলার সৌন্দর্যকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, “ভিজে মেঘের মতো”, “নদীর মতো”, যা সজীবতা ও প্রবহমানতার প্রতীক।

রূপকের ব্যবহার: কবি বাংলার প্রকৃতিকে এমন এক আশ্রয় হিসেবে রূপকায়িত করেছেন, যেখানে শ্রান্ত মানুষ শান্তি খুঁজে পায়। এই রূপকগুলো কৃত্রিমতাহীন, গ্রামবাংলার খাঁটি জীবনের নির্যাস থেকে নেওয়া। কবি বাংলার প্রকৃতিকে বিদেশী বা পাশ্চাত্যের রুক্ষ প্রকৃতির সাথে তুলনা করে নিজের দেশের স্নিগ্ধতাকে বড় করে দেখিয়েছেন। শব্দালংকারের মায়াজালে বোনা এই কবিতাটি তাই হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার এক জীবন্ত চিত্রকল্প।

অথবা

৬। (খ) কবি জসিম উদ্দীনের ‘মুসাফির’ কবিতায় মুসাফিরের স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।

উত্তর:

পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের ‘মুসাফির’ কবিতায় ‘মুসাফির’ হলো এক ভবঘুরে, চিরপথিক সত্তা। যার কোনো নির্দিষ্ট ঘরবাড়ি নেই, স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই। সে শুধু এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তরে ঘুরে বেড়ায়।

মুসাফিরের স্বরূপ: মুসাফিরের জীবনের কোনো পিছুটান নেই। মায়া-মমতা বা সংসারের বন্ধন তাকে আটকে রাখতে পারে না। সে প্রকৃতির খুব কাছের মানুষ। গাছতলায় রাত কাটায়, পাখির গানে ঘুম ভাঙে। কিন্তু এই সাধারণ ভবঘুরে মুসাফিরের আড়ালে কবি আসলে মানবজীবনের এক গভীর রূপক তুলে ধরেছেন।

পৃথিবীতে মানুষও মূলত একজন মুসাফির বা পান্থ। এই পৃথিবী কারো চিরস্থায়ী বাসস্থান নয়। সবাইকেই একদিন এই মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে চলে যেতে হবে। মুসাফির যেমন এক জায়গায় চিরকাল থাকে না, তেমনি মানুষের জীবনও ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং মুসাফিরের এই নিরাসক্ত ও বন্ধনহীন স্বরূপের মাঝেই নিহিত রয়েছে মানবজীবনের এক চরম আধ্যাত্মিক সত্য।

ঘ বিভাগ — ব্যাকরণ ও নির্মিতি (মান—৫x৪=২০)

৭। যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

(ক) বাংলা ব্যাকরণের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিচে দেওয়া হলো:

  1. ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও: ১৭৪৩ সালে এই পর্তুগিজ পাদ্রি পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ ‘Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez’ রচনা করেন।
  2. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড: ১৭৭৮ সালে ইংরেজিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ ‘A Grammar of the Bengal Language’ রচনা করেন।
  3. রাজা রামমোহন রায়: প্রথম বাঙালি হিসেবে ১৮২৬ সালে ইংরেজিতে এবং পরবর্তীতে ১৮৩৩ সালে বাংলায় ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ নামে বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য করে ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ রচনা করেন, যা বাংলা ব্যাকরণের বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ব্যাকরণকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপ দান করেন।

(খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি):

  • গরমিল = মিলের অভাব (অব্যয়ীভাব সমাস)।
  • নদীমাতৃক = নদী মাতা যার (বহুব্রীহি সমাস)।
  • ছেলেধরা = ছেলেকে ধরে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
  • গৃহান্তর = অন্য গৃহ (নিত্য সমাস)।
  • সেতার = সে (তিন) তারের সমাহার (দ্বিগু সমাস)।
  • গণতন্ত্র = গণের (জনগণের) তন্ত্র (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
  • বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু (রূপক কর্মধারয় সমাস)।

(গ) প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি):

  • কর্তব্য = কৃ + তব্য (কৃৎ প্রত্যয়)।
  • রান্না = রাঁধ্ + না (কৃৎ প্রত্যয়)।
  • ঘটকালি = ঘটক + আলি (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
  • হলদে = হলুদ + ইয়া > এ (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
  • মেছো = মাছ + উয়া > ও (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
  • মানব = মনু + ষ্ণ (অ) (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
  • সাংবাদিক = সংবাদ + ষ্ণিক (ইক) (তদ্ধিত প্রত্যয়)।

(ঘ) ‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে’—আলোচনা কর।

উত্তর: বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যেগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এদের বলা হয় উপসর্গ (যেমন: প্র, আ, উপ, বি)। এদের নিজস্ব কোনো অর্থ প্রকাশের ক্ষমতা বা ‘অর্থবাচকতা’ নেই। কিন্তু এই উপসর্গগুলো যখন কোনো শব্দের আগে বসে, তখন তারা শব্দটির অর্থের সংকোচন, সম্প্রসারণ বা পরিবর্তন ঘটাতে পারে। অর্থাৎ, নতুন অর্থ তৈরির ক্ষমতা বা ‘অর্থদ্যোতকতা’ উপসর্গের রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ: ‘হার’ শব্দের আগে বিভিন্ন উপসর্গ বসালে অর্থের কেমন পরিবর্তন হয় তা দেখা যাক: પ્ર + হার = প্রহার (মারা), আ + হার = আহার (খাওয়া), উপ + হার = উপহার (গিফট)। দেখা যাচ্ছে, উপসর্গগুলোর নিজস্ব অর্থ না থাকলেও তারা নতুন অর্থ তৈরি করেছে।

(ঙ) ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান কী? ণ-ত্ব বিধানের তিনটি নিয়ম লেখ।

উত্তর: ণ-ত্ব বিধান: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম শব্দে দন্ত্য-ন (ন) এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহারের সঠিক নিয়মাবলিকে ণ-ত্ব বিধান বলে। ষ-ত্ব বিধান: তৎসম শব্দে স/শ এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
ণ-ত্ব বিধানের তিনটি নিয়ম:

  1. ঋ, র, ষ (ৃ, ্র, র্)—এগুলোর পর সর্বদা ‘ণ’ বসে। যেমন: ঋণ, কারণ, ভীষণ।
  2. ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) আগে যুক্তাক্ষরে সর্বদা ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, ঘণ্টা, কাণ্ড।
  3. প্র, পরা, পরি, নির—এই উপসর্গগুলোর পর নির্দিষ্ট কিছু ধাতুর ‘ন’, ‘ণ’ হয়। যেমন: প্রণাম, পরিণতি।

(চ) ভাব-সম্প্রসারণ কর : অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।

ভাবার্থ: সমাজে যে ব্যক্তি অন্যায় করে, সে যেমন দোষী, তেমনি যে ব্যক্তি নীরবে সেই অন্যায় সহ্য করে, সেও সমান দোষী এবং উভয়েই তীব্র ঘৃণার পাত্র।

সম্প্রসারণ: মানবসমাজে ন্যায় ও নীতিবোধই হলো সভ্যতার ভিত্তি। যারা এই নীতি বিসর্জন দিয়ে অন্যের অধিকার হরণ করে, দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে, তারা নিশ্চিতভাবেই অপরাধী। কিন্তু সমাজে আরেক দল মানুষ আছে, যারা নিজেরা অন্যায় না করলেও চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের কোনো প্রতিবাদ করে না। তারা ভাবে, ঝামেলায় জড়িয়ে কী লাভ! এই নীরবতা অন্যায়কারীকে আরও সাহসী করে তোলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা মানে পরোক্ষভাবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। তাই স্রষ্টার কাছে এবং সভ্য সমাজের কাছে অন্যায়কারী এবং অন্যায় সহ্যকারী উভয়েই সমান অপরাধী। খড়ের গাদা (তৃণ) যেমন আগুনে দ্রুত পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তেমনি সমাজের মানুষের তীব্র ঘৃণা যেন এই উভয় শ্রেণির মানুষকে দগ্ধ করে দেয়—এটাই কবির প্রত্যাশা।

(ছ) প্রভাষক পদে চাকুরীর জন্য একটি আবেদনপত্র লেখ।

উত্তর:

তারিখ: ১৫ জানুয়ারি, ২০২২
বরাবর,
অধ্যক্ষ,
ঢাকা কামিল মাদরাসা, ঢাকা।

বিষয়: বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে দৈনিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার মাদরাসায় বাংলা বিভাগে একজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি উক্ত পদের জন্য একজন আগ্রহী প্রার্থী হিসেবে নিচে আমার জীবনবৃত্তান্ত পেশ করছি:

নাম : মো. আব্দুর রহমান
পিতার নাম : মো. শফিকুর রহমান
মাতার নাম : ফাতেমা বেগম
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম+ডাক: রূপনগর, থানা: সাভার, জেলা: ঢাকা।
জন্মতারিখ : ০১/০১/১৯৯৫
জাতীয়তা : বাংলাদেশি (জন্মসূত্রে)
শিক্ষাগত যোগ্যতা :
পরীক্ষা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় পাসের সন ফলাফল (জিপিএ/সিজিপিএ)
এসএসসি ঢাকা বোর্ড ২০১০ ৫.০০
এইচএসসি ঢাকা বোর্ড ২০১২ ৪.৮০
স্নাতক (বাংলা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৬ ৩.৫০
স্নাতকোত্তর (বাংলা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৭ ৩.৬০

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা, আমার উপর্যুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করে আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ দানে বাধিত করবেন।

নিবেদক,
(স্বাক্ষর)
মো. আব্দুর রহমান

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now