Bangla (বাংলা) 201104 – Fazil Hons Al Quran 1st Year 2020 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
bangla 201104 fazil hons al quran 1st year 2020 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

বাংলা (Code: 201104) – ২০২০ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০ এর বাংলা বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বি.দ্র: পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নের পাশাপাশি ‘অথবা’ অংশের উত্তরগুলোও দেওয়া হলো।

ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন (মান—১০x২=২০)

১। (ক) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগবিভাগ সম্পর্কে পণ্ডিতদের মতামত বিশ্লেষণ কর।

ভূমিকা:

যেকোনো সাহিত্যের ইতিহাসকে সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনার জন্য যুগবিভাগ অত্যন্ত জরুরি। বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসকেও এর অন্তর্নিহিত ভাব, ভাষা, বিষয়বস্তু এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন যুগে ভাগ করা হয়েছে। তবে এই যুগবিভাগের কালসীমা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

সাধারণ যুগবিভাগ:

অধিকাংশ সাহিত্য-সমালোচকের মতে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা যায়:

  1. প্রাচীন যুগ: ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। (প্রধান নিদর্শন: চর্যাপদ)
  2. মধ্যযুগ: ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। (প্রধান নিদর্শন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি)
  3. আধুনিক যুগ: ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। (গদ্যের উদ্ভব ও বিকাশ)

পণ্ডিতদের মতামত বিশ্লেষণ:

১. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মত: তিনি বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল হিসেবে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দকে গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে:

  • প্রাচীন যুগ: ৬৫০ — ১২০০ খ্রি.
  • সন্ধি যুগ (অন্ধকার যুগ): ১২০১ — ১৩৫০ খ্রি.
  • মধ্যযুগ: ১৩৫১ — ১৮০০ খ্রি.
  • আধুনিক যুগ: ১৮০১ — বর্তমান।

২. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত: তিনি বাংলা সাহিত্যের সূচনা ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ বলে মনে করেন। তাঁর মতে যুগবিভাগ হলো:

  • প্রাচীন যুগ (চর্যাপদের যুগ): ৯৫০ — ১২০০ খ্রি.
  • তুর্কি বিজয়ের যুগ: ১২০০ — ১৩০০ খ্রি.
  • আদি মধ্যযুগ: ১৩০০ — ১৫০০ খ্রি.
  • অন্ত্য মধ্যযুগ: ১৫০০ — ১৮০০ খ্রি.
  • আধুনিক যুগ: ১৮۰۰ খ্রি. এর পর থেকে।

৩. ড. সুকুমার সেনের মত: তিনি যুগের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাহিত্যের নামকরণ করেছেন। যেমন:

  • আদি যুগ বা প্রাক-তুর্কি যুগ: একাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর অবসান পর্যন্ত।
  • মধ্যযুগ: চতুর্দশ শতাব্দীর শুরু থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর অবসান পর্যন্ত। একে তিনি আবার চৈতন্য-পূর্ব, চৈতন্য-সমসাময়িক এবং চৈতন্য-পরবর্তী যুগে ভাগ করেছেন।
  • আধুনিক যুগ: ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে।

মূল্যায়ন:

যুগবিভাগের কালসীমা নিয়ে সামান্য মতপার্থক্য থাকলেও পণ্ডিতদের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে যে, তুর্কি বিজয়ের (১২০৪ খ্রি.) পূর্ব পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন যুগ, তুর্কি বিজয় থেকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার (১৮০০ খ্রি.) পূর্ব পর্যন্ত মধ্যযুগ এবং এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত আধুনিক যুগ ধরা যায়। ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অনেক পণ্ডিত ‘অন্ধকার যুগ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ এ সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি।

অথবা, (খ) টীকা লিখ: * বিদ্যাসুন্দর * পদ্মাবতী

বিদ্যাসুন্দর

‘বিদ্যাসুন্দর’ হলো বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। বিদ্যা ও সুন্দর নামক রাজকন্যা ও রাজপুত্রের প্রেম, মিলন এবং প্রণয়-পরিণতি এর মূল বিষয়বস্তু।

  • কাহিনি সংক্ষেপ: বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা এবং কাঞ্চী নগরের রাজপুত্র সুন্দরের প্রণয়কাহিনি। সুড়ঙ্গ কেটে রাজকন্যার কক্ষে সুন্দরের যাতায়াত, পরে ধরা পড়া এবং শেষ পর্যন্ত দেবী কালীর আশীর্বাদে সুন্দরের প্রাণরক্ষা ও বিদ্যার সাথে তার মিলন—এসব নিয়েই এই কাব্য রচিত।
  • কবির পরিচয়: অনেক কবি বিদ্যাসুন্দর কাব্য রচনা করলেও অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর-এর রচিত বিদ্যাসুন্দর কাব্যটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও শিল্পোত্তীর্ণ। তাঁর ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হলো বিদ্যাসুন্দর।
  • বৈশিষ্ট্য: এ কাব্যে মধ্যযুগের দেব-নির্ভরতার পরিবর্তে মানবীয় প্রেম, রোমান্স, চাতুর্য এবং কিছুটা আদি রসের প্রাধান্য দেখা যায়, যা আধুনিক যুগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

পদ্মাবতী

‘পদ্মাবতী’ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুবাদ রোমান্টিক মহাকাব্য। এটি মূলত সুফি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি ভাষায় রচিত ‘পদুমাবত’ কাব্যের বাংলা অনুবাদ।

  • কবির পরিচয়: আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি আলাওল ১৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কাব্যটি রচনা বা অনুবাদ করেন।
  • কাহিনি সংক্ষেপ: চিতোরের রানি পদ্মিনীর (পদ্মাবতী) অপরূপ রূপের কথা শুনে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি তাকে পাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে যান এবং চিতোর আক্রমণ করেন। রানি পদ্মাবতী এবং তাঁর স্বামী রাজা রত্নসেনের প্রেম, বিরহ, যুদ্ধ এবং সবশেষে জওহর ব্রতের মাধ্যমে রানির আত্মাহুতি—এই করুণ রসাত্মক কাহিনিই কাব্যের মূল উপজীব্য।
  • সাহিত্যমূল্য: এটি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। অনুবাদ হলেও এটিতে আলাওলের নিজস্ব কাব্যপ্রতিভা, সুফি দর্শন এবং ভাষার ওপর অসাধারণ দখলের পরিচয় পাওয়া যায়। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য রত্ন।

২। (ক) বাংলা গদ্য বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

ভূমিকা:

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় অবদান হলো গদ্যের বিকাশ। আর বাংলা গদ্যের এই আদিপর্বের বিকাশে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। মূলত ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের এদেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর উদ্দেশ্যে লর্ড ওয়েলেসলি এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেও, পরোক্ষভাবে এটি বাংলা গদ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।

গদ্য বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান:

  1. উইলিয়াম কেরির নেতৃত্ব: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন উইলিয়াম কেরি। তাঁরই উৎসাহ ও নির্দেশনায় পণ্ডিত ও মুনশিরা বাংলা গদ্যে পাঠ্যপুস্তক রচনা শুরু করেন। তিনি নিজেও ‘কথোপকথন’ (১৮০১) এবং ‘ইতিহাসমালা’ (১৮১২) নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করে বাংলা গদ্যের কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করেন।
  2. পাঠ্যপুস্তক রচনা: কলেজের সিভিলিয়ানদের পড়ানোর জন্য বাংলা ভাষায় গদ্য পুস্তকের প্রচণ্ড অভাব ছিল। উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে কলেজের পণ্ডিতরা বিভিন্ন সংস্কৃত, ফারসি ও ইংরেজি গ্রন্থ থেকে বাংলায় অনুবাদ এবং মৌলিক গ্রন্থ রচনা শুরু করেন। এই পাঠ্যপুস্তকগুলোই বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপ।
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের অবদান: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। তাঁর রচিত ‘বত্রিশ সিংহাসন’ (১৮০২), ‘হিতোপদেশ’ (১৮০৮), ‘রাজাবলি’ (১৮০৮) এবং ‘প্রবোধ চন্দ্রিকা’ (১৮১৩) বাংলা গদ্যের বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি সংস্কৃত বহুল গদ্যরীতি প্রবর্তন করলেও, তাঁর ভাষার বাঁধুনি ছিল অত্যন্ত মজবুত।
  4. রামরাম বসুর অবদান: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অন্যতম মুনশি রামরাম বসু। তিনি ১৮০১ সালে ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ প্রকাশ করেন। এটিই কোনো বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্য গ্রন্থ। তাঁর গদ্যে ফারসি ও কথ্য বাংলার মিশ্রণ দেখা যায়।
  5. অন্যান্য পণ্ডিতদের ভূমিকা: গোলকনাথ শর্মার ‘হিতোপদেশ’, চণ্ডীচরণ মুনশীর ‘তোতা ইতিহাস’, রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়ের ‘মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং’ প্রভৃতি গ্রন্থ বাংলা গদ্যের শৈলী ও রূপ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
  6. ব্যাকরণ ও অভিধান সংকলন: গদ্যকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক করার জন্য উইলিয়াম কেরি বাংলা ব্যাকরণ (A Grammar of the Bengalee Language) এবং একটি বিশাল বাংলা অভিধান রচনা করেন।

মূল্যায়ন:

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের গদ্য সাহিত্য হিসেবে খুব বেশি রসোত্তীর্ণ না হলেও, ব্যবহারিক ও কাঠামোগত দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই কলেজের পণ্ডিতরাই প্রথম দেখিয়েছিলেন যে, গদ্যেও সাহিত্যের আসর জমানো যায় এবং যেকোনো সিরিয়াস বিষয় গদ্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব। পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে বাংলা গদ্য যে শৈল্পিক পূর্ণতা পেয়েছিল, তার উপযুক্ত জমি তৈরি করে দিয়েছিল এই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।

অথবা, (খ) মহাকবি হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের সার্থকতা নিরূপণ কর।

ভূমিকা:

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের রূপকার এবং শ্রেষ্ঠ মহাকবি হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ঊনবিংশ শতাব্দীর রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সার্থক ফসল হিসেবে তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটান। ১৮৬১ সালে প্রকাশিত তাঁর অমর সৃষ্টি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং একমাত্র সার্থক সাহিত্যিক মহাকাব্য (Literary Epic)।

মহাকবি হিসেবে সার্থকতার কারণসমূহ:

  1. মহাকাব্যের কাঠামোগত পূর্ণতা: অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে দণ্ডী ও বিশ্বনাথ কবিরাজের নির্ধারিত মহাকাব্যের সকল শর্ত মধুসূদন দত্ত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ নিপুণভাবে রক্ষা করেছেন। কাব্যের সর্গ-বিভাগ (৯টি সর্গ), বিশাল ক্যানভাস, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দেব-দেবীর অংশগ্রহণ এবং বর্ণনার মহিমা—সবকিছুতেই তিনি সার্থকতার পরিচয় দিয়েছেন।
  2. নবজাগরণের প্রভাব ও মানবতাবাদ: মধুসূদনের শ্রেষ্ঠত্ব হলো তিনি বাল্মীকি রামায়ণের চিরাচরিত ছক ভেঙে দিয়েছেন। দেবনির্ভরতার বদলে মানবতাবাদকে বড় করে তুলেছেন। রাম বা লক্ষ্মণের চেয়ে তাঁর কাছে রাবণ এবং মেঘনাদ বড় হয়ে উঠেছে। রাবণ এখানে নিছক রাক্ষস নয়, সে একজন দেশপ্রেমিক, বীর এবং পুত্রশোকে কাতর এক অসহায় পিতা। এই বিদ্রোহী চেতনা ও মানবতাবোধ তাঁকে অনন্য করেছে।
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন: বাংলা কবিতায় অন্ত্যমিলের যে একঘেয়েমি বা পয়ার ছন্দের শৃঙ্খল ছিল, মধুসূদন দত্ত তা ভেঙে চুরমার করে দেন। তিনি মহাকাব্যের গাম্ভীর্য ও প্রবাহমানতা রক্ষার জন্য ইংরেজি Blank Verse-এর অনুকরণে বাংলায় সৃষ্টি করেন ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’। এটি তাঁর অসামান্য কবি প্রতিভার স্বাক্ষর।
  4. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন: তিনি কাহিনি নিয়েছেন প্রাচ্যের রামায়ণ থেকে, কিন্তু তার রূপায়ন ও শৈলী নির্মাণ করেছেন হোমার, ভার্জিল, মিল্টন, দান্তে প্রমুখ পাশ্চাত্য মহাকবিদের আদর্শে। হোমারের ‘ইলিয়াড’ এবং মিল্টনের ‘প্যারাডাইস লস্ট’-এর সুস্পষ্ট প্রভাব তাঁর কাব্যে লক্ষণীয়।
  5. সার্থক ট্র্যাজেডি সৃষ্টি: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মূলত একটি ট্র্যাজেডি। ভাগ্য এবং দেবতাদের ষড়যন্ত্রের কাছে বীর মেঘনাদ ও পরাক্রমশালী রাবণের পতন ও পরাজয় পাঠকের মনে এক গভীর করুণ রস (Catharsis) সৃষ্টি করে, যা আধুনিক মহাকাব্যের একটি বড় বৈশিষ্ট্য।

উপসংহার:

মহাকবি হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে এক আকস্মিক বিস্ফোরণের মতো। তিনি একাই বাংলা ভাষাকে সাবালকত্ব দান করেছেন। ভাষা, ছন্দ, উপমা এবং মানবতাবোধের যে মহিমান্বিত রূপ তিনি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ দেখিয়েছেন, তা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত মহাকবির আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান—১০x২=২০)

৩। (ক) ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর যুক্তিতর্কের মূল্যায়ন কর।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধটি ভাষা আন্দোলনের প্রাক্কালে রচিত একটি অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ও দূরদর্শী প্রবন্ধ। পাকিস্তান সৃষ্টির পর রাষ্ট্রভাষা কী হবে—এই বিতর্কের যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান তিনি এই প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন।

প্রাবন্ধিকের যুক্তিতর্কের মূল্যায়ন:

  1. মাতৃভাষার গুরুত্ব: ড. শহীদুল্লাহ জোরালো যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত মাতৃভাষা। তিনি বলেছেন, মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা যেহেতু বাংলা, তাই বাংলাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়া হলে তা হবে চরম অবিচার।
  2. আরবি ও উর্দুর অবস্থান স্পষ্টকরণ: অনেকেই ধর্মীয় আবেগের বশবর্তী হয়ে আরবি বা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলেছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ ধর্ম ও ভাষাকে গুলিয়ে ফেলেননি। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম যুক্তিতে বলেছেন যে, আরবি হলো আমাদের ধর্মীয় ভাষা, তাকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু তা রাষ্ট্রভাষা হতে পারে না। একইভাবে উর্দু পাকিস্তানের কোনো প্রদেশেরই মাতৃভাষা নয়, এটি একটি মিশ্র ভাষা। তাই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর একটি ভিনদেশি ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হবে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করবে।
  3. ইংরেজি ভাষার আবশ্যকতা: তিনি ইংরেজিকে রাতারাতি বাতিল করার পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের স্বার্থে ইংরেজি শেখা অপরিহার্য, তবে তা মাতৃভাষার জায়গা দখল করে নয়।

উপসংহার: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কোনো আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও বাস্তবতার নিরিখে মাতৃভাষা বাংলার পক্ষে যে অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, তা বাঙালি জাতিকে ভাষা আন্দোলনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁর এই যুক্তিতর্ক আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

অথবা, (খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ প্রবন্ধের নামকরণের সার্থকতা বিচার কর।

সাহিত্যের যেকোনো শাখার নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নামের মাধ্যমেই রচনার মূল বিষয়বস্তু বা অন্তর্নিহিত ব্যঞ্জনা পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ প্রবন্ধটির নামকরণ বিষয়বস্তু ও ব্যঞ্জনার দিক থেকে শতভাগ সার্থক।

  • বিষয়বস্তু ও রূপক অর্থ: আভিধানিক অর্থে ‘তৈল’ বা তেল হলো একটি তরল পিচ্ছিল পদার্থ। কিন্তু প্রাবন্ধিক এখানে তেলকে আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার না করে রূপক বা ব্যঞ্জনা অর্থে ব্যবহার করেছেন। সমাজে ‘তৈল’ বলতে ‘তোষামোদ’, ‘চাটুকারিতা’ বা ‘খুশামোদ’ করাকে বোঝায়। প্রাবন্ধিক অত্যন্ত শ্লেষ ও রসিকতার সাথে দেখিয়েছেন যে, মানবসমাজে এই ‘তৈল’ বা তোষামোদের ক্ষমতা কত ব্যাপক।
  • তৈলের সর্বব্যাপী প্রভাব: লেখক বলেছেন, যে ব্যক্তি ঠিকমতো ‘তৈল’ মর্দন করতে পারে, তার কাছে বিদ্যা, বুদ্ধি বা যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই। চাকরিতে প্রমোশন, রাজনীতিতে সাফল্য, সমাজে প্রতিষ্ঠা—সবকিছুই নির্ভর করে সঠিক জায়গায় সঠিক মাত্রায় তৈল প্রদানের ওপর। “যে সর্বাঙ্গে তৈল মাখিতে পারে, তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসর হইতে পারে, আহাম্মক হইলেও ম্যাজিস্ট্রেট হইতে পারে।”
  • নামকরণের সার্থকতা: প্রবন্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখক সমাজের এই রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করা তোষামোদ প্রথাকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। যেহেতু ‘তৈল’ বা তোষামোদই এই প্রবন্ধের আদি, মধ্য ও অন্ত, তাই রূপক আশ্রিত এই ‘তৈল’ নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও শিল্পোত্তীর্ণ হয়েছে।

৪। (ক) ‘পাদটীকা’ গল্পে সৈয়দ মুজতবা আলী যে সত্য প্রকাশ করেছেন তার স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পাদটীকা’ একটি তীক্ষ্ণ সমাজসচেতন ও ব্যঙ্গাত্মক ছোটগল্প। ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মনমানসিকতা, ক্ষমতাশালীদের দম্ভ এবং পণ্ডিত ও গুণীজনদের অসহায়ত্বের যে করুণ সত্য লেখক এখানে প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী।

  1. ক্ষমতার দম্ভ বনাম জ্ঞানের অসহায়ত্ব: গল্পের মূল চরিত্র পণ্ডিতমশাই একজন অগাধ জ্ঞানের অধিকারী মানুষ। কিন্তু তাঁর জাগতিক ক্ষমতা বা প্রতিপত্তি নেই। অন্যদিকে ইন্সপেক্টর সাহেব ক্ষমতার দম্ভে মত্ত। তিনি সামান্য একটি তাঁবুর খুঁটির হিসাব নিয়ে পণ্ডিতমশাইকে যেভাবে অপমান করেছেন, তা মূলত আমলাতান্ত্রিক অহমিকা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নগ্ন রূপকেই প্রকাশ করে।
  2. পরাধীন জাতির হীনমন্যতা: ব্রিটিশ রাজত্বে এদেশের সাধারণ মানুষ, এমনকি বিদ্বান ব্যক্তিরাও যে কতখানি হীনমন্য ও ভয়ে তটস্থ থাকতেন, তা পণ্ডিতমশাইয়ের আচরণের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। ইন্সপেক্টরের ধমকে তাঁর পাণ্ডিত্য ও আত্মসম্মান ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। এটি পরাধীন ভারতের এক রূঢ় সত্য।
  3. ভুল অগ্রাধিকার: ইন্সপেক্টর সাহেব ছাত্রদের শিক্ষার মান বা পণ্ডিতমশাইয়ের জ্ঞানের কদর না করে, একটি মামুলি তাঁবুর খুঁটি চুরি যাওয়াকে বড় করে দেখেছেন। সমাজে যখন জ্ঞান ও গুণের চেয়ে তুচ্ছ বিষয় ও ক্ষমতার আস্ফালন বড় হয়ে ওঠে, লেখক সেই অবক্ষয়ের সত্যটিকেই ব্যঙ্গের আবরণে পাদটীকার মতো তুলে ধরেছেন।

অথবা, (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ গল্পের আলোকে মৃন্ময়ী চরিত্র বিশ্লেষণ কর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মৃন্ময়ী। এক দুরন্ত, চঞ্চল ও বুনো প্রকৃতির কিশোরী থেকে কীভাবে সে প্রেমের স্পর্শে একজন পরিণত ও স্নিগ্ধ নারীতে রূপান্তরিত হলো, তারই মনস্তাত্ত্বিক আলেখ্য এই চরিত্রটি।

  • স্বাধীনচেতা ও দুরন্তপনা: গল্পের শুরুতে মৃন্ময়ীকে আমরা দেখি এক বাঁধনহারা বুনো পাখির মতো। গ্রামের পথে-ঘাটে, খালে-বিলে সে ছেলেদের মতো দাপিয়ে বেড়ায়। সামাজিক রীতিনীতি, লজ্জা বা সংস্কার তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। অপূর্ব যখন তাকে প্রথম দেখে, তখন সে কাদা মাখা অবস্থায় নদীর পাড়ে খেলছিল। এই বুনো স্বভাবই তার চরিত্রের আদি রূপ।
  • বিবাহের প্রতি অনীহা: সামাজিক নিয়মে অপূর্বর সাথে তার জোর করে বিয়ে দেওয়া হলে সে এই বন্ধনকে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। বিয়ের রাতে অপূর্বর ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া কিংবা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অবাধ্য আচরণ করা—সবকিছুই তার স্বাধীনতা হারানোর বেদনার বহিঃপ্রকাশ।
  • প্রেমের স্পর্শে রূপান্তর: গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো মৃন্ময়ীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর। অপূর্ব যখন তার ওপর জোর না খাটিয়ে তাকে বাবার কাছে রেখে কলকাতায় চলে যায়, তখন বিরহের আগুনে পুড়ে মৃন্ময়ীর অন্তরের নারীসত্তা জেগে ওঠে। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং অপূর্বর প্রতি এক তীব্র ভালোবাসা অনুভব করে।
  • পূর্ণাঙ্গ নারীসত্তার বিকাশ: শেষে যখন অপূর্ব ফিরে আসে, তখন মৃন্ময়ী আর সেই দুরন্ত কিশোরী নেই। সে তখন একজন লজ্জাবনত, প্রেমময়ী ও সমর্পিত নারী। তার এই মানসিক পরিণতি ও প্রেমের উপলব্ধির মাধ্যমেই গল্পের ‘সমাপ্তি’ ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মৃন্ময়ী চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

গ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান—১০x২=২০)

৫। (ক) ‘বলাকা’ কবিতা যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্থবিরতার বিরুদ্ধে সচেতন বিদ্রোহ।— উক্তিটির যথার্থতার পরিচয় দাও।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কবিতাটি বাংলা কাব্যে ‘গতিবাদ’ বা দর্শনমূলক চিন্তাধারার এক অনন্য স্বাক্ষর। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ, কারণ এই কবিতায় কবি জগত ও জীবনের স্থবিরতা বা জড়ত্বকে অস্বীকার করে নিরন্তর গতির জয়গান গেয়েছেন।

  1. স্থবিরতার দৃশ্যপট: কবিতার শুরুতে ঝিলাম নদীর তীরের এক নিস্তব্ধ, স্তব্ধ সন্ধ্যাকালীন প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। চারপাশের পাহাড়, গাছপালা সবকিছু যেন এক স্থবির ও মৃতপ্রায় অন্ধকারের প্রতীক। এই দৃশ্যপট মূলত মানুষের জীবনে নেমে আসা জরা, ক্লান্তি ও স্থবিরতারই রূপক।
  2. বলাকার ডানার শব্দে গতির উন্মাদনা: এমন নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ একঝাঁক বুনো হাঁস বা ‘বলাকা’ আকাশ চিরে উড়ে যায়। তাদের ডানার প্রচণ্ড শব্দ যেন নৈঃশব্দ্যের বুক চিরে গতির এক প্রবল ঝংকার সৃষ্টি করে। এই ডানার শব্দ শুনে কবির মনে হয়, জড় প্রকৃতিও যেন তার শেকল ছিঁড়ে আকাশে উড়ে যেতে চাইছে। পাহাড় চায় মেঘ হতে, গাছপালা চায় পাখা মেলে উড়তে।
  3. যৌবনের জয়গান ও বিদ্রোহ: বলাকার এই উড্ডয়ন কবির কাছে এক আধ্যাত্মিক ব্যঞ্জনা নিয়ে ধরা দেয়। কবি অনুভব করেন, মহাবিশ্বের কোনো কিছুই স্থির নয়। “হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোন্ খানে”—এই অনন্ত চলার স্পৃহাই জীবনের মূল মন্ত্র। স্থবিরতা মানেই মৃত্যু, আর গতি মানেই জীবন। জরা ও স্থবিরতার বিরুদ্ধে মানুষের অন্তরের যে চিরন্তন বিদ্রোহী আকাক্ষা, বলাকা কবিতাটি তারই এক শৈল্পিক ও সার্থক প্রকাশ।

অথবা, (খ) ‘উমর ফারুক’ কবিতার মূল বক্তব্য আলোচনা কর।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘উমর ফারুক’ একটি ঐতিহাসিক ও ইসলামী জাগরণমূলক কবিতা। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর মহান জীবনাদর্শ, ন্যায়বিচার, সাম্যবাদ এবং অনাড়ম্বর জীবনযাপনই এ কবিতার মূল উপজীব্য।

  • সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ: খলিফা উমর ছিলেন অর্ধ-পৃথিবীর শাসক, অথচ তাঁর মধ্যে ছিল না কোনো অহংকার। ভৃত্যকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজে উটের রশি ধরে জেরুজালেম বিজয়ের যে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, কবি তা অত্যন্ত ভক্তিভরে বর্ণনা করেছেন। এটি ইসলামে মানুষে মানুষে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
  • কঠোর ন্যায়বিচার: উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচার ছিল প্রবাদের মতো। নিজের মদ্যপায়ী পুত্রকেও তিনি শাস্তি দিতে পিছপা হননি। আইনের চোখে শাসক ও শাসিতের কোনো ভেদাভেদ তিনি রাখতেন না। তাঁর এই কঠোর অথচ সুবিচারপূর্ণ শাসনব্যবস্থাকে কবি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।
  • অনাড়ম্বর জীবন: অর্ধ-পৃথিবীর সম্রাট হয়েও তাঁর পরিধানে ছিল তালি দেওয়া পোশাক, আর শয্যা ছিল খেজুর পাতার পাটি। রাজভাণ্ডারের সম্পদ তিনি নিজের ভোগের জন্য নয়, প্রজার কল্যাণে ব্যয় করতেন।
  • নবজাগরণের ডাক: কবিতার শেষে কবি বর্তমান যুগের অধঃপতিত, বিলাসী ও দুর্বল মুসলিম সমাজের দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি চেয়েছেন, মুসলিমরা যেন আবার উমর ফারুকের সেই সাম্য, ন্যায়বিচার ও ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পায়।

৬। (ক) ‘বনলতা সেন’ কবিতার ভাব ও কাব্য সৌন্দর্য বিচার কর।

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা ‘বনলতা সেন’। এটি একটি আধুনিক রোমান্টিক গীতি-কবিতা, যার ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে আছে পরাবাস্তব চিত্রকল্প এবং মানুষের চিরন্তন আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা।

  1. মূল ভাব (ক্লান্তি ও আশ্রয়): কবিতার মূল সুর হলো আধুনিক জীবনের অন্তহীন ক্লান্তি এবং প্রশান্তির খোঁজ। কবি নিজেকে এক পথশ্রান্ত পথিক হিসেবে কল্পনা করেছেন, যে হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগর, অশোক-বিম্বিসারের জগত থেকে বিদর্ভ নগর—কোথাও তার শান্তি নেই। এই সীমাহীন ক্লান্তির জীবনে কবি দুই দণ্ড শান্তি পেয়েছিলেন নাটোরের এক কল্পিত নারী ‘বনলতা সেন’-এর কাছে। বনলতা সেন এখানে কেবল রক্তমাংসের নারী নয়, সে হলো শান্তির প্রতীক, এক চিরন্তন আশ্রয়।
  2. চিত্রকল্প ও উপমার অভিনবত্ব: কবিতার কাব্য সৌন্দর্য এর অসাধারণ সব চিত্রকল্পের মধ্যে নিহিত। “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা”, “মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য”, কিংবা “পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন”—এই উপমাগুলো বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন ও জাদুকরী। অতীত ইতিহাসের সাথে রোমান্টিক প্রেমের এমন পরাবাস্তব সংমিশ্রণ জীবনানন্দ ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না।
  3. উপসংহার: দিনের শেষে যেমন সব পাখি নীড়ে ফিরে আসে, সব নদী যেমন মোহনায় মেশে, তেমনি জীবনের সব ক্লান্তি ও হিসেব-নিকেশের শেষে মানুষের প্রয়োজন হয় একটু শান্তির, একটু প্রেমের। ‘বনলতা সেন’ সেই চরম পরম শান্তির এক অনবদ্য কাব্যিক প্রকাশ।

অথবা, (খ) ‘আমার পূর্ব বাংলা’ একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা।— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

সৈয়দ আলী আহসান রচিত ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতাটি স্বদেশপ্রেম, নিসর্গপ্রীতি এবং শেকড়ের প্রতি গভীর টান প্রকাশকারী একটি সার্থক আধুনিক কবিতা। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

  • প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপ: আধুনিক কবিতার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো চিত্রকল্পের ব্যবহার। কবি পূর্ব বাংলাকে কোনো রূঢ় বা শুষ্ক রূপক দিয়ে নয়, বরং ‘একগুচ্ছ স্নিগ্ধ তমাল’, ‘শান্তির প্রতিশ্রুতি’, এবং ‘বটবৃক্ষের ছায়া’র সাথে তুলনা করেছেন। এখানকার নদ-নদী, পলিমাটি, বর্ষার বৃষ্টি এবং সবুজের সমারোহ কবির কবিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
  • সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শেকড়ের টান: কবি শুধু বাহ্যিক প্রকৃতি নয়, পূর্ব বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকের ঘাম, নদীর মাঝি এবং লোকজ ঐতিহ্যকেও তাঁর কাব্যের উপজীব্য করেছেন। এই মাটির প্রতি কবির এক নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, যা আধুনিক মানুষের আত্মপরিচয় খোঁজার তৃষ্ণাকে মেটায়।
  • ভাষিক সৌন্দর্য: কবিতার ভাষা অত্যন্ত সাবলীল, গীতিময় এবং আবেগে পরিপূর্ণ। আধুনিক গদ্য ছন্দের আদলে রচিত হলেও এর অন্তর্নিহিত সুর ও ছন্দ অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। কবি তাঁর স্বদেশকে যেন একজন প্রেমিকার রূপে কল্পনা করেছেন, যাকে ছাড়া তিনি অস্তিত্বহীন। এসব দিক বিচারে এটি একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা।

ঘ বিভাগ — ব্যাকরণ ও নির্মিতি (মান—৫x৪=২০)

৭। যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সবগুলোর উত্তর দেওয়া হলো):

(ক) ভাষা কাকে বলে? সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য লিখ।

ভাষা: মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাক্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাক্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন কোনো বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রযুক্ত শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে।”

সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য:

  1. নিয়মকানুন: সাধু ভাষা ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়ম মেনে চলে, অপরিবর্তনীয়। চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল এবং ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম মানে না।
  2. শব্দ ব্যবহার: সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি। চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি।
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ: সাধু ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: তাহারা, খাইতেছে)। চলিত ভাষায় এগুলোর সংক্ষিপ্ত বা পরিবর্তিত রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: তারা, খাচ্ছে)।
  4. উপযোগিতা: সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, তাই এটি নাটক বা বক্তৃতার জন্য অনুপযোগী। চলিত ভাষা প্রাণবন্ত ও সাবলীল, তাই এটি নাটক, বক্তৃতা ও দৈনন্দিন আলাপের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী।

(খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি): অভাব, প্রতিদিন, দুধভাত, উপজেলা, হাতেখড়ি, গৃহান্তর, সপ্তাহ।

প্রদত্ত শব্দ ব্যাসবাক্য সমাসের নাম
অভাব ভাবের অভাব অব্যয়ীভাব সমাস
প্রতিদিন দিন দিন অব্যয়ীভাব সমাস
দুধভাত দুধ ও ভাত দ্বন্দ্ব সমাস
উপজেলা জেলার সদৃশ অব্যয়ীভাব সমাস
হাতেখড়ি হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
গৃহান্তর অন্য গৃহ নিত্য সমাস
সপ্তাহ সপ্ত অহের সমাহার দ্বিগু সমাস

(গ) প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি): ঢাকাই, দয়ালু, ডুবন্ত, পার্থিব, কুলীন, অনুচর, চৌকিদার।

  • ঢাকাই: ঢাকা (শব্দমূল) + আই (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • দয়ালু: দয়া (শব্দমূল) + আলু (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • ডুবন্ত: √ডুব্ (ধাতুমূল) + অন্ত (কৃৎ প্রত্যয়)
  • পার্থিব: পৃথিবী (শব্দমূল) + ষ্ণ (অ) (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • কুলীন: কুল (শব্দমূল) + ঈন (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • অনুচর: অনু (উপসর্গ) – √চর্ (ধাতুমূল) + অ (কৃৎ প্রত্যয়)
  • চৌকিদার: চৌকি (শব্দমূল) + দার (বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়)

(ঘ) উপসর্গ কাকে বলে? বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা কী?

উপসর্গ: যেসব অব্যয় বা অব্যয়বাচক শব্দাংশ স্বাধীন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, কিন্তু অন্য কোনো ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে, তাদের উপসর্গ বলে। যেমন: ‘কাজ’ এর পূর্বে ‘অ’ যুক্ত হয়ে ‘অকাজ’।

শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা:

উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই (অর্থবাচকতা নেই), কিন্তু এরা অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে (অর্থদ্যোতকতা আছে)। শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা ৫টি:

  1. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে। (যেমন: প্র+হার = প্রহার)
  2. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে। (যেমন: পরি+পূর্ণ = পরিপূর্ণ)
  3. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটায়। (যেমন: সম+তাপ = সন্তাপ)
  4. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটায়। (যেমন: আব+ডাল = আবডাল)
  5. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়। (যেমন: উপ+কথা = উপকথা)

(ঙ) আধুনিক বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ।

বাংলা একাডেমি প্রণীত আধুনিক বাংলা বানানের ৫টি উল্লেখযোগ্য নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

  1. রেফ (র্) এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না: আধুনিক বানানে রেফ এর পর কোনো বর্ণ দুইবার লেখা যাবে না। যেমন: কৰ্ম্ম > কর্ম, সূর্য্য > সূর্য, ধর্ম্ম > ধর্ম।
  2. অতৎসম শব্দে ই-কার বা উ-কার: সকল অতৎসম শব্দে (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে) কেবল ই এবং উ বা এদের কার-চিহ্ন (ি, ু) ব্যবহৃত হবে। যেমন: বাড়ী > বাড়ি, গাড়ী > গাড়ি, চুন > চুন।
  3. আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার: ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে সর্বদা হ্রস্ব-ই কার (ি) হবে। যেমন: সোনালী > সোনালি, রূপালী > রূপালি, বর্ণালী > বর্ণালি।
  4. সন্ধির ক্ষেত্রে অনুস্বার (ং): সন্ধির নিয়মে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ‘ম্’ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে। যেমন: অহম্ + কার = অহংকার, সম্ + গীত = সংগীত।
  5. বিদেশি শব্দে ‘ষ’ ও ‘ণ’ বর্জন: ইংরেজি বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ বা ‘ণ’ ব্যবহৃত হবে না, সর্বদা ‘স’ এবং ‘ন’ হবে। যেমন: পোষ্ট > পোস্ট, মাষ্টার > মাস্টার, হর্ণ > হর্ন, কর্ণেল > কর্নেল।

(চ) ভাব-সম্প্রসারণ লিখ: ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’।

মূলভাব:

প্রকৃত শিক্ষা কোনো প্রতিষ্ঠান বা অন্যের কাছ থেকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মানুষের ভেতরের সুপ্ত জ্ঞান ও প্রতিভাকে নিজের আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় জাগ্রত করার নামই প্রকৃত শিক্ষা, যা আত্মশিক্ষার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব।

সম্প্রসারণ:

মানুষ জন্মগতভাবে অসীম সম্ভাবনার অধিকারী। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় মানুষকে জ্ঞান অর্জনের পথ দেখাতে পারে, তাকে কিছু তথ্য মুখস্থ করাতে পারে, কিন্তু কেউ কাউকে শিক্ষিত করে দিতে পারে না। প্রমথ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, “সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি নিজের চেষ্টায়, নিজের কৌতূহলে এবং নিজের আগ্রহে শেখে না, তাকে দুনিয়ার কোনো শিক্ষক শিক্ষিত করতে পারবেন না। প্রকৃত জ্ঞানার্জন হলো আত্ম-আবিষ্কারের একটি প্রক্রিয়া। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মাক্সিম গোর্কি কিংবা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন—তাঁদের কারোরই তেমন কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিল না। কিন্তু আত্মপ্রচেষ্টা ও স্বশিক্ষার গুণে তাঁরা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের কাতারে আসীন হয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে একটি সার্টিফিকেট দিতে পারে বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, কিন্তু মানুষের আত্মিক মুক্তি বা চেতনার জাগরণ ঘটাতে পারে না, যদি না সে নিজে শিখতে চায়। তাই মানুষের মন যখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানার আগ্রহে উদ্দীপ্ত হয়, তখনই সে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে।

(ছ) যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি পত্র লিখ।

তারিখ: ১০ জুন, ২০২৬
বরাবর,
সম্পাদক
দৈনিক ইত্তেফাক
কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের আবেদন।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ কলামে জনগুরুত্বপূর্ণ নিচের পত্রটি প্রকাশ করে বাধিত করবেন।

নিবেদক,
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মিরপুর, ঢাকা।


যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণসচেতনতা অপরিহার্য

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে যৌন হয়রানি বা ইভটিজিং একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারীরা পর্যন্ত রাস্তাঘাটে, বাসে-ট্রেনে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত বখাটেদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় এই হয়রানির মাত্রা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আত্মসম্মান বাঁচাতে অনেক নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

কেবলমাত্র কঠোর আইন প্রণয়ন করে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক গণসচেতনতা। পরিবারের উচিত সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা। পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে কেউ এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখালে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা যায়। নারীদেরও সাহসী হতে হবে এবং হয়রানির শিকার হলে লুকিয়ে না রেখে প্রতিবাদ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে আরও জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এক হয়ে এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। একটি সুস্থ ও নারীবান্ধব সমাজ গঠনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সকলের কার্যকর ভূমিকা কাম্য।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
শিক্ষার্থী, ঢাকা।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now