Ilmul Balaghah (ইলমুল বালাগাহ) 201206 – Fazil Hons Al Quran 2nd Year 2022 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
ilmul balaghah 201206 fazil hons al quran 2nd year 2022 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

Ilmul Balaghah (Code: 201206) – ২০২২ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের علم البلاغة (ইলমুল বালাগাহ বা অলংকার শাস্ত্র) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের ক ও খ উভয় বিভাগের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।

مجموعة (الف) – ক-বিভাগ [যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

١- عرّف الفصاحة- ثم اكتب أقسامها مفصلا ومثلا-

[فصاحة এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ বিস্তারিত লেখ।]

১. الفصاحة (ফাসাহাত) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: الفصاحة শব্দের অর্থ হলো- স্পষ্ট হওয়া (البيان), প্রকাশ পাওয়া (الظهور), প্রাঞ্জল হওয়া ইত্যাদি। যেমন বলা হয়- أَفْصَحَ الصُّبْحُ (ভোর স্পষ্ট হয়েছে)।
পারিভাষিক অর্থ: ইলমুল বালাগাহ এর পরিভাষায়, শব্দ বা বাক্য শ্রুতিমধুর হওয়া, উচ্চারণ সহজ হওয়া এবং অর্থ সুস্পষ্ট ও ব্যাকরণসম্মত হওয়াকে الفصاحة বা প্রাঞ্জলতা বলে।

২. الفصاحة এর প্রকারভেদ (أقسامها):
ফাসাহাত মূলত তিনটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। যথা: শব্দ (الكلمة), বাক্য (الكلام) এবং বক্তা (المتكلم)। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ক. فصاحة الكلمة (শব্দের ফাসাহাত):
একটি শব্দ (الكلمة) ফাসিহ বা প্রাঞ্জল হতে হলে তাকে তিনটি ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে:
* تنافر الحروف (অক্ষরের শ্রুতিকটুতা): শব্দটিতে এমন অক্ষর থাকা যাবে না যা উচ্চারণ করা কঠিন। যেমন- الهُعْخُع (একটি বিশেষ ঘাস), مُسْتَشْزَرَات (উঁচু)।
* غرابة الاستعمال (অপ্রচলিত ব্যবহার): শব্দটি এমন দুর্লভ বা অপ্রচলিত হওয়া যাবে না যার অর্থ অভিধান ছাড়া বোঝা যায় না। যেমন- تَكَأْكَأْتُمْ (তোমরা জমায়েত হয়েছ), اِفْرَنْقَعُوْا (তোমরা সরে যাও)।
* مخالفة القياس (ব্যাকরণবিরোধী হওয়া): শব্দটি আরবি ব্যাকরণের সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী হওয়া যাবে না। যেমন- الأَجْلَلُ বলা (সঠিক রূপ হবে الأَجَلُّ)।

খ. فصاحة الكلام (বাক্যের ফাসাহাত):
একটি বাক্য (الكلام) ফাসিহ হতে হলে এর প্রতিটি শব্দ ফাসিহ হওয়ার পাশাপাশি বাক্যটিকে তিনটি ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে:
* تنافر الكلمات (শব্দের শ্রুতিকটুতা): পাশাপাশি ব্যবহৃত শব্দগুলো একত্রে উচ্চারণ করা কঠিন হওয়া যাবে না। যেমন- وَقَبْرُ حَرْبٍ بِمَكَانٍ قَفْرٍ – وَلَيْسَ قُرْبَ قَبْرِ حَرْبٍ قَبْرٌ।
* ضعف التأليف (দুর্বল গঠন): বাক্যটি ব্যাকরণের নিয়মের পরিপন্থী হওয়া যাবে না। যেমন- সর্বনাম (ضَمِير) কে তার مرجع এর পূর্বে ব্যবহার করা।
* التعقيد (অর্থগত বা শব্দগত অস্পষ্টতা): বাক্যের শব্দবিন্যাস বা অর্থের কারণে উদ্দিষ্ট অর্থ বোঝা কঠিন হওয়া যাবে না।

গ. فصاحة المتكلم (বক্তার ফাসাহাত):
এটি বক্তার এমন একটি গুণ বা যোগ্যতা (مَلَكَة), যার মাধ্যমে সে যেকোনো উদ্দেশ্যকে প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।

٢- ما معنى الخبر لغة واصطلاحا؟ ثم بيّن أضرب الخبر باعتبار المخاطب بالتمثيل-

[خبر এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? অতঃপর المخاطب এর বিবেচনায় خبر এর প্রকারসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. الخبر (খবর) এর অর্থ:
আভিধানিক অর্থ: সংবাদ, বার্তা, তথ্য (النبأ)।
পারিভাষিক অর্থ: ইলমুল মাআনি এর পরিভাষায়- “الخبر ما يصح أن يقال لقائله إنه صادق فيه أو كاذب” অর্থাৎ, খবর হলো এমন বাক্য, যার বক্তাকে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায়। বাক্যটি যদি বাস্তবের সাথে মিলে যায় তবে তা সত্য, আর না মিললে তা মিথ্যা। যেমন- محمَّدٌ قَادِمٌ (মুহাম্মদ আসছে)।

২. مخاطب (শ্রোতা) এর বিবেচনায় الخبر এর প্রকারভেদ (أضرب الخبر باعتبار المخاطب):
শ্রোতার মানসিক অবস্থা এবং সংবাদটি গ্রহণ করার প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে খবর প্রদান করার ধরনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোকে ‘খবর এর প্রকার’ (أضرب الخبر) বলা হয়:

ক. إبتدائى (ইবতিদায়ী – প্রারম্ভিক):
শ্রোতার মন যদি সংবাদটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ খালি (خالي الذهن) বা অজ্ঞ থাকে এবং তার মনে কোনো সন্দেহ বা অস্বীকৃতি না থাকে, তবে তাকে কোনোপ্রকার তাকিদ (দৃঢ়তাসূচক শব্দ) ছাড়াই সাধারণ বাক্য দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয়। একে ‘খবরে ইবতিদায়ী’ বলে।
উদাহরণ: أَخُوْكَ قَادِمٌ (তোমার ভাই আসছে)। এখানে শ্রোতা আগে থেকে কিছু জানত না, তাই কোনো তাকিদ ব্যবহার করা হয়নি।

খ. طلبى (তলাবী – প্রত্যাশিত):
শ্রোতা যদি সংবাদটি সম্পর্কে সন্দিহান (متردد) থাকে এবং সত্যতা জানার জন্য আগ্রহী (طالب) হয়, তবে তার সন্দেহ দূর করার জন্য বাক্যে একটি তাকিদ বা দৃঢ়তাসূচক শব্দ (যেমন: إن, قد, لام التوكيد) ব্যবহার করে সংবাদ দেওয়া উত্তম। একে ‘খবরে তলাবী’ বলে।
উদাহরণ: إِنَّ أَخَاكَ قَادِمٌ (নিশ্চয়ই তোমার ভাই আসছে)। এখানে ‘إنَّ’ দিয়ে একটি তাকিদ করা হয়েছে।

গ. إنكارى (ইনকারী – অস্বীকৃতিমূলক):
শ্রোতা যদি সংবাদটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকারকারী (منكر) হয়, তবে তার অস্বীকৃতির মাত্রা অনুযায়ী বাক্যে একাধিক (দুটি বা তিনটি) তাকিদ ব্যবহার করে সংবাদ প্রদান করা ওয়াজিব। একে ‘খবরে ইনকারী’ বলে।
উদাহরণ: وَاللّٰهِ إِنَّ أَخَاكَ لَقَادِمٌ (আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তোমার ভাই অবশ্যই আসছে)। এখানে কসম, إِنَّ এবং لَ (লামে তাকিদ) – এই তিনটি তাকিদ ব্যবহার করা হয়েছে।

٣- عرف النهي- وكم صيغة له؟ ثم تحدث عن المعاني التي يدل عليها النهي-

[النهي এর পরিচয় দাও। আর এর সীগাহ কয়টি? অতঃপর النهي যে সব অর্থে ব্যবহৃত হয় তা আলোচনা কর।]

১. النهي (নাহি বা নিষেধ) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: নিষেধ করা, বারণ করা বা বাধা দেওয়া।
পারিভাষিক অর্থ: ইলমুল মাআনি এর পরিভাষায়, النهي هو طلب الكف عن الفعل على وجه الاستعلاء অর্থাৎ, আদেশকারীর নিজেকে বড় মনে করে (الاستعلاء) অন্য কাউকে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করাকেই النهي (নিষেধ) বলা হয়।

২. النهي এর সীগাহ বা রূপ (صيغة النهي):
নাহি বা নিষেধজ্ঞাপক বাক্যের মূল কাঠামো বা সীগাহ মাত্র একটি। আর তা হলো- المُضَارِعُ المَقْرُوْنُ بِـ(لاَ) النَّاهِيَةِ অর্থাৎ, মুযারি বা ভবিষ্যৎবাচক ক্রিয়ার শুরুতে (لا) আন-নাহিয়াহ যুক্ত করে ব্যবহার করা। যেমন: لَا تَفْعَلْ (তুমি করো না), لَا تُشْرِكْ بِاللّٰهِ (তুমি আল্লাহর সাথে শরিক করো না)।

৩. النهي যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয় (المعاني التي يدل عليها النهي):
নাহি এর আসল অর্থ হলো ‘নিষেধ করা’। কিন্তু অনেক সময় পূর্বাপর অর্থ বা প্রসঙ্গের (سياق الكلام) কারণে নাহি এর সীগাহ ব্যবহার করে নিষেধ না বুঝিয়ে অন্যান্য আলংকারিক অর্থ (معاني مجازية) প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • الدعاء (প্রার্থনা): ছোট থেকে বড়র প্রতি হলে। যেমন- رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا (হে আমাদের প্রভু, আমাদের পাকড়াও করবেন না)।
  • الالتماس (অনুরোধ): সমবয়সী বা সমমর্যাদাসম্পন্ন কারো প্রতি হলে। যেমন- يَا أَخِي لَا تَتَأَخَّرْ (হে আমার ভাই, দেরি কোরো না)।
  • التمني (আকাঙ্ক্ষা): জড় পদার্থ বা অসম্ভব কিছু কামনা করার ক্ষেত্রে। যেমন- يَا لَيْلُ لَا تَنْجَلِي (হে রাত! তুমি শেষ হয়ে যেয়ো না)।
  • الإرشاد (পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা): যেমন- لَا تَسْأَلُوْا عَنْ أَشْيَاءَ (তোমরা এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন কোরো না…)।
  • التوبيخ (তিরস্কার করা): যেমন- لَا تَنْهَ عَنْ خُلُقٍ وَتَأْتِيَ مِثْلَهُ (তুমি অন্যকে কোনো মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে নিজে আবার সেই কাজ কোরো না)।
  • التيئيس (নিরাশ করা): যেমন- لَا تَعْتَذِرُوا الْيَوْمَ (আজ আর তোমরা অজুহাত দেখিও না)।

٤- ما هو القصر؟ ثم بيّن أقسامه بالأمثلة-

[قصر কাকে বলে? অতঃপর এর প্রকারসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. القصر (কসর) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: القصر শব্দের অর্থ হলো الحبس (আটকে রাখা বা সীমাবদ্ধ করা)।
পারিভাষিক অর্থ: ইলমুল বালাগাহ এর পরিভাষায়- “تخصيص أمر بأمر بطريق مخصوص” অর্থাৎ, বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে একটি বিষয়কে অন্য আরেকটি বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করে দেওয়াকে القصر (কসর) বলা হয়। যেমন: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)। এখানে ‘ইলাহ’ বা মাবুদ হওয়াকে কেবল ‘আল্লাহ’ এর জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

কসর এর বাক্যে দুটি প্রধান অংশ থাকে: مقصور (যাকে সীমাবদ্ধ করা হয়) এবং مقصور عليه (যার জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়)।

২. القصر এর প্রকারভেদ (أقسامه):
বাস্তবতার নিরিখে (حسب الواقع) কসর প্রধানত দুই প্রকার। যথা:

ক. قصر حقيقى (প্রকৃত সীমাবদ্ধতা):
যে কসরের ক্ষেত্রে المقصور (বিষয়টি) المقصور عليه (ব্যক্তি বা বস্তুর) জন্য বাস্তবিকভাবেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তা অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া অসম্ভব, তাকে কসরে হাকীকী বলে।
উদাহরণ: لَا خَالِقَ إِلَّا اللّٰهُ (আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই)। এখানে স্রষ্টা হওয়ার গুণটি প্রকৃত অর্থেই শুধু আল্লাহর জন্যই সীমাবদ্ধ।

খ. قصر إضافى (আপেক্ষিক সীমাবদ্ধতা):
যে কসরের ক্ষেত্রে একটি বিষয়কে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর তুলনায় আপেক্ষিকভাবে নির্দিষ্ট করা হয়, কিন্তু বাস্তবে তা অন্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, তাকে কসরে ইযাফী বলে।
উদাহরণ: مَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُوْلٌ (মুহাম্মদ সা. কেবল একজন রাসুল)। এখানে রাসুল হওয়াকে আপেক্ষিকভাবে বোঝানো হয়েছে (যাতে বোঝা যায় তিনি অমর নন), এর মানে এই নয় যে পৃথিবীতে তিনি ছাড়া অন্য কোনো রাসুল নেই।

পদবিন্যাস অনুযায়ী القصر এর আরও দুই প্রকার রয়েছে:
১. قصر الصفة على الموصوف: গুণের সীমাবদ্ধতা। যেমন- لَا كَاتِبَ إِلَّا عَلِيٌّ (আলী ছাড়া কোনো লেখক নেই)।
২. قصر الموصوف على الصفة: গুণীর সীমাবদ্ধতা। যেমন- مَا عَلِيٌّ إِلَّا كَاتِبٌ (আলী একজন লেখক ছাড়া আর কিছুই নয়)।

٥- عرف الحقيقة والمجاز مع بيان أقسامها بالأمثلة-

[المجاز ও الحقيقة এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

১. الحقيقة (হাকিকাহ) এর পরিচয় ও প্রকারভেদ:
সংজ্ঞা: আভিধানিক বা মূল অর্থের জায়গায় শব্দটি ব্যবহার করাকে الحقيقة (প্রকৃত অর্থ) বলে। পরিভাষায়: هي الكلمة المستعملة فيما وضعت له অর্থাৎ, যে অর্থের জন্য শব্দটি প্রাথমিকভাবে গঠন করা হয়েছে, সেই মূল অর্থেই শব্দটিকে ব্যবহার করা।
প্রকারভেদ: হাকিকাহ প্রধানত তিন প্রকার:
* حقيقة لغوية (আভিধানিক হাকিকাহ): শব্দটিকে তার আভিধানিক অর্থে ব্যবহার করা। যেমন- رأيت أسداً (আমি একটি সিংহ দেখেছি)। এখানে ‘সিংহ’ বলতে বনের পশুকেই বোঝানো হয়েছে।
* حقيقة شرعية (শরয়ি হাকিকাহ): শব্দটিকে ইসলামি শরিয়তের নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহার করা। যেমন- ‘সালাত’ (الصلاة) শব্দটি আভিধানিক অর্থে ‘দোয়া’, কিন্তু শরিয়তে এটি ‘রুকু-সিজদাহ বিশিষ্ট ইবাদত’।
* حقيقة عرفية (প্রচলিত হাকিকাহ): শব্দটিকে সমাজের প্রচলিত অর্থে ব্যবহার করা। যেমন- ‘দাব্বাহ’ (دابة) অর্থ যেকোনো চলমান প্রাণী, কিন্তু প্রচলিত অর্থে এটি ‘চারপেয়ে জন্তু’ (যেমন ঘোড়া বা গাধা)।

২. المجاز (মাজায) এর পরিচয় ও প্রকারভেদ:
সংজ্ঞা: المجاز শব্দটি جَازَ থেকে নির্গত, যার অর্থ অতিক্রম করা। পরিভাষায়: هي الكلمة المستعملة في غير ما وضعت له لعلاقة مع قرينة مانعة عن إرادة المعنى الأصلي অর্থাৎ, মূল অর্থ উদ্দেশ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা (قرينة) থাকার কারণে, শব্দটিকে তার মূল অর্থের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক অর্থে (علاقة) ব্যবহার করাকে المجاز (রূপক অর্থ) বলে।
প্রকারভেদ: মাজায প্রধানত দুই প্রকার:
* مجاز لغوي (আভিধানিক মাজায): এটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: الاستعارة (যেখানে মূল অর্থ ও রূপক অর্থের মাঝে সাদৃশ্যের সম্পর্ক থাকে) এবং المجاز المرسل (যেখানে সাদৃশ্য ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক থাকে, যেমন- অংশ বুঝিয়ে পূর্ণাঙ্গ বোঝানো)।
* مجاز عقلي (যৌক্তিক মাজায): যেখানে ক্রিয়াটিকে তার প্রকৃত কর্তার দিকে নিসবত না করে প্রাসঙ্গিক অন্য কিছুর (যেমন- সময়, স্থান বা কারণ) দিকে নিসবত করা হয়। যেমন- بَنَى الْأَمِيْرُ الْمَدِيْنَةَ (বাদশাহ শহর বানিয়েছেন)। বাস্তবে বাদশাহ নিজের হাতে বানাননি, শ্রমিকরা বানিয়েছে, কিন্তু নির্দেশদাতা হিসেবে বাদশাহর দিকে মাজাযি নিসবত করা হয়েছে।

٦- ما الإستعارة؟ وكم قسما لها؟ بيّن كل قسم بالأمثلة-

[الإستعارة কাকে বলে? এটি কত প্রকার? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের বিবরণ দাও।]

১. الإستعارة (ইস্তিআরাহ) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: ধার নেওয়া (طلب العارية)।
পারিভাষিক অর্থ: الاستعارة مجاز لغوي علاقته المشابهة অর্থাৎ, ইস্তিআরাহ হলো এক ধরনের আভিধানিক মাজায (রূপক ব্যবহার), যেখানে মূল অর্থ ও ব্যবহৃত অর্থের মাঝে المشابهة বা সাদৃশ্যের সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। সহজ কথায়, এটি হলো এমন একটি উপমা (تشبيه), যার একটি অংশ (উপমেয় বা উপমান) কে বাক্য থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
উদাহরণ: رَأَيْتُ أَسَدًا فِي الْمَدْرَسَةِ (আমি মাদরাসায় একটি সিংহ দেখেছি)। এখানে ‘সিংহ’ বলতে একজন ‘সাহসী ছাত্র’ বোঝানো হয়েছে। ছাত্রের সাহসিকতার সাথে সিংহের সাদৃশ্য থাকার কারণে ‘সিংহ’ শব্দটি ধার নেওয়া হয়েছে।

২. الإستعارة এর প্রকারভেদ (أقسامها):
المستعار له (যাকে উপমা দেওয়া হয়) এবং المستعار منه (যার সাথে উপমা দেওয়া হয়) এর উপস্থিতির ভিত্তিতে ইস্তিআরাহ প্রধানত দুই প্রকার:

ক. الاستعارة التصريحية (স্পষ্ট ইস্তিআরাহ):
যে বাক্যে المستعار منه বা উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে) শব্দটিকে সরাসরি উল্লেখ (تصريح) করা হয় এবং المستعار له বা উপমেয় (যাকে তুলনা করা হয়েছে) কে বিলুপ্ত করা হয়, তাকে الاستعارة التصريحية বলে।
উদাহরণ: كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ (আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন)।
এখানে ‘অন্ধকার’ (الظلمات) বলে ‘কুফর’ এবং ‘আলো’ (النور) বলে ‘ঈমান’ বোঝানো হয়েছে। এখানে উপমান (অন্ধকার ও আলো) সরাসরি উল্লেখ থাকায় এটি التصريحية।

খ. الاستعارة المكنية (লুক্কায়িত ইস্তিআরাহ):
যে বাক্যে المستعار منه বা উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে) কে বিলুপ্ত বা গোপন রাখা হয়, কিন্তু উপমানের কোনো একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়, তাকে الاستعارة المكنية বলে।
উদাহরণ: وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ (পিতামাতার জন্য তুমি তোমার রহমতের ডানা অবনমিত করে দাও)।
এখানে ‘ذل’ (নম্রতা) কে এমন একটি পাখির সাথে তুলনা করা হয়েছে যার ডানা আছে। কিন্তু পাখি (المستعار منه) শব্দটি বাক্যে নেই, বরং তার একটি বৈশিষ্ট্য ‘جناح’ (ডানা) উল্লেখ করে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই এটি المكنية।

٧- عرّف الوصل والفصل مع بيان مواضعهما بالتمثيل-

[الفصل ও الوصل এর সংজ্ঞা দাও এবং উভয়ের স্থানসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. الوصل والفصل এর পরিচয়:
الوصل (ওয়াসল): الوصل هو عطف جملة على أخرى بالواو অর্থাৎ, দুটি বাক্যের মাঝখানে সংযোজক অব্যয় ‘و’ (ওয়াও বা এবং) ব্যবহার করে একটি বাক্যকে অন্য বাক্যের সাথে যুক্ত করাকে ‘ওয়াসল’ বলে।
الفصل (ফাসল): الفصل هو ترك العطف بالواو بين الجملتين অর্থাৎ, দুটি বাক্যের মাঝখানে সংযোজক অব্যয় ‘و’ ব্যবহার না করে বাক্য দুটিকে আলাদা রাখাকে ‘ফাসল’ বলে।

২. الوصل এর স্থানসমূহ (مواضع الوصل):
প্রধানত তিনটি স্থানে দুটি বাক্যের মাঝে ‘و’ দিয়ে الوصل করা ওয়াজিব:
* اتفاق الجملتين خبرا أو إنشاء: যখন দুটি বাক্যই খবর বা দুটি বাক্যই ইনশা (আদেশ/নিষেধ) হয় এবং তাদের মাঝে অর্থের গভীর সম্পর্ক থাকে। যেমন- إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ وإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ (নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা জান্নাতে থাকবে এবং পাপীরা জাহান্নামে থাকবে)।
* دفع الإيهام (ভুল ধারণা দূর করা): যখন ‘و’ ছাড়া বাক্য বললে শ্রোতা ভুল অর্থ বুঝতে পারে। যেমন কেউ বলল, “আপনি কি সুস্থ হয়েছেন?” উত্তরে বলা- لَا، وَشَفَاكَ اللّٰهُ (না, এবং আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন)। এখানে ‘و’ না দিলে অর্থ দাঁড়াত ‘না আল্লাহ আপনাকে সুস্থ না রাখুন’, যা একটি বদদোয়া হয়ে যেত।
* اختلاف الجملتين خبرا وإنشاء مع الإيهام: বাক্য দুটির একটি খবর এবং অন্যটি ইনশা হওয়া, যেখানে الفصل করলে অর্থের বিকৃতি ঘটতে পারে।

৩. الفصل এর স্থানসমূহ (مواضع الفصل):
নিম্নোক্ত স্থানগুলোতে দুটি বাক্যের মাঝে ‘و’ ব্যবহার না করে الفصل করা ওয়াজিব:
* كمال الاتصال (সম্পূর্ণ সংযোগ): যখন দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথম বাক্যের তাকিদ (দৃঢ়তা) বা তাফসির (ব্যাখ্যা) হিসেবে আসে। যেমন- ذٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ (এই কিতাব এতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক)।
* كمال الانقطاع (সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ): যখন দুটি বাক্যের একটি খবর এবং অন্যটি ইনশা হয়, অথবা উভয়ের মাঝে কোনো অর্থগত সম্পর্ক না থাকে। যেমন- حَضَرَ زَيْدٌ، لَا تَتَكَلَّمْ (জায়েদ উপস্থিত হয়েছে, তুমি কথা বোলো না)।
* شبه كمال الاتصال (আংশিক সংযোগ): যখন দ্বিতীয় বাক্যটি এমন হয় যেন তা প্রথম বাক্যের ফলে সৃষ্ট কোনো উহ্য প্রশ্নের উত্তর। যেমন- وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ (আর আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না; নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়)।

٨- ما معنى الإيجاز والمساواة والإطناب؟ ثم بيّن أقسام الإيجاز مفصلا-

[إيجاز, مساواة ও إطناب এর অর্থ কী? অতঃপর إيجاز এর প্রকারগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

১. الإيجاز, المساواة ও الإطناب এর অর্থ:
বক্তার মনের ভাব প্রকাশ করার সময় শব্দের আধিক্য বা স্বল্পতার ওপর ভিত্তি করে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
* المساواة (মুসাওয়াত – সমতা): تأدية المعنى المراد بعبارة مساوية له অর্থাৎ, মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য ঠিক যতটুকু শব্দ প্রয়োজন, ততটুকু শব্দই ব্যবহার করা। শব্দ ও অর্থ সমান সমান হওয়া।
* الإيجاز (ঈজায – সংক্ষেপণ): أداء المعنى الكثير باللفظ القليل অর্থাৎ, অল্প শব্দ ব্যবহার করে অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর অর্থ প্রকাশ করা (তবে শর্ত হলো অর্থের কোনো অস্পষ্টতা থাকতে পারবে না)।
* الإطناب (ইতনাব – সম্প্রসারণ): زيادة اللفظ على المعنى لفائدة অর্থাৎ, কোনো বিশেষ আলংকারিক উদ্দেশ্যে বা বিষয়টিকে শ্রোতার কাছে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শব্দ ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করা।

২. الإيجاز এর প্রকারভেদ (أقسام الإيجاز):
সংক্ষেপণ বা الإيجاز প্রধানত দুই প্রকার। যথা:

ক. إيجاز القِصَر (শব্দ সংক্ষেপণ):
যেখানে বাক্য থেকে কোনো শব্দ বিলুপ্ত (حذف) করা হয় না, বরং এমন কিছু বাছাইকৃত শব্দ ব্যবহার করা হয়, যা আকারে ছোট কিন্তু তার ভেতরে অনেক বিশাল অর্থ নিহিত থাকে।
উদাহরণ: আল্লাহ তায়ালার বাণী- وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ (আর কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে)। বাক্যটি খুবই ছোট, কিন্তু এর অর্থ ব্যাপক—অর্থাৎ, একজন খুনিকে যখন কিসাস হিসেবে হত্যা করা হবে, তখন অন্যরা ভয় পাবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।

খ. إيجاز الحذف (বিলুপ্তির মাধ্যমে সংক্ষেপণ):
যেখানে বাক্যের একটি শব্দ, বাক্যাংশ বা সম্পূর্ণ একটি বাক্যকে বিলুপ্ত (حذف) করে বাক্যকে সংক্ষিপ্ত করা হয়। তবে বিলুপ্ত অংশটি বোঝার জন্য বাক্যে কোনো ইঙ্গিত (قرينة) থাকতে হবে। এটি চারভাবে হতে পারে:
* অক্ষর বিলুপ্ত করা: যেমন- وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا (এখানে أكن থেকে নুন حذف করা হয়েছে)।
* শব্দ বিলুপ্ত করা: যেমন- وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ (গ্রামকে জিজ্ঞাসা করুন)। এখানে আসলে ‘أهل القرية’ (গ্রামবাসীকে) বোঝানো হয়েছে, أهل শব্দটি বিলুপ্ত।
* বাক্যাংশ বিলুপ্ত করা: যেমন- فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ (যদি কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনে রোজা রাখবে)। এখানে فليُفطر (তবে সে যেন রোজা ভাঙে) অংশটি বিলুপ্ত।
* সম্পূর্ণ বাক্য বিলুপ্ত করা: যেমন ইউসুফ (আ.) এর কাহিনীর ক্ষেত্রে- فَأَرْسِلُونِ ۝ يُوسُفُ أَيُّهَا الصِّدِّيقُ (অতএব আমাকে পাঠাও। হে ইউসুফ, হে সত্যবাদী…)। এখানে “তারা তাকে কারাগারে পাঠাল, এবং সে ইউসুফের কাছে গিয়ে বলল” – এই মাঝখানের পুরো বাক্যগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে সংক্ষেপণের জন্য।

مجموعة (ب) – খ-বিভাগ [যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

٩- عرّف البلاغة- ثم اكتب أقسامها بالتمثيل-

[البلاغة এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ লেখ।]

১. البلاغة (বালাগাহ) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: পৌঁছানো, সমাপ্তি, প্রভাব বিস্তার করা বা মননশীলতা।
পারিভাষিক অর্থ: ইলমুল বালাগাহ এর পরিভাষায়- مطابقة الكلام لمقتضى الحال مع فصاحته অর্থাৎ, বাক্যটি ফাসিহ (প্রাঞ্জল ও ত্রুটিমুক্ত) হওয়ার পাশাপাশি, স্থান, কাল, পাত্র এবং শ্রোতার অবস্থা (مقتضى الحال) অনুযায়ী যথাযথ ও উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করাকেই البلاغة (অলংকার) বলে।

২. البلاغة এর প্রকারভেদ:
বালাগাহ দুটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত: الكلام (বাক্য) এবং المتكلم (বক্তা)।
* بلاغة الكلام (বাক্যের বালাগাহ): বাক্যটি ফাসিহ হওয়ার সাথে সাথে শ্রোতার মানসিক অবস্থা অনুযায়ী হওয়া। যেমন, শ্রোতা অস্বীকারকারী হলে তাকিদ সহকারে বাক্য বলা (والله إن زيدا قائم)।
* بلاغة المتكلم (বক্তার বালাগাহ): এটি বক্তার এমন একটি অন্তর্নিহিত যোগ্যতা (ملكة), যার মাধ্যমে সে যেকোনো পরিস্থিতিতে উপযুক্ত ও প্রভাব বিস্তারকারী বাক্য রচনা করতে পারে।

١٠- اكتب أسباب حذف المسند إليه وذكره-

[المسند إليه কে বিলুপ্ত ও উল্লেখ করার কারণগুলো লিপিবদ্ধ কর।]

المسند إليه কে حذف (বিলুপ্ত) করার কারণসমূহ:
১. صيانة لسان المتكلم (বক্তার জিহ্বাকে পবিত্র রাখা): যখন মুসনাদ ইলাইহি এতটাই ঘৃণিত হয় যে তার নাম মুখে নিতে বক্তা অপছন্দ করে।
২. تعظيم المسند إليه (সম্মান প্রদর্শন): যখন মুসনাদ ইলাইহি এতটাই সম্মানিত হয় যে তাকে বাক্যের শুরুতে উল্লেখ করা শিষ্টাচার পরিপন্থী মনে হয়।
৩. إخفاء الأمر (গোপনীয়তা রক্ষা): উপস্থিত অন্যদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য।
৪. ضيق المقام (সময়ের স্বল্পতা): বিপদের সময় দ্রুত কথা বলার জন্য নাম উচ্চারণ না করা।

المسند إليه কে ذكر (উল্লেখ) করার কারণসমূহ:
১. زيادة التقرير والإيضاح (অধিক স্পষ্টতা): বিষয়টি শ্রোতার মনে ভালোভাবে গেঁথে দেওয়ার জন্য।
২. التلذذ بذكر اسمه (নাম উচ্চারণে আনন্দ লাভ): যেমন প্রিয়জনের নাম বারবার উল্লেখ করা।
৩. التعظيم (সম্মান প্রদর্শন): নাম উল্লেখের মাধ্যমে সম্মান জানানো।
৪. التحقير (তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা): নাম উল্লেখ করে অপমান করা।

١١- بيّن دواعى التقديم بالأمثلة-

[التقديم এর কারণসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

التقديم (বাক্যের কোনো অংশকে পূর্বে নিয়ে আসা) এর কারণসমূহ:
আরবি ভাষায় সাধারণত ক্রিয়া (فعل) আগে এবং কর্তা (فاعل) বা কর্ম (مفعول) পরে বসে। কিন্তু বিশেষ কোনো আলংকারিক উদ্দেশ্যে কোনো অংশকে পূর্বে আনা হলে তাকে ‘তাকদীম’ বলে। এর কারণগুলো হলো:
১. التشويق (আগ্রহ সৃষ্টি করা): বাক্যের শেষে কী বলা হবে সে সম্পর্কে শ্রোতার মনে কৌতূহল সৃষ্টি করার জন্য। যেমন- ثَلَاثَةٌ تَشْقَى بِهَا الدَّارُ… (তিনটি বিষয় ঘরকে ধ্বংস করে…)।
২. تعجيل المسرة (দ্রুত সুসংবাদ দেওয়া): যেমন- العفوُ عنك صدر (তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে)। এখানে ক্ষমার কথা আগে এনে আনন্দ দেওয়া হয়েছে।
৩. تعجيل المساءة (দ্রুত দুঃসংবাদ দেওয়া): যেমন- القصاصُ حكم به القاضي (কিসাসের রায় বিচারক দিয়েছেন)।
৪. التخصيص (নির্দিষ্ট করা): কেবল তারই জন্য নির্দিষ্ট বোঝাতে। যেমন- إِيَّاكَ نَعْبُدُ (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি)। এখানে مفعول به কে আগে এনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

١٢- اذكر أغراض التقييد بالشرط بالتمثيل-

[شرط দ্বারা تقييد করার উদ্দেশ্যগুলো উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]

شرط দ্বারা التقييد (শর্তযুক্ত করার) উদ্দেশ্যসমূহ:
আরবিতে বাক্যের অর্থকে নির্দিষ্ট বা সীমিত করার জন্য বিভিন্ন অব্যয় ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে إن, إذا এবং لو এই তিনটি অব্যয় দিয়ে শর্তযুক্ত করা হয়। এদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১. (إن) এর ব্যবহার: যে শর্তটি পূরণ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ (شك) থাকে অথবা যা হওয়া বিরল, সেখানে إن ব্যবহৃত হয়। যেমন- إِنْ جَاءَ زَيْدٌ أَكْرَمْتُهُ (যদি জায়েদ আসে, তবে আমি তাকে সম্মান করব)।
২. (إذا) এর ব্যবহার: যে শর্তটি পূরণ হওয়া সুনিশ্চিত (مقطوع به) বা যা সচরাচর ঘটে থাকে, সেখানে إذا ব্যবহৃত হয়। যেমন- إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَالْفَتْحُ (যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে)।
৩. (لو) এর ব্যবহার: অতীতে কোনো শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণে মূল কাজটিও সংঘটিত হয়নি (امتناع لامتناع), তা বোঝাতে لو ব্যবহৃত হয়। যেমন- لَوْ كَانَ فِيْهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللّٰهُ لَفَسَدَتَا (যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ থাকত, তবে উভয়টি ধ্বংস হয়ে যেত)।

١٣- ما المحسنات المعنوية؟ بيّن بالأمثلة-

[المحسنات المعنوية কী? উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

المحسنات المعنوية এর পরিচয়:
‘মুহাসসিনাত আল-মানাবিয়্যাহ’ ইলমুল বাদী (علم البديع) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর অর্থ হলো অর্থগত সৌন্দর্য। যে অলংকারের মাধ্যমে বাক্যের শব্দের চেয়ে বাক্যের অন্তর্নিহিত ‘অর্থের’ সৌন্দর্য ও চমৎকারিত্ব বৃদ্ধি পায়, তাকে المحسنات المعنوية বলা হয়।

এর উল্লেখযোগ্য প্রকার ও উদাহরণ:
* الطباق (বিপরীতার্থক শব্দ ব্যবহার): একই বাক্যে দুটি পরস্পর বিপরীত অর্থের শব্দ ব্যবহার করা। যেমন- وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ (তুমি তাদের জাগ্রত মনে করবে, অথচ তারা ঘুমন্ত)।
* المقابلة (বিপরীতার্থক বাক্যাংশ ব্যবহার): দুই বা ততোধিক শব্দের বিপরীতে ক্রমান্বয়ে বিপরীতার্থক শব্দ ব্যবহার করা। যেমন- فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا (তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে)।
* التورية (দ্ব্যর্থবোধক শব্দ): এমন শব্দ ব্যবহার করা যার দুটি অর্থ থাকে, একটি নিকটবর্তী (সহজ) এবং অন্যটি দূরবর্তী। বক্তার উদ্দেশ্য থাকে দূরবর্তী অর্থটি। যেমন- الرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى (এখানে استوى এর সাধারণ অর্থ বসা, কিন্তু দূরবর্তী অর্থ ক্ষমতা বা আধিপত্য বিস্তার করা)।

١٤- ما الإستفهام؟ تحدث عن أغراضه بالأمثلة-

[إستفهام কী? এর উদ্দেশ্যবলি উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

الإستفهام (ইস্তিফহাম) এর পরিচয়:
ইস্তিফহাম অর্থ হলো প্রশ্ন করা বা জিজ্ঞাসা করা (طلب الفهم)। পরিভাষায়: অজ্ঞাত কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্নবোধক অব্যয় (যেমন: هل, أ, من, ماذا) ব্যবহার করে জানার আগ্রহ প্রকাশ করাকে ইস্তিফহাম বলে।

الإستفهام এর আলংকারিক উদ্দেশ্যসমূহ (أغراضه المجازية):
মাঝে মাঝে উত্তর জানার উদ্দেশ্য ছাড়াও বিভিন্ন আলংকারিক অর্থে প্রশ্নবোধক বাক্য ব্যবহৃত হয়:
১. الإنكار (অস্বীকৃতি বা প্রত্যাখ্যান): যেমন- أَغَيْرَ اللّٰهِ تَدْعُونَ (তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকছ?) অর্থাৎ, ডাকা উচিত নয়।
২. التقرير (স্বীকারোক্তি আদায়): যেমন- أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ (আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দিইনি?) অর্থাৎ, অবশ্যই দিয়েছি।
৩. التعجب (বিস্ময় প্রকাশ): যেমন- كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللّٰهِ (তোমরা কীভাবে আল্লাহর সাথে কুফরি করো!)।
৪. التعظيم (সম্মান বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ): যেমন- مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ (কে আছে এমন যে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারে?)।

١٥- ما الكناية؟ ثم اذكر أقسامها بالإيجاز-

[الكناية কাকে বলে? অতঃপর এর প্রকারগুলো সংক্ষিপ্তরূপে উল্লেখ কর।]

الكناية (কিনায়াহ) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: গোপন করা বা পরোক্ষভাবে বলা।
পারিভাষিক অর্থ: لفظ أطلق وأريد به لازم معناه مع جواز إرادة المعنى الأصلي অর্থাৎ, এমন একটি বাক্য ব্যবহার করা, যার একটি বাহ্যিক বা মূল অর্থ রয়েছে, তবে বক্তার উদ্দেশ্য হলো এর একটি আনুষঙ্গিক বা প্রচ্ছন্ন অর্থ। কিনায়াহ এর ক্ষেত্রে মূল অর্থ গ্রহণ করলেও বাক্যের কোনো সমস্যা হয় না (যা মাজায থেকে একে আলাদা করে)।
উদাহরণ: فلان كثير الرماد (অমুক ব্যক্তির ঘরে অনেক ছাই)। এর দ্বারা মূলত বোঝানো হয়েছে ‘লোকটি খুব মেহমাননওয়াজ’। কারণ মেহমান বেশি এলে রান্না বেশি হয়, আর রান্না বেশি হলে ছাই বেশি হয়।

الكناية এর প্রকারভেদ:
উদ্দিষ্ট অর্থের (المُكَنَّى عَنْه) ওপর ভিত্তি করে কিনায়াহ তিন প্রকার:
১. كناية عن صفة (গুণের কিনায়াহ): যেমন উপরোক্ত উদাহরণে ‘মেহমানদারি’ একটি গুণ বোঝানো হয়েছে।
২. كناية عن موصوف (গুণীর কিনায়াহ): যেমন- بناة الأهرام (পিরামিড নির্মাণকারী)। এর দ্বারা একটি জাতিকে (ফেরাউনদের) বোঝানো হয়েছে।
৩. كناية عن نسبة (সম্পর্কের কিনায়াহ): যেমন- المجد يمشي في ركابه (মর্যাদা তার বাহনের সাথে হাঁটে)। এর দ্বারা লোকটির মর্যাদাকে তার বাহনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

١٦- بيّن دواعى الإيجاز والاطناب بالإيضاح-

[إيجاز ও إطناب এর কারণসমূহ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা কর।]

الإيجاز (সংক্ষেপণ) এর কারণসমূহ (دواعيه):
বক্তা সাধারণত কয়েকটি কারণে বাক্যকে সংক্ষেপ করে থাকেন:
১. تسهيل الحفظ (মুখস্থ করার সুবিধার্থে): বাক্য ছোট হলে মানুষের মনে রাখতে সুবিধা হয়। প্রবাদ বাক্যগুলো এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
২. اختصار الوقت (সময়ের স্বল্পতা): জরুরি পরিস্থিতিতে বা বিপদের মুহূর্তে সংক্ষেপে কথা বলা হয়।
৩. ذكاء السامع (শ্রোতার তীক্ষ্ণ মেধা): শ্রোতা যদি খুব বুদ্ধিমান হয়, তবে তাকে ইশারায় অল্প কথায় বুঝিয়ে দেওয়া যায়।
৪. إخفاء الأمر (গোপনীয়তা): অন্যদের বুঝতে না দেওয়ার জন্য সংকেত বা সংক্ষেপে কথা বলা।

الإطناب (সম্প্রসারণ) এর কারণসমূহ (دواعيه):
বক্তা যখন আলংকারিক উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করেন, তার প্রধান কারণগুলো হলো:
১. التوكيد والتقرير (দৃঢ়তা প্রদান): কোনো বিষয়কে শ্রোতার হৃদয়ে শক্তভাবে বদ্ধমূল করার জন্য।
২. التلذذ بالحديث (কথা বলার আনন্দ লাভ): প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলার সময় বাক্য বড় করে বলা হয়। যেমন- মুসা (আ.) যখন আল্লাহর সাথে কথা বলছিলেন- هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا… (এটি আমার লাঠি, আমি এতে ভর দিই…)।
৩. دفع الإيهام (সন্দেহ বা ভুল ধারণা দূর করা): অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা।
৪. ذكر الخاص بعد العام (আম এর পর খাস এর উল্লেখ): সবার কথা বলার পর বিশেষ কারো মর্যাদা বোঝাতে তাকে আলাদা করে উল্লেখ করা। যেমন- تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا (এতে ফেরেশতাগণ এবং রুহ বা জিবরাঈল অবতীর্ণ হন)। জিবরাঈল ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার মর্যাদা বোঝাতে আলাদা করে বলা হয়েছে।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now