Ilmul Balaghah (ইলমুল বালাগাহ) 201206 – Fazil Hons Al Quran 2nd Year 2020 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
ilmul balaghah 201206 fazil hons al quran 2nd year 2020 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

Ilmul Balaghah (Code: 201206) – ২০২০ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের علم البلاغة (ইলমুল বালাগাহ বা আরবি অলংকার শাস্ত্র) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের আরবি প্রশ্ন ও এর বাংলা অনুবাদসহ বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।

مجموعة (أ) [ক-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্ন]

۱- عرف الفصاحة- ثم بين أقسامها بالأمثلة-

[১. فصاحة (ফাসাহাত) এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

تعريف الفصاحة (ফাসাহাত এর পরিচয়):
‘ফাসাহাত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ স্পষ্ট হওয়া, প্রকাশ করা বা প্রাঞ্জল হওয়া। বালাগাতের পরিভাষায়, এমন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা, যা শুনতে শ্রুতিমধুর, উচ্চারণ করতে সহজ, ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী সঠিক এবং অর্থের দিক থেকে সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল।

أقسامها (প্রকারভেদ): ফাসাহাত মূলত তিন প্রকার:
১. فصاحة الكلمة (একক শব্দের ফাসাহাত): কোনো একক শব্দ ফাসীহ বা প্রাঞ্জল হওয়ার জন্য তাকে প্রধানত তিনটি দোষ থেকে মুক্ত হতে হবে:
* تنافر الحروف (অক্ষরের শ্রুতিকটুতা বা উচ্চারণে কাঠিন্য)। যেমন- مستشزرات (উঁচু) শব্দটি ফাসীহ নয়।
* غرابة الاستعمال (অপ্রচলিত বা দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার)। যেমন- تكأكأتم (তোমরা ভিড় করেছ) শব্দটি ফাসীহ নয়।
* مخالفة القياس (ব্যাকরণের নিয়মের পরিপন্থী হওয়া)। যেমন- بوقات এর পরিবর্তে بوق (শিঙ্গা)-এর বহুবচন بوقات ব্যবহার করা ব্যাকরণ পরিপন্থী।

২. فصاحة الكلام (বাক্যের ফাসাহাত): একটি সম্পূর্ণ বাক্য ফাসীহ হওয়ার জন্য একক শব্দের ফাসাহাত ছাড়াও তাকে নিচের তিনটি দোষ থেকে মুক্ত হতে হবে:
* تنافر الكلمات (শব্দের সমাহার শ্রুতিকটু হওয়া বা পরপর উচ্চারণ করতে জিহ্বায় জড়তা আসা)।
* ضعف التأليف (ব্যাকরণের দুর্বল বিন্যাস বা শব্দের ভুল ক্রম)।
* التعقيد (শাব্দিক বা অর্থগত জটিলতা), যার কারণে বাক্যের উদ্দেশ্য বুঝতে শ্রোতার কষ্ট হয়।

৩. فصاحة المتكلم (বক্তার ফাসাহাত): এটি হলো বক্তার এমন একটি সহজাত যোগ্যতা বা গুণ (ملكة), যার মাধ্যমে সে নিজের মনের যেকোনো উদ্দেশ্যকে ফাসীহ ও প্রাঞ্জল ভাষায় প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।

۲- عرف الخبر- ثم بين أقسام الخبر باعتبار المخاطب بالأمثلة-

[২. الخبر (খবর) এর পরিচয় দাও। অতঃপর المخاطب (শ্রোতা)-এর দৃষ্টিতে الخبر এর প্রকার উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

تعريف الخبر (খবর এর পরিচয়):
‘খবর’ (বিবৃতি বা সংবাদ) হলো এমন বাক্য, যার বক্তাকে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায়। অর্থাৎ বাক্যটির অর্থের দিকে লক্ষ্য করলে তা যদি বাস্তবতার সাথে মিলে যায়, তবে তা সত্য; আর বাস্তবতার বিপরীত হলে তা মিথ্যা। যেমন- محمد رسول الله (মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল) একটি সত্য খবর। আবার قام زيد (যায়েদ দাঁড়িয়েছে) যদি বাস্তব হয় তবে সত্য, না হলে মিথ্যা।

أقسام الخبر باعتبار المخاطب (শ্রোতার মানসিক অবস্থা অনুযায়ী খবরের প্রকার):
সংবাদ দেওয়ার সময় শ্রোতা বা মুখাতাবের মানসিক অবস্থা অনুযায়ী খবর প্রদানকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ابتدائي (ইবতিদায়ী বা প্রারম্ভিক): যখন শ্রোতার মন খবরের বিষয়ে সম্পূর্ণ খালি বা অজ্ঞ থাকে। এক্ষেত্রে বাক্যকে সাধারণ অবস্থায় (কোনো তাকীদ বা দৃঢ়তাসূচক শব্দ ছাড়া) উপস্থাপন করা হয়। যেমন- العلم نافع (علم বা জ্ঞান উপকারী)।
২. طلبي (তালাবী বা জিজ্ঞাসু): যখন শ্রোতার মনে খবরের বিষয়ে সন্দেহ বা দ্বিধা থাকে এবং সে তা নিশ্চিত হতে আগ্রহী হয়। এক্ষেত্রে বাক্যে একটি ‘তাকীদ’ (যেমন- إنّ, قد, لَـ) ব্যবহার করা উত্তম বা হাসান। যেমন- إن العلم نافع (নিশ্চয়ই علم উপকারী)।
৩. إنكاري (ইনকারী বা অস্বীকারকারী): যখন শ্রোতা খবরটিকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে অস্বীকারের মাত্রা অনুযায়ী বাক্যে একাধিক তাকীদ ব্যবহার করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। যেমন- والله إن العلم لنافع (আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই علم উপকারী)। এখানে কসম, إنّ এবং لَـ মোট তিনটি তাকীদ ব্যবহৃত হয়েছে।

۳- عرف الإنشاء- ثم اذكر أقسام الإنشاء الطلبي بالأمثلة-

[৩. الإنشاء (ইনশা) এর পরিচয় দাও। অতঃপর الإنشاء الطلبي এর প্রকারসমূহ উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

تعريف الإنشاء (ইনশা এর পরিচয়):
‘إنشاء’ (সৃষ্টি বা গঠন) হলো এমন বাক্য, যা শোনার পর এর বক্তাকে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায় না। কারণ বাক্যটি উচ্চারণের পরই তার অর্থ বা দাবি বাস্তবে সৃষ্টি হয়, এর আগে এর কোনো বাস্তবতা থাকে না। যেমন- কাউকে ‘اقرأ’ (তুমি পড়) বললে, এখানে সত্য-মিথ্যার কিছু নেই, বরং পড়ার একটি দাবি সৃষ্টি হলো।

أقسام الإنشاء الطلبي (ইনশায়ে তালাবী এর প্রকারসমূহ):
ইনশা প্রধানত দুই প্রকার: তালাবী (চাহিদা মূলক) ও গায়র তালাবী। বালাগাত শাস্ত্রে ‘ইনশায়ে তালাবী’ (যা দ্বারা এমন কোনো কিছু চাওয়া হয় যা কথা বলার সময় বিদ্যমান থাকে না) নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। ইনশায়ে তালাবী ৫ প্রকার:
১. الأمر (আদেশ): ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা বড় কারো পক্ষ থেকে অধস্তনকে বাধ্যতামূলকভাবে কোনো কাজ করার নির্দেশ দেওয়া। যেমন- أَقِيمُوا الصَّلَاةَ (তোমরা নামায কায়েম কর)।
২. النهي (নিষেধ): ঊর্ধ্বতন কর্তৃক অধস্তনকে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া। যেমন- لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাথে শিরক করো না)।
৩. الاستفهام (জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন): কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা বা জানতে চাওয়া। যেমন- مَتَى نَصْرُ اللَّهِ؟ (আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে?)।
۴. التمني (আকাঙ্ক্ষা): অসম্ভব বা অত্যন্ত কঠিন প্রিয় কোনো কিছু পাওয়ার ইচ্ছা করা। যেমন- لَيْتَ الشَّبَابَ يَعُودُ يَوْمًا (হায়! যৌবন যদি একদিন ফিরে আসত)।
৫. النداء (আহ্বান): কাউকে নিজের দিকে ডাকার বা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নিদা-এর বিশেষ অব্যয় ব্যবহার করা। যেমন- يَا رَسُولَ اللَّهِ (হে আল্লাহর রাসূল!)।

٤- ما هو الإيجاز والإطناب؟ ثم بين أقسام الإيجاز بالأمثلة-

[৪. إيجاز ও إطناب কাকে বলে? অতঃপর الإيجاز এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

تعريف الإيجاز والإطناب (ইজায ও ইতনাব এর পরিচয়):
* الإيجاز (সংক্ষিপ্তকরণ): অর্থের কোনো ক্ষতি বা অস্পষ্টতা সৃষ্টি না করে, প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়ে কম বা অল্প শব্দে বিশাল ও ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করাকে ইজায বলে। যেমন- خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ (ক্ষমা প্রদর্শন করুন এবং সৎকাজের নির্দেশ দিন)।
* الإطناب (দীর্ঘকরণ): শ্রোতার কাছে উদ্দেশ্য ভালোভাবে স্পষ্ট করার জন্য বা বিশেষ কোনো কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়ে বেশি শব্দ ব্যবহার করাকে ইতনাব বলে। যেমন- رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا (হে আমার রব! আমার অস্থি দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যের কারণে মাথা সাদা হয়ে গেছে)। এখানে কেবল ‘আমি বৃদ্ধ হয়েছি’ বললেই মূল অর্থ হতো, কিন্তু অসহায়ত্ব ও বিনয় বোঝাতে বাক্য দীর্ঘ করা হয়েছে।

أقسام الإيجاز (ইজাযের প্রকারভেদ): ইজায ২ প্রকার:
১. إيجاز قصر (সংক্ষিপ্ত শব্দের ইজায): বাক্য থেকে কোনো শব্দ বা অক্ষর বাদ না দিয়ে বা উহ্য না রেখে, অল্প শব্দে ব্যাপক ও গভীর অর্থ প্রকাশ করা। কুরআনের অনেক আয়াত ও রাসূল (সা.) এর জাওয়ামিউল কালিমগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ (কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে)। মাত্র দুটি শব্দের মাঝে সমাজের নিরাপত্তা ও হত্যার শাস্তির গভীর দর্শন লুকিয়ে আছে।
২. إيجاز حذف (শব্দ বিলুপ্তির মাধ্যমে ইজায): অর্থ ঠিক রেখে বাক্য থেকে একটি অক্ষর, শব্দ, এমনকি পুরো বাক্য উহ্য বা বিলুপ্ত রাখা (যাতে পূর্বাপর প্রাসঙ্গিকতা থেকে বিলুপ্ত অংশটি বোঝা যায়)। যেমন- وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ (গ্রামকে জিজ্ঞেস করুন)। এখানে একটি শব্দ (أهل – অধিবাসী) বিলুপ্ত করে ইজায করা হয়েছে, মূলত উদ্দেশ্য হলো ‘গ্রামবাসীকে’ (أهل القرية) জিজ্ঞেস করুন।

٥- عرف النهي- وكم صيغة له؟ تحدث عن المعاني التي يدل عليها النهي-

[৫. النهي এর পরিচয় দাও। এর সীগাহ কয়টি? النهي যে সব অর্থে ব্যবহৃত হয় তা উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

تعريف النهي (নিষেধ এর পরিচয়):
النهي বা নিষেধ হলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা বড় কারো পক্ষ থেকে ছোট বা অধস্তনকে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া।

صيغته (সীগাহ বা গঠনরূপ):
আমর বা আদেশের জন্য যেমন কয়েকটি সীগাহ থাকে, নাহী বা নিষেধের জন্য তেমন নয়। নাহীর জন্য কেবল একটিই সীগাহ বা গঠনরূপ রয়েছে। তা হলো- فِعل مضارع (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল এর ক্রিয়া)-এর আগে لا الناهية (নিষেধাজ্ঞামূলক ‘লা’) যুক্ত করা। যেমন- لَا تَفْعَلْ (তুমি কোরো না), لا تشرك (শিরক কোরো না)।

المعاني التي يدل عليها النهي (নাহীর ব্যবহারিক অর্থ বা উদ্দেশ্যসমূহ):
মূলত নাহী ব্যবহৃত হয় حرام (হারাম) বা বাধ্যতামূলক বিরত থাকা বোঝাতে। তবে পারিপার্শ্বিক প্রসঙ্গের কারণে এটি বিভিন্ন রূপক অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন:
১. الدعاء (দোয়া বা প্রার্থনা): ছোট বা অধস্তনের পক্ষ থেকে বড়র প্রতি হলে। যেমন- رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا (হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না)।
২. الالتماس (অনুরোধ): সমবয়সী বা সমপর্যায়ের কারও প্রতি হলে। যেমন- يا أخي لا تتأخر (হে আমার ভাই, দেরি কোরো না)।
৩. الإرشاد (উপদেশ): শ্রোতার উপকারের উদ্দেশ্যে হলে। যেমন- لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ (তোমরা এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন কোরো না…)।
৪. التوبيخ (ভর্ৎসনা বা তিরস্কার): যেমন- لَا تَنْهَ عَنْ خُلُقٍ وَتَأْتِيَ مِثْلَهُ (কোনো খারাপ কাজ থেকে অপরকে নিষেধ করে নিজেই আবার তা কোরো না)।
৫. التيئيس (হতাশ করা): যেমন- لَا تَعْتَذِرُوا الْيَوْمَ (আজ তোমরা কোনো অজুহাত দেখিও না)।

٦- الاستعارة ما هي؟ وكم قسما لها؟ بين بالأمثلة-

[৬. الاستعارة (ইসতিয়ারা) কাকে বলে? এটি কত প্রকার? উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

تعريف الاستعارة (ইসতিয়ারা এর পরিচয়):
الاستعارة শব্দের আভিধানিক অর্থ ধার নেওয়া। বালাগাতের পরিভাষায়, ইসতিয়ারা হলো এমন এক প্রকার মাজায (রূপক), যার মূলভিত্তি হলো تشبيه (তাশবীহ বা উপমা)। কিন্তু পার্থক্য হলো, তাশবীহে উপমেয় (مشبه) এবং উপমান (مشبه به) উভয়টি উল্লেখ থাকে, আর ইসতিয়ারায় উপমেয় বা উপমানের যেকোনো একটিকে বাক্য থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। উভয়ের মাঝে সাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক (علاقة المشابهة) বিদ্যমান থাকে।

أقسام الاستعارة (ইসতিয়ারার প্রকারভেদ): ইসতিয়ারা মূলত দুই প্রকার:
১. الاستعارة التصريحية (তাসরীহিয়্যাহ বা প্রকাশ্য ইসতিয়ারা): যে বাক্যে উপমেয় (مشبه) বাদ দিয়ে কেবল উপমান (مشبه به)-কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
উদাহরণ: كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ (এটি এমন একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন)। এখানে ‘অন্ধকার’ (الظلمات) দ্বারা কুফর বা পথভ্রষ্টতা এবং ‘আলো’ (النور) দ্বারা ঈমান বা হেদায়েত বোঝানো হয়েছে। এখানে কুফর ও ঈমান (উপমেয়) উহ্য রেখে, অন্ধকার ও আলোকে (উপমান) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২. الاستعارة المكنية (মাকনিয়্যাহ বা প্রচ্ছন্ন ইসতিয়ারা): যে বাক্যে উপমান (مشبه به) বাদ দিয়ে উপমেয় (مشبه)-কে উল্লেখ করা হয়, তবে উপমানকে পুরোপুরি না মুছে তার একটি বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণ বাক্যে রেখে দেওয়া হয়, যা উপমানের প্রতি ইঙ্গিত করে।
উদাহরণ: وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ (আর পিতা-মাতার সামনে ভালোবাসার সাথে বিনয়ের ডানা অবনত করে দাও)। এখানে ‘বিনয়’-কে (উপমেয়) পাখির (উপমান) সাথে তুলনা করা হয়েছে। ‘পাখি’ শব্দটি উহ্য রাখা হয়েছে, কিন্তু পাখির একটি বৈশিষ্ট্য ‘ডানা’ (جناح) উল্লেখ করে পাখির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]

٧- عرف البلاغة- ثم اذكر اقسامها بالأمثلة-

[৭. البلاغة (বালাগাত) এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]

البلاغة (বালাগাত এর পরিচয়):
আভিধানিক অর্থ পৌঁছানো বা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়া। পরিভাষায়, শব্দের ফাসাহাত বা প্রাঞ্জলতা ঠিক রেখে, শ্রোতার মানসিক অবস্থা (حال المخاطب) এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী (مقتضى الحال) উপযুক্ত, শ্রুতিমধুর ও অলংকারপূর্ণ বাক্য প্রয়োগ করার নামই বালাগাত বা অলংকার শাস্ত্র।

اقسامها (প্রকারভেদ): বালাগাত শাস্ত্র মূলত তিনটি ভাগে বা ইলমে বিভক্ত:
১. علم المعاني (ইলমুল মা’আনী): এর মাধ্যমে বাক্যকে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী গঠন করা শেখা যায়। যেমন- খবর, ইনশা, ইজায, ইতনাব ইত্যাদি।
২. علم البيان (ইলমুল বায়ান): এর মাধ্যমে একটি অর্থকে বিভিন্ন উপায়ে (স্পষ্ট বা অস্পষ্টভাবে) প্রকাশ করা শেখা যায়। যেমন- তাশবীহ, ইসতিয়ারা, কিনায়াহ ইত্যাদি।
৩. علم البديع (ইলমুল বাদী’): এর মাধ্যমে বাক্যকে শাব্দিক বা অর্থগতভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা শেখা যায়। যেমন- তিবাক (বৈপরীত্য), সাজা’ (অন্ত্যমিল) ইত্যাদি।

٨- بين أسباب حذف المسند اليه وذكره-

[৮. المسند اليه কে বিলুপ্তকরণ ও উল্লেখের কারণগুলো বর্ণনা কর।]

বাক্যে ‘মুসনাদ ইলাইহি’ (উদ্দেশ্য বা Subject) উল্লেখ করা বা বাদ দেওয়ার বিশেষ কারণ রয়েছে।
حذف المسند اليه (বিলুপ্ত করার কারণ):
১. অর্থ সুস্পষ্ট থাকায় সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে।
২. মুসনাদ ইলাইহির পরিচয় গোপন রাখার জন্য।
৩. দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর জন্য। যেমন- আকাশে চাঁদ দেখে (هذا هلال বলার পরিবর্তে) শুধু ‘هلال’ (চাঁদ) বলা।

ذكر المسند اليه (উল্লেখ করার কারণ):
১. মূল বাক্যের প্রতি শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ বা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।
২. মুসনাদ ইলাইহির সম্মান বৃদ্ধি করার জন্য। যেমন- محمد نبينا (মুহাম্মদ আমাদের নবী)।
৩. মুসনাদ ইলাইহিকে অপমান করার জন্য বা তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশের জন্য।

٩- عرف النداء- ثم تحدث عن أغراضه بالأمثلة-

[৯. النداء (নিদা) এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর উদ্দেশ্যবলি উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

النداء (নিদা বা আহ্বান): কাউকে নিজের দিকে ডাকার বা তার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য বিশেষ কিছু অব্যয় (حروف النداء) ব্যবহার করাকে নিদা বলে। নিদার প্রধান হরফগুলো হলো: يَا (ইয়া), أَيَا (আইয়া), هَيَا (হাইয়া), أَيْ (আই), ও أَ (হামযা)।

أغراضه (নিদা-এর উদ্দেশ্য বা ব্যবহার): নিদা মূলত ডাকার জন্য ব্যবহৃত হলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন রূপক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন:
১. الإغراء (উৎসাহ প্রদান): যেমন- يَا مَظْلُوم (হে মজলুম! অর্থাৎ, তুমি প্রতিশোধ নাও)।
২. الندبة (বিলাপ বা শোক প্রকাশ): যেমন- وَا حَسْرَتَاه (হায় আফসোস!)।
৩. التعجب (বিস্ময় প্রকাশ): যেমন- يَا لَلْعَجَب (কী আশ্চর্য!)।
৪. الزجر (তিরস্কার বা ধমক): যেমন- يَا غَافِلُ وَالْمَوْتُ يَطْلُبُهُ (হে উদাসীন! অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজছে)।

١٠- عرف الوصل والفصل بالامثلة-

[১০. উদাহরণসহ الوصل ও الفصل এর পরিচয় দাও।]

الوصل (ওয়াসল): দুটি বাক্যের মাঝে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য حرف عطف (বিশেষ করে ‘واو’ বা ‘এবং’) ব্যবহার করে বাক্য দুটিকে যুক্ত করাকে ওয়াসল বলে।
উদাহরণ: إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ وَ إِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ (নিশ্চয়ই পুণ্যবানরা জান্নাতে থাকবে এবং নিশ্চয়ই পাপাচারীরা জাহান্নামে থাকবে)।

الفصل (ফাসল): দুটি বাক্যের মাঝে কোনো حرف عطف বা সংযোজক অব্যয় ব্যবহার না করে বাক্য দুটিকে আলাদা রাখাকে ফাসল বলে। এটি তখন করা হয় যখন বাক্য দুটির মাঝে পূর্ণ মিল (كمال الاتصال) বা পূর্ণ অমিল (كمال الانقطاع) থাকে।
উদাহরণ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ¤ اللَّهُ الصَّمَدُ (বলুন, তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী)। এখানে দুটি বাক্যের মাঝে সম্পর্ক এতই গভীর যে কোনো ‘واو’ ব্যবহার করা হয়নি।

١١- الكناية ما هي؟ ثم بين أقسامها-

[১১. كناية কাকে বলে? অতঃপর এর প্রকারগুলো বর্ণনা কর।]

الكناية (কিনায়াহ): আভিধানিক অর্থ ইশারা বা ইঙ্গিত করা। পরিভাষায়, এমন শব্দ বা বাক্য যার মাধ্যমে তার আক্ষরিক বা বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য না করে, বরং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রচ্ছন্ন অর্থ বোঝানো হয়, তবে বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করলেও ব্যাকরণগত কোনো বাধা থাকে না।
যেমন- زيد طويل النجاد (যায়েদের তলোয়ারের খাপ দীর্ঘ)। এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যায়েদ একজন লম্বা মানুষ (কারণ খাপ লম্বা হলে মানুষও লম্বা হয়)।

أقسامها (প্রকারভেদ): কিনায়াহ প্রধানত তিন প্রকার:
১. كناية عن صفة (গুণবাচক কিনায়াহ): যেখানে কোনো গুণের দিকে ইঙ্গিত করা হয়। (যেমন উপরের উদাহরণে লম্বা হওয়ার গুণ)।
২. كناية عن موصوف (বিশেষ্য বা বস্তুবাচক কিনায়াহ): যেখানে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করা হয়। যেমন- لغة الضاد (দাদ অক্ষরের ভাষা) বলে ‘আরবি ভাষা’কে বোঝানো।
৩. كناية عن نسبة (সম্পর্কবাচক কিনায়াহ): যেখানে কোনো ব্যক্তি ও তার গুণের মাঝে সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করা হয়।

١٢- عرف المحسنات المعنوية بالامثلة-

[১২. المحسنات المعنوية এর উদাহরণসহ পরিচয় দাও।]

المحسنات المعنوية (অর্থগত সৌন্দর্য বা অলংকার):
‘ইলমুল বাদী’ এর যে শাখার মাধ্যমে বাক্যের ‘অর্থকে’ (শব্দকে নয়) অলংকৃত করে সুন্দর ও মোহনীয় করা হয়, তাকে মুহাসসানাতে মানাবিয়্যাহ বলে।

أمثلة (এর কিছু প্রকার ও উদাহরণ):
১. الطباق (তিবাক বা বৈপরীত্য): বাক্যে দুটি বিপরীত অর্থের শব্দ ব্যবহার করা। যেমন- هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ (তিনিই প্রথম এবং তিনিই শেষ)।
২. المقابلة (মুকাবালাহ বা সমান্তরাল বৈপরীত্য): বাক্যে একাধিক শব্দ আনার পর ক্রমানুসারে তাদের বিপরীত শব্দগুলো আনা। যেমন- فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا (তারা যেন হাসে কম এবং কাঁদে বেশি)।
৩. التورية (তাওরিয়া বা দ্ব্যর্থবোধক): এমন শব্দ ব্যবহার করা যার দুটি অর্থ থাকে- একটি কাছের (প্রকাশ্য) অর্থ, অন্যটি দূরের (গোপন) অর্থ; এবং বক্তা দূরের অর্থটি উদ্দেশ্য করে।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now