At-Tafsir Bidunis Sanad (Code: 201201) – ২০২১ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের التفسير بدون السند (আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
مجموعة (أ) [ক-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্ন]
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য… আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি… আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করো। তাদের পথ, যাদের ওপর তুমি অনুগ্রহ করেছ; তাদের পথ নয়, যারা গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট।”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
সুরা ফাতিহাতে আল্লাহর প্রশংসার পর তাঁর কাছে সিরাতুল মুসতাকিম বা সঠিক পথের হেদায়াত চাওয়া হয়েছে। এই সঠিক পথ হলো নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও নেককারদের পথ; এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মতো গযবপ্রাপ্ত বা পথভ্রষ্টদের পথ থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
[الصراط المستقيم দ্বারা উদ্দেশ্য কী? বর্ণনা কর।]
المراد بالصراط المستقيم (সিরাতুল মুসতাকিম দ্বারা উদ্দেশ্য):
‘الصراط المستقيم’ (সিরাতুল মুসতাকিম) অর্থ হলো সরল ও সঠিক পথ। তাফসিরকারকদের মতে, এর দ্বারা সেই সত্য পথকে বোঝানো হয়েছে, যাতে কোনো বক্রতা নেই এবং যা সরাসরি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।
* তাফসিরে ইবনে কাসিরের মতে, এটি দ্বারা ইসলাম ধর্ম, পবিত্র কুরআন, অথবা রাসুল (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের প্রদর্শিত পথকে বোঝানো হয়েছে।
* হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, সিরাতুল মুসতাকিম হলো আল্লাহর কিতাব কুরআন।
সুতরাং, মুমিনরা এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আজীবন ইসলামের সঠিক পথের ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করে।
[আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতপ্রাপ্ত কারা? বর্ণনা কর।]
الذين أنعم الله عليهم (আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ):
সুরা ফাতিহায় আমরা যাদের পথ অনুসরণ করার দোয়া করি, তারা হলেন আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দা। কুরআন মাজিদের অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এই নিয়ামতপ্রাপ্তদের পরিচয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুরা নিসার ৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ”
অর্থাৎ, “তারা ওইসব মানুষের সঙ্গী হবেন, যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; আর তারা হলেন- ১. নবীগণ, ২. সিদ্দীকগণ (সত্যনিষ্ঠ), ৩. শহীদগণ এবং ৪. নেককার বা সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ।”
এরাই হলেন আল্লাহর প্রকৃত নিয়ামতপ্রাপ্ত শ্রেণি, যাদের জীবনযাপন পদ্ধতিই হলো সিরাতুল মুসতাকিম।
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
সুরা বাকারার শুরুতে আল-কুরআনের অকাট্য সত্যতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কিতাবে কোনো ভুল বা সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে এই কিতাব থেকে কেবল তারাই হেদায়াত লাভ করতে পারে, যারা মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু এবং যারা গায়েব (অদৃশ্য বিষয়), সালাত ও জাকাতের ওপর ঈমান রাখে।
[الحروف المقطعات দ্বারা উদ্দেশ্য কী? বর্ণনা কর।]
المراد بالحروف المقطعات (হুরুফে মুকাত্তাআত দ্বারা উদ্দেশ্য):
কুরআনের ২৯টি সুরার শুরুতে ব্যবহৃত الم (আলিফ লাম মীম), يس (ইয়াসীন) ইত্যাদি অক্ষরগুলোকে الحروف المقطعات বা খণ্ডিত অক্ষর বলা হয়।
অধিকাংশ মুফাসসির ও সাহাবিদের (যেমন- হযরত আবু বকর রা.) মতে, এগুলো হলো আল-কুরআনের অন্যতম মুতাশাবিহাত বা রহস্যময় আয়াত। এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মাঝের একটি গোপন রহস্য।
তবে কিছু আলেম গবেষণামূলক মত দিয়েছেন যে, এগুলো দ্বারা আল্লাহর বিভিন্ন নামের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে অথবা কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز القرآن) প্রমাণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো আরবদের চ্যালেঞ্জ করা যে, কুরআন এ ধরনের সাধারণ আরবি অক্ষর দিয়েই তৈরি, তবুও তোমরা এর সমকক্ষ একটি সুরাও রচনা করতে অক্ষম।
[هدى للمتقين না বলে هدى للناس অথবা هدى للصالحين কেন বলেছেন?]
‘هدى للمتقين’ বলার কারণ:
পবিত্র কুরআন মূলত সমগ্র মানবজাতির জন্যই হিদায়াত বা পথপ্রদর্শক (هدى للناس)। কিন্তু সুরা বাকারার শুরুতে ‘هدى للمتقين’ (মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত) বলা হয়েছে এর বিশেষ কয়েকটি কারণে:
১. কুরআনের হিদায়াত দ্বারা প্রকৃতপক্ষে কেবল মুত্তাকিরাই (যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং সত্য গ্রহণে প্রস্তুত থাকে) উপকৃত হয়। যারা অহংকারী ও সত্যবিমুখ কাফির, তারা এ থেকে ফায়দা নিতে পারে না। তাই যারা উপকৃত হয়, তাদের নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
২. মুত্তাকিদের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা হিদায়াতকে তাদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
৩. ‘صالحين’ (সৎকর্মশীল) না বলে ‘متقين’ বলা হয়েছে, কারণ তাকওয়া বা আল্লাহভীতি হলো সব নেক কাজের মূল। যার মনে তাকওয়া আছে, সে এমনিতেই নেককার হবে।
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। কিন্তু যখন তারা গোপনে তাদের শয়তানদের (নেতাদের) সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তো শুধু তাদের সাথে উপহাস করি’। আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন…”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
এই আয়াতগুলোতে মদিনার মুনাফিকদের দ্বিমুখী চরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তারা মুসলমানদের সামনে নিজেদের মুমিন দাবি করত, কিন্তু গোপনে কাফির নেতাদের সাথে ষড়যন্ত্র করত। আল্লাহ তাদের এই ধৃষ্টতার কারণে তাদেরকে বিভ্রান্তির অন্ধকারে আরও ঢিল দেন।
[نفاق এর সংজ্ঞা লিখ, অতঃপর কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।]
النفاق (নিফাক) এর পরিচয়:
নিফাক এর আভিধানিক অর্থ ভণ্ডামি, দ্বিমুখী নীতি বা এক দরজা দিয়ে ঢুকে অন্য দরজা দিয়ে বের হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, অন্তরে কুফর বা অবিশ্বাস গোপন রেখে মুখে বা প্রকাশ্যে নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করাকে ‘নিফাক’ বলে। এ ধরনের ব্যক্তিকে মুনাফিক বলা হয়।
মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে):
* কুরআনের আলোকে: আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারায় মুনাফিকদের বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন। যেমন- তারা মুখে ঈমানের দাবি করলেও অন্তরে মুমিন নয় (وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ), তারা মুমিনদের সাথে প্রতারণা করে (يُخَادِعُونَ اللَّهَ), তাদের অন্তরে রোগ আছে (فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ), এবং তারা পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করে (يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ)।
* সুন্নাহ বা হাদিসের আলোকে: সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সা.) মুনাফিকদের প্রধান ৩টি (বা ৪টি) আলামত উল্লেখ করেছেন:
১. إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ (কথা বললে মিথ্যা বলে)।
২. وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ (ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে)।
৩. وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ (আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে)।
(অন্য বর্ণনায়- ৪. ঝগড়া করলে গালাগালি বা চরম সীমালঙ্ঘন করে)।
[তারা কীভাবে الهدى এর বিনিময়ে الضّلالة ক্রয় করে বর্ণনা কর।]
كيف اشتروا الضّلالة بالهدى (হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহি ক্রয়ের ব্যাখ্যা):
আয়াতে বলা হয়েছে “তারা হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহি ক্রয় করেছে”। এর অর্থ হলো মুনাফিকরা রাসুল (সা.)-এর যুগে ইসলাম ও ঈমান গ্রহণের এক সুবর্ণ সুযোগ (الهدى) পেয়েছিল। তারা সত্যকে কাছ থেকে দেখেছিল। কিন্তু তারা সেই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এর বদলে কুফর ও ভণ্ডামিকে (الضّلالة) স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছে।
এখানে ‘ক্রয় করা’ শব্দটি রূপক (استعارة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন কোনো ব্যবসায়ী ভালো জিনিসের বদলে নিজের বোকামির কারণে খারাপ জিনিস কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঠিক তেমনি মুনাফিকরা ঈমান ও জান্নাতের বদলে কুফর ও জাহান্নাম গ্রহণ করে নিজেদের চিরস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। একারণেই আল্লাহ বলেছেন, ‘فما ربحت تجارتهم’ (তাদের এই ব্যবসা লাভজনক হয়নি)।
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“তিনিই আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন, যার মধ্যে কিছু আয়াত হলো ‘মুহকাম’ (সুস্পষ্ট), সেগুলোই কিতাবের মূল। আর কিছু আয়াত হলো ‘মুতাশাবিহ’ (রূপক)। যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতের পেছনে লেগে থাকে…”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
সুরা আলে ইমরানের এই আয়াতে কুরআনের আয়াতগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—মুহকাম ও মুতাশাবিহ। মুহকাম আয়াতগুলো হলো শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধান, যা সবাই বুঝতে পারে। আর মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। প্রকৃত জ্ঞানীরা এগুলোর ওপর কেবল ঈমান রাখে।
[محكم এবং متشابه এর অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালার বাণী: “هنّ امّ الكتاب واخر متشابهات” এর ব্যাখ্যা লিখ।]
المحكم والمتشابه (মুহকাম ও মুতাশাবিহ এর অর্থ):
* المحكم (মুহকাম): যে আয়াতগুলোর অর্থ সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং যার উদ্দেশ্য বোঝা ও আমল করা সহজ, তাকে মুহকাম বলে। শরিয়তের যাবতীয় হালাল-হারাম ও মূল বিধিবিধান এই আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
* المتشابه (মুতাশাবিহ): যে আয়াতগুলোর একাধিক অর্থ হতে পারে বা যার প্রকৃত অর্থ ও রহস্য কেবল আল্লাহই ভালো জানেন, মানুষের জ্ঞানের অগম্য, তাকে মুতাশাবিহ বলে। যেমন- আল্লাহর সিফাত, কিয়ামতের সময়, হুরুফে মুকাত্তাআত ইত্যাদি।
“هنّ امّ الكتاب واخر متشابهات” এর ব্যাখ্যা:
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “মুহকাম আয়াতগুলোই হলো কিতাবের মূল আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ”। অর্থাৎ, মুহকাম আয়াতগুলোই হলো দীনের মূল ভিত্তি ও বিধিবিধানের কেন্দ্রবিন্দু (أم الكتاب)। যখন কোনো মুতাশাবিহ আয়াতের অর্থে সন্দেহ বা জটিলতা তৈরি হয়, তখন তাকে এই মুহকাম আয়াতগুলোর আলোকে বুঝতে হবে এবং ফায়সালা নিতে হবে।
[আল্লাহ তায়ালার বাণী: “وما يعلم تأويله إلا الله والراسخون فى العلم” দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]
আয়াতের উদ্দেশ্য:
এই আয়াতাংশের অর্থ নির্ধারণ ওয়াকফ বা থামার ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে, “إلا الله” এর ওপর ওয়াকফ করতে হবে। তখন অর্থ দাঁড়ায়: “মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর প্রকৃত অর্থ ও শেষ পরিণতি (تأويل) আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।”
আর ‘الراسخون فى العلم’ (যারা জ্ঞানে গভীরতার অধিকারী) থেকে নতুন বাক্য শুরু হবে। অর্থাৎ, জ্ঞানী ব্যক্তিরা মুতাশাবিহ আয়াতের প্রকৃত অর্থ খোঁজার বা অপব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে না, বরং তারা বিনয়ের সাথে বলে “امنا به” (আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম, মুহকাম ও মুতাশাবিহ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত)। তারা জানে যে এর প্রকৃত রহস্য কেবল আল্লাহই জানেন।
[شهادة এর অর্থ কী? شهادة الله , شهادة الملائكة এবং شهادة اولى العلم এর মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]
معنى الشهادة (শাহাদাত এর অর্থ):
الشهادة (শাহাদাত) অর্থ সাক্ষ্য দেওয়া, নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু ঘোষণা করা বা প্রমাণ উপস্থাপন করা।
সাক্ষ্যগুলোর মধ্যে পার্থক্য:
আয়াতে তিন শ্রেণির সাক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়। তবে তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার ধরন আলাদা:
১. شهادة الله (আল্লাহর সাক্ষ্য): আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজের কাজের মাধ্যমে, সৃষ্টিজগতের নিপুণতার মাধ্যমে এবং তাঁর প্রেরিত কিতাবের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. شهادة الملائكة (ফেরেশতাদের সাক্ষ্য): ফেরেশতারা আল্লাহর একত্ববাদকে সরাসরি স্বীকার করে এবং তা মুখে বর্ণনা ও প্রচারের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেয়।
৩. شهادة أولي العلم (আলেম বা জ্ঞানীদের সাক্ষ্য): জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাদের জ্ঞান, গভীর গবেষণা ও যুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজগতের শৃঙ্খলা দেখে সুনিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করে।
[الإسلام এবং الإيمان এর মধ্যে পার্থক্য কী?]
الفرق بين الإسلام والإيمان (ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য):
ইসলাম ও ঈমান শব্দ দুটি গভীরভাবে সম্পর্কিত হলেও শাব্দিক ও প্রায়োগিক কিছু পার্থক্য রয়েছে:
* الإيمان (ঈমান): ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস বা التصديق بالقلب। অর্থাৎ আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল, পরকাল ও তাকদিরের প্রতি আন্তরিকভাবে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা হলো ঈমান। এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়।
* الإسلام (ইসলাম): ইসলাম হলো বাহ্যিক আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ (الانقياد الظاهري)। অর্থাৎ মুখে স্বীকার করে আল্লাহর যাবতীয় বিধিবিধান (যেমন- নামায, রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদি) শারীরিকভাবে পালন করাই হলো ইসলাম।
সারসংক্ষেপে, ঈমান হলো দীনের মূল ভিত্তি বা বিশ্বাস, আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের বাহ্যিক প্রকাশ বা কর্ম। তবে পূর্ণাঙ্গ মুমিন হওয়ার জন্য ইসলাম ও ঈমান উভয়ের সমন্বয় অপরিহার্য।
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“আর তোমরা এতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও এবং ভালো জিনিসের সাথে খারাপ জিনিস বদল কোরো না। আর তাদের সম্পদকে তোমাদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে খেয়ো না; নিশ্চয়ই এটি এক মহা পাপ।”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
সুরা নিসার এই আয়াতে এতিমদের সম্পদের হেফাজত করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকরা যেন এতিমের ভালো সম্পদ নিজের কাছে রেখে নিজের খারাপ সম্পদ এতিমকে না দেয় এবং এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
[اليتامى কারা? আল্লাহ তায়ালা اليتامى এর হকসমূহ আদায়ে কেন তাকীদ দিয়েছেন?]
اليتامى (ইয়াতামা) কারা:
‘اليتامى’ হলো يَتِيم (ইয়াতিম) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো ওইসব শিশু বা নাবালক, যারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই তাদের পিতাকে হারিয়েছে। পিতৃহীন এসব শিশুদের অভিভাবকত্ব ও সম্পদের দায়িত্ব সাধারণত আত্মীয়দের ওপর বর্তায়।
হক আদায়ে তাকীদের কারণ:
আল্লাহ ইয়াতিমদের অধিকার আদায়ে কুরআনে এত বেশি তাকীদ দিয়েছেন কারণ, পিতা না থাকায় তারা সমাজে অত্যন্ত দুর্বল ও অসহায়। তারা নিজেদের সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে না। অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবকরা লোভে পড়ে সহজেই ইয়াতিমদের সম্পদ আত্মসাৎ করে। তাই আল্লাহ কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যেন সমাজ তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাদের সম্পদ তাদেরকেই নিখুঁতভাবে বুঝিয়ে দেয়।
[আল্লাহ তায়ালার বাণী: ولا تتبدّلوا الخبيث بالطيّب এর ব্যাখ্যা কর।]
ولا تتبدّلوا الخبيث بالطيّب (এর ব্যাখ্যা):
“তোমরা পবিত্র (হালাল) জিনিসের সাথে অপবিত্র (হারাম) জিনিস বদল কোরো না”। এর অর্থ হলো, হে অভিভাবকরা! ইয়াতিমদের ভালো ও উৎকৃষ্ট সম্পদের বদলে তোমাদের খারাপ বা নিকৃষ্ট সম্পদ দিয়ে পরিবর্তন কোরো না।
জাহিলি যুগে কিছু অভিভাবক ইয়াতিমের ভালো ও স্বাস্থ্যবান উট বা ছাগল নিজের পালে ঢুকিয়ে নিত এবং এর বদলে নিজের রুগ্ন বা দুর্বল পশুটা ইয়াতিমের অংশে রেখে দিত। আল্লাহ তায়ালা এই অন্যায় কাজকে নিষেধ করে বলেছেন যে, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া হারাম (الخبيث) আর নিজের সম্পদ তোমাদের জন্য হালাল (الطيب)। সুতরাং, হালাল ছেড়ে হারামের দিকে ধাবিত হয়ো না।
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে; তা অল্প হোক বা বেশি, এটি এক নির্ধারিত অংশ।”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
জাহেলিয়াতের যুগে নারীদের সম্পত্তির কোনো অধিকার দেওয়া হতোবিধা দেওয়া হতো না। ইসলামই সর্বপ্রথম এই আয়াতের মাধ্যমে নারীদের উত্তরাধিকার সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং একে আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘নির্ধারিত ফরজ’ ঘোষণা করেছে।
[আল্লাহ তায়ালার বাণী: للرّجال نصيب ممّا ترك الوالدان والاقربون দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]
আয়াতের উদ্দেশ্য:
ইসলামের পূর্বে জাহিলি যুগে আরবরা উত্তরাধিকার বণ্টনে চরম বৈষম্য করত। তারা কেবল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সক্ষম ও শক্তিশালী পুরুষদেরই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বানাত। নারী ও ছোট শিশুদের তারা সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করত।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সেই জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করেন যে, পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে যেমন পুরুষদের অধিকার ও নির্ধারিত অংশ (نصيب) রয়েছে, ঠিক তেমনি নারীদেরও অধিকার রয়েছে। লিঙ্গ বা বয়সের কারণে কাউকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
[আল্লাহ তায়ালার বাণী: ممّا قلّ منه او كثر نصيبًا مفروضا এর ব্যাখ্যা লিখ।]
ممّا قلّ منه او كثر نصيبًا مفروضا (এর ব্যাখ্যা):
“তা (সম্পদ) অল্প হোক বা বেশি হোক, এটি এক নির্ধারিত অংশ।” এর ব্যাখ্যা হলো, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ যদি সামান্যও হয়, তবুও তা থেকে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীকে (বিশেষ করে নারী ও শিশুদের) তাদের প্রাপ্য অংশ দিতে হবে।
কেউ যেন এটা মনে না করে যে, সম্পদ তো খুব কম, সামান্য সম্পদ আর নারীদের কী দেব, বরং পুরোটাই পুরুষরা নিয়ে নিক! আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন যে, সম্পদের পরিমাণ যাই হোক না কেন, আল্লাহ প্রত্যেকের জন্য যে অংশ শরিয়তে নির্ধারণ (نصيبًا مفروضا) করে দিয়েছেন, তা অবশ্যই তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে। এতে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
আয়াতসমূহের অনুবাদ:
“হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে যা তোমাদের কাছে পাঠ করা হবে তা ছাড়া। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় শিকার করাকে হালাল মনে কোরো না…”
সংক্ষিপ্ত তাফসির:
সুরা মায়িদার শুরুতে মুমিনদেরকে তাদের সব ধরনের ওয়াদা, চুক্তি এবং আল্লাহর দেওয়া বিধানগুলো পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর হালাল পশু এবং ইহরাম অবস্থায় শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।
[العقود এর অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালার বাণী: اوفوا بالعقود দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]
معنى العقود (العقود এর অর্থ):
العقود (উকুদ) শব্দটি عقد (আকদ) এর বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ হলো বাঁধন, চুক্তি, ওয়াদা বা অঙ্গীকার।
“اوفوا بالعقود” দ্বারা উদ্দেশ্য:
“হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো” দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- একজন মুমিনকে অবশ্যই তার সকল অঙ্গীকার বিশ্বস্ততার সাথে পালন করতে হবে। এই অঙ্গীকার মূলত দুই ধরনের:
১. বান্দার সাথে আল্লাহর অঙ্গীকার: যেমন- আল্লাহর ইবাদত করা, হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম মেনে চলা।
২. মানুষের সাথে মানুষের অঙ্গীকার: যেমন- বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের চুক্তি, বিবাহ, আমানত রক্ষা করা এবং যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। ইসলামে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বড় গুণ।
[الصّيد অর্থ কী? মুহরিম অবস্থায় বন্যপশু শিকার করার হুকুম কী? বর্ণনা কর।]
معنى الصّيد (الصّيد এর অর্থ):
الصيد (সায়িদ) অর্থ হলো শিকার করা অথবা শিকারকৃত বন্য প্রাণী।
حكم اقتناص الصيد في حالة الإحرام (মুহরিম অবস্থায় শিকার করার বিধান):
হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম পরিহিত অবস্থায় (حالة الإحرام) স্থলভাগের যেকোনো বন্য প্রাণী (যেমন- হরিণ, খরগোশ, পাখি ইত্যাদি) শিকার করা, শিকারিকে সাহায্য করা বা শিকারের প্রাণীর গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন: ‘غير محلى الصيد وأنتم حرم’ (ইহরাম অবস্থায় তোমরা শিকারকে হালাল মনে করবে না)। তবে জলজ প্রাণী বা সামুদ্রিক মাছ শিকার করা ইহরাম অবস্থায়ও জায়েজ।
مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]
[৯. التفسير অর্থ কী? তা কত প্রকার? التفسير بدون السند এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ।]
التفسير (তাফসির) এর অর্থ:
তাফসির শব্দের আভিধানিক অর্থ ব্যাখ্যা করা, স্পষ্ট করা বা আবরণ উন্মোচন করা। পরিভাষায়, তাফসির হলো এমন একটি বিজ্ঞান বা শাস্ত্র, যার মাধ্যমে কুরআন মাজিদের শব্দাবলি এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থের রহস্যসমূহ আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী (সাধ্যমতো) ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়।
তাফসিরের প্রকারভেদ:
তাফসির শাস্ত্র প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
১. التفسير بالمأثور (তাফসির বির রিওয়ায়াহ): কুরআন, হাদিস ও সাহাবি-তাবেয়িদের উক্তি বা বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির করা।
২. التفسير بالرأي (তাফসির বিদ দিরায়াহ): আরবি ভাষা, ব্যাকরণ, যুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে তাফসির করা।
التفسير بدون السند (সনদবিহীন তাফসির) এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
ফাজিল পর্যায়ে পঠিত ‘তাফসির বিদুনিন সানাদ’ (সনদবিহীন তাফসির) এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. এতে হাদিস বা রেওয়ায়েতের দীর্ঘ সনদ (বর্ণনাকারীদের নাম) উল্লেখ করা হয় না, ফলে তাফসির সংক্ষেপ ও সহজবোধ্য হয়।
২. সরাসরি আয়াতের শাব্দিক ও ভাবার্থের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
৩. আয়াতের শানে নুযূল ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা অত্যন্ত সংক্ষেপে আনা হয়।
৪. সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বুঝতে, পড়তে ও মনে রাখতে বেশ সুবিধাজনক।
৫. তাফসিরে বায়যাবী, তাফসিরে জালালাইন ইত্যাদি বিখ্যাত গ্রন্থ এই পদ্ধতিতে রচিত।
[১০. নাসের উদ্দীন বায়যাবী (রহ) এর জীবনীসহ তাঁর তাফসির গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যবলি লিখ।]
حياة ناصر الدين البيضاوي (নাসের উদ্দীন বায়যাবী রহ. এর জীবনী):
* নাম ও বংশ: তাঁর আসল নাম আব্দুল্লাহ, পিতার নাম উমর এবং দাদার নাম মুহাম্মদ।
* উপাধি: তাঁর উপাধি ছিল নাসেরুদ্দীন এবং আবুল খায়র।
* জন্ম: তিনি ইরানের ফারস প্রদেশের অন্তর্গত ‘বায়যা’ (البيضاء) নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন, তাই তাঁকে ‘বায়যাবী’ বলা হয়।
* শিক্ষাজীবন: তিনি সমকালীন বড় বড় আলেমদের কাছে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল ও আরবি ব্যাকরণে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ফিকহি মাজহাবের দিক থেকে তিনি শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।
* কর্মজীবন: তিনি শিরাজ শহরে প্রধান বিচারপতি (কাজীউল কুযযাত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এজন্য তাঁকে ‘কাজী বায়যাবী’ও বলা হয়।
* ইন্তেকাল: তিনি ৬৮৫ হিজরিতে (মতান্তরে ৬৯১ হি.) তাবরীজ শহরে ইন্তেকাল করেন।
خصائص تفسيره (তাঁর রচিত তাফসির ‘আনওয়ারুত তানযীল’ এর বৈশিষ্ট্য):
১. এটি একটি মধ্যম আকৃতির তাফসির গ্রন্থ, যা খুব বড়ও নয় আবার খুব ছোটও নয়।
২. এতে আল্লামা যামাখশারীর ‘আল-কাশশাফ’ তাফসিরের মুতাযিলা আকিদাগুলো বর্জন করে সম্পূর্ণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা অনুযায়ী তাফসির করা হয়েছে।
৩. আয়াতের সূক্ষ্ম ব্যাকরণগত (নাহু-সরফ) বিশ্লেষণ এবং অলংকারিক (বালাগাত) সৌন্দর্য চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
৪. এতে সনদ ছাড়াই অত্যন্ত গুছিয়ে হাদিস ও শানে নুযূল উপস্থাপন করা হয়েছে।
৫. বিশ্বজুড়ে মাদ্রাসাগুলোতে এবং দরসে নেজামি সিলেবাসে এটি একটি জনপ্রিয় ও প্রামাণ্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে স্বীকৃত।






