বাংলাদেশ স্টাডিজ প্রশ্ন ও সমাধান – ফাযিল (অনার্স) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ | Bangladesh Studies (201107) QnA – Fazil Honors 1st Year 2023

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
BangladeshStudies201107QnA FazilHonors1stYear2023
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣

[ফাযিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]

القرآن والدراسات الإسلامية

[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

الدراسات البنغلاديشية

[বাংলাদেশ স্টাডিজ]

বিষয় কোড: ২ ० ১ ১ ० ৭

الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]

الدرجة الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]

مجموعة (أ)

[ক বিভাগ]

أجب عن أربعة من الأسئلة التالية [নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

الدرجات—١٥×٤=٦٠ [মান—১৫×৪=৬০]

١- تحدث عن دور حركة اللغة فى استقلال بنغلاديش-

[বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাসে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম। ভাষা আন্দোলনই ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম উন্মেষ।

স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা:
১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি: মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে, তা তাদেরকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে এবং তাদের মাঝে একটি স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করে।
২. রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তন: ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা উপলব্ধি করতে পারে যে, পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকরা তাদের মাতৃভাষার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারও কেড়ে নিতে চায়। এর ফলে তাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আসে।
৩. পরবর্তী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা: ভাষা আন্দোলন সফল হওয়ার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রমাণ করে যে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো অধিকার আদায় করা সম্ভব। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং সবশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। সুতরাং, ভাষা আন্দোলনই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বা বীজ।

٢- اكتب أسباب مشكلة البطالة فى بنغلاديش مع بيان طرق حلها-

[বাংলাদেশের বেকার সমস্যার কারণসমূহ ও তার সমাধানের উপায়সমূহ লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান একটি আর্থসামাজিক সমস্যা হলো বেকারত্ব। কাজের সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকাকে বেকারত্ব বলে।

বেকার সমস্যার কারণসমূহ:
১. অতিরিক্ত জনসংখ্যা: কর্মসংস্থানের সুযোগ যে হারে বাড়ে, জনসংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হারে বাড়ে, ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
২. ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক বা সাধারণ জ্ঞান নির্ভর, যেখানে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার অভাব রয়েছে। ফলে উচ্চ শিক্ষিত বেকার বাড়ছে।
৩. শিল্পায়নের অভাব: কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শিল্প-কারখানা গড়ে না ওঠায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
৪. কৃষিতে নির্ভরশীলতা ও ঋতুগত বেকারত্ব: কৃষিকাজে বছরের সব সময় সমান কাজ থাকে না, ফলে কৃষকরা বছরের একটি বড় সময় বেকার থাকে।

সমাধানের উপায়সমূহ:
১. কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও কর্মমুখী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।
২. দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে ব্যাপক শিল্পায়ন করতে হবে।
৩. আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যুবকদের বিনা জামানতে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে।
৪. কৃষির আধুনিকায়ন ও বহুমুখীকরণ করতে হবে এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পদক্ষেপ নিতে হবে।

٣- اذكر الثروات الطبعية والمعدنية لبنغلاديش وأهميتها فى الاقتصاد-

[বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ:
প্রাকৃতিক সম্পদ: বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ হলো এর উর্বর মাটি, অসংখ্য নদ-নদী, বনজ সম্পদ (যেমন- সুন্দরবন, ভাওয়ালের গড়), মৎস্য সম্পদ এবং সৌরশক্তি।
খনিজ সম্পদ: বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (সিলেট, তিতাস, বিবিয়ানা)। এছাড়া কয়লা (বড়পুকুরিয়া), চুনাপাথর, কঠিন শিলা (মধ্যপাড়া), সিলিকা বালি, চিনামাটি ও পিট কয়লা পাওয়া যায়।

অর্থনীতিতে এর প্রভাব (গুরুত্ব):
১. কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন: উর্বর মাটির কারণে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাস সার কারখানা এবং অন্যান্য ভারী শিল্পের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।
২. বিদ্যুৎ উৎপাদন: দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিংহভাগই আসে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা ব্যবহার করে, যা অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বনজ ও মৎস্য সম্পদকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। খনিজ সম্পদ আহরণ প্রকল্পেও ব্যাপক কর্মসংস্থান হচ্ছে।
৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: মৎস্য ও কৃষিজ পণ্য রপ্তানি করে দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে এবং আমদানিনির্ভরতা কমছে।

٤- تحدث عن أهمية الزراعة فى اقتصاد بنغلاديش-

[বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম:

১. জাতীয় আয়ে অবদান: বাংলাদেশের জিডিপিতে (GDP) কৃষিখাতের অবদান প্রায় ১৩-১৪%। এটি জাতীয় আয়ের অন্যতম একটি বড় উৎস।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বেকারত্ব দূরীকরণে কৃষির বিকল্প নেই।
৩. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় কেবল কৃষিখাতের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের কারণে।
৪. শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: বাংলাদেশের অনেক বড় শিল্প, যেমন— পাটকল, বস্ত্রকল (তুলা), চিনিকল এবং চা শিল্প সম্পূর্ণরূপে কৃষিজ কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল।
৫. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: চা, পাট, চামড়া, হিমায়িত মাছ এবং বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। সুতরাং, কৃষির উন্নতি ছাড়া দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব।

٥- ما هى الصناعات المشهورة فى بنغلاديش؟ تحدث عن دور صناعة الثياب فى تنمية اقتصاد بنغلاديش-

[বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো কী? বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক শিল্পের ভূমিকা বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পসমূহ: বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ও প্রসিদ্ধ শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প (RMG), পাট শিল্প, চা শিল্প, চামড়া শিল্প, ঔষধ (ফার্মাসিউটিক্যালস) শিল্প, সার শিল্প এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক শিল্পের (RMG) ভূমিকা:
বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তৈরি পোশাক শিল্প।
১. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল রিজার্ভ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান: এই খাতে প্রায় ৪০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: পোশাক শিল্পের মোট শ্রমিকের প্রায় ৬০-৭০ ভাগই নারী। এর ফলে গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪. যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: পোশাক শিল্পের প্রসারের কারণে দেশে বন্দর, রাস্তাঘাট, ব্যাংক-বিমা, লজিস্টিকস এবং আনুষঙ্গিক প্যাকেজিং শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

٦- تحدث عن مساهمة المرأة فى التنمية الاقتصادية لبنغلاديش-

[বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান সম্পর্কে বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের অবদান বর্তমানে অত্যন্ত দৃশ্যমান এবং অপরিহার্য।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান:
১. তৈরি পোশাক শিল্পে অবদান: বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের মূল কারিগর হলো নারীরা। এই খাতের বিশাল সাফল্যের পেছনে নারী শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রম জড়িত।
২. কৃষিখাতে অংশগ্রহণ: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা ফসল বোনা, বাছাই করা, গবাদিপশু পালন এবং হাঁস-মুরগি পালনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে, যা পারিবারিক আয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলছে।
৩. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং উদ্যোক্তা: মাইক্রোক্রেডিট বা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে লাখ লাখ নারী নিজেদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হস্তশিল্প, বুটিকস এবং অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায় (e-commerce) নারীদের সাফল্য ঈর্ষণীয়।
৪. শিক্ষা ও সেবা খাত: স্বাস্থ্যসেবা (নার্সিং, ডাক্তার), ব্যাংকিং, শিক্ষা এবং প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

٧- تحدث عن خصائص الدستور الحالى لبنغلاديش-

[বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। বর্তমান সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

১. লিখিত সংবিধান: এটি একটি লিখিত দলিল, যা ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ, ১টি প্রস্তাবনা এবং ৭টি তফসিলে বিভক্ত।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়: এই সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানের কোনো অংশ পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটের প্রয়োজন হয়।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
৪. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ (যেমন: বাকস্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা) সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে এবং তা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
৫. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা: সংবিধানে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান এবং নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন রাষ্ট্রপতি।

٨- بين مساهمة شاه جلال اليمانى رحمه الله فى نشر الإسلام ببنغلاديش-

[বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে হযরত শাহজালাল ইয়ামানি (রহ) এর অবদান বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশে, বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে সুফি সাধক হযরত শাহজালাল ইয়ামানি (রহ)-এর অবদান অবিস্মরণীয়।

ইসলাম প্রচারে অবদান:
১. অত্যাচারী শাসকের পতন: সিলেটের তৎকালীন অত্যাচারী রাজা গৌর গোবিন্দের হাত থেকে মজলুম মুসলমানদের রক্ষা করতে তিনি ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ জন আউলিয়া নিয়ে সিলেট আগমন করেন এবং আধ্যাত্মিক শক্তি ও সাহসিকতার মাধ্যমে গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করেন।
২. শান্তিপূর্ণ ইসলাম প্রচার: তিনি তরবারি দিয়ে নয়, বরং তাঁর সুমহান চরিত্র, সাম্য, মানবপ্রেম এবং আধ্যাত্মিক কারামতের মাধ্যমে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেন, ফলে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।
৩. শিষ্যদের মাধ্যমে দেশব্যাপী দাওয়াত: তাঁর সাথে আসা ৩৬০ জন আউলিয়াকে তিনি শুধু সিলেটে আটকে রাখেননি, বরং ইসলাম প্রচারের জন্য বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেন (যেমন- শাহপরাণ, শাহ মালুম)। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খানকাগুলো ছিল ইসলামি শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র।

مجموعة (ب)

[খ বিভাগ]

أجب عن أربعة من الأسئلة التالية بالإختصار [সংক্ষেপে নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

الدرجات—٥×٤=٢٠ [মান—৫×৪=২০]

٩- تحدث عن دور انتخابات العام ١٩٧٠م فى استقلال بنغلاديش-

[বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ভূমিকা বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি চূড়ান্ত টার্নিং পয়েন্ট। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭টি আসন) অর্জন করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এর ফলে বাঙালিদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানিদের কাছ থেকে অধিকার আদায় সম্ভব নয়। এই নির্বাচনের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট বঙ্গবন্ধুকে সমগ্র বাঙালি জাতির একক নেতায় পরিণত করে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে আন্তর্জাতিকভাবে আইনি ও নৈতিক বৈধতা প্রদান করে।

١٠- اكتب الحدود الجغرافية لدولة بنغلاديش-

[বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এর ভৌগোলিক সীমারেখা হলো:
* উত্তরে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং আসাম রাজ্য।
* পূর্বে: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার (বার্মা)।
* দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর।
* পশ্চিমে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের তিন দিক (উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম) বিশাল ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত, কেবল দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিয়ানমারের সাথে সামান্য সীমান্ত এবং দক্ষিণে সুবিশাল বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

١١- تحدث عن الغاز الطبيعى لبنغلاديش-

[বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ। এটি দেশের সার্বিক অর্থনীতির প্রাণভোমরা। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সিংহভাগই পরিচালিত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সাহায্যে। এছাড়া সার কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে, শিল্প-কারখানার বয়লার চালাতে, এবং গৃহস্থালির রান্নার কাজে গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), বিবিয়ানা (হবিগঞ্জ), কৈলাশটিলা, রশিদপুর ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র। এটি দেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি তেলের চাহিদা কমিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।

١٢- اذكر الجمال الطبيعى لكوكس بازار بالإيجاز-

[সংক্ষেপে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত (প্রায় ১২০ কিলোমিটার)। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ। একদিকে বিশাল সমুদ্রের গর্জন আর নীল জলরাশি, অন্যদিকে ঝাউবনের স্নিগ্ধতা ও উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়ের সারি পর্যটকদের বিমোহিত করে। এখানকার হিমছড়ির ঝর্ণা, ইনানী সৈকতের প্রবাল পাথর, মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। এটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রধান কেন্দ্র।

١٣- اذكر أبرز إنجازات الحكومة فى حقل النقل البرى-

[সড়ক যোগাযোগেরে ক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ উল্লেখ কর।]

রচনামূলক উত্তর:
সড়ক যোগাযোগ খাতে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো অভাবনীয়, যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. প্রমত্তা পদ্মার বুকে নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি পদ্মা বহুমুখী সেতু, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
২. যানজট নিরসনে রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু করা।
৩. কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (যা সড়ক পথের অংশ)।
৪. ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন মহাসড়ককে ফোর লেনে উন্নীতকরণ।

١٤- اكتب الحقوق الأساسية المذكورة فى دستور بنغلاديش-

[বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের জন্য বেশ কয়েকটি মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান)।
২. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার (আইনের আশ্রয় ছাড়া কাউকে জীবন বা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না)।
৩. চলাফেরা, সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা।
৪. চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা।
৫. ধর্ম পালনের স্বাধীনতা।
৬. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার।

١٥- بين تاريخ المدرسة العالية الحكومية بداكا-

[সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা-এর ইতিহাস বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা হলো বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র। এটি মূলত ১৭৮০ সালে ব্রিটিশ গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতার বউবাজারে ‘ক্যালকাটা মোহামেডান কলেজ’ (পরবর্তীতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর এই মাদ্রাসাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং ‘ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৫৮ সালে এটি বকশীবাজার এলাকায় নিজস্ব সুবিশাল ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়। এই মাদ্রাসাটি এই অঞ্চলে আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার প্রসারে এবং অসংখ্য প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলিম তৈরিতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে।

١٦- اكتب دور المفتى عميم الإحسان رحمه الله فى علم الحديث-

[ইলমুল হাদিস বিষয়ে মুফতি আমিমুল ইহসান (রহ) এর অবদান লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
আল্লামা মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান (রহ) ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তন প্রধান মুফতি ও হেড মাওলানা। ইলমুল হাদিসের খেদমতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব ছিলেন। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও কালজয়ী গ্রন্থ হলো “ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার” (فقه السنن والآثار)। এই গ্রন্থে তিনি হানাফি মাযহাবের সপক্ষে হাদিসসমূহ সংকলন ও বিশ্লেষণ করেছেন, যা উপমহাদেশের মাদ্রাসাসমূহে রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এছাড়া হাদিসের উসূল বা মূলনীতি নিয়ে তিনি “কাওয়াইদুল ফিকহ” সহ আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করে বাংলা অঞ্চলে হাদিস চর্চাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now