তাজবীদুল কুরআন প্রশ্ন ও সমাধান – ফাযিল (অনার্স) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ | Tajweedul Quran QnA – Fazil Honors 1st Year 2023

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
TajweedulQuranQnA FazilHonors1stYear2023
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣

[ফাযিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]

القرآن والدراسات الإسلامية

[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه

[তাজভিদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফযুহু ওয়া তারজামাতু মাআ’নিহি]

বিষয় কোড: ২ ० ১ ১ ० ২

الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]

الدرجة الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]

الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة

[দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

مجموعة (أ)

[(أ) অংশ]

الدرجات—٣٠ [মান—৩০]

١- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية:

[নিচের যে কোনো দু’টি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ১০×২=২০)

(أ) عرف علم القراءة- وكم قسما له؟ اكتب نشأة علم القراءة وتطوره مفصلا-

[ইলমুল কিরাআত এর সংজ্ঞা দাও। এটা কত প্রকার? ইলমুল কিরাআত এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিশদভাবে লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
ইলমুল কিরাআতের সংজ্ঞা: ‘কিরাআত’ (قراءة) শব্দটি ‘কারআ’ (قرأ) মাজদার থেকে নির্গত, যার অর্থ পড়া বা পাঠ করা। পারিভাষিক অর্থে- “যে শাস্ত্রের মাধ্যমে আল-কুরআনের শব্দসমূহ উচ্চারণের পদ্ধতি, পঠনরীতির ভিন্নতা এবং এর বর্ণনাকারীদের (কুররাদের) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়, তাকে ইলমুল কিরাআত বলে।”

ইলমুল কিরাআতের প্রকারভেদ: ইলমুল কিরাআত প্রধানত দুই প্রকার:
১. মুতাওয়াতির (متواتر): যা এমন অসংখ্য বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত, যাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। এটিই বিশুদ্ধ কিরাআত। (যেমন: কিরাআতে সাবআ বা সাতটি কিরাআত)।
২. শায (شاذ): যা মুতাওয়াতির এর শর্ত পূরণ করে না। এটি তিলাওয়াত করা জায়েজ নেই।

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: ইলমুল কিরাআতের উৎপত্তি স্বয়ং নবী কারীম (স.)-এর যুগ থেকেই। আল্লাহ তাআলা উম্মতের সুবিধার্থে সাতটি ভিন্ন উপভাষায় (সাত হারফ) কুরআন নাজিলের অনুমতি দেন। সাহাবায়ে কেরাম নবী (স.)-এর কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন পঠনরীতি শিক্ষা গ্রহণ করেন। হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে যখন কুরআনের মুসহাফ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়, তখন প্রতিটি মুসহাফের সাথে একজন কারীও পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে, তৃতীয় হিজরি শতকে ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রহ.) সর্বপ্রথম সাতজন প্রসিদ্ধ কারীর কিরাআতকে সুসংগঠিত করেন (যা ‘কিরাআতে সাবআ’ নামে পরিচিত)। এরপরে দশ কিরাআত (কিরাআতে আশারা) প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং এ বিষয়ে আল-জাযারী (রহ.)-এর মতো পণ্ডিতরা কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করে এ শাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেন।

(ب) تحدث عن فضائل تلاوة القرآن وأهميتها وآدابها في ضوء القرآن والسنة-

[কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত, গুরুত্ব ও এর আদবসমূহ কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে আলোচনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত ও গুরুত্ব: আল-কুরআন আল্লাহর বাণী। এর তেলাওয়াত সর্বোত্তম নফল ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে… তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না” (সূরা ফাতির: ২৯)। হাদিসে এসেছে, রাসূল (স.) বলেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়” (বুখারী)। তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণের সমান” (তিরমিযি)। কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে।

কুরআন তেলাওয়াতের আদবসমূহ:
১. পবিত্রতা অর্জন: ওযু সহকারে পাক-পবিত্র হয়ে তেলাওয়াত করা।
২. কিবলামুখী হওয়া: আদবের সাথে কিবলামুখী হয়ে বসা।
৩. তাআউয ও তাসমিয়া: তেলাওয়াতের শুরুতে ‘আউযুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করা।
৪. তাজবীদ সহকারে পড়া: তারতিল বা ধীরস্থিরভাবে তাজবীদের নিয়ম মেনে তেলাওয়াত করা। আল্লাহ বলেন, “কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরস্থির ও সুষ্পষ্টভাবে” (সূরা মুযযাম্মিল: ৪)।
৫. অর্থ অনুধাবন ও প্রভাব: অর্থ বুঝে পড়া এবং রহমতের আয়াতে আল্লাহর কাছে রহমত চাওয়া ও আযাবের আয়াতে পানাহ চাওয়া।

(ج) اكتب أحكام النون الساكنة والتنوين ممثلا من القرآن الكريم-

[নুন সাকিন ও তানভিনের হুকুমসমূহ কুরআনুল কারিমের উদাহরণসহ লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
তাজবীদের পরিভাষায় নুন সাকিন (نْ) এবং তানভিনের ( ً ٍ ٌ ) পর কোন হরফ আসলো তার ভিত্তিতে এর হুকুম বা নিয়ম ৪টি। যথা:

১. ইযহার (الإظهار): স্পষ্ট করে পড়া। নুন সাকিন বা তানভিনের পর হলক্বি হরফ (ء، هـ، ع، ح، غ، خ) আসলে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مَنْ آمَنَ (মান আমানা), سَمِيعٌ عَلِيمٌ (সামী’উন্ আলীম)।

২. ইদগাম (الإدغام): মিলিয়ে পড়া। নুন সাকিন বা তানভিনের পর ‘ইয়ারমালুন’ (ي، ر، م، ل، و، ن) হরফগুলো আসলে মিলিয়ে পড়তে হয়। এটি দুই প্রকার: বা-গুন্নাহ (ي، و، م، ن) এবং বিলা-গুন্নাহ (ل، ر)।
উদাহরণ: مَن يَعْمَلْ (মাইঁ ইয়া’মাল – বা গুন্নাহ), مِن رَّبِّهِمْ (মির রাব্বিহিম – বিলা গুন্নাহ)।

৩. ইক্বলাব (الإقلاب): পরিবর্তন করে পড়া। নুন সাকিন বা তানভিনের পর (ب) হরফ আসলে, নুন-কে মীম (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِن بَعْدِ (মিম বা’দি), سَمِيعٌ بَصِيرٌ (সামী’উম বাসীর)।

৪. ইখফা (الإخفاء): গোপন করে পড়া। উপরোক্ত হরফগুলো ছাড়া বাকি ১৫টি হরফের কোনোটি নুন সাকিন বা তানভিনের পর আসলে, নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِن شَرِّ (মিন শাররি), كِتَابٌ كَرِيمٌ (কিতাবুং কারীম)।

(د) عرف مخارج الحروف- وكم عددها؟ بين مفصلا-

[মাখারিজুল হুরুফ এর সংজ্ঞা দাও। এর সংখ্যা কত? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
মাখারিজুল হুরুফের সংজ্ঞা: ‘মাখারিজ’ (مخارج) শব্দটি ‘মাখরাজ’-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থ বের হওয়ার স্থান। তাজবীদের পরিভাষায়, আরবি হরফসমূহ উচ্চারণের সময় মুখের যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়, সেই স্থানকে মাখরাজ বলা হয়।

মাখরাজের সংখ্যা: আরবি হরফ ২৯টি, কিন্তু এদের উচ্চারণের স্থান বা মাখরাজের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.) এবং অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে মাখরাজের সংখ্যা ১৭টি।

মাখরাজগুলোর বিস্তারিত স্থান: এই ১৭টি মাখরাজ মূলত ৫টি প্রধান স্থান থেকে নির্গত হয়:
১. আল-জাওফ (মুখের খালি জায়গা): এখান থেকে মদের ৩টি হরফ (ا، و، ي) উচ্চারিত হয় (১টি মাখরাজ)।
২. আল-হালক (কণ্ঠনালী): এখান থেকে ৬টি হরফ উচ্চারিত হয়। কণ্ঠনালীর শেষভাগ (ء، هـ), মধ্যভাগ (ع، ح) এবং শুরুভাগ (غ، خ) (৩টি মাখরাজ)।
৩. আল-লিসান (জিহ্বা): জিহ্বা থেকে ১৮টি হরফ উচ্চারিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্বাফ, কাফ, জিম, শিন, ইয়া, দ্বয়াদ, লাম, নুন, রা, তা, দাল, ত্বা, সা, যাল, যোয়া, যিন, সিন, সোয়াদ (১০টি মাখরাজ)।
৪. আশ-শাফাতাইন (দুই ঠোঁট): এখান থেকে ৪টি হরফ উচ্চারিত হয় (ب، م، و، ف) (২টি মাখরাজ)।
٥. আল-খায়শুম (নাসিকা মূল বা নাকের বাঁশি): এখান থেকে গুন্নাহ উচ্চারিত হয় (১টি মাখরাজ)।

٢- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية:

[নিচের যে কোনো দু’টি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ৫×২=১০)

(أ) اكتب خمسة أسماء المشهورة المكتوبة عن علم التجويد مع مؤلفيها-

[ইলমুত তাজবীদ এর উপর লিখিত প্রসিদ্ধ পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখকের নামসহ লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
ইলমুত তাজবীদ শাস্ত্রের উপর লিখিত প্রসিদ্ধ ৫টি গ্রন্থ ও লেখকের নাম হলো:
১. আল-মুকাদ্দিমা আল-জাজারিয়্যাহ (المقدمة الجزرية): আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.)।
২. হিরযুল আমানি ওয়া ওয়াজহুত তাহানি / আশ-শাতিবিয়্যাহ (حرز الأماني ووجه التهاني): ইমাম আশ-শাতিবী (রহ.)।
৩. আত-তাইসির ফিল কিরাআত আস-সাবআ (التيسير في القراءات السبع): ইমাম আবু আমর আদ-দানী (রহ.)।
৪. তুহফাতুল আতফাল (تحفة الأطفال): সুলাইমান আল-জামজুরী (রহ.)।
৫. আন-নাশর ফিল কিরাআত আল-আশারা (النشر في القراءات العشر): আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.)।

(ب) ما معنى الوقف لغة واصطلاحا؟ وما علاماته في القرآن؟ بين-

[ওয়াকফ এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? পবিত্র কুরআনে এর আলামতসমূহ কী কী? বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
ওয়াকফ এর আভিধানিক অর্থ: ওয়াকফ (الوقف) অর্থ থামা, বিরত থাকা, বা স্থগিত করা।
পারিভাষিক অর্থ: তাজবীদের পরিভাষায়, তেলাওয়াতের সময় আওয়াজকে কিছুক্ষণের জন্য ছিন্ন করা বা থামানো, যাতে নতুন করে শ্বাস নিয়ে পরবর্তী অংশ পড়া যায়। এটি সাধারণত আয়াতের শেষে বা অর্থের পূর্ণতার স্থানে করা হয়।

পবিত্র কুরআনে ওয়াকফের আলামতসমূহ:
১. مـ (ওয়াকফে লাযিম): এখানে থামা অত্যাবশ্যক, না থামলে অর্থের মারাত্মক বিকৃতি হতে পারে।
২. ط (ওয়াকফে মুতলাক): এখানে থামা উত্তম, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য নির্দেশ করে।
৩. ج (ওয়াকফে জায়েয): এখানে থামা বা মিলিয়ে পড়া উভয়টিই জায়েজ, তবে থামা ভালো।
৪. ز (ওয়াকফে মুজাওওয়ায): এখানে থামা জায়েজ হলেও মিলিয়ে পড়া উত্তম।
٥. لا (ওয়াকফে লা): এখানে থামা নিষেধ (যদি আয়াতের মাঝে থাকে)।
٦. صلى (সিলি): এখানে মিলিয়ে পড়া উত্তম।
٧. قلى (ক্বিলি): এখানে থামা উত্তম।
٨. معانقة (∴ ∴): পাশাপাশি তিন নুকতা বিশিষ্ট দুটি চিহ্ন থাকলে যেকোনো একটিতে থামতে হবে, দুটিতে একসাথে থামা যাবে না।

(ج) ما معنى الاستعاذة؟ وما أحكامها قبل تلاوة القرآن ووسطها بين-

[ইস্তিআযা কাকে বলে? কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে ও মাঝে এর বিধানসমূহ কী কী? বর্ণনা কর।]

রচনামূলক উত্তর:
ইস্তিআযা কাকে বলে: ইস্তিআযা (الاستعاذة) অর্থ আশ্রয় প্রার্থনা করা। পরিভাষায়, কুরআন তেলাওয়াত শুরুর পূর্বে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার উদ্দেশ্যে “আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম” (أعوذ بالله من الشيطان الرجيم) পাঠ করাকে ইস্তিআযা বলে।

তেলাওয়াতের পূর্বে ও মাঝে বিধান:
১. তেলাওয়াতের শুরুতে: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো” (সূরা নাহল: ৯৮)। অধিকাংশ আলেমের মতে তেলাওয়াতের শুরুতে ইস্তিআযা পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, কারও কারও মতে ওয়াজিব।
২. তেলাওয়াতের মাঝে: যদি তেলাওয়াত সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় এমন কোনো কারণে যা তেলাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট (যেমন- কাশি, হাঁচি, বা তাজবীদ নিয়ে কথা বলা), তাহলে পুনরায় শুরু করার সময় ইস্তিআযা পড়ার দরকার নেই। তবে যদি তেলাওয়াত বন্ধ করে দুনিয়াবী কথাবার্তা বা অন্য কোনো কাজ করা হয়, তবে পুনরায় শুরু করার সময় নতুন করে ইস্তিআযা পড়া সুন্নত।

(د) اكتب أحكام الراء ممثلا-

[রা এর বিধানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]

রচনামূলক উত্তর:
তাজবীদের পরিভাষায় ‘রা’ (راء) হরফটি কখনো মোটা করে (তাফখীম) এবং কখনো চিকন করে (তারক্বীক্ব) পড়তে হয়। এর প্রধান বিধানসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

১. রা-কে তাফখীম (মোটা) করে পড়ার নিয়ম:
* রা-এর ওপর যবর বা পেশ থাকলে। (যেমন: رَبُّكَ – রব্বুকা, رُزِقُوا – রুযিকু)।
* রা সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর বা পেশ থাকলে। (যেমন: تَرْضَىٰ – তারদোয়া, قُرْآنٌ – ক্বুরআন)।
* ওয়াকফের কারণে রা সাকিন হলে এবং তার আগের হরফেও সাকিন থাকলে এবং তার আগের হরফে যবর বা পেশ থাকলে। (যেমন: الْعَصْرِ – আল-আস্বর, خُسْرٍ – খুসর)।

২. রা-কে তারক্বীক্ব (চিকন) করে পড়ার নিয়ম:
* রা-এর নিচে যের থাকলে। (যেমন: رِجَالٌ – রিজালুন)।
* রা সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে আসলি যের থাকলে। (যেমন: فِرْعَوْنَ – ফিরআউন)।
* ওয়াকফের কারণে রা সাকিন হলে এবং তার আগে ‘ইয়া সাকিন’ (يْ) থাকলে। (যেমন: خَبِيرٌ – খাবীর, خَيْرٌ – খাইর)।

مجموعة (ب)

[(ب) অংশ]

الدرجات—٢٠ [মান—২০]

٣- اكتب من حفظك اثنين من السور التالية:

[নিচের সূরাগুলো থেকে যে কোনো দু’টি সূরা মুখস্থ লেখ:] (মান: ১০×২=২০)
(أ) سورة الأعلى؛
(ب) سورة العلق؛
(ج) سورة البينة؛
(د) سورة الزلزال-

রচনামূলক উত্তর: (নিম্নে দুটি সূরা দেওয়া হলো)

(أ) سورة الأعلى (সূরা আল-আ’লা):

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (1) الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّى (2) وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى (3) وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى (4) فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى (5) سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنْسَى (6) إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَى (7) وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَى (8) فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَتِ الذِّكْرَى (9) سَيَذَّكَّرُ مَنْ يَخْشَى (10) وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى (11) الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَى (12) ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَى (13) قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى (14) وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى (15) بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (16) وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى (17) إِنَّ هَذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَى (18) صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى (19)

(د) سورة الزلزال (সূরা আয-যিলযাল):

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا (1) وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا (2) وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا (3) يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا (4) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا (5) يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ (6) فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ (7) وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ (8)

مجموعة (ج)

[(ج) অংশ]

الدرجات—٣٠ [মান—৩০]

٤- ترجم اثنين من النصوص القرآنية وأجب عن الأسئلة الملحقة بها :

[নিচের যে কোনো দু’টি কুরআনিক নস-এর অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:] (মান: ১৫×২=৩০)

(أ) والتين والزيتون- وطور سينين وهذ البلد الأمين- لقد خلقنا الإنسان في أحسن تقويم- ثم رددناه أسفل سفلين- إلا الذين آمنوا وعملوا الصلحت فلهم أجر غير ممنون- فما يكذبك بعد بالدين- أليس الله بأحكم الحكمين- (٧)

রচনামূলক উত্তর (অনুবাদ):
“শপথ ডুমুর ও জয়তুনের। শপথ সিনাই পর্বতের। এবং শপথ এই নিরাপদ নগরীর (মক্কার)। নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম অবয়বে। অতঃপর আমি তাকে হীনতাগ্রস্তদের নীচতমে নামিয়ে দিয়েছি। তবে তাদেরকে ছাড়া যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। সুতরাং এরপর কিসে তোমাকে কর্মফল দিন সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?”

(١) فسر قوله تعالى: لقد خلقنا الإنسان في أحسن تقويم- (٤)

[আল্লাহ তাআলার বাণী “لقد خلقنا الإنسان في أحسن تقويم” এর তাফসীর কর।]

রচনামূলক উত্তর (তাফসীর):
এখানে “أحسن تقويم” (আহসানি তাকউইম) দ্বারা মানুষের সর্বোৎকৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক কাঠামোর কথা বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে অন্যান্য সকল প্রাণীর তুলনায় সবচেয়ে সুষম, সোজা হয়ে হাঁটার ক্ষমতা, সুন্দর অবয়ব এবং বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। প্রাণীরা যেখানে মাথা নিচু করে খাবার খায়, সেখানে মানুষ নিজের হাত দিয়ে মর্যাদার সাথে খাবার খায়। মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ গঠনই এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে।

(٢) حقق الكلمات الآتية: رددناه، أسفل، ممنون، أحكم- (٤)

[নিম্নলিখিত শব্দগুলোর তাহকীক কর: رددناه، أسفل، ممنون، أحكم]

রচনামূলক উত্তর (তাহকীক):
* رددناه (রাদাদনাহু): ছিগাহ- জমা মুতাকাল্লিম, বাহাস- ইসবাত ফেলে মাজি মারুফ, বাব- নাসারা-ইয়ানসুরু, মাজদার- الرَّدُّ, মাদ্দাহ- ر د د (র-দাল-দাল), জিনস- মুজায়াফে সুলাসি, অর্থ- আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি।
* أسفل (আসফালা): ইসমুত তাফদিল এর ছিগাহ (ওয়াহিদ মুজাক্কার)। মাজদার- السُّفْلُ, মাদ্দাহ- س ف ل (সিন-ফা-লাম), অর্থ- সবচেয়ে নিচু বা নিম্নতর।
* ممنون (মামনুন): ছিগাহ- ওয়াহিদ মুজাক্কার, ইসমে মাফউল। বাব- নাসারা-ইয়ানসুরু, মাজদার- اَلْمَنُّ, মাদ্দাহ- م ن ن (মীম-নুন-নুন), অর্থ- কর্তিত, শেষ হওয়া বা খোঁটা দেওয়া। এখানে অর্থ নিরবচ্ছিন্ন।
* أحكم (আহকামু): ইসমুত তাফদিল এর ছিগাহ (ওয়াহিদ মুজাক্কার)। মাদ্দাহ- ح ك م (হা-কাফ-মীম), অর্থ- শ্রেষ্ঠতম বিচারক, সবচেয়ে প্রজ্ঞাময়।

(ب) ويل لكل همزة لمزة- الذي جمع مالا وعدده- يحسب أن ماله أخلده- كلا لينبذن في الحطمة- وما أدراك ما الحطمة- نار الله الموقدة التي تطلع على الأفئدة- إنها عليهم مؤصدة- في عمد ممددة- (٧)

রচনামূলক উত্তর (অনুবাদ):
“দুর্ভোগ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে নিন্দাকারীর জন্য। যে সম্পদ জমা করে এবং তা গুনে গুনে রাখে। সে ধারণা করে যে, তার সম্পদ তাকে অমর করে রাখবে। কখনোই না! সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায় (পিষ্টকারী অগ্নিতে)। তুমি কি জানো হুতামা কী? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত হুতাশন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।”

(١) فسر قوله تعالى: كلا لينبذن في الحطمة- (٤)

[আল্লাহ তাআলার বাণী “كلا لينبذن في الحطمة” এর তাফসীর কর।]

রচনামূলক উত্তর (তাফসীর):
“كلا” (কখনোই না) শব্দটি দ্বারা কাফেরদের সেই মিথ্যা ধারণাকে খণ্ডন করা হয়েছে, যেখানে তারা ভাবত তাদের ধন-সম্পদ তাদেরকে মৃত্যু থেকে বাঁচাবে। “لَيُنْبَذَنَّ” অর্থ অবশ্যই তাকে নিক্ষেপ করা হবে। চরম অপমান ও অবজ্ঞার সাথে ছুঁড়ে ফেলা বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। “الحطمة” (হুতামা) হলো জাহান্নামের একটি ভয়ংকর স্তরের নাম। এর আভিধানিক অর্থ যা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। জাহান্নামের আগুন এতই ভয়াবহ হবে যে তা অপরাধীদের অস্থি-মাংস সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে হৃদয় পর্যন্ত ভেদ করে যাবে।

(٢) صف نار جهنم موجزًا- (٤)

[জাহান্নামের আগুনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।]

রচনামূলক উত্তর:
জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে বহুগুণ বেশি উত্তপ্ত এবং ভয়াবহ। রাসূল (স.) বলেছেন, “তোমাদের এই আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র” (বুখারী)। এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো “التي تطلع على الأفئدة” অর্থাৎ এই আগুন শুধু চামড়াই পোড়াবে না, বরং তা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে সরাসরি হৃৎপিণ্ড বা কলিজা পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেবে। অথচ মানুষ মারা যাবে না, বরং শাস্তি ভোগ করতেই থাকবে। জাহান্নামীদের এমন ঘরে বন্দি করা হবে যার দরজাগুলো বন্ধ করে বড় বড় লোহার স্তম্ভ দিয়ে আটকে দেওয়া হবে, যাতে পালানোর কোনো পথ না থাকে।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now