Fazil Honors 3rd Year Al Quran Question Papers 2021 (All 8 Subjects) | ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের আল-কুরআন বিভাগের ৮টি বিষয়ের সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
Fazil Honors 3rd Year Al Quran Question Papers 2021 (All 8 Subjects) | ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের আল-কুরআন বিভাগের ৮টি বিষয়ের সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১

القرآن والدراسات الإسلامية (আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ)

التفسير بالسند [আত-তাফসীর বিস সানাদ]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۱ (201301)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) من الأسئلة التالية]

[দ্রষ্টব্য: নিচের প্রশ্নগুলোর মধ্য থেকে ‘ক’ বিভাগ হতে পাঁচটি এবং ‘খ’ বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ‘ক’ বিভাগ

(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)

[সম্মানিত আয়াতসমূহের অনুবাদ কর এবং এর সাথে যুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।]

١- وما من دابة في الأرض إلا على الله رزقها ويعلم مستقرها ومستودعها كل في كتاب مبين – وهو الذي خلق السموات والأرض في ستة أيام وكان عرشه على الماء ليبلوكم أيكم أحسن عملا ، ولئن قلت إنكم مبعوثون من بعد الموت، ليقولن الذين كفروا إن هذا إلا سحر مبين –

(الف) ما معنى الرزق؟ هل الحرام رزق أم لا؟ بين-

[(ক) রিযিক এর অর্থ কী? হারাম বস্তু কি রিযিক নাকি নয়? বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): রিযিক (الرزق) আভিধানিক অর্থ: আহার, জীবনোপকরণ, প্রাপ্ত অংশ। পরিভাষায়: এমন বস্তু যা দ্বারা প্রাণী উপকৃত হয়। হারাম বস্তু রিযিক কি না, এ নিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও মুতাযিলাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আহলে সুন্নাতের মতে, হারাম বস্তুও রিযিক হিসেবে গণ্য, তবে তা উপার্জন ও ভোগ করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য।

(ب) اشرح قوله تعالى : “خلق السموات والأرض في ستة أيام”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: “তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন” – এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর (খ): ‘ছয় দিন’ (ستة أيام) বলতে দুনিয়ার স্বাভাবিক ছয় দিন (যাতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়) বোঝানো হয়নি, কারণ তখন সূর্য বা পৃথিবীর বর্তমান রূপ ছিল না। মুফাসসিরদের মতে, এখানে ‘দিন’ বলতে দীর্ঘ ছয়টি পর্যায় (Stages) বা কালকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ চাইলে এক মুহূর্তেই সব সৃষ্টি করতে পারতেন, কিন্তু ধাপে ধাপে সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বান্দাদেরকে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতার শিক্ষা দিয়েছেন।

٢- أم يقولون افتراه ، قل فأتوا بعشر سور مثله مفتريت وادعوا من استطعتم من دون الله إن كنتم صدقين – فإن لم يستجيبوا لكم فاعلموا أنما أنزل بعلم الله وأن لا إله إلا هو فهل أنتم مسلمون – من كان يريد الحيوة الدنيا وزينتها نوف إليهم أعمالهم فيها وهم فيها لا يبخسون –

(الف) كيف تحدى القرآن كفار عصره بمثل هذه الآية؟ بين-

[(ক) কুরআন কীভাবে সমসাময়িক কাফিরদেরকে এই আয়াতের মতো চ্যালেঞ্জ করেছিল? বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): মক্কার কাফিররা যখন দাবি করল যে কুরআন মুহাম্মদ (সা.) এর নিজের রচিত, তখন আল্লাহ তাদের ভাষাগত অহংকার চূর্ণ করতে পর্যায়ক্রমে চ্যালেঞ্জ করেন। প্রথমে সম্পূর্ণ কুরআনের মতো, পরে দশটি সূরার মতো (যেমটি এই আয়াতে বলা হয়েছে), এবং শেষে অন্তত একটি সূরার মতো কিছু রচনা করে আনার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়। আরবদের চরম সাহিত্যিক উৎকর্ষ থাকা সত্ত্বেও তারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, যা কুরআনের মুজিযা বা অলৌকিকত্ব প্রমাণ করে।

(ب) ما معنى الإسلام والمسلم؟

[(খ) ইসলাম ও মুসলিম এর অর্থ কী?]

উত্তর (খ): ‘ইসলাম’ (الإسلام) অর্থ আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য করা এবং শান্তির পথে চলা। পরিভাষায়, আল্লাহর তাওহীদকে মেনে নিয়ে রাসূল (সা.) এর আনীত বিধানের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করাকে ইসলাম বলে। আর ‘মুসলিম’ (المسلم) হলো সেই ব্যক্তি, যে নিজের ইচ্ছা ও কর্মকে আল্লাহর নির্দেশের কাছে সঁপে দেয় এবং ইসলামের বিধিবিধান বাস্তব জীবনে মেনে চলে।

٣- لقد كان في يوسف وإخوته آيت للسائلين- إذ قالوا ليوسف وأخوه أحب إلى أبينا منا ونحن عصبة إن أبانا لفي ضلل مبين – اقتلوا يوسف أو اطرحوه أرضا يخل لكم وجه أبيكم وتكونوا من بعده قوما صلحين – قال قائل منهم لا تقتلوا يوسف وألقوه في غيبت الجب يلتقطه بعض السيارة إن كنتم فعلين –

(الف) ما الآيات في يوسف وإخوته للسائلين؟ بين-

[(ক) জিজ্ঞাসুদের জন্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় কী কী নিদর্শন রয়েছে? বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): ইউসুফ (আ.) এর ঘটনায় অনেক নিদর্শন (آيات) রয়েছে। যেমন: ১. আল্লাহ যাকে সম্মানিত করতে চান, দুনিয়ার কোনো ষড়যন্ত্র তাকে আটকাতে পারে না। ২. হিংসা ও ষড়যন্ত্রের শেষ পরিণতি অপমানজনক হয়। ৩. ধৈর্য ও তাকওয়ার প্রতিদান আল্লাহ উত্তমরূপে প্রদান করেন। মক্কার কুরাইশরা যখন নবী (সা.) কে পরীক্ষা করার জন্য ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা জানতে চেয়েছিল, তখন এই ঘটনা তাদের জন্যই এক বড় নিদর্শন ছিল।

(ب) ما معنى العصبة في الآية وما الفرق بينها وبين نفر وطائفة وفرقة ووفد وفئة؟

[(খ) আয়াতে ‘উসবাহ’ (عصبة) এর অর্থ কী? এবং এর সাথে নাফার, তয়িফা, ফিরকাহ, ওয়াফদ ও ফিয়াহ এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

উত্তর (খ): ‘উসবাহ’ (عصبة) অর্থ শক্তিশালী দল, সাধারণত ১০ থেকে ৪০ জনের শক্তিশালী যুবক দলকে বোঝায়। পার্থক্য: ‘নাফার’ (نفر) হলো ৩-১০ জনের দল। ‘তয়িফা’ (طائفة) যেকোনো ছোট দল বা অংশ। ‘ফিরকাহ’ (فرقة) হলো একটি বড় দল থেকে বিচ্ছিন্ন বা বিভক্ত অংশ। ‘ওয়াফদ’ (وفد) হলো কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রেরিত প্রতিনিধি দল। ‘ফিয়াহ’ (فئة) হলো যুদ্ধ বা সহায়তাকারী দল।

٤- وجاءو أباهم عشاء يبكون – قالوا يا أبانا إنا ذهبنا نستبق وتركنا يوسف عند متاعنا فأكله الذئب وما أنت بمؤمن لنا ولو كنا صدقين – وجاءو على قميصه بدم كذب، قال بل سولت لكم أنفسكم أمرا، فصبر جميل، والله المستعان على ما تصفون –

(الف) ما معنى الإيمان وما المراد بمؤمن في الآية؟

[(ক) ঈমান এর অর্থ কী এবং আয়াতে ‘মুমিন’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

উত্তর (ক): আভিধানিক অর্থে ‘ঈমান’ (الإيمان) মানে বিশ্বাস স্থাপন করা বা সত্যায়ন করা (التصديق)। এই আয়াতে ‘মুমিন’ (بمؤمن) শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা বলেছিল “وما أنت بمؤمن لنا” অর্থাৎ “আপনি আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না” বা “আমাদের কথায় আস্থা রাখবেন না”।

(ب) اشرح قوله تعالى : “والله المستعان على ما تصفون”-

[(খ) আল্লাহর বাণী “তোমরা যা বর্ণনা করছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই সাহায্যস্থল” – এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর (খ): এটি ইয়াকুব (আ.) এর উক্তি। যখন তাঁর ছেলেরা ইউসুফ (আ.) এর রক্তমাখা জামা এনে মিথ্যা গল্প শোনাল, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এটি চক্রান্ত। তখন তিনি অধৈর্য না হয়ে ‘সবরে জামিল’ বা উত্তম ধৈর্যের পথ বেছে নেন এবং বলেন যে, তোমরা যে মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী বর্ণনা করছ, এ বিপদে ধৈর্য ধারণ ও সত্য উন্মোচনের জন্য একমাত্র আল্লাহ তাআলাই আমার একমাত্র সাহায্যস্থল বা সহায়।

٥- وهو الذي مد الأرض وجعل فيها رواسي وأنهرا، ومن كل الثمرات جعل فيها زوجين اثنين يغشى اليل النهار، إن في ذلك لآيات لقوم يتفكرون – وفي الأرض قطع متجورت وجنت من أعناب وزرع ونخيل صنوان وغير صنوان يسقى بماء واحد، ونفضل بعضها على بعض في الأكل إن في ذلك لآيت لقوم يعقلون-

(الف) ما الفائدة في خلق الرواسي والأنهار والبحار؟

[(ক) পর্বতমালা, নদ-নদী ও সাগর সৃষ্টির মাঝে কী উপকারিতা রয়েছে?]

উত্তর (ক): পর্বতমালা (رواسي) পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে, যাতে এটি হেলে না পড়ে। নদ-নদী (أنهار) জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জন্য সুপেয় পানির যোগান দেয়, যাতায়াত ও কৃষিকাজে সহায়তা করে। আর সাগর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মেঘ সৃষ্টি এবং মানুষের জন্য মৎস্য ও নৌ-চলাচলের বিশাল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এগুলো মহান আল্লাহর অসীম কুদরত ও প্রজ্ঞার পরিচায়ক।

(ب) ما المراد بقوله تعالى: “صنوان وغير صنوان”؟

[(খ) আল্লাহর বাণী: “সিনওয়ান ও গায়রু সিনওয়ান” দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

উত্তর (খ): ‘সিনওয়ান’ (صنوان) বহুবচন, একবচন ‘সিনও’। এর অর্থ হলো একই মূল বা শিকড় থেকে নির্গত একাধিক গাছ বা শাখা (যেমন খেজুর গাছে দেখা যায়)। আর ‘গায়রু সিনওয়ান’ (غير صنوان) বলতে এমন গাছ বোঝায় যা একটি বীজ বা মূল থেকে একটি মাত্র কাণ্ডে বেড়ে ওঠে। একই মাটিতে একই পানি দিয়ে সিঞ্চিত হওয়ার পরও এদের স্বাদ, বর্ণ ও আকৃতি ভিন্ন হয়—যা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ।

٦- له معقبت من بين يديه ومن خلفه يحفظونه من أمر الله، إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم، وإذا أراد الله بقوم سوءا فلا مرد له وما لهم من دونه من وال – هو الذي يريكم البرق خوفا وطمعا وينشئ السحاب الثقال –

(الف) من المعقبات من بين يديه ومن خلفه يحفظونه من أمر الله؟

[(ক) সামনে ও পিছন থেকে পাহারাদার কারা, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হেফাযত করে?]

উত্তর (ক): ‘মুয়াক্কিবাত’ (المعقبات) বলতে পাহারাদার ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে। তাফসীরবিদদের মতে, প্রতিটি মানুষের সাথে পাহারাদার ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। তারা পালাক্রমে দিনে ও রাতে মানুষের সামনে ও পিছনে থেকে আল্লাহর হুকুমে তাকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও জিন-শয়তানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

(ب) اشرح قوله تعالى : “إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে” – ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর (খ): এটি আল্লাহর একটি সুন্নাত বা চিরন্তন নিয়ম। আল্লাহ কোনো জাতিকে যে নিয়ামত ও সুখ-শান্তি দান করেন, তা তিনি বিনা কারণে ছিনিয়ে নেন না, যতক্ষণ না সেই জাতি নিজেরাই পাপাচার ও অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার অবনতি ঘটায়। একইভাবে, কোনো অধঃপতিত জাতি যদি নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে চায়, তবে তাদের নিজেদেরই ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

٧- وإذ تأذن ربكم لئن شكرتم لأزيدنكم ولئن كفرتم إن عذابي لشديد – وقال موسى إن تكفروا أنتم ومن في الأرض جميعا فإن الله لغني حميد – ألم يأتكم نبؤا الذين من قبلكم قوم نوح وعاد وثمود ، والذين من بعدهم لا يعلمهم إلا الله ، جاءتهم رسلهم بالبينت فردوا أيديهم في أفواههم-

(الف) ما معنى الشكر والكفر؟

[(ক) শুকরিয়া ও কুফর এর অর্থ কী?]

উত্তর (ক): ‘শুকরিয়া’ (الشكر) অর্থ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে তাঁরই আনুগত্যে ব্যবহার করা এবং অন্তরে, মুখে ও কাজে তার স্বীকৃতি প্রদান করাকে শুকরিয়া বলে। অন্যদিকে, ‘কুফর’ (الكفر) এর আভিধানিক অর্থ ঢেকে রাখা বা অস্বীকার করা। এই আয়াতে কুফর বলতে নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা (কুফরানে নিয়ামত) এবং আল্লাহর বিধান অস্বীকার করাকে বোঝানো হয়েছে।

(ب) تحدث عن قوم نوح وعاد وثمود باختصار-

[(খ) নূহ, আদ ও সামুদ জাতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর (খ):
১. কওমে নূহ: হযরত নূহ (আ.) ৯৫০ বছর তাঁর জাতিকে তাওহীদের দাওয়াত দেন। কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে প্রলয়ঙ্কারী বন্যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেন।
২. আদ জাতি: এরা ইয়েমেনের আহকাফ অঞ্চলে বসবাস করত। এরা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুঠাম দেহের অধিকারী। তারা হুদ (আ.) এর দাওয়াত অমান্য করায় এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক ঝড়ের মাধ্যমে তাদের সমূলে নিপাত করা হয়।
৩. সামুদ জাতি: এরা হিজর অঞ্চলে বসবাস করত এবং পাহাড় কেটে বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করত। সালেহ (আ.) তাদের নবী ছিলেন। তারা আল্লাহর নিদর্শনস্বরূপ প্রেরিত উটনীকে হত্যা করলে এক বিকট শব্দ ও ভূমিকম্পের মাধ্যমে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেন।

٨- وقالوا يأيها الذي نزل عليه الذكر إنك لمجنون – لو ما تأتينا بالملئكة إن كنت من الصدقين – ما ننزل الملئكة إلا بالحق وما كانوا إذا منظرين – إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحفظون – ولقد أرسلنا من قبلك في شيع الأولين –

(الف) لم قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم إنك لمجنون؟ وهل كان فيه جنون؟ وضح –

[(ক) তারা কেন নবী (সা.)-কে ‘মাজনুন’ বা পাগল বলেছিল? তাঁর মধ্যে কি উন্মাদনা ছিল? স্পষ্ট কর।]

উত্তর (ক): মক্কার মুশরিকরা নবী (সা.)-কে ব্যঙ্গ করে ‘মাজনুন’ বলত কারণ তিনি তাদের বাপ-দাদার আমলের মূর্তিপূজার বিরোধিতা করতেন এবং এমন সব ওহীর কথা বলতেন যা তাদের কাছে বোধগম্য ছিল না। বস্তুত, তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র উন্মাদনা ছিল না। তিনি ছিলেন আরবের সবচেয়ে বুদ্ধিমান, বিশ্বস্ত (আল-আমিন) এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। কাফিরদের এই অপবাদ ছিল শুধুই সত্যকে অস্বীকার করার একটি বিদ্বেষপূর্ণ অপকৌশল।

(ب) ما معنى الذكر وما المراد بالذكر في هذه الآيات الكريمة؟

[(খ) যিকির এর অর্থ কী এবং এই সম্মানিত আয়াতগুলোতে যিকির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

উত্তর (খ): ‘যিকির’ (الذكر) এর আভিধানিক অর্থ স্মরণ করা, আলোচনা করা বা উপদেশ। তবে এই আয়াতগুলোতে (যেমন: “إنا نحن نزلنا الذكر”) ‘যিকির’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে পবিত্র ‘আল-কুরআন’ কে বোঝানো হয়েছে। কারণ কুরআন মানুষের জন্য চরম উপদেশ এবং আল্লাহর স্মরণের সর্বোত্তম মাধ্যম। আল্লাহ নিজেই এই ‘যিকির’ বা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।


مجموعة (ب) – ‘খ’ বিভাগ

أجب عن واحد مما يلي

[নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

٩- ما معنى التفسير بالسند؟ اذكر أنواعه وقواعده مفصلا –

[৯. তাফসীর বিস-সানাদ এর অর্থ কী? এর প্রকারভেদ ও নীতিমালা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ কর।]

উত্তর সংকেত: তাফসীর বিস-সানাদ বা তাফসীর বিল-মা’সূর বলতে এমন তাফসীরকে বোঝায় যা কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনদের থেকে নির্ভরযোগ্য সনদে (বর্ণনাসূত্রে) বর্ণিত হয়েছে। এর প্রকারভেদ ও নীতিমালার জন্য তাফসীর উসূল শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করতে হবে।

١٠- اذكر نبذة من حياة المفسر العلام أبى الفداء اسمعيل بن كثير صاحب تفسير القرآن العظيم ثم بين مناهجه وخصائص تفسيره المذكور –

[১০. ‘তাফসীরুল কুরআনিল আযীম’ এর রচয়িতা আল্লামা আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে কাসীর এর জীবনী সংক্ষেপে উল্লেখ কর। অতঃপর তাঁর উক্ত তাফসীরের পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: হাফিয ইমাদউদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে কাসীর (৭০১-৭৭৪ হি.) একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক এবং মুফাসসির ছিলেন। তাঁর তাফসীরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন’ বা এক আয়াতের দ্বারা অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান, এরপর হাদীসের দ্বারা ব্যাখ্যা, এবং এরপর সাহাবা ও তাবেঈনদের আসার (উক্তি) দ্বারা ব্যাখ্যা। এটি তাফসীর বিল মা’সূর ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١

[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بدون السند-٢ [আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ-২]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۲ (201302)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ۴ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة]

[দ্রষ্টব্য: ‘ক’ বিভাগ হতে পাঁচটি এবং ‘খ’ বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রান্তিক সংখ্যা পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) – ‘ক’ বিভাগ

١- وهو الذى سخر البحر لتأكلوا منه لحما طريا وتستخرجوا منه حلية تلبسونها، وترى الفلك مواخر فيه ولتبتغوا من فضله ولعلكم تشكرون – وألقى فى الأرض رواسى أن تميد بكم وأنهارا وسبلا لعلكم تهتدون – وعلامات وبالنجم هم يهتدون –

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) সম্মানিত আয়াতসমূহের অনুবাদ কর।]

উত্তর (ক): “আর তিনিই সাগরকে অনুগত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা গোশত (মাছ) খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর। আর তুমি দেখতে পাও, তার বুক চিরে নৌযানগুলো চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে এবং নদ-নদী ও পথসমূহ তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যে পৌঁছতে পার। এবং পথ নির্ণায়ক অনেক চিহ্নও; আর তারা তারকারাজির সাহায্যেও পথনির্দেশ পায়।”

(ب) فسر قوله تعالى: “وألقى فى الأرض رواسى أن تميد بكم”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: “আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে” – এর তাফসীর কর।]

উত্তর (খ): ‘রওয়াসি’ (رواسي) অর্থ সুদৃঢ় পর্বতমালা। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে স্থির ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখার জন্য পেরেকস্বরূপ বিশাল পর্বতমালা সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবী প্রতিনিয়ত নিজ অক্ষে ঘুরছে। যদি পাহাড় না থাকত, তবে পৃথিবীর আবর্তনের সময় প্রচণ্ড কম্পন ও অস্থিরতা সৃষ্টি হতো, যার ফলে মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ত।

(ج) من الذى سخر البحر؟ من خالق كل شىء؟ أثبت بالكتاب والسنة-

[(গ) সাগরকে কে অনুগত করেছেন? সবকিছুর স্রষ্টা কে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ কর।]

উত্তর (গ): সাগরকে মহান আল্লাহ তাআলাই অনুগত করেছেন। সবকিছুর স্রষ্টাও একমাত্র আল্লাহ। কুরআনের প্রমাণ: আল্লাহ বলেন, “اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ” (আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা – সূরা যুমার: ৬২)। সুন্নাহর প্রমাণ: রাসূল (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি কারিগর ও তার কর্মের স্রষ্টা” (বুখারী: খালকু আফআলিল ইবাদ)।

٢- وقضينا إلى بنى إسرائيل فى الكتاب لتفسدن فى الأرض مرتين ولتعلن علوا كبيرا- فإذا جاء وعد أولاهما بعثنا عليكم عبادا لنا أولى بأس شديد فجاسوا خلال الديار، وكان وعدا مفعولا- ثم رددنا لكم الكرة عليهم وأمددناكم بأموال وبنين وجعلناكم أكثر نفيرا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) সম্মানিত আয়াতসমূহের অনুবাদ কর।]

উত্তর (ক): “আর আমি কিতাবে বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তোমরা পৃথিবীতে অবশ্যই দু’বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং অত্যন্ত অহংকারে স্ফীত হবে। অতঃপর যখন দুটির প্রথমটির নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার এমন বান্দাদেরকে, যারা ছিল অত্যন্ত কঠোর যোদ্ধা; তারা ঘরে ঘরে প্রবেশ করে তন্ন তন্ন করে খুঁজলো। আর এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ারই ছিল। তারপর আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে আবার পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করলাম এবং জনবলে তোমাদেরকে শক্তিশালী করলাম।”

(ب) فسر قوله تعالى: “لتفسدن فى الأرض مرتين”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: “তোমরা পৃথিবীতে দু’বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে” – এর তাফসীর কর।]

উত্তর (খ): এখানে বনী ইসরাঈল কর্তৃক ফিলিস্তিন বা শামে সংঘটিত দুটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিপর্যয়টি ছিল তাওরাতের বিধান অমান্য করা, যাকারিয়া (আ.) ও অন্যান্য নবীদের হত্যা করা। এর শাস্তিস্বরূপ ব্যবিলনের রাজা বখতে নাসের (নেবুচাদনেজার) তাদের উপর আক্রমণ করে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করে। দ্বিতীয় বিপর্যয়টি ছিল ঈসা (আ.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করা, যার ফলে রোমান শাসক তিতুস তাদের চরমভাবে পর্যুদস্ত করে।

(ج) ما معنى الفساد؟ بين أنواعه-

[(গ) ‘ফাসাদ’ এর অর্থ কী? এর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।]

উত্তর (গ): ‘ফাসাদ’ (الفساد) এর আভিধানিক অর্থ: বিশৃঙ্খলা, অনর্থ, বিপর্যয় বা ধ্বংস। পরিভাষায়, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করে সমাজে অন্যায়, অবিচার ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়াকে ফাসাদ বলে। প্রকারভেদ: ১. আকিদাগত ফাসাদ (শিরক, কুফর)। ২. চরিত্র ও কর্মগত ফাসাদ (খুন, ব্যভিচার, জুলুম)। ৩. অর্থনৈতিক ফাসাদ (সুদ, ঘুষ, চুরি)।

٣- اقرأ كتابك، كفى بنفسك اليوم عليك حسيبا- من اهتدى فإنما يهتدى لنفسه ومن ضل فإنما يضل عليها، ولا تزر وازرة وزر أخرى، وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا- وإذا أردنا أن نهلك قرية أمرنا مترفيها ففسقوا فيها فحق عليها القول فدمرناها تدميرا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) সম্মানিত আয়াতসমূহের অনুবাদ কর।]

উত্তর (ক): “(বলা হবে) তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর, আজ তোমার নিজের হিসাব নিকাশের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করে, সে তো নিজের মঙ্গলের জন্যই তা করে; আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজের ধ্বংসের জন্যই পথভ্রষ্ট হয়। আর কোনো বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। আর আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না। আর যখন আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন তার বিত্তবান লোকদেরকে (সৎকাজের) আদেশ দেই, কিন্তু তারা সেখানে পাপাচার করে; ফলে তাদের উপর শাস্তির ফয়সালা অবধারিত হয়ে যায়, অতঃপর আমি তাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেই।”

(ب) فسر قوله تعالى: “اقرأ كتابك كفى بنفسك اليوم عليك حسيبا”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: “পাঠ কর তোমার কিতাব, আজ তোমার হিসাব নেওয়ার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট” – এর তাফসীর কর।]

উত্তর (খ): কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি মানুষের আমলনামা তার সামনে উপস্থিত করা হবে। দুনিয়ার জীবনে সে প্রকাশ্যে বা গোপনে যা কিছু করেছে, সবই তাতে লিপিবদ্ধ থাকবে। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমার বিচার করার জন্য আজ অন্য কোনো বিচারকের প্রয়োজন নেই, তুমি নিজেই তোমার আমলনামা পড়ে দেখো এবং নিজের প্রতি ইনসাফ করো যে তুমি কী প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য।

(ج) وضح قوله تعالى: “وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا”-

[(গ) আল্লাহর বাণী: “আর আমি রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদানকারী নই” – স্পষ্ট কর।]

উত্তর (গ): এটি মহান আল্লাহর অসীম ন্যায়বিচারের প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা কোনো সম্প্রদায়কে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কুফর বা পাপের কারণে শাস্তি দেন না, যতক্ষণ না তিনি তাদের কাছে নবী বা রাসূল পাঠিয়ে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন। দলীল প্রমাণ পেশ করার পরই কেবল অপরাধীদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়।

٤- الحمد لله الذى أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجا- قيما لينذر بأسا شديدا من لدنه ويبشر المؤمنين الذين يعملون الصالحات أن لهم أجرا حسنا- ماكثين فيه أبدا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) সম্মানিত আয়াতসমূহের অনুবাদ কর।]

উত্তর (ক): “যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। তাকে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন এবং সৎকর্মশীল মুমিনদেরকে এ সুসংবাদ দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। যাতে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।”

(ب) بين سبب نزول سورة الكهف-

[(খ) সূরা আল-কাহফ এর শানে নুযূল (অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট) বর্ণনা কর।]

উত্তর (খ): মক্কার কুরাইশরা রাসূল (সা.)-কে পরীক্ষা করার জন্য ইহুদি পণ্ডিতদের পরামর্শে তাঁকে তিনটি প্রশ্ন করেছিল: ১. আসহাবে কাহফ বা গুহাবাসী যুবকদের ঘটনা কী? ২. যুলকারনাইন বাদশাহর ঘটনা কী? ৩. রুহ (আত্মা) কী? রাসূল (সা.) ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলেই আগামী দিন উত্তর দেবেন বলে জানান। ফলে ১৫ দিন ওহী আসা বন্ধ থাকে। এরপর আল্লাহ তাআলা এই সূরা কাহফ অবতীর্ণ করে প্রথম দুটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং সূরা বনী ইসরাঈলে রুহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রদান করেন।

(ج) اكتب عشرة دروس من سورة الكهف-

[(গ) সূরা কাহফ থেকে শিক্ষণীয় দশটি বিষয় লেখ।]

উত্তর (গ): সূরা কাহফের দশটি শিক্ষা:
১. ঈমান রক্ষার্থে প্রয়োজনে হিজরত করা।
২. দুনিয়ার চাকচিক্যে ধোঁকা না খাওয়া।
৩. ভবিষ্যতের কোনো কাজের প্রতিশ্রুতি দিলে অবশ্যই ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা।
৪. আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের অলৌকিকভাবে রক্ষা করতে পারেন।
৫. অহংকার পতনের মূল (যেমন বাগানের মালিকের ঘটনা)।
৬. ইলম বা জ্ঞানের অন্বেষণে বিনয়ী হওয়া (মূসা ও খিজির আ.-এর ঘটনা)।
৭. ক্ষমতার অপব্যবহার না করে ন্যায়বিচার করা (যুলকারনাইনের ঘটনা)।
৮. কিয়ামতের দিন আমল ছাড়া দুনিয়ার সম্পদ কাজে আসবে না।
৯. শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু, তাকে বন্ধু বানানো যাবে না।
১০. আল্লাহর কালেমা বা গুণাবলি এত বিশাল যে তা লিখে শেষ করা অসম্ভব।

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١

[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث [দিরাসাতুল হাদীস]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۴ (201304)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة]

[দ্রষ্টব্য: ‘ক’ বিভাগ হতে পাঁচটি এবং ‘খ’ বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রান্তিক সংখ্যা পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) – ‘ক’ বিভাগ

(ترجم الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)

[নিচের হাদীসসমূহের অনুবাদ কর এবং এর সাথে যুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।]

١- عن ابن عباس رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس وكان أجود ما يكون فى رمضان حين يلقاه جبريل وكان يلقاه فى كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة-

[হাদীসের ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। আর রমজান মাসে যখন জিবরীল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত। জিবরীল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রবহমান বায়ুর চেয়েও বেশি কল্যাণময় দানশীল ছিলেন।]

(الف) ما معنى الوحى؟ بين أقسامه مفصلا-

[(ক) ওহী এর অর্থ কী? এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): ‘ওহী’ (الوحي) এর আভিধানিক অর্থ: গোপনে ইশারা করা, দ্রুত জানানো, ইলহাম বা অন্তরে নিক্ষেপ করা। পরিভাষায়: আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী-রাসূলদের কাছে যে বাণী বা শরীয়তের বিধান ফেরেশতার মাধ্যমে বা সরাসরি প্রেরণ করেন, তাকে ওহী বলে।

প্রকারভেদ: ওহী প্রধানত দু’প্রকার:
১. ওহী মাতলু (পঠিত ওহী): যা নামাজে তিলাওয়াত করা হয়, অর্থাৎ পবিত্র আল-কুরআন। এর শব্দ ও অর্থ উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে।
২. ওহী গায়রে মাতলু (অপঠিত ওহী): যা নামাজে তিলাওয়াত করা হয় না, অর্থাৎ হাদীসে নববী। এর অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু ভাষা নবী (সা.) এর।

(ب) اشرح “كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس”-

[(খ) “রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন” – এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর (খ): রাসূল (সা.) স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। কেউ তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি কখনো ‘না’ বলতেন না। তবে রমজান মাসে তাঁর দানের মাত্রা এতই বৃদ্ধি পেত যে, তাকে ‘প্রবহমান বায়ু’ (الريح المرسلة) এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। প্রবহমান বায়ু যেমন ধনী-দরিদ্র, ভালো-মন্দ নির্বিশেষে সবার উপকার করে এবং দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হয়, তেমনি রমজানে নবী (সা.) এর দান-দাক্ষিণ্য ও কল্যাণ সবার কাছে দ্রুত পৌঁছে যেত।

٢- عن معاوية رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من يرد الله به خيرا يفقهه فى الدين وإنما أنا قاسم والله يعطى ولن تزال هذه الأمة قائمة على أمر الله لا يضرهم من خالفهم حتى يأتى أمر الله-

[হাদীসের মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা (গভীর জ্ঞান) দান করেন। আমি তো কেবল বণ্টনকারী, আর আল্লাহই দান করেন। আর এ উম্মত সর্বদাই আল্লাহর নির্দেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) এসে যায়।”]

(الف) عرف العلم لغة وشرعا ثم بين أقسامه مفصلا-

[(ক) আভিধানিক ও শরিয়তের পরিভাষায় ইলমের পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): ‘ইলম’ (العلم) এর আভিধানিক অর্থ: জানা, উপলব্ধি করা, জ্ঞান, বিদ্যা। শরীয়তের পরিভাষায়: আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সা.) থেকে ওহীর মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয়, তাকে ইলম বলে।

প্রকারভেদ: হুকুম অনুযায়ী ইলম দু’প্রকার:
১. ফরযে আইন: যে পরিমাণ দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করলে একজন মুসলিম নিজের আকিদা, ইবাদত (নামাজ, রোজা) এবং দৈনন্দিন জীবনের হালাল-হারাম জানতে পারে, তা অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।
২. ফরযে কিফায়া: কুরআন, হাদীস, ফিকহ ও তাফসীরের গভীর জ্ঞান অর্জন করা, যাতে সমাজের বিচার-ফয়সালা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়। সমাজের কিছু লোক এটি শিখলে সবার দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়।

(ب) اشرح قوله صلى الله عليه وسلم : “من يرد الله به خيرا يفقهه فى الدين”-

[(খ) রাসূল (সা.) এর বাণী “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন” – এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর (খ): ‘ফিকহ’ অর্থ গভীরভাবে বোঝা বা প্রজ্ঞা। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে অনেককেই ধন-সম্পদ দেন, কিন্তু দ্বীনের সঠিক বুঝ বা ইলম কেবল তাদেরকেই দেন, যাদের তিনি ভালোবাসেন এবং যাদের আখেরাতের কল্যাণ চান। দ্বীনের প্রজ্ঞা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং শিরক, বিদআত ও পাপ থেকে রক্ষা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে।

٣- عن معاذ بن جبل قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معاذ! أتدرى ما حق الله على العباد؟ قال : الله ورسوله أعلم، قال : أن يعبد الله ولا يشرك به شيئ، قال : أتدرى ما حقهم عليه إذا فعلوا ذالك، فقال : الله ورسوله أعلم، قال : أن لا يعذبهم-

[হাদীসের মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল (সা.) বললেন, তা হলো- তারা কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। তিনি আবার বললেন, তুমি কি জানো, বান্দারা যখন তা করবে, তখন আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল (সা.) বললেন, তা হলো- আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না।]

(الف) عرف الشرك مع بيان أقسامه مفصلا-

[(ক) শিরক এর পরিচয় এবং এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): ‘শিরক’ (الشرك) এর আভিধানিক অর্থ অংশীদার স্থাপন করা। শরীয়তের পরিভাষায়: আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার বা সমকক্ষ মনে করাকে শিরক বলে। এটি সবচেয়ে বড় গুনাহ।

প্রকারভেদ: শিরক প্রধানত দু’প্রকার:
১. শিরকে আকবার (বড় শিরক): আল্লাহর উপাসনায় অন্য কাউকে সরাসরি শরিক করা (যেমন মূর্তি পূজা, পীর-কবরকে সিজদা করা)। এতে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।
২. শিরকে আসগার (ছোট শিরক): লোকদেখানো ইবাদত (রিয়া) করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা। এতে মানুষ কাফির হয় না, তবে চরম গুনাহগার হয়।

(ب) اشرح قوله صلى الله عليه وسلم : “أن لا يعذبهم”-

[(খ) রাসূল (সা.) এর বাণী “তাদেরকে শাস্তি না দেওয়া” – এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর (খ): এটি মহান আল্লাহর অসীম দয়া ও অনুগ্রহের প্রকাশ। আল্লাহ বান্দার ওপর কোনো কিছুতে বাধ্য নন, কিন্তু তিনি দয়াপরবশ হয়ে নিজের ওপর এই অধিকার বা ‘হক’ নির্ধারণ করে নিয়েছেন যে, যে বান্দা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং বিন্দুমাত্র শিরক করবে না, আল্লাহ তাকে পরকালে জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তি থেকে মুক্তি দেবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।


مجموعة (ب) – ‘খ’ বিভাগ

٩- وازن بين الصحيحين مفصلا-

[৯. সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর মধ্যে বিস্তারিত তুলনামূলক আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমকে একত্রে ‘সহীহাইন’ বলা হয়। উম্মতের ইজমা অনুযায়ী কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হলো সহীহ বুখারী, এরপর সহীহ মুসলিম। বুখারীর শর্ত বেশি কঠোর, বিশেষ করে বর্ণনাকারীদের সাক্ষাতের (লিকা) ব্যাপারে। অন্যদিকে, সহীহ মুসলিমের তারতীব বা বিন্যাস খুবই চমৎকার এবং একই স্থানে একটি হাদীসের সমস্ত সনদ একত্রিত করা হয়েছে।

١٠- اكتب ترجمة ابن ماجه رحمه الله ثم بين منهجه فى كتابه السنن-

[১০. ইবনে মাজাহ (রহ.) এর জীবনী লেখ। অতঃপর তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে তাঁর পদ্ধতি বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: ইমাম ইবনে মাজাহ (২০৯-২৭৩ হি.) এর মূল নাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ। তিনি হাদীস অন্বেষণে ইরাক, হিজায, মিশর ও সিরিয়া সফর করেন। তাঁর রচিত ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’ সিহাহ সিত্তাহর ষষ্ঠ গ্রন্থ। এর পদ্ধতি হলো: এটি ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত, এতে অনেক বিরল (যাওয়ায়েদ) হাদীস রয়েছে যা অন্য ৫টি গ্রন্থে নেই, এবং এর ভূমিকা বা মুকাদ্দামা অংশটি ইলমে হাদীসের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١

[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الفرق الإسلامية وعقائدها [আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আকায়িদুহা]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۵ (201305)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-]

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) – [(ক) অংশ]

الدرجات – ٦٠ = ٤ × ١٥

١- تحدث عن أهمية العقيدة في حياة المسلم في ضوء القرآن والسنة-

[১. কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলমানের জীবনে আক্বীদাহর গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: আকীদা হলো ইসলামের মূলভিত্তি বা শেকড়, আর আমল হলো তার শাখা-প্রশাখা। বিশুদ্ধ আকীদা ছাড়া কোনো ইবাদত বা আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। কুরআনে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে” (সূরা কাহফ: ১১০)। রাসূল (সা.) মক্কী জীবনের ১৩ বছর শুধু তাওহীদ ও বিশুদ্ধ আকীদার দাওয়াত দিয়েছেন, যা মানবজীবনে এর অপরিহার্যতা প্রমাণ করে।

٢- ما الفرق الضلالة التي ظهرت في عهد الصحابة (رض)- اذكر خلفية ظهورها ونشاطاتها موجزاً-

[২. সাহাবায়ে কেরামের যুগে আত্মপ্রকাশ করা ভ্রান্ত দলগুলো কী কী? তাদের আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: সাহাবায়ে কেরামের যুগে প্রধানত তিনটি ভ্রান্ত দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে: ১. খারেজী, ২. শিয়া, এবং ৩. কাদারিয়্যা (তাকদিরে অবিশ্বাসী)।
প্রেক্ষাপট: খলিফা উসমান (রা.) এর শাহাদাত এবং পরবর্তীতে আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.) এর মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মতানৈক্য থেকে খারেজী ও শিয়াদের উদ্ভব হয়। অন্যদিকে, পারস্য ও রোমান দর্শনের প্রভাবে তাকদির অস্বীকারকারী কাদারিয়্যা সম্প্রদায়ের জন্ম হয়। তারা মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি ও উগ্রবাদী কার্যক্রমে লিপ্ত ছিল।

٣- تحدث عن الاضطرابات السياسية والتداعيات العقدية التي أحدثتها فرقة الخوارج في المجتمع الإسلامي موضحاً-

[৩. খারেজী সম্প্রদায় মুসলিম সমাজে যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও বিশ্বাসগত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল তা বিশদভাবে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত:
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা: তারা আলী (রা.) এর সেনাদল থেকে বিদ্রোহ করে এবং পরবর্তীতে তাঁকেই শহীদ করে। তারা উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতকালে ক্রমাগত সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে মুসলিম সমাজে রক্তপাত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।
বিশ্বাসগত প্রতিক্রিয়া (আকীদা): তারা কবিরা গুনাহকারীকে কাফির ফতোয়া দিত। তাদের মতে, পাপী ব্যক্তি চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। তারা নিজেদের মতাদর্শের বাইরের মুসলমানদের হত্যা করা বৈধ মনে করত, যা মুসলিম সমাজে চরম উগ্রবাদের জন্ম দেয়।

٤- عرف المعتزلة ثم اذكر أصول عقائدهم وكتبهم المشهورة –

[৪. মু’তাজিলা সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের মৌলিক আক্বীদাহ ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর সংকেত: মু’তাজিলা হলো একটি যুক্তিবাদী ভ্রান্ত সম্প্রদায়, যার প্রতিষ্ঠাতা ওয়াসিল ইবনে আতা। তারা হাসান বসরী (রহ.) এর মজলিস থেকে পৃথক (ই’তিযাল) হয়ে যাওয়ায় তাদের মু’তাজিলা বলা হয়।
৫টি মৌলিক আকীদা: ১. তাওহীদ (আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকার করা), ২. আদল বা ন্যায়বিচার (বান্দা নিজ কর্মের স্রষ্টা), ৩. ওয়াদ ও ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও ভীতি প্রদর্শন), ৪. আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (কবিরা গুনাহকারী মুমিনও নয়, কাফিরও নয়), ৫. আমর বিল মা’রূফ ও নাহী আনিল মুনকার।
প্রসিদ্ধ গ্রন্থ: আল-মুগনী (কাযী আবদুল জাব্বার), আল-কাশশাফ (যামাখশারী- তাফসীর গ্রন্থ)।

٥- من أهل السنة والجماعة؟ وما الأشعرية والماتريدية؟ بين موضحاً-

[৫. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত কারা? আশয়ারিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহ কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত: যারা আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) এর সুন্নাত এবং সাহাবায়ে কেরামের (জামায়াত) আদর্শের পূর্ণ অনুসরণ করে, তারাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।
আশয়ারিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহ: মু’তাজিলা ও অন্যান্য ভ্রান্ত মতবাদের যুক্তিখণ্ডন করে সঠিক আকীদা তুলে ধরার জন্য ইলমুল কালামে যে দুটি প্রধান ধারার সৃষ্টি হয়, তাই হলো আশয়ারিয়্যাহ (ইমাম আবুল হাসান আল-আশয়ারী এর অনুসারী) এবং মাতুরিদিয়্যাহ (ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদী এর অনুসারী)। এরা উভয়ই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের মাঝে মৌলিক কোনো মতবিরোধ নেই।

٦- من أهل القرآن؟ وما عقيدتهم؟ بين موقف أهل السنة والجماعة منهم –

[৬. আহলে কুরআন কারা? তাদের আক্বীদাহ কী? তাদের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অবস্থান আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: ‘আহলে কুরআন’ বা ‘মুনকিরে হাদীস’ হলো এমন একটি বিভ্রান্তিকর দল যারা শুধু কুরআন মানার দাবি করে এবং রাসূল (সা.) এর হাদীসকে শরীয়তের উৎস হিসেবে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।
আহলে সুন্নাতের অবস্থান: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সর্বসম্মত মত হলো, যারা হাদীস অস্বীকার করে তারা দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ। কারণ, পবিত্র কুরআনেই আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর আনুগত্যকে বাধ্যতামূলক করেছেন এবং হাদীস ছাড়া কুরআনের সালাত, যাকাত ও হজের মতো মৌলিক বিধানগুলোর বাস্তব রূপায়ন অসম্ভব।


مجموعة (ب) – [(খ) অংশ]

الدرجات – ٢٠ = ٥ × ٤

٧- اكتب ثلاث آيات قرآنية في ذم الافتراق والاختلاف مع ترجمتها باللغة البنغالية-

[৭. বাংলা অনুবাদসহ অনৈক্য ও বিভেদের প্রতি নিন্দাসূচক কুরআনের তিনটি আয়াত লেখ।]

উত্তর সংকেত:
১. “وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا” (আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। – সূরা আল ইমরান: ১০৩)

২. “إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ” (নিশ্চয় যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। – সূরা আল আনআম: ১৫৯)

৩. “وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ – مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا” (আর তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। – সূরা রূম: ৩১-৩২)

٨- تحدث عن فروع الشيعة موجزاً-

[৮. শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শাখা ও উপদল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: শিয়াদের মূলত তিনটি প্রধান শাখা রয়েছে: ১. ইসনা আশারিয়্যা (ইমামিয়া): এরা ১২ জন ইমামে বিশ্বাসী এবং বর্তমানে ইরানে এদের সংখ্যা গরিষ্ঠ। ২. যায়দিয়্যা: এরা ইমাম যায়দ বিন আলীর অনুসারী। শিয়াদের মধ্যে এরা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি মধ্যপন্থী এবং আহলে সুন্নাতের কাছাকাছি। ৩. ইসমাঈলিয়্যা: এরা ৭ম ইমাম হিসেবে ইসমাইলকে মানে। এরা বাতেনী বা চরমপন্থী শিয়া হিসেবে পরিচিত, যাদের আকীদা ইসলামের মূল ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

٩- عرف البهائية ثم بين عقائدها الأساسية-

[৯. বাহায়ী সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: বাহায়ী ধর্মাবলম্বীরা হলো একটি নতুন ধর্মমত যারা বাহাউল্লাহকে (মির্জা হুসাইন আলী নূরী) তাদের নবী হিসেবে মানে। এটি ১৯শ শতাব্দীতে ইরানে বাবী ধর্ম থেকে উদ্ভূত। তাদের মৌলিক বিশ্বাস হলো: ১. খতমে নবুওয়াতে অস্বীকার করা (তারা বিশ্বাস করে নবুওয়াত চলতেই থাকবে), ২. সকল ধর্মই এক (সব ধর্মের একত্রীকরণ), ৩. কুরআন মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ)। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই দল ইসলাম থেকে খারিজ।

١٠- فنّد عقيدة القاديانية في ختم النبوة مدعماً بالأدلة من القرآن والسنة-

[১০. কুরআন ও হাদিসের প্রমাণসহ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ‘খতমে নবুওয়াত’ বিষয়ক আক্বীদাহ খণ্ডন কর।]

উত্তর সংকেত: কাদিয়ানীরা মির্জা গোলাম আহমদকে নবী মেনে ‘খতমে নবুওয়াত’ (নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি) কে অস্বীকার করে, যা সুস্পষ্ট কুফর।
কুরআনের প্রমাণ: আল্লাহ বলেন, “মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী” (সূরা আহযাব: ৪০)।
হাদীসের প্রমাণ: রাসূল (সা.) বলেছেন, “আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না” (বুখারী ও মুসলিম)। এই অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে কাদিয়ানীদের আকীদা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও বাতিল।

١١- ما الفرق بين الجبرية والمرجئة في الإيمان بالقدر؟ بين موضحاً-

[১১. তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ‘জাবারিয়া’ ও ‘মুরজিয়া’ সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
জাবারিয়া: এরা বিশ্বাস করে যে মানুষের কোনো ইচ্ছাশক্তি বা কর্মক্ষমতা নেই। মানুষ বাতাসের সামনে শুকনো পাতার মতো সম্পূর্ণ বাধ্য (মাজবুর)। তারা তাকদিরকে এমন চরম পর্যায়ে নিয়ে যায় যে মানুষের কর্মের জবাবদিহিতাই অর্থহীন হয়ে পড়ে।
মুরজিয়া: এরা তাকদিরের চেয়ে ঈমানের সংজ্ঞা নিয়ে বেশি বিতর্ক করেছে। তাদের মূল কথা হলো “ঈমান থাকলে কোনো পাপ ক্ষতি করতে পারে না।” তাকদিরের বিষয়ে তারা সাধারণত জাবারিয়াদের কাছাকাছি বা কখনো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তবে তাদের মূল বিচ্যুতি হলো আমলকে ঈমান থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন মনে করা।

١٢- ما عقيدة أهل السنة والجماعة في أسماء الله وصفاته؟ اذكر مفصلا-

[১২. আল্লাহর নাম ও সিফাতের বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাহ কী? বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়াস সিফাত) ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা হলো মধ্যপন্থী। তারা কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহর যে নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে তা ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করে। তারা এতে কোনো ধরনের ‘তাতিল’ (অস্বীকার করা বা বাতিল করা), ‘তাহরীফ’ (অর্থ বিকৃত করা), ‘তাকয়ীফ’ (ধরন বা পদ্ধতি নির্ধারণ করা) অথবা ‘তাশবীহ’ (সৃষ্টজীবের সাথে তুলনা করা) করে না। তাদের মূলনীতি হলো: “لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ” (তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা)।

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١

[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دفع الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم [দাফ’উশ শুবহাতিল মায’উমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۶ (201306)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-]

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ হতে চারটি এবং (খ) অংশ হতে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) – [(ক) অংশ]

الدرجات – ٦٠ = ٤ × ١٥

١- ما المراد بالشبهات حول القرآن؟ بين نشأتها وتطورها عبر العصور –

[১. আল-কুরআন [এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সন্দেহ] বলতে কী বোঝায়? কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: ‘শুবহাত’ (الشبهات) অর্থ হলো সন্দেহ, সংশয় বা অমূলক অভিযোগ। আল-কুরআনের শুবহাত বলতে প্রাচ্যবিদ (Mustashriqin) ও ইসলামবিদ্বেষীদের দ্বারা কুরআনের বিশুদ্ধতা, ওহী, এবং সংকলনের ব্যাপারে উত্থাপিত ভিত্তিহীন অভিযোগসমূহকে বোঝায়।

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: এর উৎপত্তি মক্কার কুরাইশদের যুগে, যখন তারা কুরআনকে ‘যাদু’, ‘কবিতা’ বা ‘পূর্ববর্তীদের রূপকথা’ বলে আখ্যায়িত করত। এরপর মধ্যযুগে খ্রিষ্টান মিশনারিরা এবং আধুনিক যুগে প্রাচ্যবিদরা (যেমন: গোল্ডযিহার, উইলিয়াম ম্যুর) অত্যন্ত সুকৌশলে কুরআনের ঐতিহাসিকতা ও ভাষাগত দিক নিয়ে সন্দেহ ছড়াতে শুরু করে।

٢- اذكر الشبهات المزعومة حول نزول الوحي – ثم تحدث مع الرد عليها –

[২. ওহী নাযিল এর ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখ কর। অতঃপর তা খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: প্রাচ্যবিদরা ওহী নাযিল সম্পর্কে প্রধানত তিনটি অমূলক সন্দেহ উত্থাপন করে: ১. এটি রাসূল (সা.) এর মৃগীরোগের প্রভাব ছিল। ২. এটি তাঁর অবচেতন মনের চিন্তা বা ইলহাম ছিল। ৩. তিনি কোনো খ্রিষ্টান বা ইহুদি পণ্ডিতের (যেমন জাবর নামক এক রোমক দাস) কাছ থেকে এগুলো শিখেছেন।

খণ্ডন: মৃগীরোগীর প্রলাপ কখনো এমন নিখুঁত, সাহিত্যিক ও আইনগত দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ হতে পারে না। দ্বিতীয়ত, মক্কার কোনো পণ্ডিতের কাছে শেখার অভিযোগ স্বয়ং কুরআন খণ্ডন করে বলেছে, “তারা যার দিকে ইঙ্গিত করে সে তো অনারব, অথচ এই কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ” (সূরা নাহল: ১০৩)।

٣- بين الشبهات المزعومة حول جمع القرآن مع الرد عليها بالأدلة –

[৩. কুরআন সংকলনের ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ প্রমাণ সহকারে খণ্ডনপূর্বক বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে, আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.) এর যুগে কুরআন সংকলনের সময় অনেক আয়াত বাদ পড়ে গেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে (নাউযুবিল্লাহ)। বিশেষ করে তারা শিয়াদের কিছু দুর্বল বর্ণনার উদ্ধৃতি দেয়।

খণ্ডন: কুরআন শুধু লিখিত আকারে নয়, বরং হাজার হাজার সাহাবীর বক্ষে মুখস্থ হিসেবে সংরক্ষিত ছিল (তাওয়াতুর)। উসমান (রা.) এর সংকলনটি সম্পূর্ণ ইজমায়ে সাহাবা (সাহাবীদের ঐক্যমত্য) দ্বারা অনুমোদিত। আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন: “আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক” (সূরা হিজর: ৯)।

٤- اذكر الشبهات المزعومة حول الناسخ والمنسوخ – وكيف ترد عليها؟

[৪. নাসিখ ও মানসুখ এর ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখ কর। তুমি তা কীভাবে খণ্ডন করবে?]

উত্তর সংকেত: ইসলামবিদ্বেষীরা দাবি করে যে, মানসুখ বা বিধান রহিতকরণ মানে হলো আল্লাহর অজ্ঞতা প্রকাশ পাওয়া। তাদের মতে, আল্লাহ প্রথমে একটি বিধান দিয়েছেন, পরে ভুল বুঝতে পেরে তা পরিবর্তন করেছেন, যাকে তারা ‘বাদা’ (بدا) বলে।

খণ্ডন: নাসিখ-মানসুখ মোটেও আল্লাহর অজ্ঞতা নয়; বরং এটি আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞা। মানবসমাজের ক্রমবিকাশ ও তৎকালীন পরিস্থিতির সাথে মানানসই করতেই আল্লাহ ধাপে ধাপে বিধান দিয়েছেন। যেমন একজন দক্ষ চিকিৎসক রোগীর অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করেন, তেমনি আল্লাহ সমাজ সংস্কারের জন্য পর্যায়ক্রমে বিধান নাজিল করেছেন।

٥- اكتب خمس آيات متناقضة بزعم المستشرقين – ثم أثبت أنها غير متناقضة –

[৫. প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী পাঁচটি পরস্পর সাংঘর্ষিক আয়াত উল্লেখ কর। অতঃপর প্রমাণ কর যে, এগুলো সাংঘর্ষিক নয়।]

উত্তর সংকেত: প্রাচ্যবিদরা কিছু আয়াতের বাহ্যিক অর্থ দেখে সেগুলোকে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে। যেমন: ১. আসমান ও জমিন সৃষ্টি: এক আয়াতে ৬ দিন, আবার সূরা ফুসসিলাতে বাহ্যিকভাবে ৮ দিনের হিসাব মনে হয়। ২. মানুষের সৃষ্টি: কোথাও বলা হয়েছে মাটি থেকে, কোথাও বীর্য থেকে, কোথাও জমাট রক্ত থেকে।

খণ্ডন: এগুলোতে কোনো বৈপরীত্য নেই। সূরা ফুসসিলাতের দিনগুলো পরস্পর ওভারল্যাপিং (পর্যায়ক্রমিক)। আর মানুষ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি মানব সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ বা স্তরের (মাটি -> বীর্য -> ভ্রূণ) বর্ণনা মাত্র, যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

٦- كيف ترد الشبهات عن الزاعمين حول عصمة الرسول صلى الله عليه وسلم؟ بين بالأدلة –

[৬. রাসুল (স) এর নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহবাদীদের অভিযোগ তুমি কীভাবে খণ্ডন করবে? দলিলসহ বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: অভিযোগকারীরা সূরা আবাসার ঘটনা অথবা রাসূল (সা.) এর ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার আয়াতগুলো দিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে নবীরা নিষ্পাপ নন।

খণ্ডন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সর্বসম্মত আকিদা হলো সকল নবী-রাসূল নিষ্পাপ (মা’সুম)। সূরা আবাসা-তে রাসূল (সা.) কোনো গুনাহ করেননি, বরং দুটি উত্তম কাজের মধ্যে অধিকতর উত্তমটি বাছাই করতে গিয়ে তাঁর স্বাভাবিক মানবিক আচরণের ওপর আল্লাহর মৃদু সতর্কবাণী ছিল। আর নবীদের ইস্তিগফার হলো আল্লাহর প্রতি তাদের বিনয় এবং আধ্যাত্মিক মর্তবা বৃদ্ধির মাধ্যম, কোনো পাপের প্রায়শ্চিত্ত নয়।


مجموعة (ب) – [(খ) অংশ]

الدرجات – ٢٠ = ٥ × ٤

٧- تحدث عن الشبهات حول الزيادة والنقصان في القرآن مع الرد عليها –

[৭. আল-কুরআনে বৃদ্ধি ও হ্রাস এর ব্যাপারে সন্দেহগুলো খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: আল-কুরআনে একটি অক্ষরও বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়নি। প্রাচ্যবিদরা বিচ্ছিন্ন কিছু জয়িফ (দুর্বল) বর্ণনা দিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে কিছু আয়াত ছাগলে খেয়ে ফেলেছে বা হারিয়ে গেছে। কিন্তু মুতাওয়াতির বর্ণনা ও লক্ষ লক্ষ হাফেজের বক্ষের সংরক্ষণ প্রমাণ করে যে কুরআন অবিকৃত।

٨- اذكر الشبهات حول التكرار في القرآن –

[৮. আল-কুরআনে পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে সন্দেহগুলো উল্লেখ কর।]

উত্তর সংকেত: কুরআনে বিভিন্ন নবী ও জাতির ঘটনা বারবার এসেছে (যেমন সূরা আর-রাহমানে একটি আয়াতের ৩১ বার পুনরাবৃত্তি)। সমালোচকরা একে ভাষাগত ত্রুটি বলে। বস্তুত, এটি আরবের সর্বোচ্চ অলংকারশাস্ত্রের (বালাগত) অংশ। একেকটি পুনরাবৃত্তি একেকটি নতুন প্রেক্ষাপট, শিক্ষা ও সতর্কবার্তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

٩- بين الشبهات حول الأخطاء النحوية في القرآن بإيجاز –

[৯. আল-কুরআনে নাহবী ভুলের ব্যাপারে সন্দেহগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: আধুনিক কিছু সমালোচক কুরআনের কিছু আয়াতে আরবি ব্যাকরণগত (নাহব) ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে। এর খণ্ডন হলো: আরবি ব্যাকরণের নিয়মকানুন তৈরিই হয়েছে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার বহু পরে, কুরআনকে মানদণ্ড হিসেবে ধরে। তাই ব্যাকরণের মাপকাঠিতে কুরআনকে বিচার করা মূর্খতা; বরং কুরআনই হলো আরবি ভাষার সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত মাপকাঠি।

١٠- تحدث عن الشبهات حول عصمة الملائكة مع الرد عليها –

[১০. ফেরেশতাদের নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহগুলো খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: হারুত-মারুত ফেরেশতার ঘটনা ও ইবলিসের অবাধ্যতার প্রসঙ্গ টেনে ফেরেশতারা পাপ করতে পারে বলে সন্দেহ তোলা হয়। খণ্ডন হলো: হারুত-মারুত কোনো গুনাহ করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশে পরীক্ষা হিসেবে পৃথিবীতে এসেছিলেন। আর ইবলিস মূলত ফেরেশতা ছিল না, সে ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে (সূরা কাহফ: ৫০)। ফেরেশতারা জন্মগতভাবেই মাসুম।

١١- ما المراد بإعجاز القرآن الكريم؟ بين بعض وجوه الإعجاز في القرآن الكريم موجزاً –

[১১. ইজাযুল কুরআন বলতে কী বোঝায়? আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের কয়েকটি দিক সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: ‘ই’জায’ (إعجاز) অর্থ অক্ষম করা। ই’জাযুল কুরআন হলো কুরআনের এমন অলৌকিক বৈশিষ্ট্য যা সমকক্ষ কোনো কিছু রচনা করতে মানুষকে অক্ষম করে দেয়। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো: ১. ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকত্ব। ২. ভবিষ্যতের গায়েবী সংবাদ প্রদান। ৩. আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত তথ্য (যা ১৪০০ বছর আগে জানা সম্ভব ছিল না)। ৪. ত্রুটিমুক্ত আইন ও বিধান।

١٢- علق على اثنين مما يلي :

(الف) الشبهات حول تحريف القرآن الكريم؛

(ب) الشبهات حول العلوم الكونية في القرآن الكريم؛

(ج) الشبهات حول تواتر القرآن الكريم؛

(د) الشبهات حول حقوق النساء في القرآن الكريم-

[১২. যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ:
(ক) আল-কুরআন বিকৃতির ব্যাপারে সন্দেহ;
(খ) আল-কুরআনে মহাজাগতিক বিজ্ঞান বিষয়ে সন্দেহ;
(গ) আল-কুরআনের মুতাওয়াতির হওয়া বিষয়ে সন্দেহ;
(ঘ) আল-কুরআনে নারী অধিকার বিষয়ে সন্দেহ।]

উত্তর সংকেত: (যেকোনো দুটি লিখতে হবে)

(খ) মহাজাগতিক বিজ্ঞান বিষয়ে সন্দেহ: অনেকে দাবি করে কুরআনে বিজ্ঞানবিরোধী কথা আছে (যেমন সূর্য কাদামাটিতে ডোবে)। খণ্ডন: এটি যুলকারনাইনের দৃষ্টিসীমার বর্ণনা মাত্র, বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট নয়। বরং কুরআনের বিগ ব্যাং থিওরি, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ইত্যাদি আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে শতভাগ মিলে যায়।

(ঘ) নারী অধিকার বিষয়ে সন্দেহ: ইসলাম নারীকে অবদমিত করেছে বলে প্রাচ্যবিদরা অভিযোগ করে। খণ্ডন: ইসলামই সর্বপ্রথম নারীকে উত্তরাধিকার, মোহরানা এবং সম্মানের অধিকার দিয়েছে। পুরুষদের ওপর পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব থাকায় সম্পদের বণ্টনে যৌক্তিক পার্থক্য রাখা হয়েছে, যা কোনো বৈষম্য নয় বরং ইনসাফ।

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١

[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علم السياسة والإدارة العامة [ইলমুস সিয়াসাহ ওয়াল ইদারাতুল আম্মাহ]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۷ (201307)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ۴ ঘণ্টা

علم السياسة [রাষ্ট্রবিজ্ঞান]

[الملاحظة : أجب عن اثنين من مجموعة (الف) وعن اثنين من مجموعة (ب)-]

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে দুটি এবং (খ) অংশ থেকে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) – [(ক) অংশ]

الدرجات – ٣٠ = ٢ × ١٥

١- عرف علم السياسة- ثم بين الفرق بين المجتمع والجالية وبين الحكومة والسيادة مفصلا-

[১. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর সমাজ ও সম্প্রদায় এবং সরকার ও নেতৃত্বের (সার্বভৌমত্ব) মধ্যে পার্থক্য বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান: বিজ্ঞানের যে শাখা রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, সংগঠন, উদ্দেশ্য এবং সরকারের কার্যাবলি নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা করে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে (গার্নারের মতে, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রকে নিয়েই শুরু ও শেষ হয়”)।

পার্থক্য: ‘সমাজ’ হলো মানুষের একটি বৃহত্তর সংঘ যেখানে মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বসবাস করে। আর ‘সম্প্রদায়’ হলো সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশ যাদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি বা ধর্ম একই রকম। অন্যদিকে, ‘সরকার’ হলো রাষ্ট্রের একটি উপাদান বা যন্ত্র যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়। আর ‘সার্বভৌমত্ব’ (السيادة) হলো রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতা, যা রাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে স্বাধীন রাখে।

٢- ماذا تفهم بالدستور؟ وكم قسما له؟ بين-

[২. সংবিধান বলতে কী বুঝ? তা কত প্রকার ও কী কী? বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
সংবিধান (الدستور): সংবিধান হলো রাষ্ট্রের মৌলিক আইন বা বিধিবিধানের সমষ্টি, যার দ্বারা রাষ্ট্রের গঠন, সরকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। অ্যারিস্টটলের মতে, “সংবিধান হলো রাষ্ট্রের এমন একটি জীবনপদ্ধতি যা রাষ্ট্র নিজেই বেছে নিয়েছে।”

প্রকারভেদ: সংবিধান প্রধানত দুই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়:
১. লেখার ভিত্তিতে: লিখিত সংবিধান ও অলিখিত সংবিধান।
২. পরিবর্তনের পদ্ধতির ভিত্তিতে: সুপরিবর্তনীয় (Flexible) সংবিধান ও দুষ্পরিবর্তনীয় (Rigid) সংবিধান।

٣- ما معنى اشكال الحكم؟ ثم تحدث عن أفعال مجلس الوزراء-

[৩. ‘আشكال’ (সরকারের রূপ/আকার) অর্থ কী? মন্ত্রিসভার কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: ‘সরকারের রূপ’ (اشكال الحكم) বলতে একটি রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হয়, তার ধরন বা কাঠামোগত ব্যবস্থাকে বোঝায় (যেমন: রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্র, সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা)।

মন্ত্রিসভার কার্যাবলি: সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা (مجلس الوزراء) হলো সরকারের প্রকৃত নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। এর কাজগুলো হলো: ১. রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করা। ২. আইন প্রণয়নে আইনসভাকে নেতৃত্ব দেওয়া। ৩. জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও অর্থ নিয়ন্ত্রণ। ৪. রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনা ও সমন্বয় সাধন করা।

٤- تحدث عن العدالة الإجتماعية مفصلا-

[৪. সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: সামাজিক ন্যায়বিচার (العدالة الإجتماعية) বলতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা, অধিকার এবং কর্তব্যের সুষম ও ন্যায্য বণ্টনকে বোঝায়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এর ভিত্তি হলো ‘তাওহীদ’ এবং ‘আদল’। এটি নিশ্চিত করে যে, সমাজে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না, দুর্বল ও দরিদ্ররা তাদের প্রাপ্য অধিকার (যেমন যাকাত ও সদকা) পাবে এবং আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো সবাই সমান হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া সমাজে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।

مجموعة (ب) – [(খ) অংশ]

الدرجات – ١٠ = ٢ × ٥

أجب عن اثنين مما يلي:

١- بين أهمية الحرية مختصراً-

٢- اكتب أفعال قسم القضاء-

٣- تحدث عن طرق وضع الدستور-

٤- بين مزايا الدولة الإسلامية مختصراً-

[নিচের যেকোনো দুটির উত্তর দাও:
১. স্বাধীনতার গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
২. বিচার বিভাগের কার্যাবলি লেখ।
৩. সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা কর।
৪. ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:

(২) বিচার বিভাগের কার্যাবলি: আইন অনুযায়ী বিচার কাজ সম্পন্ন করা, আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করা, সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করা, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করা এবং শাসন বিভাগকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেওয়া।

(৪) ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য: সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর; সরকার আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে; শুরা বা পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা; বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা; এবং অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মি) নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান।


الإدارة العامة [লোক প্রশাসন]

[الملاحظة : أجب عن اثنين من مجموعة (ج) وعن اثنين من مجموعة (د)-]

[দ্রষ্টব্য: (গ) অংশ থেকে দুটি এবং (ঘ) অংশ থেকে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة (ج) – [(গ) অংশ]

الدرجات – ٣٠ = ٢ × ١٥

١- ماذا تفهم بالإدارة العامة الإسلامية؟ تحدث عن أهميته موضحا-

[১. ইসলামি লোক প্রশাসন বলতে কী বুঝ? এর গুরুত্ব বিশদভাবে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: ‘ইসলামি লোক প্রশাসন’ বলতে রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, জনকল্যাণ ও ইনসাফের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের সার্বিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি কেবল বস্তুগত উন্নয়ন নয় বরং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের সমন্বয় ঘটায়। এতে জবাবদিহিতা থাকে দ্বিমুখী—একদিকে জনগণের কাছে, অন্যদিকে মহান আল্লাহর কাছে।

٢- كيف كانت الإدارة العامة فى عهد الخلفاء الراشدين؟ بين مفصلا-

[২. খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে লোক প্রশাসন কেমন ছিল? বিস্তারিত বর্ণনা দাও।]

উত্তর সংকেত: খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ ছিল লোক প্রশাসনের স্বর্ণযুগ। এর মূল ভিত্তি ছিল ‘শুরা’ (পরামর্শ)। হযরত উমর (রা.) এর যুগে প্রশাসনকে আধুনিকীকরণ করা হয়। তিনি রাষ্ট্রকে বিভিন্ন প্রদেশে (উইলায়াত) বিভক্ত করেন, রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য দেওয়ান (রেজিস্টার) চালু করেন, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করেন, এবং পুলিশ ও ডাক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। প্রশাসকরা ছিলেন জনগণের সেবক এবং খলিফার নিকট সরাসরি জবাবদিহি করতে বাধ্য।

٣- بين خصائص المجتمع الإسلامى مفصلا-

[৩. ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: ইসলামি সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. তাওহীদ বা একত্ববাদের বিশ্বাসভিত্তিক সমাজ। ২. বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্য। ৩. তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ভিত্তিক মর্যাদার মাপকাঠি (বর্ণ বা সম্পদের অহংকার নয়)। ৪. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার)। ৫. হালাল-হারামের সুস্পষ্ট সীমানা ও নৈতিকতার চর্চা।

٤- ما الفرق بين الدستور المكتوب والدستور غير المكتوب؟ ثم بين مزايا الدستور المثالى-

[৪. লিখিত ও অলিখিত সংবিধানের মধ্যে পার্থক্য কী? অতঃপর আদর্শ সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর সংকেত:
পার্থক্য: লিখিত সংবিধান একটি নির্দিষ্ট দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে, যা নির্দিষ্ট সময়ে কোনো পরিষদ দ্বারা প্রণীত হয় (যেমন বাংলাদেশ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান)। অন্যদিকে, অলিখিত সংবিধান প্রথা, রীতিনীতি ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, এটি এক জায়গায় লিপিবদ্ধ থাকে না (যেমন যুক্তরাজ্যের সংবিধান)।

আদর্শ সংবিধানের বৈশিষ্ট্য: সুস্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, যুগের সাথে পরিবর্তনশীলতা (নমনীয়তা), এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গ্যারান্টি।

مجموعة (د) – [(ঘ) অংশ]

الدرجات – ١٠ = ٢ × ٥

أجب عن اثنين مما يلي:

١٣- بين خصائص الإدارة العامة مختصرا-

١٤- اكتب صفات القضاة فى الدولة الإسلامية-

١٥- ما هى إدارة الايرادات؟ بين مختصرا-

١٦- اذكر الفرق بين الإدارة العامة وعلم الاجتماع-

[নিচের যেকোনো দুটির উত্তর দাও:
১৩. লোক প্রশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
১৪. ইসলামি রাষ্ট্রে বিচারকের গুণাবলি লেখ।
১৫. রাজস্ব প্রশাসন কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
১৬. লোক প্রশাসন ও সমাজ বিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।]

উত্তর সংকেত:

(১৪) বিচারকের গুণাবলি: ইসলামি রাষ্ট্রে একজন বিচারক (কাজী)-কে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, স্বাধীন, সৎ, ইনসাফকারী এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহ (ইসলামি আইন) সম্পর্কে প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী (মুজতাহিদ পর্যায়ের) হতে হবে।

(১৫) রাজস্ব প্রশাসন: সরকারের আয়-ব্যয়, কর আদায় এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজস্ব প্রশাসন বলে। ইসলামি রাষ্ট্রে যাকাত, উশর, খারাজ, জিজিয়া ইত্যাদি আদায় এবং বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) পরিচালনা এর অন্তর্ভুক্ত।

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١

[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الإسلام والأديان الأخرى [আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা]

বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۸ (201308)
পূর্ণমান: ৮০
সময়: ۴ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-]

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) – [(ক) অংশ]

الدرجات – ٦٠ = ٤ × ١٥

١- ما معنى الدين لغة واصطلاحا؟ بين حاجة الناس إلى الدين بالتفصيل-

[১. ‘দ্বীন’ এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? মানুষের জন্য দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত:
অর্থ: ‘দ্বীন’ (الدين) এর আভিধানিক অর্থ: আনুগত্য, জীবনব্যবস্থা, প্রতিদান বা বিচার। পরিভাষায়: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এমন পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যা মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পথ নির্দেশ করে।

প্রয়োজনীয়তা: মানুষের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ, নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য (সৃষ্টির কারণ ও মৃত্যুপরবর্তী জীবন) সম্পর্কে জানার জন্য দ্বীন বা ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ধর্মহীন সমাজ পশুর সমাজের ন্যায় বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

٢- عرف الإسلام- ثم تحدث أنه دين كامل وشامل لسائر شئون الحياة الإنسانية-

[২. ইসলাম এর পরিচয় দাও। অতঃপর আলোচনা কর যে, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা এবং মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্তকারী।]

উত্তর সংকেত:
পরিচয়: ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ করা। পরিভাষায় আল্লাহর তাওহীদকে মেনে নিয়ে রাসূল (সা.) এর আনীত বিধানের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করাকে ইসলাম বলে।

পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা: ইসলাম শুধু কিছু ইবাদত (নামাজ, রোজা) এর নাম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘দ্বীন’ (কোড অব লাইফ)। এতে ব্যক্তির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, পরিবার, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিচার ব্যবস্থার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ বলেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)।

٣- اكتب خصائص الإسلام ومحاسنه الاجتماعية والاقتصادية-

[৩. ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ কর।]

উত্তর সংকেত:
সামাজিক বৈশিষ্ট্য: বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, বর্ণবাদ ও বংশীয় অহংকারের বিলোপ, আইনের চোখে সকলের সমতা, নারীর সম্মান ও অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিবেশীর হক আদায়।
অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য: সম্পদের সুষম বণ্টন (যাকাত ও সদকার মাধ্যমে), সুদ (রিবা) ও মজুতদারির কঠোর নিষেধাজ্ঞা, হালাল উপার্জনের বাধ্যবাধকতা এবং উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ।

٤- عرف الديانة اليهودية ثم بين نشأتها وعقائدها الأساسية بالتفصيل-

[৪. ইহুদি ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তির ইতিহাস ও মৌলিক আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
পরিচয় ও উৎপত্তি: ইহুদি ধর্ম বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের ধর্ম, যা মূলত হযরত মূসা (আ.) এর উপর অবতীর্ণ তাওরাত কিতাবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তবে বর্তমান ইহুদি ধর্ম মূলত আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানের একটি বিকৃত রূপ।
মৌলিক আকিদা: তারা এক ঈশ্বরে (যিহোবা) বিশ্বাস করে, তবে তাকে মানবীয় দোষ-গুণে যুক্ত করে। তারা বিশ্বাস করে যে তারা ঈশ্বরের ‘মনোনীত এবং শ্রেষ্ঠ জাতি’ (Chosen People)। তারা পরকালে বিশ্বাস করে এবং একজন প্রতিশ্রুত ত্রাণকর্তা (মসিহ) এর জন্য অপেক্ষা করছে।

٥- عرف النصرانية ثم تحدث عن نشأتها وكتبها المقدسة-

[৫. খ্রিষ্টান ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তি ও পবিত্র গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত:
পরিচয় ও উৎপত্তি: খ্রিষ্টান ধর্ম হযরত ঈসা (আ.) [যিশু খ্রিস্ট] এর জীবন ও শিক্ষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যে (জেরুজালেম) প্রথম শতাব্দীতে।
পবিত্র গ্রন্থ: তাদের পবিত্র গ্রন্থের নাম ‘বাইবেল’। এর দুটি অংশ: ১. ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম – মূলত তাওরাত, জাবুর ও ইহুদি নবীদের গ্রন্থ) এবং ২. নিউ টেস্টামেন্ট (নতুন নিয়ম – ঈসা আ. এর জীবনী, ইনজিল এবং সেন্ট পল ও অন্যান্যদের চিঠি)।

٦- عرف الهندوسية ثم بين نشأتها وتطورها وعقائدها- وما المراد بالتناسخ عندها؟ بين-

[৬. হিন্দু ধর্মের পরিচয় দাও। এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও আকিদা সম্পর্কে আলোচনা কর। পুনর্জন্ম (التناسخ) বলতে তারা কী বুঝায়? বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
পরিচয় ও উৎপত্তি: হিন্দু ধর্ম প্রাচীন ভারতের একটি ধর্ম। এর কোনো নির্দিষ্ট একক প্রতিষ্ঠাতা নেই। আর্যদের আগমন ও স্থানীয় দ্রাবিড় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে বেদের ওপর ভিত্তি করে এর উৎপত্তি।
মৌলিক আকিদা ও পুনর্জন্ম (التناسخ): তারা বহু দেব-দেবীতে বিশ্বাসী (যদিও ঈশ্বর এক বলে দর্শন রয়েছে), কর্মফল (Karma) এবং পুনর্জন্মে বিশ্বাসী। ‘পুনর্জন্ম’ (Tanasukh) বলতে বোঝায় যে, মানুষের আত্মা তার পূর্বজন্মে করা পাপ-পুণ্যের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর পর অন্য কোনো মানুষ বা প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে। জন্ম-মৃত্যুর এই চক্র থেকে মুক্তি পাওয়াকেই তারা ‘মোক্ষ’ বলে।


مجموعة (ب) – [(খ) অংশ]

الدرجات – ٢٠ = ٤ × ٥

٧- بين أهمية دراسة مقارنة الأديان وفوائدها بالاختصار-

[৭. সংক্ষেপে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের গুরুত্ব ও উপকারিতা বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মের আকিদা ও বিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করা যায়। এর ফলে একজন মুসলিমের নিজের ঈমান আরও দৃঢ় হয়। তাছাড়া, অমুসলিমদের কাছে ইসলামের যৌক্তিকতা তুলে ধরা ও দাওয়াতি কাজ (ইসলাম প্রচার) পরিচালনার জন্য অন্যান্য ধর্মের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।

٨- تحدث عن الطبقات الاجتماعية في الديانة الهندوسية مختصرا-

[৮. হিন্দু ধর্মের সামাজিক শ্রেণি বৈষম্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: হিন্দু ধর্মের অন্যতম নেতিবাচক দিক হলো এর ‘বর্ণপ্রথা’ (Caste System)। এর সমাজ মূলত চারটি প্রধান স্তরে বিভক্ত: ১. ব্রাহ্মণ (পুরোহিত/শিক্ষক), ২. ক্ষত্রিয় (যোদ্ধা/শাসক), ৩. বৈশ্য (কৃষক/ব্যবসায়ী) এবং ৪. শূদ্র (শ্রমিক/দাস)। এই প্রথা চরম বৈষম্যমূলক এবং শূদ্রদের সমাজে অস্পৃশ্য (Untouchable) হিসেবে দেখা হয়, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

٩- ما عقيدة اليهود والنصارى في عيسى بن مريم عليهما السلام؟ وما هو موقف الإسلام عنه؟ وضح-

[৯. ঈসা (আ) সম্পর্কে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস কী এবং এ ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কী? স্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
ইহুদিদের বিশ্বাস: তারা ঈসা (আ.)-কে নবী হিসেবে মানে না, বরং তাঁকে চরম অবজ্ঞা করে এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যার দাবি করে।
খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস: তারা ঈসা (আ.)-কে ঈশ্বরের পুত্র (নাউযুবিল্লাহ) এবং ঐশ্বরিক ত্রিত্ববাদের (Trinity) অংশ মনে করে।
ইসলামের অবস্থান: ইসলাম চরম ও শিথিলতার মাঝামাঝি। ইসলাম মনে করে ঈসা (আ.) আল্লাহর একজন অতি মর্যাদাবান নবী ও রাসূল। তিনি ঈশ্বরের পুত্র নন। ইহুদিরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি, বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে আসবেন।

١٠- من ‘غَوْتَم بُوْذَا’؟ تحدث عن أفكاره وعقائده-

[১০. ‘গৌতম বুদ্ধ’ কে? তার চিন্তাধারা ও বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: গৌতম বুদ্ধ (আসল নাম সিদ্ধার্থ গৌতম) হলেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক, যিনি খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে নেপালের লুম্বিনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর চিন্তাধারা: তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে নীরব ছিলেন (অজ্ঞেয়বাদ)। তাঁর মূল দর্শন ছিল ‘চারটি আর্য সত্য’ (Four Noble Truths): পৃথিবীতে দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখ নিবারণ সম্ভব, এবং দুঃখ নিবারণের উপায় (অষ্টাঙ্গিক মার্গ) রয়েছে। তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের মাধ্যমে ‘নির্বাণ’ (Nirvana) বা পরম শান্তি লাভ করা।

١١- تحدث عن الأسفار الخمسة عند اليهود، ثم بين مكانة التلمود عندهم-

[১১. ইহুদিদের পাঁচটি সিফর (কিতাব) সম্পর্কে আলোচনা কর। অতঃপর তাদের নিকট তালমুদের গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

উত্তর সংকেত:
পাঁচটি সিফর: ইহুদিদের মূল পবিত্র গ্রন্থ তাওরাতের প্রথম পাঁচটি অংশকে পেন্টাটিউচ (Pentateuch) বা পঞ্চপুস্তক বলা হয়। এগুলো হলো: আদিপুস্তক (Genesis), যাত্রাপুস্তক (Exodus), লেবীয় পুস্তক (Leviticus), গণনা পুস্তক (Numbers), এবং দ্বিতীয় বিবরণ (Deuteronomy)।
তালমুদের গুরুত্ব: তালমুদ হলো ইহুদিদের মৌখিক আইন, রীতিনীতি এবং তাওরাতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা। ইহুদি রাব্বিদের (পণ্ডিত) লেখা এই গ্রন্থটি তাদের প্রাত্যহিক ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে তাওরাতের সমতুল্য বা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

١٢- تحدث عن ‘السيخية’ مختصراً-

[১২. সংক্ষেপে ‘শিখ’ ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর সংকেত: শিখ ধর্ম ১৫শ শতাব্দীতে ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে গুরু নানক কর্তৃক প্রবর্তিত একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম। এটি ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের কিছু ধারণার সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করেন। তাদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহেব’। তারা মূর্তি পূজা ও হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথা (Caste System) কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাস করে।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now