কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৪: দিরাসাতুল হাদীস (৫০১১০৩) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2024 Dirasatul Hadith (501103) Question & Answer

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ৯০৩

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ۲۰۲٤

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]

القرآن والدراسات الاسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة الحديث
[দিরাসাতুল হাদীস]

বিষয় কোড: ৫০১০৩

الوقت-٤ ساعات [সময়-৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة-١٠٠ [পূর্ণমান-১০০]

[الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة.]
[দ্রষ্টব্য: পাশের সংখ্যাগুলো পূর্ণমান নির্দেশ করে।]

مجموعة (أ)- صحيح البخاري

(ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)

الدرجة – ۲۰×۲ = ٤۰

١. عن أبي سعيد بن المعلى قال: كنت أصلي في المسجد، فدعاني رسول الله ﷺ فلم أجبه، فقلت يا رسول الله، إني كنت أصلي، فقال: ألم يقل الله: (استجيبوا لله وللرسول إذا دعاكم لما يحييكم). ثم قال لي: لأعلمنك سورة هي أعظم السور في القرآن قبل أن تخرج من المسجد. ثم أخذ بيدي، فلما أراد أن يخرج قلت له: ألم تقل لأعلمنك سورة هي أعظم سورة من القرآن. قال: (الحمد لله رب العالمين). هي السبع المثاني والقرآن العظيم الذي أوتيته.
(১. আবু সাঈদ ইবনুল মু’আল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মসজিদে নামাজ পড়ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে ডাকলেন, কিন্তু আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিইনি। পরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নামাজ পড়ছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি: ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের জীবন দান করে’? এরপর তিনি আমাকে বললেন: মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই আমি তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিখিয়ে দেব। এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন তিনি বের হতে চাইলেন, তখন আমি বললাম: আপনি কি বলেননি যে আমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিখিয়ে দেবেন? তিনি বললেন: ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। এটি হলো সাবউ মাসানি (সাতটি বারবার পঠিত আয়াত) এবং মহান কুরআন যা আমাকে দেওয়া হয়েছে।)
(أ) لم سميت سورة الفاتحة بالسبع المثاني؟ بين موضحا.
((ক) সূরা ফাতিহাকে ‘আস-সাবউল মাসানি’ কেন বলা হয়? ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দাও।) [মান: ৫]
উত্তর (ক): সূরা ফাতিহাকে ‘আস-সাবউল মাসানি’ (السَّبْعِ الْمَثَانِي) নামকরণের দুটি মূল কারণ রয়েছে। ‘সাবউন’ অর্থ সাত, আর সূরা ফাতিহায় ৭টি আয়াত রয়েছে। ‘মাসানি’ শব্দটি ‘সানা’ থেকে নির্গত যার অর্থ প্রশংসা করা, অথবা ‘সাননিয়ুন’ থেকে যার অর্থ বারবার পুনরাবৃত্তি করা।
প্রথমত, এই সূরায় মহান আল্লাহর অফুরন্ত প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল নামাজের প্রতি রাকাতে এই সূরা বারবার পড়া হয়। কুরআনুল কারীমের অন্য কোনো সূরা এত বেশি বারবার তিলাওয়াত করা হয় না। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা একে ‘আস-সাবউল মাসানি’ বা সাতটি বারবার পঠিত আয়াত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
(ب) كيف قال النبي ﷺ لسورة الفاتحة هي أعظم السور من القرآن وهي سبع آيات فقط؟ بين.
((খ) নবী (সা.) কীভাবে সূরা ফাতিহাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরা বললেন, অথচ এটি মাত্র সাতটি আয়াত বিশিষ্ট? বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (খ): সূরা ফাতিহা মাত্র সাত আয়াতের হলেও একে কুরআনের ‘সবচেয়ে মহান সূরা’ (أعظم السور) বলার কারণ হলো এর বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা। পুরো কুরআনের সারমর্ম এই সূরায় নিহিত। এতে তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত, আখিরাত (পরকাল), আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি), ইবাদতের মৌলিকত্ব এবং সঠিক পথের (সিরাতুল মুস্তাকিম) সন্ধান চাওয়ার মতো ইসলামের সকল মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আয়াতের সংখ্যা কম হলেও এর অর্থ, তাৎপর্য এবং নামাজের অপরিহার্য অংশ হওয়ার কারণে মর্যাদার দিক থেকে এটি কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা।
(ج) اكتب أسماء سورة الفاتحة وفضائلها بالإيجاز.
((গ) সূরা ফাতিহার নামসমূহ এবং এর ফজিলত সংক্ষেপে লেখো।) [মান: ৫]
উত্তর (গ): সূরা ফাতিহার নামসমূহ: সূরা ফাতিহার অনেকগুলো নাম রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. উম্মুল কুরআন (কুরআনের মা/মূল), ২. উম্মুল কিতাব, ৩. সূরাতুল হামদ (প্রশংসার সূরা), ৪. আস-সালাত (নামাজ), ৫. আশ-শিফা (রোগমুক্তি), ৬. আর-রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক), ৭. আস-সাবউল মাসানি।

ফজিলত: সূরা ফাতিহার ফজিলত অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা তাওরাত, জাবুর বা ইঞ্জিলে সূরা ফাতিহার মতো কোনো সূরা নাজিল করেননি। এটি এমন এক নূর যা কেবল শেষ নবী (সা.)-কে দেওয়া হয়েছে। এটি ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না (“লা সালাতা লিমান লাম ইয়াকরা বিফাতিহাতিল কিতাব”)। অসুস্থ ব্যক্তির ওপর এটি পড়ে ফুঁ দিলে আল্লাহর রহমতে শিফা লাভ হয়।

٢. عن ابن عباس رضى الله عنهما، أن رسول الله ﷺ قال وهو فى قبة يوم بدر: أنشدك عهدك ووعدك اللهم إن شئت لم تعبد بعد اليوم أبدا ، فأخذ أبو بكر بيده، فقال: حسبك يا رسول الله فقد ألححت على ربك، وهو فى الدرع، فخرج وهو يقول: (سيهزم الجمع ويولون الدبر).
(২. ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বদর যুদ্ধের দিন একটি তাঁবুর মধ্যে থাকা অবস্থায় বললেন: “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও (এই দলটি ধ্বংস হোক), তবে আজকের পর আর কখনও তোমার ইবাদত করা হবে না।” তখন আবু বকর (রা.) তাঁর হাত ধরে বললেন: “যথেষ্ট হয়েছে হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রবের কাছে অনেক অনুনয় করেছেন।” তিনি তখন বর্ম পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর তিনি এই আয়াত পড়তে পড়তে বের হলেন: “শীঘ্রই এই দল পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।”)
(أ) اذكر واقعة غزوة بدر مع ذكر أسبابها ونتائجها.
((ক) বদর যুদ্ধের ঘটনাটি এর কারণ ও ফলাফলসহ উল্লেখ করো।) [মান: ৫]
উত্তর (ক): বদর যুদ্ধের ঘটনা ও কারণ: দ্বিতীয় হিজরির ১৭ই রমজান (৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে বদর নামক স্থানে ইসলামের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর মূল কারণ ছিল মক্কার কুরাইশদের ক্রমাগত মুসলিম নির্যাতন, মুসলমানদের সম্পদ লুণ্ঠন এবং আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্য কাফেলার গতিবিধি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা। মক্কার কুরাইশরা আবু জেহেলের নেতৃত্বে ১০০০ সুসজ্জিত সৈন্য নিয়ে মদিনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে বের হয়। বিপরীতে রাসূল (সা.) মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র সাহাবী নিয়ে বদর প্রান্তরে উপস্থিত হন।

ফলাফল: আল্লাহর অশেষ রহমত ও ফেরেশতাদের সাহায্যে এই অসম যুদ্ধে মুসলমানরা অভাবনীয় বিজয় লাভ করে। কুরাইশদের ৭০ জন শীর্ষ নেতা (যার মধ্যে আবু জেহেল অন্যতম) নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দি হয়। মুসলমানদের পক্ষে মাত্র ১৪ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। এই বিজয় আরবে মুসলমানদের একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং ইসলামের প্রসারে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

(ب) أوضح مراد قوله عليه السلام: “اللهم إن شئت لم تعبد بعد اليوم”.
((খ) নবী (সা.) এর বাণী: “হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তবে আজকের পর আর তোমার ইবাদত করা হবে না” – এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করো।) [মান: ৫]
উত্তর (খ): বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসূল (সা.) অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি কতটা সংকটজনক তা আল্লাহর দরবারে পেশ করা। তখন পৃথিবীতে একমাত্র ঐ ৩১৩ জন ব্যক্তিই ছিলেন যারা খাঁটি তাওহিদের অনুসারী এবং প্রকাশ্যে আল্লাহর নাম উচ্চারণকারী। রাসূল (সা.) বোঝাতে চেয়েছিলেন, “হে আল্লাহ! যদি আজ এই ক্ষুদ্র মুমিন দলটি কাফিরদের হাতে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তাওহিদের বাণী প্রচার করার এবং তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। শিরক ও কুফরিতে পৃথিবী ছেয়ে যাবে। তাই তোমার দ্বীনকে টিকিয়ে রাখতে এই দলটির বিজয় একান্ত প্রয়োজন।” এটি ছিল আল্লাহর প্রতি চরম নির্ভরতা ও দ্বীনের প্রতি তীব্র দরদের বহিঃপ্রকাশ।
(ج) اذكر نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن عباس رضى الله عنهما مع ذكر عدد روايه للحديث.
((গ) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর জীবনী সংক্ষেপে আলোচনা করো এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা উল্লেখ করো।) [মান: ৫]
উত্তর (গ): জীবনী: হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ছিলেন রাসূল (সা.) এর আপন চাচাতো ভাই (আব্বাস রা. এর পুত্র)। তিনি হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন, “হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং কুরআনের তাফসির শিখিয়ে দিন।” এই দোয়ার বরকতে তিনি ‘রইসুল মুফাসসিরিন’ (তাফসিরকারকদের নেতা) এবং ‘হিবরুল উম্মাহ’ (উম্মতের মহাজ্ঞানী) উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি অত্যন্ত প্রখর স্মরণশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। ৬৮ হিজরিতে তিনি তায়েফে ইন্তেকাল করেন।

বর্ণিত হাদিস সংখ্যা: তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের (মুকসিরিন) অন্যতম। তাঁর বর্ণিত মোট হাদিসের সংখ্যা হলো ১৬৬০ টি।

٣. عن عائشة رضى الله عنها قالت: قال رسول الله ﷺ: ليس أحد يحاسب إلا هلك. قالت: يا رسول الله جعلنى الله فداءك، أليس يقول الله عز وجل (فأما من أوتى كتابه بيمينه فسوف يحاسب حسابا يسيرا)؟ قال: ذاك العرض. يعرضون ومن نوقش الحساب هلك.
(৩. আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যারই হিসাব নেওয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে।” আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আল্লাহ পরাক্রমশালী কি বলেননি: ‘অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, শীঘ্রই তার হিসাব সহজভাবে নেওয়া হবে’? তিনি বললেন: “ওটা তো শুধু (আমলনামা) পেশ করা। কিন্তু যার হিসাব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে (জেরা করে) নেওয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে।”)
(أ) اذكر أهوال يوم القيامة في ضوء القران والسنة.
((ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা উল্লেখ করো।) [মান: ۵]
উত্তর (ক): কুরআন ও সুন্নাহয় কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতার চিত্র অত্যন্ত লোমহর্ষকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে, তারকারাজি খসে পড়বে এবং পাহাড়গুলো ধুনিত তুলার মতো উড়তে থাকবে। সূর্যকে একেবারে মাথার নিকটবর্তী করা হবে, যার ফলে মানুষ নিজের ঘামের মধ্যে সাঁতার কাটবে (হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী কারো গোড়ালি, কারো হাঁটু, কারো কোমর বা নাক পর্যন্ত ঘাম হবে)। মা তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং গর্ভবতীদের গর্ভপাত হয়ে যাবে। ভয়ে মানুষের চোখ স্থির হয়ে থাকবে। মানুষ মাতালের মতো ছুটোছুটি করবে, অথচ তারা মাতাল নয়, বরং আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। হিসাব-নিকাশের এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেই কেবল “ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি” (হায় আমার কী হবে) করতে থাকবে।
(ب) ما المراد بالحساب والعرض والنقاش؟ بين.
((খ) হিসাব, আরজ (পেশ করা) এবং নুকাশ (জেরা করা) বলতে কী বোঝায়? বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (খ):
হিসাব: হিসাব বলতে কিয়ামতের দিন বান্দার পার্থিব জীবনের সমস্ত ভালো-মন্দ কর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব বা বিচারকার্যকে বোঝায়।
আল-আরজ (عرض): এর অর্থ হলো শুধু আমলনামা পেশ করা বা প্রদর্শন করা। অর্থাৎ, মুমিন বান্দার আমলনামা তার সামনে পেশ করা হবে, আল্লাহ তার ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো তাকে দেখাবেন এবং নিজ দয়ায় সেগুলো ক্ষমা করে দেবেন। এখানে কোনো কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। এটিই হলো ‘সহজ হিসাব’।
আন-নুকাশ (نقاش): এর অর্থ হলো চুলচেরা বিশ্লেষণ বা কঠিন জেরা করা। অর্থাৎ, যখন আল্লাহ তায়ালা কোনো বান্দাকে তার প্রতিটি কাজের ‘কেন’, ‘কীভাবে’ ইত্যাদি নিয়ে সূক্ষ্মভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন। হাদিসের ভাষ্যমতে, যার সাথেই এমন ‘নুকাশ’ বা জেরা করা হবে, সে নিশ্চিত ধ্বংস (জাহান্নামি) হবে, কারণ কেউই আল্লাহর নিখুঁত ন্যায়ের সামনে নিজের আমল দিয়ে পার পেতে পারবে না।
(ج) اذكر نبذة من حياة عائشة الصديقة رضى الله عنها مع ذكر روايتها.
((গ) হজরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) এর জীবনী সংক্ষেপে উল্লেখ করো এবং তাঁর বর্ণিত হাদিস সংখ্যা লেখো।) [মান: ৫]
উত্তর (গ): জীবনী: উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) হলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) এর কন্যা এবং রাসূল (সা.) এর সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, প্রজ্ঞাবান ও ইসলামী শরীয়তের গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। অনেক বড় বড় সাহাবীও জটিল ফিকহি মাসয়ালায় তাঁর শরণাপন্ন হতেন। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর হুজরাতেই (কক্ষ) রাসূল (সা.) ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। ৫৮ হিজরিতে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে দাফন করা হয়।

বর্ণিত হাদিস সংখ্যা: তিনি নারীদের মধ্যে সর্বাধিক এবং সার্বিকভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী। তাঁর বর্ণিত মোট হাদিস সংখ্যা হলো ২২১০ টি।

مجموعة (ب)

(أجب عن واحد مما يلى)

الدرجة – ١٠×١ = ١٠

٤. اكتب نبذة من حياة الإمام البخارى رحمه الله تعالى مع ذكر خدماته فى علوم الحديث.
(৪. ইমাম বুখারি (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো এবং ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।) [মান: ১০]
উত্তর:
ইমাম বুখারির জীবনী: তাঁর মূল নাম মুহাম্মাদ, কুনিয়াত আবু আব্দুল্লাহ। পিতার নাম ইসমাইল। তিনি ১৯৪ হিজরির ১৩ই শাওয়াল জুমার দিন উজবেকিস্তানের বিখ্যাত শহর ‘বুখারা’য় জন্মগ্রহণ করেন। এজন্য তাঁকে বুখারি বলা হয়। শৈশবেই তিনি পিতৃহীন হন এবং দৃষ্টিশক্তি হারান, পরে মায়ের দোয়ায় তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে। তিনি অসাধারণ স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি অনেক হাদিস গ্রন্থ মুখস্থ করে ফেলেন। তিনি মক্কা, মদিনা, সিরিয়া, মিশর, বসরা ও কুফাসহ তৎকালীন ইসলামী বিশ্বের প্রায় সব বড় বড় জ্ঞানকেন্দ্রে ভ্রমণ করে এক হাজারেরও বেশি মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন। তিনি ২৫৬ হিজরির ঈদুল ফিতরের রাতে সমরকন্দের নিকটবর্তী খারতাংক নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।

ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান: ইলমে হাদিসে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো ‘আল-জামি আস-সহিহ’ বা ‘সহিহ বুখারি’ সংকলন। দীর্ঘ ১৬ বছর কঠোর সাধনা করে প্রায় ৬ লক্ষ হাদিসের ভাণ্ডার থেকে যাচাই-বাছাই করে তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেন। প্রতিটি হাদিস লেখার আগে তিনি গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। এটি কুরআনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত। এছাড়া তিনি ‘আত-তারিখুল কাবির’, ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ সহ অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে ইলমে হাদিসকে চিরসমৃদ্ধ করেছেন।

٥. تحدث عن مزايا الصحيح للإمام البخارى مع ذكر منزلته بين كتب الحديث.
(৫. ইমাম বুখারি (রহ.) এর ‘সহিহ’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো এবং হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা উল্লেখ করো।) [মান: ১০]
উত্তর:
সহিহ বুখারির বৈশিষ্ট্যসমূহ (মাজায়া):
১. কঠোর শর্তারোপ: ইমাম বুখারি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন শর্ত আরোপ করেছেন। রাবির (বর্ণনাকারী) সমসাময়িক হওয়া এবং একে অপরের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়া তাঁর নিকট অপরিহার্য ছিল।
২. তারাজিমুল আবওয়াব: বুখারির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অধ্যায়গুলোর নামকরণ বা ‘তারাজিম’। বলা হয়ে থাকে, “ফিকহুল বুখারি ফি তারাজিমিহি” (ইমাম বুখারির ফিকহ তাঁর অধ্যায়ের শিরোনামগুলোর মাঝেই নিহিত)।
৩. আধ্যাত্মিকতা: প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বে গোসল ও ইসতিখারার নামাজ আদায় করা এই গ্রন্থকে এক বিশেষ রুহানিয়াত দান করেছে।
৪. সর্বোচ্চ বিশুদ্ধতা: কেবল সহিহ হাদিস সংকলনের উদ্দেশ্যেই এটি রচিত, এতে কোনো জয়িফ (দুর্বল) হাদিস নেই।

হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে মর্যাদা: উম্মাহর সর্বসম্মত অভিমত হলো, “আসাহহুল কুতুব বা’দা কিতাবিল্লাহি তা’আলা সহিহুল বুখারি”—অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের পর পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হলো সহিহ বুখারি। সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থের মধ্যে এর স্থান সবার শীর্ষে। যুগে যুগে হাজারো মুহাদ্দিস এর শত শত ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরাহ) রচনা করেছেন, যা এর অতুলনীয় মর্যাদারই প্রমাণ।

مجموعة (ج) – جامع الترمذي

(ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)

الدرجة – ۲۰×۲ = ٤۰

٦. أخبرنا عبد الملك بن أبي سليمان، قال: سمعت سعيد بن جبير يحدث عن ابن عمر رضى الله عنهما قال: كان النبى ﷺ يصلى على راحلته تطوعا حيثما توجهت به وهو جاء من مكة إلى المدينة. ثم قرأ ابن عمر هذه الآية: (ولله المشرق والمغرب) الآية. فقال ابن عمر: ففي هذا أنزلت هذه الآية.
(৬. আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলায়মান আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী (সা.) তাঁর বাহনের ওপর বসে নফল নামাজ পড়তেন, বাহনটি যেদিকেই মুখ করে চলুক না কেন, যখন তিনি মক্কা থেকে মদিনায় আসছিলেন। এরপর ইবনে ওমর (রা.) এই আয়াতটি পড়লেন: “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই…” আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। অতঃপর ইবনে ওমর (রা.) বললেন: এই ব্যাপারেই আয়াতটি নাজিল হয়েছে।)
(أ) بين أهمية استقبال القبلة فى الصلاة فى ضوء القران والسنة.
((ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নামাজে কিবলামুখী হওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (ক): নামাজে কিবলামুখী (ইস্তিকবালুল কিবলা) হওয়া নামাজের অন্যতম প্রধান শর্ত (শর্তে সালাত)। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, “ফাওয়াল্লি ওয়াজহাকা শাতরাল মাসজিদিল হারাম” (সুতরাং তুমি তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরাও)। সুন্নাহর দিক থেকে, রাসূল (সা.) সর্বদা কিবলামুখী হয়ে ফরজ নামাজ আদায় করেছেন এবং উম্মতকেও নির্দেশ দিয়েছেন। কিবলামুখী না হয়ে ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ পড়লে নামাজ বাতিল হয়ে যায়। এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। তবে ভ্রমণ অবস্থায় যানবাহনে নফল নামাজের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে, যা এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
(ب) كيف صلى النبى ﷺ إلى حيث توجهت به راحلته؟ والله سبحانه قال: فول وجهك شطر المسجد الحرام؟ بين.
((খ) নবী (সা.) কীভাবে তাঁর বাহন যেদিকে মুখ করে ছিল সেদিকে নামাজ পড়লেন? অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “তুমি তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরাও”? ব্যাখ্যা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (খ): বাহন যেদিকে চলছে সেদিকে মুখ করে নামাজ পড়ার বিষয়টি কেবল নফল ও সুন্নত নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে নয়। কুরআনের আয়াত “ফাওয়াল্লি ওয়াজহাকা…” ফরজ নামাজের জন্য সুনির্দিষ্ট। সফরে নফল ইবাদত সহজ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা এই ছাড় দিয়েছেন, যাতে মুসাফির পথ চলার সময়ও ইবাদতে মগ্ন থাকতে পারে। ইবনে ওমর (রা.) যে আয়াতটি (“ولله المشرق والمغرب”) পাঠ করেছেন, তা এই বিধানটিকেই সমর্থন করে যে, নফল নামাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি সব দিকেই অর্জন করা সম্ভব। মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ একমত যে, ফরজ নামাজের জন্য বাহন থেকে নেমে কিবলামুখী হওয়া বাধ্যতামূলক (যদি সম্ভব হয়), কিন্তু নফল বাহনের ওপর পড়া জায়েজ।
(ج) اكتب نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن عمر رضى الله عنهما مع ذكر عدد رواية الحديث.
((গ) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এর জীবনী সংক্ষেপে লেখো এবং তাঁর বর্ণিত হাদিস সংখ্যা উল্লেখ করো।) [মান: ৫]
উত্তর (গ): জীবনী: হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.) এর সুযোগ্য পুত্র। তিনি শৈশবেই পিতার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদিনায় হিজরত করেন। রাসূল (সা.) এর সুন্নাহর প্রতি তাঁর অনুসরণ ছিল প্রবাদতুল্য; রাসূল (সা.) যেখানে বসতেন, যে পথে হাঁটতেন, তিনি হুবহু সেই জায়গাগুলোতে বসে বা হেঁটে সুন্নাতের অনুসরণ করতেন। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ সাহাবী ছিলেন। ৭৩ হিজরিতে তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

বর্ণিত হাদিস সংখ্যা: তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুকসিরিন (অধিক হাদিস বর্ণনাকারী) সাহাবী। তাঁর বর্ণিত মোট হাদিসের সংখ্যা হলো ২৬৩০ টি।

٧. عن عائشة رضى الله عنها قالت: سئل رسول الله ﷺ عن هذه الآية (هو الذى أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات) إلى اخر الآية؟ فقال رسول الله ﷺ: إذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم.
(৭. আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) কে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “তিনিই আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন, যার মধ্যে কিছু আয়াত হলো মুহকাম…” আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “যখন তোমরা দেখবে যে, লোকেরা এর মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াতগুলোর পেছনে ছুটছে, তখন বুঝবে এরাই তারা যাদের আল্লাহ (কুরআনে) নাম উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থেকো।”)
(أ) عرف المحكم والمتشابه مع بيان حكمهما.
((ক) ‘মুহকাম’ ও ‘মুতাশাবিহ’-এর পরিচয় দাও এবং এগুলোর বিধান বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (ক):
পরিচয়:
‘মুহকাম’ (محكم) হলো কুরআনের সেই সকল আয়াত যার অর্থ সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট, যাতে কোনো অস্পষ্টতা বা ব্যাখ্যার ভিন্নতার সুযোগ নেই। যেমন- হালাল, হারাম, নামাজ, রোজা সম্পর্কিত বিধানসমূহ।
‘মুতাশাবিহ’ (متشابه) হলো সেই সকল আয়াত যার অর্থ অস্পষ্ট বা রূপক, যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না। যেমন- আল্লাহর হাত, চোখ বা আরশে সমাসীন হওয়া সম্পর্কিত আয়াত, এবং সূরার প্রারম্ভিক হরফসমূহ (আলিফ-লাম-মীম ইত্যাদি)।
বিধান:
মুহকাম আয়াতের বিধান হলো- এর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং আমল করা অপরিহার্য।
মুতাশাবিহ আয়াতের বিধান হলো- এর ওপর ঈমান আনতে হবে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য, কিন্তু এর প্রকৃত অর্থের খোঁজে গভীর গবেষণায় লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এর অর্থকে আল্লাহর দিকেই সোপর্দ করতে হবে (তাফউইদ)।
(ب) هل يعلم أحد معنى المتشابه؟ بين مع ذكر اختلاف العلماء.
((খ) কেউ কি মুতাশাবিহ আয়াতের অর্থ জানে? উলামাদের মতভেদ উল্লেখপূর্বক বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (খ): মুতাশাবিহ আয়াতের অর্থ জানা নিয়ে উলামাদের মধ্যে দুটি প্রধান মতভেদ রয়েছে:
১. সালাফদের মত (অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ী ও পূর্ববর্তী আলেম): তাদের মতে, মুতাশাবিহ আয়াতের প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তারা কুরআনের আয়াত “ওয়ামা ইয়া’লামু তা’উইলাহু ইল্লাল্লাহ” (আর আল্লাহ ছাড়া এর ব্যাখ্যা কেউ জানে না)-এখানে ‘ইল্লাল্লাহ’ এর পর ওয়াকফ (থামা) করেন। তারা অর্থ খোঁজার বদলে ঈমান আনেন।
২. খালাফদের মত (পরবর্তী কিছু মুফাসসির ও ভাষাবিদ): তাদের মতে, গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণও এর কিছু অর্থ অনুধাবন করতে পারেন। তারা “ওয়ার রাসিখুনা ফিল ইলম” (এবং যারা জ্ঞানে সুগভীর)-কে আগের অংশের সাথে মিলিয়ে পড়েন। তবে শর্ত হলো, সেই ব্যাখ্যা যেন আরবী ভাষার নিয়ম ও ইসলামী আকিদার মূলনীতির বিরোধী না হয়। তবে সালাফদের মতটিই অধিক নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য।
(ج) أوضح مراد قوله عليه السلام: “فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم”.
((গ) নবী (সা.) এর বাণী: “তারাই ঐ ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ আখ্যায়িত করেছেন, সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থেকো” – এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করো।) [মান: ৫]
উত্তর (গ): রাসূল (সা.) এর এই বাণীর উদ্দেশ্য হলো মুসলিম উম্মাহকে ফিতনাবাজ ও গোমরাহ (পথভ্রষ্ট) লোকদের থেকে সতর্ক করা। কুরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, যাদের অন্তরে বক্রতা আছে, তারাই ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াতগুলোর পেছনে ছুটে বেড়ায়। রাসূল (সা.) সাহাবীদের এবং উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন তোমরা এমন লোকদের দেখবে যারা দ্বীনের সুস্পষ্ট বিধান (মুহকাম) বাদ দিয়ে অস্পষ্ট বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছে, তখন বুঝে নিবে এরাই হলো কুরআনে বর্ণিত সেই ‘অন্তরে বক্রতা সম্পন্ন’ লোক। এদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং এদের বিভ্রান্তিকর আলোচনা থেকে নিজেদের আকিদাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
٨. حدثنا عبد الله بن حميد قال أخبرنا يزيد بن هارون قال أخبرنا حماد بن سلمة عن عمار بن أبي عمار قال: قرأ ابن عباس: (اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتى ورضيت لكم الإسلام دينا) وعندى يهودي فقال: لو أنزلت هذه علينا لاتخذنا يومها عيدا. قال ابن عباس: فإنها نزلت فى يوم عيدين – فى يوم جمعة ويوم عرفة.
(৮. আব্দুল্লাহ ইবনে হুমাইদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন… আম্মার ইবনে আবি আম্মার থেকে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) পাঠ করলেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” তখন আমার কাছে একজন ইহুদি ছিল, সে বলল: এই আয়াতটি যদি আমাদের ওপর নাজিল হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: এটি তো দুটি ঈদের দিনেই নাজিল হয়েছে- জুমার দিন এবং আরাফার দিন।)
(أ) بين وجوه كمال الإسلام مدللا وممثلا.
((ক) ইসলামের পূর্ণতা প্রাপ্তির দিকগুলো প্রমাণ ও উদাহরণসহ বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (ক): বিদায় হজের দিন আরাফার ময়দানে অবতীর্ণ এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইসলামের এই পূর্ণতার দিকগুলো হলো:
১. আকিদা ও বিশ্বাসের পূর্ণতা: তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের ধারণা সম্পূর্ণ স্পষ্ট করা হয়েছে।
২. ইবাদত ও শরীয়তের পূর্ণতা: নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতের বিধান চূড়ান্ত করা হয়েছে। হালাল ও হারামের সীমারেখা স্পষ্ট করা হয়েছে। এর পর শরীয়তে আর কোনো নতুন বিধান যোগ হওয়ার বা রহিত হওয়ার সুযোগ নেই।
৩. জীবনব্যবস্থার পূর্ণতা: অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, পারিবারিক জীবন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক- জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মূলনীতি ইসলামে প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সুদকে হারাম করে ব্যবসাকে হালাল করা কিংবা উত্তরাধিকার বণ্টনের সুস্পষ্ট বিধান কুরআনে উল্লেখ করা এর প্রমাণ।
(ب) هل للمسلمين عيد سوى عيدى الفطر والأضحى؟ بين.
((খ) মুসলমানদের কি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ব্যতীত অন্য কোনো ঈদ আছে? বর্ণনা করো।) [মান: ৫]
উত্তর (খ): শরীয়তের পরিভাষায় মুসলমানদের বাৎসরিক মৌলিক উৎসব বা ‘ঈদ’ মূলত দুটি: ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। রাসূল (সা.) মদিনায় হিজরতের পর মদিনাবাসীদের দুটি উৎসবের দিন দেখে বলেছিলেন, আল্লাহ তোমাদের এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন (ঈদুল ফিতর ও আজহা)। তবে, হাদিসের ব্যাপক অর্থে জুমার দিনকেও ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ এবং আরাফার দিনকেও ঈদ বলা হয়েছে (যেমন ইবনে আব্বাস রা. এর হাদিসে পাওয়া যায়), কারণ এগুলো মুসলমানদের জমায়েত, ইবাদত ও আনন্দ-রহমত লাভের দিন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক শরয়ী ঈদ (যাতে ঈদের নামাজ ও বিশেষ বিধান আছে) কেবল দুটিই।
(ج) هل يجوز اتخاذ يوم نزول النعمة عيداً؟ بين المسئلة.
((গ) কোনো নেয়ামত নাজিল হওয়ার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করা কি জায়েজ? মাসয়ালাটি বর্ণনা করো।) [মান: ۵]
উত্তর (গ): ইসলামী শরীয়তে কোনো বিশেষ নেয়ামত প্রাপ্তির দিনকে স্বপ্রণোদিত হয়ে নতুন ‘ঈদের দিন’ বা উৎসবের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা (যা শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত নয়) জায়েজ নেই। ইহুদি ব্যক্তিটি বলেছিল, “আমরা সে দিনটিকে ঈদ বানিয়ে নিতাম।” ইবনে আব্বাস (রা.) এর উত্তরে এটি বলেননি যে, “হ্যাঁ, আমরাও এটিকে ঈদ বানিয়েছি।” বরং তিনি বুঝিয়েছেন যে, দিনটি আগে থেকেই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বরকতময় দিন (জুমা ও আরাফা) ছিল। ইসলামে ইবাদত ও উৎসব (ঈদ) সম্পূর্ণ তাওকিফি (আল্লাহ ও রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত)। মানুষ নিজের ইচ্ছায় কোনো নেয়ামতের দিনকে আনুষ্ঠানিক ‘ঈদ’ বানালে তা বিদয়াতে পরিণত হবে। তবে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ যেকোনো দিন নফল রোজা রাখা বা সদকা করা জায়েজ।

مجموعة (د)

(أجب عن واحد مما يلى)

الدرجة – ١٠×١ = ١٠

٩. اذكر نبذة من حياة الإمام أبي عيسى الترمذي مع بيان خدماته في علوم الحديث.
(৯. ইমাম আবু ঈসা তিরমিযি (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।) [মান: ১০]
উত্তর:
ইমাম তিরমিযির জীবনী: তাঁর নাম মুহাম্মাদ, কুনিয়াত আবু ঈসা। তিনি ২০৯ হিজরিতে বর্তমান উজবেকিস্তানের তিরমিয নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইমাম বুখারি (রহ.) এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছাত্র। ইলম অর্জনের জন্য তিনি খোরাসান, ইরাক ও হিজাজ ভ্রমণ করেন। জীবনের শেষ ভাগে তিনি অতিরিক্ত কান্নাকাটির কারণে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। ২৭৯ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান: ইলমে হাদিসে তাঁর সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অবদান হলো ‘জামি আত-তিরমিযি’ (বা সুনান তিরমিযি) গ্রন্থ সংকলন, যা সিহাহ সিত্তার অন্যতম। তাঁর বড় একটি অবদান হলো হাদিসের মান নির্ধারণে ‘হাসান’ পরিভাষার ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট ব্যবহার শুরু করা। এর আগে হাদিস সাধারণত শুধু সহিহ বা জয়িফ হিসেবে পরিচিত ছিল। এছাড়া ‘ইলালুল হাদিস’ (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) নির্ণয়ে এবং ‘শামায়েলে তিরমিযি’ (রাসূল সা. এর দৈহিক ও স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের সংকলন) রচনায় তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে।

١٠. تحدث عن خصائص الجامع للإمام الترمذي مع ذكر منزلته بين كتب الحديث.
(১০. ইমাম তিরমিযি (রহ.) এর ‘আল-জামি’ (সুনান তিরমিযি) গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো এবং হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা উল্লেখ করো।) [মান: ১০]
উত্তর:
জামি তিরমিযির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. ফিকহি আলোচনা: প্রতিটি হাদিস বর্ণনার পর ইমাম তিরমিযি সাহাবী, তাবেয়ী ও ফকিহদের মতামত (মাযহাব) উল্লেখ করেছেন। যার কারণে এটি একই সাথে হাদিস ও ফিকহের এক বিশ্বকোষ।
২. হাদিসের হুকুম বর্ণনা: প্রতিটি হাদিসের শেষে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন হাদিসটি ‘সহিহ’, ‘হাসান’ নাকি ‘জয়িফ’।
৩. ‘ফি-ল-বাব’ পদ্ধতি: একটি অধ্যায়ের মূল হাদিসটি উল্লেখ করার পর তিনি ঐ বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক অন্যান্য সাহাবীদের নাম “وفي الباب عن فلان وفلان…” বলে উল্লেখ করেছেন, যা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
৪. পুনরাবৃত্তি বর্জন: ইমাম বুখারি বা মুসলিমের মতো তিনি সাধারণত হাদিসের পুনরাবৃত্তি করেননি, যা কিতাবটিকে অত্যন্ত গোছানো ও সংক্ষিপ্ত করেছে।

গ্রন্থসমূহের মাঝে মর্যাদা: ‘জামি তিরমিযি’ সিহাহ সিত্তাহ বা প্রসিদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থের অন্যতম। মুহাদ্দিসদের মতে, ব্যবহারিক দিক ও ফিকহি মাসয়ালা জানার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ। কারো কারো মতে সুনান আবু দাউদের পর, আবার অনেকের মতে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর পরেই তিরমিযির স্থান। স্বয়ং ইমাম তিরমিযি বলেছেন, “যার ঘরে এই কিতাবটি আছে, তার ঘরে যেন স্বয়ং নবীজি (সা.) কথা বলছেন।”

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now