Kamil Masters

কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: দিরাসাত আত-তাফসীর (৫০২১০৫) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Dirasat At-Tafsir (502105) Solution

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٢

[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]

الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة التفسير [দিরাসাত আত-তাফসীর] | বিষয় কোড: ۵ ۰ ۲ ۱ ۰ ۵

الوقت— ٤ ساعات [সময়— ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة— ١٠٠ [পূর্ণমান— ১০০]

الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

مجموعة (أ)—تفسير البيضاوي [ক-বিভাগ: তাফসীরে বায়যাবী] (الدرجة— ٥٠)

١- ترجم اثنتين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (الدرجات ٢٠×٢=٤٠)

[১. নিচের যেকোনো দুটি অংশের অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) مثلهم كمثل الذي استوقد نارا فلما أضاءت ما حوله ذهب الله بنورهم وتركهم في ظلمات لا يبصرون- صم بكم عمى فهم لا يرجعون- أو كصيب من السماء فيه ظلمات ورعد وبرق يجعلون أصابعهم في آذانهم من الصواعق حذر الموت والله محيط بالكافرين-

  • (١) بين محل الإعراب لقوله تعالى: “ذهب الله بنورهم”- [“ذهب الله بنورهم” আয়াতাংশটির তারকীব বা ব্যাকরণগত অবস্থান বর্ণনা করো।] (٥)
  • (٢) بين أهمية ضرب الأمثال مع ذكر عناصر التشبيه في الآية الكريمة- [দৃষ্টান্ত স্থাপনের গুরুত্ব বর্ণনা করো এবং এই আয়াতে ব্যবহৃত উপমার উপাদানসমূহ উল্লেখ করো।] (٥)
  • (٣) لم قيل أصابع دون أنامل في قوله تعالى: “يجعلون أصابعهم”؟ بين- [“يجعلون أصابعهم” আয়াতে ‘আনামিল’ (আঙুলের ডগা) না বলে ‘আসাবি’ (সম্পূর্ণ আঙুল) কেন বলা হয়েছে? বর্ণনা করো।] (٥)

✅ উত্তর:
(১) “ذهب الله بنورهم”-এর ই’রাব: এটি মূলত (فلما أضاءت) এর জওয়াব (جواب شرط)। অর্থাৎ যখন আগুন চারপাশ আলোকিত করল, তখনই আল্লাহ তাদের আলো কেড়ে নিলেন।
(২) দৃষ্টান্তের গুরুত্ব ও উপমার উপাদান: দৃষ্টান্ত বা উপমা বিমূর্ত ও জটিল বিষয়কে মানুষের মনের কাছে বাস্তব ও সহজে বোধগম্য করে তোলে। আয়াতে ‘মুশাব্বাহ’ (যাকে তুলনা করা হয়েছে) হলো মুনাফিকদের সাময়িক ঈমান বা কপটতা, আর ‘মুশাব্বাহ বিহি’ (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে) হলো এমন ব্যক্তি যে অন্ধকারে আগুন জ্বালাল কিন্তু তা নিভে গিয়ে সে ঘোর অন্ধকারে পড়ে গেল।
(৩) ‘আসাবি’ ব্যবহারের কারণ: এখানে অলংকারশাস্ত্রের (علم البيان) নিয়মে ‘মাজাযে মুরসাল’ (مجاز مرسل) ব্যবহৃত হয়েছে; যেখানে ‘কুল’ (সমগ্র আঙুল) বলে ‘জুয’ (আঙুলের ডগা) বোঝানো হয়েছে। বিকট বজ্রপাতের ভয়ে তারা তাদের আঙুলের যতটা সম্ভব কানের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে চায়— মুনাফিকদের এই চরম ভীতি বোঝাতেই ‘আনামিল’-এর পরিবর্তে ‘আসাবি’ ব্যবহৃত হয়েছে।

(ب) وعلم آدم الأسماء كلها ثم عرضهم على الملائكة فقال أنبئوني بأسماء هؤلاء إن كنتم صادقين- قالوا سبحانك لا علم لنا إلا ما علمتنا، إنك أنت العليم الحكيم- قال يا آدم أنبئهم بأسمائهم فلما أنبأهم بأسمائهم قال ألم أقل لكم إني أعلم غيب السموات والأرض وأعلم ما تبدون وما كنتم تكتمون-

  • (١) اذكر الآراء المختلفة في حقيقة الملائكة- [ফেরেশতাদের হাকিকত বা সত্তা সম্পর্কে বিভিন্ন মতাবলি উল্লেখ করো।] (٥)
  • (٢) ما المراد بـ “علم” و “الأسماء” في هذه الآية الكريمة؟ بين بالإيضاح- [আয়াতে “علم” এবং “الأسماء” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বিশদভাবে বর্ণনা করো।] (٥)
  • (٣) حلل: صادقين، السموات، تكتمون، عُلمْتَنَا، لَمْ اَقُلْ- [তাহকীক বা শব্দ বিশ্লেষণ করো: صادقين، السموات، تكتمون، عُلمْتَنَا، لَمْ اَقُلْ] (٥)

✅ উত্তর:
(১) ফেরেশতাদের হাকিকত: তাফসীরে বায়যাবীর আলোকে জমহুর উলামাদের মতে, ফেরেশতাগণ হলেন নূর বা আলো দ্বারা সৃষ্ট এক বিশেষ সূক্ষ্ম সত্তা (أجسام نورانية)। তারা পানাহার ও কামপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত এবং আল্লাহর হুকুম পালনে সর্বদা নিয়োজিত।
(২) علم ও الأسماء এর অর্থ: এখানে “عَلَّمَ” অর্থ আল্লাহ তায়ালা সরাসরি আদম (আ.)-এর অন্তরে জ্ঞান ঢেলে দিয়েছেন। আর “الأسماء” (নামসমূহ) বলতে দুনিয়ার সমস্ত বস্তু, প্রাণি, তাদের প্রকৃতি, গুণাবলি এবং তাদের ব্যবহারিক নামসমূহ বোঝানো হয়েছে, যা ফেরেশতাদের জানা ছিল না।
(৩) তাহকীক:
صادقين: ইসমে ফায়িল, জমা মুযাক্কার সালিম, মাদ্দাহ- ص د ق, অর্থ- সত্যবাদী।
السموات: ইসমে জামিদ, জমা মুআন্নাস সালিম (একবচন: سماء), অর্থ- আকাশমন্ডলী।
تكتمون: ফেলে মুযারে, জমা মুযাক্কার হাযির, অর্থ- তোমরা গোপন কর।
عَلَّمْتَنَا: ফেলে মাজি, ওয়াহেদ মুযাক্কার হাযির + মাফউল (না)। অর্থ- আপনি আমাদের শিখিয়েছেন।
لَمْ اَقُلْ: হরফে জাযম + ফেলে মুযারে মাজযুম, ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম। অর্থ- আমি কি বলিনি।

٢- أجب عن واحد مما يلى : (١٠×١=١٠)

(أ) اكتب ترجمة صاحب تفسير البيضاوي ومساهمته في علم التفسير- [তাফসীরে বায়যাবীর লেখকের জীবনী এবং ইলমে তাফসীরে তাঁর অবদান লেখো।]

(ب) تحدث عن تفسير البيضاوي اسمه وخصائصه ومنزلته بين كتب التفاسير- [তাফসীরে বায়যাবীর মূল নাম, বৈশিষ্ট্য এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করো।]

✅ উত্তর: (সংক্ষিপ্ত রূপ)
(খ) তাফসীরে বায়যাবীর পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য: এর মূল নাম “أنوار التنزيل وأسرار التأويل” (আনওয়ারুত তানজীল ওয়া আসরারুত তাবী)। এটি শাফেয়ী মাযহাবের প্রখ্যাত আলেম কাজী নাসিরুদ্দীন আল-বায়যাবী (রহ.) (মৃত্যু: ৬৮৫ হি.) রচনা করেন।
বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা: এই তাফসীরটি মূলত তাফসীরে কাশশাফ (যামাখশারী) এবং তাফসীরে কাবীর (রাযী) এর সারসংক্ষেপ। তবে এতে মুতাযিলাদের ভ্রান্ত আকিদাগুলো বাদ দিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আরবী ব্যাকরণ, ইলমুল বালাগাত (অলংকারশাস্ত্র) এবং ফিকহী মাসআলা বর্ণনায় এর জুড়ি মেলা ভার। যুগ যুগ ধরে মাদরাসাগুলোর সিলেবাসে এটি অন্যতম প্রধান পাঠ্যবই হিসেবে স্বীকৃত।

مجموعة (ب)—تفسير الكشاف [খ-বিভাগ: তাফসীরে কাশশাফ] (الدرجة— ٥٠)

٣- ترجم اثنتين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (الدرجات ٢٠×٢=٤٠)

(ب) شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولوا العلم قائما بالقسط، لا إله إلا هو العزيز الحكيم- إن الدين عند الله الإسلام وما اختلف الذين أوتوا الكتاب الا من بعد ما جاءهم العلم بغيا بينهم، ومن يكفر بآيات الله فإن الله سريع الحساب-

  • (١) بين سبب نزول الآية الكريمة: شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة …… الخ- [এই আয়াতটির শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করো।] (٥)
  • (٢) ما معنى الشهادة؟ هل من فرق بين شهادة الله وشهادة الملائكة وشهادة أولى العلم؟ [‘শাহাদাত’ অর্থ কী? আল্লাহ, ফেরেশতা এবং আলেমদের সাক্ষ্যের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?] (٥)
  • (٣) حلل: أوتوا، آيات، سريع، جاءهم، إختلف- [তাহকীক বা শব্দ বিশ্লেষণ করো: أوتوا، آيات، سريع، جاءهم، إختلف] (٥)

✅ উত্তর:
(১) শানে নুযূল: তাফসীরবিদদের মতে, শামের (সিরিয়া) দুজন ইহুদি পন্ডিত রাসূল (সা.)-এর নিকট এসে তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন তাদের প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহর একত্ববাদের এই মহান আয়াতটি নাযিল হয়।
(২) শাহাদাতের অর্থ ও পার্থক্য: ‘শাহাদাত’ অর্থ দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেওয়া। আল্লাহ তায়ালার সাক্ষ্য হলো— তাঁর সৃষ্টিজগৎ, আল-কুরআন এবং তাঁর কুদরতের নিদর্শনের মাধ্যমে নিজের একত্ববাদ প্রমাণ করা। ফেরেশতাদের সাক্ষ্য হলো— সরাসরি আল্লাহর মহিমা অবলোকন করে মৌখিক স্বীকৃতি দেওয়া। আর আলেমদের সাক্ষ্য হলো— আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করে দলিলের মাধ্যমে একত্ববাদ স্বীকার ও প্রচার করা।
(৩) তাহকীক:
أُوتُوا: ফেলে মাজি মাজহুল, বাবে ইফ’আল। অর্থ- তাদেরকে দেওয়া হয়েছে।
آيات: জমা মুআন্নাস সালিম (একবচন: آية), অর্থ- নিদর্শনসমূহ।
سريع: সিফাতে মুশাব্বাহাহ, অর্থ- দ্রুত বা ত্বরিত।
جَاءَهُم: ফেলে মাজি + মাফউল, অর্থ- তাদের নিকট এসেছে।
إختلف: ফেলে মাজি, বাবে ইফতি’আল, অর্থ- সে মতবিরোধ করেছে।

(ج) قل إن كنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم، والله غفور رحيم- قل أطيعوا الله والرسول، فإن تولوا فإن الله لا يحب الكافرين-

  • (١) ما هو سبب نزول هذ الآية الكريمة؟ [এই আয়াতের শানে নুযূল কী?] (٥)
  • (٢) اكتب أقسام المحبة مع بيان معنى محبة العباد لله تعالى ومحبة الله للعباد- [মহাব্বতের প্রকারভেদ লেখো এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর এবং আল্লাহর প্রতি বান্দার মহাব্বতের অর্থ বর্ণনা করো।] (٥)
  • (٣) ما المراد بإطاعة الرسول صلى الله عليه وسلم في الآية الكريمة؟ [আয়াতে রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে?] (٥)

✅ উত্তর:
(১) শানে নুযূল: মক্কার কিছু মুশরিক অথবা নাজরানের খ্রিস্টানরা দাবি করেছিল যে, তারা যা কিছু করে তা আল্লাহর ভালোবাসার টানেই করে (“نحن أبناء الله وأحباؤه”)। তাদের এই দাবির সত্যতা প্রমাণের মানদণ্ড হিসেবে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন।
(২) মহাব্বতের প্রকার ও অর্থ: তাফসীরে কাশশাফের আলোকে, আল্লাহর প্রতি বান্দার মহাব্বত (محبة العباد لله) বলতে বোঝায়— আল্লাহর আদেশ-নিষেধ নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলা। অন্যদিকে বান্দার প্রতি আল্লাহর মহাব্বত (محبة الله للعباد) বলতে বোঝায়— আল্লাহ কর্তৃক বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করা, গুনাহ মাফ করা এবং তাকে নৈকট্য দান করা।
(৩) রাসূলের আনুগত্য (إطاعة الرسول): এর অর্থ হলো, রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ, তাঁর জীবনাদর্শ এবং শরীয়তের বিধানকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। রাসূলের আনুগত্য ছাড়া আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া অসম্ভব, এটিই এই আয়াতের মূল বার্তা (مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ)।

٤- أجب عن واحد مما يلى : (١٠×١=١٠)

(أ) اكتب ترجمة جار الله الزمخشري ومساهمته في علم التفسير- [জারুল্লাহ আয-যামাখশারীর জীবনী এবং ইলমে তাফসীরে তাঁর অবদান লেখো।]

(ب) قارن بين تفسير البيضاوي وتفسير الكشاف بالإيضاح- [তাফসীরে বায়যাবী ও তাফসীরে কাশশাফের মাঝে সুস্পষ্ট তুলনামূলক আলোচনা করো।]

✅ উত্তর: (যেকোনো একটির সংক্ষিপ্ত রূপ)
(খ) তাফসীরে বায়যাবী ও কাশশাফের মাঝে তুলনা:
১. আকিদাগত দিক: তাফসীরে কাশশাফের রচয়িতা আল্লামা যামাখশারী ছিলেন কট্টর মুতাযিলা আকিদার অনুসারী। তিনি তাঁর তাফসীরে মুতাযিলা মতবাদকে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, তাফসীরে বায়যাবীর রচয়িতা আল্লামা বায়যাবী (রহ.) ছিলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারী। তিনি কাশশাফ থেকে ভাষাগত সৌন্দর্য গ্রহণ করেছেন, কিন্তু মুতাযিলা ভ্রান্তিগুলো খণ্ডন করেছেন।
২. ভাষাগত দিক: ইলমুল বালাগাত (অলংকারশাস্ত্র) এবং আরবি ব্যাকরণের দিক থেকে তাফসীরে কাশশাফ এক অনন্য সৃষ্টি, বায়যাবী মূলত এরই সারসংক্ষেপ ও পরিমার্জিত রূপ। উলামায়ে কেরাম বলেন: “কাশশাফ না থাকলে বায়যাবী এতো চমৎকার রূপ পেত না।”

Back to top button