Kamil Masters

কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: আহকামুল কুরআন (৫০১১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Ahkamul Quran (501104) Question & Answer

পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ৯০৪

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ۲۰۲۲

[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]

القرآن والدراسات الإسلامية

[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

أحكام القرآن

[আহকামুল কুরআন]

বিষয় কোড: ۵ ۰ ۱ ۱ ۰ ۴ (৫০১১০৪)
الوقت-٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة-١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]

الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[বি.দ্র.: ক-বিভাগ থেকে চারটি এবং খ-বিভাগ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة (أ)

الدرجة- ٨٠=٤×٢٠
(اقرأ الآيات الكريمة وأجب عن الأسئلة الملحقة بها)

١- الزانية والزانى فاجلدوا كل واحدة منهما مائة جلدة-

(أ) هل يعذب البكر الزانى بعد الجلد؟ بين آراء الأئمة بالأدلة-
(ب) هل يستحل حد الزنا الذميين إذا زنيا؟ بين بالأدلة-

(أ) অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি (নির্বাসন/তাগবীব): হানাফি মাজহাব মতে, অবিবাহিত ব্যভিচারীর ‘হদ’ বা মূল শরয়ি শাস্তি হলো শুধুমাত্র ১০০ বেত্রাঘাত। এর বাইরে দেশান্তর বা নির্বাসন (তাগবীব) দেওয়াটা হদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি বিচারকের ইচ্ছাধীন (তাযির); পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিচারক চাইলে নির্বাসন দিতেও পারেন। তবে ইমাম শাফেয়ি ও হাম্বলি (রহ.)-এর মতে, ১০০ বেত্রাঘাতের পাশাপাশি এক বছরের জন্য নির্বাসন দেওয়াও ‘হদ’-এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

(ب) জিম্মি (অমুসলিম নাগরিক)-এর ওপর জিনার হদ: হানাফি মাজহাব মতে, জিম্মি যদি জিনা করে তবে তাকে শুধু বেত্রাঘাত করা হবে, রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করা হবে না। কারণ রজম হওয়ার জন্য ‘ইহসান’ (মুসলিম হওয়া) শর্ত। তবে ইমাম শাফেয়ি, মালিক ও অন্যদের মতে, অমুসলিম হলেও যদি সে বিবাহিত হয়, তবে তাকে রজম করা হবে; কারণ তাদের মতে ইসলাম গ্রহণ করা ইহসানের শর্ত নয়।

٢- ولا تأخذكم بهما رأفة في دين الله إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر-

(أ) هل تجوز إقامة الحدود في المساجد؟ بين أراء الأئمة بالأدلة-
(ب) هل يحد الذى يأتى البهيمة أو يعمل عمل قوم لوط أم يعزر؟ بين موضحا-

(أ) মসজিদে হদ কার্যকর করা: জমহুর ওলামা ও চার মাজহাবের ইমামদের ঐক্যমত্যে মসজিদে হদ (শরয়ি শাস্তি) বা কিসাস কায়েম করা মাকরুহ বা নাজায়েজ। কারণ মসজিদ হলো ইবাদত ও জিকিরের পবিত্র স্থান। হদ কার্যকর করলে রক্তপাত বা নাপাকির মাধ্যমে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিরমিজি শরীফের হাদিসে রাসূল (সা.) মসজিদে হদ কার্যকর করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন।

(ب) পশুগমন বা সমকামিতার শাস্তি: হানাফি মাজহাব মতে, পশুগমন বা সমকামিতার মতো জঘন্য কাজের জন্য সাধারণ জিনার ‘হদ’ (রজম বা ১০০ বেত্রাঘাত) প্রযোজ্য হবে না। বরং ইসলামী আদালতের বিচারক অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে দৃষ্টান্তমূলক ‘তাযির’ (কঠোর শাস্তি, প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড) প্রদান করবেন। তবে ইমাম শাফেয়ি এবং অধিকাংশ ইমামের মতে, সমকামিতার শাস্তি সাধারণ জিনার শাস্তির মতোই ‘হদ’ হিসেবে গণ্য হবে (অর্থাৎ বিবাহিত হলে রজম এবং অবিবাহিত হলে বেত্রাঘাত)।

٣- الزانى لا ينكح إلا زانية أو مشركة والزانية لا ينكحها إلا زان أو مشرك وحرم ذلك على المؤمنين-

(أ) اكتب سبب نزول الآية الكريمة-
(ب) ما تأويل الآية وما حكمها؟ بين كما درست في أحكام القرآن للجصاص-

(أ) শানে নুযূল: মক্কায় ‘আনাদ’ নামক এক প্রসিদ্ধ পতিতা নারী ছিল। সাহাবি হযরত মারসাদ ইবনে আবি মারসাদ (রা.) অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। তিনি মক্কায় গিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে রাসূল (সা.)-এর কাছে আবেদন করেন। রাসূল (সা.) তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ ছিলেন। তখন এই আয়াত নাজিল হয় এবং তাকে ওই চরিত্রহীনা মহিলাকে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়।

(ب) আয়াতের ব্যাখ্যা ও বিধান (জাস্সাসের মতে): ইমাম আবু বকর আল-জাস্সাস (রহ.) বলেন, এই আয়াতের বিধান মূলত মুমিনদের জন্য চরিত্রহীনা ও ব্যভিচারী নারীদের বিয়ে করার প্রতি তীব্র ভর্ৎসনা ও ধমকি (زجر وتوبيخ)। অর্থাৎ একজন পবিত্র মুমিনের জন্য কোনো ব্যভিচারিণীকে বিয়ে করা মানানসই নয়। তবে কেউ যদি খাঁটি তাওবা করে ব্যভিচার থেকে ফিরে আসে, তবে মুমিনদের জন্য তাদের বিয়ে করা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ হবে।

٤- والذين يرمون المحصنات ثم لم يأتوا بأربعة شهداء فاجلدوهم ثمانين جلدة-

(أ) بين أراء الأئمة بالأدلة فيمن عرّض بالقذف-
(ب) ما حكم من قذف صبيا وصبية ومجنونا؟ بين بالأدلة-

(أ) ইঙ্গিতে অপবাদ (তা’রীদ) দেওয়া: কেউ যদি সরাসরি জিনার কথা না বলে এমনভাবে ইঙ্গিত করে (যেমন: “তোর মা তো আর পতিতা ছিল না”), যা দ্বারা সমাজে জিনার অপবাদ বোঝায়— এ বিষয়ে ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, তার ওপর ‘কাযাফের হদ’ (৮০ বেত্রাঘাত) ওয়াজিব হবে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, সুস্পষ্ট বাক্য (সারিহ) ছাড়া শুধু ইঙ্গিতের কারণে হদ ওয়াজিব হয় না, বরং তাকে তাযির (তিরস্কার বা সাধারণ শাস্তি) দেওয়া হবে।

(ب) অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগলকে অপবাদ দেওয়ার বিধান: যে ব্যক্তি কোনো নাবালক-নাবালিকা বা পাগলকে জিনার অপবাদ দেবে, তার ওপর ‘কাযাফের হদ’ (৮০ বেত্রাঘাত) প্রয়োগ হবে না। কারণ অপবাদের হদ প্রমাণের জন্য যাকে অপবাদ দেওয়া হলো তার মধ্যে ‘ইহসান’ (প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ও পবিত্র হওয়া) শর্ত। তবে যেহেতু সে একটি কষ্টদায়ক কথা বলেছে, তাই অপবাদকারীকে আদালতের মাধ্যমে ‘তাযির’ দেওয়া হবে।

٥- والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم ، فشهادة أحدهم أربع شهادات بالله، إنه لمن الصادقين-

(أ) عرف اللعان لغة واصطلاحا ثم بين أسباب سقوط اللعان-
(ب) هل اللعان حد؟ بين أراء الأئمة فيه بالإيجاز-

(أ) লিআন-এর পরিচয় ও বাতিল হওয়ার কারণ: আভিধানিক অর্থ— দূরে সরিয়ে দেওয়া বা পরস্পরকে অভিশাপ দেওয়া। পরিভাষায়: স্বামী তার স্ত্রীকে জিনার অপবাদ দিলে এবং চারজন সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হলে, কাজীর (বিচারক) সামনে উভয়ে বিশেষ বাক্যে আল্লাহর নামে শপথ করে যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে লিআন বলে। বাতিল হওয়ার কারণ: স্বামী যদি অপবাদ প্রত্যাহার করে নেয় (তখন তাকে ৮০ বেত্রাঘাত করা হবে) অথবা স্ত্রী যদি জিনার কথা স্বীকার করে নেয় (তখন স্ত্রীর ওপর রজম কার্যকর হবে), তবে লিআন বাতিল হয়ে যায়।

(ب) লিআন কি হদ? ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে লিআন হলো স্বামীর দিক থেকে কাযাফের হদ থেকে বাঁচার উপায় এবং স্ত্রীর দিক থেকে জিনার হদ থেকে বাঁচার উপায়, তাই এটি হদের স্থলাভিষিক্ত। কিন্তু হানাফি মাজহাব মতে এটি হদ নয়, বরং এটি হলো শপথ মিশ্রিত এক বিশেষ সাক্ষ্যদান (شهادة مؤكدة بالأيمان)।

٦- إن الذين جاءو بالإفك عصبة منكم لا تحسبوه شرا لكم بل هو خير لكم-

(أ) اكتب سبب نزول الآية-
(ب) اكتب أضرار التخمين وظن السوء في المجتمع-

(أ) শানে নুযূল: ৫ম হিজরিতে বনু মুসতালিক (মুরাইসী) যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়িশা (রা.) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে গেলে তাঁর গলার হার হারিয়ে যায়। হার খুঁজতে গিয়ে তিনি মূল কাফেলা থেকে পিছিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সাহাবি সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল (রা.) তাকে দেখতে পেয়ে সসম্মানে নিজের উটে করে মদীনায় পৌঁছে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ও অন্যান্য মুনাফিকরা তাঁর নামে জঘন্য মিথ্যা অপবাদ (ইফক) রটায়। দীর্ঘ এক মাস পর স্বয়ং আল্লাহ তাআলা আয়িশা (রা.)-এর সতীত্ব ও পবিত্রতা প্রমাণ করে সূরা নূরের এই আয়াতগুলো নাজিল করেন।

(ب) সমাজে কুধারণা ও মিথ্যার ক্ষতিকর প্রভাব: কুধারণা বা বিনা প্রমাণে সন্দেহ সমাজের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। এটি গীবত, অপবাদ ও শত্রুতার জন্ম দেয়, যার ফলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। এটি একটি সুস্থ সমাজকে ভেতর থেকে কলুষিত করে ফেলে।

٧- يا أيها الذين آمنوا لا تدخلوا بيوتا غير بيوتكم حتى تستأنسوا وتسلموا على أهلها، ذلكم خير لكم لعلكم تذكرون-

(أ) اكتب آداب دخول البيت والاستئذان موضحا-
(ب) اكتب أهمية الاستئذان على المحارم في ضوء القرآن والسنة-

(أ) গৃহে প্রবেশের আদব (ইস্তিজান): অন্যের বাড়িতে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া ফরজ। সুন্নাহসম্মত নিয়ম হলো—সর্বোচ্চ তিনবার সালাম দিয়ে অনুমতি চাওয়া, দরজার একেবারে মুখোমুখি না দাঁড়িয়ে একটু ডানে বা বামে দাঁড়ানো (যাতে ভেতরের গোপনীয়তা প্রকাশ না পায়) এবং ভেতর থেকে স্পষ্টভাবে অনুমতি পেলেই কেবল প্রবেশ করা। তিনবারে উত্তর না পেলে ফিরে আসা।

(ب) মাহরামদের কাছেও অনুমতি নেওয়ার গুরুত্ব: নিজের মা, বোন বা সাবালিকা কন্যার ঘরে প্রবেশের আগেও অনুমতি বা সঙ্কেত (যেমন কাশি দেওয়া, পায়ের আওয়াজ করা বা কড়া নাড়া) দেওয়া ইসলামি শরিয়তে জরুরি। কারণ, নিজ ঘরে তারাও এমন অগোছালো অবস্থায় বা পোশাকে থাকতে পারেন, যে অবস্থায় তাদের দেখা রুচিসম্মত বা শরিয়তসম্মত নয়। দৃষ্টির হেফাজতের জন্যই এই বিধান দেওয়া হয়েছে।

٨- اكتب ترجمة أبي بكر الجصاص مع ذكر خصائص كتابه أحكام القرآن-

ইমাম আবু বকর আল-জাস্সাস (রহ.) ও তাঁর গ্রন্থ: তাঁর পূর্ণ নাম আহমাদ ইবনে আলী আল-জাস্সাস (৩০৫ – ৩৭০ হিজরি)। তিনি ইরাকের রাই শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হানাফি মাজহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ ও মুফাসসির ছিলেন।
তাঁর রচিত ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য: তিনি এই গ্রন্থে সম্পূর্ণ কুরআনের তাফসির না করে কেবল শরিয়তের আইন, ফিকহ ও বিধান সম্পর্কিত আয়াতগুলোর বিস্তারিত তাফসির করেছেন। এতে তিনি হানাফি মাজহাবের স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিল উপস্থাপন করেছেন এবং বিরোধীদের মতবাদ যৌক্তিকভাবে ও দলিলের আলোকে খণ্ডন করেছেন। এটি ফিকহে হানাফির অন্যতম প্রামাণ্য তাফসির গ্রন্থ।

مجموعة (ب)

الدرجة- ٢٠=٥×٤

٩- أجب عن أربعة مما يلى :

(أ) فسر قوله تعالى: وليشهد عذابهما طائفة من المؤمنين-
(ب) هل تبطل شهادة القاذف قبل إقامة الحد عليه؟
(ج) فسر قوله تعالى : ولايبدين زينتهن إلا ما ظهر منها-
(د) إذا جاء القاذف بأربعة شهود فساق فهل تبرئه شهادتهم من الجلد؟
(ه) ما حكم من طلق امرأته طلاقا بائنا ثم قذفها؟ بين موجزا-
(و) اكتب سبب نزول قوله تعالى : ولا يأتل أولوا الفضل منكم والسعة أن يؤتوا أولى القربى
(ز) بين صفة الضرب في الزنا-
(ح) هل يجب تزويج الأيامى أم يستحب؟ بين في ضوء قوله تعالى : وأنكحوا الأيامى منكم والصالحين من عبادكم وإماءكم-

(أ) ব্যভিচারীদের শরয়ি শাস্তি জনসমক্ষে (কিছু সংখ্যক মুমিনের উপস্থিতিতে) হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা সামাজিকভাবে লজ্জিত হয় এবং অন্যরা তা দেখে শিক্ষা নেয় ও জঘন্য পাপ থেকে বিরত থাকে।

(ب) হানাফি মাজহাব মতে, অপবাদকারীর (কাযিফ) সাক্ষ্য হদ বা শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগে বাতিল হয় না, বিচারক তাকে বেত্রাঘাত করার পরই কেবল তার সাক্ষ্য স্থায়ীভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।

(ج) ‘যা প্রকাশ থাকে’ (إلا ما ظهر منها) বলতে সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে নয় বরং কাজেকর্মে স্বাভাবিকভাবে যে অংশটুকু প্রকাশ পেয়ে যায় তাকে বোঝানো হয়েছে। তাফসিরকারকদের মতে, চেহারা (মুখমণ্ডল) এবং হাতের কবজি পর্যন্ত এর অন্তর্ভুক্ত।

(د) না, ফাসিক (পাপী বা মিথ্যুক) ব্যক্তিদের সাক্ষ্য ইসলামি আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই চারজন ফাসিক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিলেও তারা অপবাদকারীকে বেত্রাঘাতের শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।

(ه) বাঈন তালাক দেওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যায়। তাই তখন স্বামী অপবাদ দিলে তাদের মধ্যে ‘লিআন’ হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মতো স্বামীর ওপর সরাসরি অপবাদের হদ (৮০ বেত্রাঘাত) প্রয়োগ করা হবে।

(و) শানে নুযূল: ইফকের (আয়িশা রা.-এর প্রতি অপবাদ) ঘটনায় হজরত আবু বকর (রা.)-এর আত্মীয় মিসতাহ জড়িয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে আবু বকর (রা.) তাকে দেওয়া আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার কসম খেয়েছিলেন। তখন আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করে মুমিনদেরকে ক্ষমা করতে ও সাহায্য চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।

(ز) জিনার বেত্রাঘাত এমন মধ্যম মানের হতে হবে যা হাড় না ভাঙে বা চামড়া চিরে না ফেলে। আঘাত শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবে মুখমণ্ডল, মাথা এবং লজ্জাস্থানে আঘাত করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

(ح) বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়া সমাজ ও অভিভাবকদের জন্য সাধারণত ‘মুস্তাহাব’ বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তবে কেউ যদি বিয়ে না করলে জিনার আশঙ্কায় থাকে এবং বিয়ের সামর্থ্য থাকে, তবে তাকে বিয়ে দেওয়া ‘ওয়াজিব’।

Back to top button