পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ৯০৩
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢١
[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسات الحديث
[দিরাসাত আল-হাদীস]
الوقت-٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة-١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة- [দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক]
مجموعة (أ) – صحيح البخاري
(ترجم اثنتين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)
الدرجة- ٢٠×٢=٤٠
١- عن البراء أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى إلى بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهرا وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت وأنه صلى أول صلاة او صلاها صلاة العصر وصلى معه قوم فخرج رجل ممن صلى معه فمر على أهل مسجد وهم راكعون فقال أشهد بالله لقد صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل مكة فداروا كما هم قبل البيت وكان الذى مات على القبلة قبل أن تحول قبل البيت رجال قتلوا لم ندر ما نقول فيهم فأنزل الله “وما كان الله ليضيع إيمانكم إن الله بالناس لرؤوف رحيم”-
(الف) ما الحكمة والفوائد لتحويل القبلة من بيت المقدس إلى الكعبة؟ بين- (٥)
(ب) كيف ومتى وقع تحويل القبلة؟ فصل- (٥)
(ج) فسر قوله تعالى “وما كان الله ليضيع إيمانكم”- (٥)
(الف) কিবলা পরিবর্তনের হিকমত: এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদের ঈমানের পরীক্ষা নেওয়া; অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের সামনে কে নিঃশর্তভাবে মাথা নত করে এবং কে সন্দেহ পোষণ করে তা যাচাই করা। এছাড়া, কাবাঘরকে (যা ইব্রাহিম আ.-এর নির্মিত) মুসলমানদের চিরস্থায়ী ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ইহুদিদের আধিপত্যের দাবি খণ্ডন করাও এর অন্যতম হিকমত ছিল।
(ب) কিবলা পরিবর্তনের সময় ও প্রেক্ষাপট: হিজরতের ১৬ বা ১৭ মাস পর (২য় হিজরির রজব বা শাবান মাসে) মদিনায় এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটে। রাসূল (সা.) মসজিদে বনু সালামায় (বর্তমান মসজিদে কিবলাতাইন) জোহর বা আসরের নামাজ পড়াচ্ছিলেন। নামাজের মাঝখানেই জিবরাঈল (আ.) ওহি নিয়ে আসেন এবং রাসূল (সা.) নামাজরত অবস্থায়ই কাবা শরীফের দিকে ঘুরে যান। তাঁর দেখাদেখি উপস্থিত সাহাবিগণও নামাজের মধ্যেই ঘুরে যান।
(ج) ‘وما كان الله ليضيع إيمانكم’ এর তাফসির: এখানে ‘ঈমান’ শব্দ দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে পড়া পূর্ববর্তী নামাজগুলোকে বোঝানো হয়েছে। কিবলা পরিবর্তনের পর সাহাবিরা চিন্তিত হয়ে পড়েন যে, যেসব মুসলিম ভাই কিবলা পরিবর্তনের আগেই ইন্তেকাল করেছেন, তাদের পূর্ববর্তী নামাজের কী হবে? এর জবাবে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করে জানিয়ে দেন যে, আল্লাহ কখনোই তাদের সেই ইবাদত বা ঈমান বিনষ্ট করবেন না, বরং তারা পূর্ণ প্রতিদান পাবেন।
٢- عن ابن عباس رضى الله عنهما أنه كان يقرأ “وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين” يقول وعلى الذين يحملونه هو الشيخ الكبير الذى لا يطيق الصوم أمر ان يطعم كل يوم مسكينا قال ومن تطوع خيرا يقول ومن زاد وأطعم اكثر من مسكين فهو خير-
(الف) ما معنى الفدية لغة وشرعا؟ وما حكمها فى الأحكام الشريعة؟ بين- (٥)
(ب) اكتب نبذة من حياة ابن عباس رضى الله عنهما- (٥)
(ج) اشرح قوله تعالى “وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين”- (٥)
(الف) ফিদইয়া-এর পরিচয় ও বিধান: আভিধানিক অর্থ— ক্ষতিপূরণ, বিনিময় বা মুক্তিপণ। শরীয়তের পরিভাষায়: রোজা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম ব্যক্তির একটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার প্রদান করা বা সমপরিমাণ মূল্য (সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ) আদায় করাকে ফিদইয়া বলে। হুকুম: অতিশয় বৃদ্ধ (শাইখে ফানি) বা এমন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার আর কোনো আশা নেই, তাদের জন্য ফিদইয়া দেওয়া ওয়াজিব।
(ب) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জীবনী: তাঁর পুরো নাম আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস। তিনি রাসূল (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং উম্মতের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির। রাসূল (সা.) তাঁর জন্য কুরআনের প্রজ্ঞার দোয়া করেছিলেন, তাই তিনি ‘হিবরুল উম্মাহ’ (উম্মতের মহাজ্ঞানী) এবং ‘তরজুমানুল কুরআন’ (কুরআনের ভাষ্যকার) হিসেবে সুপরিচিত। তিনি হিজরতের ৩ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮ হিজরিতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন।
(ج) আয়াতের ব্যাখ্যা: ইসলামের প্রাথমিক যুগে রোজা ফরজ হওয়ার পর, যারা রোজা রাখতে কষ্ট অনুভব করত তাদের জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদইয়া দেওয়ার ঐচ্ছিক সুযোগ ছিল। পরবর্তীতে সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াত ‘ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহরা ফালইয়াসুমহু’ দ্বারা সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এই সাধারণ ছাড় রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়। তবে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, অতিশয় বৃদ্ধ বা অক্ষমদের জন্য আয়াতের এই বিধানটি আজও বহাল (মুহকাম) রয়েছে।
٣- عن ابى سعيد الخدرى (رض) أن رجالا من المنافقين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الغزو تخلفوا عنه وفرحوا بمقعدهم خلاف رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتذروا إليه وحلفوا وأحبوا أن يحمدوا بما لم يفعلوا فنزلت “لا تحسبن الذين يفرحون الاية”-
(الف) من كان رئيس المنافقين فى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ بين بعض خصاله الذميمة- (٥)
(ب) اكتب خصال المنافقين وخطرهم- (٥)
(ج) ما معنى الغزوة والسرية؟ وما الفرق بينهما؟ بين- (٥)
(الف) মুনাফিকদের সর্দার: রাসূল (সা.)-এর যুগে মদিনায় মুনাফিকদের প্রধান সর্দার ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। তার নিন্দনীয় স্বভাবের মধ্যে ছিল— মিথ্যা বলা, মুমিনদের মাঝে বিভেদ ও ফিতনা সৃষ্টি করা (যেমন: ইফকের ঘটনা), ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে মুসলিম বাহিনীকে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া (যেমন: ওহুদ যুদ্ধ)।
(ب) মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য ও বিপদ: তারা মুখে ইসলাম প্রকাশ করে কিন্তু অন্তরে গভীর কুফর লুকিয়ে রাখে। হাদিসের ভাষ্যমতে এদের প্রধান লক্ষণ তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খিয়ানত করে। এরা ইসলামের ছদ্মবেশে মুসলমানদের গোপন তথ্য শত্রুদের কাছে ফাঁস করে দিত। প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে এরা অধিক ভয়ংকর, কারণ তারা মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়।
(ج) গাযওয়া ও সারিয়া-এর পার্থক্য: ‘গাযওয়া’ হলো এমন সামরিক অভিযান যাতে রাসূল (সা.) স্বয়ং সশরীরে সেনাপতি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন (যেমন: বদর, ওহুদ, খন্দক)। আর ‘সারিয়া’ হলো এমন অভিযান যেখানে তিনি নিজে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকেননি, বরং কোনো সাহাবিকে সেনাপতি নিযুক্ত করে সৈন্যদল পাঠিয়েছেন।
مجموعة (ب)
(أجب عن واحد مما يلى)
الدرجة- ١٠×١=١٠
٤- اكتب نبذة من حياة الإمام البخارى مع بيان مساهمته فى علم الحديث-
٥- تحدث عن خصائص صحيح البخارى ومنزلته بين كتب الأحاديث-
ইমাম বুখারী ও সহিহ বুখারী: তাঁর পূর্ণ নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিজরি)। ইলমে হাদিসে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো, তিনি প্রায় ছয় লাখ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ হাদিসগুলোকে একত্রিত করে ‘সহিহ আল-বুখারী’ সংকলন করেন।
বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা: এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি রাবিদের (বর্ণনাকারী) সাক্ষাতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর শর্তারোপ করেছেন (মুয়াসারাত ও লিকা)। প্রতিটি হাদিস লেখার আগে তিনি গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যে, পবিত্র কুরআনের পর এটিই ইসলামি শরীয়তের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ (أصح الكتب بعد كتاب الله)।
مجموعة (ج) – جامع الترمذي
(ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)
الدرجة- ٢٠×٢=٤٠
٦- عن أبى موسى الأشعرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن الله خلق آدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو آدم على قدر الأرض فجاء منهم الأحمر والأبيض والسهل والحزن والخبيث والطيب-
(الف) بين قصة خلق آدم عليه السلام مختصراً- (٥)
(ب) اشرح قوله عليه السلام “فجاء بنو آدم على قدر الأرض”- (٥)
(ج) حلل الكلمات : قبضة ، الأبيض ، جاء ، طيب ، الأرض- (٥)
(الف) আদম (আ.) এর সৃষ্টির ঘটনা: আল্লাহ তাআলা যখন মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টির মনস্থ করলেন, তখন তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে মাটি সংগ্রহ করে আনতে। সেই সংগৃহীত মিশ্রিত মাটি দিয়েই আদম (আ.)-এর দেহকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
(ب) ‘আদমসন্তান মাটির বৈশিষ্ট্যানুপাতে হওয়া’ এর ব্যাখ্যা: যেহেতু পৃথিবীর মাটির রং ও প্রকৃতি সর্বত্র এক নয় (কোথাও লাল, কোথাও সাদা, কোথাও নরম, কোথাও শক্ত বা অনুর্বর), তাই মানুষের চামড়ার রং (সাদা, কালো, গমের রং) এবং মানসিক প্রকৃতিও (নরম স্বভাব, বদমেজাজি, সৎ, অসৎ) ভিন্ন ভিন্ন হয়। মূলত মাটির এই বৈচিত্র্যই মানবজাতির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্যের প্রধান কারণ।
(ج) শব্দ বিশ্লেষণ:
• قبضة: (কাবদাহ) অর্থ এক মুঠি পরিমাণ বা হাতের মুঠো।
• الأبيض: (আল-আবইয়াদ) অর্থ সাদা বা শুভ্র বর্ণের।
• جاء: (জা’আ) অর্থ এসেছে বা হয়েছে (এখানে উৎপত্তি অর্থে ব্যবহৃত)।
• طيب: (তাইয়্যিব) অর্থ পবিত্র, উত্তম বা ভালো স্বভাবের।
• الأرض: (আল-আরদ) অর্থ পৃথিবী বা ভূমি।
٧- عن كعب بن عجرة قال اتى على رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا أوقد تحت قدر والقمل يتناثر على جبهتى أو قال حاجبى فقال أيؤذيك هو امك؟ قلت نعم ، قال: فاحلق رأسك وانسك نسيكة أو صم ثلاثة أيام أو أطعم ستة مساكين قال ايوب لا أدرى بايتهن بدأ – هذا حديث حسن صحيح-
(الف) ما المراد بقوله هذا حديث حسن صحيح؟ (٥)
(ب) إلى أية واقعة أشيرت بهذا الحديث؟ بين- (٥)
(ج) اكتب نبذة من كعب بن عجرة رضى الله عنه- (٥)
(الف) ‘হাদিসুন হাসানুন সহিহ’-এর উদ্দেশ্য: এটি ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর একটি নিজস্ব ও বিশেষ পরিভাষা। মুহাদ্দিসগণ এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো, হাদিসটির একাধিক সনদ রয়েছে; এক সনদের বিচারে এটি ‘হাসান’ এবং অন্য সনদের বিচারে এটি ‘সহিহ’। অথবা হাদিসটি মূলত সহিহ পর্যায়ের হলেও এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ হয়তো তুলনামূলক কিছুটা কম স্মরণশক্তিসম্পন্ন, তাই সতর্কতাবশত উভয় পরিভাষা একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে।
(ب) যে ঘটনার ইঙ্গিত করা হয়েছে: ৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ইহরাম অবস্থায় সাহাবি কাব ইবনে উজরা (রা.)-এর মাথায় অসুস্থতার কারণে প্রচুর উকুন জন্মায়। উকুনগুলো তাঁর চেহারায় ঝরে পড়ছিল এবং তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। তখন রাসূল (সা.) তাকে মাথা মুণ্ডন করার (যা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ) বিশেষ অনুমতি দেন এবং এর ক্ষতিপূরণ (ফিদিয়াতুল আযা) হিসেবে একটি পশু জবাই, ৩টি রোজা অথবা ৬ জন মিসকিনকে খাওয়ানোর নির্দেশ দেন।
(ج) কাব ইবনে উজরা (রা.)-এর জীবনী: তিনি মদিনার আনসার সাহাবিদের অন্যতম একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ‘বাইয়াতে রিদওয়ান’ (গাছের নিচের শপথ)-এ অংশগ্রহণকারী সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বদর পরবর্তী বিভিন্ন জিহাদে অংশগ্রহণ করেন এবং ইসলামের খেদমতে সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
٨- عن عائشة رضى الله عنها قالت سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية “هو الذى أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات إلى أخر الاية” فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم-
(الف) ما المحكم والمتشابه؟ بين حكمهما- (٥)
(ب) هل يعلم أحد معنى المتشابه؟ بين مع ذكر إختلاف الأئمة- (٥)
(ج) اشرح قوله عليه السلام “فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم”- (٥)
(الف) মুহকাম ও মুতাশাবিহ: উসুলুল ফিকহের পরিভাষায় ‘মুহকাম’ হলো সেই আয়াত, যার অর্থ সুস্পষ্ট এবং অন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না (যেমন হালাল-হারামের বিধান)। আর ‘মুতাশাবিহ’ হলো যার অর্থ অস্পষ্ট, রূপক বা একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে। বিধান: মুহকাম আয়াতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন ও আমল করা ফরজ। আর মুতাশাবিহ আয়াতের প্রকৃত অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে এর প্রতি শুধু ঈমান আনা জরুরি, এ নিয়ে বিতর্ক করা নিষেধ।
(ب) মুতাশাবিহ আয়াতের জ্ঞান: এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। জমহুর (অধিকাংশ মুফাসসির ও সালাফ) আলেমদের মতে, এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না; আয়াতের ওয়াকফ হবে ‘ইল্লাল্লাহ’-এর ওপর। তবে ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.) সহ কিছু আলেমের মতে, যারা জ্ঞানে সুগভীর বা পারদর্শী (الراسخون في العلم), তারাও এর কিছু মর্ম বুঝতে পারেন।
(ج) হাদিসের ব্যাখ্যা: রাসূল (সা.) উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন, যারা কুরআনের সুস্পষ্ট ও আমলযোগ্য আয়াত (মুহকাম) বাদ দিয়ে মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট আয়াত নিয়ে তর্কবিতর্ক ও অপব্যাখ্যা করে, মূলত তাদের অন্তরেই বক্রতা রয়েছে। কুরআনে (সূরা আল-ইমরান: ৭) আল্লাহ এদেরকেই ‘যাদের অন্তরে সত্য লঙ্ঘনের প্রবণতা রয়েছে’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং, এমন ফিতনাবাজদের সংশ্রব থেকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
مجموعة (د)
(أجب عن واحد مما يلى)
الدرجة- ١٠×١=١٠
٩- اكتب نبذة من حياة الإمام الترمذى مركزا على النقاط التالية: (الف) مولده ونشأته (ب) حياته العلمية (ج) شيوخه (د) ثناء العلماء على كتابه الجامع (ه) وفاته
١٠- تحدث عن خصائص الجامع للإمام الترمذى ومنزلته بين كتب الأحاديث-
ইমাম তিরমিজি ও তাঁর জামে গ্রন্থ: তাঁর পূর্ণ নাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আস-সুলামী আত-তিরমিজি। তিনি ২০৯ হিজরিতে বর্তমান উজবেকিস্তানের তিরমিজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলমে হাদিসের অন্বেষণে মক্কা, মদিনা, ইরাক ও খোরাসান সফর করেন। তাঁর প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ইমাম বুখারী (রহ.) অন্যতম, যাঁর দ্বারা তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ২৭৯ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
জামে তিরমিজির বৈশিষ্ট্য: এটি সিহাহ সিত্তার অন্যতম একটি অনন্য গ্রন্থ। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি প্রতিটি হাদিসের শেষে হাদিসটির মান (সহিহ, হাসান, জঈফ বা গরিব) নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাছাড়া, ওই হাদিসের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফকিহ, সাহাবি ও মাজহাবের ইমামদের মতপার্থক্য ও আমল অত্যন্ত সুন্দরভাবে উল্লেখ করেছেন, যা এই গ্রন্থটিকে একই সাথে হাদিস ও ফিকহের একটি বিশ্বকোষে পরিণত করেছে।




