কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: উলুমুল কুরআন (৫০১১০৫) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Ulumul Quran (501105) Question & Answer

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: উলুমুল কুরআন (৫০১১০৫) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Ulumul Quran (501105) Question & Answer
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٣
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم القرآن
[উলুমুল কুরআন]
বিষয় কোড: ৫ ০ ১ ১ ০ ৫
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة—١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
[الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)]
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে যে কোনো চারটি এবং (খ) অংশ থেকে যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة (أ)
[ক বিভাগ]

الدرجة— ٢٠×٤ = ٨٠ [মান— ৪x২০ = ৮০]

١- ما المراد بالمكي والمدني؟ وما خصائصهما؟ بين أهميتهما وفوائدهما مفصلا-
[(১) মাক্কী ও মাদানী দ্বারা কী বুঝায়? এতদুভয়ের বৈশিষ্ট্য কী? উভয়ের গুরুত্ব ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
মাক্কী ও মাদানী এর পরিচয়: বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ আয়াত ও সূরাসমূহকে ‘মাক্কী’ এবং হিজরতের পরে অবতীর্ণ আয়াত ও সূরাসমূহকে ‘মাদানী’ বলা হয় (স্থান বিবেচ্য নয়)।
বৈশিষ্ট্য: মাক্কী সূরাগুলোতে সাধারণত তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত ও শিরকের খণ্ডন রয়েছে। এর আয়াতগুলো ছোট ও ছন্দময়। এতে ‘ইয়া আইয়্যুহান নাস’ (হে মানবজাতি) সম্বোধন বেশি। অন্যদিকে, মাদানী সূরাগুলোতে শরীয়তের বিধিবিধান (হালাল, হারাম, জিহাদ, উত্তরাধিকার) আলোচিত হয়েছে। এর আয়াতগুলো দীর্ঘ এবং এতে ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানু’ (হে মুমিনগণ) সম্বোধন বেশি।
গুরুত্ব ও উপকারিতা: মাক্কী ও মাদানী সূরার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) আয়াত চেনা যায়। শরীয়তের আইন প্রণয়নের পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস বোঝা যায় এবং কুরআনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায়, যা তাফসীরের জন্য অপরিহার্য।


٢- بين أول ما نزل من القرآن مفصلا ممثلا مع ذكر أهمية معرفته-
[(২) কুরআনে প্রথম অবতীর্ণ সম্পর্কে জ্ঞানলাভের গুরুত্ব বর্ণনাসহ কুরআনে প্রথম অবতীর্ণ সম্পর্কে উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
উত্তর:
প্রথম অবতীর্ণ (আউয়ালু মা নাযাল): ওহীর সূচনালগ্নে হেরা গুহায় রাসূল (সা.)-এর ওপর সূরা আল-আলাক-এর প্রথম ৫টি আয়াত (“ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক…”) অবতীর্ণ হয়। এটিই সর্বসম্মতভাবে কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ অংশ। তবে পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয় ‘সূরা আল-ফাতিহা’।
জ্ঞানলাভের গুরুত্ব: প্রথম অবতীর্ণ আয়াত সম্পর্কে জানার গুরুত্ব অনেক। এর মাধ্যমে ইসলামের প্রারম্ভিক ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট জানা যায়। এছাড়াও এর মাধ্যমে শরীয়তের বিধিবিধান কিভাবে ধীরে ধীরে মানুষের ওপর আরোপ করা হয়েছে (তাদরীজ ফিত তাশরী) তা উপলব্ধি করা যায়। এটি কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য কিতাব, তার ঐতিহাসিক প্রমাণ বহন করে।


٣- ما خلفية جمع القرآن الكريم في عهد أبي بكر وعثمان رضى الله عنهما؟ وما خصائص الجمعين؟ بين مفصلا-
[(৩) হযরত আবু বকর ও উসমান (রা) এর যুগে কুরআন একত্রিকরণের প্রেক্ষাপট কী ছিল? এতদুভয়ের বৈশিষ্ট্য কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
উত্তর:
আবু বকর (রা.) এর যুগে প্রেক্ষাপট: ইয়ামামার যুদ্ধে অসংখ্য হাফেজে কুরআন সাহাবী শহীদ হলে হযরত উমর (রা.) আশঙ্কা করেন যে, এভাবে হাফেজরা মারা গেলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাঁর পরামর্শে আবু বকর (রা.) যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে কুরআন গ্রন্থবদ্ধ করেন।
উসমান (রা.) এর যুগে প্রেক্ষাপট: ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করলে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মাঝে কুরআনের পঠন-রীতি (কিরাআত) নিয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই ফিতনা দূর করে উম্মাহকে এক পঠন-রীতির ওপর ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি কুরআন সংকলন করেন।
বৈশিষ্ট্য: আবু বকর (রা.)-এর সংকলনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি বিক্ষিপ্তভাবে লেখা আয়াতগুলোকে এক জায়গায় একটি গ্রন্থে (সুহুফ) সংকলন করেন। আর উসমান (রা.)-এর সংকলনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি আবু বকর (রা.)-এর সেই সুহুফ থেকে কুরাইশী ভাষায় একাধিক কপি তৈরি করেন এবং সেগুলো বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন, যাতে কিরাআত নিয়ে আর কোনো মতবিরোধ না হয়।


٤- تحدث عن القواعد المهمة التي يحتاج إليها المفسر عند التفسير-
[(৪) যে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো একজন মুফাসসিরকে কুরআন তাফসির করার জন্য জানতে হবে তা আলোচনা কর।]
উত্তর: একজন মুফাসসিরের জন্য তাফসীর করার ক্ষেত্রে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম (কাওয়ায়েদ) অনুসরণ করা আবশ্যক তা হলো:
১. কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসীর: কুরআনের কোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকলে অন্য স্থানে তার বিস্তারিত বর্ণনা থাকে।
২. সুন্নাহ বা হাদিস দিয়ে তাফসীর: রাসূল (সা.) হলেন কুরআনের প্রথম ব্যাখ্যাকারক।
৩. সাহাবীদের উক্তি দ্বারা তাফসীর: সাহাবায়ে কেরাম ওহী নাজিলের প্রেক্ষাপট স্বচক্ষে দেখেছেন, তাই তাদের ব্যাখ্যা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
৪. তাবেয়ীদের উক্তি দ্বারা তাফসীর: সাহাবীদের পর তাবেয়ীদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা।
৫. আরবি ভাষার ব্যাকরণ: নাহু, সরফ, বালাগাত, এবং শাব্দিক অর্থের ওপর পূর্ণ দখল থাকা এবং শরীয়তের উসূল বা মূলনীতির আলোকে তাফসীর করা।


٥- عرف المحكم والمتشابه، ثم بين خصائصهما وأحكامهما بالأمثلة-
[(৫) মুহকাম ও মুতাশাবেহ এর সংজ্ঞা দাও এবং উভয়ের বৈশিষ্ট্য ও হুকুম উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
উত্তর:
সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য: ‘মুহকাম’ হলো কুরআনের সেইসব আয়াত যার অর্থ অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং এর একটি মাত্র অর্থই গ্রহণ করা যায়। অপরদিকে ‘মুতাশাবিহ’ হলো সেইসব আয়াত যার অর্থ অস্পষ্ট, একাধিক অর্থ হতে পারে বা যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন।
উদাহরণ: মুহকামের উদাহরণ- “তোমরা সালাত কায়েম কর এবং জাকাত দাও” (হালাল-হারাম ও ফরজ বিধানসমূহ)। মুতাশাবিহ-এর উদাহরণ- “হুরুফে মুকাত্তাআত” (আলিফ-লাম-মীম) অথবা “আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর”।
হুকুম (বিধান): মুহকাম আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করা ফরজ। আর মুতাশাবিহ আয়াতের ওপর ঈমান আনতে হবে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তবে এর প্রকৃত অর্থ জানার জন্য অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করা বা এর অপব্যাখ্যা করা নিষিদ্ধ।


٦- عرف أمثال القرآن ثم بين أهميتها وأقسامها مفصلا ممثلا-
[(৬) আমছালুল কুরআন এর সংজ্ঞা দাও এবং এর গুরুত্ব ও প্রকার উদাহরণসহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
সংজ্ঞা: ‘আমছাল’ হলো ‘মাছাল’ এর বহুবচন। আমছালুল কুরআন বলতে কুরআনে বর্ণিত সেইসব দৃষ্টান্ত বা উপমা বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো অদৃশ্য বা কঠিন বিষয়কে দৃশ্যমান ও সহজ বস্তুর সাথে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে।
গুরুত্ব: উপমা মানুষের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে, কঠিন বিষয় সহজে বুঝতে সাহায্য করে, হৃদয়কে প্রভাবিত করে এবং উপদেশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রকার ও উদাহরণ: এটি প্রধানত তিন প্রকার:
১. মাছাল মুসাররাহ (সুস্পষ্ট উপমা): যেখানে ‘মাছাল’ বা উপমা শব্দটি সরাসরি উল্লেখ থাকে। (যেমন: মুনাফিকদের উপমা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- “তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালালো…”)।
২. মাছাল কামিন (লুক্কায়িত উপমা): যেখানে উপমা শব্দটি থাকে না, কিন্তু বাক্যের অর্থে উপমা লুকিয়ে থাকে।
৩. মাছাল মুরসালাহ (প্রবাদবাক্য রূপী উপমা): কুরআনের এমন আয়াত যা মানুষের মুখে মুখে প্রবাদ হিসেবে প্রচলিত হয়ে গেছে।


٧- تحدث عن شروط المفسر وآدابه مفصلا-
[(৭) মুফাসসির এর শর্ত ও আদাব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
মুফাসসিরের শর্তসমূহ: একজন যোগ্য মুফাসসির হতে হলে তাকে অবশ্যই ১. বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী হতে হবে। ২. অন্তত ১৫টি বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে (যথা: আরবি ভাষা, নাহু, সরফ, বালাগাত, উসূলুল ফিকহ, ইলমুল কিরাআত, ইলমুল হাদিস ইত্যাদি)। ৩. শানে নুযূল, নাসিখ-মানসুখ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। ৪. ইলমে লাদুন্নী বা আল্লাহর প্রদত্ত প্রজ্ঞা থাকতে হবে।
আদাবসমূহ: ১. নিয়ত বিশুদ্ধ ও একনিষ্ঠ হওয়া। ২. উত্তম চরিত্র ও তাকওয়ার অধিকারী হওয়া। ৩. বিনয়ী হওয়া এবং অহংকার পরিহার করা। ৪. যেকোনো দল বা মতের অন্ধ অনুকরণ (তাকলীদ) থেকে মুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধান করা। ৫. ইলমের ব্যাপারে নির্ভীক হওয়া।


٨- بين مميزات ‘الإتقان في علوم القرآن’ ومنزلته بين كتب علوم القرآن-
[(৮) ‘আল-ইতক্বান ফি উলুমিল কুরআন’ এর বৈশিষ্ট্য ও উলুমুল কুরআন বিষয়ে রচিত কিতাবের মধ্যে এর স্থান বর্ণনা কর।]
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য: ‘আল-ইতক্বান ফি উলুমিল কুরআন’ আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) রচিত একটি অমর গ্রন্থ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উলুমুল কুরআনের ৮০টি ভিন্ন ভিন্ন শাখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এতে কুরআনের মাক্কী-মাদানী, শানে নুযূল, নাসিখ-মানসুখ, কিরাআত, তাফসীরের নিয়মাবলি অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে তথ্য ও প্রমাণসহ সংকলিত হয়েছে। এটি মূলত একটি এনসাইক্লোপিডিয়া।
মর্যাদা ও স্থান: উলুমুল কুরআন বিষয়ে আজ পর্যন্ত যত গ্রন্থ রচিত হয়েছে, তার মধ্যে ‘আল-ইতক্বান’ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। পরবর্তী যুগে যারাই কুরআনের বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন, তারা সকলেই এই গ্রন্থের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। এটি উলুমুল কুরআনের মূলভিত্তি স্বরূপ।


مجموعة (ب)
[খ বিভাগ]

٩- علق على أربعة من الموضوعات التالية :
[৯. নিচের যে কোনো চারটি বিষয়ের উপর টীকা লেখ:]

الدرجة— ٥×٤ = ٢٠ [মান— ৫x৪ = ২০]

(أ) أسماء سورة الفاتحة؛
[(ক) সূরা ফাতিহার নামসমূহ;]
উত্তর: সূরা ফাতিহা কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা। এর গুরুত্বের কারণে মুফাসসিরগণ এর ২০টিরও বেশি নামের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. উম্মুল কুরআন (কুরআনের মা), ২. ফাতিহাতুল কিতাব (কিতাবের প্রারম্ভিক সূরা), ৩. আস-সাবয়ুল মাসানী (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), ৪. আশ-শিফা (রোগমুক্তির সূরা), এবং ৫. আস-সালাত (নামাজ)।
(ب) ترتيب سور القرآن؛
[(খ) কুরআনের সূরাসমূহের ধারাবাহিকতা;]
উত্তর: কুরআনের সূরাসমূহের বর্তমান যে ধারাবাহিকতা (তারতীব) আমরা দেখি, তা কি মানুষের তৈরি নাকি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত—এ নিয়ে মতভেদ থাকলেও জমহুর বা অধিকাংশ আলেমদের মত হলো এটি ‘তাওক্বীফী’। অর্থাৎ, জিব্রাইল (আ.) রাসূল (সা.)-কে আল্লাহর নির্দেশক্রমে যেভাবে সূরাগুলো সাজাতে বলেছেন, নবীজি ঠিক সেভাবেই সূরাগুলোর ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করে গেছেন।
(ج) الآيات المنسوخة؛
[(গ) রহিত আয়াতসমূহ;]
উত্তর: ‘মানসুখ’ অর্থ রহিত। ইসলামী আইন বাস্তবায়নের প্রাথমিক যুগে এমন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল, যার বিধান পরবর্তী সময়ে অন্য আয়াত অবতীর্ণ করে বাতিল বা রহিত করা হয়েছে। যে আয়াতটি বাতিল হলো তা ‘মানসুখ’ এবং যা রহিত করল তা ‘নাসিখ’। যেমন: মদ পানের বিধান ধীরে ধীরে তিন ধাপে হারাম করা হয়েছে, যেখানে পূর্বের বিধানগুলো মানসুখ।
(د) فواتح السور؛
[(ঘ) সূরাসমূহের প্রারম্ভিক শব্দাবলি;]
উত্তর: কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে কিছু বিচ্ছিন্ন বর্ণ বা অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোকে ‘হুরুফে মুকাত্তাআত’ বা ফাওয়াতিহুস সুওয়ার বলা হয় (যেমন: আলিফ-লাম-মীম, ইয়া-সীন)। আরবি ২৯টি বর্ণের মধ্যে ১৪টি বর্ণ এতে ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলো মুতাশাবিহাত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
(ه) عدد سور القرآن وآياته؛
[(ঙ) কুরআনের সূরা ও আয়াতের সংখ্যা;]
উত্তর: পবিত্র কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা রয়েছে, এটি সর্বসম্মত। তবে আয়াতের সংখ্যা নিয়ে কিরাআত বিশারদদের মাঝে সামান্য মতভেদ রয়েছে (আয়াতের শেষ প্রান্ত নির্ধারণের কারণে)। কুফী গণনা অনুযায়ী আয়াতের সংখ্যা ৬২৩৬টি। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণভাবে কুরআনের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি বলে যে প্রচলন রয়েছে, তা মূলত একটি রূপক ধারণা।
(و) وصف النباتات في القرآن؛
[(চ) কুরআনে বর্ণিত উদ্ভিদরাজির বিবরণ;]
উত্তর: মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের রিজিক, চিকিৎসা এবং চিন্তার খোরাক হিসেবে কুরআনে বিভিন্ন উদ্ভিদের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যায়তুন (জলপাই), ত্বীন (ডুমুর), নাখল (খেজুর গাছ), রুম্মান (ডালিম), ইনাব (আঙুর) ইত্যাদি। কুরআনে এসব উদ্ভিদকে আল্লাহর অসীম কুদরত ও নিয়ামতের নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
(ز) قواعد الجدل في القرآن؛
[(ছ) কুরআনে বিতর্কের নিয়মাবলি;]
উত্তর: কুরআন অমুসলিম বা বিরোধীদের সাথে বিতর্কের জন্য চমৎকার নিয়মাবলি (জাদাল) শিক্ষা দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, “তাদের সাথে বিতর্ক কর উত্তম পন্থায়।” কুরআনের বিতর্কের নিয়ম হলো: প্রজ্ঞা (হিকমাহ) ব্যবহার করা, সুন্দর উপদেশ দেওয়া, অকাট্য যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা (যেমন নমরুদের সাথে ইব্রাহিম (আ.) এর বিতর্ক), এবং গালিগালাজ বা অহংকার পরিহার করা।
(ح) أشهر المفسرين في زمن التابعين-
[(জ) তাবেয়ী যুগের প্রসিদ্ধ মুফাসসিরগণ-]
উত্তর: সাহাবায়ে কেরামের পর তাবেয়ীরা তাফসীর শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। মক্কা, মদিনা ও ইরাক—এই তিন অঞ্চলে তিনটি বড় তাফসীর কেন্দ্র গড়ে ওঠে। তাবেয়ী যুগের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মুফাসসিরদের মধ্যে রয়েছেন: মুজাহিদ ইবনে জাবর, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে যুবাইর, হাসান বসরী, কাতাদাহ, আতা ইবনে আবি রাবাহ প্রমুখ। তারা মূলত সাহাবীদের কাছ থেকেই তাফসীর শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now