কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: আহকামুল কুরআন (৫০১১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Ahkamul Quran (501104) Question & Answer

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: আহকামুল কুরআন (৫০১১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Ahkamul Quran (501104) Question & Answer
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٣
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
أحكام القرآن
[আহকামুল কুরআন]
বিষয় কোড: ৫ ০ ১ ১ ০ ۸
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة—١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
[الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)]
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة (أ)
[ক বিভাগ]

(إقرأ الآيات الكريمة وأجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[(নিচের আয়াতগুলো পড় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও)]

الدرجة— ٢٠×٤ = ٨٠ [মান— ৪x২০ = ৮০]

١- إن الذين جاءو بالإفك عصبة منكم-
(أ) اكتب سبب نزول الآية الكريمة-
[(ক) এ পবিত্র আয়াতের শানে নুযূল লেখ।]
উত্তর: এই আয়াতটি বনু মুস্তালিক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে ‘ইফকের ঘটনা’ বা হযরত আয়িশা (রা.) এর ওপর মুনাফিকদের অপবাদের প্রেক্ষিতে নাজিল হয়। যখন আয়িশা (রা.) তাঁর হারানো হার খুঁজতে গিয়ে কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং পরে সাহাবী সাফওয়ান বিন মুয়াত্তাল (রা.) তাঁকে পৌঁছে দেন, তখন মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এই জঘন্য অপবাদ রটনা করে। আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে আয়িশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করেন।
(ب) ما حكم الإفك والبهتان والكذب وقذف المحصنات؟
[(খ) ইফক, অপবাদ, মিথ্যা ও সতীসাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদের বিধান কী?]
উত্তর: ইফক (মিথ্যা অপবাদ), বুহতান (ডাহা মিথ্যা) এবং সতীসাধ্বী নারীর প্রতি জিনা বা ব্যভিচারের অপবাদ (কযফ) দেওয়া ইসলামে মারাত্মক কবিরা গুনাহ। এর শাস্তি বা বিধান হলো: অপবাদকারী যদি চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তাকে ৮০টি বেত্রাঘাত (হদ্দে কযফ) করা হবে। এছাড়াও সামাজিকভাবে তাদের সাক্ষ্য চিরতরে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হবে, যতক্ষণ না তারা খাঁটি তওবা করে।


٢- ولا يأتل أولوا الفضل منكم والسعة أن يؤتوا أولى القربى ……..
(أ) اذكر شأن نزول الآية الكريمة-
[(ক) এ পবিত্র আয়াতের শানে নুযূল উল্লেখ কর।]
উত্তর: ইফকের ঘটনায় হযরত আবু বকর (রা.)-এর নিকটাত্মীয় এবং দরিদ্র সাহাবী মিসতাহ (রা.)-ও জড়িয়ে পড়েছিলেন। মিসতাহ (রা.)-এর সমস্ত খরচ আবু বকর (রা.) বহন করতেন। কিন্তু নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে অপবাদে অংশ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শপথ করেন যে, মিসতাহকে আর কোনো সাহায্য করবেন না। তখন আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাজিল করে ক্ষমার মহত্ত্ব বর্ণনা করেন। আয়াত নাজিলের পর আবু বকর (রা.) তাঁর শপথ ভেঙে পুনরায় সাহায্য শুরু করেন।
(ب) اكتب آداب المعاملة مع الخدم والعمال-
[(খ) খাদেম ও শ্রমিকদের সাথে সদাচরণের আদবসমূহ লেখ।]
উত্তর: ইসলামে শ্রমিক ও খাদেমদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রধান আদবগুলো হলো: ১. তাদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না দেওয়া। ২. তাদের ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক পরিশোধ করা। ৩. তাদের সাথে দুর্ব্যবহার বা গালিগালাজ না করা। ৪. নিজে যা খাবে ও পরবে, তাদেরও তা খেতে ও পরতে দেওয়া। ৫. কাজে ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা।


٣- الخبيثت للخبيثين والخبيثون للخبيثت …..
(أ) ما معنى الخبيث من الذكور والإناث؟
[(ক) নর ও নারীর মধ্যে ‘খাবীস’ (দুশ্চরিত্র) এর অর্থ কী?]
উত্তর: ‘খাবীস’ শব্দের অর্থ অপবিত্র, নোংরা বা দুশ্চরিত্র। আয়াতে ‘খাবীস’ নর ও নারী বলতে সেই সব ব্যভিচারী, লম্পট এবং বদকার নারী-পুরুষকে বোঝানো হয়েছে, যারা কথা, কাজ ও চরিত্রে নোংরা এবং অপবিত্র। অর্থাৎ, চরিত্রহীন নারীরা চরিত্রহীন পুরুষদেরই যোগ্য, আর চরিত্রহীন পুরুষরা চরিত্রহীন নারীদেরই উপযুক্ত।
(ب) من هم المبرءون في الآية المذكورة؟
[(খ) আয়াতে উল্লেখিত ‘মুক্ত’ (পবিত্র) কারা?]
উত্তর: আয়াতে উল্লেখিত ‘মুবররাউনা’ (মুক্ত বা পবিত্র) বলতে হযরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) এবং সাফওয়ান বিন মুয়াত্তাল (রা.)-কে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের দেওয়া সকল মিথ্যা অপবাদ থেকে তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত ও পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন।


٤- وأنكحوا الأيمى منكم ……..
(أ) من هم المخاطبون في هذه الآية الكريمة؟
[(ক) এ আয়াতে কাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে?]
উত্তর: এই আয়াতে প্রধানত অভিভাবক, মুসলিম সমাজ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের শাসকদের সম্বোধন করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সমাজে যেসব নারী বা পুরুষ বিবাহযোগ্য কিন্তু অবিবাহিত (কুমার, কুমারী, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত), তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়।
(ب) ما معنى النكاح وما حكمه في الشريعة الإسلامية؟
[(খ) নিকাহ এর অর্থ কী এবং ইসলামি শরীয়তে এর বিধান কী?]
উত্তর: ‘নিকাহ’ এর আভিধানিক অর্থ মিলিত হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট ইজাব ও কবুলের (প্রস্তাব ও সম্মতি) মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বৈধ শারীরিক ও দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তিকে নিকাহ বলে।
বিধান: স্বাভাবিক অবস্থায় বিবাহ করা ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ’। তবে যদি কেউ প্রবল আশঙ্কা করে যে বিবাহ না করলে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের সামর্থ্য থাকে, তবে তার জন্য বিবাহ করা ‘ফরজ’। আর যদি বিবাহ করলে স্ত্রীর ওপর জুলুম করার আশঙ্কা থাকে, তবে বিবাহ করা ‘হারাম’।


٥- والله خلق كل دابة من ماء-
(أ) نطفة الأدمى طاهر أم لا؟ بين-
[(ক) মানুষের শুক্রাণু পবিত্র কি না? বর্ণনা কর।]
উত্তর: মানুষের শুক্রাণু (বীর্য) পবিত্র কি না এ নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ী ও আহমদ (রহ.)-এর মতে এটি পবিত্র, তবে তা ধুয়ে বা মুছে ফেলা উত্তম। অন্যদিকে হানাফী ও মালেকী মাজহাব মতে এটি অপবিত্র (নাজাসাতে গালীজা)। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, বীর্য কাপড়ে লাগলে তা ভেজা অবস্থায় ধুয়ে ফেলতে হবে, আর শুকিয়ে গেলে ঘষে তুলে ফেলাই পবিত্র করার জন্য যথেষ্ট।
(ب) منى مأكول اللحم طاهر أم لا؟ أوضح-
[(খ) হালাল প্রাণীর বীর্য পবিত্র কি না? স্পষ্ট কর।]
উত্তর: যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল (যেমন- গরু, ছাগল), সেগুলোর বীর্যের পবিত্রতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও হানাফী মাজহাবসহ অধিকাংশ ফকীহদের মতে হালাল প্রাণীর বীর্য অপবিত্র। এটি কাপড়ে বা শরীরে লাগলে তা ধুয়ে পবিত্র করা আবশ্যক।


٦- يأيها الذين آمنوا ليستئذنكم الذين ملكت أيمنكم والذين لم يبلغوا الحلم منكم ثلث مرات-
(أ) ما حكم الإذن عامة؟
[(ক) সাধারণভাবে অনুমতির বিধান কী?]
উত্তর: ইসলামে অন্যের বাড়িতে বা কক্ষে প্রবেশ করার আগে অনুমতি (ইস্তিজান) চাওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক। তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরও যদি ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়া যায়, তবে ফিরে যাওয়া ইসলামের নির্দেশ। এটি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) রক্ষার জন্য ফরজ করা হয়েছে।
(ب) لماذا أمر الله الاستئذان للأطفال ثلث مرات؟
[(খ) আল্লাহ তায়ালা শিশুদেরকে তিনবার অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ কেন দিয়েছেন?]
উত্তর: আয়াতে শিশুদেরকে বিশেষ তিনটি সময়ে (ফজরের নামাজের আগে, দুপুরে বিশ্রামের সময় এবং এশার নামাজের পর) বাবা-মায়ের কক্ষে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, এই তিনটি সময় মানুষের পোশাক পরিবর্তন বা বিশ্রামের সময় (গোপনীয়তার সময়)। শিশুরা যেন পিতা-মাতাকে এমন কোনো অবস্থায় না দেখে ফেলে যা দৃষ্টিকটু, তাই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


٧- ليس على الأعمى حرج ولا على الأعرج حرج ولا على المريض حرج …..
(أ) هل الآية الكريمة منسوخة أم محكمة؟ بين-
[(ক) এ আয়াতটি মানসুখ (রহিত) নাকি মুহকাম (অটুট)? বর্ণনা কর।]
উত্তর: অধিকাংশ মুফাসসির এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে এই আয়াতটি ‘মুহকাম’ (অটুট বা কার্যকর)। এটি মানসুখ বা রহিত হয়নি। পূর্বে মানুষ অন্ধ, খোঁড়া বা অসুস্থ ব্যক্তিদের সাথে একসাথে খেতে ইতস্তত বোধ করত বা ঘৃণা করত। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সেই সামাজিক কুসংস্কার দূর করে তাদের সাথে একসাথে খাওয়ার বৈধতা দিয়েছেন।
(ب) عد البيوت التى أذن الله أن يؤكل منها جميعا أو أشتاتا-
[(খ) আল্লাহ তায়ালা যেসব ঘর থেকে একত্রে বা পৃথকভাবে খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, সেগুলো গণনা কর।]
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা মোট ১১টি ঘর থেকে বিনা আনুষ্ঠানিক অনুমতিতে খাবার খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন: ১. নিজেদের ঘর (স্ত্রী-সন্তানদের ঘর), ২. পিতার ঘর, ৩. মাতার ঘর, ৪. ভাইয়ের ঘর, ৫. বোনের ঘর, ৬. চাচার ঘর, ৭. ফুফুর ঘর, ۸. মামার ঘর, ৯. খালার ঘর, ১০. যেসব ঘরের চাবি নিজের কাছে গচ্ছিত থাকে, এবং ১১. ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ঘর।


٨- اكتب ترجمة أبى بكر الجصاص مع ذكر خصائص كتابه أحكام القرآن-
[(৮) আবু বকর জাস্সাস-এর জীবনী লেখ এবং তাঁর কিতাব ‘আহকামুল কুরআন’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।]
উত্তর: জীবনী: ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আল-জাস্সাস (রহ.) ছিলেন হিজরী চতুর্থ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত হানাফী ফকীহ ও মুফাসসির। তিনি ৩০৫ হিজরীতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতাদর্শের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন এবং ৩৭০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
‘আহকামুল কুরআন’ এর বৈশিষ্ট্য: এটি হানাফী ফিকহ অনুযায়ী রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসীর গ্রন্থগুলোর একটি। এই কিতাবে কুরআনের আয়াতগুলো থেকে ফিকহী মাসআলা ও আহকাম অত্যন্ত যুক্তি ও প্রমাণের সাথে বের করা হয়েছে। অন্যান্য মাজহাবের দলিলের যৌক্তিক খণ্ডন এবং হানাফী মাজহাবের দলিল প্রমাণে গ্রন্থটি অদ্বিতীয়।


مجموعة (ب)
[খ বিভাগ]

(أجب عن أربعة مما يلى)
[(নিচের যে কোনো চারটির উত্তর দাও)]

الدرجة— ٥×٤ = ٢٠ [মান— ৫x৪ = ২০]

٩- لم قدمت الزانية على الزانى فى الآية الكريمة؟
[(৯) আয়াতে ব্যভিচারিণীকে ব্যভিচারীর আগে উল্লেখ করা হয়েছে কেন?]
উত্তর: ব্যভিচারের ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা বা সম্মতি ব্যতিরেকে এই অপরাধ সংঘটিত হওয়া কঠিন। নারীর রূপ ও আকর্ষণই সাধারণত এ পাপের প্ররোচনা জোগায়। এছাড়া ব্যভিচারের ফলে নারীর গর্ভধারণের মাধ্যমে সমাজের বংশমর্যাদা সরাসরি কলঙ্কিত হয়, যা প্রকাশ পেয়ে যায়। এ কারণেই সতর্ক করার উদ্দেশ্যে আয়াতে ব্যভিচারিণীর (যানিয়াহ) কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
١٠- لم شدد الله عز وجل فى حكم عذاب الزانية والزانى؟
[(১০) আল্লাহ তায়ালা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর শাস্তির বিধানে কঠোরতা আরোপ করেছেন কেন?]
উত্তর: ব্যভিচার হলো সমাজ ধ্বংসের অন্যতম মূল কারণ। এর কারণে বংশ পরিচয় নষ্ট হয়, দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি হয়, সমাজে মারাত্মক সব সংক্রামক ব্যাধি (যেমন: এইডস) ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে হত্যা ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পায়। মানুষের সম্মান ও সামাজিক পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থেই আল্লাহ তায়ালা ব্যভিচারের জন্য ১০০ বেত্রাঘাত বা রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা)-এর মতো কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছেন।

١١- كم آية نزلت فى أم المؤمنين عائشة الصديقة رضى الله عنها وما قيل فيها؟
[(১১) উম্মুল মুমিনীন আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) এর ব্যাপারে কয়টি আয়াত নাজিল হয়েছে এবং তাতে কী বলা হয়েছে?]
উত্তর: ‘ইফকের ঘটনা’র প্রেক্ষিতে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করে সূরা আন-নূরের মোট ১০টি আয়াত (১১ থেকে ২০ নম্বর আয়াত) নাজিল হয়েছে। এতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আয়িশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ডাহা মিথ্যা এবং মুনাফিকদের চক্রান্ত। আল্লাহ তাঁকে চিরতরে পূতপবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন।
١٢- لم نهى الله عز وجل عن إتباع خطوات الشيطان؟
[(১২) আল্লাহ তায়ালা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন কেন?]
উত্তর: শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে কারণ, শয়তান মানুষকে ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে পাপের দিকে প্ররোচিত করে। সে একবারে বড় পাপে ডাকে না, বরং প্রথমে ছোট পাপ বা সন্দেহের জন্ম দেয় এবং পরিণামে ব্যভিচার, অশ্লীলতা ও শিরকের মতো ধ্বংসাত্মক কাজের দিকে নিয়ে যায়। কুরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই সে অশ্লীল ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।”

١٣- النكاح بين الخبيث والطيب حرام أم لا؟ بين-
[(১৩) দুশ্চরিত্র ও পবিত্র চরিত্রের মধ্যে বিবাহ হারাম কি না? বর্ণনা কর।]
উত্তর: ইসলামী শরীয়তে যদি উভয়েই ঈমানদার বা মুসলিম হয়, তবে একজন দুশ্চরিত্র (খাবীস) ব্যক্তির সাথে একজন পবিত্র চরিত্রের (তয়্যিব) মানুষের বিবাহের আকদ বা চুক্তি হারাম বা বাতিল নয়, এটি বৈধ। তবে আয়াতে মূলত স্বভাবগত মিল এবং উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, অর্থাৎ চরিত্রহীন ব্যক্তির সাথে পবিত্র চরিত্রের ব্যক্তির বিবাহ হওয়াটা অপছন্দনীয় এবং অনুচিত।
١٤- ما المراد بقوله تعالى : “ثلث عورات لكم”؟ أوضح-
[(১৪) আল্লাহ তায়ালার বাণী: “সালাসু আওরাতিং লাকুম” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? স্পষ্ট কর।]
উত্তর: “সালাসু আওরাতিং লাকুম” দ্বারা মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তিনটি বিশেষ সময়কে বোঝানো হয়েছে: ১. ফজরের নামাজের পূর্বে (ঘুম থেকে ওঠার সময়), ২. দ্বিপ্রহরে বিশ্রামের সময় (দুপুরের ঘুমের সময়) এবং ৩. এশার নামাজের পর (রাতের ঘুমের সময়)। এই তিন সময়ে মানুষ সাধারণত স্বাভাবিক পোশাক খুলে আরামদায়ক পোশাকে থাকে। তাই এই সময়ে ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতির কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

١٥- ما هى علامة بلوغ الأطفال؟ اشرح-
[(১৫) শিশুদের সাবালক হওয়ার লক্ষণ কী? ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর: ইসলামে শিশু-কিশোরদের সাবালক (বালিগ) হওয়ার কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে: ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ (বীর্যপাত) হওয়া এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব (হায়েজ) শুরু হওয়া। যদি এসব লক্ষণ প্রকাশ না পায়, তবে অধিকাংশ ইসলামী ফকীহদের (ইমাম আবু হানিফার মত অনুযায়ী ছেলেদের ১৮ ও মেয়েদের ১৭, তবে জমহুর উলামাদের মতে উভয়ের ১৫ বছর) বয়স পূর্ণ হলে তাদেরকে শরীয়তের দৃষ্টিতে সাবালক হিসেবে গণ্য করা হবে।
١٦- اكتب آداب دعاء الرسول صلى الله عليه وسلم-
[(১৬) রাসূল (সা.) এর দোয়ার আদবসমূহ লেখ।]
উত্তর: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দোয়ার অন্যতম আদবসমূহ হলো: ১. দোয়ার শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা। ২. কিবলামুখী হয়ে বিনয়ের সাথে দুই হাত তুলে দোয়া করা। ৩. একনিষ্ঠভাবে এবং কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা। ৪. অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি ও নিচু স্বরে দোয়া করা এবং ৫. কোনো গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ৩ বার করে উচ্চারণ করা।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now