কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: ফিকহুল হাদীস (৫০২১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Fiqhul Hadith (502104) Solution
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٢
[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]
الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
فقه الحديث [ফিকহুল হাদীস] | বিষয় কোড: ۵ ۰ ۲ ۱ ۰ ۴
الوقت— ٤ ساعات [সময়— ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة— ١٠٠ [পূর্ণমান— ১০০]
الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن اثنين من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: ‘ক’ বিভাগ হতে ৫টি এবং ‘খ’ বিভাগ হতে ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও। পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]
مجموعة (أ) [ক-বিভাগ] (الدرجة— ٨٠=٥×١٦)
(ترجم خمسة من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[(নিচের হাদীসগুলো থেকে পাঁচটি হাদীসের অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও)]
١- عن أنس رضى الله عنه قال: فرضت على النبي صلى الله عليه وسلم الصلوات ليلة أسرى خمسين ثم نقصت حتى جعلت خمسا، ثم نودى يا محمد إنه لا يبدل القول لدى وإن لك بهذه الخمس خمسين – أخرجه أحمد والنسائى وصححه الترمذى والنسائى عنه مرفوعا “افترض الله على عباده خمس صلوات “-
- (أ) اكتب قصة لقاء نبينا مع موسى عليهما السلام ليلة الإسراء- [মেরাজের রাতে নবীজির (সা.) সাথে হযরত মুসা (আ.)-এর সাক্ষাতের ঘটনাটি লেখো।] (٥)
- (ب) اكتب نبذة عن أنس رضى الله عنه- [আনাস (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।] (٥)
(ক) মুসা (আ.)-এর সাথে নবীজির সাক্ষাৎ: মেরাজের রাতে আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। ফেরার পথে ৬ষ্ঠ আসমানে মুসা (আ.)-এর সাথে রাসূল (সা.)-এর সাক্ষাৎ হলে মুসা (আ.) বলেন, “আপনার উম্মত এটি পালন করতে পারবে না, আমি বনী ইসরাইলকে পরীক্ষা করে দেখেছি। আপনি আল্লাহর কাছে গিয়ে তা কমানোর আবেদন করুন।” রাসূল (সা.) কয়েকবার ফিরে যান এবং অবশেষে তা ৫ ওয়াক্তে নির্ধারণ করা হয়। আল্লাহ ঘোষণা দেন, (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا) অর্থাৎ আমল ৫ ওয়াক্তের হলেও সওয়াব মিলবে ৫০ ওয়াক্তের।
(খ) আনাস (রা.)-এর জীবনী: তিনি হলেন আনাস বিন মালিক আল-আনসারী। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর রাসূল (সা.)-এর একান্ত খাদেম ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২২৮৬টি। তিনি ৯৩ হিজরীতে (মতান্তরে ১০৩ হিজরীতে) বসরার সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ ইন্তেকাল করেন।
٢- عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه ذكر الصلاة يوما فقال: من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة ومن لم يحافظ عليها لم يكن له نور وبرهان ولا نجاة وكان يوم القيامة مع قارون وفرعون وهامان وأبي بن خلف – وعن بريدة مرفوعا : العهد الذى بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر-
- (أ) ما حكم من استخف بالصلاة أو أنكرها أو تهاون بها؟ بين موضحا- [যে ব্যক্তি নামাজকে তুচ্ছজ্ঞান করে বা অস্বীকার করে অথবা অবহেলা করে, তার বিধান কী? বিশদভাবে বর্ণনা করো।] (٥)
- (ب) اكتب أهمية أداء الصلوات المكتوبات في موقيتهن- [নির্ধারিত সময়ে ফরজ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব লেখো।] (٥)
(ক) নামাজ অস্বীকার বা অবহেলার বিধান: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী- যে ব্যক্তি নামাজের ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করে বা তা নিয়ে উপহাস করে, সে মুরতাদ ও কাফির (يكفر جاحداً)। কিন্তু যে ব্যক্তি ফরজ বিশ্বাস করে তবে অলসতা বা অবহেলার কারণে ছেড়ে দেয়, হানাফী মাযহাব মতে সে কাফির হবে না, বরং ফাসিক বা চরম পাপাচারী হবে। তাকে তওবা করানো এবং শাস্তি প্রদান করা ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
(খ) যথাসময়ে নামাজের গুরুত্ব: আল্লাহ তায়ালা বলেন, (إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا) “নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ পড়া ফরজ।” হাদীস শরীফে যথাসময়ে নামাজ আদায়কে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল (أحب الأعمال إلى الله) বলা হয়েছে।
٣- عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا صلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى تغيب الشمس-
- (أ) اكتب مواقيت الصلوات الخمس بالأدلة- [দলিলসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সীমা লেখো।] (٥)
- (ب) بين الأوقات المنهية فيها الصلات- [নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময়গুলো বর্ণনা করো।] (٥)
(ক) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়:
১. ফজর: সুবহে সাদেক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
২. জোহর: সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পর থেকে বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত (হানাফী মত)।
৩. আসর: জোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৪. মাগরিব: সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিম আকাশে লালিমা (শাফাক) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।
৫. এশা: শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর থেকে সুবহে সাদেক পর্যন্ত।
(খ) নিষিদ্ধ সময়: প্রধানত ৩টি সময়ে যেকোনো নামাজ (এমনকি জানাযা ও সিজদায়ে তিলাওয়াতও) পড়া হারাম: ১. ঠিক সূর্যোদয়ের সময়, ২. সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর (যাওয়াল/দ্বিপ্রহর) থাকে, ৩. সূর্যাস্তের সময়। এছাড়া ফজর এবং আসরের পর নফল নামাজ পড়াও নিষেধ।
٤- عن أبى هريرة رضى الله عنه مرفوعا: صل الصبح بغلس يعنى الغلس – وعن رافع ابن خديج رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر-
- (أ) الحديثان متعارضان فكيف التطبيق بينهما؟ [হাদীস দুটি বাহ্যত সাংঘর্ষিক, এগুলোর মাঝে কীভাবে সমন্বয় করবে?] (٥)
- (ب) اكتب نبذة عن أبى هريرة رضى الله عنه- [আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।] (٥)
(ক) হাদীসের মাঝে সমন্বয় (تطبيق): এক হাদীসে ফজরের নামাজ অন্ধকারে (غلس) পড়তে বলা হয়েছে, অন্যটিতে ফর্সা বা আলো (إسفار) হলে পড়তে বলা হয়েছে। হানাফী মাযহাবের উলামাগণ সমন্বয় করে বলেছেন— ফজরের নামাজ অন্ধকারে শুরু করবে, লম্বা কেরাত পড়বে এবং ফর্সা হলে তা শেষ করবে। অথবা, মহিলাদের জন্য ঘরে অন্ধকারে পড়া উত্তম, আর পুরুষদের জন্য মসজিদে ফর্সা করে পড়া উত্তম।
(খ) আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনী: তাঁর মূল নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। তিনি ৭ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী (৫৩৭৪টি হাদীস)। তিনি ৫৭ বা ৫৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
٥- عن معاذ بن جبل رضى الله عنه قال: صلينا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم غيم في سفر إلى غير القبلة فلما قضى الصلاة وسلّم تجلت الشمس، فقلنا يا رسول الله! صلينا إلى غير القبلة، فقال: قد رفعت صلواتكم بحقها إلى الله عز وجل-
- (أ) بين شروط صحة الصلاة- [নামাজ সহীহ হওয়ার শর্তসমূহ বর্ণনা করো।] (٥)
- (ب) بين المواضع التي يسقط فيها وجوب استقبال القبلة- [কিবলামুখী হওয়ার আবশ্যকতা কখন রহিত হয়, তা বর্ণনা করো।] (٥)
(ক) নামাজ সহীহ হওয়ার শর্ত: নামাজের বাইরে ৭টি শর্ত (আহকাম) রয়েছে: ১. শরীর পবিত্র হওয়া, ২. কাপড় পবিত্র হওয়া, ৩. নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া, ৪. সতর ঢাকা, ৫. কিবলামুখী হওয়া, ৬. ওয়াক্ত হওয়া, এবং ৭. নিয়ত করা।
(খ) কিবলামুখী হওয়ার হুকুম রহিত হওয়ার স্থান: তিনটি ক্ষেত্রে কিবলামুখী হওয়ার ফরজ রহিত হয়: ১. চরম ভীতি বা যুদ্ধের ময়দানে (صلاة الخوف), ২. চরম অসুস্থতার কারণে কিবলামুখী হয়ে শুতে অক্ষম হলে এবং ঘুরিয়ে দেওয়ার কেউ না থাকলে, ৩. সফরের অবস্থায় বাহনের ওপর নফল বা সুন্নত নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে (যেদিকে বাহন চলে সেদিকেই কিবলা গণ্য হয়)।
٦- عن أبي أمامة رضى الله عنه: قيل يا رسول الله! أى الدعاء أسمع؟ قال: جوف الليل الأخير ودبر الصلوات المكتوبات وعن الفضل مرفوعا: الصلاة مثنى مثنى تشهد في كل ركعتين وتخشع وتضرع وتمسكن وتقنع يديك يقول: ترفعهما إلى ربك مستقبلا ببطونهما وجهك وتقول: يا رب يا رب – من لم يفعل ذلك فهى كذا وكذا وفى لفظ فهو خداج-
- (أ) ما حكم رفع اليدين دبر الصلوات المكتوبة بالدعاء؟ بين- [ফরজ নামাজের পর মোনাজাতে হাত তোলার বিধান কী? বর্ণনা করো।] (٥)
- (ب) اكتب بعض الأذكار المأثورة بعد الصلوات المكتوبة- [ফরজ নামাজের পর পঠিত কিছু মাসনুন জিকির লেখো।] (٥)
(ক) ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা: ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা মুস্তাহাব এবং সুন্নাতে মুতওয়ারাসাহ (যুগ যুগ ধরে প্রচলিত সুন্নাত)। হাদীস শরীফে আছে, “আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল, বান্দা তাঁর কাছে হাত তুললে তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।” (তিরমিযি)। সুতরাং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
(খ) মাসনুন জিকিরসমূহ: ফরজ নামাজের পর ১ বার ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ৩ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া। তারপর আয়াতুল কুরসী পড়া। এছাড়া তাসবীহে ফাতেমী পড়া (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার)।
٧- عن أبي رافع صلى بنا أبو هريرة رضى الله عنه يوم الجمعة فقرأ بعد سورة الجمعة في الركعة الآخرة “إذا جاءك المنافقون” قال: فأدركت أبا هريرة حين انصرف، فقلت: إنك قرأت بسورتين كان على بن أبي طالب يقرأ بهما بالكوفة، فقال أبو هريرة: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ بهما يوم الجمعة-
- (أ) ما هي السور التي كان يقرأها رسول الله صلى الله عليه وسلم في الظهر والعصر وفى المغرب والعشاء؟ بين- [জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজে নবীজি (সা.) কোন সূরাগুলো পড়তেন? বর্ণনা করো।] (٥)
- (ب) ما حكم رعاية الترتيب العثمانى فى قراءات الصلاة؟ [নামাজের কেরাতে উসমানী তারতীব (কুরআনের ধারাক্রম) বজায় রাখার বিধান কী?] (٥)
(ক) বিভিন্ন ওয়াক্তের সুন্নাত কেরাত: নবীজি (সা.) ফজর ও জোহরের নামাজে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ (সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত), আসর ও এশার নামাজে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ (সূরা তারিক থেকে সূরা বাইয়্যিনাহ পর্যন্ত) এবং মাগরিবের নামাজে ‘কিসারে মুফাসসাল’ (সূরা যিলযাল থেকে সূরা নাস পর্যন্ত) পড়তেন।
(খ) উসমানী তারতীব বজায় রাখা: ফরজ নামাজে কুরআনের বর্তমান ক্রম (তারতীব) বজায় রাখা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা ওয়াজিব। ইচ্ছাকৃতভাবে এর উল্টো কেরাত পড়া (যেমন প্রথম রাকাতে সূরা নাস এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফালাক পড়া) মাকরুহে তাহরীমি। তবে নফল নামাজে বা ভুলে এমনটি হলে নামাজ হয়ে যাবে।
٨- عن ابن مسعود رضى الله عنه قال : صلاة المرأة في بيتها أفضل من صلاتها في حجرتها، وصلاتها في حجرتها أفضل من صلاتها في دارها، وصلاتها في دارها أفضل من صلاتها في ما سواها-
- (أ) ما حكم حضور النساء فى الجمع والجماعات والأعياد؟ [নারীদের জন্য জুমুআ, জামাত ও ঈদের নামাজে উপস্থিত হওয়ার বিধান কী?] (٥)
- (ب) اكتب نبذة عن ابن مسعود رضى الله عنه- [ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।] (٥)
(ক) নারীদের জামাতে উপস্থিতি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে ফিতনার আশঙ্কায় যুবতী নারীদের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরুহ। বয়স্কা নারীদের জন্য শুধু ফজর, মাগরিব ও এশায় যাওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তী হানাফী ফকীহগণ (মুতাআখখিরুন) ফিতনার ব্যাপক বিস্তারের কারণে সব বয়সী নারীদের জন্য যেকোনো ওয়াক্তের জামাত, জুমুআ এবং ঈদে উপস্থিত হওয়া মাকরুহে তাহরীমি ফতোয়া দিয়েছেন (تُمنع الشواب عن الخروج مطلقاً)।
(খ) ইবনে মাসউদ (রা.)-এর জীবনী: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ইসলাম গ্রহণকারী ষষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি কুরআন ও ফিকহ শাস্ত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহাবী ছিলেন। কুফার ইলমী ধারার ভিত্তি তাঁর হাতেই রচিত হয়। তিনি ৩২ হিজরীতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
٩- عن أبي محذورة رضى الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم علمه الأذان فذكر فيه الترجيع، وعن أنس رضى الله عنه قال: أمر بلال أن يشفع الأذان ويوتر الإقامة، وزاد البخاري: إلا الإقامة يعنى قد قامت الصلاة-
- (أ) ما المراد بالترجيع؟ وما حكمه؟ بين بالأدلة- [‘তারজী’ বলতে কী বোঝায়? এর বিধান কী? দলিলসহ বর্ণনা করো।] (٥)
- (ب) هل الإقامة مفردة أم مثنى؟ بين فى ضوء ما درست- [ইকামত কি বেজোড় শব্দে নাকি জোড় শব্দে? পঠিত পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।] (٥)
(ক) তারজী ও তার বিধান: আজানে ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ প্রথমে নিচু স্বরে পড়ে পুনরায় উঁচু স্বরে পড়াকে الترجيع (তারজী) বলে। শাফেয়ী মাযহাবে এটি সুন্নাত। তবে হানাফী মাযহাব মতে এটি আজানের মূল অংশ নয়, তবে আওয়াজ ক্লিয়ার করার জন্য কেউ করলে জায়েজ। দলিল হলো, বিলাল (রা.)-এর আজানে তারজী ছিল না।
(খ) ইকামত জোড় না বেজোড়: শাফেয়ী ও আহলে হাদীসদের মতে ইকামত বেজোড়। কিন্তু হানাফী মাযহাব মতে আজানের মতো ইকামতও জোড় বা দ্বৈত শব্দে (مثنى) দিতে হবে। দলিল: আবু মাহযূরাহ (রা.)-এর হাদীস, যেখানে তিনি নবীজি (সা.) থেকে ইকামতের ১৭টি বাক্য শিক্ষা লাভের কথা বর্ণনা করেছেন, যা জোড় প্রমাণ করে।
١٠- عن عمران بن حصين رضى الله عنه قال: كانت بي بواسير، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: صل قائما فإن لم تستطع فقاعدا، فإن لم تستطع فعلى جنب- وعن ابن عمر رضى الله عنه مرفوعا: إذا لم يستطع المريض السجود أومأ برأسه إيماء ولم يرفع إلى جبهته شيئا- وعن عائشة رضى الله عنها قالت: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى متربعا-
- (أ) متى يجوز للمريض أن يصلى جالسا على الكرسى؟ [অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কখন চেয়ারে বসে নামাজ পড়া জায়েজ?] (٥)
- (ب) تحدث عن الأعذار التى يجوز لها تأخير الصلاة- [যেসব ওজরের কারণে নামাজ দেরিতে পড়া জায়েজ, সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করো।] (٥)
(ক) চেয়ারে বসে নামাজ পড়া: যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়, অথবা দাঁড়াতে পারলেও রুকু-সিজদাহ করতে চরম কষ্ট হয়, তখন তার জন্য চেয়ারে বা মাটিতে বসে ইশারায় নামাজ পড়া জায়েজ। তবে মাটিতে বসে ইশারা করা চেয়ারের চেয়ে উত্তম।
(খ) নামাজ দেরিতে পড়ার ওজর: শরীয়তে মূলত দুটি কারণে নামাজ ছুটে গেলে বা দেরিতে পড়লে গুনাহ হয় না (তবে কাযা করা ফরজ)। ১. ঘুমের কারণে (نوم) এবং ২. ভুলে যাওয়ার কারণে (نسيان)। হাদীসে এসেছে: (مَنْ نَامَ عَنْ صَلَاةٍ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا) অর্থাৎ কেউ ঘুমিয়ে থাকলে বা ভুলে গেলে স্মরণ হওয়ামাত্রই তা পড়ে নেবে।
مجموعة (ب) [খ-বিভাগ] (الدرجة— ٢٠=٢×١٠)
١١- اكتب ترجمة المفتى عميم الإحسان البركتى رحمه الله ثم بين مساهمته فى علم الحديث النبوى-
[মুফতী আমীমুল ইহসান বারকাতী (রহ.)-এর জীবনী লেখো এবং ইলমে হাদীসে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।]
জীবনী: মুফতী আমীমুল ইহসান বারকাতী (রহ.) ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব ছিলেন। তিনি ফিকহ ও হাদীস শাস্ত্রের একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
অবদান: ইলমে হাদীস ও ফিকহে তাঁর অবদান অসামান্য। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “ফেকহুস সুনান ওয়াল আসার” (فقه السنن والآثار) হানাফী মাযহাবের দলিল প্রমাণ সমৃদ্ধ একটি অমর কীর্তি। এছাড়াও ‘কাওয়াইদুল ফিকহ’ এবং ‘মীযানুল আখবার’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।
١٢- بين خصائص ومميزات “فقه السنن والآثار”-
[“ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার” গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বর্ণনা করো।]
“ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার” গ্রন্থটি মুফতী আমীমুল ইহসানের অনবদ্য সংকলন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এতে হানাফী ফিকহের মাসআলাগুলোকে সরাসরি হাদীসের দালিলিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হয়েছে। ফিকহী অধ্যায়ের ক্রমানুসারে হাদীসগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডিত হয় এবং হানাফী মাযহাবের কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক শক্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
١٣- أثبت بالأدلة من الأحاديث بأن التراويح عشرون ركعة-
[হাদীসের দলিল দ্বারা প্রমাণ করো যে, তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত।]
তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত হওয়ার প্রমাণে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে ইমাম বায়হাকী (রহ.) বর্ণনা করেন: (كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرَ) “নবীজি (সা.) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ এবং বিতর পড়তেন।” এছাড়া উমর ফারুক (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যে (ইজমা) মসজিদে নববীতে ২০ রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া শুরু হয়, যা আজ পর্যন্ত মক্কা-মদিনাসহ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
١٤- علق على اثنين مما يلى:
- (أ) صلاة الاستخارة؛ [ইস্তিখারার নামাজ;]
- (ب) الصلاة فى الكعبة؛ [কাবা শরীফের ভেতরে নামাজ পড়া;]
- (ج) مسح الحص والجبهة فى الصلاة؛ [নামাজে কঙ্কর ও কপাল মোছা;]
- (د) الفتح على الإمام- [ইমামকে লোকমা দেওয়া।]
[নিচের যেকোনো দুটির ওপর টীকা লেখো।]
(ক) সালাতুল ইস্তিখারা: কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনার জন্য ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে নির্দিষ্ট মাসনুন দোয়া করাকে ইস্তিখারার নামাজ বলে। এটি মুস্তাহাব আমল।
(ঘ) ফাতাহ আলাল ইমাম (লোকমা দেওয়া): নামাজে ইমাম কেরাত পড়ার সময় ভুলে গেলে বা আটকে গেলে মুক্তাদিরা পেছন থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়াকে ‘লোকমা’ দেওয়া বলে। এটি জায়েজ এবং প্রয়োজনে ওয়াজিব। তবে অন্য কোনো স্থান থেকে লোকমা দিলে বা কেরাতের মারাত্মক ভুলের আগে দিলে নামাজ নষ্ট হতে পারে।



