الدرجة— ٢٠×٤ = ٨٠ [মান— ২০x৪ = ৮০]
١- تحدث عن الأحوال الدينية والإجتماعية والإقتصادية للجزيرة العربية قبل ظهور الإسلام-
[(১) ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
ধর্মীয় অবস্থা: প্রাক-ইসলামী যুগে আরবরা মূলত মূর্তিপূজক ছিল। কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। এছাড়া কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং হানিফ (একত্ববাদী) সম্প্রদায়ের লোক ছিল।
সামাজিক অবস্থা: সমাজ গোত্রভিত্তিক ছিল। গোত্রপ্রীতি (আছাবিয়্যাহ) চরম আকার ধারণ করেছিল, যার ফলে সামান্য কারণে বছরের পর বছর যুদ্ধ চলত (যেমন- হারবুল ফিজার)। সমাজে নারীদের কোনো সম্মান ছিল না এবং জীবন্ত কন্যাসন্তান কবর দেওয়ার মতো অমানবিক প্রথা চালু ছিল।
অর্থনৈতিক অবস্থা: অর্থনীতি মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। মক্কানগরী ছিল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। সুদ প্রথা (রিবা) এবং লুণ্ঠন ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।
٢- اكتب نبذة من حياة عثمان بن عفان رضى الله عنه ثم تحدث عن النظام الإقتصادى والإدارى فى عهده-
[(২) হযরত উসমান (রা) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর তাঁর শাসনকালে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
জীবনী: হযরত উসমান (রা.) ইসলামের তৃতীয় খলিফা। তিনি ৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের উমাইয়া শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। নবীজির দুই কন্যাকে পর্যায়ক্রমে বিবাহ করায় তিনি ‘যুন-নুরাইন’ উপাধি পান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল (গনী) ও লজ্জাশীল।
প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: তাঁর যুগে ইসলামী সাম্রাজ্য পশ্চিমে মরক্কো থেকে পূর্বে আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তিনি হযরত উমর (রা.)-এর প্রশাসনিক কাঠামো বহাল রাখেন এবং সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করেন। তিনি প্রথম ইসলামী নৌবাহিনী গঠন করেন। অর্থনীতিতে বিশাল সমৃদ্ধি আসে, বায়তুল মাল থেকে জনগণের ভাতা বৃদ্ধি করা হয় এবং কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়।
٣- ماذا تعرف عن ميثاق المدينة؟ اذكر أهميته فى تحقيق التعايش السلمى بين الأديان المختلفة-
[(৩) ‘মদিনার সনদ’ সম্পর্কে তুমি কী জান? বিভিন্ন ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে এ সনদের গুরুত্ব বর্ণনা কর।]
উত্তর:
মদিনার সনদ: হিজরতের পর মদিনার মুহাজির, আনসার এবং ইহুদি গোত্রসমূহের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) যে ৪৭টি ধারাসম্বলিত একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, তাকেই ‘মদিনার সনদ’ বলা হয়। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে গুরুত্ব: এই সনদের মাধ্যমে মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে। মদিনা আক্রান্ত হলে সব সম্প্রদায় মিলে তা প্রতিহত করবে এবং কোনো সম্প্রদায় কুরাইশদের সাথে গোপন আঁতাত করবে না। এর ফলে মদিনায় একটি অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
٤- كيف تطور الحضارة الإسلامية فى العهد العباسي؟ بين مع ذكر ازدهار حركة الترجمة فى عهد الخليفة العباسي المأمون-
[(৪) আব্বাসী যুগে ইসলামি সভ্যতা কীভাবে বিকশিত হয়েছিল? আব্বাসী খলিফা আল-মামুনের শাসনামলে অনুবাদ কার্যক্রমের উৎকর্ষ বর্ণনা কর।]
উত্তর:
সভ্যতার বিকাশ: আব্বাসীয় যুগকে ইসলামী সভ্যতার ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়। এ সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা এবং স্থাপত্য শিল্পের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। বাগদাদ হয়ে ওঠে বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজধানী।
অনুবাদ কার্যক্রম (আল-মামুনের যুগ): খলিফা আল-মামুন বাগদাদে ‘বায়তুল হিকমাহ’ (জ্ঞানগৃহ) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনামলে গ্রিক, পারস্য, ভারতীয় এবং সিরীয় ভাষার প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অমূল্য গ্রন্থগুলো আরবিতে অনুবাদ করার এক বিশাল আন্দোলন শুরু হয়। হুনাইন ইবনে ইসহাকের নেতৃত্বে প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও গ্যালেনের বইগুলো আরবিতে অনূদিত হয়, যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় নবজাগরণের (রেনেসাঁ) ভিত্তি স্থাপন করে।
٥- بين انجازات الدولة الفاطمية فى تطوير النظام التعليمى فى مصر-
[(৫) মিসরের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের অবদানসমূহ বর্ণনা কর।]
উত্তর: ফাতেমীয় খলিফারা মিসরে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষাব্যবস্থার অসামান্য উন্নয়ন সাধন করেন। তাদের সবচেয়ে বড় অবদান হলো ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে ‘আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা, যা আজও বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিদ্যাপীঠ হিসেবে টিকে আছে। এছাড়া খলিফা আল-হাকিম ১০০৪ সালে ‘দারুল হিকমাহ’ (House of Knowledge) প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ধর্মতত্ত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানো হতো। তারা বিশাল লাইব্রেরি স্থাপন করেন এবং পণ্ডিতদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন।
٦- تحدث عن الأحوال الإجتماعية والثقافية فى العصر الأموى-
[(৬) উমাইয়া যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা বর্ণনা কর।]
উত্তর:
সামাজিক অবস্থা: উমাইয়া যুগে সমাজে আরবদের আধিপত্য ও আভিজাত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। অনারব মুসলিমদের (মাওয়ালী) দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো, যা সমাজে বিভেদের সৃষ্টি করে। সমাজে দাসপ্রথার প্রচলন থাকলেও তাদের সাথে ভালো আচরণ করা হতো।
সাংস্কৃতিক অবস্থা: এ যুগে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়। স্থাপত্য শিল্পে উমাইয়ারা দারুণ অবদান রাখেন, যেমন জেরুজালেমের ‘কুব্বাতুস সাখরা’ (Dome of the Rock) এবং দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ। এ যুগেই আরবি কবিতা ও সাহিত্যের প্রভূত উন্নতি ঘটে এবং হাদিস ও ইতিহাস সংকলনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়।
٧- تحدث عن مساهمة العلماء المسلمين فى علم الطب وعلم الفلك-
[(৭) চিকিৎসা ও মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান বর্ণনা কর।]
উত্তর:
চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান: মুসলিম বিজ্ঞানীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। ইবনে সিনা রচিত ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ শত শত বছর ধরে ইউরোপের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যবই ছিল। আল-রাযী গুটিবসন্ত ও হামের পার্থক্য নিরূপণ করেন। আবুল কাসিম আল-জাহরাভি ছিলেন আধুনিক সার্জারির জনক।
মহাকাশ বিজ্ঞানে অবদান: জ্যোতির্বিদ্যায় মুসলিমরা মানমন্দির (Observatory) স্থাপন করেন। আল-বাত্তানী সৌরবছরের দৈর্ঘ্য নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। আল-খাওয়ারিজমি এবং আল-বিরুনী গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ও পৃথিবীর আকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব প্রদান করেন।
٨- تحدث عن مساهمة العلماء المسلمين المذكورين فيما ادناه موجزا:
[(৮) নিম্নে উল্লিখিত মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানসমূহ বর্ণনা কর:]
(أ) الادريسى
[(ক) আল-ইদ্রিসী]
উত্তর: আল-ইদ্রিসী ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর একজন বিশ্ববিখ্যাত ভূগোলবিদ। তিনি রাজা রজারের পৃষ্ঠপোষকতায় পৃথিবীর একটি অত্যন্ত নিখুঁত গোলাকার মানচিত্র তৈরি করেন। তাঁর রচিত ‘কিতাব রুজার’ (Tabula Rogeriana) তৎকালীন ভূগোলের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
(ب) ابن سينا
[(খ) ইবনে সিনা]
উত্তর: ইবনে সিনা ছিলেন একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী। পাশ্চাত্যে তিনি ‘অ্যাভিসেনা’ (Avicenna) নামে পরিচিত। চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর রচিত অমর গ্রন্থ ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
(ج) البيرونى
[(গ) আল-বিরুনী]
উত্তর: আল-বিরুনী ছিলেন একাধারে পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিদ, ঐতিহাসিক এবং ভাষাবিদ। তিনি ভারতবর্ষ ভ্রমণ করে ‘কিতাবুল হিন্দ’ রচনা করেন, যা প্রাচীন ভারতের ইতিহাস জানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎস। তিনি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি নির্ণয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছিলেন।
(د) الامام الغزالى
[(ঘ) ইমাম গাযযালী]
উত্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ.) ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ধর্মতত্ত্ববিদ, দার্শনিক ও সুফী সাধক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো ‘ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন’ (ধর্মীয় বিজ্ঞানের পুনরুজ্জীবন) গ্রন্থ রচনা করা। তিনি গ্রিক দর্শনের ভ্রান্তি খণ্ডন করে ইসলামী আকিদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
الدرجة— ٥×٤ = ٢٠ [মান— ৫x৪ = ২০]
٩- ما المراد بالحضارة؟ بين عناصرها موجزًا-
[(৯) সভ্যতা কী? সভ্যতার উপাদানগুলো সংক্ষেপে তুলে ধর।]
উত্তর:
‘সভ্যতা’ (Hadarath) হলো মানুষের দীর্ঘদিনের বস্তুগত ও অবস্তুগত উন্নয়নের চরম রূপ, যেখানে মানুষ সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা, আইন, সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে উন্নত জীবনযাপন করে।
সভ্যতার প্রধান উপাদানসমূহ হলো: ১. ধর্ম ও নৈতিকতা (যা সভ্যতার ভিত্তি)। ২. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। ৩. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো। ৪. জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ। ৫. শিল্প ও স্থাপত্য।
١٠- اذكر الإصلاحات الإدارية التى جاء بها عمر بن الخطاب (رض) موجزًا-
[(১০) হযরত ওমর (রা) এর প্রশাসনিক সংস্কারসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]
উত্তর: হযরত উমর (রা.) ইসলামী সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য যুগান্তকারী প্রশাসনিক সংস্কার করেন। তিনি সর্বপ্রথম ‘দিওয়ান’ (রাজস্ব ও সেনা দফতর) প্রতিষ্ঠা করেন। সমগ্র সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করে প্রতিটিতে একজন ওয়ালী (গভর্নর) এবং স্বাধীন কাজী (বিচারক) নিয়োগ দেন। তিনি পুলিশ বাহিনী, ডাক বিভাগ, বাইতুল মাল শক্তিশালীকরণ এবং ‘হিজরী সন’ প্রবর্তন করেন।
١١- بين موقف ابى بكر (رض) فى منكرى الزكاة-
[(১১) যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে হযরত আবু বকর (রা) এর অবস্থান বর্ণনা কর।]
উত্তর: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর আরবের কিছু গোত্র ইসলামে অবিচল থাকলেও যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। হযরত আবু বকর (রা.) এক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “আল্লাহর কসম! যারা নামাজ এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করব। তারা যদি একটি উটের রশিও দিতে অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব।” এরপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং বিদ্রোহ দমন করেন।
١٢- تحدث عن فتح المسلمين الأندلس موجزًا-
[(১২) মুসলমানদের স্পেন বিজয় সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
উত্তর: ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেনে (আন্দালুস) অভিযান চালায়। অত্যাচারী স্প্যানিশ রাজা রডারিককে গুয়াদালেতের যুদ্ধে পরাজিত করে মুসলিমরা স্পেন জয় করে। এটি ইউরোপে মুসলমানদের প্রথম বড় বিজয় এবং এর মাধ্যমে স্পেনে মুসলিমদের দীর্ঘ ৮০০ বছরের গৌরবময় জ্ঞান ও সভ্যতার যুগের সূচনা হয়।
١٣- تحدث عن أسباب انحطاط الفاطميين بالإيجاز-
[(১৩) ফাতেমীদের পতনের কারণসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
উত্তর: মিসরে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণগুলো হলো: ১. খলিফা আল-মুনতাসিরের পর থেকে অযোগ্য ও দুর্বল খলিফাদের শাসন। ২. উজিরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ৩. সামরিক বাহিনীতে তুর্কি, বারবার ও সুদানীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব। ৪. ক্রুসেডারদের বারবার আক্রমণ এবং ৫. পরিশেষে ১১৭১ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী কর্তৃক ফাতেমীয় বংশের অবসান ঘটিয়ে আইয়ুবী বংশ প্রতিষ্ঠা।
١٤- ما الصوفية؟ بين اهميتها ايجازا-
[(১৪) সুফীবাদ কী? সংক্ষেপে এর গুরুত্ব বর্ণনা কর।]
উত্তর:
সুফীবাদ: ইসলামী শরীয়তের আলোকে নফসের পবিত্রতা (তাযকিয়ায়ে নফস) অর্জন এবং আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আধ্যাত্মিক সাধনাকেই সুফীবাদ বা তাসাওউফ বলা হয়।
গুরুত্ব: সুফীবাদের গুরুত্ব হলো এটি মানুষের অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহ, অহংকার ও হিংসা দূর করে। সুফী সাধকদের ত্যাগ ও ভালোবাসার কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে, ইসলাম ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।
١٥- تحدث عن انتشار الصوفية فى عهد العباسي-
[(১৫) আব্বাসী যুগে সুফীবাদের বিকাশ সম্পর্কে বর্ণনা কর।]
উত্তর: আব্বাসী যুগে সুফীবাদ একটি সুসংগঠিত তরিকায় বিকশিত হয়। এই যুগে গ্রিক ও ভারতীয় দর্শনের মিশ্রণে সৃষ্ট বস্তুবাদী সমাজের বিপরীতে সুফীরা আধ্যাত্মিকতার মশাল জ্বালিয়ে রাখেন। হাসান বসরী (রহ.), রাবেয়া বসরী (রহ.) এবং জুনাইদ বাগদাদী (রহ.)-এর মতো মহান সুফী সাধকগণ এই যুগেই তাসাওউফের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন এবং খানকাহ ব্যবস্থা চালু করেন।
١٦- من الموالى؟ تحدث عن دورهم السياسي فى الدولة الأموية اختصارًا-
[(১৬) মাওয়ালী কারা? উমাইয়া সাম্রাজ্যে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
মাওয়ালী: ‘মাওয়ালী’ বলতে সেইসব অনারব মুসলমানদের বোঝানো হয় যারা পারস্য, মিশর বা অন্য অঞ্চল থেকে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং কোনো আরব গোত্রের আশ্রয়ে বসবাস করতেন।
রাজনৈতিক ভূমিকা: উমাইয়া যুগে মাওয়ালীরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনে উচ্চপদ থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হতো। এই রাজনৈতিক বঞ্চনা তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। ফলে তারা উমাইয়াদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন বিদ্রোহে (বিশেষ করে মুখতারের বিদ্রোহ) এবং পরবর্তীতে আব্বাসীয় বিপ্লবে সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত করেন।