[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم القرآن
[উলুমুল কুরআন]
বিষয় কোড: ৫ ০ ১ ১ ০ ৫
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة—١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
[الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)]
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে যে কোনো চারটি এবং (খ) অংশ থেকে যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
মাক্কী ও মাদানী এর পরিচয়: বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ আয়াত ও সূরাসমূহকে ‘মাক্কী’ এবং হিজরতের পরে অবতীর্ণ আয়াত ও সূরাসমূহকে ‘মাদানী’ বলা হয় (স্থান বিবেচ্য নয়)।
বৈশিষ্ট্য: মাক্কী সূরাগুলোতে সাধারণত তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত ও শিরকের খণ্ডন রয়েছে। এর আয়াতগুলো ছোট ও ছন্দময়। এতে ‘ইয়া আইয়্যুহান নাস’ (হে মানবজাতি) সম্বোধন বেশি। অন্যদিকে, মাদানী সূরাগুলোতে শরীয়তের বিধিবিধান (হালাল, হারাম, জিহাদ, উত্তরাধিকার) আলোচিত হয়েছে। এর আয়াতগুলো দীর্ঘ এবং এতে ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানু’ (হে মুমিনগণ) সম্বোধন বেশি।
গুরুত্ব ও উপকারিতা: মাক্কী ও মাদানী সূরার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) আয়াত চেনা যায়। শরীয়তের আইন প্রণয়নের পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস বোঝা যায় এবং কুরআনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায়, যা তাফসীরের জন্য অপরিহার্য।
প্রথম অবতীর্ণ (আউয়ালু মা নাযাল): ওহীর সূচনালগ্নে হেরা গুহায় রাসূল (সা.)-এর ওপর সূরা আল-আলাক-এর প্রথম ৫টি আয়াত (“ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক…”) অবতীর্ণ হয়। এটিই সর্বসম্মতভাবে কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ অংশ। তবে পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয় ‘সূরা আল-ফাতিহা’।
জ্ঞানলাভের গুরুত্ব: প্রথম অবতীর্ণ আয়াত সম্পর্কে জানার গুরুত্ব অনেক। এর মাধ্যমে ইসলামের প্রারম্ভিক ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট জানা যায়। এছাড়াও এর মাধ্যমে শরীয়তের বিধিবিধান কিভাবে ধীরে ধীরে মানুষের ওপর আরোপ করা হয়েছে (তাদরীজ ফিত তাশরী) তা উপলব্ধি করা যায়। এটি কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য কিতাব, তার ঐতিহাসিক প্রমাণ বহন করে।
আবু বকর (রা.) এর যুগে প্রেক্ষাপট: ইয়ামামার যুদ্ধে অসংখ্য হাফেজে কুরআন সাহাবী শহীদ হলে হযরত উমর (রা.) আশঙ্কা করেন যে, এভাবে হাফেজরা মারা গেলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাঁর পরামর্শে আবু বকর (রা.) যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে কুরআন গ্রন্থবদ্ধ করেন।
উসমান (রা.) এর যুগে প্রেক্ষাপট: ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করলে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মাঝে কুরআনের পঠন-রীতি (কিরাআত) নিয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই ফিতনা দূর করে উম্মাহকে এক পঠন-রীতির ওপর ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি কুরআন সংকলন করেন।
বৈশিষ্ট্য: আবু বকর (রা.)-এর সংকলনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি বিক্ষিপ্তভাবে লেখা আয়াতগুলোকে এক জায়গায় একটি গ্রন্থে (সুহুফ) সংকলন করেন। আর উসমান (রা.)-এর সংকলনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি আবু বকর (রা.)-এর সেই সুহুফ থেকে কুরাইশী ভাষায় একাধিক কপি তৈরি করেন এবং সেগুলো বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন, যাতে কিরাআত নিয়ে আর কোনো মতবিরোধ না হয়।
১. কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসীর: কুরআনের কোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকলে অন্য স্থানে তার বিস্তারিত বর্ণনা থাকে।
২. সুন্নাহ বা হাদিস দিয়ে তাফসীর: রাসূল (সা.) হলেন কুরআনের প্রথম ব্যাখ্যাকারক।
৩. সাহাবীদের উক্তি দ্বারা তাফসীর: সাহাবায়ে কেরাম ওহী নাজিলের প্রেক্ষাপট স্বচক্ষে দেখেছেন, তাই তাদের ব্যাখ্যা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
৪. তাবেয়ীদের উক্তি দ্বারা তাফসীর: সাহাবীদের পর তাবেয়ীদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা।
৫. আরবি ভাষার ব্যাকরণ: নাহু, সরফ, বালাগাত, এবং শাব্দিক অর্থের ওপর পূর্ণ দখল থাকা এবং শরীয়তের উসূল বা মূলনীতির আলোকে তাফসীর করা।
সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য: ‘মুহকাম’ হলো কুরআনের সেইসব আয়াত যার অর্থ অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং এর একটি মাত্র অর্থই গ্রহণ করা যায়। অপরদিকে ‘মুতাশাবিহ’ হলো সেইসব আয়াত যার অর্থ অস্পষ্ট, একাধিক অর্থ হতে পারে বা যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন।
উদাহরণ: মুহকামের উদাহরণ- “তোমরা সালাত কায়েম কর এবং জাকাত দাও” (হালাল-হারাম ও ফরজ বিধানসমূহ)। মুতাশাবিহ-এর উদাহরণ- “হুরুফে মুকাত্তাআত” (আলিফ-লাম-মীম) অথবা “আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর”।
হুকুম (বিধান): মুহকাম আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করা ফরজ। আর মুতাশাবিহ আয়াতের ওপর ঈমান আনতে হবে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তবে এর প্রকৃত অর্থ জানার জন্য অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করা বা এর অপব্যাখ্যা করা নিষিদ্ধ।
সংজ্ঞা: ‘আমছাল’ হলো ‘মাছাল’ এর বহুবচন। আমছালুল কুরআন বলতে কুরআনে বর্ণিত সেইসব দৃষ্টান্ত বা উপমা বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো অদৃশ্য বা কঠিন বিষয়কে দৃশ্যমান ও সহজ বস্তুর সাথে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে।
গুরুত্ব: উপমা মানুষের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে, কঠিন বিষয় সহজে বুঝতে সাহায্য করে, হৃদয়কে প্রভাবিত করে এবং উপদেশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রকার ও উদাহরণ: এটি প্রধানত তিন প্রকার:
১. মাছাল মুসাররাহ (সুস্পষ্ট উপমা): যেখানে ‘মাছাল’ বা উপমা শব্দটি সরাসরি উল্লেখ থাকে। (যেমন: মুনাফিকদের উপমা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- “তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালালো…”)।
২. মাছাল কামিন (লুক্কায়িত উপমা): যেখানে উপমা শব্দটি থাকে না, কিন্তু বাক্যের অর্থে উপমা লুকিয়ে থাকে।
৩. মাছাল মুরসালাহ (প্রবাদবাক্য রূপী উপমা): কুরআনের এমন আয়াত যা মানুষের মুখে মুখে প্রবাদ হিসেবে প্রচলিত হয়ে গেছে।
মুফাসসিরের শর্তসমূহ: একজন যোগ্য মুফাসসির হতে হলে তাকে অবশ্যই ১. বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী হতে হবে। ২. অন্তত ১৫টি বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে (যথা: আরবি ভাষা, নাহু, সরফ, বালাগাত, উসূলুল ফিকহ, ইলমুল কিরাআত, ইলমুল হাদিস ইত্যাদি)। ৩. শানে নুযূল, নাসিখ-মানসুখ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। ৪. ইলমে লাদুন্নী বা আল্লাহর প্রদত্ত প্রজ্ঞা থাকতে হবে।
আদাবসমূহ: ১. নিয়ত বিশুদ্ধ ও একনিষ্ঠ হওয়া। ২. উত্তম চরিত্র ও তাকওয়ার অধিকারী হওয়া। ৩. বিনয়ী হওয়া এবং অহংকার পরিহার করা। ৪. যেকোনো দল বা মতের অন্ধ অনুকরণ (তাকলীদ) থেকে মুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধান করা। ৫. ইলমের ব্যাপারে নির্ভীক হওয়া।
বৈশিষ্ট্য: ‘আল-ইতক্বান ফি উলুমিল কুরআন’ আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) রচিত একটি অমর গ্রন্থ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উলুমুল কুরআনের ৮০টি ভিন্ন ভিন্ন শাখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এতে কুরআনের মাক্কী-মাদানী, শানে নুযূল, নাসিখ-মানসুখ, কিরাআত, তাফসীরের নিয়মাবলি অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে তথ্য ও প্রমাণসহ সংকলিত হয়েছে। এটি মূলত একটি এনসাইক্লোপিডিয়া।
মর্যাদা ও স্থান: উলুমুল কুরআন বিষয়ে আজ পর্যন্ত যত গ্রন্থ রচিত হয়েছে, তার মধ্যে ‘আল-ইতক্বান’ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। পরবর্তী যুগে যারাই কুরআনের বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন, তারা সকলেই এই গ্রন্থের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। এটি উলুমুল কুরআনের মূলভিত্তি স্বরূপ।
الدرجة— ٥×٤ = ٢٠ [মান— ৫x৪ = ২০]




