কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৪: দিরাসাত আত-তাফসীর-১ (৫০১১০১) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2024 Dirasat At-Tafsir-1 (501101) Question & Answer

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৪: দিরাসাত আত-তাফসীর-১ (৫০১১০১) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2024 Dirasat At-Tafsir-1 (501101) Question & Answer
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

কামিল মাস্টার্স ২০২৪: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ প্রশ্নপত্র ও উত্তর

পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ১০১
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٤
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الاسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة التفسير – ١
[দিরাসাত আত-তাফসীর-১]
বিষয় কোড: ৫০১১০১
الوقت – ٤ ساعات [সময় – ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة – ١٠٠ [পূর্ণমান – ১০০]
[الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة .] [দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

مجموعة (أ) – تفسير ابن كثير
[ক-বিভাগ – তাফসির ইবনে কাসির]

(ترجم اثنين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)
[নিচের যেকোনো দুটি অনুবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও]
الدرجة – ٢٠×٢ = ٤٠ [মান – ২০x২ = ৪০]

১. অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন:

ياأيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء ج واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام ط إن الله كان عليكم رقيبا . وآتوا اليتامى أموالهم ولا تتبدلوا الخبيث بالطيب ص ولا تأكلوا أموالهم إلى أموالكم ط إنه كان حوبا كبيرا .

[অনুবাদ: হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং আত্মীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। আর এতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালের সাথে ভালো মাল বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ তোমাদের ধন-সম্পদের সাথে মিশিয়ে খেয়ো না। নিশ্চয় এটা বড়ই পাপ।] (মান-৫)

(أ) ماذا قال المفسر العلام في قوله تعالى “وخلق منها زوجها”؟ بين .

[ক) “এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন” – আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে প্রখ্যাত মুফাসসির কী বলেছেন? বর্ণনা করো।] (মান-৫)

উত্তর: মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “এক ব্যক্তি” বলতে হজরত আদম (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে। আর “তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন” বলতে হজরত হাওয়া (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে। আদম (আ.) যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তাঁর বাম পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে তারা একে অপরের প্রতি প্রশান্তি অনুভব করেন।

(ب) ما معنى الحوب؟ أثبت بالحديث الشريف .

[খ) ‘হুব’ (الحوب) শব্দের অর্থ কী? হাদিস শরিফের আলোকে প্রমাণ করো।] (মান-৫)

উত্তর: ‘হুব’ (الحوب) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো চরম অন্যায় বা বড় পাপ (إثم كبير)। হাদিস শরিফের আলোকে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “এতিমদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে খাওয়া একটি মহা পাপ (হুবান কাবিরা)।”

(ج) فسر قوله تعالى : ” ولا تتبدلوا الخبيث بالطيب” في ضوء تفسير ابن كثير (رح) .

[গ) ইবনে কাসির (রহ.)-এর তাফসিরের আলোকে আল্লাহর বাণী “খারাপ মালের সাথে ভালো মাল বদল করো না”-এর ব্যাখ্যা করো।] (মান-৫)

উত্তর: তাফসির ইবনে কাসিরের মতে, এর অর্থ হলো অভিভাবকরা যেন এতিমদের ভালো এবং উৎকৃষ্ট সম্পদের পরিবর্তে নিজেদের নিকৃষ্ট ও খারাপ সম্পদ পরিবর্তন করে না নেয়। যেমন, এতিমের একটি হৃষ্টপুষ্ট ছাগল বা উট নিজের একটি দুর্বল বা রুগ্ন পশুর সাথে বদল করে নেওয়া এবং দাবি করা যে পশু তো পশুই। এটি সম্পূর্ণ হারাম।

২. অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন:

حرمت عليكم أمهاتكم وبناتكم وأخواتكم وعماتكم وخالاتكم وبنات الأخ وبنات الأخت وأمهاتكم اللاتي أرضعنكم وأخواتكم من الرضاعة وأمهات نسائكم وربائبكم اللاتي في حجوركم من نسائكم اللاتي دخلتم بهن . فإن لم تكونوا دخلتم بهن فلا جناح عليكم وحلائل أبنائكم الذين من أصلابكم وأن تجمعوا بين الأختين إلا ما قد سلف ، إن الله كان غفورا رحيما .

[অনুবাদ: তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনীকন্যা, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের গর্ভজাত কন্যা যারা তোমাদের ক্রোড়ে লালিতা-পালিতা- অবশ্য যদি তোমরা তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে বিবাহ করাতে তোমাদের কোনো দোষ নেই এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে তা ধর্তব্য নয়। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।] (মান-৫)

(أ) ما المراد بالمحرمات؟ وكم قسما للمحرمات من النساء؟ بين بالتفصيل .

[ক) মুহাররমাত (যাদের বিয়ে করা হারাম) বলতে কী বোঝায়? নারীদের মধ্যে মুহাররমাত কত প্রকার? বিস্তারিত বর্ণনা করো।] (মান-৫)

উত্তর: ‘মুহাররমাত’ বলতে শরীয়তের দৃষ্টিতে ওইসব নারীকে বোঝায়, যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া একজন পুরুষের জন্য চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম। মুহাররমাত প্রধানত ৩ প্রকার: ১. বংশগত কারণে (মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগনি), ২. দুধপানের কারণে (দুধ মা, দুধ বোন ইত্যাদি), ৩. বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে (শাশুড়ি, সৎ মেয়ে, পুত্রবধূ, দুই বোনকে একত্রে রাখা ইত্যাদি)।

(ب) بين سبب نزول هذه الآية الكريمة .

[খ) এই আয়াতে কারিমার শানে নুযুল (অবতীর্ণ হওয়ার পটভূমি) বর্ণনা করো।] (মান-৫)

উত্তর: জাহিলি যুগে আরবরা তাদের সৎ মাকে (পিতার মৃত্যুর পর) এবং আপন দুই বোনকে একসাথে বিবাহ করত। ইসলাম আগমনের পর এই জঘন্য প্রথাকে চিরতরে বাতিল এবং হারাম ঘোষণা করার জন্য আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং কাদের বিবাহ করা যাবে না তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রদান করেন।

(ج) أوضح قوله تعالى ” وأن تجمعوا بين الأختين إلا ما قد سلف” .

[গ) আল্লাহর বাণী “এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে তা ধর্তব্য নয়”- স্পষ্ট করো।] (মান-৫)

উত্তর: এই আয়াতাংশের অর্থ হলো, একই সময়ে দুই আপন বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখা সম্পূর্ণ হারাম। তবে ইসলাম পূর্ব জাহিলি যুগে অজ্ঞতাবশত কেউ যদি এমনটি করে থাকে, তবে ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেবেন, তবে শর্ত হলো ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথে তাদের একজনকে তালাক দিয়ে আলাদা করে দিতে হবে।

৩. অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন:

إن الله لا يظلم مثقال ذرة وإن تك حسنة يضاعفها ويؤت من لدنه أجرا عظيما . فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك على هؤلاء شهيدا . يومئذ يود الذين كفروا وعصوا الرسول لو تسوى بهم الأرض، ولا يكتمون الله حديثا .

[অনুবাদ: নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর যদি তা পুণ্য কাজ হয় তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিপুল প্রতিফল প্রদান করেন। অতএব কেমন হবে অবস্থা যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন কাফেররা এবং যারা রাসুলের অবাধ্য হয়েছে, তারা কামনা করবে যে, যদি তারা মাটির সাথে মিশে যেত! আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথাই গোপন করতে পারবে না।] (মান-৫)

(أ) هل يُنْقَصُ العذاب للكفار بأعمالهم الحسنة؟ بين بالأدلة .

[ক) কাফেরদের ভালো কাজের কারণে কি তাদের শাস্তি কমানো হবে? প্রমাণসহ বর্ণনা করো।] (মান-৫)

উত্তর: কাফেরদের ভালো কাজের প্রতিদান সাধারণত দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয় (সুস্থতা, ধন-সম্পদ ইত্যাদি)। আখেরাতে তাদের ঈমান না থাকার কারণে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ নেই। তবে কিছু মুফাসসির ও হাদিসের ভাষ্যমতে, আবু তালিবের মতো যারা নবীজির উপকার করেছিল, তাদের শাস্তির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কিছুটা হালকা করা হতে পারে, কিন্তু জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে না।

(ب) ما المراد بـ “أجرا عظيما”؟ أوضح .

[খ) “বিপুল প্রতিফল” (আজরা আযীমা) বলতে কী বোঝানো হয়েছে? স্পষ্ট করো।] (মান-৫)

উত্তর: তাফসিরবিদদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী “বিপুল প্রতিফল” (আজরা আযীমা) বলতে এখানে ‘জান্নাত’ এবং জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামতসমূহকে বোঝানো হয়েছে, যা আল্লাহ তাঁর দয়ায় মুমিন বান্দাদের দান করবেন।

(ج) لم يود الكافر “لو تسوى بهم الأرض”؟ فسر كما فسر المفسر .

[গ) কাফেররা কেন কামনা করবে যে “তারা মাটির সাথে মিশে যেত”? মুফাসসির যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সেভাবে ব্যাখ্যা করো।] (মান-৫)

উত্তর: কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তায়ালা প্রাণীদের একে অপরের প্রতিদান ও প্রতিশোধ নেওয়ার পর নির্দেশ দেবেন “তোমরা মাটি হয়ে যাও”, তখন প্রাণীরা মাটি হয়ে যাবে। কাফেররা যখন নিজেদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি অবলোকন করবে, তখন তারা আক্ষেপ করে বলবে, “হায়! যদি আমরাও এই প্রাণীদের মতো মাটির সাথে মিশে যেতাম এবং আমাদের হিসাব না দিতে হতো!”

٤. أجب عن واحد مما يلي :
[৪. নিচের যেকোনো একটির উত্তর দাও:] (মান-১০x১=১০)

(أ) اكتب ترجمة إسماعيل بن كثير (رح) مع بيان خدماته في علم التفسير .

[ক) ইলমে তাফসিরের খেদমত বর্ণনাসহ ইসমাইল ইবনে কাসির (রহ.)-এর জীবনী লেখ।]

উত্তর: আল্লামা ইমাদুদ্দীন ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির (রহ.) ৭০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক। তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো “তাফসিরুল কুরআনিল আযীম” (যা তাফসির ইবনে কাসির নামে পরিচিত)। এটি কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসির এবং সহিহ হাদিস নির্ভর একটি কালজয়ী গ্রন্থ। তিনি ৭৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(ب) اكتب خصائص تفسير ابن كثير مفصلا .

[খ) তাফসির ইবনে কাসিরের বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিতভাবে লেখ।]

উত্তর: তাফসির ইবনে কাসিরের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. প্রথমে কুরআনের এক আয়াতের তাফসির অন্য আয়াত দিয়ে করা। ২. এরপর নবী (সা.) এর সহিহ হাদিস দ্বারা ব্যাখ্যা করা। ৩. সাহাবা ও তাবেয়ীদের উক্তি তুলে ধরা। ৪. ইসরাইলি বর্ণনার (ইহুদি-খ্রিষ্টানদের কাল্পনিক গল্প) কঠোর সমালোচনা ও বর্জন করা। ৫. আরবি ব্যাকরণ ও ভাষাগত দিকেও আলোকপাত করা।


مجموعة (ب) – معالم التنزيل
[খ-বিভাগ – মাআলিমুত তানজীল]

(ترجم اثنين من القطعات التالية وأجب عن الأسئلة الملحقة بهما)
[নিচের যেকোনো দুটি অনুবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও]
الدرجة – ٢٠×٢ = ٤٠ [মান – ২০x২ = ৪০]

৫. অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন:

ياأيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود ، أحلت لكم بهيمة الأنعام إلا ما يتلى عليكم غير محلي الصيد وأنتم حرم، إن الله يحكم ما يريد . يا أيها الذين آمنوا لا تحلوا شعائر الله ولا الشهر الحرام ولا الهدي ولا القلائد ولا آمين البيت الحرام يبتغون فضلا من ربهم ورضوانا . وإذا حللتم فاصطادوا ، ولا يجرمنكم شنآن قوم أن صدوكم عن المسجد الحرام أن تعتدوا ، وتعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان . واتقوا الله، إن الله شديد العقاب .

[অনুবাদ: হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে পাঠ করা হবে তা ছাড়া। তবে এহরাম অবস্থায় শিকার হালাল মনে করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা নির্দেশ দেন। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ, সম্মানিত মাস, কোরবানির জন্তু, গলার ফিতা পরানো জন্তু এবং নিজ রবের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির আশায় পবিত্র ঘর অভিমুখে যাত্রাকারীদের পবিত্রতা নষ্ট করো না। আর যখন তোমরা এহরাম থেকে বের হবে তখন শিকার করতে পার। আর কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা—যেহেতু তারা তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল—তোমাদেরকে যেন সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। আর নেক কাজ ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে একে অন্যকে সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একে অন্যকে সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।] (মান-৫)

(أ) ما معنى العقود؟ وما هو حكم الإيفاء بها؟ بين .

[ক) ‘উকু’দ’ (অঙ্গীকার) শব্দের অর্থ কী? এবং এগুলো পূর্ণ করার বিধান কী? বর্ণনা করো।] (মান-৫)

উত্তর: ‘উকু’দ’ (العقود) শব্দটি عقد এর বহুবচন, অর্থ হলো চুক্তি, অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি। এখানে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার চুক্তি (ঈমান ও ইবাদত) এবং মানুষের পারস্পরিক বৈধ চুক্তি উভয়টিই উদ্দেশ্য। ইসলামি শরীয়তে যেকোনো বৈধ চুক্তি বা অঙ্গীকার পূর্ণ করা ওয়াজিব বা ফরজ।

(ب) اذكر المحرمات من البهائم .

[খ) চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে যেগুলো হারাম, তা উল্লেখ করো।] (মান-৫)

উত্তর: কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী হারাম চতুষ্পদ জন্তু হলো: মৃত পশু, রক্ত, শুকরের মাংস, যে পশুর ওপর আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, গলা টিপে মারা যাওয়া পশু, আঘাত পেয়ে মৃত পশু, ওপর থেকে পড়ে মৃত পশু, শিংয়ের আঘাতে মৃত পশু এবং হিংস্র প্রাণী কর্তৃক আংশিক ভক্ষিত পশু।

(ج) فسر قوله تعالى : ” ولا تعاونوا على الإثم والعدوان “.

[গ) আল্লাহর বাণী “এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একে অন্যকে সাহায্য করো না”-এর তাফসির করো।] (মান-৫)

উত্তর: ‘ইছম’ (পাপ) বলতে আল্লাহর অবাধ্যতা এবং ‘উদওয়ান’ (সীমালঙ্ঘন) বলতে মানুষের অধিকার নষ্ট করাকে বোঝায়। আল্লাহ মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, সমাজে কোনো অন্যায়, জুলুম বা পাপ কাজে যেন কেউ কাউকে সহযোগিতা না করে, বরং সবাই মিলে ভালো কাজে অংশগ্রহণ করে।

৬. অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন:

واتل عليهم نبأ ابني آدم بالحق ص إذ قربا قربانا فتقبل من أحدهما ولم يتقبل من الآخر ط قال لأقتلنك ط قال إنما يتقبل الله من المتقين . لئن بسطت إلي يدك لتقتلني ما أنا بباسط يدي إليك لأقتلك ج إني أخاف الله رب العالمين . إني أريد أن تبوأ بإثمي وإثمك فتكون من أصحاب النار ج وذلك جزاء الظالمين .

[অনুবাদ: আর আপনি তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের সংবাদ সত্যের সাথে পাঠ করুন, যখন তারা উভয়ে কোরবানি পেশ করল, তখন তাদের একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কবুল হলো না। সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব।’ অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো মুত্তাকিদের থেকেই কবুল করেন।’ ‘আমাকে হত্যা করার জন্য তুমি আমার দিকে হাত বাড়ালেও, তোমাকে হত্যা করার জন্য আমি তোমার দিকে হাত বাড়াব না। নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহকে ভয় করি।’ ‘আমি চাই তুমি আমার পাপ ও তোমার পাপ নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নাও, ফলে তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটাই জালিমদের প্রতিফল।’] (মান-৫)

(أ) اذكر قصة ابن آدم عليه السلام موضحًا .

[ক) আদম (আ.)-এর পুত্রের ঘটনাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করো।] (মান-৫)

উত্তর: আদম (আ.) এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে কোরবানি পেশ করে। হাবিল তার সর্বোত্তম ভেড়া কোরবানি দেয়, আর কাবিল তার নিকৃষ্ট শস্য কোরবানি দেয়। আল্লাহর নিয়মানুযায়ী আসমানি আগুন এসে হাবিলের কোরবানি গ্রহণ করে। এতে কাবিল ঈর্ষান্বিত হয়ে হাবিলকে হত্যার হুমকি দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে পৃথিবীতে প্রথম হত্যাকাণ্ডের সূচনা করে।

(ب) حقق ‘ المتقين ‘ مع بيان من أوصاف المتقين .

[খ) ‘আল-মুত্তাকিন’ শব্দের তাহকিক (বিশ্লেষণ) করো এবং মুত্তাকিদের কিছু গুণাবলি বর্ণনা করো।] (মান-৫)

উত্তর: ‘মুত্তাকিন’ (المتقين) শব্দটি متقي এর বহুবচন। এর মূল অক্ষর হলো (و-ق-ي)। অর্থ: পরহেজগার বা আল্লাহভীরু। মুত্তাকিদের গুণাবলি: তারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, যথাযথভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে দান করে, আখিরাতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।

(ج) اكتب أسماء النار .

[গ) জাহান্নামের নামগুলো লেখ।] (মান-৫)

উত্তর: পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জাহান্নামের বেশ কয়েকটি স্তরের নাম উল্লেখ আছে। প্রধান ৭টি নাম হলো: ১. জাহান্নাম (جهنم), ২. লাযা (لظى), ৩. হুতামাহ (حطمة), ৪. সা’ঈর (سعير), ৫. সাকার (سقر), ৬. জাহীম (جحيم) এবং ৭. হাভিয়াহ (هاوية)।

৭. অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন:

يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر من الذين قالوا آمنا بأفواههم ولم تؤمن قلوبهم ج ومن الذين هادوا ج سماعون للكذب سماعون لقوم آخرين لا لم يأتوك ط يحرفون الكلم من بعد مواضعه ج يقولون إن أوتيتم هذا فخذوه وإن لم تؤتوه فاحذروا ط ومن يرد الله فتنته فلن تملك له من الله شيئا ط أولئك الذين لم يرد الله أن يطهر قلوبهم ط لهم في الدنيا خزي ج ولهم في الآخرة عذاب عظيم .

[অনুবাদ: হে রাসুল! যারা কুফরির দিকে দ্রুত ধাবিত হয়, তারা যেন আপনাকে চিন্তিত না করে; তাদের মধ্যে যারা মুখে বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’, কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি। আর যারা ইহুদি; তারা মিথ্যার জন্য কান পেতে থাকে, তারা অন্য এমন সম্প্রদায়ের জন্য কান পেতে থাকে, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা শব্দগুলোকে তার যথাযথ স্থান থেকে পরিবর্তন করে দেয়। তারা বলে, ‘যদি তোমাদেরকে এটা দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণ করো। আর যদি তা না দেওয়া হয়, তবে বিরত থেকো।’ আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কিছুই করার নেই। এরা তারাই যাদের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চান না। দুনিয়াতে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।] (মান-৫)

(أ) اكتب سبب نزول هذه الآية الكريمة .

[ক) এই আয়াতে কারিমার শানে নুযুল লেখ।] (মান-৫)

উত্তর: এই আয়াতটি মদিনার ইহুদি এবং মুনাফিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইহুদিদের মধ্যে এক সম্ভ্রান্ত নারী ও পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তারা তাওরাতের ‘রজম’ (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) এর বিধান পরিবর্তন করে বেত্রাঘাত ও মুখ কালো করে ঘোরানোর শাস্তি নির্ধারণ করেছিল। তারা নবী (সা.) এর কাছে বিচারের জন্য আসলে এই আয়াত নাজিল হয়।

(ب) اذكر حد الزنا بالتفصيل .

[খ) যিনার শাস্তি (হদ) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করো।] (মান-৫)

উত্তর: ইসলামি শরীয়তে ব্যভিচার বা যিনার শাস্তি দুটি অবস্থার ওপর নির্ভর করে: ১. অবিবাহিত নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে শাস্তি হলো ১০০ বেত্রাঘাত। ২. বিবাহিত নারী বা পুরুষের (মুহসান) ক্ষেত্রে শাস্তি হলো রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।

(ج) من اليهود؟ ثم اذكر النعم التي أنعم الله بها عليهم .

[গ) ইহুদি কারা? অতঃপর আল্লাহ তাদের ওপর যেসব নিয়ামত দান করেছেন তা উল্লেখ করো।] (মান-৫)

উত্তর: ইহুদি হলো বনী ইসরাইলের সম্প্রদায় যারা হজরত মুসা (আ.) এর আনীত ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করে, কিন্তু পরবর্তীকালে তারা তাওরাত বিকৃত করে পথভ্রষ্ট হয়। আল্লাহ তাদের ওপর অনেক নিয়ামত দিয়েছিলেন, যেমন: ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি, মরুভূমিতে মেঘের ছায়া, মান্না ও সালওয়া নামক আসমানি খাবার প্রদান, এবং তাদের মধ্যে অসংখ্য নবী ও রাসুল প্রেরণ করা।

٨. أجب عن واحد مما يلي :
[৮. নিচের যেকোনো একটির উত্তর দাও:] (মান-১০x১=১০)

(أ) اكتب ترجمة صاحب معالم التنزيل ثم بين مساهمته في علم التفسير .

[ক) ‘মাআলিমুত তানজীল’ রচয়িতার জীবনী লেখ এবং ইলমে তাফসিরে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।]

উত্তর: ‘মাআলিমুত তানজীল’ এর রচয়িতা হলেন ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাভী (রহ.)। তিনি ‘মুহিউস সুন্নাহ’ বা সুন্নাতের পুনরুজ্জীবনকারী নামে খ্যাত। তিনি পঞ্চম শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির এবং শাফেয়ী মাজহাবের ফকিহ ছিলেন। ৫১৬ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাফসির শাস্ত্রে তাঁর এই কিতাবটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি গ্রন্থ, যেখানে তিনি জাল হাদিস পরিহার করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন।

(ب) تحدث عن خصائص معالم التنزيل ومكانته بين كتب التفسير .

[খ) ‘মাআলিমুত তানজীল’ এর বৈশিষ্ট্য এবং তাফসির গ্রন্থগুলোর মধ্যে এর অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করো।]

উত্তর: তাফসির বাগাভী বা ‘মাআলিমুত তানজীল’ এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ ‘তাফসির বিল-মাছুর’ অর্থাৎ কুরআন ও হাদিস ভিত্তিক তাফসির। এর ভাষা খুব সহজ ও সাবলীল। তাফসির গ্রন্থগুলোর মধ্যে এর অবস্থান অনেক উঁচুতে; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, এটি হলো বিদআত এবং জাল হাদিস থেকে সবচেয়ে বেশি মুক্ত তাফসির গ্রন্থগুলোর একটি।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now