কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: উলুমুল কুরআন (৫০১১০৫) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Ulumul Quran (501105) Question & Answer
পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ৯০৫
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ۲۰۲۲
[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم القرآن
[উলুমুল কুরআন]
الوقت-٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة-١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (أ) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة—(أ)
الدرجة— ٨٠=٤×٢٠
١- تحدث عن كيفيات نزول الوحى مع وصف الغموض فى انزال القرآن جملة إلى السماء الدنيا-
[ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতিসমূহ আলোচনা কর। পবিত্র কুরআন প্রথম আসমানে একসাথে অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য ব্যাখ্যা কর।]
ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি (কাইফিয়াত): রাসূল (সা.)-এর ওপর বিভিন্ন পদ্ধতিতে ওহি অবতীর্ণ হতো। প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো: ১. সিলসিলাতুল জারাস বা ঘণ্টার তীব্র ধ্বনির মতো (এটি ছিল সবচেয়ে কষ্টকর পদ্ধতি)। ২. ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আসতেন (প্রায়ই প্রখ্যাত সাহাবি দাহিয়াতুল কালবি রা.-এর রূপে)। ৩. রুইয়ায়ে সাদেকা বা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। ৪. জিবরাঈল (আ.)-এর স্বরূপে আবির্ভাবের মাধ্যমে এবং ৫. পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি আল্লাহর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে (যেমন মেরাজের রজনীতে)।
প্রথম আসমানে একসাথে অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য (হিকমত): লওহে মাহফুজ থেকে শবে কদরে প্রথম আসমানে (বায়তুল ইযযাতে) সম্পূর্ণ কুরআন একসাথে নাজিল করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আসমানবাসীদের (ফেরেশতাদের) কাছে পবিত্র কুরআন, উম্মতে মুহাম্মাদী এবং শেষ নবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরা। এরপর সেখান থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মানুষের প্রয়োজন, প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি অনুযায়ী একটু একটু করে (তানজিম) রাসূল (সা.)-এর ওপর নাজিল করা হয়, যাতে তা মুখস্থ করা ও ধারণ করা সহজ হয়।
٢- تحدث عن جمع القرآن وترتيب آياته مفصلا-
[কুরআন সংকলন ও কুরআনের আয়াত বিন্যাস সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা কর।]
কুরআন সংকলন (জমউল কুরআন): পবিত্র কুরআন সংকলন প্রধানত তিনটি যুগে সম্পন্ন হয়।
১. রাসূল (সা.)-এর যুগে: তখন কুরআন সাহাবীদের স্মৃতিতে মুখস্থ ছিল এবং লিখিতভাবে পাথর, চামড়া, খেজুরের ডাল, পশুর চওড়া হাড় ও পাতায় বিক্ষিপ্ত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।
২. আবু বকর (রা.)-এর যুগে: ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক হাফেজ সাহাবি শহীদ হলে উমর (রা.)-এর পরামর্শে যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে সম্পূর্ণ কুরআনকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করে একটি গ্রন্থে (মুসহাফ) একত্রিত করা হয়।
৩. উসমান (রা.)-এর যুগে: ইসলামী সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হলে কিরাআতের (পঠনপদ্ধতি) ভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মতবিরোধ দেখা দেয়। তখন তিনি কুরাইশি ভাষায় একটি প্রমিত (স্ট্যান্ডার্ড) মুসহাফ তৈরি করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন এবং বাকি সব ব্যক্তিগত অনুলিপি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন, যাতে উম্মত বিভক্ত না হয়।
আয়াত বিন্যাস (তারতিবুল আয়াত): কুরআনের আয়াতগুলোর বর্তমান বিন্যাস সম্পূর্ণ ‘তাওকিফি’ অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত। জিবরাঈল (আ.) ওহি নিয়ে এসে স্পষ্টভাবে বলে দিতেন যে, কোন আয়াতটি কোন সূরার কোথায় বসবে। রাসূল (সা.) সে অনুযায়ী ওহি লেখকদের (কাতেবীন) নির্দেশ দিতেন। এতে মানুষের কোনো নিজস্ব হস্তক্ষেপ নেই।
٣- ما المراد باعجاز القرآن؟ اكتب وجوه اعجازه بالتفصيل-
[إعجاز القرآن বলতে কী বুঝায়? اعجاز القرآن এর বিভিন্ন দিক বিশদভাবে আলোচনা কর।]
ইজাজুল কুরআন-এর অর্থ: ‘ইজাজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অক্ষম করা বা অপারগ করে দেওয়া। পরিভাষায়, পবিত্র কুরআন হলো এমন এক অনন্য ও অলৌকিক গ্রন্থ, যার সমকক্ষ কোনো একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা বা আয়াত রচনা করতে সমগ্র মানব ও জিন জাতি চরমভাবে অক্ষম ও অপারগ।
কুরআনের ইজাজের বিভিন্ন দিক (وجوه إعجاز):
১. ভাষাতাত্ত্বিক (بلاغة وفصاحة): এর শব্দচয়ন, গাঁথুনি এবং সাহিত্যের মান এতই উচ্চাঙ্গের ছিল যে, তা তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ কবি ও ভাষাবিদদেরও হতবাক করেছিল।
২. অদৃশ্যের সংবাদ (إخبار بالغيب): অতীত জাতিসমূহের নিখুঁত ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের নির্ভুল সংবাদ প্রদান (যেমন সূরা রূমে রোমানদের বিজয়ের ভবিষ্যৎবাণী)।
৩. বৈজ্ঞানিক দিক (الإعجاز العلمي): আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রদান। যেমন: ভ্রূণতত্ত্বের পর্যায়, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও সৃষ্টিতত্ত্ব, যা ১৪০০ বছর আগে কোনো মানুষের জানা সম্ভব ছিল না।
৪. আইনগত দিক (التشريع): মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের জন্য এমন নিখুঁত ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন, যা দেশ-কাল-পাত্র ভেদে সর্বজনীন।
٤- عرف التفسير والتأويل- وما الفرق بينهما؟ ثم اذكر العلوم التى يحتاج اليها المفسر-
[التفسير এবং التأويل এর সংজ্ঞা দাও। উভয়ের মাঝে পার্থক্য কী? মুফাসসির যে সব ইলমের প্রতি মুখাপেক্ষী তা বর্ণনা কর।]
তাফসির ও তাবিল: ‘তাফসির’ শব্দের অর্থ উন্মোচন করা বা ব্যাখ্যা করা। পরিভাষায়: আয়াতের শাব্দিক, বাহ্যিক ও সুস্পষ্ট অর্থ বর্ণনা করাকে তাফসির বলে (যা সাধারণত হাদিস ও আসার নির্ভর)। আর ‘তাবিল’ অর্থ প্রত্যাবর্তন করা। পরিভাষায়: একাধিক অর্থের সম্ভাবনাময় কোনো আয়াত থেকে দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরিয়তসম্মত কোনো একটি গভীর অর্থ বা তাৎপর্য বের করাকে তাবিল বলে।
পার্থক্য: তাফসির হয় সাধারণত বর্ণনানির্ভর (রিওয়ায়াত), আর তাবিল হয় গবেষণানির্ভর (দিরায়াত)। তাফসির হলো অকাট্য (কাতয়ি), আর তাবিল হলো সম্ভাবনাময় (জন্নি)। তাফসির সাধারণত মুহকাম আয়াতের হয়, আর তাবিল মুতাশাবিহ আয়াতের হয়।
মুফাসসিরের প্রয়োজনীয় ইলম: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতির মতে একজন মুফাসসিরের কমপক্ষে ১৫টি শাস্ত্র বা বিজ্ঞানে পারদর্শী হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য হলো— আরবি ভাষা (লুগাত), নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), বালাগাত (অলংকারশাস্ত্র – মাআনি, বয়ান, বদি), উসুলুল ফিকহ, আসবাবুন নুযূল, নাসিখ-মানসুখ, ইলমুল হাদিস, ইলমুল কিরাআত এবং ইলমুল মাওহিবা (আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ আধ্যাত্মিক জ্ঞান)।
٥- عرف النسخ مع اقسامه- هل يجوز نسخ القرآن بغير من السنة؟ بين-
[النسخ এর প্রকারভেদসহ পরিচয় দাও। কুরআন কি গায়রে কুরআন তথা সুন্নাত দ্বারা রহিত করা বৈধ? বর্ণনা কর।]
নসখ-এর পরিচয়: নসখ শব্দের আভিধানিক অর্থ রহিত করা, বাতিল করা বা স্থানান্তর করা। উসুলুল ফিকহের পরিভাষায়: শরিয়তের কোনো পূর্ববর্তী বিধানকে পরবর্তী কোনো অকাট্য শরিয়তসম্মত দলিল দ্বারা রহিত করাকে নসখ বলে।
প্রকারভেদ: কুরআনে নসখ প্রধানত তিন প্রকার— ১. তেলাওয়াত ও বিধান উভয়ই রহিত হওয়া। ২. তেলাওয়াত রহিত কিন্তু বিধান বহাল থাকা (যেমন বিবাহিত ব্যভিচারীর রজমের আয়াত)। ৩. বিধান রহিত কিন্তু তেলাওয়াত বহাল থাকা (কুরআনে এই প্রকার নসখই সবচেয়ে বেশি, যেমন ইদ্দতের আয়াতের বিধান)।
সুন্নাহ দ্বারা কুরআন রহিত হওয়া: এ বিষয়ে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। জমহুর (অধিকাংশ) ওলামায়ে কেরাম এবং হানাফি মাজহাব মতে, ‘খবরে মুতাওয়াতির’ বা ‘খবরে মাশহুর’ (অকাট্য সুন্নাহ) দ্বারা কুরআনের বিধান রহিত করা জায়েজ এবং বাস্তবে এমন হয়েছে (যেমন ওসিয়তের আয়াত হাদিস দ্বারা রহিত)। তবে ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, কুরআনের বিধান কেবল কুরআনের আয়াত দ্বারাই রহিত হতে পারে, সুন্নাহ দ্বারা নয়।
٦- اكتب مزايا عن الكتاب “الاتقان في علوم القرآن” مع خدمة مؤلفة في علم التفسير-
[الاتقان নামক কিতাবের লেখকের ইলমে তাফসিরে অবদান উল্লেখপূর্বক উক্ত গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য লেখ।]
লেখকের অবদান: “আল-ইতকান ফী উলুমিল কুরআন” গ্রন্থের রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুফাসসির ইমাম জালালুদ্দীন আবদুর রহমান আস-সুয়ুতি (রহ.)। তাফসির শাস্ত্রে তাঁর অবদান অসামান্য ও অতুলনীয়। তিনি তাঁর উস্তাদ জালালুদ্দীন মহল্লির সাথে মিলে বিশ্ববিখ্যাত “তাফসিরে জালালাইন” রচনা সম্পন্ন করেছেন এবং “আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসির বিল মা’সুর” নামক বিশাল হাদিসভিত্তিক তাফসির গ্রন্থ রচনা করেছেন।
আল-ইতকান গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য: এটি উলুমুল কুরআনের একটি অনন্য বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থে তিনি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট ৮০টি শাস্ত্র বা বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুছিয়ে ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কুরআনের নাজিল হওয়ার সময়, স্থান, পদ্ধতি, শানে নুযূল, মাক্কি-মাদানি, মুতাশাবিহ, ইজাজ, নাসিখ-মানসুখ ইত্যাদি বিষয়ে এটি একটি চূড়ান্ত প্রামাণ্য গ্রন্থ। উলুমুল কুরআনের ক্ষেত্রে এটি এমন এক মাস্টারপিস, যা ছাড়া কোনো মুফাসসির বা গবেষকের পথচলা এককথায় অসম্ভব।
٧- عرف المشترك والمؤول والظاهر والنص باعتبار بيان المفسرين بالأمثلة-
[তাফসির শাস্ত্রবিদগণের বর্ণনা অনুসারে মুশতারিক, মুয়াওয়্যাল, যাহের ও নস এর উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।]
১. المشترك (মুশতারাক): যে শব্দ একাধিক ভিন্ন ভিন্ন অর্থের জন্য তৈরি হয়েছে এবং প্রতিটি অর্থই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। উদাহরণ: কুরআনে ব্যবহৃত ‘কুরউ’ (قرء) শব্দটি আরবি ভাষায় হায়েজ (ঋতুস্রাব) এবং তুহুর (পবিত্রতা) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
২. المؤول (মুয়াওয়্যাল): মুশতারাক বা অস্পষ্ট কোনো শব্দকে যখন চিন্তাভাবনা ও শরিয়তের দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট অর্থে গ্রহণ করা হয়, তখন তাকে মুয়াওয়্যাল বলে। উদাহরণ: ‘কুরউ’ শব্দের অর্থ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কাছে প্রমাণের ভিত্তিতে ‘হায়েজ’ হিসেবে মুয়াওয়্যাল করা হয়েছে।
৩. الظاهر (যাহের): যে শব্দের অর্থ শোনার সাথেই শ্রোতার কাছে সুস্পষ্টভাবে বুঝে আসে, কিন্তু বাক্যটি মূলত সেই অর্থ বর্ণনার জন্য বলা হয়নি। উদাহরণ: “وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلْبَيْعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰا” (আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন)—এখানে হালাল-হারামের বিষয়টি যাহের, কিন্তু বাক্যটি হালাল-হারাম বোঝানোর চেয়েও মূলত সুদের বৈধতা দাবি করা কাফিরদের জবাব দেওয়ার জন্য এসেছে।
৪. النص (নস): যে শব্দের অর্থ স্পষ্ট এবং বাক্যটি মূলত সেই অর্থ বর্ণনা করার জন্যই আনা হয়েছে। উদাহরণ: পূর্বের আয়াতে ‘ব্যবসা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য করা’-ই হলো নস বা মূল উদ্দেশ্য। কারণ কাফিররা বলত, “ব্যবসা তো সুদের মতোই।” এর জবাবে এই পার্থক্য বর্ণনা করাই আয়াতের প্রধান লক্ষ্য।
٨- تحدث عن العلوم المستنبط من القرآن الكريم-
[পবিত্র কুরআন হতে নির্গত জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে বিবরণ দাও।]
পবিত্র কুরআন হলো দুনিয়ার সকল মৌলিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের আদি উৎস। কুরআন থেকে নির্গত প্রধান বিজ্ঞানসমূহ হলো:
- ইলমুল আকাঈদ (তাওহিদ ও কালাম): আল্লাহর একত্ববাদ, রিসালাত, আখিরাত এবং ঈমান সম্পর্কিত জ্ঞান।
- ইলমুল আহকাম ওয়াল ফিকহ (আইনশাস্ত্র): মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ইবাদত, হালাল-হারাম, বিবাহ, উত্তরাধিকার, বিচার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিধান।
- ইলমুল আখলাক ওয়াত তাসাওউফ: চরিত্র গঠন, আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনের বিজ্ঞান।
- ইলমুল কিসাস (ইতিহাস বিজ্ঞান): পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উত্থান-পতন এবং নবীদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা ও সমাজবিজ্ঞানের ধারা।
- প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (العلوم الطبيعية): মহাকাশবিদ্যা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং ভ্রূণতত্ত্বের মতো আধুনিক বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলো কুরআন থেকেই গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন।
مجموعة—(ب)
الدرجة — ٢٠=٤×٥
٩- علق على أربعة من الموضوعات التالية :
[নিচের যে কোনো চারটি বিষয়ের উপর টীকা লেখ:]
(أ) أسماء القرآن
(ب) المجاز فى القرآن
(ج) مناسبات الآيات
(د) قصص القرآن
(ه) المتشابه فى القرآن
(و) اقسام القرآن
(ز) اسباب نزول القرآن
(ح) طبقات المفسرين
(যেকোনো ৪টির উত্তর দিতে হবে। নিচে সবগুলোর সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হলো:)
(أ) أسماء القرآن (কুরআনের নামসমূহ): কুরআনের বহু নাম রয়েছে যা এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে রাখা হয়েছে। যেমন- আল-ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী), আল-কিতাব (গ্রন্থ), আয-যিকর (উপদেশ), এবং আত-তানজিল (অবতীর্ণ)।
(ب) المجاز (কুরআনে রূপক অর্থ): শব্দের আভিধানিক বা মূল অর্থ বাদ দিয়ে যখন রূপক বা সাহিত্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অন্য অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন: কুরআনে ‘আল্লাহর হাত’ (يَدُ ٱللَّهِ) বলতে রূপক অর্থে তাঁর ‘অসীম ক্ষমতা বা কুদরত’ বোঝানো হয়েছে।
(ج) مناسبات الآيات (আয়াতের পারষ্পরিক সম্পর্ক): এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের বা এক সূরার সাথে অন্য সূরার চমৎকার বিষয়ভিত্তিক মিল, ধারাবাহিকতা বা যোগসূত্রকে উলুমুল কুরআনের ভাষায় ইলমুল মুনাসাবাত বলে।
(د) قصص القرآن (কুরআনের ঘটনাবলি): কুরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তী নবী, অবাধ্য জাতি ও প্রতাপশালী রাজাদের শিক্ষণীয় ইতিহাস। এগুলো নিছক কোনো গল্প নয়, বরং মানুষের জন্য হেদায়াত, উপদেশ এবং সতর্কতার মাধ্যম।
(ه) المتشابه (মুতাশাবিহ): কুরআনের সেই সব আয়াত যার অর্থ মানুষের কাছে অস্পষ্ট এবং রূপক, যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। যেমন- হুরূফে মুকাত্তা’আত (الم, يس ইত্যাদি)।
(و) اقسام القرآن (কুরআনের শপথ): ‘আকসাম’ হলো কসম বা শপথের বহুবচন। আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয়ের গুরুত্ব ও সত্যতা বোঝাতে বিভিন্ন সৃষ্টির (যেমন- সূর্য, চাঁদ, ডুমুর ফল, সময়) নামে শপথ করেছেন।
(ز) اسباب نزول (শানে নুযূল): যে নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রেক্ষাপট বা সাহাবীদের করা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কুরআনের কোনো আয়াত নাজিল হয়েছে তাকে আসবাবুন নুযূল বা শানে নুযূল বলে। এটি আয়াতের সঠিক অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
(ح) طبقات المفسرين (মুফাসসিরদের স্তর): যুগ ও কাল অনুযায়ী তাফসিরকারকদের বিভিন্ন স্তর বা তাবাআত রয়েছে। যেমন— সাহাবা যুগ (ইবনে আব্বাস রা.), তাবিঈ যুগ (মুজাহিদ), এবং পরবর্তী সংকলন যুগ (ইমাম তাবারী, ইবনে কাসির, কুরতুবি প্রমুখ)।





