اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٣م
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদী) পরীক্ষা, ২০২৩]
الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث .١ [দিরাসাতুল হাদীস-১]
বিষয় কোড: 502101 | সময় : ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০
مجموعة (أ) – صحيح البخاري (الدرجات – ٥٠)
[গ্রুপ (ক) – সহিহ বুখারি (মান – ৫০)]
١- ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : ٤٠ = ٢ × ٢٠
[১. নিচের হাদিসগুলো থেকে যেকোনো দুটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
(أ) [ক]
عن أبي هريرة (رضـ) عن النبي (صـ) : أول زمرة تدخل الجنة على صورة القمر ليلة البدر، والذين على آثارهم كأحسن كوكب دري في السماء إضاءة قلوبهم على قلب رجل واحد لا تباغض بينهم ولا تحاسد ولكل امرئ زوجتان من الحور العين يرى مخ سوقهن من وراء العظم واللحم.
[অনুবাদ: আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) বলেছেন: জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটির চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। অতঃপর তাদের অনুগামীদের চেহারা হবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের মতো। তাদের অন্তরসমূহ এক ব্যক্তির অন্তরের মতো (ঐক্যবদ্ধ) হবে। তাদের মধ্যে কোনো বিদ্বেষ ও হিংসা থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য আয়তলোচনা হুরদের মধ্য থেকে দুজন করে স্ত্রী থাকবে, অস্থি ও গোশতের ভেতর থেকে তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে।]
- (۱) بين أوصاف الجنة ونعمها بالأدلة النقلية.
[(১) কুরআন-সুন্নাহর প্রমাণের আলোকে জান্নাত ও তার নিয়ামতের বিবরণ দাও।]উত্তর: কুরআন ও হাদিসের আলোকে জান্নাত হলো চিরশান্তির আবাসস্থল। সূরা মুহাম্মাদের ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, সেখানে রয়েছে নির্মল পানির নদী, দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তিত থাকে, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নদী এবং পরিশোধিত মধুর নদী। এছাড়াও সেখানে বিশ্বাসীদের জন্য স্বর্ণ ও মণি-মুক্তার প্রাসাদ এবং চিরযৌবন দান করা হবে। - (۲) هل الجنة والنار موجودتان أم لا؟ بين بالأدلة الواضحة.
[(২) জান্নাত ও জাহান্নাম কি বর্তমানে বিদ্যমান নাকি নেই? সুস্পষ্ট প্রমাণের আলোকে বর্ণনা করো।]উত্তর: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানে সৃষ্টি করা অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। এর বড় প্রমাণ হলো মিরাজের রজনীতে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জান্নাত ও জাহান্নাম স্বচক্ষে পরিদর্শন করা এবং কুরআনের আয়াত “উইদ্দাত লিল মুত্তাকীন” (যা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে)। - (۳) ما المراد بالحور العين؟ وما للمرأة الصالحة في الجنة؟ بين بالوضاحة.
[(৩) ‘হুরুন ঈন’ বলতে কী বোঝায়? জান্নাতে নেককার নারীদের জন্য কী কী থাকবে? স্পষ্টভাবে বর্ণনা করো।]উত্তর: ‘হুরুন ঈন’ বলতে বিশাল আয়তলোচনা ও অনিন্দ্য সুন্দর জান্নাতি রমণীদের বোঝায়। দুনিয়ার নেককার নারীরা জান্নাতে হুরদের চেয়েও লক্ষগুণ বেশি সুন্দরী ও মর্যাদাবান হবেন এবং তারা তাদের দুনিয়ার স্বামীদের সাথে রানীর মতো অনন্তকাল শান্তিতে বসবাস করবেন।
(ب) [খ]
عن أنس بن مالك (رضـ) أنه قال : رأيت رسول الله (صـ) وحانت صلاة العصر فالتمس الوضوء فلم يجدوه، فأتى رسول الله (صـ) بوضوء فوضع رسول الله (صـ) يده في ذلك الإناء، فأمر الناس أن يتوضؤوا منه ـ فرأيت الماء ينبع من تحت أصابعه فتوضأ الناس حتى توضئوا من عند أخرهم.
[অনুবাদ: আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে দেখলাম, তখন আসরের নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল। মানুষ ওজুর পানি খুঁজছিল কিন্তু পাচ্ছিল না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে কিছু ওজুর পানি আনা হলো। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর হাত সেই পাত্রে রাখলেন এবং লোকদেরকে তা থেকে ওজু করতে নির্দেশ দিলেন। আমি দেখলাম তাঁর আঙুলের নিচ থেকে পানি উৎসারিত হচ্ছে। লোকেরা ওজু করতে থাকল, এমনকি শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত ওজু সম্পন্ন করল।]
- (۱) بين معجزة النبي (صـ) في هذا الحديث بالإيجاز.
[(১) এই হাদিসে বর্ণিত নবী (সা)-এর মুজিজা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।]উত্তর: এই হাদিসে নবী (সা)-এর আঙুল মোবারকের নিচ থেকে অবিরাম ধারায় বিশুদ্ধ পানি উৎসারিত হওয়ার মুজিজা বর্ণিত হয়েছে, যা দিয়ে সাহাবিগণ ওজু করেছিলেন। - (۲) ما الفرق بين المعجزة والكرامة والاستدراج؟ بين.
[(২) মুজিজা, কারামত ও ইসতিদরাজের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা করো।]উত্তর: মুজিজা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনা। কারামত: আল্লাহর নেককার ওলিদের মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনা। ইসতিদরাজ: কাফির বা ফাসিকদের মাধ্যমে শয়তানের সহায়তায় ঘটিত ভেলকিবাজি, যা মূলত তাদের ধ্বংসের দিকে ধাবিত করার জন্য আল্লাহর এক ধরনের ছাড়। - (۳) اكتب نبذة من حياة أنس بن مالك (رضـ) .
[(৩) আনাস বিন মালিক (রা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।]উত্তর: আনাস বিন মালিক (রা) ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি এবং নবী (সা)-এর একনিষ্ঠ খাদেম। তিনি দশ বছর রাসূল (সা)-এর খেদমত করেন। নবীজির দোয়ার বরকতে তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেন এবং তাঁর সন্তান ও সম্পদ বৃদ্ধি পায়। তিনি ৯৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(ج) [গ]
عن أبي إسحاق قال كنت إلى جنب زيد بن أرقم، فقيل له : كم غزا النبي (صـ) من غزوة؟ قال : تسع عشرة، قيل كم غزوت أنت معه؟ قال سبع عشرة، قلت فأيهم كانت أول؟ قال العسيرة أو العشير فذكرت لقتادة، فقال العشيرة.
[অনুবাদ: আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যায়দ ইবনে আরকামের পাশে ছিলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, নবী (সা) কতগুলো গাযওয়া (যুদ্ধ) করেছেন? তিনি বললেন: উনিশটি। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি তাঁর সাথে কতগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: সতেরোটিতে। আমি বললাম, সেগুলোর মধ্যে প্রথম কোনটি ছিল? তিনি বললেন: ‘আল-উসায়রা’ বা ‘আল-উশাইর’। আমি কাতাদার কাছে এর উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘আল-উশাইরা’।]
- (۱) ما معنى الغزوة لغة واصطلاحا؟ وما الفرق بين الغزوة والسرية؟
[(১) গাযওয়া এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? গাযওয়া ও সারিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?]উত্তর: গাযওয়া আভিধানিক অর্থ আক্রমণ করা। পরিভাষায়: যেসব যুদ্ধে রাসূল (সা) সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন তাকে গাযওয়া বলে। আর যেসব যুদ্ধে তিনি নিজে অংশগ্রহণ না করে সাহাবিদের কোনো দলকে পাঠিয়েছেন তাকে সারিয়া বলে। - (۲) اذكر الغزوات التى وقعت فيها المقاتلة بين المسلمين والكفار.
[(২) এমন গাযওয়াগুলোর নাম উল্লেখ করো যেগুলোতে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।]উত্তর: সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হওয়া উল্লেখযোগ্য গাযওয়াগুলো হলো: বদর, ওহুদ, খন্দক (আহযাব), খাইবার এবং হুনাইন। - (۳) متى وأين وقعت غزوة العشيرة؟
[(৩) ‘গাযওয়ায়ে উশাইরা’ কখন ও কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?]উত্তর: গাযওয়ায়ে উশাইরা হিজরি দ্বিতীয় সনের জুমাদাল উলা বা জুমাদাস সানিয়া মাসে ইয়ানবু অঞ্চলের ‘উশাইরা’ নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল।
(د) [ঘ]
عن أبي سعيد الخدري (رضـ) قال : نزل بنو قريظة على حكم سعد بن معاذ فأرسل اليه النبي (صـ) فأتى على حمار، فقال للأنصار قوموا إلى سيدكم، ثم قال : هؤلاء نزلوا على حكمك، فقال : تقتل مقاتلهم وتسبى ذراريهم ـ قال قضيت بحكم الله وربما قال : بحكم الملك.
[অনুবাদ: আবু সাঈদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনু কুরাইজা সা’দ বিন মুয়াজ (রা)-এর বিচারের ওপর নির্ভর করে আত্মসমর্পণ করল। নবী (সা) তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তিনি গাধার পিঠে চড়ে এলেন। তখন নবী (সা) আনসারদের বললেন: তোমাদের নেতার সম্মানে দাঁড়াও। তারপর বললেন: এরা তোমার বিচারের ওপর ভিত্তি করে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বললেন: তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করা হোক এবং তাদের নারী-শিশুদের বন্দি করা হোক। নবী (সা) বললেন: তুমি আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী বিচার করেছ, অথবা তিনি বলেছেন: রাজাধিরাজের ফয়সালা অনুযায়ী।]
- (۱) متى نزل بنو قريظة على حكم سعد بن معاذ؟ ولماذا؟
[(১) কখন এবং কেন বনু কুরাইজা সা’দ বিন মুয়াজ (রা)-এর বিচারের ওপর নির্ভর করে আত্মসমর্পণ করেছিল?]উত্তর: পঞ্চম হিজরিতে খন্দক যুদ্ধের পর। কারণ তারা মুসলমানদের সাথে করা চুক্তি ভঙ্গ করে খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকদের সহায়তা করেছিল এবং বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। - (۲) ماذا يستفاد من قوله (صـ) قوموا إلى سيدكم؟ بين موضحا.
[(২) নবী (সা)-এর উক্তি ‘তোমাদের নেতার সম্মানে দাঁড়াও’ থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়? স্পষ্ট করে বর্ণনা করো।]উত্তর: এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হয় যে, সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র (যেমন- শিক্ষক, আলেম, ন্যায়পরায়ণ নেতা বা পিতা-মাতা) আগমন করলে তাদের সম্মানার্থে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ এবং এটি একটি শিষ্টাচার। - (۳) كم قسما للقيام؟ بين بالأمثلة.
[(৩) সম্মানার্থে দাঁড়ানো (কিয়াম) কত প্রকার? উদাহরণসহ বর্ণনা করো।]উত্তর: কিয়াম প্রধানত তিন প্রকার: ১. ইবাদতের নিয়তে দাঁড়ানো (যা কেবল আল্লাহর জন্য খাস, যেমন- নামাজে দাঁড়ানো), ২. সম্মানার্থে দাঁড়ানো (যেমন- সম্মানিত নেতার জন্য দাঁড়ানো, এটি জায়েজ), ৩. অহংকারের বশবর্তী হয়ে কাউকে দাঁড় করিয়ে রাখা (এটি হারাম)।
٢- أجب عن واحد مما يلي : ١٠ = ١ × ١٠
[২. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(أ) [ক]
تحدث عن غزوة الأحزاب مركزًا على النقاط التالية :
[নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোর ওপর ভিত্তি করে গাযওয়ায়ে আহযাব (খন্দকের যুদ্ধ) সম্পর্কে আলোচনা করো:]
- (۱) سبب تسميتها بغزوة الأحزاب وواقعتها.
[(১) একে গাযওয়ায়ে আহযাব নামকরণের কারণ এবং এর ঘটনা।]উত্তর: ‘আহযাব’ অর্থ দলসমূহ। আরবের কুরাইশ, গাতফান, বনু নাজিরসহ বিভিন্ন গোত্র একত্রিত হয়ে মদিনা আক্রমণ করেছিল বলে একে গাযওয়ায়ে আহযাব বলা হয়। এটি ৫ম হিজরিতে সংঘটিত হয়। - (۲) ما هي الاستراتيجية العسكرية المبتكرة التي اتخذها رسول الله (صـ) مدة استمرارها؟
[(২) এর চলাকালীন রাসূলুল্লাহ (সা) যে নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছিলেন তা কী ছিল?]উত্তর: নতুন কৌশলটি ছিল শহরের অরক্ষিত অংশে পরিখা বা খন্দক খনন করা। পারস্যের রণকৌশল অনুযায়ী সাহাবি সালমান ফারসি (রা)-এর পরামর্শে রাসূল (সা) এই কৌশল গ্রহণ করেন। - (۳) خسارة الفريقين هزيمة الأحزاب وأهميتها فى تاريخ الإسلام.
[(৩) উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি, আহযাব বাহিনীর পরাজয় এবং ইসলামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব।]উত্তর: এ যুদ্ধে মুসলমানদের মাত্র ৬ জন শহীদ হন এবং কাফিরদের ৪ জন নিহত হয়। আল্লাহর রহমতে প্রচণ্ড ঝড় ও ফেরেশতাদের আবির্ভাবে কাফির বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে আরবে মুসলমানদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
(ب) [খ]
اكتب الاسم الكامل لصحيح البخاري ثم اذكر الشروط التي التزم بها البخاري (رحـ) عند التأليف مع بيان خصائصه ومنزلته بين الكتب الصحاح الستة.
[সহিহ বুখারির পূর্ণ নাম লেখো, এরপর গ্রন্থ সংকলনের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি (রহ) যে শর্তগুলো মেনে চলেছেন তা উল্লেখ করো, এবং সিহাহ সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের মধ্যে এর বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা বর্ণনা করো।]
مجموعة (ب) – صحيح لمسلم (الدرجات – ٤٠)
[গ্রুপ (খ) – সহিহ মুসলিম (মান – ৪০)]
٣- ترجم واحدا من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة به : ٢٠ = ١ × ٢٠
[৩. নিচের হাদিসগুলো থেকে যেকোনো একটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
(أ) [ক]
عن ابن عباس (رضـ) : أن معاذًا قال بعثنى رسول الله (صـ) فقال : إنك تأتى قوما من اهل الكتاب فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وانى رسول الله ـ فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات فى كل يوم وليلة فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد إلى فقرائهم فإن هم اطاعوا لذلك فإياك وكرائم أموالهم ـ واتق دعوة المظلوم ـ فإن ليس بينها وبين الله حجاب.
[অনুবাদ: ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, মুয়াজ (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে (ইয়েমেনে) পাঠালেন এবং বললেন: তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ। তাদেরকে এ সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। তারা যদি এটি মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। তারা যদি এটিও মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে নেওয়া হবে এবং গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হবে। তারা যদি এটিও মেনে নেয়, তবে তুমি তাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ বেছে নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে, কেননা মজলুমের বদদোয়া এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।]
- (۱) اشرح قوله عليه الصلاة والسلام : “فإياك وكرائم أموالهم”.
[(১) নবী (সা)-এর উক্তি “ফইয়্যাকা ওয়া কারায়িমা আমওয়ালিহিম” (তাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ থেকে বিরত থেকো)-এর ব্যাখ্যা করো।]উত্তর: জাকাত আদায়ের সময় আদায়কারী যেন সম্পদশালীদের সবচেয়ে উত্তম ও প্রিয় বস্তুগুলো বেছে না নেয়। বরং মধ্যম মানের সম্পদ গ্রহণ করতে হবে, যাতে সম্পদের মালিকের মনে কোনো কষ্ট না থাকে। - (۲) بين عاقبة الظالمين فى ضوء القرآن الكريم والحديث النبوى الشريف.
[(২) পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে জালিমদের পরিণাম বর্ণনা করো।]উত্তর: জালিমদের পরিণাম ভয়াবহ। কুরআনে বলা হয়েছে, “জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।” হাদিসে এসেছে, জুলুম কিয়ামতের দিন চরম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে এবং আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন, কিন্তু যখন ধরেন তখন আর ছাড়েন না। - (۳) تحدث عن أسلوب المعاملة مع أهل الكتاب.
[(৩) আহলে কিতাবদের সাথে আচরণের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করো।]উত্তর: তাদের সাথে ইনসাফপূর্ণ, সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ আচরণ করতে হবে। দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি (প্রথমে তাওহিদ, তারপর সালাত, তারপর জাকাত) এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
(ب) [খ]
عن أبى هريرة (رضـ) قال قال رسول الله (صـ) : من أصبح منكم اليوم صائمًا؟ قال أبو بكر أنا، فمن اتبع منكم اليوم جنازة؟ قال أبو بكر أنا، قال فمن أطعم منكم اليوم مسكينا؟ قال أبو بكر أنا، قال فمن عاد منكم اليوم مريضا؟ قال أبوا بكر أنا، فقال رسول الله (صـ) : ما اجتمعن فى امرء إلا دخل الجنة.
[অনুবাদ: আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ রোজাদার অবস্থায় সকাল করেছ? আবু বকর (রা) বললেন, আমি। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ জানাজায় অংশগ্রহণ করেছ? আবু বকর (রা) বললেন, আমি। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ মিসকিনকে খাবার খাইয়েছ? আবু বকর (রা) বললেন, আমি। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ কোনো রোগীকে দেখতে গিয়েছ? আবু বকর (রা) বললেন, আমি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: এই গুণগুলো কোনো ব্যক্তির মধ্যে একত্রে জমা হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।]
- (۱) اكتب نبذة من حياة أبي بكر الصديق (رضـ) .
[(১) আবু বকর সিদ্দিক (রা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।]উত্তর: আবু বকর (রা) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা এবং রাসূল (সা)-এর শ্রেষ্ঠ বন্ধু। তাঁর আসল নাম আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান। পুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলামের জন্য তিনি তাঁর সব সম্পদ বিলিয়ে দেন। ১৩ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। - (۲) أوضح قوله عليه الصلاة والسلام : “ما اجتمعن فى امرؤ إلا دخل الجنة”.
[(২) নবী (সা)-এর উক্তি “এই গুণগুলো কোনো ব্যক্তির মধ্যে একত্রে জমা হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে”-এর ব্যাখ্যা করো।]উত্তর: রোজা রাখা, জানাজায় অংশ নেওয়া, গরিবকে খাওয়ানো এবং রোগী দেখা—এই চারটি মহৎ ইবাদত যদি একই দিনে কারো দ্বারা সম্পাদিত হয়, তবে তা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং এর পুরস্কার নিশ্চিত জান্নাত। - (۳) هل تعرف عن أهل الردة فى خلافة أبى بكر (رضـ)؟ بين.
[(৩) আবু বকর (রা)-এর খিলাফতকালে মুরতাদদের (আহলুর রিদ্দাহ) সম্পর্কে তুমি কী জানো? বর্ণনা করো।]উত্তর: রাসূল (সা)-এর ওফাতের পর কিছু গোত্র ইসলাম ত্যাগ করে এবং জাকাত দিতে অস্বীকার করে। এদেরকেই আহলুর রিদ্দাহ বা মুরতাদ বলা হয়। আবু বকর (রা) অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং পুনরায় ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেন।
٤- ترجم واحدا من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة به : ١٠ = ١ × ١٠
[৪. নিচের হাদিসগুলো থেকে যেকোনো একটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
(أ) [ক]
عن جابر بن سمرة (رضـ) قال سمعت النبي (صـ) يقول : لا يزال أمر الناس ماضيا ما وليهم اثنا عشر رجلا ثم تكلم النبي (صـ) بكلمة خفيت على فسألت أبي ماذا قال رسول الله (صـ)؟ قال كلهم من قريش.
[অনুবাদ: জাবির বিন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা)-কে বলতে শুনেছি: মানুষের কার্যাবলী ততদিন পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলতে থাকবে, যতদিন বারোজন ব্যক্তি তাদের শাসন করবে। এরপর নবী (সা) এমন একটি কথা বললেন যা আমার কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা) কী বলেছেন? তিনি বললেন: তারা সবাই কুরাইশ বংশের হবে।]
- (۱) ما الفرق بين الخلافة والإمارة؟ بين مفصلا.
[(১) খিলাফত ও ইমারাতের মধ্যে পার্থক্য কী? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]উত্তর: খিলাফত: সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে খিলাফত বলে। খলিফা হলেন রাসূল (সা)-এর প্রতিনিধি। ইমারাত: নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল, প্রদেশ বা ছোট ভূখণ্ডের শাসন বা নেতৃত্বকে ইমারাত বলা হয়। আমির সাধারণত খলিফার অধীনস্থ হয়ে কাজ করেন।
(ب) [খ]
عن أبى هريرة (رضـ) قال : قال رسول الله (صـ) : الإيمان بضع وسبعون أو بضع وستون شعبة فأفضلها قول : لا إله ألا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان.
[অনুবাদ: আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: ঈমানের সত্তরের অধিক বা ষাটের অধিক শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’। আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। এবং লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।]
- (۱) اكتب عشرة شعب من الإيمان.
[(১) ঈমানের দশটি শাখা লেখো।]উত্তর: ১. তাওহিদের বিশ্বাস, ২. সালাত কায়েম করা, ৩. জাকাত প্রদান, ৪. রোজা রাখা, ৫. হজ করা, ৬. লজ্জাশীলতা বজায় রাখা, ৭. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, ৮. মাতা-পিতার সেবা করা, ৯. আমানত রক্ষা করা এবং ১০. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা।
٥- أجب عن واحد مما يلى : ١٠ = ١ × ١٠
[৫. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(أ) [ক]
اكتب ترجمة مسلم بن الحجاج القشيرى مركزا على النقاط التالية : اسمه ونسبه، رحلته فى طلب الحديث، مهنته وصفاته وثلاثة من مشائخه وتلاميذه، ثلاثة من مؤلفاته و وفاته، ثناء العلماء عليه.
[ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরির জীবনী নিচের পয়েন্টগুলোর আলোকে লেখো: তাঁর নাম ও বংশ, হাদিস অন্বেষণে তাঁর ভ্রমণ, তাঁর পেশা ও গুণাবলি, তাঁর তিনজন শিক্ষক ও তিনজন ছাত্রের নাম, তাঁর তিনটি গ্রন্থের নাম, তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।]
(ب) [খ]
ما معنى الإمارة؟ وما حكم طلب الإمارة؟ وما رأيك فى النظام الديمقراطى؟ بين مفصلا.
[ইমারাত-এর অর্থ কী? ইমারাত (নেতৃত্ব) চাওয়ার বিধান কী? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তোমার মতামত কী? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
مجموعة (ج) – حفظ الحديث (الدرجات – ١٠)
[গ্রুপ (গ) – মুখস্থ হাদিস (মান – ১০)]
٦- اكتب حديثين من حفظك غير ما ذكر فى ورقة السؤال مقتبسا من الأبواب التالية : ١٠ = ٢ × ٥
[৬. প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত হাদিস ছাড়া তোমার মুখস্থ থেকে নিচের অধ্যায়গুলো থেকে দুটি হাদিস লেখো:]
- (الف) كتاب العلم وكتاب الصلاة لصحيح البخارى.
[(ক) সহিহ বুখারির ‘কিতাবুল ইলম’ ও ‘কিতাবুস সালাত’ থেকে।]উত্তর: ইলম অধ্যায়: مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ (যার সাথে আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন)। সালাত অধ্যায়: صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي (তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখো)। - (ب) كتاب الزكاة وكتاب الصوم لصحيح مسلم.
[(খ) সহিহ মুসলিমের ‘কিতাবুজ জাকাত’ ও ‘কিতাবুস সাওম’ থেকে।]উত্তর: জাকাত অধ্যায়: مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ (সদকা করলে কোনো সম্পদ কমে না)। সাওম অধ্যায়: الصِّيَامُ جُنَّةٌ (রোজা হলো ঢালস্বরূপ)।



