مجموعة (أ)—صحيح البخاري
[ক বিভাগ: সহীহ আল-বুখারী]
(ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)
[(নিচের যে কোনো দুটি হাদিসের অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও)]
الدرجة— ٢٠×٢ = ٤٠ [মান— ২x২০ = ৪০]
١- عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا قال الإمام (غير المغضوب عليهم ولا الضالين) فقولوا: آمين. فمن وافق قوله قول الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه-
(أ) اكتب نبذة من حياة أبي هريرة رضي الله عنه-
[(ক) আবু হুরায়রা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ছিলেন ইসলামের সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী। তাঁর আসল নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। তিনি ৭ম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সর্বদা রাসুল (সা.) এর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতেন এবং সুফফায় বসবাস করতেন। তিনি ৫৩৭৪টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৫৭ হিজরীতে মদিনায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
(ب) ما معنى آمين؟ بين فضائل قول “آمين” في ضوء الحديث الشريف-
[(খ) ‘আমীন’ শব্দের অর্থ কী? হাদিস শরীফের আলোকে ‘আমীন’ বলার ফজিলত বর্ণনা কর।]
উত্তর: ‘আমীন’ শব্দের অর্থ হলো: ‘হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন’ (اللهم استجب)।
ফজিলত: হাদিস শরীফে এসেছে, যখন ইমাম ‘ওয়ালাদ্দাল্লিন’ বলেন, তখন মুক্তাদিদের ‘আমীন’ বলা উচিত। কেননা, যে ব্যক্তির ‘আমীন’ বলা ফেরেশতাদের ‘আমীন’ বলার সাথে মিলে যাবে, আল্লাহ তায়ালা তার অতীতের সব (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।
(ج) بين حكم جهر “آمين” وسره في الصلاة-
[(গ) নামাজে সশব্দে ‘আমীন’ বলার বিধান এবং এর রহস্য বর্ণনা কর।]
উত্তর: বিধান: নামাজে ‘আমীন’ সশব্দে না অনুচ্চস্বরে পড়া হবে তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ী ও আহমদ (রহ.)-এর মতে সশব্দে পড়া সুন্নত, আর ইমাম আবু হানিফা ও মালেক (রহ.)-এর মতে অনুচ্চস্বরে (সিররী) পড়া সুন্নত।
রহস্য: ‘আমীন’ মূলত একটি দোয়া। আর দোয়ার আদব হলো তা বিনীতভাবে ও চুপিচুপি করা। তাই হানাফী মাজহাবে এটি অনুচ্চস্বরে পড়ার কথা বলা হয়েছে।
٢- عن البراء رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم: صلى إلى بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهراً وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت وأنه صلى أول صلاة أو صلاها صلاة العصر وصلى معه قوم فخرج رجل ممن صلى معه فمر على أهل مسجد وهم راكعون- فقال: أشهد بالله، لقد صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل مكة- فداروا كما هم قبل البيت، وكان الذي مات على القبلة قبل أن تحول قبل البيت رجال قتلوا- لم ندر ما نقول فيهم، فأنزل الله (وما كان الله ليضيع إيمانكم، إن الله بالناس لرؤوف رحيم)-
(أ) متى و كيف وقع تحويل القبلة؟ بين مفصلا-
[(ক) কখন এবং কীভাবে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
উত্তর: কিবলা পরিবর্তন মদিনায় হিজরতের ১৬ বা ১৭ মাস পর (২য় হিজরীর শাবান মাসে) সংঘটিত হয়। নবী করিম (সা.) মদিনায় ‘মসজিদে বনু সালামায়’ যোহরের (মতান্তরে আসরের) নামাজ আদায় করছিলেন। দুই রাকাত পড়ার পর ওহী নাজিল হয় এবং তিনি নামাজের অবস্থাতেই বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে ঘুরে মক্কার কাবা শরীফের দিকে মুখ করেন। মুসুল্লিরাও তাঁর সাথে ঘুরে যান। এই মসজিদটি পরে ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ নামে পরিচিত হয়।
(ب) اذكر حكم تحويل القبلة من بيت المقدس إلى الكعبة مدللا-
[(খ) প্রমাণসহ বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের বিধান উল্লেখ কর।]
উত্তর: কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন করা ফরজ বিধান। এর মাধ্যমে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ পড়ার বিধান চিরতরে রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়। এর প্রমাণ হলো কুরআনের আয়াত: “সুতরাং আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরান, এবং তোমরা যেখানেই থাকো, সেদিকেই মুখ ফেরাও।” (সূরা বাকারা: ১৪৪)।
(ج) اشرح قوله تعالى (وما كان الله ليضيع إيمانكم)-
[(গ) আল্লাহর বাণী “وما كان الله ليضيع إيمانكم” এর ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর: এর অর্থ: “আর আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমানকে (নামাজকে) বৃথা যেতে দেবেন।”
ব্যাখ্যা: কিবলা পরিবর্তনের পর কিছু সাহাবী চিন্তিত হলেন যে, যারা ইতোমধ্যে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ পড়ে ইন্তেকাল করেছেন, তাদের ঐ নামাজের কী হবে? এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করে সুসংবাদ দেন যে, পূর্বের কিবলায় পড়া নামাজগুলোও কবুল হয়েছে এবং আল্লাহ কারও সৎকর্ম বিনষ্ট করেন না। এখানে ‘ঈমান’ শব্দ দ্বারা ‘নামাজ’ বোঝানো হয়েছে।
٣- عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان يوم عاشوراء تصومه قريش في الجاهلية- وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصومه- فلما قدم المدينة صامه وأمر بصيامه- فلما نزل رمضان كان رمضان الفريضة وترك عاشوراء- فكان من شاء صامه ومن شاء لم يصمه-
(أ) عرف الصوم ثم بين أقسامه ممثلا-
[(ক) সাওম বা রোজার পরিচয় দাও, অতঃপর উদাহরণসহ এর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।]
উত্তর: সাওমের আভিধানিক অর্থ: বিরত থাকা। শরীয়তের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও স্ত্রীসঙ্গম থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলে।
প্রকারভেদ: ১. ফরজ রোজা (যেমন: রমজানের রোজা)। ২. ওয়াজিব রোজা (যেমন: মানতের রোজা)। ৩. সুন্নাত রোজা (যেমন: আশুরার রোজা)। ৪. মুস্তাহাব/নফল রোজা (যেমন: প্রতি মাসের আইয়ামে বীজের রোজা)। ৫. মাকরুহ রোজা (যেমন: শুধুমাত্র শুক্রবার নির্দিষ্ট করে রোজা রাখা)। ৬. হারাম রোজা (ঈদের দিনগুলোতে রোজা রাখা)।
(ب) بين فضائل وأحكام صيام يوم عاشوراء مدللا-
[(খ) প্রমাণসহ আশুরার রোজার ফজিলত ও বিধান বর্ণনা কর।]
উত্তর: ফজিলত: রাসূল (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আশুরার (মহররমের ১০ তারিখ) রোজার কারণে তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সহীহ মুসলিম)।
বিধান: রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। কিন্তু রমজানের বিধান আসার পর এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা মুস্তাহাব হয়ে যায়। ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়ানোর জন্য ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।
(ج) اكتب نبذة من حياة السيدة عائشة رضي الله عنها-
[(গ) সৈয়দা আয়েশা (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হলেন ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ও ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী। মহিলাদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক ২২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৫৮ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
٤- عن أنس رضي الله عنه قال: كسرت الربيع وهي عمة أنس بن مالك ثنية جارية من الأنصار- فطلب القوم القصاص- فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم، فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالقصاص، فقال أنس بن النضر عم أنس بن مالك: لا والله، لا تكسر سنها يا رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا أنس كتاب الله القصاص- فرضي القوم وقبلوا الأرش، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبره-
(أ) عرف القصاص ثم بين أحكامه مدللا مفصلا-
[(ক) কিসাসের পরিচয় দাও, অতঃপর প্রমাণসহ এর বিধান বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
উত্তর: কিসাসের আভিধানিক অর্থ সমপরিমাণ শাস্তি দেওয়া বা অনুসরণ করা। পরিভাষায়: কেউ অন্যায়ভাবে কারও জান বা অঙ্গের ক্ষতি করলে, ইসলামী আদালতের মাধ্যমে অপরাধীকে ঠিক সমপরিমাণ বা অনুরূপ শাস্তি প্রদান করাকে কিসাস বলে।
বিধান: কিসাস বাস্তবায়ন করা ইসলামী রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! নিহতের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস ফরজ করা হয়েছে।” (সূরা বাকারা: ১৭৮)। তবে নিহতের পরিবার চাইলে কিসাস মাফ করে রক্তপণ (দিয়াত/জরিমানা) গ্রহণ করতে পারে।
(ب) اكتب نبذة من حياة الصحابي أنس بن مالك رضي الله عنه-
[(খ) সাহাবী আনাস ইবনে মালেক (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) ছিলেন নবীজির (সা.) একজন বিখ্যাত সাহাবী ও খাদেম (সেবক)। তিনি দশ বছর বয়স থেকে শুরু করে রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সেবা করেন। তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের একজন; তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২২৮৬টি। তিনি বসরায় বসবাস করতেন এবং ৯৩ হিজরীতে (১০০ বছরের অধিক বয়সে) ইন্তেকাল করেন।
(ج) اشرح قوله عليه السلام: إن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبره-
[(গ) রাসুল (সা.) এর বাণী “إن من عباد الله لو أقسم على الله لأبره” এর ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর: অর্থ: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু প্রিয় বান্দা আছেন, যারা যদি আল্লাহর নামে কোনো কসম খেয়ে বসে, তবে আল্লাহ তাদের সেই কসম পূর্ণ করে দেন।”
ব্যাখ্যা: আনাস ইবনে নযর (রা.) যখন কসম খেয়ে বলেছিলেন যে তাঁর বোনের দাঁত ভাঙা হবে না, তখন আশ্চর্যজনকভাবে বিরোধী পক্ষ কিসাস মাফ করে জরিমানা নিতে রাজি হয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে নবীজি (সা.) এই কথাটি বলেন, যা মূলত আনাস ইবনে নযর (রা.)-এর মতো মুখলিস ও আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
أجب عن واحد مما يلي
[(নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:)]
الدرجة— ١٠×١ = ١٠ [মান— ১x১০ = ১০]
٥- اكتب نبذة من حياة الإمام البخاري (رح) مع ذكر خدماته في علوم الحديث-
[(৫) হাদিস শাস্ত্রে অবদান উল্লেখপূর্বক ইমাম বুখারী (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: ইমাম বুখারী (রহ.)-এর আসল নাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল। তিনি ১৯৪ হিজরীতে উজবেকিস্তানের বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন, কিন্তু মায়ের দোয়ায় তা ফিরে পান।
হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে, ৬ লক্ষ হাদিস যাচাই-বাছাই করে তাঁর অমর কীর্তি ‘আল-জামে আস-সহীহ’ (সহীহ বুখারী) সংকলন করেন। ২৫৬ হিজরীতে সমরকন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন।
٦- تحدث عن خصائص صحيح البخاري مع ذكر منزلته بين كتب الحديث-
[(৬) হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা উল্লেখপূর্বক সহীহ বুখারীর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
উত্তর: সহীহ বুখারীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কঠোর শর্তাবলি। ইমাম বুখারী কেবল সেই হাদিসই গ্রহণ করেছেন যার রাবীদের (বর্ণনাকারী) সততা, স্মৃতিশক্তি এবং সমসাময়িক রাবীদের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া তাঁর ‘তারজমাতুল বাব’ বা অধ্যায়ের শিরোনামগুলোর মাঝেই তাঁর গভীর ফিকহী জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটেছে।
মর্যাদা: ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে “কুরআন মাজিদের পর পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো সহীহ বুখারী” (أصح الكتب بعد كتاب الله صحيح البخاري)।
مجموعة (ج)—جامع الترمذي
[গ বিভাগ: জামে আত-তিরমিযী]
(ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما)
[(নিচের যে কোনো দুটি হাদিসের অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও)]
الدرجة— ٢٠×٢ = ٤٠ [মান— ২x২০ = ৪০]
٧- عن ابن عباس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اتقوا الحديث عني إلا ما علمتم- فمن كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار- ومن قال في القرآن برأيه فليتبوأ مقعده من النار-
(أ) بين حكم رواية الحديث الموضوع مدللا ومفصلا-
[(ক) প্রমাণসহ জাল হাদিস বর্ণনার বিধান বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
উত্তর: জাল বা বানোয়াট হাদিস (মাওজু) বর্ণনা করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম এবং কবিরা গুনাহ। কেউ যদি জেনে-শুনে কোনো জাল হাদিসকে রাসুলের (সা.) কথা বলে চালিয়ে দেয়, তবে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। প্রমাণস্বরূপ আলোচ্য হাদিসটিই যথেষ্ট, যেখানে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” শুধু মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই জাল হাদিস বর্ণনা করা জায়েজ।
(ب) بين حكم التفسير بالرأي في ضوء الحديث الشريف-
[(খ) হাদিস শরীফের আলোকে স্বীয় মতামতের ভিত্তিতে তাফসীর (তাফসীর বির-রায়) করার বিধান বর্ণনা কর।]
উত্তর: কুরআনের মনগড়া তাফসীর করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আলোচ্য হাদিসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি নিজের মনগড়া মতের ভিত্তিতে কুরআনের তাফসীর করবে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” তবে যদি কোনো আলেম আরবি ভাষা, উসূলুল ফিকহ, শানে নুযূল এবং সুন্নাহর গভীর জ্ঞানের আলোকে শরীয়তসম্মত যুক্তির মাধ্যমে তাফসীর করেন (তাফসীর বির-রায় আল-মাহমুদ), তবে তা জায়েজ।
(ج) اكتب نبذة من حياة الصحابي عبد الله بن عباس رضي الله عنه-
[(গ) সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ছিলেন রাসূল (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং উম্মতের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির। নবীজি তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন, “হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা এবং কুরআনের তাফসীর শিক্ষা দিন।” এই দোয়ার বরকতে তিনি ‘রইসুল মুফাসসিরীন’ বা তাফসীরকারকদের সর্দার এবং ‘হিবরুল উম্মাহ’ (উম্মতের সাগর) উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ৬৮ হিজরীতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন।
٨- عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صلى صلاة لم يقرأ فيها بأم القرآن فهي خداج فهي خداج غير تمام- قلت يا أبا هريرة، إني أحيانا أكون وراء الإمام، قال: يا ابن الفارسي، فاقرأها في نفسك، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: قال الله تعالى: قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين- فنصفها لي ونصفها لعبدي، ولعبدي ما سأل، يقوم العبد فيقول (الحمد لله رب العالمين) فيقول الله: حمدني عبدي، فيقول (الرحمن الرحيم) فيقول الله: أثنى علي عبدي، فيقول (مالك يوم الدين) فيقول: مجدني عبدي، وهذا لي، وبيني وبين عبدي (إياك نعبد وإياك نستعين) وآخر السورة لعبدي ولعبدي ما سأل- يقول (اهدنا الصراط المستقيم- صراط الذين أنعمت عليهم- غير المغضوب عليهم ولا الضالين)-
(أ) بين أقوال العلماء في حكم قراءة الفاتحة خلف الإمام مدللا-
[(ক) প্রমাণসহ ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়ার বিধান সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের অভিমত বর্ণনা কর।]
উত্তর: ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়া নিয়ে আলেমদের মাঝে তিনটি মত রয়েছে:
১. হানাফী মাজহাব: ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা বা কোনো কেরাত পড়া যাবে না (সিররী বা জাহরী কোনো নামাজেই নয়)। প্রমাণ: “যখন কুরআন পড়া হয়, তখন চুপ করে শোনো।”
২. শাফেয়ী মাজহাব: ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়া মুক্তাদির ওপর ফরজ।
৩. মালেকী ও হাম্বলী মাজহাব: ইমাম যখন সশব্দে কেরাত পড়েন (জাহরী), তখন মুক্তাদি চুপ থাকবে, আর যখন নীরবে পড়েন (সিররী), তখন মুক্তাদি সূরা ফাতিহা পড়বে।
(ب) اكتب فضائل سورة الفاتحة وأهميتها-
[(খ) সূরা ফাতিহার ফজিলত ও গুরুত্ব লেখ।]
উত্তর: সূরা ফাতিহা কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা। এটি সমগ্র কুরআনের সারমর্ম। এর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে যে, বান্দা যখন এই সূরা তিলাওয়াত করে, আল্লাহ তায়ালা সরাসরি প্রতিটি আয়াতের জবাব দেন। এই সূরা পাঠ ছাড়া কোনো নামাজ শুদ্ধ হয় না। এটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক রোগের মহৌষধ (আশ-শিফা)।
(ج) كم اسما لسورة الفاتحة؟ ولم سميت بالصلاة؟ بين-
[(গ) সূরা ফাতিহার কতটি নাম রয়েছে? একে সালাত নামকরণ করার কারণ কী? বর্ণনা কর।]
উত্তর: মুফাসসিরদের মতে সূরা ফাতিহার প্রায় ২০টিরও বেশি নাম রয়েছে (যেমন: উম্মুল কুরআন, ফাতিহাতুল কিতাব, আশ-শিফা, আস-সাবয়ুল মাসানী ইত্যাদি)।
একে ‘সালাত’ (নামাজ) নামকরণের কারণ: এই সূরাটি নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য রুকন এবং এটি ছাড়া নামাজ অসম্পূর্ণ (খিদাজ) থেকে যায়। তাছাড়া হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ স্বয়ং একে সালাত বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন: “আমি সালাতকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে ভাগ করেছি।”
٩- عن عبد الرحمن بن أبي بكرة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألا أحدثكم بأكبر الكبائر؟ قالوا: بلى يا رسول الله! قال: الإشراك بالله، وعقوق الوالدين قال وجلس وكان متكئا- قال وشهادة الزور، أو قول الزور- قال: فما زال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولها، حتى قلنا ليته سكت، هذا حديث حسن غريب صحيح-
(أ) عرف الكبائر ثم اذكر عددها ممثلا-
[(ক) কাবীরা গুনাহের পরিচয় দাও এবং উদাহরণসহ এর সংখ্যা উল্লেখ কর।]
উত্তর: কাবীরা গুনাহ বা মহাপাপ হলো সেসব গুনাহ, যার ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে জাহান্নামের কঠোর শাস্তি, আল্লাহর লানত বা ক্রোধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে এবং যার জন্য দুনিয়াতে নির্দিষ্ট শাস্তির (হদ) বিধান রয়েছে।
সংখ্যা ও উদাহরণ: এর নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন ৭টি, কেউ ৭০টি। উদাহরণ: আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মানুষ হত্যা করা ইত্যাদি।
(ب) عرف الشرك ثم بين أقسامه وعاقبته مدللا-
[(খ) প্রমাণসহ শিরকের পরিচয়, প্রকারভেদ ও এর পরিণতি বর্ণনা কর।]
উত্তর: শিরক অর্থ অংশীদার স্থাপন করা। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা ইবাদতে অন্য কাউকে সমকক্ষ মনে করাই শিরক। এটি ২ প্রকার: ১. শিরকে আকবর (বড় শিরক): মূর্তিপূজা বা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করা। ২. শিরকে আসগর (ছোট শিরক): লোকদেখানো ইবাদত (রিয়া) করা।
পরিণতি: শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কুরআন বলছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।” (সূরা নিসা: ৪৮)। শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম।
(ج) أوضح قول الإمام الترمذي: حديث حسن غريب صحيح-
[(গ) ইমাম তিরমিযীর উক্তি “حديث حسن غريب صحيح” (হাদিসটি হাসান গরীব সহীহ) এর ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর: এটি ইমাম তিরমিযীর একটি বিশেষ পরিভাষা। এর ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ বলেন: হাদিসটি যদি একাধিক সনদে বর্ণিত হয়, তবে একটি সনদের বিচারে এটি ‘সহীহ’ এবং অন্য সনদের বিচারে এটি ‘হাসান’। আর যদি একটি মাত্র সনদে বর্ণিত হয়, তবে এর অর্থ হলো এটি সহীহ, তবে এর সনদের কোনো এক স্তরে বর্ণনাকারী মাত্র একজন ছিলেন, যে কারণে এটি ‘গরীব’ (একক) হিসেবেও আখ্যায়িত হয়েছে।
١٠- عن عائشة رضي الله عنها قالت سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية (هو الذي أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات) إلى آخر الآية- فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم، هذا حديث حسن صحيح-
(أ) عرف المحكم والمتشابه ثم بين حكمهما-
[(ক) মুহকাম ও মুতাশাবিহ এর পরিচয় দাও এবং এর বিধান বর্ণনা কর।]
উত্তর: মুহকাম: কুরআনের যেসব আয়াতের অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট, যাতে কোনো সন্দেহ বা অস্পষ্টতা নেই, তাকে মুহকাম আয়াত বলে (যেমন: হালাল-হারাম, ফরায়েজ ও আহকামের আয়াত)।
মুতাশাবিহ: যেসব আয়াতের অর্থ অস্পষ্ট এবং একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে, অথবা যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন, তাকে মুতাশাবিহ বলে (যেমন: হুরুফে মুকাত্তাআত, আল্লাহর হাত, আরশ ইত্যাদি)।
বিধান: মুহকাম আয়াতের ওপর ঈমান আনা ও আমল করা ফরজ। আর মুতাশাবিহ আয়াতের ওপর ঈমান আনতে হবে, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত অর্থ খোঁজার পেছনে পড়া যাবে না।
(ب) هل يعلم أحد معنى الآيات المتشابهات؟ بين أقوال العلماء فيه-
[(খ) মুতাশাবিহাত আয়াতগুলোর অর্থ কি কেউ জানে? এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের অভিমত বর্ণনা কর।]
উত্তর: মুতাশাবিহাতের অর্থ কেউ জানে কি না—এ নিয়ে ওলামাদের দুটি মত রয়েছে (আয়াতের ওয়াকফ বা থামার জায়গার ওপর ভিত্তি করে):
১. অধিকাংশ সাহাবী ও সালাফদের মতে: মুতাশাবিহাতের প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। (তারা ‘ইল্লাল্লাহ’-তে ওয়াকফ করেন)।
২. মুজাহিদ ও কিছু আলেমদের মতে: ইলমে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী (রাসিখুনা ফিল ইলম) আলেমরাও আল্লাহর অনুগ্রহে এর অর্থ জানতে পারেন।
(ج) اشرح قوله عليه السلام: “فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم”-
[(গ) রাসুল (সা.) এর বাণী “فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم” এর ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর: নবীজি (সা.) উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন, “যখন তোমরা দেখবে যে একদল মানুষ কুরআনের মুহকাম (স্পষ্ট) আয়াতগুলো বাদ দিয়ে শুধু মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াতগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে ও কূটতর্কে লিপ্ত হচ্ছে, তখন বুঝে নেবে যে আল্লাহ কুরআনে এদের কথাই বলেছেন (যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে)। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধানে থেকো।” এর মাধ্যমে ফিতনাবাজ সম্প্রদায় (যেমন- খারেজী, মুতাযিলা) থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(أجب عن واحد من الأسئلة التالية:)
[(নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:)]
الدرجة— ١٠×١ = ١٠ [মান— ১x১০ = ১০]
١١- اكتب نبذة من حياة الإمام أبي عيسى الترمذي مع ذكر مساهمته في علم الحديث-
[(১১) ইলমে হাদিসে অবদান উল্লেখপূর্বক ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: ইমাম তিরমিযী (রহ.)-এর আসল নাম মুহাম্মদ ইবনে ঈসা। তিনি ২০৯ হিজরীতে উজবেকিস্তানের তিরমিয নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম বুখারী (রহ.)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। জীবনের শেষভাগে অতিরিক্ত কান্নার কারণে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
অবদান: ইলমে হাদিসে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো ‘জামে আত-তিরমিযী’ বা সুনানুত তিরমিযী প্রণয়ন করা, যা সিহাহ সিত্তার অন্যতম একটি গ্রন্থ। এছাড়াও তিনি ‘শামায়িলে তিরমিযী’ ও ‘ইলাল’ নামক অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। ২৭৯ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
١٢- تحدث عن مزايا الجامع للإمام الترمذي ومنزلته بين كتب الحديث-
[(১২) হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা এবং ইমাম তিরমিযী (রহ.) এর জামে গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
উত্তর: জামে তিরমিযীর বৈশিষ্ট্য: ১. এটি একই সাথে ফিকহ এবং হাদিসের এক অনন্য সমন্বয়। ২. তিনি প্রতিটি হাদিস উল্লেখ করার পর ফকীহ সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাজহাব/অভিমত উল্লেখ করেছেন। ৩. হাদিসের মান বা গ্রেড (সহীহ, হাসান, জয়ীফ) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
মর্যাদা: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.)-এর মতে সিহাহ সিত্তার মধ্যে বিন্যাস ও উপযোগিতার দিক দিয়ে তিরমিযী শরীফ সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ। এটি এমন এক কিতাব, যা ঘরে থাকলে মনে হয় যেন ঘরে স্বয়ং নবীজি (সা.) কথা বলছেন।