কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২4: দিরাসাতুল হাদীস-১ (৫০২১০১) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2024 Dirasatul Hadith-1 (502101) QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২4: দিরাসাতুল হাদীস-১ (৫০২১০১) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2024 Dirasatul Hadith-1 (502101) QnA
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٤

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]

الحديث والدراسات الإسلامية

[আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة الحديث -١

[দিরাসাতুল হাদীস-১]

বিষয় কোড: ৫ ০ ২ ১ ০ ১ | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০


مجموعة (أ) – صحيح البخاري

[ক-বিভাগ: সহীহ আল-বুখারী – মান: ৫০]

ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما:
(নিচের হাদিসগুলো থেকে দুটির অনুবাদ কর এবং সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: ৪০ = ২০ × ২)
(أ) عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال النبي ﷺ لأبي ذر حين غربت الشمس، أتدري أين تذهب؟ قلت الله ورسوله أعلم. قال: فإنها تذهب حتى تسجد تحت العرش، فتستأذن فيؤذن لها ويوشك أن تسجد فلا يقبل منها، وتستأذن فلا يؤذن لها، يقال لها: ارجعي من حيث جئت فتطلع من مغربها فذلك قوله تعالى “والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم”.
(অনুবাদ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় নবী (সা.) আবু যারকে বললেন, তুমি কি জানো সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, এটি যায় এবং আরশের নিচে সিজদাহ করে। অতঃপর সে (পুনরায় উদিত হওয়ার) অনুমতি চায়, তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। আর এমন এক সময় আসবে যখন সে সিজদাহ করবে কিন্তু তা কবুল করা হবে না, সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে: যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। আল্লাহর বাণী “আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ছুটে চলে; এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নির্ধারণ”—এ কথার এটাই তাৎপর্য।)
١. ما معنى السجود؟ كيف تسجد الشمس تحت العرش؟ بين.
(১. সিজদাহ এর অর্থ কী? সূর্য কীভাবে আরশের নিচে সিজদাহ করে? বর্ণনা কর।)
উত্তর: ‘সিজদাহ’ (السجود) এর আভিধানিক অর্থ হলো অবনত হওয়া, বিনয়ী হওয়া বা আত্মসমর্পণ করা। শরীয়তের পরিভাষায়, কপাল মাটিতে রেখে আল্লাহর প্রতি সর্বোচ্চ বিনয় প্রকাশ করাকে সিজদাহ বলে।
সূর্যের সিজদাহর ধরন: আলেমগণের মতে, মহাবিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টিই আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে এবং সিজদাহ করে, কিন্তু তাদের পদ্ধতি আমাদের বোধগম্য নয়। সূর্যের আরশের নিচে সিজদাহ করার বিষয়টি একটি গায়েবী বিষয়। এটি মানুষের সিজদাহর মতো নয়, বরং তার নিজস্ব একটি পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে সে আল্লাহর নিরঙ্কুশ আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করে।
٢. تحدث عن أحوال الناس يوم تطلع الشمس من مغربها.
(২. সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার দিন মানুষের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।)
উত্তর: পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন। যেদিন এই ঘটনা ঘটবে, সেদিন পৃথিবীতে এক মহাবিপর্যয় ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সমস্ত মানুষ এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে এবং সবাই একসাথে ঈমান আনবে। কিন্তু কুরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিদর্শন প্রকাশের পর আর কারো তাওবা বা নতুন করে আনা ঈমান কবুল করা হবে না। মানুষের আমলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
٣. ما المراد بالمستقر في قوله تعالى “والشمس تجري لمستقر لها”؟
(৩. আল্লাহর বাণী “সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ছুটে চলে”—এখানে ‘মুস্তাকার’ বা নির্দিষ্ট গন্তব্য দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?)
উত্তর: ‘মুস্তাকার’ (مستقر) দ্বারা মুফাসসিরগণ দুটি অর্থ করেছেন:
১. স্থানগত (মাকানি): এর দ্বারা আরশের নিচে সেই নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে সূর্য প্রতিদিন অস্ত যাওয়ার পর সিজদাহ করে।
২. কালগত (যামানি): এর দ্বারা কিয়ামতের দিনকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, সূর্য তার এই চলা অব্যাহত রাখবে যতদিন না কিয়ামত সংঘটিত হয়।

(ب) عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن عثمان رضي الله عنه دعا زيد بن ثابت وعبد الله بن الزبير وسعيد بن العاص وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام فنسخوها في المصاحف وقال عثمان بن عفان رضي الله عنه للرهط القرشيين الثلاثة. إذا اختلفتم أنتم وزيد بن ثابت في شيئ من القران فاكتبوه بلسان قريش فإنما نزل بلسانهم ففعلوا ذلك.
(অনুবাদ: আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, উসমান (রা.) যায়িদ বিন সাবিত, আবদুল্লাহ বিন যুবাইর, সাঈদ বিন আল-আস এবং আবদুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশামকে ডাকলেন এবং তাঁরা কুরআনের পাণ্ডুলিপিগুলো অনুলিপি করলেন। উসমান (রা.) তিনজন কুরাইশি ব্যক্তিকে বললেন, ‘যদি তোমাদের এবং যায়িদ বিন সাবিতের মধ্যে কুরআনের কোনো শব্দ নিয়ে মতবিরোধ হয়, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লিখবে। কারণ কুরআন তাদের ভাষায়ই অবতীর্ণ হয়েছে।’ তাঁরা তা-ই করলেন।)
(١) اكتب نبذة من حياة أنس بن مالك رضي الله عنه.
(১. আনাস বিন মালিক (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।)
উত্তর: আনাস ইবনে মালিক (রা.) ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী এবং রাসূল (সা.)-এর বিশেষ খাদেম। তাঁর ডাকনাম আবু হামযা। হিজরতের পর তাঁর মা উম্মে সুলাইম তাঁকে রাসূল (সা.)-এর খেদমতে সোপর্দ করেন। তিনি টানা ১০ বছর নবীজির খেদমত করেন। রাসূল (সা.) তাঁর দীর্ঘায়ু, সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছিলেন। তিনি অন্যতম সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী (২২৮৬টি হাদিস)। তিনি ৯৩ হিজরীতে (মতান্তরে ৭১ বা ৯১ হিজরীতে) বসরায় ইন্তেকাল করেন। তিনিই বসরায় মৃত্যুবরণকারী শেষ সাহাবী।
(٢) تحدث عن مناقب قريش في ضوء الأحاديث النبوية.
(২. নবীজির হাদিসের আলোকে কুরাইশদের মর্যাদা আলোচনা কর।)
উত্তর: হাদিসের আলোকে কুরাইশ বংশের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “মানুষ এই (খিলাফতের) ব্যাপারে কুরাইশদের অনুগামী।” আল্লাহ তাআলা ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে কিনানাকে, কিনানা থেকে কুরাইশকে, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে এবং বনু হাশিম থেকে স্বয়ং রাসূল (সা.)-কে মনোনীত করেছেন। এই বংশের ভাষাতেই পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইসলামের সেবায় তাদের আত্মত্যাগের কারণে ইসলামি শরীয়তে তাদের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
(٣) ما المراد بالرهط القرشيين الثلاثة؟ بين.
(৩. তিনজন কুরাইশি ব্যক্তি দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা কর।)
উত্তর: হাদিসে উল্লেখিত “তিনজন কুরাইশি ব্যক্তি” (الرهط القرشيين الثلاثة) হলেন:
১. আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা.)
২. সাঈদ ইবনুল আস (রা.)
৩. আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম (রা.)
উসমান (রা.) কুরআন সংকলন কমিটিতে যায়িদ বিন সাবিত (যিনি আনসারী ছিলেন)-এর সাথে এই তিনজন কুরাইশি সাহাবীকে নিযুক্ত করেছিলেন।

مجموعة (ب) – صحيح لمسلم

[খ-বিভাগ: সহীহ মুসলিম – মান: ৪০]

٢. ترجم واحدا من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة به:
(২. নিচের হাদিসগুলো থেকে একটির অনুবাদ কর এবং সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: ২০ = ১ × ২০)
(أ) عن يحيى بن يعمر قال كان أول من قال في القدر بالبصرة معبد الجهني فانطلقت أنا وحميد بن عبد الرحمن الحميري حاجين أو معتمرين فقلنا لو لقينا أحدا من أصحاب رسول الله ﷺ فسألناه عما يقول هؤلاء في القدر فوفق لنا عبد الله بن عمر رضي الله عنه داخلا المسجد فاكتنفته أنا وصاحبي أحدنا عن يمينه والآخر عن شماله فظننت أن صاحبي سيكل الكلام إلي فقلت يا أبا عبد الرحمن إنه قد ظهر قبلنا ناس يقرءون القرآن ويتقفرون العلم وذكر من شأنهم وإنهم يزعمون أن لا قدر وإن الأمر أنف قال إذا لقيت أولئك فأخبرهم أني برئ منهم وأنهم برآء مني والذي يحلف به عبد الله بن عمر لو أن لأحدهم مثل أحد ذهبا فأنفقه ما قبل الله منه حتى يؤمن بالقدر.
(অনুবাদ: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়া’মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বসরায় সর্বপ্রথম তাকদীর অস্বীকার করে কথা বলে মা’বাদ আল-জুহানী। আমি এবং হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হিমইয়ারী হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমরা বললাম, যদি রাসূল (সা.)-এর কোনো সাহাবীর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়, তবে তাকদীরের বিষয়ে এরা যা বলে সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করব। সৌভাগ্যক্রমে মসজিদে প্রবেশরত অবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর সাথে আমাদের দেখা হয়ে গেল। আমি এবং আমার সঙ্গী তাঁকে এমনভাবে ঘিরে ধরলাম যে, একজন তাঁর ডান পাশে এবং অন্যজন বাম পাশে রইলাম। আমি বুঝতে পারলাম, আমার সঙ্গী কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দেবেন। তাই আমি বললাম, ‘হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা কুরআন পড়ে এবং জ্ঞানের অনুসন্ধান করে।’ এরপর তাদের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বললাম, ‘তারা দাবি করে যে তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং সবকিছু হঠাৎ করেই ঘটে।’ তিনি বললেন, ‘যখন তোমার তাদের সাথে দেখা হবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনে উমর যার নামে শপথ করে সেই আল্লাহর কসম! যদি তাদের কারো উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও থাকে এবং সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তবুও আল্লাহ তা গ্রহণ করবেন না, যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে।’)
(١) ما معنى القدر؟ بين أقوال العلماء في مسئلة القدر بالدليل.
(১. তাকদীর এর অর্থ কী? তাকদীর মাসআলায় আলেমদের অভিমত প্রমাণসহ বর্ণনা কর।)
উত্তর: ‘তাকদীর’ (القدر) এর আভিধানিক অর্থ নির্ধারণ করা, পরিমাপ করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির পূর্বেই তাঁর অসীম জ্ঞান ও হিকমত অনুযায়ী জগতের সবকিছু যেভাবে নির্ধারণ করে রেখেছেন, তাকে তাকদীর বলে।
আলেমদের অভিমত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো, জগতের ভালো-মন্দ সবকিছুই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী সংঘটিত হয়। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে” (সূরা কামার: ৪৯)। মানুষ তার কর্ম সম্পাদনে ইচ্ছাশক্তির অধিকারী, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। মুতাজিলা ও কাদারিয়ারা তাকদীর অস্বীকার করে বলে যে মানুষ তার নিজের কর্মের স্রষ্টা, যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।
(٢) القدرية من هم؟ ولم سميت القدرية بهذا الاسم؟
(২. কাদারিয়া কারা? তাদের এই নামকরণ কেন করা হয়েছে?)
উত্তর: ‘কাদারিয়া’ হলো ইসলামের একটি ভ্রান্ত সম্প্রদায়, যারা তাকদীর বা আল্লাহর পূর্বনির্ধারণকে অস্বীকার করে।
নামকরণের কারণ: তারা দাবি করে যে, মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী এবং মানুষ নিজেই তার কাজের স্রষ্টা, এর সাথে আল্লাহর তাকদীরের কোনো সম্পর্ক নেই। যেহেতু তারা ‘কাদর’ (তাকদীর) নিয়ে বাড়াবাড়ি করে এবং এর মূল বিশ্বাসকে অস্বীকার করে, তাই তাদেরকে ‘কাদারিয়া’ বলা হয়।
(٣) ما معنى قوله “فظننت أن صاحبي سيكل الكلام إلى”؟
(৩. “আমি বুঝতে পারলাম আমার সঙ্গী কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দেবেন” – এর অর্থ কী?)
উত্তর: এই উক্তিটি তাবেয়ী ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামারের। তিনি যখন তাঁর সঙ্গী হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হিমইয়ারীর সাথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর সাক্ষাৎ পেলেন, তখন তিনি অনুভব করলেন যে তাঁর সঙ্গী নিজে কথা না বলে বিনয়বশত অথবা তাঁকে বেশি যোগ্য মনে করে মূল প্রশ্নটি (কাদারিয়াদের ফিতনা সম্পর্কে) আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব তাঁর (ইয়াহইয়ার) ওপরই ছেড়ে দেবেন।

(ب) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال إن أعرابيا جاء إلى رسول الله ﷺ فقال يا رسول الله! دلني على عمل إذا عملته دخلت الجنة. قال: تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة المكتوبة وتؤدي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان. قال والذي نفسي بيده لا أزيد على هذا شيئا أبدا ولا أنقص منه. فلما ولى قال النبي ﷺ من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا.
(অনুবাদ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বেদুঈন রাসূল (সা.)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।’ তিনি বললেন, ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না, ফরজ নামাজ কায়েম করবে, ফরজ যাকাত আদায় করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে।’ লোকটি বলল, ‘সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি এর চেয়ে বেশিও করব না এবং কমও করব না।’ সে যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন নবী (সা.) বললেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতি লোক দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন একে দেখে নেয়।’)
(١) ما المراد بقوله “لا أزيد على هذا ولا أنقص منه”؟
(১. “আমি এর উপর বেশিও করব না, কমও করব না” – এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?)
উত্তর: বেদুঈন সাহাবী রাসূল (সা.)-এর কাছ থেকে ইসলামের মৌলিক ফরজ ইবাদতগুলো (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, যাকাত, রমজানের রোজা) সম্পর্কে জেনে এই কথাটি বলেছিলেন। এর অর্থ হলো, তিনি নফল বা অতিরিক্ত ইবাদত করবেন না, তবে যে ফরজগুলো তাঁর ওপর নির্ধারিত হয়েছে তা থেকে বিন্দুমাত্র কমও করবেন না, পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করবেন। নবীজি (সা.) এর প্রেক্ষিতেই তাঁকে জান্নাতি বলে সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
(٢) الأعرابي من هو؟ وما كان اسمه؟
(২. এই বেদুঈন কে ছিলেন? তাঁর নাম কী ছিল?)
উত্তর: এই বেদুঈন (الأعرابي) ছিলেন নজদ এলাকা থেকে আগত একজন গ্রাম্য ব্যক্তি। ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিসগণের মতে, এই সাহাবীর নাম ছিল দ্বিমাম ইবনে সা’লাবা (ضِمَام بْن ثَعْلَبَة) (রা.)।
(٣) اكتب نبذة من حياة أبي هريرة رضي الله عنه.
(৩. আবু হুরাইরা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।)
উত্তর: আবু হুরাইরা (রা.) ইসলামি ইতিহাসের সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী। তাঁর আসল নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। তিনি ৭ম হিজরীতে খাইবার যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সার্বক্ষণিক ছায়ার মতো রাসূল (সা.)-এর সাথে থাকতেন এবং আসহাবে সুফফার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৫৩৭৪টি। তিনি মদিনার গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৫৯ বা ৫৭ হিজরীতে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

٣. ترجم واحدا من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة به:
(৩. নিচের হাদিসগুলো থেকে একটির অনুবাদ কর এবং সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: ১০ = ১ × ১০)
(أ) عن عدي بن عميرة الكندي قال سمعت رسول الله ﷺ يقول من استعملناه منكم على عمل فكتمنا مخيطا فما فوقه كان غلولا يأتي به يوم القيامة…
(١) بين حكم طاعة الولاة والأمراء في الإسلام.
(১. ইসলামে শাসক ও নেতাদের আনুগত্যের বিধান বর্ণনা কর।)
উত্তর: ইসলামে উলিল আমর বা শাসক ও নেতাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যকার উলিল আমরের” (সূরা নিসা: ৫৯)। তবে এই আনুগত্য শর্তযুক্ত। রাসূল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো আনুগত্য নেই; আনুগত্য কেবল সৎকাজে।” অর্থাৎ, শাসক যতক্ষণ কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী নির্দেশ না দেবে, ততক্ষণ তার নির্দেশ মান্য করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।
(ب) عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال خلف رسول الله ﷺ علي بن أبي طالب في غزوة تبوك فقال: يا رسول الله! تخلفني في النساء والصبيان فقال أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى؟ غير أنه لا نبي بعدي.
(١) اكتب مناقب علي رضي الله عنه بالإيجاز.
(১. আলী (রা.)-এর মর্যাদা সংক্ষেপে লেখ।)
উত্তর: আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) রাসূল (সা.)-এর চাচাতো ভাই, জামাতা এবং ইসলামের চতুর্থ খলিফা। তিনি শিশুদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। বদর, উহুদ, খন্দকসহ প্রায় সকল যুদ্ধে তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন, যার ফলে তাঁকে ‘আসাদুল্লাহ’ বা আল্লাহর সিংহ উপাধি দেওয়া হয়। তাবুক যুদ্ধের সময় নবীজি (সা.) তাঁকে মদিনায় নিজ স্থলাভিষিক্ত করে যান এবং তাঁকে হারুন (আ.)-এর সমতুল্য মর্যাদা দেন।
(ج) عن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: صلى رسول الله ﷺ على قتلى أحد بعد ثماني سنين كالمودع للأحياء والأموات ثم طلع المنبر فقال: إني بين أيديكم فرط وأنا عليكم شهيد وإني موعدكم الحوض وإن لأنظر إليه من مقامي هذا وإني لست أخشى عليكم أن تشركوا ولكني أخشى عليكم الدنيا أن تنافسوها قال فكانت آخر نظرة نظرتها إلى رسول الله ﷺ.
(অনুবাদ: উকবা বিন আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আট বছর পর উহুদের শহীদদের উপর এমনভাবে জানাযার সালাত আদায় করলেন, যেন তিনি জীবিত ও মৃতদের থেকে বিদায় নিচ্ছেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: ‘আমি তোমাদের অগ্রগামী হবো এবং আমি তোমাদের ওপর সাক্ষী থাকব। তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের স্থান হলো হাউয। আমি আমার এ স্থান থেকেই তা দেখতে পাচ্ছি। আমি তোমাদের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করি না যে তোমরা শিরক করবে, বরং আমি তোমাদের ব্যাপারে দুনিয়ার (সম্পদের) ব্যাপারে আশঙ্কা করি যে, তোমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।’ উকবা বলেন, এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি আমার শেষ দৃষ্টিপাত।)
(١) اكتب واقعة أحد بالاختصار.
(১. উহুদ যুদ্ধের ঘটনা সংক্ষেপে লেখ।)
উত্তর: ৩য় হিজরীর শাওয়াল মাসে মদিনার অদূরে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৭০০ এবং কুরাইশদের ৩০০০। শুরুতে মুসলিমরা বিজয়ী হলেও, একটি উপত্যকা পাহারারত তীরন্দাজ দলের ভুলের কারণে পেছনের দিক থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদের (তৎকালীন অমুসলিম) আক্রমণে মুসলিমরা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এই যুদ্ধে রাসূল (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহীদ হয় এবং হামজা (রা.) সহ ৭০ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন।
(٢) ما معنى الحوض لغة واصطلاحا؟ وما المراد به ههنا؟ بين.
(২. হাওয এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এখানে কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা কর।)
উত্তর: শাব্দিক অর্থ: পানি জমার স্থান বা জলাশয়।
পারিভাষিক অর্থ: কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে যে সুবিশাল ও সুপেয় পানির প্রস্রবণ দান করবেন, তাকে ‘হাওযে কাউসার’ বলা হয়।
এখানে উদ্দেশ্য: এই হাদিসে ‘হাওয’ দ্বারা হাউজে কাউসারকেই বোঝানো হয়েছে। রাসূল (সা.) উম্মতকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি হাউজে কাউসারের পাড়ে উম্মতের জন্য অগ্রগামী হিসেবে অপেক্ষা করবেন।
(٣) بين كيفية الصلاة التي صلاها النبي ﷺ بعد ثماني سنين على قتلى أحد.
(৩. নবীজি (সা.) আট বছর পর উহুদের শহীদদের ওপর কীভাবে নামাজ পড়েছিলেন তা বর্ণনা কর।)
উত্তর: মুহাদ্দিসগণের মতে, উহুদের শহীদদের উপর আট বছর পর পঠিত এই নামাজটি সাধারণ জানাযার নামাজ ছিল না, বরং এটি ছিল বিদায়ী দোয়া বা ইস্তিগফার। হাদিসের শব্দ “كالمودع” (বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায়) দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, রাসূল (সা.) তাঁর ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে আসায় উহুদের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করেন।
(بديلا) حدثنا أبو نعيم حدثنا إسرائيل عن مخارق عن طارق بن شهاب قال سمعت ابن مسعود رضي الله عنه يقول: شهدت من المقداد بن الأسود مشهدا لأن أكون صاحبه أحب إلي مما عدل به. أتى النبي ﷺ وهو يدعو على المشركين فقال لا نقول كما قال قوم موسى: اذهب أنت وربك فقاتلا، ولكنا نقاتل عن يمينك وعن شمالك وبين يديك وخلفك فرأيت النبي ﷺ أشرق وجهه وسره يعنى قوله.
(١) عرف الغزوة والسرية مع ذكر الفرق بينهما. ثم بين عدد غزوات الرسول ﷺ وسراياه.
(১. গাযওয়া ও সারিয়া এর সংজ্ঞা দাও এবং পার্থক্য উল্লেখ কর। অতঃপর রাসূল (সা.)-এর গাযওয়া ও সারিয়ার সংখ্যা বর্ণনা কর।)
উত্তর: গাযওয়া (الغزوة): যেসব সামরিক অভিযানে রাসূল (সা.) সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন, সেগুলোকে গাযওয়া বলা হয়।
সারিয়া (السرية): যেসব ছোট সামরিক অভিযানে রাসূল (সা.) সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, বরং কোনো সাহাবীকে সেনাপতি করে পাঠিয়েছেন, সেগুলোকে সারিয়া বলা হয়।
পার্থক্য: গাযওয়ায় নবীজির প্রত্যক্ষ উপস্থিতি থাকে, সারিয়াতে থাকে না।
সংখ্যা: সীরাতবিদদের মতে, রাসূল (সা.)-এর জীবনে গাযওয়ার সংখ্যা ২৭টি এবং সারিয়ার সংখ্যা প্রায় ৪৭ বা মতান্তরে ৬০ এর অধিক।
(٢) اذكر أهمية غزوة بدر في الإسلام بالاختصار.
(২. ইসলামে বদর যুদ্ধের গুরুত্ব সংক্ষেপে উল্লেখ কর।)
উত্তর: বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ও সবচেয়ে নির্ণায়ক সামরিক সংঘাত। এটি ছিল হক ও বাতিলের চূড়ান্ত ফয়সালার দিন, যাকে কুরআনে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বলা হয়েছে। এই যুদ্ধে স্বল্প ও নিরস্ত্র প্রায় মুসলিম বাহিনীর বিজয় ইসলামকে আরব উপদ্বীপে একটি পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
(٣) متى وقعت غزوة بدر وأين؟ اذكر عدد الفريقين مع بيان نتيجة هذه الغزوة.
(৩. বদর যুদ্ধ কখন এবং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল? উভয় দলের সংখ্যা এবং এই যুদ্ধের ফলাফল বর্ণনা কর।)
উত্তর: সময় ও স্থান: ২য় হিজরীর ১৭ই রমজান মদিনার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ‘বদর’ নামক প্রান্তরে।
সংখ্যা: মুসলিম বাহিনী ছিল মাত্র ৩১৩ জন (মতান্তরে ৩১৪)। অপরদিকে কুরাইশ কাফির বাহিনী ছিল প্রায় ১০০০ জন, যারা সম্পূর্ণ অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।
ফলাফল: আল্লাহর গায়েবী সাহায্যে মুসলিমরা নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। কুরাইশদের আবু জাহেলসহ ৭০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দি হয়। মুসলিমদের পক্ষে ১৪ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন।

٤. أجب عن واحد مما يلى:
(৪. নিচের যেকোনো একটির উত্তর দাও: ১০ = ১ × ১০)
(أ) تحدث عن غزوة مؤتة من أرض الشام مركزا على النقاط التالية:
(١) سبب غزوة مؤتة وتعداد العساكر من المسلمين والكفار؛
(٢) أمراء المسلمين في هذه الغزوة وأمير الكفار؛
(٣) نتائج هذه الغزوة وأهميتها في التاريخ الإسلامي.
(ক. নিচের পয়েন্টগুলোর আলোকে সিরিয়ার ভূমিতে সংঘটিত মুতার যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা কর: ১. কারণ ও সেনাসংখ্যা, ২. সেনাপতিগণ, ৩. ফলাফল ও গুরুত্ব।)
উত্তর:
(১) কারণ: রাসূল (সা.) বসরার শাসকের কাছে হারিস ইবনে উমায়ের আল-আযদীকে দূত হিসেবে পাঠান। পথিমধ্যে মুতা নামক স্থানে গাসসানী শাসক শুরাহবীল তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। দূত হত্যার চরম ধৃষ্টতার জবাব দিতেই মুতার যুদ্ধ সংঘটিত হয় (৮ম হিজরী)। সেনাসংখ্যা: মুসলিম বাহিনী ৩,০০০ জন। রোমান ও মিত্র বাহিনী প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ)।

(২) মুসলিম সেনাপতিগণ: রাসূল (সা.) ক্রমানুসারে তিনজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন: ১. যায়িদ ইবনে হারিসা, ২. জাফর ইবনে আবি তালিব, ৩. আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)। তাঁরা শহীদ হলে খালিদ বিন ওয়ালিদ দায়িত্ব নেন। কাফিরদের সেনাপতি: রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের ভাই থিওডোর এবং শুরাহবীল।

(৩) ফলাফল ও গুরুত্ব: খালিদ বিন ওয়ালিদের অসামান্য রণকৌশলের ফলে মুসলিম বাহিনী নিরাপদে মদিনায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়। দুই লক্ষ সেনার সামনে তিন হাজার সেনার টিকে থাকা ছিল এক বিশাল নৈতিক বিজয়। এটি রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রথম মহড়া হিসেবে ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(ب) اكتب نبذة من حياة الإمام محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله تعالى ومساهمته في علم الحديث.
(খ. ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)-এর জীবনী এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান সংক্ষেপে লেখ।)
উত্তর: জীবনী: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী ১৯৪ হিজরীতে উজবেকিস্তানের বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলাতেই তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান, কিন্তু তাঁর মায়ের দোয়ায় আল্লাহ তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। অসাধারণ স্মরণশক্তির অধিকারী ইমাম বুখারী ১৬ বছর বয়সেই মক্কায় হিজরত করেন ইলমের সন্ধানে। তিনি প্রায় এক হাজার শায়খের কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন। ২৫৬ হিজরীতে সমরকন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন।
অবদান: হাদিস শাস্ত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো ‘আল-জামি আস-সহীহ’ (সহীহ বুখারী)। এটি কুরআনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ। তিনি প্রায় ৬ লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে কেবল ৭২৭৫টি (পুনরাবৃত্তিসহ) বিশুদ্ধ হাদিস এতে সংকলন করেছেন।

٥. أجب عن واحد مما يلى:
(৫. নিচের যেকোনো একটির উত্তর দাও: ১০ = ১ × ১০)
(أ) تحدث عن خصائص صحيح لمسلم ومنزلته بين كتب الحديث مع ذكر المقارنة بين الصحيحين.
(ক. সহীহ মুসলিমের বৈশিষ্ট্য ও হাদিস গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর মর্যাদা আলোচনা কর এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।)
উত্তর: সহীহ মুসলিমের বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা: ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (রহ.) রচিত ‘সহীহ মুসলিম’ সিহাহ সিত্তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত চমৎকার বিন্যাস পদ্ধতি। তিনি একই বিষয়ের সব হাদিস, সনদ এবং মতনগুলো এক জায়গায় একত্রিত করেছেন, যা গবেষণার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। তিনি হাদিসের শব্দের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।
সহীহাইনের মধ্যে তুলনা: বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহীহ বুখারীর অবস্থান সহীহ মুসলিমের উপরে, কারণ ইমাম বুখারীর রাবীদের শর্ত ছিল কঠোর (রাবী ও শায়খের সাক্ষাতের নিশ্চিত প্রমাণ)। তবে বিন্যাস, উপস্থাপন কৌশল এবং একই স্থানে সকল সনদ জড়ো করার দিক থেকে সহীহ মুসলিমের শ্রেষ্ঠত্ব অনেক মুহাদ্দিস স্বীকার করেছেন।
(ب) ما معنى الإيمان والإسلام والإحسان؟ هل الإيمان بسيط ام مركب؟ بين.
(খ. ঈমান, ইসলাম ও ইহসান এর অর্থ কী? ঈমান কি সরল (ব্যাসিত) নাকি যৌগিক (মুরাক্কাব)? বর্ণনা কর।)
উত্তর:
ঈমান: অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা (আল্লাহর অস্তিত্ব, ফেরেশতা, কিতাব, নবী-রাসূল, পরকাল ও তাকদীরের ওপর)।
ইসলাম: বাহ্যিক আমল বা আল্লাহর হুকুমের কাছে আত্মসমর্পণ করা (যেমন: কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত)।
ইহসান: এমন একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা যেন বান্দা আল্লাহকে দেখছে, অথবা অন্তত এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ তাকে দেখছেন।
ঈমান সরল নাকি যৌগিক: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতে, ঈমান হলো ‘মুরাক্কাব’ বা যৌগিক। ঈমান হলো: ১. অন্তরের বিশ্বাস, ২. মুখের স্বীকৃতি এবং ৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল—এই তিনটির সমষ্টি। আমল বাড়লে ঈমান বাড়ে এবং আমল কমলে ঈমান কমে।

مجموعة (ج) – حفظ الحديث

[গ-বিভাগ: হিফজ আল-হাদিস – মান: ১০]

٦. اكتب حديثين من حفظك غير ما ذكر في ورقة السؤال مقتبسا من الأبواب التالية:
(৬. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত হয়নি এমন দুটি হাদিস তোমার মুখস্থ থেকে লেখ, যা নিচের অধ্যায়গুলো থেকে নেওয়া হয়েছে: ১০ = ৫ × ২)
(أ) كتاب العلم وكتاب الصلاة لصحيح البخاري.
(ب) كتاب الزكاة وكتاب الصوم لصحيح مسلم.
(ক. সহীহ বুখারীর কিতাবুল ইলম এবং কিতাবুস সালাত থেকে। খ. সহীহ মুসলিমের কিতাবুজ যাকাত এবং কিতাবুস সাওম থেকে।)
উত্তর: (নমুনা উত্তর)
(ক) কিতাবুল ইলম (বুখারী):

عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»

(অনুবাদ: মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।)

(খ) কিতাবুস সাওম (মুসলিম):

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ»

(অনুবাদ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙো।)

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now