HSC বাংলা ২য় পত্র প্রশ্নপত্র (Set: ০৪) — ২০২৬
বাংলা | দ্বিতীয় পত্র | [২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী] | বিষয় কোড: ১০২
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
পত্র নং: ১৯৭ | ১০১৬/২০২৬
[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। একই প্রশ্নের উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয়।]
১। (ক) উদাহরণসহ ম-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম লেখো। [০৫]
১. পদের শুরুতে ম-ফলা থাকলে উচ্চারণে কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন: স্মৃতি (সৃতি)।
২. পদের মধ্যে বা শেষে ম-ফলা থাকলে যুক্ত ব্যঞ্জনটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: আত্মীয় (আত্তিও)।
৩. গ, ঙ, ট, ণ, ন, ল-এর সাথে ম-ফলা যুক্ত হলে ম-এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: জন্ম (জনমো), বাগ্মী (বাগ্মি)।
৪. যুক্ত ব্যঞ্জনের সাথে ম-ফলা যুক্ত হলে ম-এর উচ্চারণ হয় না। যেমন: সূক্ষ্ম (সুক্খো)।
৫. ম-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনের উচ্চারণে সামান্য নাসিক্য সুর আসে। যেমন: স্মরণ (শঁরোন্)।
অথবা,
(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ লেখো:
ব্যাখ্যা, যুগ্ম, যৌবন, শাশ্বত, দ্রষ্টব্য, বৈশাখ, দেশপ্রেম, অতুল। [০৫]
২। (ক) ষ-ত্ব বিধান কী? উদাহরণসহ ষ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়ম লেখো। [০৫]
নিয়ম:
১. ঋ বা ঋ-কার এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ) আগে ‘ষ’ হয়। যেমন: কষ্ট, শ্রেষ্ঠ।
৩. ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন: অভিষেক, সুষমা।
৪. রেফ ( র্ )-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, আকর্ষণ।
৫. ‘অ’ বা ‘আ’ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র্-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: পরিষ্কার, মুমূর্ষু।
অথবা,
(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের বানান শুদ্ধ করে লেখো:
রুগ্ন, সম্বর্ধনা, কর্মনিষ্ঠা, প্রতিদ্বন্দ্বি, মনোপুত, বাল্মিকি, স্বত্বাধিকারি, পৈত্রিক। [০৫]
৩। (ক) আবেগ শব্দ কাকে বলে? আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো। [০৫]
শ্রেণিবিভাগ (উদাহরণসহ):
১. বিস্ময়সূচক আবেগ: আহা! কী চমৎকার।
২. প্রশংসাসূচক আবেগ: সাব্বাস! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।
৩. বিরক্তিসূচক আবেগ: ছি! তুমি এত খারাপ।
৪. ভয় ও যন্ত্রণাসূচক আবেগ: উফ! কী ব্যথা।
৫. করুণাসূচক আবেগ: হায় হায়! লোকটার কী হবে।
অথবা,
(খ) নিম্নরেখ যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো:
(i) শরীর ভালো হলে তুমি কাজ করবে নতুবা বসে থাকবে।
(ii) কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
(iii) আমার কিছু বলার নেই।
(iv) সবাই কফি খেতে চাচ্ছে।
(v) আমাদের যাত্রা সমুদ্র অভিমুখে।
(vi) এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।
(vii) ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
(viii) বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।
[০৫]
(i) যোজক
(ii) বিশেষণ
(iii) সর্বনাম
(iv) সর্বনাম
(v) অনুসর্গ
(vi) ক্রিয়া বিশেষণ
(vii) আবেগ শব্দ
(viii) বিশেষ্য
৪। (ক) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের প্রত্যয়ের নামসহ প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় করো:
বর্ধমান, শ্রবণীয়, নবান্ন, সৌন্দর্য, সৃষ্টি, সম্রাট, শৈশব, বার্ষিক। [০৫]
বর্ধমান – √বৃধ্ + শানচ্ = কৃৎ প্রত্যয়
শ্রবণীয় – √শ্রু + অনীয় = কৃৎ প্রত্যয়
নবান্ন – নব + অন্ন = তদ্ধিত প্রত্যয়
সৌন্দর্য – সুন্দর + ষ্য (য) = তদ্ধিত প্রত্যয়
সৃষ্টি – √সৃজ্ + তি = কৃৎ প্রত্যয়
সম্রাট – সম্ + √রাজ্ + ক্বিপ্ (অ) = কৃৎ প্রত্যয়
শৈশব – শিশু + ষ্ণ (অ) = তদ্ধিত প্রত্যয়
বার্ষিক – বর্ষ + ষ্ণিক (ইক) = তদ্ধিত প্রত্যয়
অথবা,
(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো:
সত্যাসত্য, পরোক্ষ, জীবনানন্দ, শৌখিন, আলোকচিত্র, অরুণরাঙা, মহাত্মা, যুগান্তর। [০৫]
সত্যাসত্য: সত্য ও অসত্য = দ্বন্দ্ব সমাস
পরোক্ষ: অক্ষির অগোচরে = অব্যয়ীভাব সমাস
জীবনানন্দ: জীবনের আনন্দ/জীবন ব্যাপী আনন্দ = তৎপুরুষ সমাস
শৌখিন: শখ আছে যার = বহুব্রীহি সমাস
আলোকচিত্র: আলোক দ্বারা চিত্র = তৎপুরুষ সমাস
অরুণরাঙা: অরুণের মতো/ন্যায় রাঙা = উপমান কর্মধারয় সমাস
মহাত্মা: মহান আত্মা যার = বহুব্রীহি সমাস
যুগান্তর: অন্য যুগ = নিত্য সমাস
৫। (ক) বাক্য কাকে বলে? অর্থ অনুসারে বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো। [০৫]
অর্থ অনুসারে বাক্য ৫ প্রকার:
১. নির্দেশক বাক্য: যে বাক্যে কোনো কিছু সাধারণভাবে নির্দেশ বা বর্ণনা করা হয়। (যেমন: সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।)
২. প্রশ্নবোধক বাক্য: যে বাক্যে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়। (যেমন: তোমার নাম কী?)
৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: যে বাক্যে আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ইত্যাদি বোঝায়। (যেমন: মিথ্যা কথা বলো না।)
৪. প্রার্থনাসূচক বাক্য: যে বাক্যে ইচ্ছা বা প্রার্থনা প্রকাশ পায়। (যেমন: বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।)
৫. বিস্ময়সূচক বাক্য: যে বাক্যে আকস্মিক আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ পায়। (যেমন: বাহ! কী সুন্দর দৃশ্য!)
অথবা,
(খ) বন্ধনীর নির্দেশ অনুযায়ী যে-কোনো পাঁচটি বাক্যের রূপান্তর করো:
(i) আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। (জটিল)
(ii) যারা পরিশ্রমী, তারা সফল হয়। (সরল)
(iii) শীতে দরিদ্র মানুষের খুব কষ্ট হয়। (বিস্ময়সূচক)
(iv) নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান গেয়ে শোনায়। (প্রশ্নবোধক)
(v) যদিও সে অশিক্ষিত, তবু সে দেশপ্রেমিক। (যৌগিক)
(vi) সময় নষ্ট না করে কাজটা শুরু করে দেওয়া যাক। (অনুজ্ঞাসূচক)
(vii) মানুষের তৈরি দুর্যোগও অনেক ক্ষতি করে। (নেতিবাচক)
(viii) কারো মুখে কথা সরে না। (অস্তিবাচক)
[০৫]
(i) যে সত্য আমার সেটাই আমার পথ দেখাবে।
(ii) পরিশ্রমীরা সফল হয়।
(iii) আহা, শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!
(iv) নীরব ভাষায় বৃক্ষ কি আমাদের গান গেয়ে শোনায় না?
(v) সে অশিক্ষিত কিন্তু দেশপ্রেমিক।
(vi) সময় নষ্ট না করে কাজটা শুরু করে দাও।
(vii) মানুষের তৈরি দুর্যোগও কম ক্ষতি করে না।
(viii) প্রত্যেকেই নীরব হয়ে থাকে।
৬। (ক) যে-কোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখো:
(i) আমার বক্তব্য আর দীর্ঘায়িত করব না।
(ii) আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
(iii) আজ আমার বয়স কেবলমাত্র সাতাশ।
(iv) কালীদাশ ‘মেঘদূত’ কাব্য রচনা করেন।
(v) ছেলেটি দুর্দান্ত মেধাবী।
(vi) তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
(vii) কথাটি শুনে তিনি আশ্চর্য হলেন।
(viii) দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমবর্ধমান।
[০৫]
(i) আমার বক্তব্য আর দীর্ঘ করব না।
(ii) আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।
(iii) আজ আমার বয়স কেবল / মাত্র সাতাশ।
(iv) কালিদাস ‘মেঘদূত’ কাব্য রচনা করেন।
(v) ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
(vi) তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।
(vii) কথাটি শুনে তিনি আশ্চর্যান্বিত হলেন।
(viii) দ্রব্যমূল্য ক্রমবর্ধমান / দ্রব্যের দাম ক্রমবর্ধমান।
অথবা,
(খ) নিচের অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগগুলো শুদ্ধ করে লেখো:
“দারিদ্র্যতা আজ আর বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা নয়। আমাদের দেশ এখন সমৃদ্ধশালী। কেবলমাত্র দুর্নীতিই আমাদের পেছনে টানে। এ থেকে মুক্তির পাশাপাশি জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধন প্রয়োজন। প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে ঐক্যতা।” [০৫]
দারিদ্রতা/দারিদ্র্য আজ আর বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা নয়। আমাদের দেশ এখন সমৃদ্ধ। কেবল/শুধু দুর্নীতিই আমাদের পেছনে টানে। এ থেকে মুক্তির পাশাপাশি জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন। প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে ঐক্য।
৭। (ক) যে কোনো দশটি শব্দের বাংলা পারিভাষিক রূপ লেখো:
Assembly, Bulletin, Significant, Tourist, Purchase, Reform, Ordinance, Prefix, State Minister, Import, Judicial, Hostile, Chief whip, Souvenir, Debt. [১০]
Assembly – পরিষদ/সভা
Bulletin – জ্ঞাপনপত্র
Significant – তাৎপর্যপূর্ণ
Tourist – পর্যটক
Purchase – ক্রয়
Reform – সংস্কার
Ordinance – অধ্যাদেশ
Prefix – উপসর্গ
State Minister – প্রতিমন্ত্রী
Import – আমদানি
Judicial – বিচার বিভাগীয়
Hostile – প্রতিকূল / শত্রুভাবাপন্ন
Chief whip – মুখ্য সচেতক / প্রধান সচেতক
Souvenir – স্মারক
Debt – ঋণ
অথবা,
(খ) নিচের অনুচ্ছেদটি বাংলায় অনুবাদ করো:
“Many people put off for tomorrow the work they can do today. Students also very often put off their class lessons for tomorrow. Nothing is more injurious than this habit. Men do not know what will happen tomorrow! A lot of troubles and dangers may come and upset everything.” [১০]
অনেক মানুষ আজ যে কাজটি করতে পারে, তা আগামীকালের জন্য ফেলে রাখে। শিক্ষার্থীরাও প্রায়ই তাদের শ্রেণি পাঠ আগামীকালের জন্য রেখে দেয়। এই অভ্যাসের চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছু হতে পারে না। মানুষ জানে না, আগামীকাল কী ঘটতে পারে! নানারকম সমস্যা ও বিপদ এসে সবকিছু ওলটপালট করে দিতে পারে।
৮। (ক) তোমার ঘুরে আসা কোনো দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের অনুভূতি প্রকাশ করে একটি দিনলিপি লেখো। [১০]
তারিখ: ১৫ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার। সময়: রাত ৯টা।
আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন। আজ সকালে পরিবারের সবার সাথে গিয়েছিলাম সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানা নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ঈশা খাঁর আমলের পুরোনো স্থাপত্যগুলো যেন ইতিহাসের কথা বলছিল। দিনভর ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলার পর বিকেলে যখন বাড়ি ফিরছিলাম, তখন মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করছিল। আমাদের ইতিহাস এত সমৃদ্ধ, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না।
অথবা,
(খ) ‘আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ’—তরুণদের সচেতন করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে একটি ভাষণ তৈরি করো। [১০]
উপস্থিত সুধীমণ্ডলী ও আমার তরুণ বন্ধুরা, সবাইকে শুভেচ্ছা। আজ আমি ‘আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ’ বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই। একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তরুণ সমাজ। যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারি আসে, তখন এই তরুণরাই সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের সেবাই পরম ধর্ম। আমাদের চারপাশে অনেক অসহায় মানুষ আছে, যাদের একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের মুখে হাসি ফুটতে পারে। আসুন, আমরা আমাদের শক্তি ও সময়কে আর্তমানবতার সেবায় কাজে লাগাই এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি। ধন্যবাদ সবাইকে।
৯। (ক) বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুর নিকট প্রেরণের জন্য একটি বৈদ্যুতিন চিঠি লেখো। [১০]
To: rafik@email.com
Subject: শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা!
প্রিয় রফিক,
শুভ নববর্ষ! নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ তোর জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুখ ও শান্তি। পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে গিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু কর—এই কামনাই করি। আশা করি, নতুন বছরটি তোর ও তোর পরিবারের সবার জন্য অনেক ভালো কাটবে। সময় পেলে আমাদের বাড়িতে আসিস।
ইতি,
তোর বন্ধু, শফিক।
অথবা,
(খ) কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অফিসার পদে নিয়োগের জন্য একটি আবেদনপত্র রচনা করো। [১০]
তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬
বরাবর,
ব্যবস্থাপনা পরিচালক,
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা।
বিষয়: অফিসার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।
মহোদয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে ‘অফিসার’ পদে কিছুসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হবে। আমি উক্ত পদের জন্য একজন আগ্রহী প্রার্থী হিসেবে নিচে আমার জীবনবৃত্তান্ত পেশ করছি। (জীবনবৃত্তান্ত সংযুক্ত)
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা, আমার আবেদনটি বিবেচনা করে আমাকে আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত,
ক খ গ।
১০। (ক) সারাংশ লেখো:
“সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেইটি ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক—এইসব জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে না।” [১০]
সাহিত্যের মূল লক্ষ্য পাঠককে আনন্দ দেওয়া, সস্তা মনোরঞ্জন নয়। মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে রচিত সাহিত্য তার আসল মর্যাদা হারায়। বর্তমান সময়ে সস্তা উপাদানে ভরপুর সাহিত্যের ছড়াছড়ি থাকলেও, এসব দিয়ে পাঠকের প্রকৃত মানসিক তৃপ্তি বা আনন্দ লাভ সম্ভব নয়।
অথবা,
(খ) ভাবসম্প্রসারণ করো:
“পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়
পথের দু’ধারে আছে মোর দেবালয়।” [১০]
মূলভাব: ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই; মানুষের মাঝেই ঈশ্বরের বাস।
সম্প্রসারণ: অনেক মানুষ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তীর্থস্থানে বা দেবালয়ে ছুটে যান। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নন। তিনি সর্বত্র বিরাজমান, বিশেষ করে তাঁর সৃষ্ট জীবের মাঝে। তাই মানুষের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। আর্তমানবতার সেবার মাধ্যমেই প্রকৃত ধর্ম পালিত হয়। সুতরাং, তীর্থযাত্রার চেয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সেবাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১১। (ক) কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো। [১০]
রাকিব: কিরে শফিক, কেমন আছিস? পড়াশোনা কেমন চলছে?
শফিক: ভালো রে। কিন্তু এইচএসসি-র পর কী নিয়ে পড়ব, তা নিয়ে ভাবছি।
রাকিব: আমি তো ভাবছি কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হব।
শফিক: কারিগরি শিক্ষা? কেন?
রাকিব: কারণ বর্তমান যুগে সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষার চাহিদা বেশি। এ শিক্ষা গ্রহণ করলে বেকার থাকার ভয় থাকে না, সহজেই চাকরি পাওয়া যায় বা নিজে কিছু করা যায়।
শফিক: তুই ঠিকই বলেছিস। আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত বেকার, কিন্তু দক্ষ হাতের অভাব।
রাকিব: একদম। তাই কারিগরি শিক্ষাই আমাদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করবে।
অথবা,
(খ) ‘স্বনির্ভরতার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ চাই’ শিরোনামে একটি খুদেগল্প রচনা করো। [১০]
স্বনির্ভরতার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ চাই
রহিম গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে সে ঠিক করল নিজেই কিছু করবে। সে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন সুন্দর জিনিস তৈরি করতে জানত। সামান্য পুঁজি নিয়ে সে একটি ছোট কুটির শিল্প শুরু করল। ধীরে ধীরে তার তৈরি জিনিসের চাহিদা বাড়তে লাগল। এখন তার প্রতিষ্ঠানে আরও দশজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। রহিমের মতো আমাদের দেশের যুবসমাজ যদি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের দিকে নজর দেয়, তবে দেশ খুব সহজেই স্বনির্ভর হতে পারবে।
১২। যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: [২০]
(ক) জাতীয় উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি;
(খ) পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার;
(গ) গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও;
(ঘ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার;
(ঙ) প্রাকৃতিক নৈসর্গে বাংলাদেশ।
ভূমিকা: বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি মানুষের জীবনকে করেছে সহজ, গতিশীল ও আরামদায়ক। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তথ্যপ্রযুক্তি কী: তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিনিময়ের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো তথ্যপ্রযুক্তি। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ইত্যাদি এর প্রধান মাধ্যম।
জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা:
১. শিক্ষাক্ষেত্রে: অনলাইন ক্লাস, ই-বুক, এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষা আজ সবার দোরগোড়ায়।
২. চিকিৎসাক্ষেত্রে: টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।
৩. কৃষিক্ষেত্রে: কৃষকরা এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবহাওয়ার খবর, ফসলের রোগবালাই ও বাজারদর জানতে পারছেন।
৪. অর্থনীতি ও ব্যবসা: ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
৫. কর্মসংস্থান: ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
উপসংহার: তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া আধুনিক জীবন ও জাতীয় উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
[বাকি প্রবন্ধগুলো নিজে অনুশীলন করুন]
Abswer.com — HSC বাংলা ২য় পত্র প্রশ্নপত্র সংগ্রহ (Set: ০৪, ০৪ জুলাই ২০২৬)


