HSC 2026 Logic 1st Paper Question | এইচএসসি ২০২৬ যুক্তিবিদ্যা ১ম প্রশ্নপত্র সমাধান

admin
· ১৭ মিনিটে পড়ুন · ৭ ভিউ
hsc 2026 logic 1st paper qna
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

HSC পরীক্ষা, ২০২৬

যুক্তিবিদ্যা — প্রথম পত্র (বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল)

বিষয় কোড: 1 2 1
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০ (বহুনির্বাচনি ৩০ + সৃজনশীল ৭০)

Abswer.com

বহুনির্বাচনি অভীক্ষা (MCQ) — মান: ৩০

[প্রতিটি প্রশ্নের মান ১। সঠিক উত্তরটি সবুজ রঙ্গে চিহ্নিত করা হয়েছে।]

১। মাধ্যম অনুমানে কমপক্ষে কয়টি আশ্রয়বাক্য থাকে?
(ক) চারটি    (খ) তিনটি    (গ) দুইটি    (ঘ) একটি

উত্তর: (গ) দুইটি

২। অনুমানের প্রাথমিক উপাদানের নাম কী?
(ক) অবধারণ    (খ) যুক্তিবাক্য    (গ) জ্ঞাত সত্য    (ঘ) পদ

উত্তর: (গ) জ্ঞাত সত্য

৩। নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:

M P

M S

$\therefore \text{ S \textemdash P}$

উপরের চিত্রটি কোন সংস্থানকে নির্দেশ করে?
(ক) প্রথম    (খ) দ্বিতীয়    (গ) তৃতীয়    (ঘ) চতুর্থ

উত্তর: (গ) তৃতীয়

৪। প্রতিবর্তনের আশ্রয়বাক্যকে কী বলে?
(ক) প্রতিবর্তন    (খ) প্রতিবর্তনীয়    (গ) প্রতিবর্তিত    (ঘ) প্রতি-আবর্তন

উত্তর: (খ) প্রতিবর্তনীয়

৫। “বাংলাদেশের দক্ষিণ বঙ্গের সাথে ঢাকাকে সংযোগ করেছে পদ্মা সেতু।”
এখানে ‘পদ্মা সেতু’ কীসের ইঙ্গিত বহন করছে?

(ক) প্রধান পদ    (খ) অপ্রধান পদ    (গ) সাপেক্ষ পদ    (ঘ) হেতু পদ

উত্তর: (ঘ) হেতু পদ

৬। কোনটি সহানুমানের অনুপপত্তি?
(ক) বহুকারণবাদ    (খ) কাকতালীয়    (গ) চতুষ্পদী অনুপপত্তি    (ঘ) অবৈধ সার্বিকীকরণ

উত্তর: (গ) চতুষ্পদী অনুপপত্তি

নিচের ছকটি দেখ এবং ৭ ও ৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

কলাম-১ কলাম-২ কলাম-৩ কলাম-৪
আশ্রয়বাক্য A E I O
সিদ্ধান্ত A E I X

৭। ছকটি অনুমানের কোন প্রকারকে নির্দেশ করছে?
(ক) সহানুমান    (খ) প্রতিবর্তন    (গ) আবর্তন    (ঘ) প্রতি-আবর্তন

উত্তর: (গ) আবর্তন

৮। ছকে দ্বিতীয় কলামে (আশ্রয় বাক্য-A, সিদ্ধান্ত-A) এর ক্ষেত্রে ঘটেছে—
i. অবৈধ সরল আবর্তন
ii. অবৈধ অসরল আবর্তন
iii. অবৈধ আবর্তন
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও iii    (খ) i ও ii    (গ) ii ও iii    (ঘ) i, ii ও iii

উত্তর: (ক) i ও iii

৯। প্রতীক কোনটি?
(ক) কালো মেঘ    (খ) ‘+’ (যোগ) চিহ্ন    (গ) গাড়ির হর্ন    (ঘ) সবুজ বাতি

উত্তর: (খ) ‘+’ (যোগ) চিহ্ন

উদ্দীপকটি পড়ো এবং ১০ ও ১১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
বাবা তুহিনকে বললো— “তুমি জীবনে উন্নতি করতে পারবে যদি এবং কেবল যদি কঠোর পরিশ্রম কর”।

১০। উদ্দীপকের বাবার বক্তব্যটিকে প্রতীকায়িত করতে কোন ধরনের প্রতীক ব্যবহার করা হয়?
(ক) $\equiv$    (খ) $\supset$    (গ) $\cdot$    (ঘ) $\lor$

উত্তর: (ক) $\equiv$ (সমমান/Equivalence)

১১। উদ্দীপকের বাক্যটির মান সত্য হবে—
i. যদি উভয় সত্য হয়
ii. যদি উভয় মিথ্যা হয়
iii. যদি একটি সত্য এবং অন্যটি মিথ্যা হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i    (খ) ii    (গ) i ও ii    (ঘ) i, ii ও iii

উত্তর: (গ) i ও ii

১২। পরিমাণের দিক থেকে কারণ ও কার্য কী রূপ?
(ক) অসমান    (খ) সমপরিমাণ    (গ) কারণ কম কার্য বেশি    (ঘ) কারণ বেশি কার্য কম

উত্তর: (খ) সমপরিমাণ

১৩। সহানুমানে ব্যবহৃত অপ্রধান পদের প্রতীক কোনটি?
(ক) O    (খ) M    (গ) P    (ঘ) S

উত্তর: (ঘ) S (Subject)

১৪। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সবসময় আশ্রয় বাক্য থেকে—
i. বেশি ব্যাপক
ii. সমান ব্যাপক
iii. কম ব্যাপক
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i    (খ) ii    (গ) i ও ii    (ঘ) ii ও iii

উত্তর: (ঘ) ii ও iii

১৫। “একই কার্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পূর্ববর্তী ঘটনা দ্বারা ঘটতে পারে” — এ কথাটি কে বলেছেন?
(ক) জেভেন্স    (খ) জে. এস. মিল    (গ) ওয়েলটন    (ঘ) ম্যাকবেথ

উত্তর: (খ) জে. এস. মিল (বহুকারণবাদ)

১৬। যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
(ক) জেভেন্স    (খ) আল-ফারাবি    (গ) সক্রেটিস    (ঘ) এরিস্টটল

উত্তর: (ঘ) এরিস্টটল

১৭। এরিস্টটল প্রদত্ত যুক্তিবিদ্যাকে কী বলা হয়?
(ক) সাবেকি যুক্তিবিদ্যা    (খ) আরোহ যুক্তিবিদ্যা    (গ) গাণিতিক যুক্তিবিদ্যা    (ঘ) প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা

উত্তর: (ক) সাবেকি যুক্তিবিদ্যা (Traditional Logic)

১৮। নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ই—
i. বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
ii. ব্যবহারিক বিজ্ঞান
iii. আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i    (খ) iii    (গ) i ও iii    (ঘ) ii ও iii

উত্তর: (ঘ) ii ও iii (উভয়ই আদর্শনিষ্ঠ ও ব্যবহারিক বিজ্ঞান)

১৯। নিচের কোন দুটি আকারগত বিজ্ঞান?
(ক) যুক্তিবিদ্যা ও গণিত    (খ) যুক্তিবিদ্যা ও নন্দনতত্ত্ব    (গ) গণিত ও মনোবিজ্ঞান    (ঘ) কম্পিউটার ও নীতিবিদ্যা

উত্তর: (ক) যুক্তিবিদ্যা ও গণিত

২০। ‘গরু হয় গৃহপালিত প্রাণী’ — এখানে ‘গৃহপালিত’ কোন ধরনের বিধেয়ক?
(ক) উপজাতি    (খ) অবান্তর লক্ষণ    (গ) লক্ষণ    (ঘ) উপলক্ষণ

উত্তর: (খ) অবান্তর লক্ষণ

উদ্দীপকটি পড়ো এবং ২১ ও ২২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
গবেষক আতিয়ার দশম শ্রেণির ছাত্রদের ওপর গবেষণা করে দেখলেন যে, “প্রতিটি ছাত্রই প্রতিভার অধিকারী”। তিনি আরো দেখলেন পিছনে বসা “কিছু ছাত্র নয় মনোযোগী”।

২১। উদ্দীপকে আতিয়ার সাহেবের গবেষণায় পাওয়া প্রথম বাক্যটির যৌক্তিক রূপ হবে—
(ক) O    (খ) I    (গ) A    (ঘ) E

উত্তর: (গ) A

২২। উদ্দীপকে নিহিত প্রথম ও শেষ যুক্তিবাক্য দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো—
i. গুণগত
ii. পরিমাণগত
iii. ব্যাপ্যতার
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i    (খ) i ও ii    (গ) ii ও iii    (ঘ) i, ii ও iii

উত্তর: (ঘ) i, ii ও iii (বাক্য দুটি হলো A এবং O)

২৩। সংযোজক সর্বদা কোন কালের হয়?
(ক) ভবিষ্যত    (খ) অতীত    (গ) বর্তমান    (ঘ) কোনোটি নয়

উত্তর: (গ) বর্তমান

২৪। পদের ব্যাপ্যতা কী প্রকাশ করে?
(ক) ব্যক্ত্যর্থ    (খ) জাত্যর্থ    (গ) আংশিক গুণ    (ঘ) সাধারণ গুণ

উত্তর: (ক) ব্যক্ত্যর্থ

২৫। কোন পদটি অর্থপূর্ণ বিশিষ্ট পদ?
(ক) রহিম    (খ) বিদ্রোহী কবি    (গ) করিম    (ঘ) শফিক

উত্তর: (খ) বিদ্রোহী কবি

২৬। জীবকে ‘মানুষ’ পদের আসন্নতম জাতি বলার কারণ—
(ক) নিকটবর্তী জাতি    (খ) সমজাতীয় জাতি    (গ) দূরবর্তী জাতি    (ঘ) ব্যক্ত্যর্থ সবচেয়ে বেশি

উত্তর: (ক) নিকটবর্তী জাতি

২৭। ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হচ্ছে—
i. জন্ম তারিখ
ii. পোশাক
iii. লাল রং
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii    (খ) i ও iii    (গ) ii ও iii    (ঘ) i, ii ও iii

উত্তর: (গ) ii ও iii

উদ্দীপকটি পড়ো এবং ২৮ ও ২৯ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
মনি স্কুলে যাবার সময় হোঁচট খেয়ে বড় ভাই রানাকে বললো— আমি যে দিনই হোঁচট খেয়ে বাইরে বের হই সে দিনই আমার বিপদ ঘটে। এই হোঁচট খাওয়াই আমার বিপদের মূল।

২৮। উদ্দীপকটির বক্তব্য আরোহের কোন ভিত্তিকে নির্দেশ করে?
(ক) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার নীতি    (খ) কার্য-কারণ নীতি    (গ) পরীক্ষণ    (ঘ) নিরীক্ষণ

উত্তর: (খ) কার্য-কারণ নীতি

২৯। উদ্দীপকে মনির বক্তব্য কোন অনুপপত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
(ক) কাকতালীয়    (খ) অবৈধ সার্বিকীকরণ    (গ) একটি শর্তকে কারণ হিসেবে গ্রহণ    (ঘ) দূরবর্তী শর্তকে কারণ মনে করা

উত্তর: (ক) কাকতালীয়

৩০। ‘Deductive Inference’ -এর প্রবণতা কী?
(ক) নিম্নগামী ও সমগামী    (খ) ঊর্ধ্বগামী    (গ) সমগামী    (ঘ) বিপরীতগামী

উত্তর: (ক) নিম্নগামী ও সমগামী

সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ) — মান: ৭০

[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রদত্ত উদ্দীপকগুলো মনোযোগসহকারে পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর দাও। যে কোনো সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]

১ নং প্রশ্ন

ড. মঈনুদ্দীন ও ড. দিদার বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ড. মঈনুদ্দীন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে তত্ত্বীয় শিক্ষাদান করেন। অন্যদিকে ড. দিদার ল্যাবরেটরিতে একই বিষয়বস্তুকে হাতে-কলমে শিক্ষাদান করেন।

(ক) যুক্তিবিদ্যার জনক কে? (১)
(খ) ‘যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান’— ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) উদ্দীপকে ড. মঈনুদ্দীনের শিক্ষাদান প্রক্রিয়া যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) উদ্দীপকের আলোকে যুক্তিবিদ্যার কোন দিকটি ড. দিদারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে? মতামত দাও। (৪)

উত্তর:
(ক) যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle)।

(খ) যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের মাপকাঠিতে বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা মূলত সত্যকে অর্জন করার এবং মিথ্যাকে বর্জন করার আদর্শ সামনে রেখে আমাদের চিন্তা বা অনুমানের নিয়মাবলি প্রণয়ন ও মূল্যায়ন করে। এটি কেবল চিন্তা কেমন হয় তা বর্ণনা করে না, বরং চিন্তা কেমন হওয়া উচিত তার একটি আদর্শিক মানদণ্ড তৈরি করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।

(গ) উদ্দীপকে ড. মঈনুদ্দীনের শিক্ষাদান প্রক্রিয়া যুক্তিবিদ্যার ‘তাত্ত্বিক বিজ্ঞান’ (Theoretical Science) রূপটিকে নির্দেশ করে।
বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা অনুমানের নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং সেগুলোর তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে। ড. মঈনুদ্দীন যেভাবে শ্রেণিকক্ষে শুধু তত্ত্বীয় শিক্ষাদান করেন, ঠিক তেমনি যুক্তিবিদ্যাও প্রথমত যুক্তির সাধারণ নিয়ম, সূত্র এবং পদ্ধতিগুলোর তাত্ত্বিক কাঠামো আমাদের সামনে তুলে ধরে। এটি আমাদের জানায় কীভাবে একটি বৈধ যুক্তি গঠন করতে হয় এবং এর অন্তর্নিহিত নীতিগুলো কী।

(ঘ) উদ্দীপকের আলোকে ড. দিদারের কর্মকাণ্ড যুক্তিবিদ্যার ‘ব্যবহারিক বিজ্ঞান বা কলা’ (Practical Science or Art) দিকটিকে সমর্থন করে।
কলা বা ব্যবহারিক বিজ্ঞান হলো সেই শাখা যা কোনো জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কৌশল শিক্ষা দেয়। ড. দিদার যেমন ল্যাবরেটরিতে হাতে-কলমে শিক্ষা দেন, তেমনি কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা তার তাত্ত্বিক নিয়মাবলিকে বাস্তব জীবনের যুক্তিতর্কে প্রয়োগ করার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়।
যুক্তিবিদ্যা কেবল তত্ত্ব আবিষ্কার করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে ভ্রান্তিকে এড়িয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়, তার ব্যবহারিক কৌশলও প্রদান করে। সুতরাং, ড. মঈনুদ্দীন যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক দিকের প্রতিনিধিত্ব করলেও, ড. দিদারের হাতে-কলমে শিক্ষাদান যুক্তিবিদ্যার ব্যবহারিক বা কলার দিকটিকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করে। প্রকৃত প্রস্তাবে যুক্তিবিদ্যা হলো বিজ্ঞান ও কলা উভয়েরই একটি চমৎকার সমন্বয়।

২ নং প্রশ্ন

তথ্য-১: সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা করার কারণে আবদুল আজিজ সাহেব প্রতি বছরই ব্যবসায় উন্নতি করছেন।
তথ্য-২: রফিক কৌশলী মানুষ। যে কোনো কাজে সে বুদ্ধি ও যুক্তি খাটিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে।
তথ্য-৩: আদি সবসময় পরিপাটি থাকতে পছন্দ করে। তাই তার সাজানো-গোছানো ঘর দেখে বন্ধুরা খুব প্রশংসা করে।

(ক) যুক্তিবিদ্যা কী? (১)
(খ) “যুক্তিবিদ্যা এক প্রকার মানসিক চর্চা”— ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) উদ্দীপকে তথ্য-১ কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) উদ্দীপকে তথ্য-২ ও তথ্য-৩ এ প্রতিফলিত বিষয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর। (৪)

উত্তর:
(ক) যুক্তিবিদ্যা হলো এমন একটি ব্যবহারিক ও আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা সত্যকে অর্জন এবং মিথ্যাকে বর্জন করার উদ্দেশ্যে অনুমান বা যুক্তিপদ্ধতি এবং এর সহায়ক প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা করে।

(খ) যুক্তিবিদ্যাকে মানসিক চর্চা বলা হয় কারণ এর মূল কাজই হলো মানুষের চিন্তা, অনুমান ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়াগুলোকে শৃঙ্খলিত করা। যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়নের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাশক্তি প্রখর হয় এবং যেকোনো বিষয়কে যুক্তি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার মানসিক দক্ষতা তৈরি হয়। এটি মস্তিষ্ককে অযৌক্তিক আবেগ থেকে মুক্ত করে সুশৃঙ্খল চিন্তার প্রশিক্ষণ দেয়।

(গ) উদ্দীপকের তথ্য-১ ‘নীতিবিদ্যা’ (Ethics)-কে নির্দেশ করে।
নীতিবিদ্যা হলো সমাজের মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত এবং ন্যায়-অন্যায় বিচার করার বিজ্ঞান। আবদুল আজিজ সাহেব সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করেন, যা মানুষের নৈতিক গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। নীতিবিদ্যার মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের জীবনে সততা ও ন্যায়ের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

(ঘ) উদ্দীপকের তথ্য-২ ‘যুক্তিবিদ্যা’ (Logic) এবং তথ্য-৩ ‘নন্দনতত্ত্ব’ (Aesthetics)-কে নির্দেশ করে।
রফিক বুদ্ধি ও যুক্তি খাটিয়ে সমস্যা সমাধান করেন, যা যুক্তিবিদ্যার বিষয়। অন্যদিকে, আদির পরিপাটি থাকা এবং সৌন্দর্যের চর্চা নন্দনতত্ত্বের বিষয়।
উভয়ই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো ‘সত্য’ (Truth) আর নন্দনতত্ত্বের আদর্শ হলো ‘সুন্দর’ (Beauty)। সত্য ও সুন্দর একে অপরের পরিপূরক। একটি সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিমুক্ত যুক্তি যেমন সত্যকে উদ্‌ঘাটন করে, তেমনি তার মধ্যে এক ধরনের বৌদ্ধিক সৌন্দর্যও লুকিয়ে থাকে। আবার নন্দনতত্ত্ব মানুষের মনকে পরিশীলিত করে, যা তাকে সত্য অনুধাবনে সহায়তা করে। মানুষের জীবনে পূর্ণতা আনতে হলে যেমন যুক্তিবাদী হতে হয়, তেমনি সৌন্দর্যপিপাসুও হতে হয়। তাই যুক্তিবিদ্যা ও নন্দনতত্ত্বের মধ্যে নিবিড় পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

৩ নং প্রশ্ন

তথ্য-১: পিতা-পুত্র, ছাত্র-শিক্ষক।
তথ্য-২: মাঠে বসে গল্প করার সময় কাক দেখে সোহেল বললো, ‘সকল কাক হয় কালো’। ছোট ভাই সুমন দ্বিমত পোষণ করে বললো, ‘কিছু কাক নয় কালো’।

(ক) যৌগিক পদ কী? (১)
(খ) কোন যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য? (২)
(গ) উদ্দীপকে তথ্য-১ এ উল্লিখিত পদগুলোর প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) উদ্দীপকে তথ্য-২ এ সোহেল ও সুমনের কথোপকথনে প্রতিফলিত যুক্তিবাক্য দুটোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর। (৪)

উত্তর:
(ক) যে পদ একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে যৌগিক পদ (Complex Term) বলে। যেমন: ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’।

(খ) সার্বিক যুক্তিবাক্য অর্থাৎ ‘A’ (সার্বিক সদর্থক) এবং ‘E’ (সার্বিক নঞর্থক) বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। কারণ সার্বিক বাক্যে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে (Denotation) স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়।

(গ) তথ্য-১ এ উল্লিখিত ‘পিতা-পুত্র’ ও ‘ছাত্র-শিক্ষক’ হলো সাপেক্ষ পদ (Relative Terms)
যে পদ নিজের অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনো পদের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাকে সাপেক্ষ পদ বলে। যেমন, ‘পিতা’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই ‘পুত্র’ বা ‘সন্তান’ পদটির ধারণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। একজন মানুষ পিতা তখনই হন, যখন তার পুত্র বা কন্যা থাকে। একইভাবে ‘শিক্ষক’ পদটি ‘ছাত্র’ পদের ওপর নির্ভরশীল। এরা যুগলভাবে অর্থ প্রকাশ করে।

(ঘ) তথ্য-২ এ সোহেলের বাক্যটি হলো “সকল কাক হয় কালো” (A বাক্য) এবং সুমনের বাক্যটি হলো “কিছু কাক নয় কালো” (O বাক্য)। এই দুটি বাক্যের মধ্যে বিরুদ্ধ বিরোধিতা (Contradictory Opposition) সম্পর্ক বিদ্যমান।
একই উদ্দেশ্য ও একই বিধেয় বিশিষ্ট দুটি যুক্তিবাক্যের মধ্যে যদি গুণ ও পরিমাণ উভয়েরই পার্থক্য থাকে, তবে তাদের সম্পর্ককে বিরুদ্ধ বিরোধিতা বলে। এখানে ‘A’ বাক্যটি সার্বিক সদর্থক এবং ‘O’ বাক্যটি বিশেষ নঞর্থক।
বিরুদ্ধ বিরোধিতার নিয়ম অনুযায়ী, দুটি বাক্য একসাথে সত্য বা মিথ্যা হতে পারে না। যদি ‘সকল কাক হয় কালো’ (A) সত্য হয়, তবে ‘কিছু কাক নয় কালো’ (O) অবশ্যই মিথ্যা হবে। আবার ‘O’ সত্য হলে ‘A’ মিথ্যা হবে। সোহেল সার্বিক সত্য দাবি করেছে, আর সুমন একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত দিয়ে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খণ্ডন (Contradict) করেছে।

৪ নং প্রশ্ন

তথ্য-১: গোলাপ হয় সুন্দর।
তথ্য-২: গোলাপটি হয় লাল।
তথ্য-৩: বাহ! কী চমৎকার দৃশ্য!

(ক) পদ কী? (১)
(খ) অবধারণকে মানসিক প্রক্রিয়া বলে কেন? (২)
(গ) উদ্দীপকে তথ্য-৩ এ দাগাঙ্কিত শব্দটি কী পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) উদ্দীপকে তথ্য-১ ও তথ্য-২ এ দাগাঙ্কিত পদগুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর। (৪)

উত্তর:
(ক) যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা হওয়ার যোগ্যতা রাখে, তাকে পদ (Term) বলে।

(খ) দুটি ধারণার মধ্যে মিল বা অমিল মনে মনে তুলনা করার যে প্রক্রিয়া, তাকে অবধারণ (Judgment) বলে। এটি মানুষের মনের ভেতরের একটি অদৃশ্য কাজ, যা ভাষায় প্রকাশিত হওয়ার আগে কেবল চিন্তা বা অনুভবের স্তরে থাকে। তাই অবধারণকে সম্পূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়।

(গ) তথ্য-৩ (“বাহ! কী চমৎকার দৃশ্য!”) একটি বিস্ময়সূচক বা আবেগসূচক বাক্য। যুক্তিবিদ্যায় কেবল বিবৃতিমূলক বা ঘোষক বাক্যই (যেখানে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়) যুক্তিবাক্য হতে পারে। যেহেতু এটি যুক্তিবাক্য নয়, তাই এর মধ্যকার শব্দগুলো যুক্তিবিদ্যার অর্থে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘পদ’ হিসেবে গণ্য হয় না। তবে ‘দৃশ্য’ বা ‘চমৎকার’ শব্দগুলো অন্য কোনো ঘোষক বাক্যের (যেমন: দৃশ্যটি হয় চমৎকার) উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে বসলে তখন সেগুলো ‘পদ’ বা পদযোগ্য শব্দ (Categorematic word) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

(ঘ) তথ্য-১ এ দাগাঙ্কিত পদ ‘গোলাপ’ একটি সার্বিক বা সাধারণ পদ (General Term) এবং তথ্য-২ এ দাগাঙ্কিত পদ ‘গোলাপটি’ একটি বিশিষ্ট পদ (Singular Term)
যে পদ দ্বারা একই শ্রেণিভুক্ত সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে সাধারণ পদ বলে। “গোলাপ হয় সুন্দর” বাক্যে ‘গোলাপ’ বলতে পৃথিবীর সমগ্র গোলাপ শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যে পদ দ্বারা নির্দিষ্টভাবে কেবল একজন ব্যক্তি, একটি বস্তু বা স্থানকে বোঝায়, তাকে বিশিষ্ট পদ বলে। “গোলাপটি হয় লাল” বাক্যে ‘গোলাপটি’ বলতে নির্দিষ্ট একটিমাত্র গোলাপকে নির্দেশ করা হয়েছে, সমগ্র শ্রেণিকে নয়। যুক্তিবিদ্যায় পদের পরিমাণের এই ভিন্নতা বাক্যের পরিমাণকেও (সার্বিক বা বিশেষ) নির্ধারণ করে দেয়।

৮ নং প্রশ্ন

দৃশ্য-১: সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয় এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।
দৃশ্য-২:

পানি কার্য দৃশ্য-২:

বৃষ্টি

টিউবওয়েল

নদী

সাগর

কারণ

(ক) শর্ত কী? (১)
(খ) “নিরীক্ষণ উদ্দেশ্যমূলক প্রত্যক্ষণ”— ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) উদ্দীপকে দৃশ্য-১ নিরীক্ষণের কোন ধরনের অনুপপত্তি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) উদ্দীপকে দৃশ্য-২ এ নির্দেশিত বিষয়টি কার্যকারণের আলোকে বিশ্লেষণ কর। (৪)

উত্তর:
(ক) শর্ত হলো কারণের এমন এক অপরিহার্য অংশ বা অবস্থা, যা উপস্থিত বা অনুপস্থিত থাকলে তবেই কার্যটি সংঘটিত হতে পারে। শর্ত ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

(খ) নিরীক্ষণ কেবল সাধারণ দেখাই নয়, বরং এটি হলো কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে ঘটা ঘটনাগুলোকে সুশৃঙ্খল ও মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করা। আমরা প্রতিদিন অনেক কিছুই দেখি, কিন্তু যখন কোনো বৈজ্ঞানিক বা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ঘটনাকে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়, তখনই তা নিরীক্ষণে পরিণত হয়। তাই একে উদ্দেশ্যমূলক প্রত্যক্ষণ বলা হয়।

(গ) দৃশ্য-১ এ “সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয় এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায়”— এটি আরোহের আকারগত ভিত্তি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি (Principle of Uniformity of Nature) কে নির্দেশ করে। প্রকৃতি সব সময় একই অবস্থায় একই রূপ আচরণ করে। অতীতে যেমন সূর্য পূর্ব দিকে উঠেছে, ভবিষ্যতেও তা ঘটবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এটি কোনো অনুপপত্তি নয়, বরং এটি একটি অকাট্য প্রাকৃতিক নিয়ম, যার ওপর ভিত্তি করে আরোহ অনুমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

(ঘ) দৃশ্য-২ এ একটি ‘কার্য’ (পানি)-এর একাধিক ‘কারণ’ (বৃষ্টি, টিউবওয়েল, নদী, সাগর) দেখানো হয়েছে। এটি যুক্তিবিদ্যার বহুকারণবাদ (Plurality of Causes) তত্ত্বকে নির্দেশ করে।
বহুকারণবাদ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট কার্য সব সময় একটিমাত্র কারণ দ্বারাই ঘটে না; বরং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে একই কার্যের উদ্ভব হতে পারে। যেমন, আমরা যখন পানি দেখি (কার্য), তখন সেই পানি বৃষ্টির কারণে হতে পারে, নদী থেকে আসতে পারে, বা টিউবওয়েল থেকে তোলা হতে পারে।
তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জে. এস. মিল এই তত্ত্বের সমালোচনা করেছেন। কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি সুনির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণই থাকে। কার্যকে যদি আমরা খুব সূক্ষ্মভাবে সংজ্ঞায়িত করি (যেমন বৃষ্টির পানি এবং সাগরের পানির রাসায়নিক ও কাঠামোগত পার্থক্য), তবে কারণের বহুত্ব দূরীভূত হয়ে যায়। তবুও সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় বহুকারণবাদের এই ধারণাটি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়।

১১ নং প্রশ্ন

যুক্তি-১: যদি তুমি পড় তবে পাস করবে
তুমি পড়েছ
অতএব, তুমি পাস করেছ।

যুক্তি-২: সকল দার্শনিক হয় সত্যবাদী
সকল সাহসী ব্যক্তি হয় সত্যবাদী
সুতরাং, সকল সাহসী ব্যক্তি হয় দার্শনিক।

(ক) প্রধান পদ কী? (১)
(খ) সংস্থান বলতে কী বুঝ? (২)
(গ) উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ সহানুমানের কোন প্রকারটিকে নির্দেশ করা হয়েছে? বর্ণনা কর। (৩)
(ঘ) যুক্তি-২ এর বৈধতা বিচার কর। (৪)

উত্তর:
(ক) সহানুমানের সিদ্ধান্তে যে পদটি বিধেয় হিসেবে থাকে এবং প্রধান আশ্রয়বাক্যে অবস্থান করে, তাকে প্রধান পদ (Major Term) বলে।

(খ) সহানুমানে হেতু পদের (Middle Term) অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয়বাক্যগুলোর যে বিভিন্ন আকার বা রূপ তৈরি হয়, তাকে সংস্থান (Figure) বলে। হেতু পদ উদ্দেশ্য বা বিধেয় কোথায় বসছে, তার ওপর নির্ভর করে সহানুমানের মোট ৪টি সংস্থান পাওয়া যায়।

(গ) যুক্তি-১ হলো প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ সহানুমানের গঠনমূলক বা স্বীকারমূলক আকার (Modus Ponens)
যে মিশ্র সহানুমানের প্রধান আশ্রয়বাক্যটি প্রাকল্পিক এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়েই নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্য, তাকে প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ সহানুমান বলে।
এর নিয়ম হলো: অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রাকল্পিক বাক্যের ‘পূর্বগ’ (Antecedent)-কে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে ‘অনুগ’ (Consequent)-কে স্বীকার করতে হয়।
যুক্তিটিতে, “যদি তুমি পড়” হলো পূর্বগ এবং “তবে পাস করবে” হলো অনুগ। অপ্রধান বাক্যে “তুমি পড়েছ” বলে পূর্বগকে স্বীকার করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তে “তুমি পাস করেছ” বলে অনুগকে স্বীকার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈধ এবং নিয়মানুসারে গঠিত।

(ঘ) যুক্তি-২ একটি অবৈধ নিরপেক্ষ সহানুমান। এখানে ‘অব্যাপ্য হেতুদোষ’ (Fallacy of Undistributed Middle) ঘটেছে।
সহানুমানের একটি অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো— হেতু পদকে অন্তত একবার যেকোনো একটি আশ্রয়বাক্যে অবশ্যই ব্যাপ্য (Distributed) হতে হবে।
এখানে প্রধান আশ্রয়বাক্য: “সকল দার্শনিক হয় সত্যবাদী” (A বাক্য, বিধেয় অব্যাপ্য)।
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: “সকল সাহসী ব্যক্তি হয় সত্যবাদী” (A বাক্য, বিধেয় অব্যাপ্য)।
এখানে ‘সত্যবাদী’ হলো হেতু পদ (Middle Term)। কিন্তু ‘A’ বাক্যের বিধেয় পদ কখনো ব্যাপ্য হয় না। ফলে হেতু পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্য রয়ে গেছে। হেতু পদ ব্যাপ্য না হলে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হয় না। তাই সিদ্ধান্তটি (“সকল সাহসী ব্যক্তি হয় দার্শনিক”) যৌক্তিকভাবে অবৈধ।


Abswer.com — HSC যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (১৩ জুলাই, ২০২৬) সম্পূর্ণ সমাধান

Tags: