HSC পরীক্ষা, ২০২৬
যুক্তিবিদ্যা — দ্বিতীয় পত্র (বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল)
বিষয় কোড: 1 2 2
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০ (বহুনির্বাচনি ৩০ + সৃজনশীল ৭০)
Abswer.com
বহুনির্বাচনি অভীক্ষা (MCQ) — মান: ৩০
১। আরোহমূলক লম্ফ কী?
(ক) অজানা সত্য থেকে জানা সত্যে গমন (খ) জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে গমন
(গ) মিথ্যা থেকে সত্যে উপনীত হওয়া (ঘ) সত্য থেকে মিথ্যায় উপনীত হওয়া
২। নিচের কোনটি অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভূক্ত?
(ক) পূর্ণাঙ্গ (খ) সাদৃশ্যানুমান (গ) অবৈজ্ঞানিক (ঘ) বৈজ্ঞানিক
৩। দ্বি-কোটিক বিভাগের প্রবক্তা—
(ক) প্লেটো (খ) এরিস্টটল (গ) বেনথাম (ঘ) মিল
৪। বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ‘সাদৃশ্য’ বিবেচনায় নেওয়া হয়?
(ক) প্রাকৃতিক (খ) কৃত্রিম (গ) মনগড়া (ঘ) কাল্পনিক
৫। যে পদের সংজ্ঞা দেয়া হয় তাকে বলে—
(ক) সংজ্ঞেয় (খ) সংজ্ঞার্থ (গ) নঞর্থক (ঘ) সদর্থক
৬। নিচের কোনটি নিরীক্ষণের পদ্ধতি?
(ক) ব্যতিরেকী (খ) অন্বয়ী (গ) সহ-পরিবর্তন (ঘ) পরিশেষ
৭। লৌকিক ব্যাখ্যার ভিত্তি কী?
(ক) সাধারণ বিশ্বাস (খ) অভিজ্ঞতা (গ) বৈজ্ঞানিক জ্ঞান (ঘ) সার্বিক নিয়ম
৮। অপনয়ন বলতে কী বোঝায়?
(ক) কোনো কিছু সংযুক্ত করা (খ) কোনো কিছু অনুমান করা (গ) কোনো কিছু বাদ দেয়া (ঘ) কোনো কিছু দৈবক্রমে ঘটা
৯। ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে কমপক্ষে কয়টি দৃষ্টান্তের প্রয়োজন হয়?
(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫
উদ্দীপকটি পড় এবং ১০ ও ১১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
প্রচণ্ড শীতে পানির পাইপ ফেটে গেল। দাদি বললেন, “দুষ্ট আত্মার প্রভাবে পানির পাইপ ফেটে গেছে”। কিন্তু দক্ষ পাইপ মিস্ত্রি বললেন, “শীতে পানি জমে যাওয়ার কারণে পাইপ ফেটে গেছে”।
১০। উদ্দীপকে দাদির বক্তব্য অনুসারে প্রকল্পটি—
(ক) যাচাইযোগ্য (খ) অপ্রাসঙ্গিক (গ) সরল (ঘ) ঘটনা নিরীক্ষণের ভিত্তিতে গৃহীত
১১। দক্ষ মিস্ত্রির বক্তব্যটি—
i. প্রাসঙ্গিক
ii. সুনির্দিষ্ট
iii. যাচাইযোগ্য
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii (খ) i ও iii (গ) ii ও iii (ঘ) i, ii ও iii
১২। সাদৃশ্যানুমান কত প্রকার?
(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫
১৩। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা, কার্য-কারণ ও আরোহমূলক লম্ফ = ?
(ক) বৈজ্ঞানিক আরোহ (খ) অবৈজ্ঞানিক আরোহ (গ) সাদৃশ্যানুমান (ঘ) যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ
১৪। ‘শান্তি নয় অশান্তি’-সংজ্ঞাটিতে নিচের কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে?
(ক) রূপক (খ) বাহুল্য (গ) নঞর্থক (ঘ) অবান্তর
১৫। যৌক্তিক বিভাগে পদের কোন দিকটি বিবেচ্য?
(ক) লক্ষণ (খ) উপলক্ষণ (গ) ব্যক্ত্যর্থ (ঘ) জাত্যর্থ
১৬। প্রকৃত আরোহ কত প্রকার?
(ক) দুই (খ) তিন (গ) চার (ঘ) পাঁচ
১৭। যৌক্তিক সংজ্ঞা হলো—
(ক) কোনো পদের জাত্যর্থের পূর্ণ প্রকাশ (খ) কোনো পদের জাত্যর্থের আংশিক প্রকাশ
(গ) কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থের পূর্ণ প্রকাশ (ঘ) কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থের আংশিক প্রকাশ
১৮। ‘মন রূপ মাঝি’ বাক্যটিতে কোন্ ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে?
(ক) বাহুল্য (খ) রূপক (গ) অব্যাপক (ঘ) দুর্বোধ্য
১৯। দ্বি-কোটিক বিভাগ শব্দের অর্থ কী?
(ক) দুই অংশে বিভক্ত করা (খ) জীব ও অ-জীবে ভাগ করা
(গ) গুণ বা পরিমাণ অনুযায়ী ভাগ করা (ঘ) প্রয়োজন ব্যতিরেকে বিভক্ত করা
২০। নিচের কোনটিকে জ্যামিতিক যুক্তিপদ্ধতি বলা হয়?
(ক) বৈজ্ঞানিক আরোহকে (খ) অবৈজ্ঞানিক আরোহকে (গ) সাদৃশ্যানুমানকে (ঘ) যুক্তিসাম্যমূলক আরোহকে
২১। ‘শিক্ষিত মানুষ’ পদটির জাত্যর্থ কয়টি?
(ক) ১ (খ) ২ (গ) ৩ (ঘ) ৪
২২। An Introduction of Logic-গ্রন্থটি কার?
(ক) এরিস্টটল (খ) প্লেটো (গ) যোসেফ (ঘ) জে. এস. মিল
২৩। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে কয়টি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়?
(ক) ১ (খ) ২ (গ) ৩ (ঘ) ৪
২৪। বৈজ্ঞানিক আরোহে কোন ধরনের যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়?
(ক) সার্বিক সদর্থক (খ) সার্বিক নঞর্থক (গ) সার্বিক সংশ্লেষক (ঘ) বিশেষ সদর্থক
২৫। নিচের কোন পদটির যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব হয় না?
(ক) মানুষ (খ) অ-মানুষ (গ) সৎ মানুষ (ঘ) শিক্ষিত মানুষ
নিচের উদ্দীপক হতে ২৬ ও ২৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
একটি বাগানে প্রবেশ করে, বাগানের প্রত্যেকটি গাছ প্রত্যক্ষ করে দেখা গেল সেগুলো আপেল গাছ। এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত করা হল যে, বাগানের সবগুলো গাছ আপেল গাছ।
২৬। উদ্দীপকে বর্ণিত অনুমানটি কোন আরোহ অনুমান?
(ক) বৈজ্ঞানিক (খ) অবৈজ্ঞানিক (গ) পূর্ণাঙ্গ (ঘ) যুক্তিসাম্যমূলক
২৭। উদ্দীপকে বর্ণিত অনুমানটিতে অনুপস্থিত?
i. আরোহমূলক লম্ফ
ii. জানা থেকে অজানায় গমন
iii. সার্বিক যুক্তিবাক্য
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii (খ) i ও iii (গ) ii ও iii (ঘ) i, ii ও iii
২৮। নিচের কোনটির যৌক্তিক বিভাগ করা সম্ভব নয়?
(ক) মধ্যবর্তী জাতি (খ) ক্ষুদ্রতম উপজাতি (গ) আসন্নতম জাতি (ঘ) আসন্নতম উপজাতি
২৯। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ কয়টি?
(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫
৩০। শ্রেণিকরণ কোন ধরনের প্রক্রিয়া?
(ক) মানসিক (খ) ব্যবহারিক (গ) অবৈজ্ঞানিক (ঘ) বৈজ্ঞানিক
সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ) — মান: ৭০
[যে কোনো সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]
১ নং প্রশ্ন
উদ্দীপক-১: ব্যস্ততা হল অবসরের অভাব।
উদ্দীপক-২: রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান।
উদ্দীপক-৩: ডাক্তার হলেন বুদ্ধিমান প্রাণী যিনি চিকিৎসাবিদ্যা প্রয়োগ করে রোগ নির্ণয় করেন।
(ক) দুর্বোধ্য সংজ্ঞা কাকে বলে? (১)
(খ) রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি কেন ঘটে? ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) উদ্দীপক-১ এ যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) উদ্দীপক-২ ও উদ্দীপক-৩ এর মধ্যে কোনটি যথার্থ সংজ্ঞাদান পদ্ধতি? বিশ্লেষণ কর। (৪)
(ক) যৌক্তিক সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে যদি অপেক্ষাকৃত কঠিন ও জটিল শব্দ ব্যবহার করা হয়, তখন যে অনুপপত্তি বা ত্রুটি ঘটে, তাকে দুর্বোধ্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি বলে।
(খ) যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি অন্যতম নিয়ম হলো, সংজ্ঞায় সর্বদা সহজ ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করতে হবে, কোনো রূপক বা আলংকারিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। যদি সংজ্ঞায় সরাসরি অর্থ প্রকাশ না করে সাহিত্যের মতো রূপক বা আলংকারিক শব্দ ব্যবহার করা হয়, তবে সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য (অর্থ স্পষ্ট করা) ব্যাহত হয়। এর ফলে রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন: ‘উট হলো মরুভূমির জাহাজ’।
(গ) উদ্দীপক-১ (“ব্যস্ততা হল অবসরের অভাব”) এ ‘নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি’ (Fallacy of Negative Definition) ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, যে পদটির সংজ্ঞা দেওয়া হবে তার অর্থ ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হবে। কোনো পদ কী নয়, তা দিয়ে তার সংজ্ঞা দেওয়া উচিত নয়; বরং পদটি আসলে কী, সেটিই উল্লেখ করতে হবে। উদ্দীপকে ‘ব্যস্ততা’ বলতে ইতিবাচকভাবে কিছু না বুঝিয়ে ‘অবসরের অভাব’ (কী নয়) বোঝানো হয়েছে। তাই এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ বা নঞর্থক সংজ্ঞা।
(ঘ) উদ্দীপক-২ এবং উদ্দীপক-৩ এর মধ্যে কোনোটিই যথার্থ সংজ্ঞাদান পদ্ধতি নয়। উভয়েই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
উদ্দীপক-২ (“রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান”): এখানে ‘চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি’ (Fallacy of Circular Definition) ঘটেছে। সংজ্ঞার নিয়ম হলো সংজ্ঞেয় পদ এবং সংজ্ঞার্থ পদ সমার্থক হতে পারবে না। কিন্তু এখানে ‘রাষ্ট্রপতি’ এবং ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ মূলত একই অর্থের ভিন্ন রূপ। পদটির অর্থ নতুন করে স্পষ্ট করা হয়নি, বরং ঘুরিয়ে একই কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপক-৩ (“ডাক্তার হলেন বুদ্ধিমান প্রাণী যিনি চিকিৎসাবিদ্যা প্রয়োগ করে রোগ নির্ণয় করেন”): এটি একটি ‘অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি’ (Fallacy of Too Broad Definition) বা ‘অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি’ (Too Narrow Definition) এর পর্যায়ে পড়ে। ডাক্তার হলেন মানুষ (বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব)। এখানে ‘বুদ্ধিমান প্রাণী’ বলে অন্যান্য প্রাণী (যাদের বুদ্ধি আছে বলে ধরা হতে পারে) এর সাথে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শুধু ‘চিকিৎসাবিদ্যা প্রয়োগ করে রোগ নির্ণয় করেন’ বলা হয়েছে, কিন্তু অনেক ডাক্তার কেবল রোগ নির্ণয় নয়, অস্ত্রোপচার (সার্জারি) বা গবেষণাও করেন। ফলে এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞা।
তাই, উভয়ের কোনোটিই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মানুসারে যথার্থ নয়।
২ নং প্রশ্ন
(ক) যৌক্তিক বিভাগ কাকে বলে? (১)
(খ) যৌক্তিক বিভাগের তুলনায় দ্বিকোটিক বিভাগকে সহজ সরল প্রক্রিয়া বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) চিত্র-১ এ কোন বিভাগ প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) চিত্র-২ ও চিত্র-৩ এর মধ্যে পার্থক্য যৌক্তিক বিভাগের নিয়মের আলোকে বিশ্লেষণ কর। (৪)
(ক) কোনো একটি সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে একটি উচ্চতর বা ব্যাপকতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত নিম্নতর উপশ্রেণিগুলোতে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।
(খ) যৌক্তিক বিভাগে একটি শ্রেণিকে তার উপজাতিগুলোতে বিভক্ত করার জন্য পদের জাত্যর্থ ও ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হয়, যা অনেক সময় কঠিন। কিন্তু দ্বিকোটিক বিভাগে (Dichotomous division) কোনো গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। এখানে একটি শ্রেণিকে কেবল একটি গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দুটি বিরুদ্ধ উপশ্রেণিতে (যেমন: সুন্দর ও অ-সুন্দর, শিক্ষিত ও অ-শিক্ষিত) ভাগ করা হয়। এটি একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এটি যৌক্তিক বিভাগের তুলনায় অনেক সহজ ও সরল।
(গ) চিত্র-১ এ ‘দ্বিকোটিক বিভাগ’ (Dichotomous Division) প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে।
দ্বিকোটিক বিভাগ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি শ্রেণিকে একটি গুণের উপস্থিতি (সদর্থক) ও অনুপস্থিতির (নঞর্থক) ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দুটি বিরুদ্ধ অংশে ভাগ করা হয়। চিত্রটিতে প্রথমে ‘ধনী’ শ্রেণিকে দানশীলতার ভিত্তিতে ‘দানশীল’ ও ‘অ-দানশীল’ এই দুটি বিরুদ্ধ অংশে ভাগ করা হয়েছে। এরপর আবার ‘দানশীল’ অংশকে কর্মঠ হওয়ার ভিত্তিতে ‘কর্মঠ’ ও ‘অ-কর্মঠ’ অংশে ভাগ করা হয়েছে। এই ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভিত্তিক ধারাবাহিক বিভাজনই হলো দ্বিকোটিক বিভাগের মূল বৈশিষ্ট্য।
(ঘ) চিত্র-২ ও চিত্র-৩ উভয় ক্ষেত্রেই যৌক্তিক বিভাগের নিয়মাবলি লঙ্ঘন করা হয়েছে, তবে দুটি ভিন্ন অনুপপত্তি বা ত্রুটি ঘটেছে।
যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম হলো, কেবল কোনো ‘শ্রেণিবাচক পদ’ বা ‘জাতি’ কে তার উপজাতিতে ভাগ করা যায়। কিন্তু কোনো একক বস্তু বা বিশিষ্ট পদকে তার বিভিন্ন গুণ বা অঙ্গে ভাগ করা যৌক্তিক বিভাগ নয়।
চিত্র-২ এ ‘গুণগত বা রূপগত বিভাগ’ (Metaphysical Division) ঘটেছে: এখানে ‘একটি ঘড়ি’ নামক বিশিষ্ট বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যে (যেমন: মূল্য, ওজন, সৌন্দর্য, সঠিক সময়) ভাগ করা হয়েছে। এটি যৌক্তিক বিভাগ নয়, কারণ মূল্য বা ওজন ঘড়ির কোনো উপজাতি নয়, এগুলো কেবল তার গুণ।
চিত্র-৩ এ ‘অঙ্গগত বিভাগ’ (Physical Division) ঘটেছে: এখানে ‘একটি ঘড়ি’ কে তার ভৌত অংশ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে (যেমন: বেল্ট, কাঁটা, ডায়াল, চাবি) ভাগ করা হয়েছে। একটি ঘড়িকে ভাঙলে এই অংশগুলো পাওয়া যায়, কিন্তু এগুলো ঘড়ির কোনো শ্রেণি বা উপজাতি নয়।
পার্থক্য হলো, চিত্র-২ এ বস্তুকে তার অদৃশ্য ‘গুণাবলি’ বা রূপের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে, আর চিত্র-৩ এ বস্তুকে তার দৃশ্যমান ‘ভৌত অঙ্গে’ ভাগ করা হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের মানদণ্ডে উভয় প্রক্রিয়াই অবৈধ।
৩ নং প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে ১০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রত্যেকেই দেশি-বিদেশি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। অতএব বঙ্গভবনে আমন্ত্রিত অতিথিদের সকলেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
দৃশ্যকল্প-২: মানুষ, পশু, পাখি, মাছ প্রভৃতি প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। অতএব সকল প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন।
দৃশ্যকল্প-৩: অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা বিশ্বাসী হয়। অতএব সকল ঘনিষ্ঠ বন্ধুই বিশ্বাসী।
(ক) যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ কাকে বলে? (১)
(খ) আরোহে ‘ঘটনা পর্যবেক্ষণ’ বলতে কী বোঝানো হয়? ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোহ নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর পার্থক্য উল্লেখপূর্বক কোনটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম? বিশ্লেষণ কর। (৪)
(ক) জ্যামিতিক যুক্তির মাধ্যমে কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্র সম্পর্কে যা প্রমাণ করা হয়, সেই একই যুক্তির ভিত্তিতে সমজাতীয় অন্য সব ক্ষেত্র সম্পর্কেও তা সত্য বলে অনুমান করার প্রক্রিয়াকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ (Induction by Parity of Reasoning) বলে।
(খ) আরোহ অনুমানে ‘ঘটনা পর্যবেক্ষণ’ বলতে প্রকৃতিতে ঘটা বিশেষ বিশেষ ঘটনাগুলোকে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখাকে বোঝায়। আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাথমিক উপাদানই হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা। আমরা চারপাশে ঘটা ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেখান থেকে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করি এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাই। তাই ঘটনা পর্যবেক্ষণ হলো আরোহের বস্তুগত ভিত্তি।
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ ‘পূর্ণাঙ্গ আরোহ’ (Perfect Induction) নির্দেশিত হয়েছে।
যে আরোহ প্রক্রিয়ায় কোনো একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্তকে আলাদা আলাদাভাবে গণনা বা পর্যবেক্ষণ করে সেই সার্বিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। উদ্দীপকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রিত ১০০ জন অতিথির প্রত্যেককে (১০০ জনকেই) যাচাই করে দেখা হয়েছে যে তারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। যেহেতু এখানে কোনো দৃষ্টান্ত বাদ না দিয়ে শতভাগ যাচাই করে তারপর সার্বিক সিদ্ধান্ত (“সকল অতিথি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা”) নেওয়া হয়েছে, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহ বা গণনামূলক আরোহের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এতে আরোহমূলক লম্ফ বা ‘অজানা’ বলতে কিছু থাকে না।
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ হলো ‘বৈজ্ঞানিক আরোহ’ (Scientific Induction) এবং দৃশ্যকল্প-৩ হলো ‘অবৈজ্ঞানিক আরোহ’ (Unscientific Induction)।
পার্থক্য: বৈজ্ঞানিক আরোহে (দৃশ্যকল্প-২) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির পাশাপাশি কার্যকারণ সম্পর্ক (জীবনের সাথে অক্সিজেনের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক) প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে (দৃশ্যকল্প-৩) কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না, কেবল অবাধ ও ব্যতিক্রমহীন অভিজ্ঞতার (ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা বিশ্বাসী হয়) ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোনটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম: দৃশ্যকল্প-২ বা বৈজ্ঞানিক আরোহ নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম। কারণ এখানে অক্সিজেন এবং প্রাণীর জীবনধারণের মধ্যে একটি বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণিত। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ বা অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য। ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা বিশ্বাসী হয়—এটি একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা, কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ নেই। যেকোনো সময় এর ব্যতিক্রম (অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ বন্ধু বেইমানি করতে পারে) ঘটতে পারে। তাই বৈজ্ঞানিক আরোহ (দৃশ্যকল্প-২) সর্বদা নিশ্চিত এবং অবৈজ্ঞানিক আরোহ (দৃশ্যকল্প-৩) সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
৪ নং প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ঈগল, চিল, শকুন ইত্যাদি শিকারি পাখিরই ঠোঁট শক্ত। অতএব সব শিকারি পাখির ঠোঁটই শক্ত।
দৃশ্যকল্প-২: আবির হোসেন ও ইফফাত হোসেন উভয়েই সরকারি চাকরি করেন। আবির হোসেন অবসর গ্রহণের পর পেনশনের সুবিধা পেয়েছেন। সুতরাং ইফফাত হোসেনও পেনশনের সুবিধা পাবেন।
দৃশ্যকল্প-৩: মানিক সাহেব ও হানিফ সাহেব উভয়েই দীর্ঘ পঁচিশ বছরেরও অধিক সময় আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। উভয়েই ধার্মিক ও সৎ জীবন-যাপন করেন। সম্প্রতি মানিক সাহেব দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সুতরাং হানিফ সাহেবও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হবেন।
(ক) আরোহমূলক উল্লম্ফন কাকে বলে? (১)
(খ) ঘটনা সংযোজনকে কেন অপ্রকৃত আরোহ বলা হয়? ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃত না অপ্রকৃত আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর পার্থক্য উল্লেখপূর্বক কোনটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম? বিশ্লেষণ কর। (৪)
(ক) আরোহ অনুমানে জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে, বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে বা প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষে গমন করার যে মানসিক ঝুঁকি বা উল্লম্ফন থাকে, তাকেই আরোহমূলক উল্লম্ফন (Inductive Leap) বলে।
(খ) প্রকৃত আরোহের প্রধান ও অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য হলো ‘আরোহমূলক লম্ফ’ থাকা। কিন্তু ‘ঘটনা সংযোজন’ (Colligation of Facts) প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একটি সাধারণ ধারণার মাধ্যমে যুক্ত করা হয় মাত্র। এতে জানা থেকে অজানায় গমনের কোনো ঝুঁকি বা আরোহমূলক লম্ফ থাকে না। যেহেতু আরোহের মূল বৈশিষ্ট্যই এতে অনুপস্থিত, তাই একে অপ্রকৃত আরোহ বলা হয়।
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃত আরোহ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ) প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকৃত আরোহ বলতে আমরা বুঝি সেই আরোহকে, যেখানে আরোহমূলক লম্ফ বর্তমান থাকে। উদ্দীপকে ঈগল, চিল, শকুন প্রভৃতি কয়েকটি বিশেষ শিকারি পাখির ঠোঁট শক্ত দেখে পৃথিবীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল শিকারি পাখির ঠোঁট শক্ত বলে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘কয়েকটি জানা দৃষ্টান্ত’ থেকে লাফ দিয়ে ‘সকল অজানা দৃষ্টান্তে’ পৌঁছানো হয়েছে। যেহেতু এখানে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত, তাই এটি একটি প্রকৃত আরোহ। নির্দিষ্টভাবে এটি অবৈজ্ঞানিক বা লৌকিক আরোহের উদাহরণ।
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ হলো ‘যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ’ (Induction by Parity of Reasoning) এবং দৃশ্যকল্প-৩ হলো ‘সাধু সাদৃশ্যানুমান’ (Good Analogy) বা ‘অসাধু সাদৃশ্যানুমান’ (Bad Analogy) [এখানে মূলত অসাধু সাদৃশ্যানুমান]।
পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-২ এ সরকারি চাকরির একই নীতি বা আইনের ভিত্তিতে আবির ও ইফফাতের পেনশনের বিষয়টি প্রমাণিত। একটি নিয়ম একজনের জন্য যেমন সত্য, একই শর্তে অন্যের জন্যও তা একইভাবে প্রযোজ্য। অন্যদিকে দৃশ্যকল্প-৩ এ মানিক ও হানিফ সাহেবের মধ্যে পেশা ও ধর্মানুরাগের সাদৃশ্য থাকলেও, এর সাথে ‘দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার’ কোনো প্রাসঙ্গিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। এটি নেহায়েত একটি অমৌলিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত অসাধু অনুমান।
কোনটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম: দৃশ্যকল্প-২ বা যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম। কারণ এটি রাষ্ট্রীয় আইন বা সার্বিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে কোনো ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই। কিন্তু দৃশ্যকল্প-৩ (অসাধু সাদৃশ্যানুমান) এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সম্ভাব্য ও অযৌক্তিক। পেশা বা সততা এক হলেই যে দুজনের একই রোগ হবে—এমন ধারণার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তাই দৃশ্যকল্প-২ নিশ্চিত এবং দৃশ্যকল্প-৩ অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
৫ নং প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: নিয়মিত সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকাই নামিবার শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতির কারণ।
দৃশ্যকল্প-২: ডাঃ অনীক মনে করেন, অলস জীবন, জাঙ্কফুড গ্রহণ, অনিদ্রা ইত্যাদি স্থূলতার কারণ。
দৃশ্যকল্প-৩: এলাকাবাসী ধারণা করলো, দেবতার অসন্তুষ্টিই পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণ।
(ক) প্রকল্প কাকে বলে? (১)
(খ) প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাচাইকরণ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ বৈধ প্রকল্পের কোন শর্তকে লঙ্ঘন করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যে কোনটি বৈধ প্রকল্প? যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। (৪)
(ক) কোনো ঘটনা বা সমস্যার কারণ নির্ণয় করার জন্য প্রাথমিক ও সাময়িকভাবে যে আনুমানিক বা সম্ভাব্য ধারণা গঠন করা হয়, যুক্তিবিদ্যায় তাকে প্রকল্প (Hypothesis) বলে।
(খ) প্রকল্প হলো একটি আনুমানিক ধারণা, যা সত্যও হতে পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে। একটি প্রকল্প বৈজ্ঞানিক সত্য বা নিয়মে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করে এর যাচাইকরণের (Verification) ওপর। বাস্তব তথ্য বা অভিজ্ঞতার সাথে মিলিয়ে যদি দেখা যায় যে প্রকল্পটি বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবেই তা বৈধ বলে গৃহীত হয়। যাচাইকরণ ছাড়া কোনো প্রকল্পই গ্রহণযোগ্য তত্ত্বে রূপ নিতে পারে না। তাই প্রকল্পের সত্যতা প্রমাণের জন্য যাচাইকরণ অত্যাবশ্যক।
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ বৈধ প্রকল্পের ‘প্রকল্পকে আত্মবিরোধী হওয়া চলবে না’ বা ‘প্রকল্পকে বাস্তবানুগ ও প্রাসঙ্গিক হতে হবে’ শর্তটিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
বৈধ প্রকল্পের একটি প্রধান শর্ত হলো প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং সাধারণ বৈজ্ঞানিক নিয়মের বিরোধী হওয়া যাবে না। বিজ্ঞানের প্রমাণিত সত্য হলো, সূর্যালোক মানুষের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে সাহায্য করে, ঘাটতি ঘটায় না। কিন্তু উদ্দীপকে বলা হয়েছে সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকাই ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণ। এটি একটি অবাস্তব, অপ্রাসঙ্গিক এবং বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে আত্মবিরোধী একটি ধারণা। তাই এটি একটি অবৈধ প্রকল্প।
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ এবং দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যে দৃশ্যকল্প-২ হলো একটি বৈধ বা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প।
দৃশ্যকল্প-২: ডাঃ অনীক স্থূলতার (ওজন বৃদ্ধির) কারণ হিসেবে অলস জীবন, জাঙ্কফুড এবং অনিদ্রাকে দায়ী করেছেন। এটি একটি প্রাসঙ্গিক, বাস্তবসম্মত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণযোগ্য (Verifiable) প্রকল্প। চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, এই বিষয়গুলোই মেদ বা স্থূলতার মূল কারণ। তাই এটি বৈধ প্রকল্প।
দৃশ্যকল্প-৩: এলাকাবাসী পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘দেবতার অসন্তুষ্টি’ কে দায়ী করেছে। এটি একটি অবৈজ্ঞানিক, অলৌকিক ও যাচাই অযোগ্য প্রকল্প। দেবতার অসন্তুষ্টির বিষয়টি বাস্তবে প্রমাণ বা পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। লৌকিক বিশ্বাস থেকে তৈরি হওয়া এমন প্রকল্প যুক্তিবিদ্যায় সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিবেচিত হয়।
সুতরাং, যৌক্তিক শর্তাবলির আলোকে দৃশ্যকল্প-২ একটি যথার্থ ও বৈধ প্রকল্প এবং দৃশ্যকল্প-৩ একটি ভ্রান্ত ও অবৈধ প্রকল্প।
৯ নং প্রশ্ন
(ক) শ্রেণিকরণ কাকে বলে? (১)
(খ) শ্রেণিকরণকে কেন মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়? ব্যাখ্যা কর। (২)
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ কোন শ্রেণিকরণের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (৩)
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখপূর্বক কোনটি বিজ্ঞানভিত্তিক? বিশ্লেষণ কর। (৪)
(ক) কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বস্তু বা ঘটনাগুলোকে তাদের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানসিকভাবে বিভিন্ন শ্রেণি বা দলে বিন্যস্ত করার প্রক্রিয়াকে শ্রেণিকরণ (Classification) বলে।
(খ) শ্রেণিকরণ কোনো বাহ্যিক বা শারীরিক কাজ নয়; এটি সম্পূর্ণ চিন্তাজগতের একটি কাজ। আমরা যখন বিভিন্ন বস্তুকে তাদের গুণের ভিত্তিতে আলাদা শ্রেণিতে ফেলি, তখন বস্তুগুলোকে শারীরিকভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাতে হয় না। বরং আমরা আমাদের মনের মধ্যে ধারণা বা কল্পনার সাহায্যে তাদের একটি গ্রুপ বা শ্রেণিতে ভাগ করি। যেহেতু বস্তুগুলোকে কেবল মনে মনে গুছিয়ে রাখা হয়, তাই শ্রেণিকরণকে একটি মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এ ‘কৃত্রিম শ্রেণিকরণ’ (Artificial Classification) বা ‘পরিমাণগত শ্রেণিকরণ’ এর ইঙ্গিত রয়েছে।
যে শ্রেণিকরণে বস্তুর কোনো মৌলিক বা অন্তর্নিহিত গুণের ওপর ভিত্তি না করে, কেবল বাহ্যিক, ব্যবহারিক বা পরিমাণগত সুবিধার ওপর ভিত্তি করে বস্তুগুলোকে সাজানো হয়, তাকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলে। উদ্দীপকে ফার্মেসির ভিটামিন-ডি ট্যাবলেটগুলোকে তাদের পাওয়ার বা মাত্রার (35,000 unit, 30,000 unit, 20,000 unit) ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এটি করা হয়েছে কেবল বিক্রেতা বা ক্রেতার সাময়িক সুবিধার জন্য, কোনো গভীর বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য নয়। তাই এটি কৃত্রিম শ্রেণিকরণের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ হলো ‘প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ’ (Natural/Scientific Classification) এবং দৃশ্যকল্প-৩ হলো ‘কৃত্রিম বা অবৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ’ (Artificial Classification)।
পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-২ এ খেজুর গাছগুলোকে তাদের মৌলিক, জন্মগত ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে (যেমন: জিহাদি, মরিয়ম, আজোয়া) ভাগ করা হয়েছে। এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম মেনে করা হয়েছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ এ বইমেলার বইগুলোকে কেবল পাঠক বা ক্রেতার খোঁজার সুবিধার জন্য বাহ্যিক বিষয়বস্তু অনুযায়ী (গল্প, কবিতা, উপন্যাস) সাজানো হয়েছে। এখানে কোনো বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য নেই।
কোনটি বিজ্ঞানভিত্তিক: দৃশ্যকল্প-২ অর্থাৎ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ হলো বিজ্ঞানভিত্তিক। বৈজ্ঞানিক বা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মূল উদ্দেশ্যই হলো বস্তুসমূহের অন্তর্নিহিত ও সাধারণ গুণাবলি আবিষ্কার করা এবং প্রকৃতির অন্তর্নিহিত নিয়ম জানা। খেজুরের জাত বিভাগ একটি সুনির্দিষ্ট উদ্ভিদতাত্ত্বিক বিষয়। কিন্তু বইয়ের স্টল সাজানো কেবল একটি সাময়িক ও ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটায়। তাই দৃশ্যকল্প-২ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অন্বেষণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
Abswer.com — HSC Logic 2nd Paper (2026) Complete Solution




