مجموعة (أ)
الدرجة— ١٥×٤ = ٦٠
١- تحدث عن احوال العرب الدينية والثقافية قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم-
[রাসুল (স) এর নবুওয়াতের পূর্বে আরবদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অবস্থা আলোচনা কর।]
উত্তর: রাসুল (সা.)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আরবের অবস্থাকে ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয়।
ধর্মীয় অবস্থা: তৎকালীন আরবরা প্রধানত মূর্তিপূজক ছিল। পবিত্র কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে লাত, মানাত, উযযা ও হুবাল ছিল প্রধান। কিছু ইহুদি ও খ্রিষ্টান থাকলেও তারা ধর্মের মূল নির্যাস থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন, যাদের ‘হানিফ’ বলা হতো।
সাংস্কৃতিক অবস্থা: সাংস্কৃতিক দিক থেকে আরবরা কাব্যচর্চায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। ওকাজ মেলায় প্রতি বছর কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন হতো এবং বিজয়ী কবিতাগুলো (সাবয়ে মুয়াল্লাকা) কাবার গায়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো। তাদের স্মরণশক্তি ও আতিথেয়তা ছিল অতুলনীয়। তবে ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি মদ্যপান, জুয়া, কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া এবং সামান্য কারণে বছরের পর বছর গোত্রীয় যুদ্ধ (যেমন: হারবুল ফিজার) চালিয়ে যাওয়ার মতো চরম অবক্ষয়ও তাদের সংস্কৃতিতে মিশে ছিল।
٢- اكتب عن الدعوة الجهرية للرسول صلى الله عليه وسلم وأساليب المشركين في محاربتها-
[রাসুল (স) এর প্রকাশ্য দাওয়াত এবং উহা প্রতিরোধে মুশরিকদের কৌশলাদি সম্পর্কে লিপিবদ্ধ কর।]
উত্তর: প্রকাশ্য দাওয়াত: নবুওয়াতের তিন বছর পর আল্লাহর নির্দেশে (“তোমার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করো”) রাসুল (সা.) সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মক্কাবাসীদের প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেন। তিনি এক আল্লাহর ইবাদত এবং মূর্তিপূজা ত্যাগের আহ্বান জানান।
মুশরিকদের প্রতিরোধ কৌশল:
১. বিদ্রূপ ও অপপ্রচার: কুরাইশরা রাসুল (সা.)-কে জাদুকর, পাগল ও কবি বলে আখ্যায়িত করে।
২. প্রলোভন: তারা অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা ও সুন্দরী নারীর প্রলোভন দেখায় (উতবার প্রস্তাব)।
৩. শারীরিক নির্যাতন: বিলাল (রা.), সুমাইয়া (রা.), ইয়াসির (রা.) সহ দুর্বল মুসলিমদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
৪. সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কট: বনু হাশিমকে শিয়াবে আবি তালিবে তিন বছর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
৫. হত্যার ষড়যন্ত্র: পরিশেষে তারা নবীজিকে (সা.) হত্যার ষড়যন্ত্র করে, যা হিজরতের প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
٣- اذكر شروط ميثاق المدينة- ثم تحدث عن اهمية هذا الميثاق فى التاريخ الإسلامي-
[মদিনা সনদের শর্তাবলি আলোচনা কর। অতঃপর ইসলামের ইতিহাসে এর প্রভাব তুলে ধর।]
উত্তর: মদিনা সনদের প্রধান শর্তাবলি:
১. সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায় মিলে একটি সাধারণ জাতি (উম্মাহ) গঠন করবে।
২. প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে, কেউ কারও ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. মদিনা আক্রান্ত হলে সকল সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে শত্রুর মোকাবিলা করবে।
৪. রাসুলুল্লাহ (সা.) হবেন মদিনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধান বিচারপতি। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে না।
ইসলামের ইতিহাসে এর প্রভাব: মদিনা সনদ হলো পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান। এর মাধ্যমে মদিনায় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, গোত্রীয় কলহের অবসান ঘটে এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। এটি মহানবী (সা.)-এর অতুলনীয় রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার প্রমাণ।
٤- تحدث عن نزل الوحى والدعوة السرية-
[ওহি নাজিল ও গোপনে ইসলামি দাওয়াত সম্পর্কে বর্ণনা দাও।]
উত্তর: ওহি নাজিল: মহানবী (সা.) চল্লিশ বছর বয়সে মক্কার অদূরে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাকালীন জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহি প্রাপ্ত হন। প্রথম নাজিলকৃত আয়াত ছিল সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত (“পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন…”)।
গোপনে ইসলামি দাওয়াত: নবুওয়াত প্রাপ্তির পর প্রথম তিন বছর তিনি অত্যন্ত গোপনে ইসলাম প্রচার করেন। প্রথমে নিজ পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের তিনি দাওয়াত দেন। খাদিজা (রা.), আলী (রা.), আবু বকর (রা.) এবং যায়েদ (রা.) প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কায় ‘দারুল আরকাম’ ছিল এই গোপন দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের প্রধান কেন্দ্র।
٥- تحدث عن غزوة بدر ثم اكتب اثرها فى تاريخ الاسلامية-
[বদরের যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা কর। অতঃপর ইসলামের ইতিহাসে তার প্রভাব লিপিবদ্ধ কর।]
উত্তর: বদরের যুদ্ধ: দ্বিতীয় হিজরির ১৭ই রমজান (৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার উপকণ্ঠে বদর প্রান্তরে মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কুরাইশদের আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলা আক্রমণের মিথ্যা গুজবে আবু জাহেলের নেতৃত্বে ১০০০ সুসজ্জিত সৈন্য মদিনা আক্রমণ করতে আসে। বিপরীতে মহানবী (সা.) মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র সাহাবি নিয়ে তাদের মোকাবিলা করেন এবং আল্লাহর সাহায্যে মুসলিমরা ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে।
ইসলামের ইতিহাসে প্রভাব: বদর যুদ্ধ ইসলামের প্রথম ও সবচেয়ে নির্ধারক সামরিক বিজয়। এই বিজয় মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং আরবে একটি সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মদিনা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা লাভ ঘটে। আবু জাহেলসহ ৭০ জন কুরাইশ নেতা নিহত হওয়ায় মক্কার আধিপত্য চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
٦- تحدث عن اخلاق النبى صلى الله عليه وسلم وشمائله-
[মহানবি (স) এর স্বভাব ও চারিত্রিক গুণাবলি আলোচনা কর।]
উত্তর: মহানবী (সা.) ছিলেন মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী” (সূরা কালাম: ৪)। নবুওয়াতের পূর্বেই তিনি মক্কাবাসীর কাছে ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) ও ‘আস-সাদিক’ (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমাশীল; মক্কা বিজয়ের দিন চরম শত্রুদেরও তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তাঁর ন্যায়বিচার, বিনয়, দয়া এবং আতিথেয়তা ছিল দৃষ্টান্তমূলক। নারী, শিশু, এতিম ও দাস-দাসীদের প্রতি তিনি ছিলেন পরম করুণাময়। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং সর্বদা হাসিমুখে কথা বলতেন।
٧- ماذا تعرف عن حول النبي صلى الله عليه وسلم ورضاعته مفصلا-
[নবি (স) এর জন্ম ও দুধপান সম্পর্কে যা জান লেখ।]
উত্তর: জন্ম: মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে, ‘আমুল ফিল’ বা হাতির বছর রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ তাঁর জন্মের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাতার নাম আমিনা এবং দাদার নাম আবদুল মুত্তালিব।
দুধপান: জন্মের পর প্রথম কয়েকদিন তিনি মা আমিনা এবং পরবর্তীতে আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবা (রা.)-এর দুধ পান করেন। এরপর আরবের অভিজাত প্রথা অনুযায়ী বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শেখা ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য তাঁকে বনু সাদ গোত্রের ধাত্রী হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি প্রায় পাঁচ বছর তাঁর কাছে লালিত-পালিত হন।
٨- تحدث عن وجه تسمية غزوة الأحزاب وأسبابها ونتائجها-
[আহযাব যুদ্ধের নামকরণ এবং উহার কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা দাও।]
উত্তর: নামকরণ: ‘আহযাব’ অর্থ দল বা সম্মিলিত বাহিনী। মক্কার কুরাইশ, মদিনার নির্বাসিত ইহুদি এবং বিভিন্ন আরব গোত্র সম্মিলিত হয়ে মদিনা আক্রমণ করেছিল বলে একে ‘গাযওয়ায়ে আহযাব’ বলা হয়। মদিনার চারপাশে পরিখা খনন করে আত্মরক্ষা করা হয়েছিল বলে এর অপর নাম ‘খন্দকের যুদ্ধ’।
কারণ: উহুদ যুদ্ধের অসম্পূর্ণ বিজয়, ইহুদি গোত্র বনু নাযিরকে মদিনা থেকে নির্বাসন, এবং ইসলামি রাষ্ট্রের দ্রুত প্রসারে কুরাইশদের আতঙ্ক এই যুদ্ধের মূল কারণ।
ফলাফল: প্রায় এক মাস মদিনা অবরোধ করে রাখার পর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে সম্মিলিত বাহিনীর তাবু উড়ে যায় এবং তারা পর্যুদস্ত হয়ে মদিনা ত্যাগ করে। এই যুদ্ধে মুসলিমদের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয় এবং মক্কার কুরাইশদের আক্রমণ করার সক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়।
مجموعة (ب)
الدرجة— ٥×٤ = ٢٠
٩- تحدث عن غزوة تبوك-
[তাবুক অভিযান সম্পর্কে যা জান লেখ।]
উত্তর: নবম হিজরিতে (৬৩০ খ্রি.) রোমান (বাইজেন্টাইন) সম্রাট হেরাক্লিয়াস মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে মহানবী (সা.) ৩০ হাজার সাহাবির এক বিশাল বাহিনী নিয়ে রোমান সীমান্তে তাবুক নামক স্থানে অগ্রসর হন। এটি ছিল চরম গ্রীষ্মকাল এবং মুসলিমদের চরম আর্থিক সঙ্কটের সময় (যাকে ‘জায়শুল উসরা’ বা কষ্টের বাহিনী বলা হয়)। তবে মুসলিমদের বিশাল বাহিনীর খবর শুনে রোমানরা ভয়ে পিছু হটে এবং কোনো যুদ্ধ ছাড়াই মুসলিম বাহিনী বিজয়ী বেশে ফিরে আসে।
١٠- من هو بلال بن رباح؟ اذكر قصة إسلامة-
[বিলাল বিন রাবাহ কে? তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখ কর।]
উত্তর: বিলাল বিন রাবাহ (রা.) ছিলেন একজন হাবশি (ইথিওপীয়) বংশোদ্ভূত ক্রীতদাস এবং ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুয়াজ্জিন।
ইসলাম গ্রহণ: তিনি মক্কার নিষ্ঠুর কাফির উমাইয়া বিন খালাফের দাস ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের খবর জানতে পেরে উমাইয়া তাঁকে মক্কার উত্তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে বুকে ভারী পাথর চাপা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করত। কিন্তু তিনি শুধু ‘আহাদ, আহাদ’ (আল্লাহ এক) উচ্চারণ করতেন। তাঁর এই ঈমানি দৃঢ়তা দেখে আবু বকর (রা.) তাঁকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে স্বাধীন করে দেন।
١١- ما الفرق بين الغزوة والسرية؟
[গাযওয়া ও সারিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?]
উত্তর: গাযওয়া: যে সকল সামরিক অভিযানে মহানবী (সা.) স্বয়ং সশরীরে উপস্থিত থেকে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে গাযওয়া বলা হয়। যেমন: বদর, উহুদ, খন্দক।
সারিয়া: যে সকল অভিযানে মহানবী (সা.) নিজে উপস্থিত না থেকে সাহাবিদের মধ্য থেকে কাউকে সেনাপতি নিযুক্ত করে সৈন্য প্রেরণ করেছেন, তাকে সারিয়া বলা হয়। যেমন: মুতার যুদ্ধ।
١٢- قوّم النبى صلى الله عليه وسلم رئيس الحكومة-
[রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে মহানবি (স) এর মূল্যায়ন কর।]
উত্তর: মদিনায় হিজরতের পর মহানবী (সা.) শুধু একজন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সফল রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়নের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান তৈরি করেন, যা নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দলিল। দক্ষ কূটনীতি, ন্যায়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা, সফল সামরিক নেতৃত্ব এবং একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়কের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
١٣- بين واقعة هجرة المسلمين الى الحبشة – وما هو الإسم الحالى للحبشة؟
[মুসলমানদের হাবশায় হিজরতের বর্ণনা দাও। হাবশার বর্তমান নাম কী?]
উত্তর: মক্কায় কুরাইশদের অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশে প্রথম পর্যায়ে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮৩ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী সাহাবি আবিসিনিয়া বা হাবশাতে হিজরত করেন। সেখানকার ন্যায়পরায়ণ খ্রিষ্টান রাজা নাজাশি তাঁদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদান করেন।
হাবশার বর্তমান নাম হলো ইথিওপিয়া।
١٤- بين واقعة غزوة الاحزاب مختصرا-
[আহযাব যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।]
উত্তর: পঞ্চম হিজরিতে (৬২৭ খ্রি.) ইহুদি ও কুরাইশদের প্ররোচনায় প্রায় ১০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল সম্মিলিত বাহিনী মদিনা আক্রমণ করে। মহানবী (সা.) সাহাবি সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে মদিনার অরক্ষিত দিকে বিশাল পরিখা (খন্দক) খনন করে শহর সুরক্ষিত করেন। প্রায় ২৭ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর আল্লাহ তায়ালার রহমতে প্রচণ্ড ধূলিঝড় শত্রুদের তাঁবু লণ্ডভণ্ড করে দেয় এবং তারা ব্যর্থ মনোরথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
١٥- ما معنى الغزوة والسرية؟ كم غزوة غزاها الرسول صلى الله عليه وسلم؟
[গাযওয়া ও সারিয়্যা বলতে কী বুঝায়? রসুলুল্লাহ (স) কতটি গাযওয়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন?]
উত্তর: গাযওয়া বলতে বোঝায় সেই যুদ্ধ যেখানে নবীজি (সা.) স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছেন। আর সারিয়া বলতে বোঝায় সেই সামরিক অভিযান যেখানে তিনি নিজে না গিয়ে সাহাবিদের পাঠিয়েছেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বমোট ২৭টি (কোনো কোনো বর্ণনায় ২৮ বা ২৯টি) গাযওয়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ৯টিতে প্রত্যক্ষ সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছিল।
١٦- ما هو حرب الفجار؟ بين مفصلا-
[হরবুল ফুজ্জার কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
উত্তর: ‘হারবুল ফিজার’ বা ‘অন্যায় যুদ্ধ’ হলো ইসলাম পূর্ব যুগে আরবে সংঘটিত একটি ভয়াবহ যুদ্ধ। আরবে জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব মাসকে পবিত্র মাস গণ্য করা হতো এবং এ সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এই পবিত্র মাসগুলোর সম্মান লঙ্ঘন করে কুরাইশ-কিনানা এবং হাওয়াজিন গোত্রের মধ্যে ওকাজ মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ যুদ্ধ বেধে যায়, যা পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল। পবিত্র মাসের অবমাননা হওয়ায় একে ‘ফিজার’ (পাপাচারের যুদ্ধ) বলা হয়। কিশোর বয়সে মহানবী (সা.) এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং চাচাদের তীর কুড়িয়ে দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেই পরবর্তীতে তিনি শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ গঠন করেন।