Bangla (Code: 201104) – ২০২২ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২২ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাংলা (Bangla) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অরিজিনাল প্রশ্নপত্রের ক, খ, গ এবং ঘ বিভাগের সবকটি প্রশ্নের (অথবাসহ) ১০০% নির্ভুল উত্তর দেওয়া হলো।
ক বিভাগ (মান—১০x২=২০)
১। (ক) বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ সম্পর্কে পণ্ডিতদের মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে ভাষাতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতগণ প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করেছেন। তবে যুগবিভাগের সঠিক সময়কাল নিয়ে পণ্ডিতদের মাঝে সামান্য মতভেদ রয়েছে:
- প্রাচীন যুগ: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল প্রাচীন যুগ। তবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। এ যুগের একমাত্র নিদর্শন হলো ‘চর্যাপদ’।
- মধ্যযুগ (১২০১ – ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ): পণ্ডিতদের ঐকমত্যে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলা হয়। এই যুগকে আবার কয়েকটি উপবিভাগে ভাগ করা হয়। ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে ‘অন্ধকার যুগ’ বলা হয়, কারণ এ সময় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি। এরপর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য এবং রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে ওঠে।
- আধুনিক যুগ (১৮০১ থেকে বর্তমান): ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশের মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগের সূচনা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে এই আধুনিক যুগ পূর্ণতা লাভ করে এবং তা আজও চলমান।
১। (খ) টীকা লেখ: ইউসুফ-জোলেখা, পদ্মাবতী
উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হলো ‘ইউসুফ-জোলেখা’। এর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বাঙালি রচয়িতা হলেন শাহ মুহম্মদ সগীর। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের আমলে (১৩৮৯-১৪১১) এই কাব্য রচিত হয়। কাব্যের মূল কাহিনী নেওয়া হয়েছে পবিত্র কুরআন ও ফারসি সাহিত্য (বিশেষত জামি-র কাব্য) থেকে। তবে কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এতে বাংলার রূপ-রস ও মানবীয় প্রেমের এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়েছেন, যা তৎকালীন সাহিত্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
পদ্মাবতী: মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি মহাকবি আলাওলের অমর সৃষ্টি ‘পদ্মাবতী’। সপ্তদশ শতকে আরাকান রাজসভায় বসে রোসাঙ্গ অধিপতির অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কাব্যটি মূলত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের ভাবানুবাদ। চিতোরের রানি পদ্মাবতী এবং রাজা রত্নসেনের প্রেমের কাহিনী এর উপজীব্য। আলাওলের পাণ্ডিত্য, সংস্কৃত ও আরবি-ফারসি ভাষায় অগাধ দক্ষতা এবং অসাধারণ কাব্যগুণ একে কেবল একটি অনুবাদ নয়, বরং একটি মৌলিক কাব্যের মর্যাদা দিয়েছে।
২। (ক) বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সিভিলিয়ানদের দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর উদ্দেশ্যে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ‘ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা গদ্যের বিকাশে এই কলেজের ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী ও অপরিসীম।
এই কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন উইলিয়াম কেরি। তাঁর নেতৃত্বে রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার, গোলকনাথ শর্মা প্রমুখ পণ্ডিতগণ পাঠ্যপুস্তক রচনার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের একটি শক্ত কাঠামো তৈরি করেন। এর আগে বাংলা সাহিত্যে মূলত পদ্যের প্রচলন ছিল, ব্যবহারিক গদ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ বা ব্যাকরণ ছিল না। রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারের ‘বত্রিশ সিংহাসন’ ও ‘প্রবোধ চন্দ্রিকা’, এবং উইলিয়াম কেরির ‘কথোপকথন’ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রাথমিক ভিত্তি ও প্রাঞ্জলতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ আধুনিক বাংলা গদ্যের পথপ্রদর্শক হিসেবে যে বীজ বপন করেছিল, তা পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও শৈল্পিক রূপ লাভ করে।
২। (খ) ‘নজরুল শুধু বিদ্রোহের নন, প্রেমেরও কবি’—এ কথার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে মূলত ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও, তাঁর কাব্যে ও গানে প্রেমের এক বিশাল, গভীর ও সংবেদনশীল জগত রয়েছে। তাই তাঁকে কেবল বিদ্রোহের ফ্রেমে আবদ্ধ রাখা যৌক্তিক নয়; তিনি প্রেমেরও এক অনন্য রূপকার।
নজরুলের প্রেমে আছে প্রবল আবেগ, বিরহ, তীব্র আকুলতা এবং না-পাওয়ার বেদনা। “আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন”, “মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী”, কিংবা “আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন”—এসব গান ও কবিতায় নজরুল প্রেম ও সৌন্দর্যের চিরন্তন আবেদন নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর প্রেমে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে মাটির পৃথিবীর সাধারণ মানুষের তীব্র কামনা-বাসনা ও অভিমান। ‘শিউলীমালা’ বা ‘রিক্তের বেদন’-এর মতো গল্পগুলোতে তিনি প্রেমের যে আধ্যাত্মিক ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র এঁকেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর যেমন খড়গহস্ত বিদ্রোহ ছিল, তেমনি প্রিয়ার প্রতি ছিল তাঁর কোমল, স্নিগ্ধ ও তীব্র প্রেম। সুতরাং, তিনি একই সাথে দ্রোহ ও প্রেমের এক অসামান্য কবি।
খ বিভাগ (মান—১০x২=২০)
৩। (ক) “আমাদের ভাষা সমস্যা” প্রবন্ধে ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর যুক্তিতর্কের মূল্যায়ন কর।
উত্তর: বহুভাষাবিদ ও জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর “আমাদের ভাষা সমস্যা” প্রবন্ধে সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার যৌক্তিকতা এবং পূর্ব বাংলার মানুষের মাতৃভাষার অধিকার নিয়ে জোরালো, বৈজ্ঞানিক ও অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
তিনি পরিসংখ্যান ও গণতান্ত্রিক রীতির উদাহরণ টেনে দেখিয়েছেন যে, সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা হলো বাংলা। তাই গণতান্ত্রিক নিয়মে উর্দু নয়, বরং বাংলাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়ার যোগ্যতম দাবিদার। পাশাপাশি, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী যখন আরবি হরফে বাংলা লেখার মতো অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক প্রস্তাব এনেছিল, তিনি একজন ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে তার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, একটি ভাষাকে অন্য হরফে লিখতে গেলে ভাষার নিজস্ব ধ্বনিতত্ত্ব, স্বকীয়তা এবং হাজার বছরের সাহিত্যভাণ্ডার হুমকির মুখে পড়বে। তাঁর এই দূরদর্শী ও বস্তুনিষ্ঠ যুক্তিতর্কই ভাষা আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিল এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালিকে পথ দেখিয়েছিল।
৩। (খ) সৈয়দ মুজতবা আলী বিরচিত ‘পাদটীকা’ গল্পে পণ্ডিতমশাইয়ের চরিত্র অঙ্কন কর।
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পাদটীকা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পণ্ডিতমশাই একজন আদর্শ, আত্মমর্যাদাবান কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে শোষিত শিক্ষকের প্রতীক। গল্পে তিনি অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন মানুষ, যিনি সারাজীবন শিক্ষকতা করে গেছেন, অথচ সমাজে উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সম্মান পাননি।
তাঁর চরিত্রে একাধারে পাণ্ডিত্য, সরলতা এবং সমাজের প্রতি এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে। সমাজের উঁচু স্তরের লোকেরা যখন অর্থের অহংকারে মত্ত, পণ্ডিতমশাই তখন তার ছেঁড়া চাদর ও সীমিত বেতন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও ভেতরে ভেতরে দগ্ধ হয়েছেন। গল্পের শেষে পণ্ডিতমশাইয়ের একটি ছোট্ট পাদটীকা বা মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের প্রতি অবহেলার এক করুণ ও নির্মম সত্য ফুটে উঠেছে। তিনি কোনো সরাসরি প্রতিবাদ না করলেও তাঁর সূক্ষ্ম রসবোধ ও আত্মসম্মানবোধের কারণে তিনি পাঠকের মনে একটি চিরস্থায়ী ও শ্রদ্ধাশীল স্থান অধিকার করে নেন।
৪। (ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ প্রবন্ধের নামকরণের সার্থকতা নিরূপণ কর।
উত্তর: সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা রচনার মূলভাব বা অন্তর্নিহিত অর্থকে ধারণ করে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ প্রবন্ধের নামকরণটি অত্যন্ত প্রতীকী, ব্যঞ্জনাধর্মী ও সার্থক।
আক্ষরিক অর্থে ‘তৈল’ মানে সাধারণ তেল হলেও প্রবন্ধে লেখক ‘তেল মারা’ বা ‘তোষামোদ করা’ অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও রম্য ভাষায় দেখিয়েছেন যে মানবজীবনে এবং সমাজ-সংসারে তোষামোদের প্রভাব ও ক্ষমতা কতটা ব্যাপক। চাকরি পাওয়া, পদোন্নতি, সমাজে প্রতিপত্তি লাভ—সব কাজ উদ্ধারে ‘তেল’ তথা তোষামোদের কোনো বিকল্প নেই। লেখকের মতে, যার বিদ্যা নেই, বুদ্ধি নেই, সেও যদি সঠিক জায়গায় ‘তৈল’ প্রয়োগ করতে জানে, তবে তার উন্নতি অবধারিত। প্রবন্ধের মূল উপজীব্য হলো সমাজের এই কপটতা ও তোষামোদ প্রীতি। এই মূলভাবের বাহন হিসেবে ‘তৈল’ শব্দটি এত চমৎকারভাবে ও যুক্তির সাথে ব্যবহৃত হয়েছে যে, প্রবন্ধের নামকরণ হিসেবে ‘তৈল’ শতভাগ সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে।
৪। (খ) ‘শিউলীমালা’ গল্পে প্রেমের যে স্বরূপ ফুটে উঠেছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘শিউলীমালা’ গল্পে এক অন্যরকম, স্নিগ্ধ, পবিত্র ও আত্মত্যাগী প্রেমের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। এখানে প্রেম কেবল পার্থিব প্রাপ্তি বা দৈহিক মিলনের নাম নয়, বরং তা না পাওয়ার এক মধুর বেদনায় সিক্ত।
গল্পের নায়িকা শিউলীর প্রতি প্রেম এবং তার নীরব, করুণ বিদায়ের মধ্য দিয়ে নজরুল প্রেমের এক আধ্যাত্মিক ও আত্মিক সমর্পণের দিকটি তুলে ধরেছেন। শিউলী ফুলের মতোই এই প্রেম শুভ্র, পবিত্র এবং ক্ষণস্থায়ী, যা খুব দ্রুত ঝরে পড়লেও তার সুবাস অনেক দিন থেকে যায়। শিউলীর ভালোবাসায় কোনো উচ্চকণ্ঠ দাবি ছিল না, ছিল কেবল নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও এক বুক চাপা অভিমান। সে নিজের ভালোবাসাকে নীরবে বিসর্জন দিয়ে অন্যের সুখের জন্য নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। নজরুলের এই গল্পে প্রেমের যে রূপ ফুটে উঠেছে তা আত্মকেন্দ্রিক নয়, বরং তা এক মহৎ ও বেদনাদায়ক আত্মত্যাগের মূর্ত প্রতীক।
গ বিভাগ (মান—১০x২=২০)
৫। (ক) ‘বলাকা’ কবিতা যেন রবীন্দ্রনাথের স্থবিরতার বিরুদ্ধে সচেতন বিদ্রোহ। —উক্তিটির যথার্থতার পরিচয় দাও।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কাব্যের নাম-কবিতা ‘বলাকা’ মূলত গতির বন্দনা ও অনন্ত যাত্রার জয়গান। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ, কারণ এই কবিতায় কবি মানবজীবনের জড়তা, সংস্কার ও স্থবিরতার বিরুদ্ধে এক সচেতন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
বলাকা বা বুনো হাঁসের দল যখন আকাশের দিকে উড়ে যায়, তাদের ডানা ঝাপটানোর শব্দে কবি এক অসীম ও অনন্ত যাত্রার ডাক শুনতে পান। পৃথিবীর কোনো জড়তা, মায়া বা স্থবিরতা এই যাত্রাকে আটকে রাখতে পারে না। কবি উপলব্ধি করেন যে, মানবজীবন ও বিশ্বপ্রকৃতি স্থবির বা থেমে থাকার জন্য নয়, বরং তা চিরচঞ্চল ও প্রগতিশীল। “হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে”—বলাকার ডানা ঝাপটানোর এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে কবি মূলত মানুষের মনের সকল বাধা, জড়তা ও স্থবিরতার শিকল ছিঁড়ে ফেলার তাগিদ দিয়েছেন। যা কিছু স্থির, তা মৃত। আর যা কিছু গতিশীল, তা-ই জীবন। এভাবেই ‘বলাকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের এক দার্শনিক ও সচেতন বিদ্রোহে পরিণত হয়েছে।
৫। (খ) ‘উমর ফারুক’ কবিতা অবলম্বনে হযরত উমর ফারুক (রা)-এর চারিত্রিক মাহাত্ম্যের পরিচয় দাও।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘উমর ফারুক’ কবিতায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সুবিচার, সততা, সাম্য এবং মানবপ্রেমের এক অতুলনীয় চারিত্রিক মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন।
খলিফা উমর (রা.) অর্ধ পৃথিবীর শাসক হয়েও অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। জেরুজালেমে প্রবেশের সময় একটিমাত্র উটে ভৃত্যের সাথে চড়ার পালাবদল তাঁর সাম্য ও ইনসাফের এক বিরল দৃষ্টান্ত। ভৃত্য যখন উটের পিঠে এবং খলিফা যখন উটের রশি ধরে হেঁটে জেরুজালেমে প্রবেশ করছিলেন, তখন তা দেখে পৃথিবীর বড় বড় সম্রাটরা অবাক হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া রাতের আঁধারে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের দুঃখ-কষ্টের খোঁজ নেওয়া এবং নিজের কাঁধে করে অভাবী মানুষের জন্য আটার বস্তা বয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর প্রজারঞ্জক ও দায়বদ্ধ চরিত্রের প্রমাণ দেয়। তাঁর চরিত্রে একাধারে অন্যায়ের প্রতি কঠোরতা এবং মজলুমের প্রতি চরম কোমলতা বিদ্যমান ছিল। কবিতায় উমর (রা.)-এর এই আদর্শ, ন্যায়বিচার ও চারিত্রিক মহিমাই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
৬। (ক) ‘বনলতা সেন’ কবিতায় জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতি প্রেমের যে মানসচিত্র অঙ্কন করেছেন, তা তোমার নিজের ভাষায় লেখ।
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতায় প্রকৃতির সাথে রোমান্টিক প্রেমের এক অপূর্ব ও রহস্যময় মানসচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। কবি তাঁর হাজার বছরের ক্লান্তিময় জীবনের পথে বনলতা সেন নামক এক মানবীর কাছে এসে শান্তি খুঁজে পান, কিন্তু এই মানবী বস্তুত বাংলার চিরায়ত স্নিগ্ধ প্রকৃতিরই এক প্রতিরূপ।
বনলতার চুলকে কবি তুলনা করেছেন ‘অন্ধকার বিদিশার নিশা’-এর সাথে এবং তার মুখাবয়বকে বলেছেন ‘শ্রাবস্তীর কারুকার্য’। পাখির নীড়ের মতো চোখ নিয়ে বনলতা যখন কবিকে আশ্রয় দেয়, তখন তা কেবল এক রক্তমাংসের মানবী নয়, বরং গোটা প্রকৃতির মমতাময়ী ও আশ্রয়দাত্রী রূপ হিসেবে পাঠকের সামনে ধরা দেয়। দিনের শেষে যেমন সমস্ত পাখির দল কুলায় ফিরে আসে, সব নদী যেমন মোহনায় মিলিত হয়, তেমনি কবির ক্লান্ত হৃদয়ও প্রকৃতিরূপী বনলতা সেনের কাছে এসে পরম আশ্রয় খুঁজে পায়। কবিতায় বাংলার স্নিগ্ধ প্রকৃতি, অন্ধকার, নদী এবং কবির প্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে এক অসামান্য মানসচিত্র তৈরি করেছে।
৬। (খ) ‘আমার পূর্ববাংলা’ একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা। —উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সৈয়দ আলী আহসানের ‘আমার পূর্ববাংলা’ কবিতায় পূর্ব বাংলার রূপ, প্রকৃতি এবং তার স্বকীয়তা এক সম্পূর্ণ নতুন, আধুনিক ও সতেজ আঙ্গিকে প্রকাশ পেয়েছে, যার ফলে উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।
আধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো নতুন উপমা, চিত্রকল্পের অভিনবত্ব এবং প্রচলিত গৎবাঁধা রূপকের বাইরে গিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করা। কবি পূর্ব বাংলাকে তুলনা করেছেন একটি স্নিগ্ধ, সতেজ ও শ্যামল পাতার সাথে। এই কবিতায় কোনো অতিশয়োক্তি নেই, বরং আধুনিক মনন ও নতুন উপমার সাহায্যে বাংলার মাটি, নদী, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা মূর্ত হয়ে উঠেছে। শব্দের পরিমিত ব্যবহার, বাক্যের সাবলীল গঠন এবং তীব্র ও শেকড়সন্ধানী দেশপ্রেমের কারণে ‘আমার পূর্ববাংলা’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ঘ বিভাগ (মান—৫x৪=২০)
[ যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও ]
৭। (ক) বাংলা ভাষা কাকে বলে? সাধু ও চলিতরীতির পার্থক্য লেখ।
উত্তর:
বাংলা ভাষা: যে ভাষায় বাঙালি জাতি তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাংলা ভাষা বলে।
সাধু ও চলিতরীতির পার্থক্য:
| সাধু রীতি | চলিত রীতি |
|---|---|
| ১. সাধু রীতি ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম মেনে চলে। | ১. চলিত রীতি ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম মানে না, এটি পরিবর্তনশীল। |
| ২. এতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি। | ২. এতে তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। |
| ৩. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: তাহারা, খাইতেছে)। | ৩. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: তারা, খাচ্ছে)। |
| ৪. এটি গুরুগম্ভীর এবং নাটকের সংলাপ ও দৈনন্দিন কথার জন্য অনুপযোগী। | ৪. এটি সহজ, সাবলীল এবং দৈনন্দিন কথাবার্তা ও নাটকের সংলাপের জন্য উপযোগী। |
৭। (খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (পাঁচটি): বই-পত্র, মনমাঝি, ঘরজামাই, উপজেলা, নদীমাতৃক, গৃহান্তর, গণতন্ত্র।
উত্তর:
- বই-পত্র = বই ও পত্র (দ্বন্দ্ব সমাস)
- মনমাঝি = মন রূপ মাঝি (রূপক কর্মধারয় সমাস)
- ঘরজামাই = ঘরে আশ্রিত জামাই (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- উপজেলা = জেলার সদৃশ (অব্যয়ীভাব সমাস)
- নদীমাতৃক = নদী মাতা যার (বহুব্রীহি সমাস)
- গৃহান্তর = অন্য গৃহ (নিত্য সমাস)
- গণতন্ত্র = গণের তন্ত্র বা শাসন (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
৭। (গ) প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর (পাঁচটি): অত্যন্ত, উক্ত, একুশে, ক্রেতা, পার্থিব, খেলনা, কর্তব্য।
উত্তর: (সহজ ৫টি দেওয়া হলো)
- উক্ত = বচ্ + ক্ত (কৃৎ প্রত্যয়)
- একুশে = একুশ + এ (তদ্ধিত প্রত্যয়)
- ক্রেতা = ক্রী + তৃচ্ (কৃৎ প্রত্যয়)
- পার্থিব = পৃথিবী + ষ্ণ (তদ্ধিত প্রত্যয়)
- কর্তব্য = কৃ + তব্য (কৃৎ প্রত্যয়)
- খেলনা = খেল্ + অনা (কৃৎ প্রত্যয়)
৭। (ঘ) উপসর্গ কাকে বলে? বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উপসর্গ: যেসব অর্থহীন অব্যয় শব্দ বা শব্দাংশ মূল শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে, অর্থের পূর্ণতা দান করে বা অর্থের সংকোচন-সম্প্রসারণ ঘটায়, তাদেরকে উপসর্গ বলে। যেমন: ‘কাজ’ এর আগে ‘অ’ উপসর্গ বসালে হয় ‘অকাজ’ (খারাপ কাজ)।
বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা: উপসর্গ বাংলা ভাষায় নতুন নতুন শব্দ তৈরি করে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ না থাকলেও, এটি অন্য শব্দের আগে বসে অর্থের বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। যেমন: ‘হার’ একটি শব্দ। এর আগে ‘প্র’ বসালে হয় প্রহার (মারা), ‘আ’ বসালে হয় আহার (খাওয়া), ‘বি’ বসালে হয় বিহার (ভ্রমণ)। এভাবেই উপসর্গ বাংলা ভাষার প্রকাশক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে।
৭। (ঙ) বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর:
- রেফ-এর পর দ্বিত্ব হবে না: রেফ (র্ )-এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: কর্ম (কর্ম্ম নয়), ধর্ম (ধৰ্ম্ম নয়)।
- ই-কার এবং উ-কার ব্যবহার: সকল অতৎসম (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র) শব্দে কেবল ই-কার (ি) এবং উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে, দীর্ঘ-ঈ বা দীর্ঘ-ঊ কার হবে না। যেমন: সরকারি, বাঙালি, পল্লি, খুশি।
- অনুস্বার (ং) ব্যবহার: সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ‘ম্’ স্থানে ‘ং’ (অনুস্বার) হবে। যেমন: অহম্ + কার = অহংকার, সম্ + গীত = সংগীত।
- আলি প্রত্যয়: আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে সর্বদা ই-কার (ি) হবে। যেমন: বর্ণালি, সোনালি, রূপালি।
- বিদেশি শব্দে ণ, ছ, ষ-এর ব্যবহার: বিদেশি শব্দে সাধারণত ‘ণ’, ‘ছ’, ‘ষ’ ব্যবহৃত হবে না। যেমন: কর্নার, ফার্নিচার, স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড।
৭। (চ) বিভিন্ন বিরামচিহ্নের নাম লেখ এবং সংক্ষেপে এদের ব্যবহার রীতি উদাহরণসহ আলোচনা কর।
উত্তর: কয়েকটি প্রধান বিরামচিহ্ন ও তাদের ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
- কমা বা পাদচ্ছেদ (,): বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। (১ বলতে যে সময় লাগে)। যেমন: করিম, রহিম ও জব্বার ঢাকা যাবে।
- সেমিকোলন (;): কমার চেয়ে একটু বেশি বিরতির প্রয়োজনে সেমিকোলন বসে। যেমন: কথার চেয়ে কাজের দাম বেশি; তাই কাজ করো।
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।): বাক্যের সমাপ্তি বা পূর্ণ বিরতি বোঝাতে দাড়ি বসে। যেমন: আমি প্রতিদিন স্কুলে যাই।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?): কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে বা প্রশ্ন করা হলে এই চিহ্ন বসে। যেমন: তোমার নাম কী?
- বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!): অবাক হওয়া, দুঃখ, ভয় বা আনন্দ বোঝাতে বসে। যেমন: বাহ! কী সুন্দর দৃশ্য!
৭। (ছ) ভাব-সম্প্রসারণ লেখ: স্বদেশের উপকারে নাই যার মন / কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।
ভাব-সম্প্রসারণ: দেশপ্রেম মানবজীবনের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মহৎ গুণ। যে দেশে জন্মগ্রহণ করে এবং যে দেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠে, সে দেশের প্রতি তার একটি পরম দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে। দেশের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করাই প্রকৃত মানুষের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু যার অন্তরে বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম নেই, যে কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবে, সে দেখতে মানুষের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে সে পশুর সমতুল্য।
পশুকে যেমন কেবল নিজের ক্ষুধা নিবারণ ও বাসস্থান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে শেখানো যায় না, তেমনি দেশপ্রেমহীন মানুষও কেবল নিজের ভোগ-বিলাসের চিন্তায় মগ্ন থাকে। দেশের দুর্দিনে বা সংকটে তারা কখনো এগিয়ে আসে না, বরং সুযোগ পেলে দেশের ক্ষতি করতেও দ্বিধাবোধ করে না। ইতিহাসে এ ধরনের মানুষের কোনো স্থান নেই; তারা চরম ঘৃণার পাত্র। তাই, সত্যিকারের মানুষ হতে হলে অন্তরে গভীর দেশপ্রেম থাকতে হবে এবং দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ, যে নিজের জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পারে না, সে প্রকৃত অর্থে মানুষ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
৭। (জ) বাংলা প্রভাষক পদে চাকুরীর জন্য একটি আবেদনপত্র লেখ।
আবেদনপত্র:
তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২২
বরাবর
অধ্যক্ষ
ঢাকা ফাজিল মাদ্রাসা, মিরপুর, ঢাকা।
বিষয়: বাংলা প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ১২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আপনার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ‘বাংলা’ বিষয়ে একজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি উক্ত পদের একজন আগ্রহী প্রার্থী হিসেবে নিচে আমার জীবনবৃত্তান্ত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পেশ করছি।
১. নাম: মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ
২. পিতার নাম: আবদুর রহমান
৩. মাতার নাম: ফাতেমা বেগম
৪. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: মিরপুর-১০, ঢাকা।
৫. জন্ম তারিখ: ০১-০১-১৯৯৫
৬. শিক্ষাগত যোগ্যতা:
– এসএসসি: ঢাকা বোর্ড, জিপিএ ৫.০০ (২০১০)
– এইচএসসি: ঢাকা বোর্ড, জিপিএ ৫.০০ (২০১২)
– বি.এ. সম্মান (বাংলা): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিজিপিএ ৩.৮০ (২০১৬)
– এম.এ. (বাংলা): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিজিপিএ ৩.৯০ (২০১৭)
অতএব, বিনীত প্রার্থনা, আমার জীবনবৃত্তান্ত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সদয় বিবেচনা করে আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ দান করলে আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত নিবেদক,
মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ






