Computer Literacy (Code: 201207) – ২০২৩ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ এর আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের কম্পিউটার লিটারেসি বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের বিকল্প সবগুলোর প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
(যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
[What do you mean by computer? Discuss its origin and development elaborately.]
কম্পিউটার বলতে কী বুঝ:
কম্পিউটার (Computer) শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Compute’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হিসাব বা গণনা করা। সুতরাং শাব্দিক অর্থে কম্পিউটার হলো হিসাবকারী যন্ত্র। তবে আধুনিক যুগে কম্পিউটার শুধু গণনা করার যন্ত্র নয়।
পারিভাষিক অর্থে, কম্পিউটার হলো এমন একটি উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর দেওয়া ডেটা বা উপাত্ত গ্রহণ করে, প্রদত্ত প্রোগ্রামের (নির্দেশনা) ভিত্তিতে অতি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তা প্রক্রিয়া (Process) করে, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল (Output) প্রদান করে এবং ভবিষ্যতের জন্য তা সংরক্ষণ (Store) করে রাখতে পারে।
কম্পিউটারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:
বর্তমান যুগের এই অত্যাধুনিক কম্পিউটার একদিনে তৈরি হয়নি। হাজার বছরের শত শত মানুষের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল হলো আজকের কম্পিউটার। এর ক্রমবিকাশকে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়:
- ১. অ্যাবাকাস (Abacus): আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে চীন দেশে অ্যাবাকাস নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়। এটিই মানব ইতিহাসের প্রথম গণনা যন্ত্র। এটি একটি কাঠের ফ্রেমে তার এবং পুঁতি বসানো থাকত, যা দিয়ে যোগ-বিয়োগ করা যেত।
- ২. প্যাসকেলাইন (Pascaline): ১৬৪২ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইস প্যাসকেল চাকা ও গিয়ারের সমন্বয়ে প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন, যা প্যাসকেলাইন নামে পরিচিত।
- ৩. ডিফারেন্স ও অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন: ১৮২২ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন এবং পরে ১৮৩৩ সালে অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি স্বয়ংক্রিয় হিসাবকারী যন্ত্রের নকশা করেন। তাঁর এই নকশার উপর ভিত্তি করেই আজকের আধুনিক কম্পিউটার তৈরি হয়েছে। এ কারণে চার্লস ব্যাবেজকে ‘কম্পিউটারের জনক’ (Father of Computer) বলা হয়।
- ৪. মার্ক-১ (Mark-I): ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইবিএম (IBM) এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার ‘মার্ক-১’।
- ৫. এনিয়াক (ENIAC): ১৯৪৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয় প্রথম প্রজন্মের পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার এনিয়াক। এটি ছিল আকারে বিশাল, যা একটি বড় ঘরের সমান জায়গা দখল করত এবং এতে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হতো।
- ৬. ট্রানজিস্টর ও আইসি (IC) এর যুগ: ১৯৪৮ সালে ট্রানজিস্টর এবং ১৯৫৮ সালে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) আবিষ্কৃত হলে কম্পিউটারের আকার ছোট হতে থাকে এবং কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়।
- ৭. মাইক্রোপ্রসেসরের যুগ: ১৯৭১ সালে ইন্টেল (Intel) কোম্পানি প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কার করে। এর ফলে কম্পিউটারের আকার আরও ছোট হয়ে আসে এবং তৈরি হয় পার্সোনাল কম্পিউটার (PC)। বর্তমানে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট থেকে শুরু করে আমাদের হাতের স্মার্টফোনটিও এই ক্রমবিকাশেরই সর্বশেষ আধুনিক রূপ।
[What is device? Discuss in details about the uses of mouse and scanner.]
ডিভাইস কী (What is Device):
ডিভাইস (Device) শব্দের সাধারণ অর্থ হলো যন্ত্র বা সরঞ্জাম। কম্পিউটারের ভাষায়, কম্পিউটারের সাথে যুক্ত সকল হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশকে ডিভাইস বলা হয়। এই ডিভাইসগুলো মূলত কম্পিউটারে ডেটা প্রবেশ করানো, প্রক্রিয়াকরণ করা এবং ফলাফল প্রদর্শনের কাজ করে থাকে। কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে ডিভাইস প্রধানত দুই প্রকার: ১. ইনপুট ডিভাইস (যেমন: মাউস, কিবোর্ড) এবং ২. আউটপুট ডিভাইস (যেমন: মনিটর, প্রিন্টার)।
মাউস (Mouse) এর ব্যবহার:
মাউস হলো কম্পিউটারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট বা পয়েন্টিং ডিভাইস। এর প্রধান ব্যবহারগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- পয়েন্ট ও সিলেক্ট করা: স্ক্রিনের যেকোনো আইকন, ফাইল বা ফোল্ডারের উপর মাউসের পয়েন্টার নিয়ে একবার লেফট ক্লিক করে তা সিলেক্ট করা যায়।
- প্রোগ্রাম ওপেন করা: কোনো ফাইলের উপর ডাবল ক্লিক করে খুব দ্রুত ফাইলটি ওপেন করা যায়।
- ড্র্যাগ ও ড্রপ: মাউসের লেফট বাটন চেপে ধরে কোনো ফাইলকে এক জায়গা থেকে টেনে অন্য জায়গায় স্থানান্তর (Drag and Drop) করা যায়।
- অপশন মেনু আনা: রাইট বাটন ক্লিক করে যেকোনো ফাইল বা ফোল্ডারের প্রোপার্টিজ বা অপশন মেনু (যেমন: Copy, Paste, Delete) বের করা যায়।
- স্ক্রল করা: মাউসের মাঝখানের চাকাটি (Scroll wheel) ঘুরিয়ে লম্বা কোনো ওয়েবপেজ বা ডকুমেন্টের উপর-নিচ যাওয়া যায়।
স্ক্যানার (Scanner) এর ব্যবহার:
স্ক্যানার হলো এমন একটি ইনপুট ডিভাইস, যা প্রিন্ট করা ছবি বা লেখাকে ডিজিটাল কপিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে প্রবেশ করায়। এর প্রধান ব্যবহারগুলো হলো:
- ছবি বা ডকুমেন্ট ডিজিটালাইজ করা: কাগজের ছবি, সার্টিফিকেট বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিঠিপত্র স্ক্যান করে কম্পিউটারে সেভ করে রাখা যায়, ফলে তা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।
- ইমেইলে প্রেরণ: কোনো কাগজের ডকুমেন্টের হুবহু কপি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য আগে তাকে স্ক্যান করে নিতে হয়।
- এডিটিং বা পরিবর্তন: স্ক্যান করা ছবি কম্পিউটারে নেওয়ার পর ফটোশপের মতো সফটওয়্যার দিয়ে তা এডিট, রিটাচ বা পরিমার্জন করা যায়।
- OCR প্রযুক্তিতে ব্যবহার: স্ক্যানারের সাহায্যে স্ক্যান করা কোনো টেক্সট ডকুমেন্টকে OCR (Optical Character Recognition) সফটওয়্যারের মাধ্যমে এডিটেবল টেক্সটে রূপান্তর করা যায়।
[What is worksheet? Describe how to make a worksheet.]
ওয়ার্কশিট (Worksheet) কী:
মাইক্রোসফট এক্সেল (MS Excel) প্রোগ্রামে কাজ করার জন্য সারি (Row) এবং কলাম (Column) এর সমন্বয়ে গঠিত যে বিশাল ছককাটা পাতা দেখা যায়, তাকেই স্প্রেডশিট বা ওয়ার্কশিট (Worksheet) বলা হয়। ওয়ার্কশিটের আভিধানিক অর্থ হলো ‘কাজ করার পাতা’। একটি এক্সেল ওয়ার্কবুকে ডিফল্টভাবে তিনটি ওয়ার্কশিট (Sheet1, Sheet2, Sheet3) থাকে। ওয়ার্কশিটের সারি এবং কলামের মিলিত আয়তাকার ঘরগুলোকে সেল (Cell) বলা হয়। মূলত এই সেলগুলোতেই ডেটা এন্ট্রি এবং হিসাব-নিকাশের কাজ করা হয়।
কীভাবে একটি ওয়ার্কশিট তৈরি করা যায় (How to create a worksheet):
মাইক্রোসফট এক্সেলে একটি নতুন ওয়ার্কশিট তৈরি করার নিয়ম নিচে পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করা হলো:
- এক্সেল ওপেন করা: প্রথমে কম্পিউটারের Start মেনু থেকে Microsoft Excel প্রোগ্রামটি ওপেন করতে হবে। ওপেন করার সাথে সাথেই স্ক্রিনে ‘Blank workbook’ নামে একটি ছককাটা পাতা আসবে। এটিই একটি ডিফল্ট ওয়ার্কশিট।
- নতুন শিট যুক্ত করা (পদ্ধতি ১): একটি ওয়ার্কবুকে নতুন আরেকটি ওয়ার্কশিট যোগ করতে চাইলে, এক্সেল উইন্ডোর একেবারে নিচে বাম কোণায় থাকা Sheet ট্যাবের পাশে থাকা প্লাস (+) আইকন বা ‘New Sheet’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। সাথে সাথে Sheet2 নামে একটি নতুন ওয়ার্কশিট তৈরি হয়ে যাবে।
- কিবোর্ড শর্টকাট (পদ্ধতি ২): কিবোর্ড থেকে
Shift + F11শর্টকাট কি একসাথে চাপলে মুহূর্তের মধ্যে একটি নতুন ওয়ার্কশিট যুক্ত হয়ে যাবে। - ইনসার্ট মেনু ব্যবহার (পদ্ধতি ৩): হোম (Home) ট্যাবের ডানদিকের Cells গ্রুপ থেকে Insert লেখায় ক্লিক করে ‘Insert Sheet’ অপশন নির্বাচন করলেও নতুন একটি ওয়ার্কশিট তৈরি হবে।
- ওয়ার্কশিটের নামকরণ: নতুন তৈরি হওয়া ওয়ার্কশিটটির (যেমন Sheet2) নামের উপর রাইট বাটন ক্লিক করে Rename অপশন সিলেক্ট করে নিজের ইচ্ছেমতো নাম (যেমন: Result 2023) দিয়ে Enter চাপলে ওয়ার্কশিটটির নাম পরিবর্তন হয়ে যাবে।
এভাবে খুব সহজেই আমরা এক্সেলে একাধিক ওয়ার্কশিট তৈরি করে বিশাল ডেটা বা হিসাব-নিকাশ গুছিয়ে রাখতে পারি।
[What is computer software? Discuss its classification in brief.]
কম্পিউটার সফটওয়্যার কী:
কম্পিউটার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণহীন দেহ, আর সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ। কম্পিউটারকে দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো কাজ করানোর জন্য সাজানো নির্দেশাবলি বা প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলা হয়। সফটওয়্যারের কোনো ভৌত আকার নেই এবং একে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না।
সফটওয়্যারের প্রকারভেদ (Classification of Software):
কাজের ধরন অনুযায়ী কম্পিউটার সফটওয়্যারকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software):
যে সফটওয়্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, মেমোরি পরিচালনা করে এবং কম্পিউটারকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে, তাকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি ছাড়া কম্পিউটার চালু হওয়া বা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চলা অসম্ভব।
সিস্টেম সফটওয়্যার মূলত ৩ প্রকার:
* অপারেটিং সিস্টেম: যা সম্পূর্ণ কম্পিউটারকে পরিচালনা করে। যেমন: Windows 10, Mac OS, Linux, Android.
* ইউটিলিটি সফটওয়্যার: যা কম্পিউটারকে রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটিমুক্ত রাখে। যেমন: Anti-virus.
* ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর: যা মানুষের ভাষাকে (প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ) কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। যেমন: Compiler, Interpreter.
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software):
ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা বা কাজ সমাধানের জন্য যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। কাজের ওপর ভিত্তি করে এটি আবার দুই প্রকার:
* প্যাকেজ সফটওয়্যার: যা সাধারণ মানুষের সাধারণ দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হয়। যেমন- Microsoft Word (টাইপিংয়ের জন্য), Adobe Photoshop (ছবি এডিটের জন্য)।
* কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কাজের সুবিধার্থে প্রোগ্রামার দিয়ে যে সফটওয়্যার তৈরি করে নেয়। যেমন- কোনো ব্যাংকের লেনদেন বা মাদরাসার হিসাব রাখার নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার।
[What is numbering system? Write 1 to 20 Decimal number and write the chart of similar Binary, Octal and Hexa-decimal numbers.]
সংখ্যা পদ্ধতি (Numbering System) কী:
যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো পরিমাণ বা সংখ্যা লিখে প্রকাশ করা হয় এবং গাণিতিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করা হয়, তাকে সংখ্যা পদ্ধতি (Numbering System) বলা হয়। কম্পিউটার যেহেতু মানুষের ভাষা বোঝে না, তাই সে সব ডেটাকে বাইনারি বা অন্যান্য ডিজিটাল সংখ্যা পদ্ধতিতে রূপান্তর করে কাজ করে। সাধারণত ডিজিটাল সিস্টেমে চার ধরনের সংখ্যা পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়: ডেসিমেল, বাইনারি, অক্টাল এবং হেক্সাডেসিমেল।
১-২০ পর্যন্ত ডেসিমেল এবং তার সমমানের অন্যান্য সংখ্যাগুলোর চার্ট:
| ডেসিমেল (Decimal) [ভিত্তি ১০] | বাইনারি (Binary) [ভিত্তি ২] | অক্টাল (Octal) [ভিত্তি ৮] | হেক্সাডেসিমেল (Hexadecimal) [ভিত্তি ১৬] |
|---|---|---|---|
| 1 | 1 | 1 | 1 |
| 2 | 10 | 2 | 2 |
| 3 | 11 | 3 | 3 |
| 4 | 100 | 4 | 4 |
| 5 | 101 | 5 | 5 |
| 6 | 110 | 6 | 6 |
| 7 | 111 | 7 | 7 |
| 8 | 1000 | 10 | 8 |
| 9 | 1001 | 11 | 9 |
| 10 | 1010 | 12 | A |
| 11 | 1011 | 13 | B |
| 12 | 1100 | 14 | C |
| 13 | 1101 | 15 | D |
| 14 | 1110 | 16 | E |
| 15 | 1111 | 17 | F |
| 16 | 10000 | 20 | 10 |
| 17 | 10001 | 21 | 11 |
| 18 | 10010 | 22 | 12 |
| 19 | 10011 | 23 | 13 |
| 20 | 10100 | 24 | 14 |
[What is font? Discuss the sizes and types of fonts in detail.]
ফন্ট (Font) কী:
কম্পিউটারে টাইপিং বা লেখালেখির কাজে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট স্টাইল, আকৃতি বা নকশা বিশিষ্ট অক্ষরমালাকে ফন্ট (Font) বলা হয়। এক একটি ফন্টের ডিজাইন এক এক রকম হয়, যা লেখাকে সাধারণ, শৈল্পিক বা দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। যেমন: Times New Roman, Arial, Kalpurush (বাংলা), SutonnyMJ ইত্যাদি হলো ভিন্ন ভিন্ন ফন্টের নাম।
ফন্টের গঠন বা সাইজ (Sizes of Fonts):
ফন্টের গঠন বলতে মূলত অক্ষরের আকার বা সাইজ এবং এর স্টাইলকে বোঝায়।
১. সাইজ (Size): কম্পিউটারে ফন্টের সাইজ মাপা হয় পয়েন্ট (Point বা pt) এককে। সাধারণত ৭২ পয়েন্ট সমান ১ ইঞ্চি। প্রয়োজন অনুযায়ী অক্ষরের সাইজ ৮ থেকে শুরু করে ৭২ বা তার চেয়েও বড় করা যায়। স্ট্যান্ডার্ড লেখার ক্ষেত্রে সাধারণত ১০ থেকে ১২ পয়েন্ট সাইজ ব্যবহার করা হয়।
২. স্টাইল (Style): একটি ফন্টকে সাধারণত কয়েকটি স্টাইলে রূপান্তর করা যায়। যেমন:
– Bold (বোল্ড): লেখাকে মোটা করা।
– Italic (ইটালিক): লেখাকে একটু ডানদিকে বাঁকা করা।
– Underline (আন্ডারলাইন): লেখার নিচে দাগ দেওয়া।
ফন্টের প্রকারভেদ (Types of Fonts):
ডিজাইন এবং গঠনের উপর ভিত্তি করে ফন্টকে প্রধানত কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- ১. শেরিফ ফন্ট (Serif Fonts): এই ধরনের ফন্টের অক্ষরগুলোর প্রান্তে ছোট লেজ বা অতিরিক্ত বাঁকানো অংশ (Serif) থাকে। এগুলো ছাপানো বই বা পত্রিকায় বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ তা পড়তে চোখের আরাম হয়। উদাহরণ: Times New Roman, Georgia.
- ২. স্যান্স শেরিফ ফন্ট (Sans Serif Fonts): ফরাসি শব্দ ‘Sans’ অর্থ ‘ছাড়া’ বা ‘ব্যতীত’। অর্থাৎ যে ফন্টে অক্ষরের প্রান্তে কোনো লেজ বা অতিরিক্ত অংশ থাকে না, তাকে স্যান্স শেরিফ ফন্ট বলে। এটি স্ক্রিনে (ওয়েবসাইট বা প্রেজেন্টেশনে) পড়ার জন্য বেশি মানানসই। উদাহরণ: Arial, Calibri, Helvetica.
- ৩. স্ক্রিপ্ট বা ক্যালিগ্রাফি ফন্ট (Script Fonts): এই ফন্টগুলো হাতের লেখার মতো টানা বা পেঁচানো ডিজাইনের হয়। এগুলো সাধারণত বিয়ের কার্ড বা বিশেষ কোনো শৈল্পিক ডিজাইনে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Brush Script, Lucida Handwriting.
- ৪. ডেকোরেটিভ ফন্ট (Decorative Fonts): এগুলোকে ফ্যান্সি ফন্টও বলা হয়। এগুলোর নকশা অনেক বৈচিত্র্যময় এবং আকর্ষণীয় হয়। সাধারণত লোগো বা বড় পোস্টারের শিরোনামে এগুলোর ব্যবহার দেখা যায়।
[What do you mean by network topology? Describe the kinds of network topology.]
নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology) কী:
একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে থাকা একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে যুক্ত থাকবে, তার জ্যামিতিক নকশা বা ফিজিক্যাল লেআউটকে নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology) বলা হয়। অর্থাৎ, ক্যাবল বা তারের সাহায্যে কম্পিউটারগুলোকে কোন ডিজাইনে বা মডেলে সাজানো হয়েছে, তার কাঠামোটাই হলো টপোলজি।
বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক টপোলজির বর্ণনা:
কম্পিউটারগুলো যুক্ত করার নকশার ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক টপোলজিকে প্রধানত ছয় ভাগে ভাগ করা যায়:
- ১. বাস টপোলজি (Bus Topology): এই টপোলজিতে একটি প্রধান তার বা ক্যাবল থাকে, যাকে ‘ব্যাকবোন’ বলা হয়। সব কম্পিউটার একটি ছোট তারের মাধ্যমে এই প্রধান ব্যাকবোনের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এটি তৈরি করা সহজ ও সাশ্রয়ী, তবে প্রধান ক্যাবলটি নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়।
- ২. রিং টপোলজি (Ring Topology): এই টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো একটি বৃত্তাকার বা আংটির মতো লুপ তৈরি করে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। ডেটা একটি নির্দিষ্ট দিকে (যেমন ঘড়ির কাঁটার দিকে) ঘোরে। এর বড় অসুবিধা হলো, একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে ডেটা আর সামনে যেতে পারে না।
- ৩. স্টার টপোলজি (Star Topology): এই টপোলজিতে সবগুলো কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (যাকে Hub বা Switch বলা হয়) সাথে তার দিয়ে যুক্ত থাকে। এটি তারার মতো দেখতে হয়। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য টপোলজি, কারণ একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকি নেটওয়ার্ক ঠিক থাকে। তবে কেন্দ্রীয় হাব নষ্ট হলে পুরো সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে।
- ৪. ট্রি টপোলজি (Tree Topology): এটি দেখতে অনেকটা গাছের শাখা-প্রশাখার মতো। একাধিক স্টার টপোলজিকে একত্রে যুক্ত করে এই ট্রি টপোলজি তৈরি করা হয়। বড় কোনো অফিসে বিভিন্ন ফ্লোরের নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
- ৫. মেশ টপোলজি (Mesh Topology): এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কে থাকা প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি অন্য সব কম্পিউটারের সাথে আলাদা আলাদা তার দিয়ে যুক্ত থাকে। এতে ডেটা আদান-প্রদান সবচেয়ে দ্রুত ও নিরাপদ হয়, তবে এটি তৈরি করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও জটিল।
- ৬. হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology): দুই বা ততোধিক ভিন্ন ধরনের টপোলজি (যেমন বাস, রিং, স্টার) যুক্ত করে যে নতুন বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে। ইন্টারনেটের কাঠামো হলো হাইব্রিড টপোলজির সেরা উদাহরণ।
[What do you mean by cache memory? Write the difference between hard disk and floppy disk.]
ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory) কী:
ক্যাশ মেমোরি হলো প্রসেসর (CPU) এবং প্রধান মেমোরি (RAM) এর মাঝখানে অবস্থিত এক ধরনের অত্যন্ত দ্রুতগতির ও ছোট আকারের মেমোরি।
প্রসেসরের কাজ করার গতি র্যামের চেয়ে অনেক বেশি। তাই প্রসেসর যখন র্যামের কাছে ডেটা চায়, তখন র্যামের ডেটা পাঠাতে কিছুটা দেরি হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ক্যাশ মেমোরি ব্যবহার করা হয়। যে ডেটাগুলো প্রসেসরের বারবার বা সবচেয়ে বেশি দরকার হয়, ক্যাশ মেমোরি সেগুলো র্যাম থেকে এনে নিজের কাছে জমা রাখে। ফলে প্রসেসর খুব দ্রুত ক্যাশ থেকে সেই ডেটা পেয়ে যায় এবং কম্পিউটারের কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
হার্ড ডিস্ক (Hard Disk) ও ফ্লপি ডিস্কের (Floppy Disk) মধ্যে পার্থক্য:
| হার্ড ডিস্ক (Hard Disk) | ফ্লপি ডিস্ক (Floppy Disk) |
|---|---|
| ১. ডেটা ধারণ ক্ষমতা: হার্ড ডিস্কের ডেটা ধারণ ক্ষমতা বা স্টোরেজ অনেক বিশাল। এটি 500 GB থেকে শুরু করে কয়েক TB (টেরাবাইট) পর্যন্ত হতে পারে। | ১. ডেটা ধারণ ক্ষমতা: ফ্লপি ডিস্কের ডেটা ধারণ ক্ষমতা খুবই সামান্য। একটি সাধারণ ফ্লপি ডিস্কে মাত্র 1.44 MB ডেটা রাখা যেত। |
| ২. গঠন উপাদান: হার্ড ডিস্ক ধাতু (অ্যালুমিনিয়াম বা গ্লাস) নির্মিত শক্ত গোলাকার চাকতি বা প্লেটার দিয়ে তৈরি হয়। | ২. গঠন উপাদান: ফ্লপি ডিস্ক হলো পাতলা এবং নমনীয় প্লাস্টিকের তৈরি, যা একটি শক্ত প্লাস্টিক কভারের ভেতর থাকে। |
| ৩. গতি (Speed): এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঘোরে (সাধারণত 5400 থেকে 7200 RPM) এবং দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। | ৩. গতি (Speed): এর ঘোরার গতি হার্ড ডিস্কের তুলনায় অত্যন্ত ধীর (মাত্র 300 থেকে 360 RPM)। ডেটা ট্রান্সফার রেটও খুব কম। |
| ৪. টেকসই ও স্থায়িত্ব: এটি অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই। খুব সহজে এর ভেতরের ডেটা নষ্ট হয় না। | ৪. টেকসই ও স্থায়িত্ব: এটি তেমন টেকসই নয়। ধুলাবালি বা তাপের কারণে খুব সহজেই এর ডেটা নষ্ট হয়ে যেত। |
| ৫. বর্তমান ব্যবহার: বর্তমানে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারে প্রধান স্থায়ী স্টোরেজ হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে (যদিও এখন SSD এর প্রচলন বাড়ছে)। | ৫. বর্তমান ব্যবহার: ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে এর ব্যবহার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। |
(যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
(ক) কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
[How does computer work? Describe in brief.]
কম্পিউটার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। এটি ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুসরণ করে মূলত তিনটি ধাপে কাজ সম্পন্ন করে:
১. ইনপুট (Input): প্রথমে মাউস, কিবোর্ড বা অন্য কোনো ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারে ডেটা বা নির্দেশাবলি প্রবেশ করায়।
২. প্রসেসিং (Processing): এরপর কম্পিউটারের প্রসেসর বা CPU সেই ডেটা গ্রহণ করে। সেখানে থাকা নির্দেশ অনুযায়ী CPU গাণিতিক ও যুক্তিমূলক বিশ্লেষণ করে ডেটাগুলোকে প্রক্রিয়া বা প্রসেস করে।
৩. আউটপুট (Output): প্রসেসিং শেষে প্রাপ্ত ফলাফল বা তথ্যগুলো মনিটর, স্পিকার বা প্রিন্টারের মতো আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সামনে প্রদর্শন করে। এছাড়া প্রয়োজনে ফলাফলটি হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ (Store) করেও রাখতে পারে।
(খ) সমাজে তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
[Describe briefly the impact of information technology in society.]
বর্তমান সমাজে তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology বা IT) এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছে। এর ইতিবাচক প্রভাবগুলো হলো:
– যোগাযোগ ব্যবস্থা: ইমেইল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পুরো বিশ্ব এখন একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ পরিণত হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে ভিডিও কলে কথা বলা যাচ্ছে।
– শিক্ষা খাত: অনলাইনে ক্লাস করা, ই-বুক পড়া এবং সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে মুহূর্তেই যেকোনো তথ্য খুঁজে বের করা শিক্ষার সুযোগকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
– চিকিৎসা ও কৃষি: টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যাচ্ছে। কৃষি প্রযুক্তির সাহায্যে ফলন বাড়ছে।
– কর্মসংস্থান: আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিদেশি কোম্পানিতে কাজ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও আছে, যেমন- সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধি, আসক্তি এবং যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা।
(গ) OCR ও OMR এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[Write the difference between OCR and OMR.]
OCR এবং OMR উভয়ই কম্পিউটারের ইনপুট ডিভাইস হলেও এদের কাজের ধরনে পার্থক্য রয়েছে:
১. পূর্ণরূপ: OCR এর পূর্ণরূপ হলো Optical Character Recognition। অন্যদিকে OMR এর পূর্ণরূপ হলো Optical Mark Reader।
২. কাজের ধরন: OCR স্ক্যান করা কোনো ডকুমেন্টের প্রতিটি অক্ষর (Character) আলাদাভাবে চিনতে পারে এবং তা এডিটেবল বা পরিবর্তনযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করে। আর OMR শুধু কাগজের উপর পেনসিল বা কালির ভরাট করা বৃত্ত বা দাগ (Mark) চিনতে পারে, এটি কোনো অক্ষর পড়তে পারে না।
৩. ব্যবহার: পুরোনো ছাপানো বই বা পুরোনো দলিলপত্র ডিজিটালি টাইপ করা অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে OCR ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, বহুনির্বাচনি (MCQ) পরীক্ষার উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করার জন্য OMR ব্যবহৃত হয়।
(ঘ) ডিজিটাল টেক্সট কী? ডিজিটাল টেক্সট এর বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।
[What is digital text? Mention the features of digital text.]
ডিজিটাল টেক্সট: ডিজিটাল টেক্সট বলতে এমন লেখাকে বোঝায়, যা ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি, সংরক্ষিত এবং প্রদর্শিত হয়। অর্থাৎ কাগজের পরিবর্তে কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ই-রিডারের স্ক্রিনে পড়া যায় এমন লেখাই হলো ডিজিটাল টেক্সট (যেমন: ই-বুক, ওয়েবসাইটের লেখা বা এমএস ওয়ার্ডের ডকুমেন্ট)।
এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. এডিটেবল: ডিজিটাল টেক্সট খুব সহজেই এডিট, পরিবর্তন বা মুছে ফেলা যায়, যার জন্য কালি বা কাগজের অপচয় হয় না।
২. সার্চ সুবিধা: হাজার পৃষ্ঠার বইয়ের ভেতর থেকেও কয়েক সেকেন্ডে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ (Search) খুঁজে বের করা যায়।
৩. সহজ সংরক্ষণ: লাখ লাখ পৃষ্ঠার টেক্সট একটি ছোট মেমোরি কার্ড বা পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করা যায়।
৪. শেয়ারেবিলিটি: ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তেই ডিজিটাল টেক্সট বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অন্যের সাথে শেয়ার করা যায়।
(ঙ) CPU এর কাজ বর্ণনা কর।
[Discuss the functions of CPU.]
CPU (Central Processing Unit) বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটকে কম্পিউটারের ‘মস্তিষ্ক’ বলা হয়। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
১. নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল করা: কম্পিউটারের সকল হার্ডওয়্যার (ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস) এবং সফটওয়্যারের কাজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা। এটি নির্দেশাবলি গ্রহণ করে এবং কোন অংশকে কী কাজ করতে হবে তা ঠিক করে দেয় (Control Unit এর কাজ)।
২. গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মতো গাণিতিক হিসাব এবং দুটি ডেটার মধ্যে তুলনা করার (যেমন কোনটি বড়, কোনটি ছোট) যাবতীয় লজিক্যাল কাজ সম্পন্ন করা (ALU বা Arithmetic Logic Unit এর কাজ)।
৩. ডেটা সাময়িক সংরক্ষণ: কাজ চলাকালীন সময়ে ইনপুট থেকে পাওয়া ডেটা বা নির্দেশগুলো সাময়িকভাবে রেজিস্টারে (Register) ধরে রাখা এবং প্রসেসিং শেষে তা আউটপুটে পাঠানো।
(চ) সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[Write the difference between system software and application software.]
| সিস্টেম সফটওয়্যার | অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার |
|---|---|
| ১. এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার পরিচালনা করে এবং কম্পিউটারকে সচল রাখে। | ১. এটি ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো কাজ (যেমন টাইপ করা, গান শোনা) সম্পাদনের জন্য তৈরি। |
| ২. এটি ছাড়া কম্পিউটার চালু করা বা ব্যবহার করা একেবারেই অসম্ভব। | ২. এটি না থাকলেও কম্পিউটার চালু হবে এবং অন্য কাজ করা যাবে। |
| ৩. এটি স্বাধীনভাবে চলতে পারে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চলার পরিবেশ তৈরি করে। | ৩. এটি সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের উপর নির্ভর করে চলে। |
| ৪. উদাহরণ: Windows 10, Linux, Android। | ৪. উদাহরণ: Microsoft Word, Google Chrome, WhatsApp। |
(ছ) (1001.101)2 এবং (1101.01)2 কে যোগ কর বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে।
[Adding to (1001.101)2 and (1101.01)2 using Binary system.]
সমাধান:
বাইনারি যোগের ক্ষেত্রে দশমিক বিন্দু বরাবর বসাতে হবে এবং খালি স্থানে শূন্য (0) ধরে নিতে হবে।
নিয়ম: 1+0=1, 0+1=1, 0+0=0, 1+1=10 (0 বসবে, হাতে 1 থাকবে)।
1 0 0 1 . 1 0 1
(+) 1 1 0 1 . 0 1 0 (খালি স্থানে 0 বসানো হলো)
——————-
1 0 1 1 0 . 1 1 1
উত্তর: নির্ণেয় যোগফল (10110.111)2
(জ) আল-মাকতাবাতুল আলফিয়া এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
[Briefly discuss Al-Maktabatul Alfia.]
আল-মাকতাবাতুল আলফিয়া (المكتبة الألفية للسنة النبوية):
‘আল-মাকতাবাতুল আলফিয়া লিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ’ হলো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশাল এবং বিশ্বস্ত ইসলামিক ডিজিটাল লাইব্রেরি বা সফটওয়্যার। এটি মূলত হাদিস শাস্ত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. বিশাল সংগ্রহ: এই সফটওয়্যারটিতে সহিহ বুখারি, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ-সহ বিখ্যাত হাজার হাজার হাদিসের কিতাব, তাফসির এবং ফিকহের গ্রন্থ একত্রে ডিজিটাল বা ই-বুক ফরম্যাটে সংরক্ষিত আছে।
২. সার্চ বা অনুসন্ধান সুবিধা: এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর সার্চ ইঞ্জিন। কয়েক লাখ পৃষ্ঠার কিতাব থেকে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট হাদিসের শব্দ বা রাবির (বর্ণনাকারী) নাম লিখে সার্চ দিলে মুহূর্তের মধ্যেই সেই হাদিসটি কোন কিতাবের কত নম্বর পৃষ্ঠায় আছে, তা বের করে দেয়।
৩. গবেষকদের জন্য আশীর্বাদ: এতে হাদিসের মান (সহিহ, জইফ) এবং রাবিদের জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকে, যা আলেম, মুফতি এবং ইসলামিক স্কলারদের গবেষণার কাজকে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত করেছে।






