Tajwid & Hifz (Code: 201102) – ২০২৩ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তাজভিদুল কুরআনিল কারীম (تجويد القرآن الكريم و حفظه وترجمة معانيه) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের ক, খ এবং গ বিভাগের সবগুলো প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল উত্তর দেওয়া হলো।
مجموعة (أ) / (ক) অংশ — রচনামূলক প্রশ্ন
[ أجب عن اثنين من الأسئلة التالية / নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও ]
১(ক)। علم القراءة এর সংজ্ঞা দাও। এটা কত প্রকার? علم القراءة এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিশদভাবে লেখ।
ইলমুল কিরাত-এর সংজ্ঞা:
‘কিরাত’ (القراءة) শব্দটি আরবি ‘কারাআ’ (قرأ) থেকে নির্গত মাসদার, যার অর্থ পড়া বা তিলাওয়াত করা। পারিভাষিক অর্থে, যে শাস্ত্রের মাধ্যমে কুরআনুল কারিমের শব্দাবলি উচ্চারণ করার সঠিক পদ্ধতি, বর্ণনাকারীদের দিকে তা সম্পৃক্ত করার নিয়মকানুন এবং বিভিন্ন ইমামের পাঠরীতির মধ্যকার পার্থক্য জানা যায়, তাকে ‘ইলমুল কিরাত’ বলে।
প্রকারভেদ:
ইলমুল কিরাত মূলত দুই প্রকার:
১. মুতাওয়াতির কিরাত: যে কিরাত রাসূল (সা.) থেকে অবিচ্ছিন্ন সনদে (মুতাওয়াতির সূত্রে) বর্ণিত হয়ে এসেছে এবং যা দিয়ে নামাজ পড়া সহিহ। যেমন- মশহুর ৭টি বা ১০টি কিরাত।
২. শায কিরাত: যে কিরাতের সনদে বিচ্ছিন্নতা আছে এবং যা তিলাওয়াত করা বা নামাজে পড়া জায়েজ নয়।
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:
- রাসূল (সা.) এর যুগ: কুরআন নাজিল হওয়ার পর জিবরীল (আ.) যে নিয়মে রাসূল (সা.)-কে পড়াতেন, রাসূল (সা.) ঠিক সেই নিয়মেই সাহাবাদেরকে তা শেখাতেন। উবাই বিন কাব (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), যাইদ বিন সাবিত (রা.) প্রমুখ সাহাবী এই বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। এখান থেকেই কিরাত শাস্ত্রের সূচনা।
- তাবিঈদের যুগ: সাহাবাদের কাছ থেকে তাবিঈগণ এই বিদ্যা আয়ত্ত করেন এবং মুখে মুখে তা প্রচার করতে থাকেন। এ যুগে কিরাত একটি মৌখিক বিদ্যা হিসেবেই প্রচলিত ছিল।
- সংকলনের যুগ: হিজরি তৃতীয় শতকে এই বিদ্যাটি একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে সংকলিত হতে শুরু করে। ইমাম আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম (রহ.) সর্বপ্রথম এই শাস্ত্রের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এরপর চতুর্থ শতকে ইমাম আবু বকর ইবনে মুজাহিদ (রহ.) বিখ্যাত সাতটি কিরাত (কিরাতে সাবআ) নির্বাচন করে ‘আস-সাবআ ফিল কিরাত’ নামে গ্রন্থ রচনা করেন।
- পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ: পরবর্তীতে নবম শতকে আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.) ‘আন-নাশর ফিল কিরাতিল আশর’ গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে দশটি কিরাতকে সুশৃঙ্খলভাবে লিপিবদ্ধ করেন এবং এই শাস্ত্রকে চূড়ান্ত পূর্ণতা দান করেন।
১(খ)। কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত, গুরুত্ব ও এর আদবসমূহ কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে আলোচনা কর।
কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত ও গুরুত্ব:
কুরআন তিলাওয়াত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। এর গুরুত্ব ও ফযিলত অপরিসীম:
- অফুরন্ত সওয়াব: আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না।” (সূরা ফাতির: ২৯)।
- সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ: রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঐ ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” (সহিহ বুখারী)।
- প্রতি হরফে নেকি: রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে, সে একটি নেকি পাবে। আর একটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে ‘আলিফ-লাম-মিম’ একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ।” (তিরমিজি)।
- কিয়ামতের দিন সুপারিশ: রাসূল (সা.) বলেন, “তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।” (মুসলিম)।
কুরআন তেলাওয়াতের আদবসমূহ:
- শরীর, পোশাক এবং বসার স্থান পবিত্র রাখা এবং ওযুসহ তিলাওয়াত করা।
- তিলাওয়াতের শুরুতে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে ‘আউযুবিল্লাহ’ এবং ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া।
- তারতিল বা ধীরস্থিরভাবে, তাজভিদের নিয়ম মেনে এবং সুন্দর কণ্ঠে পড়া।
- আয়াতের অর্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া। আজাবের আয়াত পড়লে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং রহমতের আয়াত পড়লে রহমত কামনা করা।
- কিবলামুখী হয়ে অত্যন্ত বিনয় ও আদবের সাথে বসা।
১(গ)। নূন সাকিন ও তানভিনের হুকুমসমূহ কুরআনুল কারিমের উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর: তাজভিদ শাস্ত্রে নুন সাকিন (نْ) এবং তানভিন (ً ٍ ٌ) পড়ার হুকুম বা নিয়ম মূলত ৪টি। নিচে উদাহরণসহ তা আলোচনা করা হলো:
- ইযহার (الإظهار): ইযহার অর্থ স্পষ্ট করে পড়া। নুন সাকিন বা তানভিনের পর হুরূফে হালকী (ء ه ع ح غ خ) এর যেকোনো একটি অক্ষর আসলে, সেখানে গুন্নাহ ছাড়া নুনের আওয়াজ স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِنْ خَوْفٍ (মিন খওফ), مَنْ آمَنَ (মান আমানা)। - ইদগাম (الإدغام): ইদগাম অর্থ মিলিয়ে পড়া। নুন সাকিন বা তানভিনের পর ‘ইয়ারমালুন’ (ي ر م ل و ن) এর যেকোনো একটি অক্ষর আসলে, নুনকে পরবর্তী অক্ষরের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। এটি দুই প্রকার:
– ইদগাম বা-গুন্নাহ: ي ن م و অক্ষর আসলে গুন্নাহর সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। যেমন- مَن يَّعْمَلْ (মাইয়্যা’মাল)।
– ইদগাম বিলায়-গুন্নাহ: ر ل অক্ষর আসলে গুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়তে হয়। যেমন- مِّن رَّبِّهِمْ (মির রাব্বিহিম)। - ইকলাব (الإقلاب): ইকলাব অর্থ পরিবর্তন করে পড়া। নুন সাকিন বা তানভিনের পর ‘বা’ (ب) অক্ষর আসলে, নুন-কে মিম (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِنۢ بَعْدِ (মিম বা’দি)। - ইখফা (الإخفاء): ইখফা অর্থ গোপন করে পড়া। উপরিউক্ত অক্ষরগুলো (হালকী ৬টি, ইয়ারমালুন ৬টি এবং বা ১টি = ১৩টি) ছাড়া আরবি বর্ণমালার বাকি ১৫টি অক্ষরের কোনো একটি আসলে নুন সাকিন বা তানভিনকে নাকের ভেতর গোপন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِن قَبْلُ (মিং কবলু), كُنتُمْ (কুনতুম)।
১(ঘ)। مخارج الحروف এর সংজ্ঞা দাও। এর সংখ্যা কত? বিস্তারিত বর্ণনা কর।
মাখরাজের সংজ্ঞা:
‘মাখরাজ’ (مخرج) শব্দটি আরবি ‘খুরুজ’ মাসদার থেকে নির্গত ইসমে যারফ বা স্থানবাচক বিশেষ্য, যার আভিধানিক অর্থ বের হওয়ার স্থান। তাজভিদের পরিভাষায়, আরবি হরফ বা অক্ষরগুলো মুখের যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়ে পূর্ণতা লাভ করে, সেই স্থানকে মাখরাজ বলে।
মাখরাজের সংখ্যা:
আরবি বর্ণমালায় মোট ২৯টি হরফ রয়েছে। এই হরফগুলোর মাখরাজ কয়টি, এ নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও জমহুর বা অধিকাংশ আলিম এবং আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.) এর মতে আরবি ২৯টি হরফের মাখরাজ হলো মোট ১৭টি।
মাখরাজগুলোর বিস্তারিত বিবরণ:
এই ১৭টি মাখরাজ মূলত মানুষের মুখমণ্ডলের প্রধান ৫টি অংশে অবস্থিত:
- জাওফ (الجوف): মুখের ভেতরের খালি জায়গাকে জাওফ বলে। এখান থেকে মাদ্দ-এর তিনটি হরফ (و ا ي) উচ্চারিত হয়। এটি ১টি মাখরাজ।
- হালক (الحلق): কণ্ঠনালি। এর ৩টি স্থান (শুরু, মধ্য ও শেষাংশ) থেকে ৬টি হরফ (حروف الحلق) উচ্চারিত হয়। নিচ থেকে (ء ه), মাঝখান থেকে (ع ح), এবং ওপর থেকে (غ خ) উচ্চারিত হয়। এটি ৩টি মাখরাজ।
- লিসান (اللسان): জিহ্বা। জিহ্বার বিভিন্ন অংশ (গোড়া, মধ্যভাগ, আগা) এবং তালুর স্পর্শে ১০টি মাখরাজ থেকে মোট ১৮টি হরফ উচ্চারিত হয় (যেমন- ق ك ش ج ي ض ইত্যাদি)।
- শাফাতান (الشفتان): দুই ঠোঁট। দুই ঠোঁট থেকে ২টি মাখরাজের মাধ্যমে ৪টি হরফ (ب م و ف) উচ্চারিত হয়।
- খাইশুম (الخيشوم): নাসিকা মূল বা নাকের বাঁশি। এখান থেকে ১টি মাখরাজ অবস্থিত, যেখান থেকে ‘গুন্নাহ’ (যেমন নুন ও মিম-এর গুন্নাহ) উচ্চারিত হয়।
مجموعة (أ) অংশ / (খ) — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
[ أجب عن اثنين من الأسئلة التالية / নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও ]
২(ক)। علم التجويد এর উপর লিখিত প্রসিদ্ধ পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখকের নামসহ লেখ।
উত্তর: ইলমুত তাজভিদের ওপর রচিত জগদ্বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ ৫টি গ্রন্থের নাম এবং তাদের রচয়িতার নাম নিচে দেওয়া হলো:
- আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযারিয়্যাহ (المقدمة الجزرية): এটি তাজভিদ শাস্ত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ। রচয়িতা: আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.)।
- তুহফাতুল আতফাল (تحفة الأطفال): এটি ছন্দবদ্ধ একটি চমৎকার গ্রন্থ। রচয়িতা: শাইখ সুলাইমান আল-জামযুরী (রহ.)।
- আত-তামহিদ ফি ইলমিত তাজভিদ (التمهيد في علم التجويد): রচয়িতা: ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.)।
- হিরযুল আমানি বা শাতিবিয়্যাহ (حرز الأماني ووجه التهاني): রচয়িতা: ইমাম আল-কাসিম বিন ফিয়ুররাহ আশ-শাতিবী (রহ.)।
- রিয়ায়াতুল মুজাওয়িদীন (رعاية المجودين): রচয়িতা: ইমাম আবু মুহাম্মদ মাক্কী বিন আবি তালিব (রহ.)।
২(খ)। الوقف এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? পবিত্র কুরআনে এর আলামতসমূহ কী কী? বর্ণনা কর।
ওয়াকফ-এর অর্থ:
– আভিধানিক অর্থ: ‘ওয়াকফ’ (الوقف) অর্থ থামা, বিরতি দেওয়া, আটকে রাখা বা স্থির হওয়া।
– পারিভাষিক অর্থ: তাজভিদের পরিভাষায়, কুরআন তিলাওয়াত করার সময় শব্দের শেষে আওয়াজ ও শ্বাস সম্পূর্ণ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়াকে ওয়াকফ বলে, যাতে পুনরায় নতুন শ্বাস নিয়ে পরবর্তী অংশ পড়া যায়।
পবিত্র কুরআনে ওয়াকফের আলামতসমূহ:
আল্লামা সাজাওয়ান্দী (রহ.) পাঠকের সুবিধার্থে কুরআনে থামার কিছু সাংকেতিক চিহ্ন বা আলামত নির্ধারণ করেছেন:
- ওয়াকফে লাযিম (م): এখানে থামা আবশ্যক বা ফরজ। না থামলে আয়াতের অর্থের ভয়াবহ বিকৃতি ঘটতে পারে।
- ওয়াকফে মুতলাক (ط): এখানে থামা উত্তম। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- ওয়াকফে জায়েজ (ج): এখানে থামা জায়েজ এবং না থামলেও চলবে, তবে থামা ভালো।
- ওয়াকফে মুজাওয়ায (ز): এখানে না থামা উত্তম, তবে দম ফুরিয়ে গেলে থামলে কোনো গুনাহ বা দোষ হবে না।
- ওয়াকফ নিষেধ (لا): এখানে থামা যাবে না, থামলে অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে আয়াতের শেষে গোল চিহ্নের ওপর (لا) থাকলে থামা যায়।
২(গ)। الاستعاذة কাকে বলে? কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে ও মাঝে এর বিধানসমূহ কী কী? বর্ণনা কর।
ইসতিয়াযাহ (الاستعاذة) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ আশ্রয় প্রার্থনা করা বা পানাহ চাওয়া। পরিভাষায়, কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার আগে বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা থেকে মহান আল্লাহর কাছে পানাহ বা আশ্রয় চাওয়ার জন্য “أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ” (আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম) পড়াকে ইসতিয়াযাহ বলে।
ইসতিয়াযাহ পড়ার বিধানসমূহ:
- তিলাওয়াতের পূর্বে: কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার পূর্বে ইসতিয়াযাহ পড়া অধিকাংশ আলিমের মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (তবে কিছু আলিমের মতে ওয়াজিব)। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, “যখন তুমি কুরআন পড়বে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাও।” (সূরা নাহল: ৯৮)।
- তিলাওয়াতের মাঝে: তিলাওয়াতরত অবস্থায় যদি কোনো ধর্মীয় কারণে বা অপারগ হয়ে (যেমন- হাঁচি, কাশি আসা বা সালামের উত্তর দেওয়া) তিলাওয়াত বন্ধ হয়, তবে পুনরায় পড়ার সময় নতুন করে ইসতিয়াযাহ পড়তে হবে না। কিন্তু যদি সাংসারিক কোনো কথাবার্তা বলার কারণে তিলাওয়াত দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে, তবে পুনরায় তিলাওয়াত শুরু করতে হলে আবার ইসতিয়াযাহ পড়ে শুরু করতে হবে।
২(ঘ)। الراء এর বিধানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর: তাজভিদের নিয়মে ‘রা’ (ر) অক্ষরটি পড়ার দুটি প্রধান বিধান রয়েছে—’পুর’ (মোটা বা ভারী করে পড়া) এবং ‘বারিক’ (চিকন বা পাতলা করে পড়া)। নিচে উদাহরণসহ বিধানগুলো দেওয়া হলো:
১. ‘রা’ পুর বা মোটা করে পড়ার নিয়ম:
- ‘রা’ এর ওপর যবর বা পেশ থাকলে। যেমন: رَحْمَةً (রাহমাতান), رُوحُ (রূহু)।
- ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার ঠিক আগের অক্ষরে যবর বা পেশ থাকলে। যেমন: قُرْآن (কুরআন), يَرْزُقُ (ইয়ারযুকু)।
- ‘রা’ সাকিনের আগের অক্ষরে আরযী বা অস্থায়ী যের থাকলে। যেমন: ارْجِعِي (ইরজিয়ী)।
২. ‘রা’ বারিক বা চিকন করে পড়ার নিয়ম:
- ‘রা’ এর নিচে যের থাকলে। যেমন: رِزْقًا (রিজক্বান)।
- ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার আগের অক্ষরে স্থায়ী বা আসলি যের থাকলে। যেমন: فِرْعَوْنَ (ফিরআউনা)।
- ওয়াকফ করার কারণে ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার আগে ‘ইয়া সাকিন’ (يْ) থাকলে। যেমন: خَبِيرْ (খাবীর), بَصِيرْ (বাসীর)।
مجموعة (ب) / মুখস্থ সূরা লিখন
[ اكتب من حفظك اثنين من السور التالية / নিচের সূরাগুলো থেকে যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লেখ ]
(أ) سورة الأعلى (সূরা আল-আ’লা)
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (1) الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ (2) وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ (3) وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَىٰ (4) فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَىٰ (5) سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰ (6) إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ (7) وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ (8) فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ الذِّكْرَىٰ (9) سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ (10) وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى (11) الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَىٰ (12) ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ (13) قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ (14) وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ (15) بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (16) وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ (17) إِنَّ هَٰذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَىٰ (18) صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ (19)
(ب) سورة العلق (সূরা আল-আলাক)
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ (5) كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَىٰ (6) أَن رَّآهُ اسْتَغْنَىٰ (7) إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الرُّجْعَىٰ (8) أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَىٰ (9) عَبْدًا إِذَا صَلَّىٰ (10) أَرَأَيْتَ إِن كَانَ عَلَى الْهُدَىٰ (11) أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَىٰ (12) أَرَأَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ (13) أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ (14) كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ (15) نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ (16) فَلْيَدْعُ نَادِيَهُ (17) سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ (18) كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب ۩ (19)
(ج) سورة البينة (সূরা আল-বায়্যিনাহ)
لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ (1) رَسُولٌ مِّنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفًا مُّطَهَّرَةً (2) فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ (3) وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ (4) وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ (5) إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ (6) إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ (7) جَزَاؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۖ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ (8)
(د) سورة الزلزال (সূরা আয-যিলযাল)
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا (1) وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا (2) وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا (3) يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا (4) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا (5) يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ (6) فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ (7) وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ (8)
مجموعة (ج) / (গ) অংশ — অনুবাদ ও তাহকিক
[ ترجم اثنين من النصوص القرآنية وأجب عن الأسئلة الملحقة بها / যে কোনো দুটি কুরআনের নস অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও ]
অনুবাদ: শপথ ডুমুর ও জয়তুনের, এবং সিনাই পর্বতের, এবং এই নিরাপদ নগরের (মক্কার)। নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে। অতঃপর আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি হীনদের হীনতম অবস্থায়। কিন্তু তারা ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। কাজেই এরপর কিসে তোমাকে কর্মফল দিন সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?
(١) فسر قوله تعالى: لقد خلقنا الإنسان فى أحسن تقويم-
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মানব সৃষ্টির চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন। ‘আহসানি তাকউয়িম’ অর্থ সর্বোত্তম কাঠামো বা গঠন। পৃথিবীর লক্ষ-কোটি প্রাণীর মধ্যে মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি, সোজা হয়ে হাঁটার ক্ষমতা, উন্নত মস্তিষ্ক, বিবেক-বুদ্ধি এবং চমৎকার চেহারা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যান্য প্রাণীরা মুখ দিয়ে খায়, কিন্তু মানুষ নিজের হাত দিয়ে সুন্দরভাবে খেতে পারে। এই অপরূপ শারীরিক ও মানসিক সৌন্দর্যের কারণেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত।
(٢) حقق الكلمات الآتية : رددناه، أسفل، ممنون، أحكم-
- رددناه (রাদাদ্দনাহু): সীগাহ: জমা মুতাকাল্লিম, বাহাস: ইসবাতে ফে’লে মাজি মারুফ, বাব: নাসারা-ইয়ানসুরু, মাদ্দাহ: ر – د – د, জিনস: মুদাআফে সুলাসি, অর্থ: আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি।
- أسفل (আসফালা): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার, বাহাস: ইসমে তাফজিল, বাব: কারুমা-ইয়াকুরুমু থেকে গঠিত, মাদ্দাহ: س – ف – ل, জিনস: সহিহ, অর্থ: সবচেয়ে নিচে বা হীনতম।
- ممنون (মামনুন): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার, বাহাস: ইসমে মাফউল, বাব: নাসারা-ইয়ানসুরু, মাদ্দাহ: م – ن – ن, জিনস: মুদাআফ, অর্থ: কর্তিত বা বিচ্ছিন্ন (غير ممنون অর্থ নিরবচ্ছিন্ন)।
- أحكم (আহকামু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার, বাহাস: ইসমে তাফজিল, মাদ্দাহ: ح – ك – م, জিনস: সহিহ, অর্থ: সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক বা সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান।
অনুবাদ: দুর্ভোগ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে নিন্দাকারীর জন্য। যে সম্পদ জমা করে এবং তা গুনে গুনে রাখে। সে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে। কখনোই না! সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে ‘হুতামা’-তে (চূর্ণ-বিচূর্ণকারী জাহান্নামে)। আর আপনি কি জানেন ‘হুতামা’ কী? এটি আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিশ্চয়ই তা তাদের ওপর আবদ্ধ করে দেওয়া হবে, দীর্ঘ প্রলম্বিত স্তম্ভসমূহে।
(١) فسر قوله تعالى : كلا لينبذن فى الحطمة-
ব্যাখ্যা: এই আয়াতে সেইসব অহংকারী ধনীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে, যারা লোভের বশে সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে এবং অন্যদের নিন্দা ও উপহাস করে। ‘কাল্লা’ (কখনোই না) বলে তাদের এই ভ্রান্ত ধারণাকে নাকচ করা হয়েছে যে, তাদের অঢেল সম্পদ তাদের মৃত্যুকে ঠেকিয়ে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে। বরং ‘লায়ুমবাযান্না ফিল হুতামাহ’ অর্থাৎ তাদেরকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে এমন এক জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, যার নাম হুতামা। ‘হুতামা’ অর্থ চূর্ণ-বিচূর্ণকারী। এই জাহান্নাম তাদের হাড়-মাংস সব পুড়িয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে।
(٢) صف نار جهنم موجزًا-
জাহান্নামের আগুনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
সূরা হুমাজাহর আলোকে জাহান্নামের আগুন সাধারণ কোনো আগুন নয়, এটি হলো ‘নারুল্লাহিল মূকাদাহ’ বা আল্লাহর নিজস্ব প্রজ্জ্বলিত বিশেষ আগুন। দুনিয়ার আগুনের চেয়ে এটি সত্তর গুণ বেশি উত্তপ্ত। এই আগুনের বিশেষত্ব হলো ‘تطلع على الأفئدة’—এটি শরীর পুড়িয়ে একেবারে হৃৎপিণ্ড বা কলিজা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং কলিজাকে দগ্ধ করবে, কিন্তু মানুষটি মারা যাবে না। এই ভয়াবহ আগুনের প্রকোষ্ঠে পাপীদের ঢুকিয়ে ওপর থেকে দরজা চিরতরে আবদ্ধ (مؤصدة) করে দেওয়া হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই বের হতে না পারে।
অনুবাদ: বরং যারা কুফরি করেছে, তারা মিথ্যারোপে লিপ্ত। অথচ আল্লাহ তাদেরকে পেছন থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন। বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লওহে মাহফুজে (সুরক্ষিত ফলকে) লিপিবদ্ধ।
(١) تحدث عن لوح محفوظ-
লওহে মাহফুজ সম্পর্কে আলোচনা:
‘লওহ’ অর্থ ফলক এবং ‘মাহফুজ’ অর্থ সুরক্ষিত। ‘লওহে মাহফুজ’ হলো সপ্তম আসমানের ওপরে আরশের নিচে অবস্থিত মহান আল্লাহর সেই সুরক্ষিত ও সুমহান ফলক, যেখানে মহাবিশ্বের সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, তার সবকিছুর ভাগ্যলিপি বা তাকদির আগে থেকেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। পবিত্র কুরআনও সেখানেই সংরক্ষিত ছিল, যেখান থেকে শবে কদরে প্রথম আসমানে এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ২৩ বছর ধরে রাসূল (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। সেখানে শয়তান বা অন্য কারও প্রবেশ বা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা নেই।
(٢) حلل الكلمات الآتية : تكذيب، محيط، مجيد، محفوظ-
- تكذيب (তাকযীব): সীগাহ: মাসদার, বাব: তাফয়িল (تفعيل), মাদ্দাহ: ك – ذ – ب, জিনস: সহিহ, অর্থ: মিথ্যারোপ করা বা অবিশ্বাস করা।
- محيط (মুহীত): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার, বাহাস: ইসমে ফায়েল, বাব: ইফআল, মাদ্দাহ: ح – و – ط, জিনস: আজওয়াফে ওয়াওয়ী, অর্থ: পরিবেষ্টনকারী বা ঘেরাওকারী।
- مجيد (মাজীদ): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার, বাহাস: সিফাতে মুশাব্বাহ, মাদ্দাহ: م – ج – د, জিনস: সহিহ, অর্থ: সম্মানিত বা মহিমান্বিত।
- محفوظ (মাহফূজ): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার, বাহাস: ইসমে মাফউল, বাব: সামিয়া-ইয়াসমাউ (حفظ), মাদ্দাহ: ح – ف – ظ, জিনস: সহিহ, অর্থ: সুরক্ষিত বা সংরক্ষিত।
অনুবাদ: সময়ের (বা যুগের) শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। কিন্তু তারা ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।
(١) فسر قوله تعالى : وتواصوا بالحق وتواصوا بالصبر-
ব্যাখ্যা: এই আয়াতে বলা হয়েছে, পরকালের নিশ্চিত ধ্বংস ও ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজে ঠিক থাকার পাশাপাশি সমাজকে ঠিক রাখার জন্য আরও দুটি কাজ করতে হবে। প্রথমত, ‘তাওয়াসাও বিল হাক’ অর্থাৎ সমাজের মানুষকে সত্য, ন্যায় ও দ্বীনের পথে চলার জন্য পারস্পরিক উপদেশ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ‘তাওয়াসাও বিস সাবর’ অর্থাৎ সত্যের পথে চলতে গিয়ে এবং দ্বীনের দাওয়াতি কাজ করতে গিয়ে যে বাধা-বিপত্তি বা জুলুম-নির্যাতন আসবে, তাতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিতে হবে। সমাজ সংস্কারের জন্য এই পারস্পরিক দাওয়াত অত্যাবশ্যকীয়।
(٢) حقق الكلمات الآتية : الإنسان، عملوا، تواصوا، الصبر-
- الإنسان (আল-ইনসান): এটি ইসম (বিশেষ্য) বা ইসমে জামিদ, মাদ্দাহ: أ – ن – س, জিনস: মাহমুজুল ফা, অর্থ: মানবজাতি।
- عملوا (আমিলূ): সীগাহ: জমা মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: ইসবাতে ফে’লে মাজি মারুফ, বাব: সামিয়া-ইয়াসমাউ, মাদ্দাহ: ع – م – ل, জিনস: সহিহ, অর্থ: তারা আমল বা সৎকাজ করেছে।
- تواصوا (তাওয়াসাও): সীগাহ: জমা মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: ইসবাতে ফে’লে মাজি মারুফ, বাব: তাফাউল (تفاعل), মাদ্দাহ: و – ص – ي, জিনস: লাফিফে মাকরুন, অর্থ: তারা পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে।
- الصبر (আস-সাবর): সীগাহ: মাসদার বা ইসমে জামিদ, মাদ্দাহ: ص – ب – ر, জিনস: সহিহ, অর্থ: ধৈর্য বা সহনশীলতা।






