اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣
[ফাযিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المدخل إلى علوم القرآن
[আল-মাদখাল ইলা উলুমিল কুরআন]
বিষয় কোড: ২ ০ ১ ১ ० ১
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (أ) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ)
[(أ) অংশ]
الدرجات—١٥×٤=٦٠ [মান—১৫×৪=৬০]
١- ما معنى علوم القرآن لغة واصطلاحا؟ تحدث عن نشأتها وتطورها موضحا-
[علوم القرآن এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে বিশদভাবে বর্ণনা কর।]
‘উলুম’ শব্দটি ‘ইলম’-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞান বা বিদ্যা। আর ‘কুরআন’ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল (স.)-এর ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ আসমানি কিতাব। পারিভাষিক অর্থে, “যে সকল বিদ্যা বা শাস্ত্রের মাধ্যমে আল-কুরআনের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট, আয়াত সংকলন, তেলাওয়াত, মাক্কী-মাদানী, নাসিখ-মানসুখ, মুহকাম-মুতাশাবিহ এবং তাফসির ও ব্যাখ্যার নীতিমালাসমেত যাবতীয় বিষয় আলোচনা করা হয়, তাকে ‘উলুমুল কুরআন’ বলে।”
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: উলুমুল কুরআনের উৎপত্তি মূলত রাসূল (স.) এর যুগেই শুরু হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরাম যখনই কোনো আয়াত বুঝতে পারতেন না, তারা রাসূল (স.) এর কাছ থেকে তা জেনে নিতেন। পরবর্তীতে খলিফা উসমান (রা.) এর যুগে কুরআন সংকলনের মাধ্যমে ‘ইলমুল রসম’ বা লিখন পদ্ধতির জ্ঞান বিকশিত হয়। আলী (রা.) এর নির্দেশে আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি কর্তৃক আরবি ব্যাকরণ বা ‘ইলমুন নাহু’ রচিত হয়। তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের যুগে তাফসির শাস্ত্রের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে ইমাম যুরকানি, অষ্টম শতাব্দীতে বদরুদ্দীন যারকাশি (‘আল-বুরহান’ রচনার মাধ্যমে) এবং নবম শতাব্দীতে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (‘আল-ইতকান’ রচনার মাধ্যমে) এই শাস্ত্রকে একটি সুশৃঙ্খল ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন।
٢- زعم الجاهليون قديما وحديثا: “أن محمدا قد تلقى القرآن على يد معلم بشر” فنّد شبهتهم هذه بالحجة الدامغة-
[প্রাচীন ও আধুনিক যুগের জাহিলিয়াতপন্থিরা বলে যে, “কোনো এক মানবগুরুর কাছ থেকে মুহাম্মদ কুরআন শিখেছে”।—অকাট্য দলিল দ্বারা তাদের এই সন্দেহের অপনোদন কর।]
প্রাচীন আরবের কাফির ও আধুনিক যুগের প্রাচ্যবিদদের একটি প্রধান অপবাদ হলো, মুহাম্মদ (স.) কুরআন নিজে রচনা করেছেন বা কোনো মানুষের (যেমন: রোমান কামার, জাবর বা সালমান ফারসি) কাছ থেকে শিখেছেন। আল-কুরআন নিজেই এই অকাট্য অভিযোগের যৌক্তিক ও দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে।
অকাট্য দলিল দ্বারা খণ্ডন:
১. ভাষাগত অসামঞ্জস্যতা: আল্লাহ তায়ালা সূরা নাহলের ১০৩ নং আয়াতে বলেন, “তারা যাকে ইঙ্গিত করে, তার ভাষা তো আরবি নয়, আর এটি (কুরআন) হলো সুস্পষ্ট আরবি ভাষা।” অর্থাৎ, মক্কার যে অ-আরব দাস বা কামারদের প্রতি তারা ইঙ্গিত করত, তারা ঠিকমতো আরবিই বলতে পারত না। তাদের কাছ থেকে বিশ্বজয়ী এমন সাহিত্যিক অলৌকিক গ্রন্থ কীভাবে শেখা সম্ভব?
২. রাসূল (স.) এর উম্মী (নিরক্ষর) হওয়া: রাসূল (স.) পড়া বা লেখা জানতেন না। যদি তিনি কারো থেকে বিদ্যা অর্জন করতেন, তবে আরবের লোকেরা তা আগেই জানত।
৩. ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা: কুরআনে পূর্ববর্তী নবীদের সূক্ষ্ম ইতিহাস এবং আধুনিক বিজ্ঞান (ভ্রূণতত্ত্ব, মহাকাশ ইত্যাদি) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা সপ্তম শতাব্দীর কোনো মানুষের পক্ষে জানা অসম্ভব ছিল। সুতরাং, এটি নিঃসন্দেহে এক অদ্বিতীয় স্রষ্টার বাণী।
٣- هل كان ترتيب سور القرآن توقيفيا أم اجتهاديا؟ وما آراء العلماء فيه؟ بيّن مفصلا-
[কুরআনের সূরাগুলোর বিন্যাস কি ওহি নির্ভর না ইজতিহাদ নির্ভর? এ বিষয়ে আলিমগণের মতামত কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের বর্তমান বিন্যাস (ক্রম) কি আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে নির্ধারিত (তাওকিফি), নাকি সাহাবায়ে কেরামের নিজস্ব গবেষণার (ইজতিহাদি) ফসল, তা নিয়ে আলিমদের মাঝে তিনটি প্রধান মতামত রয়েছে:
১. ইজতিহাদি (গবেষণাপ্রসূত): ইমাম মালিক (র.) ও কিছু উলামার মতে, সূরাগুলোর বিন্যাস সাহাবায়ে কেরামের ইজতিহাদের ভিত্তিতে হয়েছে। কারণ, হযরত আলী (রা.) ও ইবনে মাসউদ (রা.) এর ব্যক্তিগত মুসহাফগুলোতে সূরার বিন্যাস উসমানি মুসহাফ থেকে ভিন্ন ছিল।
২. তাওকিফি (ওহিনির্ভর): অধিকাংশ আলিম, যেমন ইমাম বায়হাকি, ইবনে আল-হিসার এবং ইবনে হাজার আসকালানির মতে, সম্পূর্ণ কুরআনের সূরার বিন্যাস তাওকিফি। রাসূল (স.) জিবরাইল (আ.) এর নির্দেশেই সাহাবাদেরকে সূরাগুলোর ক্রম ঠিক করে দিতেন।
৩. সমন্বয়ী মত (অধিকাংশ তাওকিফি, কিছু ইজতিহাদি): ইমাম ইবনে আতিয়া ও ইবনে কাসির (র.) এর মতে, কুরআনের অধিকাংশ সূরার বিন্যাসই ওহিনির্ভর। তবে মুষ্টিমেয় কিছু সূরা, যেমন সূরা আনফাল ও সূরা তাওবার অবস্থান সাহাবাদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। তবে বর্তমান উম্মাহ দ্বিতীয় মতটিকেই (তাওকিফি) সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।
٤- ما المراد بـ “أنزل القرآن منجما”؟ وما الحكمة فيه؟ بيّن مفصلا-
[أنزل القرآن منجما দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর হিকমত কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
“أنزل القرآن منجما” (কুরআন নাজিল হওয়া মুনাজ্জামান বা খণ্ড খণ্ড রূপে) বলতে বোঝায়, পবিত্র কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের (তাওরাত, ইঞ্জিল) মতো একবারে অবতীর্ণ হয়নি; বরং সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে প্রয়োজন, পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী খণ্ড খণ্ড আকারে নাজিল হয়েছে।
কুরআন খণ্ড খণ্ড রূপে নাজিল হওয়ার হিকমত (প্রজ্ঞা):
১. নবীর অন্তরকে সুদৃঢ় করা: বিরূপ পরিবেশে রাসূল (স.) যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, তাই আল্লাহ বারবার ওহির মাধ্যমে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছেন (সূরা ফুরকান: ৩২)।
২. মুখস্থ ও সংরক্ষণে সুবিধা: আরবদের অধিকাংশই নিরক্ষর ছিল। কুরআন একটু একটু করে নাজিল হওয়ায় সাহাবাদের জন্য তা মুখস্থ করা ও আমল করা সহজতর হয়েছে।
৩. আইন-কানুন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন: মদের নিষেধাজ্ঞা বা রোজা ফরজের মতো বিধানগুলো ধাপে ধাপে নাজিল হওয়ার ফলে সমাজের মানুষ সহজেই তা গ্রহণ করতে পেরেছিল।
৪. তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান: কোনো সাহাবী প্রশ্ন করলে বা কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে আল্লাহ আয়াত নাজিল করতেন।
٥- تحدث عن جمع القرآن الكريم في عهد أبى بكر رضى الله عنه وعثمان رضى الله عنه، وما الفرق بين الجمعين في العهدين؟ بيّن-
[আবু বকর (রা) ও উসমান (রা) এর যুগে আল-কুরআনুল কারিম একত্রিকরণ সম্পর্কে বর্ণনা কর এবং দুই যুগে দুইবার কুরআন একত্রিকরণের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]
আবু বকর (রা.) এর যুগে কুরআন একত্রিকরণ: ইয়ামামার যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন হাফেজে কুরআন সাহাবী শাহাদাতবরণ করেন। এতে কুরআন বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে উমর (রা.) এর পরামর্শে খলিফা আবু বকর (রা.) যায়িদ বিন সাবিত (রা.) কে প্রধান করে কুরআন সংকলনের দায়িত্ব দেন। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খেজুরের ডাল, পাথর ও চামড়ায় লিখিত আয়াতগুলো এবং হাফেজদের স্মৃতি মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সহিফা’ বা পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন।
উসমান (রা.) এর যুগে কুরআন একত্রিকরণ: ইসলামী সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হলে বিভিন্ন অঞ্চলে কুরআনের পঠন-রীতি (কিরাত) নিয়ে মুসলিমদের মাঝে মতভেদ ও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তখন খলিফা উসমান (রা.) আবু বকর (রা.) এর আমলের মূল পাণ্ডুলিপিটি এনে কুরাইশ ভাষায় (আদর্শ রসম) পুনরায় কয়েকটি মুসহাফ তৈরি করেন এবং বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন, যাতে সবাই এক কিরাতের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়।
পার্থক্য:
১. উদ্দেশ্য: আবু বকর (রা.) এর উদ্দেশ্য ছিল কুরআনকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। আর উসমান (রা.) এর উদ্দেশ্য ছিল উম্মাহকে মতভেদ থেকে বাঁচিয়ে একটি নির্দিষ্ট পঠন-রীতির ওপর একত্রিত করা।
২. ধরণ: প্রথম সংকলনটি ছিল বিক্ষিপ্ত আয়াতগুলোকে এক জায়গায় লিপিবদ্ধ করে রাখা। দ্বিতীয় সংকলনটি ছিল একাধিক কপি তৈরি করে সুশৃঙ্খলভাবে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া।
٦- عرف النسخ ثم بيّن أنواعه وحكمته مفصلا-
[‘নাস্খ’ এর পরিচয় দাও। নাস্খ-এর প্রকারসমূহ ও হিকমত বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
নাস্খের পরিচয়: ‘নাস্খ’ (النسخ) শব্দের আভিধানিক অর্থ রহিত করা, দূর করা বা স্থানান্তর করা। পারিভাষিক অর্থে, “পরবর্তী কোনো শারয়ি দলিলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো শারয়ি বিধানকে রহিত বা বাতিল করাকে নাস্খ বলে।” যে বিধানটি রহিত হয় তাকে ‘মানসুখ’ এবং যা রহিত করে তাকে ‘নাসিখ’ বলা হয়।
নাস্খ-এর প্রকারসমূহ:
১. আয়াত ও বিধান উভয়ই রহিত হওয়া: অর্থাৎ কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত এবং এর উপর আমল উভয়ই বাতিল হয়ে যাওয়া।
২. বিধান রহিত হওয়া কিন্তু আয়াত বহাল থাকা: আয়াত তেলাওয়াত করা যায়, কিন্তু এর আইনগত প্রয়োগ রহিত হয়ে গেছে। কুরআনে এ ধরণের নাস্খ বেশি দেখা যায়।
৩. আয়াত রহিত হওয়া কিন্তু বিধান বহাল থাকা: যেমন রজম বা পাথর নিক্ষেপের শাস্তির আয়াত, যা বর্তমানে কুরআনে নেই, কিন্তু তার হুকুম ইসলামে বহাল আছে।
নাস্খ-এর হিকমত: মানুষের কল্যাণ সাধন এবং পরিস্থিতি অনুসারে ধীরে ধীরে ইসলামী বিধান জারির মাধ্যমে উম্মাহর জন্য দ্বীন পালন সহজ করাই ছিল নাস্খ এর মূল হিকমত। এর মাধ্যমে বান্দার আনুগত্যের পরীক্ষাও নেওয়া হয়।
٧- عرف التفسير والتأويل ثم اذكر الفرق بينهما-
[التفسير ও التأويل এর সংজ্ঞা দাও এবং উভয়ের মাঝে পার্থক্য উল্লেখ কর।]
তাফসীর এর সংজ্ঞা: তাফসীর (التفسير) শব্দটি ‘ফাসরুন’ থেকে নির্গত, যার অর্থ উন্মুক্ত করা বা ব্যাখ্যা করা। পরিভাষায়— “যে শাস্ত্রের মাধ্যমে কুরআনুল কারিমের শব্দার্থ, আয়াত অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট, শানে নুযুল এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য মানুষের সাধ্য অনুযায়ী বয়ান করা হয়, তাকে তাফসীর বলে।”
তা’বীল এর সংজ্ঞা: তা’বীল (التأويل) শব্দটি ‘আওলুন’ থেকে নির্গত, যার অর্থ প্রত্যাবর্তন করা বা পরিণতি। পরিভাষায়— “কোনো শব্দের বাহ্যিক অর্থের পরিবর্তে তার অন্তর্নিহিত বা সম্ভাব্য গভীর অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করাকে তা’বীল বলে, যা শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।”
পার্থক্য:
১. তাফসীর হলো সাধারণত শাব্দিক ও বাহ্যিক ব্যাখ্যা, আর তা’বীল হলো অন্তর্নিহিত ও মর্মার্থের গভীর বিশ্লেষণ।
২. তাফসীর মূলত রিওয়ায়াত (বর্ণনা ও সনদের) ওপর নির্ভরশীল, আর তা’বীল দিরায়াত (জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ইজতিহাদের) ওপর নির্ভরশীল।
৩. তাফসীর একটি সুনিশ্চিত অর্থের দাবি রাখে, কিন্তু তা’বীল সম্ভাব্য একাধিক অর্থের মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেয়।
٨- ما معنى إعجاز القرآن الكريم؟ بيّن وجوه إعجازه مفصلا-
[إعجاز القرآن الكريم অর্থ কী? কুরআন কারিমের ‘ইজাযের বিভিন্ন দিক বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ইজাযুল কুরআনের অর্থ: ‘ইজায’ শব্দের অর্থ অক্ষম বা পরাস্ত করা। ‘ইজাযুল কুরআন’ বলতে বোঝায় কুরআনের অলৌকিকতা, যার সমকক্ষ কোনো কিছু রচনা করতে জিন ও মানবজাতি সম্পূর্ণরূপে অক্ষম। এটি প্রমান করে যে কুরআন সরাসরি আল্লাহর কালাম।
কুরআনের ইজাযের বিভিন্ন দিক (وجوه الإعجاز):
১. ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকতা (الإعجاز البلاغي): কুরআনের শব্দচয়ন, ভাষার প্রাঞ্জলতা ও ছন্দের গাঁথুনি তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ কবি-সাহিত্যিকদেরও হতবাক করে দিয়েছিল। তারা এর ক্ষুদ্রতম সূরার মতো একটি সূরাও তৈরি করতে পারেনি।
২. অদৃশ্যের সংবাদ (الإعجاز الغيبي): কুরআনে অতীত জাতির এমন নিখুঁত ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের এমন অনেক ভবিষ্যদ্বাণী (যেমন রোমানদের বিজয়) দেওয়া হয়েছে, যা নবীজির পক্ষে নিজে থেকে জানা অসম্ভব ছিল।
৩. বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা (الإعجاز العلمي): মহাবিশ্বের সৃষ্টি, ভ্রূণের বিকাশ, পর্বতমালা ও সাগরের পানি ইত্যাদি বিষয়ে কুরআনের বর্ণনা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. আইন প্রণয়নে পূর্ণতা (الإعجاز التشريعي): কুরআনে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য যে ভারসাম্যপূর্ণ ও নিখুঁত আইন প্রদান করা হয়েছে, তা সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য ও ত্রুটিমুক্ত।
مجموعة (ب)
[(ب) অংশ]
الدرجات—٥×٤=٢٠ [মান—৫×৪=২০]
٩- ما الفرق بين القرآن الكريم والحديث القدسى والحديث النبوى؟
[আল-কুরআনুল কারিম, আল-হাদিসুল কুদসী ও আল-হাদিসুন নাবাবীর মধ্যে পার্থক্য কী?]
আল-কুরআন: যার অর্থ ও শব্দ উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং যা তেলাওয়াত করা ইবাদত। এটি পবিত্র ছাড়া স্পর্শ করা যায় না।
হাদিসুল কুদসী: এর মূল ভাব ও অর্থ সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত (ওহি), কিন্তু এর ভাষা ও শব্দ রাসূল (স.) এর নিজস্ব। এর তেলাওয়াত নামাজের অংশ নয়।
হাদিসুন নাবাবী: এটি রাসূল (স.) এর নিজস্ব কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি। যদিও এটি আল্লাহর পরোক্ষ নির্দেশনার আলোকেই হয়ে থাকে, কিন্তু এর শব্দ ও অর্থ উভয়ই রাসূল (স.) এর দিকে নিসবত করা হয়।
١٠- تحدث عن ترتيب الآيات بالإيجاز-
[কুরআনের আয়তের বিন্যাস সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
কুরআনুল কারিমের আয়াতের বিন্যাস বা ‘তারতিবুল আয়াত’ সর্বসম্মতভাবে ওহিনির্ভর বা ‘তাওকিফি’। যখনই কোনো আয়াত নাজিল হতো, জিবরাইল (আ.) রাসূল (স.)-কে নির্দিষ্ট করে বলে দিতেন যে, এই আয়াতটি অমুক সূরার অমুক আয়াতের পরে বা আগে স্থাপন করতে হবে। সাহাবায়ে কেরাম ঠিক সেই অনুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করতেন এবং মুখস্থ করতেন। এতে সাহাবাদের কোনো নিজস্ব ইজতিহাদ বা গবেষণার সুযোগ ছিল না।
١١- بيّن آخر ما نزل من القرآن الكريم من الآية-
[কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা কর।]
কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত কোনটি, তা নিয়ে মুফাসসিরদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। তবে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো, সূরা বাকারার ২৮১ নং আয়াতটি সর্বশেষ নাজিল হয়েছিল: “وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ” (তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে…)। ইবনে আব্বাস (রা.) এর মত অনুযায়ী এটি রাসূল (স.) এর ওফাতের মাত্র ৯ থেকে ৮১ দিন পূর্বে অবতীর্ণ হয়। কেউ কেউ বিদায় হজের দিন অবতীর্ণ সূরা মায়িদার ৩ নং আয়াতকে সর্বশেষ বলে মনে করেন।
١٢- كيف كان القرآن يحفظ على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
[রাসূলুল্লাহ (স) এর যুগে কীভাবে কুরআন সংরক্ষণ করা হতো?]
রাসূল (স.) এর যুগে কুরআন সংরক্ষণের প্রধান দুটি মাধ্যম ছিল:
১. হিফজ বা মুখস্থকরণ: আরবদের স্মরণশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। কুরআন নাজিল হওয়া মাত্রই স্বয়ং রাসূল (স.) এবং তার অসংখ্য সাহাবী তা সাথে সাথে মুখস্থ করে ফেলতেন এবং দিন-রাত নামাজে তা তেলাওয়াত করতেন।
২. কিতাবাত বা লিপিবদ্ধকরণ: রাসূল (স.) এর বেশ কয়েকজন নির্দিষ্ট ‘কাতেবে ওহি’ (ওহি লেখক) ছিলেন, যেমন- যায়িদ বিন সাবিত, উবাই ইবনে কাব (রা.)। ওহি নাজিল হলে তারা রাসূলের নির্দেশে তা খেজুরের ডাল, পাথরের মসৃণ টুকরা, পশুর হাড় ও চামড়ায় সাবধানে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন।
١٣- تحدث عما يقع فيه النسخ وما لا يقع-
[কোন কোন বিষয়ে ‘নাস্খ’ হতে পারে এবং কোন কোন বিষয়ে ‘নাস্খ’ হতে পারে না? বর্ণনা কর।]
ইসলামী শরীয়তে সকল বিষয়ে ‘নাস্খ’ (রহিতকরণ) প্রযোজ্য নয়।
যেসব বিষয়ে নাস্খ হতে পারে: নাস্খ শুধুমাত্র ব্যবহারিক বিধি-বিধান বা ‘আহকাম’ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ হালাল-হারাম, আদেশ-নিষেধ এবং ফরয-ওয়াজিব সংশ্লিষ্ট আইনসমূহের ক্ষেত্রে নাস্খ ঘটে।
যেসব বিষয়ে নাস্খ হতে পারে না:
১. মৌলিক বিশ্বাস বা ‘আকায়েদ’ (যেমন: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত)।
২. ঐতিহাসিক সংবাদ বা ‘আখবার’ (অতীত জাতি বা ভবিষ্যতের সংবাদ, কারণ সত্য সংবাদ কখনো পরিবর্তন হয় না)।
৩. মৌলিক নৈতিক চরিত্র ও গুণাবলি, যা সব ধর্মেই প্রশংসনীয়।
١٤- اكتب آداب المفسر بالإيجاز-
[মুফাসসির এর আদবসমূহ সংক্ষেপে লেখ।]
কুরআনের ব্যাখ্যাকারক বা মুফাসসিরের বেশ কিছু আদব ও গুণাবলি থাকা অপরিহার্য:
১. তার নিয়ত ও উদ্দেশ্য হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
২. তাকে অবশ্যই বিশুদ্ধ আকিদা সম্পন্ন এবং সুন্নাহর অনুসারী হতে হবে।
৩. আমল ও আখলাক সুন্দর হতে হবে; যা বলবেন তার উপর নিজের আমল থাকতে হবে।
৪. মনগড়া ব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিনয়ী হতে হবে।
৫. তাফসির করার সময় প্রথমে কুরআন দ্বারা কুরআনের, তারপর হাদিস দ্বারা, এরপর সাহাবাদের উক্তি দ্বারা ব্যাখ্যা করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।
١٥- هل الرسم العثماني توقيفى؟ بيّن موجزا-
[রসমে উসমানি কি তাওকিফি? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
উসমান (রা.) এর যুগে কুরআন লেখার যে পদ্ধতি (রসম) গ্রহণ করা হয়েছিল তাকে ‘রসমে উসমানি’ বলে। এটি তাওকিফি (ওহিনির্ভর বা অপরিবর্তনযোগ্য) কি না, তা নিয়ে দুটি মত রয়েছে। তবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরাম এবং চার মাজহাবের ইমামদের মতে, রসমে উসমানি হলো ‘তাওকিফি’ এবং এর অনুসরণ করা ওয়াজিব। কারণ, এটি নবী (স.) এর অনুমোদিত এবং সাহাবায়ে কেরামের ইজমার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এই লিখনপদ্ধতি পরিবর্তন করলে কুরআনের মূল পাঠ বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই যুগের পরিবর্তন হলেও রসমে উসমানিতে কুরআন লেখাই আবশ্যক।
١٦- اكتب أسماء خمسة تفاسير بالمأثور مع أسماء مؤلفيها-
[‘তাফসির বিল মাছূর’ এর উপর সংকলিত পাঁচটি তাফসিরের নাম লেখকের নামসহ লেখ।]
‘তাফসির বিল মাছূর’ (কুরআন, হাদিস ও সাহাবাদের বর্ণনানির্ভর তাফসির) এর বিখ্যাত পাঁচটি কিতাব ও লেখকের নাম নিচে দেওয়া হলো:
১. জামেউল বয়ান ফি তাফসিরিল কুরআন (তাফসিরে তাবারী): ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারী (র.)।
২. তাফসিরুল কুরআনিল আজিম (তাফসিরে ইবনে কাসির): ইমাম ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসির (র.)।
৩. মা’আলিমুত তানজিল (তাফসিরে বাগাভি): ইমাম আবু মুহাম্মদ হুসাইন আল-বাগাভি (র.)।
৪. আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসিরিল মাছূর: ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (র.)।
٥. বাহরুল উলুম (তাফসিরে সমরকান্দি): ইমাম আবু আল-লাইস আস-সমরকান্দি (র.)।
١٧- اكتب أسماء أربعة مؤلفات حديثة حول علوم القرآن مع أسماء مؤلفيها-
[উলুমুল কুরআন বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রচিত চারটি কিতাবের নাম লেখকের নামসহ লেখ।]
সাম্প্রতিক যুগে উলুমুল কুরআন শাস্ত্রের ওপর রচিত চারটি বিখ্যাত গ্রন্থ ও লেখকের নাম হলো:
১. মানাহিলুল ইরফান ফি উলুমিল কুরআন: শাইখ মুহাম্মাদ আবদুল আজিম আজ-যুরকানি।
২. মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন: শাইখ মান্না আল-কাত্তান।
৩. উলুমুল কুরআনিল কারিম: ড. নূরুদ্দীন ইতর।
৪. আল-ওয়াদিহ ফি উলুমিল কুরআন: ড. মুস্তফা আল-বুগা ও মুহিউদ্দিন মিস্তু।
١٨- تحدث عن مكانة “الإتقان في علوم القرآن” بين كتب علوم القرآن-
[উলুমুল কুরআন বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে الإتقان في علوم القرآن কিতাবটির মর্যাদা বর্ণনা কর।]
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (র.) প্রণীত “আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন” গ্রন্থটি উলুমুল কুরআন শাস্ত্রের এক অনন্য বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থে তিনি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮০টি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র ও প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থের সারাংশ এবং নতুন গবেষণার সমন্বয়ে রচিত হওয়ায় এটি এতোটাই মর্যাদা লাভ করেছে যে, পরবর্তীকালে উলুমুল কুরআনের ওপর এমন কোনো কিতাব লেখা হয়নি যা এই গ্রন্থের মুখাপেক্ষী হয়নি। কুরআন গবেষক ও মুফাসসিরদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য এবং নির্ভরযোগ্য মাস্টারপিস হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃত।






