কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: দিরাসাতুল হাদীস-২ (৫০২১০২) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Dirasatul Hadith-2 (502102) QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: দিরাসাতুল হাদীস-২ (৫০২১০২) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Dirasatul Hadith-2 (502102) QnA
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٣م

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদী) পরীক্ষা, ২০২৩]

الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة الحديث .٢ [দিরাসাতুল হাদীস-২]

বিষয় কোড: 502102 | সময় : ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০

الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة.
[দ্রষ্টব্য : বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক]


مجموعة (أ) – سنن أبى داؤد (الدرجات – ٥٠)
[গ্রুপ (ক) – সুনান আবু দাউদ (মান – ৫০)]

١- ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : ٤٠ = ٢ × ٢٠
[১. নিচের হাদিসগুলো থেকে যেকোনো দুটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

عن أبى سعيد الخدري (رضـ) قال قال رسول الله (صـ) : ليس فيما دون خمس ذود صدقة وليس فيما دون خمس أواق صدقة وليس فيما خمسة أوسق صدقة.

[অনুবাদ: আবু সাঈদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, পাঁচটির কম উটে জাকাত নেই, পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যে জাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম শস্যে জাকাত নেই।]

  • (۱) ما معنى الزكوة؟ متى فرضت الزكوة وأين فرضت؟ بين.
    [(১) জাকাত-এর অর্থ কী? জাকাত কখন ফরজ হয়েছে এবং কোথায় ফরজ হয়েছে? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ‘জাকাত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, বৃদ্ধি পাওয়া বা বরকত হওয়া। পরিভাষায়: শরীয়ত নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবীদের প্রদান করাকে জাকাত বলে। জাকাত ২য় হিজরিতে মদিনায় অবতীর্ণ আয়াতের মাধ্যমে ফরজ হয়।
  • (۲) هل يجب العشر والخراج في أرض واحدة؟ بين مفصلا.
    [(২) একই জমিতে কি উশর এবং খারাজ উভয়টি ওয়াজিব হয়? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]

    উত্তর: হানাফি মাজহাব মতে একই জমিতে উশর (ফসলের জাকাত) ও খারাজ (ভূমির কর) একত্রে ওয়াজিব হয় না। যদি জমিটি উশরী হয় তবে ফসল থেকে উশর দিতে হবে, আর খারাজী হলে শুধু খারাজ দিতে হবে। তবে অন্যান্য কিছু ইমামের মতে দুটি ভিন্ন কারণে একত্রে ওয়াজিব হতে পারে।
  • (۳) بين أهمية الزكوة في ضوء القرآن والسنة.
    [(৩) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জাকাতের গুরুত্ব বর্ণনা করো।]

    উত্তর: জাকাত ইসলামের পাঁচটি মূলস্তম্ভের একটি। পবিত্র কুরআনে সালাতের পাশাপাশি ৮২ বার জাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধন। এটি দারিদ্র্য বিমোচন, সম্পদের পবিত্রতা অর্জন এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রধান হাতিয়ার।

(ب) [খ]

عن ابن عباس (رضـ) عنهما قال : فرض رسول الله (صـ) زكوة الفطر طهرة للصيام من اللغو والرفث وطعمة للمساكين، من أداها قبل الصلواة فهى زكوة مقبولة ومن أداها بعد الصلواة فهى صدقة من الصدقات.

[অনুবাদ: ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) রোজাকে অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের আহারের ব্যবস্থা স্বরূপ সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি তা ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করবে তা মকবুল জাকাত (ফিতরা) হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পর আদায় করবে, তা সাধারণ সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে।]

  • (۱) ما المراد بزكوة الفطر؟ تحدث عن شروط وجوبها ومقدارها.
    [(১) জাকাতুল ফিতর বলতে কী বোঝায়? এটি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত এবং এর পরিমাণ আলোচনা করো।]

    উত্তর: রমজান শেষে ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় যে নির্দিষ্ট সাদাকা আদায় করা ওয়াজিব, তাকে জাকাতুল ফিতর বা ফিতরা বলে। শর্ত: মুসলিম হওয়া, স্বাধীন হওয়া এবং ঈদের দিন নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। পরিমাণ: গম বা আটার ক্ষেত্রে অর্ধ সা’ (প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং যব, খেজুর বা কিসমিসের ক্ষেত্রে এক সা’ (প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম)।
  • (۲) بين حكمة مشروعية زكوة الفطر فى ضوء الحديث.
    [(২) হাদিসের আলোকে জাকাতুল ফিতর বিধিবদ্ধ হওয়ার প্রজ্ঞা বা হিকমত বর্ণনা করো।]

    উত্তর: হাদিসের আলোকে এর দুটি প্রধান হিকমত হলো: ১. রোজাদারের রোজায় ঘটে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতি, অনর্থক ও অশালীন কাজ থেকে রোজাকে পবিত্র করা। ২. ঈদের দিন গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করা, যাতে তারাও আনন্দ উদযাপন করতে পারে।
  • (۳) ما الفرق بين نصاب الزكوة وزكوة الفطر؟ بين.
    [(৩) জাকাতের নিসাব এবং জাকাতুল ফিতরের নিসাবের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: জাকাতের নিসাবের উপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত, কিন্তু ফিতরার নিসাবে এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয় (কেবল ঈদের দিন সকালে মালিক থাকলেই হয়)। জাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদে ওয়াজিব হয়, কিন্তু ফিতরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোনো সম্পদে (এমনকি অব্যবহৃত আসবাবপত্রেও) ওয়াজিব হয়।

(ج) [গ]

أخبرني كريب أن أم الفضل ابنة الحارث بعثته إلى معاوية بالشام قال فقدمت الشام فقضيت حاجتها فاستهل رمضان وأنا بالشام فرأينا الهلال ليلة الجمعة ثم قدمت المدينة فى اخر الشهر فسألنى ابن عباس ثم ذكر الهلال فقال متى رأيتم الهلال؟ قلت رأيته ليلة الجمعة. قال أنت رأيته؟ قلت نعم ورأه الناس وصاموا وصام معاوية قال لكنا رأيناه ليلة السبت فلا نزال نصومه حتى نكمل الثلاثين أو نراه فقلت أفلا تكتفى برؤية معاوية وصيامه؟ قال لا هكذا أمرنا رسول الله (صـ).

[অনুবাদ: কুরাইব থেকে বর্ণিত, উম্মুল ফজল বিনতে হারিস তাঁকে সিরিয়ায় মুয়াবিয়া (রা)-এর কাছে পাঠান। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া গেলাম এবং তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমজানের চাঁদ দেখা গেল। আমরা শুক্রবার রাতে চাঁদ দেখলাম। এরপর মাসের শেষের দিকে আমি মদিনায় এলাম। ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এবং চাঁদের আলোচনা তুললেন। তিনি বললেন, তোমরা কবে চাঁদ দেখেছিলে? আমি বললাম, শুক্রবার রাতে। তিনি বললেন, তুমি নিজে দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, মানুষও দেখেছে এবং তারা রোজা রেখেছে, মুয়াবিয়াও রোজা রেখেছেন। ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, কিন্তু আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি। সুতরাং আমরা রোজা রাখতে থাকব যতক্ষণ না ত্রিশটি পূর্ণ করি অথবা চাঁদ দেখি। আমি বললাম, মুয়াবিয়া (রা)-এর দেখা ও রোজা রাখাই কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন, না; রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।]

  • (۱) ما معنى الصوم لغة وشرعا؟ ثم بين فوائد الصوم إيجازا.
    [(১) সাওম (রোজা)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এরপর সংক্ষেপে সাওমের উপকারিতাগুলো বর্ণনা করো।]

    উত্তর: আভিধানিক অর্থ: বিরত থাকা। পারিভাষিক অর্থ: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকা। উপকারিতা: এর মাধ্যমে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জিত হয়, গরিবদের ক্ষুধার কষ্ট অনুধাবন করা যায়, শারীরিক সুস্থতা বাড়ে এবং নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়।
  • (۲) ما الاختلاف بين الأئمة في اعتبار اختلاف المطالع؟ بين.
    [(২) উদয়স্থলের ভিন্নতা (ইখতিলাফে মাতালি) ধর্তব্য হওয়ার ক্ষেত্রে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য কী? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: শাফেয়ি মাজহাব ও উল্লেখিত হাদিস অনুযায়ী ইখতিলাফে মাতালি ধর্তব্য। অর্থাৎ এক দেশের চাঁদ দেখা দূরবর্তী অন্য দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। কিন্তু হানাফি ও মালিকি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ইখতিলাফে মাতালি ধর্তব্য নয়; এক জায়গায় চাঁদ দেখা প্রামাণিক হলে তা সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যদি সংবাদ নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছায়।
  • (۳) اكتب عدد شهود رؤية الهلال لرمضان ولشوال.
    [(৩) রমজান ও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাক্ষীর সংখ্যা লেখো।]

    উত্তর: আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে রমজানের চাঁদ প্রমাণের জন্য একজন বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (নারী বা পুরুষ) এর সাক্ষ্যই যথেষ্ট। তবে শাওয়ালের (ঈদের) চাঁদ প্রমাণের জন্য কমপক্ষে দুজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্য আবশ্যক।

(د) [ঘ]

عن أبى سعيد الخدري (رضـ) أنه سمع رسول الله (صـ) يقول : لا تواصلوا فأيكم أراد أن يواصل فليواصل حتى السحر قالوا فإنك تواصل قال إنى لست كهيئتكم أن لى مطعما يطعمنى وساقيا يسقينى.

[অনুবাদ: আবু সাঈদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছেন: তোমরা সাওমে বিসাল (বিরতিহীন রোজা) রেখো না। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তা করতে চায়, তবে সে যেন সাহরি পর্যন্ত করে। সাহাবিগণ বললেন, আপনি তো সাওমে বিসাল করেন! তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের মতো নই; আমার একজন অন্নদাতা আছেন যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।]

  • (۱) ما معنى السحر؟ بين فضيلة السحر؟
    [(১) সাহরি-এর অর্থ কী? সাহরির ফজিলত বর্ণনা করো।]

    উত্তর: রাতের শেষ ভাগে রোজা রাখার নিয়তে যে খাবার গ্রহণ করা হয় তাকে সাহরি বলে। ফজিলত: রাসূল (সা) বলেছেন, “তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।” এটি মুসলিম ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্যকারী এবং এটি সুন্নাত।
  • (۲) ما معنى صوم الوصال؟ هل هو جائز لنا أم لا؟ بين.
    [(২) সাওমে বিসাল-এর অর্থ কী? এটি কি আমাদের জন্য জায়েজ নাকি না? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: সাওমে বিসাল অর্থ হলো সূর্যাস্তের পর ইফতার না করে বা রাতে কিছু না খেয়ে একাধারে কয়েক দিন রোজা রাখা। উম্মতের জন্য সাওমে বিসাল করা জায়েজ নয় (মাকরূহ তাহরিমি), কারণ এতে শরীর দুর্বল হয়ে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। তবে রাসূল (সা)-এর জন্য এটি খাস বা স্বাতন্ত্র্য ছিল।
  • (۳) قوله تعالى : “إنما بشر مثلكم” وقوله عليه السلام ” إني لست كهيئتكم” ما التطبيق بينهما؟
    [(৩) আল্লাহর বাণী “আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ” এবং নবী (সা)-এর বাণী “আমি তোমাদের মতো নই”—এ দুটির মধ্যে সমন্বয় (তাতবিক) কী?]

    উত্তর: এই দুই বাণীর চমৎকার সমন্বয় হলো: গঠনগত, সৃষ্টিগত ও মানবীয় প্রয়োজনের দিক থেকে রাসূল (সা) সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ (যেমন কুরআনে বলা হয়েছে)। কিন্তু আধ্যাত্মিক শক্তি, আল্লাহর নৈকট্য, মুজিজা ও ইবাদতের সহ্যক্ষমতার দিক থেকে তিনি সাধারণ মানুষের মতো নন (যেমন হাদিসে তিনি বলেছেন)। আল্লাহ তাঁকে বিশেষ আধ্যাত্মিক খাদ্য দান করতেন যা অন্যদের দেওয়া হতো না।

٢- أجب عن واحد مما يلي : ١٠ = ١ × ١٠
[২. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

اكتب نبذة من حياة الإمام أبى داؤد السجستاني رحمه الله ثم بين مساهمته فى علم الحديث.
[ইমাম আবু দাউদ সিজিস্তানি (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো, অতঃপর ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।]

উত্তর: জীবনী: ইমাম আবু দাউদের পুরো নাম সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি। তিনি ২০২ হিজরিতে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে ইরাক, শাম, মিসর ও খোরাসান সফর করেন এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ)-এর মতো প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি ২৭৫ হিজরিতে বসরায় ইন্তেকাল করেন। অবদান: ইলমে হাদিসে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো ‘সুনান আবু দাউদ’ সংকলন। তিনি প্রায় ৫ লক্ষ হাদিস থেকে বাছাই করে আহকাম বা বিধিবিধান সংক্রান্ত প্রায় ৪,৮০০ হাদিস এই গ্রন্থে সংকলন করেন, যা ফিকহবিদদের জন্য একটি রত্নভাণ্ডার।

(ب) [খ]

اكتب خصائص سنن أبى داؤد مع بيان منزلته بين كتب الحديث.
[হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে ‘সুনান আবু দাউদ’-এর মর্যাদা বর্ণনাসহ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।]

উত্তর: বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. এটি মূলত আহকাম বা ফিকহি বিধান সংক্রান্ত হাদিসের সর্বশ্রেষ্ঠ সংকলন। ২. ইমাম আবু দাউদ কোনো হাদিস চরম দুর্বল হলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ৩. ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবনের সুবিধার জন্য তিনি অধ্যায় ও অনুচ্ছেদগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। মর্যাদা: সিহাহ সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের মধ্যে বুখারি ও মুসলিমের পরই সাধারণত সুনান আবু দাউদের স্থান দেওয়া হয়। মুজতাহিদদের জন্য পবিত্র কুরআনের পর এই গ্রন্থটি সবচেয়ে বেশি সহায়ক।

مجموعة (ب) – شرح معانى الآثار (الدرجات – ٥٠)
[গ্রুপ (খ) – শারহু মাআনিল আসার (মান – ৫০)]

٣- ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : ٤٠ = ٢ × ٢٠
[৩. নিচের হাদিসগুলো থেকে যেকোনো দুটির অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

عن حكيم بن حزام (رضـ) أن رسول الله (صـ) قال : البيعان بالخيار حتى يتفرقا أو ما لم يتفرقا فإن صدقا وبينا بورك لهما في بيعهما فإن كذبا وكتما فعسى أن يدور بينهما فضل وتمحق بركة بيعهما.

[অনুবাদ: হাকিম বিন হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের চুক্তি বাতিলের অধিকার (খিয়ার) থাকে যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয় বা পৃথক না হয়। যদি তারা উভয়ে সত্য বলে এবং দোষ-ত্রুটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনাবেচায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে, তবে হয়তো তাদের কিছুটা লাভ হবে কিন্তু তাদের কেনাবেচার বরকত ধ্বংস করে দেওয়া হয়।]

  • (۱) ما معنى البيع لغة واصطلاحا؟ وكم قسما له وما هي؟ بين.
    [(১) বাই’ (ক্রয়-বিক্রয়)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর প্রকারভেদ কয়টি ও কী কী? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ‘বাই’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বিনিময় করা বা বেচাকেনা করা। পরিভাষায়: পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এক মালের বিনিময়ে অন্য মাল গ্রহণ করাকে বাই’ বলে। এর প্রধান ৪টি প্রকার: ১. বাইয়ে মুতলাক (পণ্যের বিনিময়ে অর্থের লেনদেন), ২. বাইয়ে সালাম (অগ্রিম মূল্য দিয়ে পরে পণ্য নেওয়া), ৩. বাইয়ে সারফ (মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা), ৪. বাইয়ে মুকায়াযাহ (পণ্যের বিনিময়ে পণ্য)।
  • (۲) ما معنى الخيار؟ وما مدته؟ بين موضحا.
    [(২) খিয়ার-এর অর্থ কী? এর মেয়াদ কতটুকু? স্পষ্ট করে বর্ণনা করো।]

    উত্তর: খিয়ার অর্থ অধিকার বা বাছাইয়ের সুযোগ। ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তিতে ক্রেতা বা বিক্রেতার চুক্তি বাতিল করা বা বহাল রাখার যে সুযোগ থাকে তাকে খিয়ার বলে (যেমন- খিয়ারে শর্ত, খিয়ারে রুইয়্যাত, খিয়ারে আইব)। খিয়ারে শর্তের সাধারণ মেয়াদ হানাফি মাজহাব মতে ৩ দিন।
  • (۳) هل التفرق بالأبدان أريد فى الحديث أم التفرق بالأقوال؟ بين على ضوء الحديث.
    [(৩) হাদিসে কি ‘শারীরিক বিচ্ছিন্নতা’ (তাফাররুক বিল আবদান) বোঝানো হয়েছে নাকি ‘কথার বিচ্ছিন্নতা’ (তাফাররুক বিল আকওয়াল)? হাদিসের আলোকে বর্ণনা করো।]

    উত্তর: এ বিষয়ে ইমামদের ইখতিলাফ আছে। ইমাম শাফেয়ি (রহ)-এর মতে এখানে ‘তাফাররুক বিল আবদান’ বা শারীরিক বিচ্ছিন্নতা বোঝানো হয়েছে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ) ও ইমাম ত্বহাবী (রহ)-এর মতে এখানে ‘তাফাররুক বিল আকওয়াল’ বা চুক্তির বাক্য (ইজাব ও কবুল) সম্পন্ন হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। ইজাব ও কবুল হয়ে গেলেই বেচাকেনা চূড়ান্ত হয়ে যায়।

(ب) [খ]

عن رافع بن خديج أن رسول الله (صـ) قال : كسب الحجام خبيث ومهر البغي خبيثة وثمن الكلب خبيث. وعن ابن عمر (رضـ) عنهما قال قال رسول الله (صـ) : من اقتنى كلبا غير كلب زرع ولا صيد نقص من عمله كل يوم قيراطان.

[অনুবাদ: রাফি ইবনে খাদিজ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: শিঙ্গালাগানেওয়ালার উপার্জন অপবিত্র, ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক (মোহর) অপবিত্র এবং কুকুরের মূল্য অপবিত্র। এবং ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি কৃষিকাজ বা শিকারের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কুকুর পালন করে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।]

  • (۱) ما المراد بمهر البغي؟ ولم سمى به مهرا وهو حرام وإيتاء المهر واجب؟
    [(১) ‘মাহরুল বাগি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এটি হারাম হওয়া সত্ত্বেও কেন একে ‘মোহর’ বলা হয়েছে, যেখানে মোহর প্রদান করা ওয়াজিব?]

    উত্তর: ‘মাহরুল বাগি’ বলতে ব্যভিচারিণী নারীর পারিশ্রমিক বা দেহব্যবসার উপার্জনকে বোঝানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হারাম। একে রূপকার্থে বা উপহাসস্বরূপ ‘মোহর’ বলা হয়েছে, কারণ প্রকৃত মোহর হলো হালাল এবং বিবাহকে বৈধ করে, আর এটি হলো অবৈধ চুক্তির বিনিময়।
  • (۲) ما معنى الخبيث؟ لم قال رسول الله (صـ) “كسب الحجام خبيث”؟ وقد قال رسول الله (صـ) ” الكاسب حبيب الله” بين موضحا.
    [(২) ‘খবিস’ শব্দের অর্থ কী? রাসূল (সা) কেন বলেছেন “শিঙ্গালাগানেওয়ালার উপার্জন খবিস”? অথচ তিনি বলেছেন “উপার্জনকারী আল্লাহর বন্ধু”, স্পষ্ট করে বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ‘খবিস’ অর্থ নিকৃষ্ট, অপবিত্র বা নোংরা। শিঙ্গালাগানেওয়ালার উপার্জনকে খবিস বলা হয়েছে তার পেশার হীনতা ও নোংরামির কারণে, এটি হারাম অর্থে নয়, বরং ‘মাকরূহ তানজিহি’ বা অপছন্দনীয় অর্থে। হালাল উপার্জনের প্রতি উৎসাহিত করতে “উপার্জনকারী আল্লাহর বন্ধু” বলা হয়েছে, কিন্তু শিঙ্গা লাগানোর মতো নিকৃষ্ট বা হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করতে এটিকে ‘খবিস’ বলা হয়েছে।
  • (۳) ما معنى القيراط؟ وما المراد به في الحديث؟
    [(৩) ‘কিরাত’ এর অর্থ কী? হাদিসে এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

    উত্তর: ‘কিরাত’ মূলত ওজন বা পরিমাপের একটি একক। হাদিসের পরিভাষায় পরকালে সওয়াবের বিশাল পরিমাণ বোঝাতে ‘কিরাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, এক কিরাত হলো উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ। বিনা কারণে কুকুর পাললে প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ সওয়াব নষ্ট হয়।

(ج) [গ]

عن عبادة بن الصامت (رضـ) قال سمعت رسول الله (صـ) يقول : الذهب بالذهب وزنا بوزن والفضة بالفضة وزنا بوزن والبر بالبر مثلا بمثل والشعير بالشعير مثلا بمثل والتمر بالتمر مثلا بمثل والملح بالملح مثلا بمثل فمن زاد أو إزداد فقد أربى.

[অনুবাদ: উবাদা বিন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি: স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ ওজনে ওজনে সমান, রৌপ্যের বদলে রৌপ্য ওজনে ওজনে সমান, গমের বদলে গম পরিমাণে সমান, যবের বদলে যব পরিমাণে সমান, খেজুরের বদলে খেজুর পরিমাণে সমান এবং লবণের বদলে লবণ পরিমাণে সমান হতে হবে। যে বেশি দেবে বা বেশি নেবে সে সুদের কারবার করল।]

  • (۱) ما معنى الربوا لغة وشرعا؟ وكم قسما له؟ بين.
    [(১) রিবা (সুদ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর প্রকারভেদ কয়টি? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: ‘রিবা’ এর আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া বা বেশি হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায়: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিনিময়হীন অতিরিক্ত যে মাল গ্রহণ করা হয় তাকে রিবা বা সুদ বলে। রিবা প্রধানত দুই প্রকার: ১. রিবা আন-নাসিআহ (সময়ের বিনিময়ে অতিরিক্ত নেওয়া, যা জাহিলি যুগে প্রচলিত ছিল), ২. রিবা আল-ফজল (একই জাতীয় পণ্য নগদ বিনিময়ের সময় কমবেশি করা)।
  • (۲) هل تجوز المعاملة الربوية مع البنك؟ بين.
    [(২) ব্যাংকের সাথে সুদী লেনদেন করা কি জায়েজ? বর্ণনা করো।]

    উত্তর: না, প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাথে সুদী লেনদেন করা সম্পূর্ণ হারাম। ইসলামে ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সকল প্রকার সুদী কারবার নিষিদ্ধ। তবে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে মুদারাবা বা মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ হালাল।
  • (۳) ما هو وجه ذكر الأشياء الستة خاصة فى الحديث؟ هل يجوز بيع غير هذه الأشياء بجنسه متفاضلا؟
    [(৩) হাদিসে বিশেষভাবে এই ছয়টি জিনিসের উল্লেখ করার কারণ কী? এসব ছাড়া অন্য জিনিস কি একই জাতীয় পণ্যের সাথে কমবেশি করে বিক্রি করা জায়েজ?]

    উত্তর: এই ছয়টি জিনিস হলো তৎকালীন সমাজের মূল লেনদেনের মাধ্যম ও প্রধান খাদ্যদ্রব্য। হানাফি মাজহাব মতে, সুদ হওয়ার কারণ বা ‘ইল্লত’ হলো- ওজন বা পরিমাপযোগ্য হওয়া এবং একই জাতীয় হওয়া। সুতরাং এই ছয়টি ছাড়াও অন্য যেকোনো বস্তু যা ওজন বা পরিমাপ করে বিক্রি হয়, তা একই জাতীয় বস্তুর সাথে কমবেশি করে বিনিময় করা হারাম। তবে যদি জাতীয়তা ও পরিমাপের মাপকাঠি ভিন্ন হয়, তখন কমবেশি করা জায়েজ।

(د) [ঘ]

عن النعمان بن بشير (رضـ) قال: انطلق بى أبى إلى النبي (صـ) ونحلنى نحلى ليشهده على ذلك فقال أكل ولدك نحلته مثل هذا؟ فقال لا، قال أيسرك أن يكونوا إليك في البر كلهم سواء قال بلي، قال فاشهد على هذا غيري.

[অনুবাদ: নু’মান বিন বশির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবী (সা)-এর কাছে গেলেন। তিনি আমাকে একটি দান করেছিলেন এবং নবী (সা)-কে এর সাক্ষী বানাতে চেয়েছিলেন। তখন নবী (সা) জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি তোমার সব সন্তানকে এরকম দান করেছ? তিনি বললেন: না। নবী (সা) বললেন: তুমি কি চাও না যে তারা সবাই তোমার প্রতি সমানভাবে সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন: হ্যাঁ চাই। তখন নবী (সা) বললেন: তাহলে এ ব্যাপারে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী বানাও।]

  • (۱) هل يبطل أن يعطى الرجل بعض بنيه عطية دون بعض؟ بين فى ضوء ما درست.
    [(১) কোনো ব্যক্তি তার এক সন্তানকে দান করে অন্য সন্তানদের না দিলে তা কি বাতিল হয়ে যাবে? তোমার পঠিত বিষয়ের আলোকে বর্ণনা করো।]

    উত্তর: হানাফি মাজহাব মতে, কোনো পিতা যদি বৈষম্যমূলকভাবে এক সন্তানকে কিছু দান করেন এবং তা বুঝিয়ে দেন, তবে দানটি কার্যকর (সহিহ) হয়ে যাবে, কিন্তু এমন বৈষম্য করা মাকরূহে তাহরিমি বা গুনাহের কাজ। তবে বিশেষ কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ (যেমন- এক সন্তান অন্ধ বা পঙ্গু) থাকলে কমবেশি করা জায়েজ।
  • (۲) ما حكم التسوية فى الإعطاء بين الأولاد؟ بين بالأدلة.
    [(২) সন্তানদের মাঝে সমানভাবে দান করার বিধান কী? প্রমাণসহ বর্ণনা করো।]

    উত্তর: সন্তানদের মাঝে দান বা উপহারের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব বা অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখিত হাদিসই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ, যেখানে রাসূল (সা) বৈষম্যমূলক দানের সাক্ষী হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বলেছেন: “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা করো।”
  • (۳) ما معنى الهبة والوقف وما بينهما؟ بين بالوضاحة.
    [(৩) হিবা ও ওয়াকফ-এর অর্থ কী এবং এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কী? স্পষ্টভাবে বর্ণনা করো।]

    উত্তর: হিবা: কোনো বিনিময় ছাড়া স্বেচ্ছায় কোনো সম্পদের মালিকানা অন্যকে দিয়ে দেওয়া। ওয়াকফ: কোনো সম্পদের মূল স্বত্ব নিজের মালিকানায় বা আল্লাহর মালিকানায় আবদ্ধ রেখে এর থেকে উৎপন্ন আয় বা সুবিধা জনকল্যাণে দান করা। পার্থক্য: হিবায় মালিকানা গ্রহীতার কাছে চলে যায়, সে তা বিক্রি বা দান করতে পারে। কিন্তু ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বিক্রি করা বা কাউকে মালিকানা দেওয়া যায় না, কেবল এর সুবিধা ভোগ করা যায়।

٤- أجب عن واحد مما يلى : ١٠ = ١ × ١٠
[৪. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) [ক]

اكتب نبذة من حياة الإمام أبى جعفر الطحاوى رحمه الله مع ذكر خدماته فى علم الحديث.
[ইমাম আবু জাফর ত্বহাবী (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো এবং ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।]

উত্তর: জীবনী: ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মাদ আত-ত্বহাবী ২৩৯ হিজরিতে মিশরের ‘ত্বহা’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হানাফি মাজহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি প্রথমে তাঁর মামা ইমাম মুযানি (যিনি শাফেয়ি আলেম ছিলেন)-এর কাছে পড়েন, পরে হানাফি মাজহাব গ্রহণ করেন। ৩২১ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। অবদান: ইলমে হাদিস ও ফিকহে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি হাদিসের বিরোধপূর্ণ অর্থের চমৎকার সমন্বয় করেছেন। তাঁর রচিত ‘শারহু মাআনিল আসার’ এবং ‘শারহু মুশকিলিল আসার’ ইলমে হাদিসের অমূল্য সম্পদ।

(ب) [খ]

اكتب مقالة حول ‘شرح معانى الآثار’ مركزا على النقاط التالية : موضوع الكتاب، أسلوب التأليف، خصائصه، منزلته بين كتب الأحاديث.
[নিচের পয়েন্টগুলোর আলোকে ‘শারহু মাআনিল আসার’ গ্রন্থ সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ লেখো: গ্রন্থের বিষয়বস্তু, রচনার শৈলী, বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং হাদিস গ্রন্থগুলোর মধ্যে এর মর্যাদা।]

উত্তর: বিষয়বস্তু: এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু হলো আহকাম বা ফিকহি বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিস এবং বাহ্যিকভাবে পরস্পর বিরোধী হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। রচনা শৈলী: তিনি প্রথমে একটি বিষয়ের উপর প্রচলিত হাদিস আনেন, তারপর এর বিপরীতমুখী হাদিস আনেন এবং শেষে নসখ (রহিতকরণ), ইজমা বা যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে হানাফি মাজহাবের মতটিকে প্রাধান্য দেন। বৈশিষ্ট্য: ১. এটি ফিকহ ও হাদিসের এক অপূর্ব সমন্বয়। ২. বিরোধী হাদিসের যৌক্তিক জবাব দেওয়া হয়েছে। ৩. রাবিদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মর্যাদা: হানাফি ফিকহবিদদের কাছে এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং সিহাহ সিত্তাহর গ্রন্থগুলোর সমকক্ষ না হলেও ফিকহি মুস্তাদরাক বা দলিলের ক্ষেত্রে এটি অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now