কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: দিরাসাতুল হাদীস-১ (৫০২১০১) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Dirasatul Hadith-2 (502102) Question & Answer

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٢
[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]
الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث-٢ [দিরাসাতুল হাদীস-২] | বিষয় কোড: ۵ ۰ ۲ ۱ ۰ ۲
الوقت— ٤ ساعات [সময়— ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة— ١٠٠ [পূর্ণমান— ১০০]
الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة- [দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]
مجموعة (أ)—سنن أبى داود [ক-বিভাগ: সুনানে আবু দাউদ] (الدرجة— ٥٠)
١- ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (الدرجات ٤٠=٢×٢٠)
(أ) عن أبي هريرة (رض) قال لما توفى رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف أبو بكر بعده وكفر من كفر من العرب، قال عمر بن الخطاب لأبي بكر: كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، فمن قال لا إله إلا الله فقد عصم منى ماله ونفسه إلا بحقه وحسابه على الله عز وجل؟ فقال أبو بكر والله لأقاتلن من فَرَّقَ بَيْنَ الصلاة والزكاة، فإن الزكاة حق المال، والله لو منعونى عقالا كانوا يؤدونه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه، فقال عمر بن الخطاب فوالله: ما هو إلا أن رأيت الله عز وجل قد شرح صدر أبى بكر للقتال، فعرفت أنه الحق-
- (١) ما معنى الزكاة لغة وشرعاً؟ ومتى وأين فرضت الزكاة؟ (٥)
- (٢) بين مصارف الزكاة مدللا ومفصلا- (٥)
- (٣) اكتب نبذة من حياة أبى هريرة (رض) مع ذكر خدماته للحديث- (٥)
(১) যাকাতের পরিচয়: আভিধানিক অর্থ: النماء (বৃদ্ধি পাওয়া), الطهارة (পবিত্র হওয়া)। শরয়ী অর্থ: “শরীয়ত নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট মালের একটি অংশ নির্দিষ্ট খাতের ব্যক্তিদের মালিক বানিয়ে দেওয়া।” যাকাত ২য় হিজরীতে মদিনায় ফরজ হয়।
(২) যাকাতের খাতসমূহ: আল-কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নং আয়াতে যাকাতের ৮টি খাতের কথা বলা হয়েছে: (إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا…) অর্থাৎ ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, মন জয় করার জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য।
(৩) আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনী: তাঁর মূল নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। তিনি ৭ম হিজরীতে খায়বর যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর থেকে সর্বাধিক ৫৩৭৪টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি ৫৭ বা ৫৯ হিজরীতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
(ب) عن عبد الله بن عمر (رض) قال: كان الناس يُخرجون صدقة الفطر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم صاعًا من شعير أو تمر أو سلت أو زبيب، قال: قال عبد الله: فلما كان عمر رضى الله عنه وكثرت الحنطة جعل عمر نصف صاع حنطة مكان صاع من تلك الأشياء-
- (١) عرف صدقة الفطر مع ذكر حكمها ووقت أدائها- (٥)
- (٢) هل يجوز أداء صدقة الفطر بالقيمة؟ بين مدللا- (٥)
- (٣) اكتب نبذة من حياة عبد الله بن عمر (رض) مع ذكر خدماته للحديث- (٥)
(১) সদকাতুল ফিতরের পরিচয়: ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদেকের সময় যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর যে নির্দিষ্ট পরিমাণ দান করা ওয়াজিব হয়, তাকে সদকাতুল ফিতর বলে। এর হুকুম: ওয়াজিব। সময়: ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই এটি আদায় করা উত্তম।
(٢) মূল্য দ্বারা ফিতরা আদায়: হানাফী মাযহাব মতে খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে তার সমমূল্য (القيمة) নগদ অর্থ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েজ এবং উত্তম। কারণ এতে গরিবের প্রয়োজন সহজে মেটে (أنفع للفقير)। উমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) ও হাসান বসরী (রহ.) মূল্য দিতে বলেছেন।
(৩) আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর জীবনী: তিনি দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর সুযোগ্য পুত্র। তিনি সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২৬৩০টি। তিনি ৭৩ হিজরীতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।
(ج) عن أبى هريرة (رض) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: لا تقدموا صوم رمضان بيوم ولا يومين، إلا أن يكون صوم يصومه رجل فليصم ذلك الصوم-
- (١) عرف الصوم لغة وشرعًا- ثم بين متى فرض الصوم؟ (٥)
- (٢) على من يجب الصوم وعلى من لا؟ بين مدللا- (٥)
- (٣) ما حكم الصوم فى يوم الشك؟ بين مدللا- (٥)
(১) সিয়ামের পরিচয়: আভিধানিক অর্থ: الإمساك (বিরত থাকা)। শরয়ী অর্থ: সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাকা। সিয়াম দ্বিতীয় হিজরীতে ফরজ হয়। দলিল: (كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ).
(২) সিয়াম কার ওপর ওয়াজিব: প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকিম (স্থায়ী) এবং পবিত্র মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা ওয়াজিব। পাগল, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির ও হায়েজ-নেফাসগ্রস্ত নারীর ওপর রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
(৩) সন্দেহের দিন (يوم الشك) রোজা রাখার বিধান: শাবান মাসের ৩০ তারিখ আকাশ মেঘলা থাকার কারণে রমজানের চাঁদ দেখা না গেলে ঐ দিনকে ‘ইয়াওমুশ শাক’ বা সন্দেহের দিন বলে। হানাফী মাযহাব মতে, এই দিনে রমজানের নিয়তে রোজা রাখা মাকরুহে তাহরীমি (صوم يوم الشك مكروه تحريما)।
(د) عن عائشة رضى الله عنها قالت: كان يوم عاشوراء يوم تصومه قريش فى الجاهلية، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصومه فى الجاهلية، فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة صامه وأمر بصيامه، فلما فرض رمضان كان هو الفريضة، وترك عاشوراء- فمن شاء صامه ومن شاء تركه-
- (١) كم قسما للصوم؟ بين ممثلا- (٥)
- (٢) ما المراد بعاشوراء؟ وما حكم صيامه؟ بين مع ذكر فضله- (٥)
- (٣) اكتب نبذة من حياة عائشة (رض) مع ذكر خدماتها للحديث- (٥)
(১) সিয়ামের প্রকারভেদ: রোজা প্রধানত ৫ প্রকার: ফরজ (রমজানের রোজা), ওয়াজিব (মান্নত ও কাফফারা), সুন্নাহ (আশুরার রোজা), মুস্তাহাব (আইয়ামে বীজের রোজা) এবং মাকরুহ (ঈদের দিন রোজা রাখা)।
(২) আশুরা ও এর বিধান: ‘আশুরা’ হলো মুহাররম মাসের ১০ তারিখ। এর রোজা রাখা সুন্নাত। রাসূল (সা.) বলেছেন, এর ফজিলত হলো এটি গত এক বছরের গুনাহ মুছে দেয় (يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ)। ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখা মুস্তাহাব।
(৩) আয়েশা (রা.)-এর জীবনী: তিনি উম্মুল মুমিনীন, আবু বকর (রা.)-এর কন্যা। তিনি ফিকহ ও হাদীসে অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২২১০টি। ৫৮ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
٢- أجب عن واحد مما يلى : (١٠=١×١٠)
(أ) اكتب نبذة من حياة المحدث الإمام أبى داود سليمان بن الأشعث السجستانى مع ذكر خدماته لعلم الحديث-
(ب) اكتب مزايا سنن أبى داود مع بيان منزلة هذا الكتاب بين كتب الصحاح الستة-
(অ) ইমাম আবু দাউদ (রহ.): তাঁর পুরো নাম সুলাইমান বিন আল-আশ’আস আস-সিজিস্তানী। তিনি ২০২ হিজরীতে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ইলমে হাদীসের জন্য তিনি হিজাজ, সিরিয়া, মিশর, ইরাক ভ্রমণ করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘সুনানে আবু দাউদ’। তিনি ২৭৫ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(ব) সুনানে আবু দাউদের বৈশিষ্ট্য: সিহাহ সিত্তাহর মধ্যে এই কিতাবটি শুধুমাত্র ‘আহকাম’ বা বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে একত্রিত করার জন্য বিখ্যাত। এতে প্রায় ৪৮০০টি হাদীস রয়েছে। ফকীহদের নিকট এর গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা অনেক উচ্চে, এটি বুখারী ও মুসলিমের ঠিক পরেই ৩য় বা ৪র্থ স্থানে অবস্থান করে।
مجموعة (ب)—شرح معانى الآثار [খ-বিভাগ: শরহু মা’আনিল আসার] (الدرجة— ٥٠)
٣- ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (٤٠=٢×٢٠)
(أ) عن أبى هريرة (رض) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: من اشترى شاة مصراة أو لقحة مصراة، فحلبها فهو بخير النظرين، بين أن يختارها وبين أن يردها وإناء من طعام-
- (١) عرف البيع مع ذكر أركانه وأقسامه- (٥)
- (٢) ما الفرق بين البيع الباطل والبيع الفاسد؟ بين ممثلا- (٥)
- (٣) ما الاختلاف بين أئمة المذاهب فى مسئلة بيع الشاة المصراة؟ بين مفصلا- (٥)
(১) বাই বা ক্রয়-বিক্রয়ের পরিচয়: مبادلة المال بالمال بالتراضي (পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে মালের বিনিময়ে মাল আদান-প্রদান করাকে বাই বা ক্রয়-বিক্রয় বলে)। এর রোকন হলো ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ)।
(২) বাতেল ও ফাসিদ বেচাকেনার পার্থক্য: ‘বাইয়ে বাতেল’ হলো যার মূল এবং গুণাবলি শরীয়তসম্মত নয় (যেমন মদ বা শূকর বিক্রি)। আর ‘বাইয়ে ফাসিদ’ হলো যার মূল শরীয়তসম্মত কিন্তু বিশেষ কোনো গুণের কারণে অবৈধ (যেমন জুমার আজানের পর বেচাকেনা বা শর্তযুক্ত বেচাকেনা)।
(৩) মুসাররাত ছাগল (বাঁট আটকে দুধ জমিয়ে রাখা ছাগল) বিক্রি: হানাফী মাযহাব মতে, ক্রেতা দুধ দোহন করার পর ত্রুটি দেখলে তা ফেরত দিতে পারবে, তবে দুধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক সা’ খেজুর দেওয়া কিয়াসের পরিপন্থী, তাই সে দুধের সমমূল্য ফেরত দেবে। কিন্তু শাফেয়ী মাযহাব মতে হাদীসের বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে এক সা’ খেজুরই ফেরত দিতে হবে।
(ب) عن أبى سعيد قال: قلت لابن عباس: أرأيت الذى تقول الدينارين بالدينار والدرهمين بالدرهم- أشهد أنى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الدينار بالدينار والدرهم بالدرهم لا فضل بينهما- فقال ابن عباس: أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقلت نعم، فقال: فإنى لم أسمع هذا، إنما أخبرنيه أسامة بن زيد- قال أبو سعيد : ونزع عنها ابن عباس-
- (١) عرف الربا- ثم بين أقسامه وجرائمه وعواقبه- (٥)
- (٢) هل الديناران بالدينار جائز؟ فإن لا فكيف قال به ابن عباس (رض)؟ (٥)
- (٣) اكتب نبذة من حياة ابن عباس مع ذكر خدماته للحديث- (٥)
(১) রিবা (সুদ) এর পরিচয়: রিবা অর্থ الزيادة বা বৃদ্ধি। শরীয়তের পরিভাষায়- ফজল বা এমন অতিরিক্ত মাল গ্রহণ করা, যার বিপরীতে কোনো বিনিময় নেই। সুদ ২ প্রকার: রিবা ফজল ও রিবা নাসিয়াহ। এর পরিণতি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা (فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ)।
(২) এক দিনারের বদলে দুই দিনার: এটি রিবা ফজল এবং সম্পূর্ণ হারাম। ইবনে আব্বাস (রা.) প্রথমে উসামা (রা.)-এর হাদীস “إنما الربا في النسيئة” (সুদ কেবল বাকিতে হয়)-এর ওপর ভিত্তি করে এটি জায়েজ মনে করতেন। কিন্তু পরে আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর হাদীস শোনার পর তিনি তাঁর মত থেকে ফিরে আসেন (ونزع عنها)।
(৩) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জীবনী: তিনি রাসূল (সা.)-এর চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ বিন আব্বাস। তাঁকে ‘হিবরুল উম্মাহ’ বা উম্মতের মহাজ্ঞানী এবং ‘তারজুমানুল কুরআন’ বলা হয়। ১৬৬০টি হাদীস তিনি বর্ণনা করেছেন।
(ج) عن ابن عمر أن عمر أصاب أرضا بخيبر، فأتى النبى صلى الله عليه وسلم يستأمره فقال إنى أصبت أرضا لم أصب مالا قط أحسن منها- فكيف تأمرنى؟ قال: إن شئت حبست أصلها لاتتباع ولا توهب، قال أبو عاصم وأراه قال: لا تورث، قال: فتصدق بها فى الفقراء والقربى والرقاب وفى سبيل الله وابن السبيل والضعيف، لاجناح على من وليها أن يأكل منها غير متمول، قال: فذكرت ذلك لمحمد فقال: غير متأثل-
- (١) هل أراضى خيبر قسمت؟ وإلا فكيف أصاب عمر أرضًا بخيبر؟ (٥)
- (٢) عرف هبة والوقف ثم بين الفرق بينهما- (٥)
- (٣) اكتب نبذة من حياة الخليفة عمر بن الخطاب (رض)- (٥)
(১) খায়বরের জমি বন্টন: রাসূল (সা.) খায়বরের অর্ধেক জমি বায়তুলমালের জন্য রেখেছিলেন এবং বাকি অর্ধেক মুজাহিদদের মাঝে বন্টন করেছিলেন। উমর (রা.) সেই বন্টিত অংশ থেকেই তাঁর হিস্যা লাভ করেছিলেন।
(২) হিবাহ ও ওয়াকফ-এর পার্থক্য: ‘হিবাহ’ হলো কাউকে কোনো কিছুর মালিকানা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হস্তান্তর করা (تمليك العين بلا عوض)। আর ‘ওয়াকফ’ হলো মূল সম্পদকে আটকে রেখে তার থেকে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা আল্লাহর রাস্তায় জনকল্যাণে ব্যয় করা (حبس العين وتسبيل المنفعة)। হিবাহ বিক্রি করা যায়, ওয়াকফ বিক্রি বা উত্তরাধিকার হয় না।
(৩) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবনী: তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং ‘ফারুক’ উপাধিতে ভূষিত। তাঁর খেলাফতকাল ছিল ১০ বছর ৬ মাস। তাঁর শাসনামলে ইসলামী সাম্রাজ্য ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। ২৩ হিজরীতে তিনি শহীদ হন।
(د) عن أبى هريرة (رض) ذكر أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: إذا كانت الدابة مرهونة فعلى المرتهن علفها ولبن الدر يشرب وعلى الذى يشرب نفقتها ويركب-
- (١) عرف الرهن- ثم بين حكمه وركنه وشروطه- (٥)
- (٢) إذا هلك الرهن فى يد المرتهن فكيف حكمه؟ بين- (٥)
- (٣) هل يجوز الانتفاع بالمرهون؟ بين أقوال العلماء مدللا- (٥)
(১) বন্ধক (رهن) এর পরিচয়: কোনো ঋণের বিপরীতে এমন কোনো সম্পদ আটকে রাখা, যা দ্বারা ঋণ উসুল করা সম্ভব। এর হুকুম জায়েজ। এর রোকন হলো ইজাব ও কবুল। শর্ত হলো জিনিসটি হস্তান্তরযোগ্য ও মূল্যমানসম্পন্ন হওয়া।
(২) মুরতাহিনের (বন্ধক গ্রহীতা) হাতে বন্ধকী বস্তু ধ্বংস হলে: হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, যদি বন্ধকী বস্তু ধ্বংস হয় তবে তার মূল্যের সমপরিমাণ ঋণ মাফ হয়ে যাবে। যদি বস্তুর দাম ঋণের চেয়ে বেশি হয়, তবে অতিরিক্ত অংশের জন্য গ্রহীতা দায়ী থাকবে না (আমানত হিসেবে গণ্য)।
(৩) বন্ধকী বস্তু থেকে ফায়দা নেওয়া: জমহুর উলামা ও হানাফী মাযহাব মতে, বন্ধক গ্রহীতার জন্য বন্ধকী বস্তু থেকে বিনা অনুমতিতে ফায়দা নেওয়া (مثل الركوب والحلب) নাজায়েজ, কারণ শর্তযুক্ত ঋণ সুদের অন্তর্ভুক্ত (كل قرض جر منفعة فهو ربا)। তবে মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যয়ভার বহন করে তা থেকে উপকৃত হওয়া যাবে।
٤- أجب عن واحد مما يلى : (١٠=١×١٠)
(أ) اكتب نبذة من حياة الإمام أبى جعفر مع ذكر خدماته للحديث-
(ب) تحدث عن خصائص شرح معانى الآثار مع ذكر منزلته- بين كتب الحديث-
(অ) ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী (রহ.): তাঁর পুরো নাম আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ। তিনি মিশরের ‘তাহা’ নামক গ্রামে ২৩৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হানাফী মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ ও মুহাদ্দিস। ‘শরহু মা’আনিল আসার’ এবং ‘আকীদায়ে তাহাবীয়া’ তাঁর অমর সৃষ্টি। তিনি ৩২১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(ব) ‘শরহু মা’আনিল আসার’-এর বৈশিষ্ট্য: এই কিতাবটি মূলত বিভিন্ন সাংঘর্ষিক হাদীসের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় সাধন করেছে। ইমাম তাহাবী (রহ.) প্রথমে একটি মাসআলার হাদীস উল্লেখ করেন, এরপর বিরোধীদের দলিল উপস্থাপন করে অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে হানাফী মাযহাবের প্রাধান্য প্রমাণ করেছেন। এটি ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিকহের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।


