তারিখুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ (৫০১১০৬) প্রশ্ন ও সমাধান – কামিল মাস্টার্স (তাফসির) পরীক্ষা ২০২২ | Tarikhul Hadaratil Islamiyah (501106) QnA – Kamil Tafsir 2022

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: তারিখুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ (৫০১১০৬) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Tarikhul Hadaratil Islamiyyah (501106) Question & Answer
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ৯০৬

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ۲۰۲۲

[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]

القرآن والدراسات الإسلامية

[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

تاريخ الحضارة الإسلامية

[তারিখুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ]

বিষয় কোড: ۵ ۰ ۱ ۱ ۰ ۶ (৫০১১০৬)
الوقت-٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة-١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]

الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[বি.দ্র.: ক-বিভাগ থেকে চারটি এবং খ-বিভাগ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة—(أ)

الدرجة— ٨٠=٤×٢٠

١- كيف كان النظام الاقتصادي والإداري للمسلمين في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم؟ بين مفصلا-
[রাসূল (সা.) এর যুগে মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন ছিল? বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: রাসূল (সা.)-এর যুগে অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল যাকাত, উশর (কৃষিজাত পণ্যের কর), গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ), জিজয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর) এবং খারাজ (ভূমির কর)। সুষম বণ্টনের জন্য বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সুদ, জুয়া ও মজুদদারি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়েছিল।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা: মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন স্বয়ং রাসূল (সা.)। তিনি অহীর পাশাপাশি ‘শুরা’ বা পরামর্শ সভার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। মদিনার বাইরে ইয়েমেন, বাহরাইন ইত্যাদি অঞ্চলে তিনি যোগ্য গভর্নর (ওয়ালী) ও বিচারক (কাযী) নিয়োগ দিয়েছিলেন, যেমন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছিল।

٢- تحدث عن دور الرسول صلى الله عليه وسلم في محو الأمية ونشر العلم موضحا-
[নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে রাসূল (সা.) এর ভূমিকা বিশদভাবে আলোচনা কর।]

রাসূল (সা.) শিক্ষাকে প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ করেছেন। নিরক্ষরতা দূরীকরণে তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ হলো:

  • বদরের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি: তিনি অভাবী কিন্তু শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের শর্ত দিয়েছিলেন যে, তারা প্রত্যেকে ১০ জন মুসলিম শিশুকে লেখাপড়া শেখালে মুক্তি পাবে। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম বয়স্ক শিক্ষাক্রম।
  • সুফফা: মসজিদে নববীর বারান্দায় ‘আসহাবে সুফফা’ নামে ইসলামি ইতিহাসের প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন।
  • দারুল আরকাম: মক্কায় সাফা পাহাড়ের কাছে তিনি প্রথম গোপন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
  • নারী শিক্ষা: নারীদের শিক্ষার জন্য তিনি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন ধার্য করেছিলেন, যেখানে তিনি তাদের দ্বীন শেখাতেন।

٣- اكتب مقالة عن ميثاق المدينة مع بيان اهميته في المجتمع العرب-
[আরব সমাজে মদিনার সনদের গুরুত্ব বর্ণনা করে এর গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

মদিনার সনদ: ৬২২ খ্রিস্টাব্দে রাসূল (সা.) মদিনায় হিজরতের পর সেখানকার বিবদমান মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে ৪৭ ধারাবিশিষ্ট যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, তা-ই মদিনার সনদ। এটি পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান।

গুরুত্ব: ১. এটি আরবদের শত বছরের রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় কোন্দল দূর করে মদিনাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করে। ২. সকল ধর্মাবলম্বীর স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। ৩. মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এক অনন্য ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। ৪. মদিনার প্রতিরক্ষা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত হয়, যা ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করে।

٤- اذكر التداعيات الدينية والاضطرابات السياسية التي حدثت في المجتمع الإسلامي بعد استشهاد عثمان بن عفان رضي الله عنه مفصلا-
[হযরত উসমান (রা.) এর শাহাদাতের পর মুসলিম সাম্রাজ্যে যে ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।]

রাজনৈতিক অস্থিরতা: তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতের পর মুসলিম বিশ্ব চরম বিভক্তি ও গৃহযুদ্ধে পতিত হয়। উসমানের (রা.) হত্যার বিচার দাবিকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (রা.)-এর সাথে হযরত আয়িশা (রা.)-এর ‘উষ্ট্রের যুদ্ধ’ (জঙ্গে জামাল) এবং পরবর্তীতে সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া (রা.)-এর সাথে রক্তক্ষয়ী ‘সিফফিনের যুদ্ধ’ সংঘটিত হয়। রাজনৈতিক কেন্দ্র মদিনা থেকে কুফায় স্থানান্তরিত হয়।

ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া: এই রাজনৈতিক কোন্দলকে কেন্দ্র করেই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রথমবারের মতো মারাত্মক আকিদাগত বিভাজন দেখা দেয়। সিফফিনের যুদ্ধে সালিশির (তাহকিম) ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘খাওয়ারিজ’ নামক একটি চরমপন্থী দলের উদ্ভব হয়। অন্যদিকে হযরত আলীর (রা.) অনুসারীদের মধ্যে থেকে ‘শিয়া’ সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্বে গভীর প্রভাব ফেলে।

٥- تحدث عن الأحوال الاجتماعية والثقافية في العصر الأموى-
[উমাইয়া যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা আলোচনা কর।]

সামাজিক অবস্থা: উমাইয়া যুগে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের চেয়ে আরব জাতীয়তাবাদের প্রাধান্য বেশি ছিল। অনারব মুসলিমদের (মাওয়ালী) দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হতো। সমাজে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। নারীদের অবস্থা সম্মানজনক হলেও, সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির সাথে সাথে রাজপ্রাসাদে আভিজাত্য, জৌলুস এবং গায়িকা-দাসীদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

সাংস্কৃতিক অবস্থা: এ যুগে আরবি সাহিত্য ও কবিতার ব্যাপক উন্নতি হয়। ফারাজদাক, জারির এবং আখতালের মতো কবিরা বিখ্যাত ছিলেন। স্থাপত্যকলায় অসামান্য অগ্রগতি সাধিত হয়; এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো জেরুজালেমের ‘কুব্বাতুস সাখরা’ (ডোম অব দ্য রক) এবং ওয়ালিদ কর্তৃক নির্মিত সুবিশাল ‘দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ’।

٦- بين انجازات الدولة الفاطمية في تطوير النظام التعلمي في مصر-
[মিশরের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের অবদানসমূহ বর্ণনা কর।]

মিশরে ইসমাইলি শিয়া মতবাদের ভিত্তিতে ফাতেমীয়দের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অসামান্য অবদান ছিল:

  • আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়: ৯৭২ সালে জাওহার আল-সিকিল্লি আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন, যা পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
  • দারুল হিকমাহ: খলিফা আল-হাকিম ১০০৪ সালে ‘দারুল হিকমাহ’ বা ‘দারুল ইলম’ নামে একটি বিশাল বিজ্ঞান একাডেমি ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
  • পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা: গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ (যেমন- ইবনে আল-হাইসাম) ও চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান করা হতো এবং বিজ্ঞান চর্চার অবারিত সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

٧- متى فتح المسلمون الأندلس وكيف؟ تحدث عن تطور الشعر العربي في الأندلس-
[মুসলমানরা কখন কীভাবে স্পেন বিজয় করে? স্পেনে আরবি কাব্য-সাহিত্যের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

স্পেন বিজয়: ৭১১ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের যুগে, উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের নির্দেশে সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ মাত্র ৭,০০০ সৈন্য নিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে স্পেন (আন্দালুস) আক্রমণ করেন। গুয়াদালেতের যুদ্ধে রাজা রডারিককে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে তারা ঐতিহাসিক স্পেন বিজয় সম্পন্ন করেন।

কাব্য-সাহিত্যের বিকাশ: মুসলিম আন্দালুসিয়া ছিল ইউরোপের শিল্প-সাহিত্যের স্বর্গরাজ্য। সেখানে প্রাচ্যের ধ্রুপদী আরবি কবিতার পাশাপাশি স্প্যানিশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির চমৎকার মিশ্রণে ‘মুওয়াশশাহ’ এবং ‘যাজাল’ নামক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের লোকজ গীতি-কবিতার উদ্ভব হয়। এই কাব্যরীতি পরবর্তীতে ইউরোপীয় ট্রুবাডুর (গীতিকার) ঐতিহ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

٨- تحدث عن مساهمة العلماء المسلمين في علم الطب وعلم الفلك-
[চিকিৎসা ও মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান আলোচনা কর।]

চিকিৎসা বিজ্ঞান: চিকিৎসায় মুসলিমদের অবদান অভাবনীয়। ইবনে সিনা রচিত ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ কয়েক শতাব্দী ধরে ইউরোপের মেডিকেল কলেজগুলোর প্রধান পাঠ্যবই ছিল। আবু বকর আল-রাজি সর্বপ্রথম গুটিবসন্ত ও হামের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করেন। ইবনে নাফিস রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন এবং আবুল কাসিম আল-জাহরাভি (আলবুকাসিস) আধুনিক সার্জারির ভিত্তি স্থাপন ও বহু অস্ত্রোপচার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

মহাকাশ বিজ্ঞান (জ্যোতির্বিদ্যা): মুসলিম বিজ্ঞানীরা বাগদাদ, দামেস্ক ও মারাঘায় উন্নত মানমন্দির (অবজারভেটরি) স্থাপন করেন। আল-বাত্তানি বছরের দৈর্ঘ্য নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। আল-খাওয়ারিজমি গ্রহ-নক্ষত্রের তালিকা (যিজ) তৈরি করেন এবং অ্যাস্ট্রোলেব যন্ত্রের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে নৌ-পরিচালনাকে সহজ করেন।

مجموعة—(ب)

الدرجة — ٢٠=٤×٥

٩- ما المراد بالحضارة؟ بين عناصرها موجزا-
[সভ্যতা কী? সভ্যতার উপাদানগুলো সংক্ষেপে তুলে ধর।]

উত্তর: সভ্যতা (الحضارة) হলো মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের একটি উচ্চতর স্তর। এর প্রধান উপাদানগুলো হলো: ১. অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা, ২. সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক বা শাসন ব্যবস্থা, ৩. নৈতিক ঐতিহ্য ও আইন, এবং ৪. বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্যের বিকাশ।

١٠- بين موقف ابى بكر رضى الله عنه في منكرى الزكاة-
[যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে হযরত আবু বকর (রা.) এর অবস্থান বর্ণনা কর।]

উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, “আল্লাহর কসম! যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে (নামাজ পড়বে কিন্তু যাকাত দেবে না), আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করব।” শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।

١١- اذكر إصلاحات الخليفة الأموى عبد الملك بن مروان موجزًا-
[উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান এর সংস্কারসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর: আব্দুল মালেককে উমাইয়া বংশের ‘প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা’ বলা হয়। তাঁর প্রধান সংস্কারসমূহ: ১. রাষ্ট্রের সকল দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবি চালু করা (আরবীকরণ)। ২. সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র ইসলামি স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) ও রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম) চালু করা। ৩. আধুনিক ডাকব্যবস্থা (বারিদ) ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন।

١٢- من الموالي؟ تحدث عن دورهم السياسي في الدولة الأموية باختصار-
[মাওয়ালী কারা? উমাইয়া সাম্রাজ্যে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর: ‘মাওয়ালী’ বলা হতো অনারব নওমুসলিমদের (যথা পারসীক, তুর্কি, বার্বার ইত্যাদি)। উমাইয়া যুগে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করা হতো এবং উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়া হতো না। এই বঞ্চনা ও বৈষম্যের ক্ষোভ থেকে তারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয় এবং পরবর্তীতে আব্বাসীয় বিপ্লবে (উমাইয়াদের পতনে) মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

١٣- كيف كان النظام التعليمي في مصر في عهد الفاطميين؟ اكتب موجزًا-
[ফাতেমীয়দের যুগে মিশরের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন ছিল? সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ কর।]

উত্তর: ফাতেমীয়দের যুগে মিশরের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত ছিল। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও দারুল হিকমাহ ছিল শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। সরকার পণ্ডিত ও গবেষকদের বিপুল বৃত্তি প্রদান করত। তবে, তাদের রাষ্ট্রীয় শিক্ষার একটি বড় গুপ্ত উদ্দেশ্য ছিল শিয়া-ইসমাইলি মতবাদ প্রচার ও প্রসার করা।

١٤- تحدث عن حركة الشعوبية وآثارها السياسية-
[শুউবিয়া আন্দোলন ও এর রাজনৈতিক প্রভাব আলোচনা কর।]

উত্তর: শুউবিয়া হলো মূলত অনারবদের (বিশেষ করে পারসীকদের) একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন। তাদের দাবি ছিল যে আরবরা কোনোভাবেই শ্রেষ্ঠ নয়, বরং অনারবরাই ইতিহাস ও সভ্যতায় শ্রেষ্ঠ। এর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল ব্যাপক—এটি আরবদের একাধিপত্যকে খর্ব করে এবং আব্বাসীয় প্রশাসনে পারসীকদের প্রভাব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

١٥- تحدث عن التأثير الفارسي في العهد العباسي-
[আব্বাসী যুগে পারস্য প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর: আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠায় পারসীকদের বড় সামরিক ভূমিকা থাকায় রাষ্ট্রে তাদের প্রভাব প্রবল ছিল। প্রশাসনিক কাঠামো পারস্য মডেলে ঢেলে সাজানো হয় (যেমন ‘উজির’ বা মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি, বারমাকি পরিবারের উত্থান)। এমনকি পারস্যের উৎসব (নওরোজ) এবং তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, আদব-কায়দা রাজদরবারে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

١٦- ما الصوفية؟ تحدث عن انتشار الصوفية في العهد العباسي-
[সূফীবাদ কী? আব্বাসী যুগে সূফীবাদের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর: সূফীবাদ হলো ইসলামি আধ্যাত্মিকতাবাদ, যার মূল লক্ষ্য আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ। আব্বাসী যুগে যখন সাম্রাজ্যে পার্থিব ভোগ-বিলাস ও জৌলুস অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন তার প্রতিবাদস্বরূপ যুহদ বা দুনিয়া-বিমুখতা হিসেবে সুফিবাদের বিকাশ ঘটে। এ যুগে হাসান বসরী, রাবেয়া বসরী, হারিস আল-মুহাসিবি এবং জুনায়েদ বাগদাদির মতো শ্রেষ্ঠ সুফি সাধকদের আবির্ভাব ঘটে।
Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now