এইচএসসি ২০২৬ বাংলা ১ম পত্র CQ ও MCQ উত্তরমালা (Set: ঘ) – HSC 2026 Bangla 1st Paper CQ & MCQ Solved

admin
· ২০ মিনিটে পড়ুন · ১৭ ভিউ
hsc 2026 bangla 1st paper mcq solved
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

সকল বোর্ড HSC বাংলা ১ম পত্র MCQ উত্তরসহ (Set: ক) — ২০২৬

বহুনির্বাচনি অভীক্ষা | বাংলা প্রথম পত্র | বিষয় কোড: ১০১ | সেট: ক
[২০২৬ সালের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী] | সময়: ৩০ মিনিট | পূর্ণমান: ৩০
পত্র নং: ১২৯১/২০২৬

Abswer.com

১। ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ’ এই ফুল বলতে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কোনটিকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) কৃষ্ণচূড়াকে    (খ) বাংলা ভাষাকে    (গ) পদ্মবনকে    (ঘ) মানবিক বাগানকে

সঠিক উত্তর: (খ) বাংলা ভাষাকে।
ব্যাখ্যা: শামসুর রাহমানের এই কবিতায় শহীদদের রক্তে ফোটা ফুলকে বাংলা ভাষা তথা মাতৃভাষার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জাতির প্রাণস্বরূপ।

উদ্দীপক পড়ে ২ ও ৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
“তোমাকে যেন ভুলে না যাই এ আশিস দাও মোরে,
দূর থেকে যেন ওগো মরমে তোমায় খুঁজে পাই।”

২। উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে—
(ক) সৌন্দর্যপ্রিয়তা    (খ) স্নেহপরায়ণতা    (গ) স্মৃতিকাতরতা    (ঘ) উদাসীনতা

সঠিক উত্তর: (গ) স্মৃতিকাতরতা।
ব্যাখ্যা: দুটি ক্ষেত্রেই প্রিয়জনকে ভুলে না যাওয়া ও স্মরণে রাখার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে, যা স্মৃতিকাতরতার পরিচায়ক।

৩। উক্ত প্রকাশিত বিষয় সম্পর্কে নিচের কোন চরণটি অধিক সমর্থনযোগ্য?
(ক) দখিনা সমীর তার গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?
(খ) সে ফুলেনি তো এসেছে তা ফাল্গুনে ক্রিয়া।
(গ) তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতো।
(ঘ) যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।

সঠিক উত্তর: (গ) তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতো।
ব্যাখ্যা: এই চরণটি সরাসরি স্মৃতিকাতরতা ও ভুলতে না পারার আকুতিকে প্রকাশ করে, যা উদ্দীপকের ভাবের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪। ‘নেকলেস’ গল্পে মাদাম লোইসেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণ কী?
(ক) প্রতিহিংসা    (খ) আভিজাত্য    (গ) দায়িত্বশীলতা    (ঘ) উচ্চাভিলাষ

সঠিক উত্তর: (গ) দায়িত্বশীলতা।
ব্যাখ্যা: হারানো হারের ঋণ শোধ করতে মাদাম লোইসেল কঠোর পরিশ্রম করে দায়িত্ব পালন করেন, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

উদ্দীপক পড়ে ৫ ও ৬ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
“অপার কল্যাণে আত্মনিবেদন করলেই মানুষের প্রকৃত সত্তা উন্মোচিত হয়।”

৫। উদ্দীপকের ভাবার্থ নিচের কোন রচনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
(ক) তাহারেই পড়ে মনে    (খ) সুচেতনা    (গ) প্রতিদান    (ঘ) আঠারো বছর বয়স

সঠিক উত্তর: (গ) প্রতিদান।
ব্যাখ্যা: জসীমউদ্‌দীনের ‘প্রতিদান’ কবিতায় অপরের কল্যাণে আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত মানবসত্তার উন্মোচনের ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

৬। উক্ত রচনায় প্রকাশ পেয়েছে—
i. প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা
ii. অস্তিত্ব রক্ষায় বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম
iii. অসহায় মানুষের দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবন যুদ্ধ
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii    (খ) i ও iii    (গ) ii ও iii    (ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক) i (মূল সূত্রে এই প্রশ্নটি ত্রুটিপূর্ণ চিহ্নিত করে সঠিক উত্তর কেবল i বলা হয়েছে)।
ব্যাখ্যা: উৎস অনুযায়ী ‘প্রতিদান’ কবিতায় প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেলেও ii ও iii-এ বর্ণিত ভাব কবিতায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না বলে প্রশ্নটিকে ত্রুটিপূর্ণ ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তর যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ থাকল।

৭। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ‘আমি এবার আঘাত হানবই’ উক্তিতে মিরজাফরের কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) নিষ্ঠুরতা    (খ) স্বার্থপরতা    (গ) দাম্ভিকতা    (ঘ) মানসিক দৃঢ়তা

সঠিক উত্তর: (ঘ) মানসিক দৃঢ়তা।
ব্যাখ্যা: এই উক্তিতে মিরজাফরের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অবিচল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, যদিও তা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে চালিত। (মূল কপিতে বৃত্ত চিহ্নটি (ক)-এর পাশে ছাপা হলেও পাশের ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে (ঘ)-কেই সঠিক বলা হয়েছে — এটি সম্ভবত মুদ্রণজনিত ভুল, তাই নিজের কপি একবার মিলিয়ে নিন।)

৮। ‘তাই শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের এত মূল্য’ বলতে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে কোনটির গুরুত্বকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) মনুষ্যত্বের    (খ) সাহিত্যের    (গ) বস্তুজিজ্ঞাসার    (ঘ) চর্মচক্ষুর

সঠিক উত্তর: (খ) সাহিত্যের।
ব্যাখ্যা: প্রবন্ধে শিক্ষার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা ও অন্তর্দৃষ্টি লাভের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে, যা শুধু বস্তুজিজ্ঞাসা বা বিজ্ঞানের বাইরেও উপলব্ধির জগৎ খুলে দেয়।

৯। সংলাপ ও গল্প বলার ঢংয়ে রচিত কোনটি?
(ক) প্রত্যাবর্তনের লজ্জা    (খ) সুচেতনা    (গ) সোনার তরী    (ঘ) তাহারেই পড়ে মনে

সঠিক উত্তর: (ক) প্রত্যাবর্তনের লজ্জা।
ব্যাখ্যা: বুদ্ধদেব বসুর ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ গল্পটি কথোপকথন ও গল্প-বলার ভঙ্গিতে রচিত, যা একে অন্য রচনাগুলো থেকে আলাদা করে।

উদ্দীপক পড়ে ১০ ও ১১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
“রহমত আলী জিনের ভয় দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। গ্রামের স্কুল শিক্ষক এর প্রতিবাদ করলে রহমত আলী তাকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেন।”

১০। উদ্দীপকের রহমত আলী ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ—
(ক) ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে
(খ) সত্যের আশ্রয় নিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করে
(গ) শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে
(ঘ) নিঃস্বার্থভাবে সাধারণ মানুষের উপকার করে

সঠিক উত্তর: (ক) ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে।
ব্যাখ্যা: ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ যেমন মাজারের নামে ধর্মভীরু গ্রামবাসীকে শোষণ করে, উদ্দীপকের রহমত আলীও জিনের ভয় দেখিয়ে একই কৌশলে মানুষকে শোষণ করে।

১১। উদ্দীপকের স্কুল শিক্ষকের পরিণতি ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে?
i. কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হওয়া
ii. গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষিত মানুষের অসহায়ত্ব
iii. ভণ্ডামির কাছে সত্যের চূড়ান্ত পরাজয়
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii    (খ) i ও iii    (গ) ii ও iii    (ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক) i ও ii।
ব্যাখ্যা: শিক্ষকের প্রতিবাদ রুদ্ধ হওয়া এবং তার অসহায়ত্ব উপন্যাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে উপন্যাসের সমাপ্তি অমীমাংসিত রেখে দেওয়া হয়েছে বলে একে সত্যের “চূড়ান্ত” পরাজয় বলা যায় না, তাই iii এখানে বাদ যায়। (লক্ষণীয়: পূর্বের ‘Set ঘ’ প্রশ্নপত্রে একই ভাবের প্রশ্নে (ঘ) i, ii ও iii-কে সঠিক ধরা হয়েছিল — দুই উৎসের ব্যাখ্যায় পার্থক্য থাকায় নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা ভালো।)

১২। ‘প্রতিদান’ কবিতায় ‘কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান’ চরণটিতে কোন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) কৃতজ্ঞতা    (খ) কৃতঘ্নতা    (গ) অপচিকীর্ষা    (ঘ) পরার্থপরতা

সঠিক উত্তর: (ঘ) পরার্থপরতা।
ব্যাখ্যা: প্রতিকূলতা বা কষ্ট (কাঁটা) পেয়েও অপরের প্রতি ভালোবাসা (ফুল) বিলিয়ে দেওয়ার এই মানসিকতা পরার্থপরতা তথা পরের কল্যাণকামনার প্রকাশ।

উদ্দীপক পড়ে ১৩ ও ১৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
“মাটির গন্ধে, রক্তের দামে কেনা—
হৃদয়ে বাংলাদেশ।”

১৩। উদ্দীপকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কবির কোন মনোভাবটি ফুটে উঠেছে?
(ক) শেকড় সন্ধানী    (খ) দেশদরদি    (গ) প্রকৃতিপ্রেমী    (ঘ) স্বাধীনতাকামী

সঠিক উত্তর: (খ) দেশদরদি।
ব্যাখ্যা: মাটির গন্ধ ও রক্তের দামে কেনা হৃদয়ের বাংলাদেশ—এই উপলব্ধি দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ তথা দেশদরদি মনোভাবের পরিচায়ক। (লক্ষণীয়: পূর্বের ‘Set ঘ’ প্রশ্নপত্রে একই প্রশ্নে (ক) শেকড় সন্ধানী সঠিক ধরা হয়েছিল — দুই উৎসের ব্যাখ্যায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে।)

১৪। উক্ত মনোভাবের সপক্ষে পঙ্‌ক্তিটি হলো—
(ক) তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
(খ) আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি
(গ) আমি কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো
(ঘ) আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি

সঠিক উত্তর: (ঘ) আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
ব্যাখ্যা: এই পঙ্‌ক্তিটি পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ও শেকড়ের প্রতি গভীর সংযোগের কথা বলে, যা দেশের প্রতি মমত্ববোধেরই সম্প্রসারিত রূপ।

১৫। ‘নিজ গৃহপথ, তাত, দেখাও তক্ষরে’—এখানে ‘তক্ষর’ কে?
(ক) কুম্ভকর্ণ    (খ) লক্ষ্মণ    (গ) বিভীষণ    (ঘ) মেঘনাদ

সঠিক উত্তর: (খ) লক্ষ্মণ।
ব্যাখ্যা: মেঘনাদ তার চাচা বিভীষণকে উদ্দেশ্য করে বলেন—নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে অন্যায়ভাবে প্রবেশকারী চোর তথা তক্ষর (লক্ষ্মণ)-কে নিজ গৃহপথ দেখিয়ে দিতে। এখানে ‘তক্ষর’ বলতে লক্ষ্মণকে বোঝানো হয়েছে।

১৬। ‘ঋতুবর্ণন’ কবিতায় এক প্রকারের ফুল হলো—
(ক) লবঙ্গ    (খ) সরণ    (গ) মল্লার    (ঘ) যাবক

সঠিক উত্তর: (ক) লবঙ্গ।
ব্যাখ্যা: ‘ঋতুবর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতির নান্দনিক রূপ ও ঋতুবৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলতে কবি যেসব ফুল ও উদ্ভিদের উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে ‘লবঙ্গ’ অন্যতম। (পূর্বের পোস্টে এই প্রশ্নের উত্তর “লবজা” হিসেবে অস্পষ্টভাবে লেখা হয়েছিল, যা মুদ্রণ/স্ক্যানজনিত ভুল ছিল — সঠিক নাম “লবঙ্গ”, এখানে সংশোধন করে দেওয়া হলো।)

১৭। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ‘আমি চিরকালই ইংরেজের বন্ধু’ উক্তিটি কে বলেছিল?
(ক) মিরজাফর    (খ) উমিচাঁদ    (গ) ক্লাইভ    (ঘ) মানিক চাঁদ

সঠিক উত্তর: (খ) উমিচাঁদ।
ব্যাখ্যা: সিকান্‌দার আবু জাফরের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ধনী বণিক উমিচাঁদ ইংরেজদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে নিজেকে ইংরেজদের চিরকালীন বন্ধু বলে দাবি করে।

উদ্দীপক পড়ে ১৮ ও ১৯ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
“রানুর বিয়েতে বরপক্ষ অলংকার, মোটর সাইকেল ও আসবাবপত্র দাবি করে। তার বাবা নিরুপায় হয়ে ক্ষমা চান। কিন্তু বাবার অসহায়ত্ব ও বরপক্ষের হীন মানসিকতা দেখে রানু নিজেই বিয়ে ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে সে বিয়ের পিঁড়িতে না বসে নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলে আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে।”

১৮। উদ্দীপকের রানুর সিদ্ধান্তে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
(ক) কলুষ সত্তার প্রকাশ    (খ) প্রাগ্রসর চিন্তা    (গ) স্বয়ংবরা মনোভাব    (ঘ) আড়ষ্টতার প্রকাশ

সঠিক উত্তর: (খ) প্রাগ্রসর চিন্তা।
ব্যাখ্যা: কল্যাণী যৌতুকের অপমান সহ্য না করে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে প্রগতিশীল কাজে আত্মনিয়োগ করেছিল, উদ্দীপকের রানুর সিদ্ধান্তও ঠিক তেমনি দূরদর্শী ও বুদ্ধিদীপ্ত—যাকে প্রাগ্রসর চিন্তা বলা হয়।

১৯। উভয় ক্ষেত্রেই অধিকতর সমর্থনযোগ্য বিষয়—
i. সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জাগরণ
ii. বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী
iii. পিতৃতান্ত্রিক সমাজের জয়জয়কার
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i    (খ) ii    (গ) i ও ii    (ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ) i ও ii।
ব্যাখ্যা: কল্যাণী ও রানু—উভয় চরিত্রই কুৎসিত সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জাগ্রত হয়েছে এবং দুজনেই অত্যন্ত দৃঢ় ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এখানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের পরাজয় ঘটেছে, জয়জয়কার হয়নি, তাই iii বাদ যায়।

উদ্দীপক পড়ে ২২ ও ২৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
“তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা
তোমাকে পাওয়ার জন্য
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?”

২০। মোহাম্মদী বেগ কত টাকার বিনিময়ে সিরাজকে হত্যা করতে চেয়েছিল?
(ক) পাঁচ হাজার    (খ) দশ হাজার    (গ) পনেরো হাজার    (ঘ) বিশ হাজার

সঠিক উত্তর: (খ) দশ হাজার।
ব্যাখ্যা: ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক অনুযায়ী, নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দিশালায় নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার জন্য ঘাতক মোহাম্মদী বেগের সাথে দশ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়েছিল।

২১। ‘লালসালু’ উপন্যাসের হাসুনির মা ঝড় এলে কী করার অভ্যাস?
(ক) নালিশ করা    (খ) হৈচৈ করা    (গ) মানত করা    (ঘ) কান্না করা

সঠিক উত্তর: (খ) হৈচৈ করা।
ব্যাখ্যা: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র ‘লালসালু’ উপন্যাসে তাহের ও কাদেরের বোন হাসুনির মায়ের একটি অদ্ভুত স্বভাব ছিল—আকাশে মেঘ ডাকলে বা ঝড়-তুফান এলে সে ঘরে স্থির থাকতে পারত না, বাইরে এসে উল্লাস ও উত্তেজনা নিয়ে প্রচণ্ড হৈচৈ করা শুরু করত।

২২। উদ্দীপকের শেষ চরণের সঙ্গে ‘রেইন কোট’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে নিচের কোন বিষয়টিতে?
(ক) জেনারেল মনসুর    (খ) সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ    (গ) ক্র্যাকডাউনের রাত    (ঘ) মিসক্রিয়ান্টরা সব খতম

সঠিক উত্তর: (গ) ক্র্যাকডাউনের রাত।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের শেষ চরণে “আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?” বলে যে ব্যাপক গণহত্যা ও রক্তক্ষয়কে বোঝানো হয়েছে, তার সরাসরি সাদৃশ্য রয়েছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্পে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাত তথা ক্র্যাকডাউনের রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম গণহত্যার সাথে।

২৩। উক্ত সাদৃশ্য প্রকাশ পেয়েছে—
i. মিলিটারিদের নৃশংসতা
ii. মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থা
iii. বাঙালিদের সংগ্রামী চেতনা
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i    (খ) ii    (গ) i ও ii    (ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ) i ও ii।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের চরণে “রক্তগঙ্গায় ভাসার” কথা বলে মূলত যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মিলিটারিদের নৃশংসতা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিকে নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে বাঙালিদের সংগ্রামী চেতনা নয়, বরং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নির্মম পরিস্থিতির দিকটিই ফুটে উঠেছে, তাই iii বাদ যায়।

২৪। ‘কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে জমিদার ও কৃষকদের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণিকে কী বলা হয়?
(ক) মোড়ল    (খ) গুনিন    (গ) বিচারক    (ঘ) জোতদার

সঠিক উত্তর: (ঘ) জোতদার।
ব্যাখ্যা: গল্প অনুযায়ী গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রকৃত জমির মালিক (জমিদার) ও সরাসরি চাষাবাদকারী (কৃষক)-দের মাঝখানে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী বা শোষক শ্রেণি থাকে, যারা কৃষকদের ওপর অত্যাচার করে কর বা ফসল আদায় করে। এদেরকে জোতদার বলা হয়।

২৫। ‘গন্তব্য কাবুল’ গল্পে নালার জলের পরশে কে নয়ন মেলে তাকিয়েছে?
(ক) হাসনা হেনা    (খ) রজনীগন্ধা    (গ) নার্গিস    (ঘ) মল্লিকা

সঠিক উত্তর: (গ) নার্গিস।
ব্যাখ্যা: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘গন্তব্য কাবুল’ গল্পে আফগানিস্তানের শুষ্ক ও পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে নালার ঠাণ্ডা জলের স্পর্শে নার্গিস ফুলের ফুটে ওঠা বা চোখ মেলার চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

২৬। ‘বাঙালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধ অনুযায়ী এখনকার প্রবন্ধে কোনটি বেশি দেখতে পাওয়া যায়?
(ক) কোটেশন    (খ) অলংকার    (গ) রসিকতা    (ঘ) লোকরঞ্জন প্রবৃত্তি

সঠিক উত্তর: (ক) কোটেশন।
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই প্রবন্ধে নতুন লেখকদের উদ্দেশ্যে আক্ষেপ করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সময়ের লেখকরা নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করার জন্য উপযুক্ত কারণ ছাড়াই প্রবন্ধে প্রচুর কোটেশন বা উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন, যা লেখার সৌন্দর্য নষ্ট করে।

২৭। ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে ‘প্রথম জাগরণ-প্রভাতে’ বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) প্রথাবদ্ধতার চাপে    (খ) সচেতনতার সূচনালগ্নে    (গ) জরাজীর্ণতার আচ্ছাদনে    (ঘ) দৃষ্টির অগোচরে

সঠিক উত্তর: (খ) সচেতনতার সূচনালগ্নে।
ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলামের ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে ‘প্রথম জাগরণ-প্রভাত’ বলতে মানুষের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে ওঠার সময়কে বোঝানো হয়েছে। মানসিকভাবে যখন কোনো মানুষ বা জাতি কুসংস্কার ও জড়তা ভেঙে প্রথম জাগ্রত বা সচেতন হতে শুরু করে, সেই সূচনালগ্নকে কবি এই রূপকে প্রকাশ করেছেন।

২৮। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ‘শির নেহারি আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রি!’ উদ্ধৃতিটিতে মূলত কী প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) তীব্র আত্মবিশ্বাস    (খ) চরম দুঃসাহস    (গ) প্রবল অহংকার    (ঘ) বিপুল প্রত্যাশা

সঠিক উত্তর: (ক) তীব্র আত্মবিশ্বাস।
ব্যাখ্যা: কবির উন্নত মস্তক বা আত্মমর্যাদা দেখে স্বয়ং হিমালয় পর্বতও মাথা নত করে বলে যে অতিকথন করা হয়েছে, তা কোনো অহংকার বা ঔদ্ধত্য নয়, বরং অত্যাচারী ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে কবির অদম্য ও তীব্র আত্মবিশ্বাসের চরম বহিঃপ্রকাশ।

২৯। ‘রণ রক্ত সফলতা সত্য’ কথাটি ‘সুচেতনা’ কবিতায় কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) পৃথিবীর ক্রমমুক্তি    (খ) বিক্ষুব্ধ সমকাল    (গ) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম    (ঘ) মুক্তির পথই শুভ চেতনা

সঠিক উত্তর: (গ) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম।
ব্যাখ্যা: জীবনানন্দ দাশের ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবি মানব ইতিহাসের নিষ্ঠুর সত্য হিসেবে যুদ্ধ, বিগ্রহ ও রক্তপাতকে অবলোকন করেছেন। এই চরণের অন্তর্নিহিত ভাব হলো, চরম প্রতিকূলতা ও সংঘাতময় পৃথিবীর বুকে টিকে থাকার জন্য মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়—তাই এই উক্তি মূলত মানুষের অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামকেই নির্দেশ করে।

৩০। ‘কালস্রোতের কাছে মানুষের কোনো মূল্য নেই’ এই অর্থ প্রকাশ পেয়েছে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন চরণে?
(ক) বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে    (খ) এখন আমারে লহো করুণা করে    (গ) আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি    (ঘ) শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি

সঠিক উত্তর: (ঘ) শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি।
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল দর্শনই হলো—মহাকাল বা কালস্রোত মানুষের সৃষ্টিকে (সোনার ধান) গ্রহণ করে কিন্তু সৃষ্টিকর্তাকে (মানুষকে) বর্জন করে। কবিতার শেষ চরণে যখন বলা হয়—”শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি” তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই মহাকালের কাছে ব্যক্তির জীবনের কোনো স্থায়িত্ব বা মূল্য নেই, তাকে একাকী শূন্য হাতেই পড়ে থাকতে হয়।


HSC বাংলা ১ম পত্র সৃজনশীল প্রশ্ন (Set: ০২) — ২০২৬

প্রথম পত্র | [২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী] | বিষয় কোড: ১০১
সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | পূর্ণমান: ৭০

[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রদত্ত উদ্দীপকগুলো মনোযোগসহকারে পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর দাও। ক ও খ বিভাগ থেকে কমপক্ষে দুটি করে এবং গ বিভাগ থেকে কমপক্ষে একটি ও ঘ বিভাগ থেকে কমপক্ষে একটিসহ মোট সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। একই প্রশ্নের উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয়।]

ক বিভাগ — গদ্য

১। উচ্চ শিক্ষিত যুবক শফিক তার পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে একটি শব্দও বলে না। তার বিয়ের আসরে বরপক্ষ হঠাৎ অতিরিক্ত নগদ টাকার দাবি করে। কনের বাবা আসাদ সাহেব এই ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি বুঝতে পারেন, যারা অর্থের লোভে এমন আচরণ করে, তাদের পরিবারে তার মেয়ে নিরাপদ নয়। তিনি লোকভয় তুচ্ছ করে এ বিয়ে ভেঙে দেন। এতকিছুর পরেও শফিক নির্বিকার হয়ে বসে থাকে। কনে রাবেয়া বাবার এই সাহসিকতা সমর্থন করে নিজেকে সমাজসেবা ও ব্রতচারী হিসেবে গড়ে তোলে।

(ক) “সুপুরুষ বটে।”— কে? [১]
(খ) “আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নাই।”—তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের শফিকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? কীভাবে? [৩]
(ঘ) “আসাদ সাহেবের বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান এবং রাবেয়ার ব্যক্তিত্বের স্ফুরণই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রকৃত প্রতিবাদ।”—উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর। [৪]

২। “খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচায় বন্দি চিরকাল
ডানার শক্তি ভুলেছে সে আজ, ভুলিয়াছে নভে নীল
বাহিরের আলো দেখেনি সে কভু, জানে না কি তার তেজ
পিঞ্জরে বসে সাজায় সে আজ মিছে গয়নার রেশ।
মুক্তি যদি না লভে বিহগী আকাশ রহিবে শূন্য
ডানায় ডানা মেলা ছাড়া কি হয় জীবনের গান ধন্য?”

(ক) ‘নজম্-উল-ওলামা’ এর অর্থ কী? [১]
(খ) “স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর ‘বোধোদয়’ পর্যন্ত!”—তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের খাঁচার পাখির সঙ্গে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারীদের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পরিলক্ষিত? ব্যাখ্যা কর। [৩]
(ঘ) “পাখিকে খাঁচা থেকে মুক্ত করার জন্য কবির প্রবল ইচ্ছাই ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারী জাগরণের মূল চেতনা।”—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর। [৪]

৩। ষাটোর্ধ্ব রহমান সাহেব প্রতিদিন গ্রামের পাঠশালায় শিশুদের পড়ানোর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বিশ বছরের যুবক তূর্য সারাদিন ঘরে বসে আলস্যে সময় কাটায় এবং কোনো ধরনের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে না। রহমান সাহেব বলেন, “শরীর বুড়ো হলেও আমার মন এখনও সজীব, আমি এখনো স্বপ্ন দেখি।”

(ক) ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে শতশত তরুণ মিলে কী ফুটিয়ে তুলেছে? [১]
(খ) “আমি আজ তাঁহাদেরই দলে, যাঁহারা কর্মী নন—ধ্যানী।”—তাৎপর্য উদ্‌ঘাটন কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের তূর্যের মাঝে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত কোন শ্রেণির মানুষের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়? কেন? [৩]
(ঘ) “রহমান সাহেবের মানসিকতাই লেখকের সংজ্ঞায়িত প্রকৃত যৌবন।”—উদ্দীপক এবং ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধ অবলম্বনে মন্তব্যের যথার্থতা যাচাই কর। [৪]

৪। শৈশব থেকেই মোসাদ্দেক ভীরু ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সে মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যখন গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলির মতো দুঃসাহসী কাজে যুক্ত, মোসাদ্দেক তখন ভয়ে তটস্থ। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির বর্বরোচিত পুলিশি নির্যাতন ও রাজপথের রক্তের দাগ তার দীর্ঘদিনের জড়তা ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে তার শোক শক্তিতে পরিণত হয়। মোসাদ্দেক রাজপথে নেমে মিছিলে স্লোগান তোলে—”রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মায়ের ভাষায় জীবন চাই। করব মোরা জীবন দান, রাখব মোরা মায়ের মান।”

(ক) ‘বর্ষাকালেই তো জুৎ।’—কে বলেছিল? [১]
(খ) “মিন্টু যে কোথায় গেছে তা সে-ও জানে তার বৌ-ও জানে।”—অন্তর্নিহিত তাৎপর্য লেখ। [২]
(গ) উদ্দীপকের ছাত্রদের “গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলি” ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন দিকটি তুলে ধরে? [৩]
(ঘ) “উদ্দীপকের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং ‘রেইনকোট’ গল্পের নূরুল হুদার গায়ের রেইনকোট—উভয়েই সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধের শক্তিতে উজ্জীবিত করার অনুঘটক।”—মন্তব্যের উপযোগিতা যাচাই কর। [৪]

খ বিভাগ — কবিতা

৫। প্রাচীন ট্রয় যুদ্ধে রাজপুত্র হেক্টর অসামান্য বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দশ বছর গ্রিক বাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখেন। হেক্টরকে সম্মুখ সমরে পরাস্ত করতে না পেরে গ্রিক বীর অ্যাকিলিস কৌশলের আশ্রয় নেন। দেবী এথেনার ছলনায় বিভ্রান্ত হয়ে হেক্টর এক মায়াযুদ্ধে লিপ্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। দেবী এথেনার সহযোগিতায় অ্যাকিলিস কৌশলে জয়ী হলেও ইতিহাসের পাতায় হেক্টরের আদর্শিক লড়াই ও দেশের প্রতি মমত্ববোধই প্রকৃত বীরত্ব হিসেবে অমর হয়ে আছে।

(ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত বাংলা ছন্দের নাম কী? [১]
(খ) “লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঙ্গি আহবে।”—তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের মায়াযুদ্ধ ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? কীভাবে? [৩]
(ঘ) “হেক্টর ও মেঘনাদ—উভয়েই নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসের শিকার হলেও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত।”—উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের আলোকে মন্তব্যের যথার্থতা বিচার কর। [৪]

৬। কালবৈশাখীর ঝড়ে যেমন জরাজীর্ণ সব ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তেমনি তরুণ সমাজসেবী হামিম সমাজের সকল অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়ায়। নিজের ভেতরের শক্তিতে সে বলীয়ান। সে বিশ্বাস করে, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে অসীম সম্ভাবনা। সে বলে, “আমি নিজেই আমার নিয়ন্ত্রক।” হামিম একদিকে যেমন অত্যাচারীর কাছে যমদূত, অন্যদিকে আর্তমানবতার সেবায় অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু।

(ক) ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? [১]
(খ) কবি নিজেকে ‘অর্ফিয়াসের বাঁশরি’ বলেছেন কেন? [২]
(গ) উদ্দীপকের হামিমের “আমি নিজেই আমার নিয়ন্ত্রক।”—উক্তিটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন অনুষঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। [৩]
(ঘ) “উদ্দীপকের মূলভাবের বিস্তৃত রূপায়ণ ‘বিদ্রোহী’তে পরিলক্ষিত।”—তোমার মতামত দাও। [৪]

৭। “আমি চাই মহতের মহৎ প্রাণ
মুক্তা মাণিক্য নিধি
আমারে দিওনা বিধি।
চাহিনে এ জগতের রাজত্ব সম্মান।
বাঞ্ছিত প্রাণ পেলে
মেখে নেব মনুষ্যত্ব—শ্রেষ্ঠ উপাদান
প্রাণের সাধক আমি, সাধনীয় প্রাণ।”

(ক) ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি কার জন্য কাঁদেন? [১]
(খ) “দীঘল রজনি তার তরে জাগি, ঘুম যে হরেছে মোর;”—অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উদ্‌ঘাটন কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের শেষ দুই পঙ্‌ক্তির ভাব ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন অংশে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। [৩]
(ঘ) “উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা এবং ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির কর্মপন্থা—দুই-ই এক মহৎ মানবিক দর্শনে সিক্ত।”—মন্তব্যের যাথার্থ্য মূল্যায়ন কর। [৪]

গ বিভাগ — উপন্যাস

৮। কায়েমি স্বার্থ ও ক্ষমতার মোহে অন্ধ ভৃত্যস্বামী সলিম উদ্দীন ও কথিত গুরু জহির বিভিন্ন কৌশলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। ভৃত্যস্বামী গায়ের জোরে গ্রামের সাধারণ মানুষের জমি দখল করে আর জহির সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে। তাদের এই কর্মকাণ্ডের বিপরীতে আবরার যখন গ্রামের নিরীহ মানুষকে সচেতন ও জাগ্রত করার চেষ্টা করে, তখন তারা আঁতাত করে তাকে সমাজচ্যুত ও গ্রামছাড়া করার ষড়যন্ত্র শুরু করে।

(ক) ‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী? [১]
(খ) “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।”—তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের আবরারের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? কীভাবে? [৩]
(ঘ) “উদ্দীপকের সলিম উদ্দীন ও জহিরের আঁতাত মূলত খালেক ব্যাপারী ও মজিদের চিরায়ত শোষণের প্রতিচ্ছবি।”—তোমার মতামত দাও। [৪]

৯। কালু মিয়া নিজেকে একজন গণক হিসেবে দাবি করে। সে মানুষের হাত দেখে ‘ভাগ্য গণনা’ করে এবং কুদৃষ্টি কাটানোর নামে দামি আংটি ও অর্থ আদায় করে। তার স্ত্রী সালেহা বিয়ের প্রথম প্রথম চুপচাপ থাকলেও কিছুদিন পর কালু মিয়ার মিথ্যাচার ধরে ফেলে। সে এখন স্বামীর কোনো আদেশ মানে না, সবার সামনে স্বামীকে বিদ্রূপ করে।

(ক) “ওটা ছিল নিশানা, আনন্দের আর সুখের।”—’ওটা’ কী? [১]
(খ) “রূপ দিয়া কী হইব? মাইন্‌ষের রূপ ক-দিনের?”—বুঝিয়ে লেখ। [২]
(গ) উদ্দীপকের সালেহা ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্র-তুল্য? কীভাবে? [৩]
(ঘ) “মজিদের শঠতা যতটা সুদূরপ্রসারি ও মন্ত্রাত্মিক, কালু মিয়ার ধূর্ততা ততটাই বস্তুগত।”—উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যের সত্যাসত্য নির্ণয় কর। [৪]

ঘ বিভাগ — নাটক

১০। বিপ্লবী সূর্যসেন নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। শত্রু বিশাল শক্তি এবং চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। সরকারের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে প্রতিবেশী নেত্রসেন তাঁকে ধরিয়ে দিলেও ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠে ছিল দেশের মুক্তির গান। নিজের জীবনের চেয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতাকেই তিনি বড় করে দেখেছিলেন।

(ক) “আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।”—উক্তিটি কার? [১]
(খ) “আমাদের মাঝখানে একটি রাজত্বের দেয়াল।”—মর্মার্থ তুলে ধর। [২]
(গ) উদ্দীপকের নেত্রসেন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কীভাবে? [৩]
(ঘ) “প্রেক্ষাপট ও সময়কাল ভিন্ন হলেও সূর্যসেন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”—মূল্যায়ন কর। [৪]

১১। ব্যবসায়ী রফিক সাহেব তার বিশ্বস্ত কর্মচারী করিমকে তার ব্যবসার একটি অংশের দায়িত্ব দেন। কিন্তু কিছুকাল পরেই করিম ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেই দোকানের মালিকানা দাবি করতে শুরু করে। এই জালিয়াতিতে তাকে সাহায্য দেয় রফিক সাহেবের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা; যাদের লক্ষ্য ছিল রফিক সাহেবের ব্যবসা দখল করা।

(ক) ওয়ালী খান কীসের জন্য ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছে? [১]
(খ) “আমার শেষ যুদ্ধ পলাশীতেই।”—তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। [২]
(গ) উদ্দীপকের করিমের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কার সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত? কেন? [৩]
(ঘ) “স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মানদণ্ডে উদ্দীপক এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূলভাব প্রায় অনুরূপ।”—মন্তব্যের যথার্থতা বিচার কর। [৪]


Abswer.com — এইচএসসি ২০২৬ বাংলা ১ম প্রশ্নপত্র সংগ্রহ (02 July, 2026)