[ফাযিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
বাংলা
বিষয় কোড: ২ ० ১ ১ ० ৪
সময়—৪ ঘণ্টা
পূর্ণমান—৮০
ক বিভাগ
মান—১০×২=২০
১। (ক) চর্যাপদের কবিদের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনা করো।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো ‘চর্যাপদ’। চর্যাপদের পদকর্তারা ছিলেন মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের সাধক বা সিদ্ধাচার্য। তাদের রচিত পদগুলোর মধ্য দিয়ে তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থার একটি সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে।
সামাজিক অবস্থা: চর্যাপদে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অন্ত্যজ বা নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনচিত্র বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। ডোম, চণ্ডাল, শবর, ব্যাধ প্রভৃতি শ্রেণীর মানুষের কথা সেখানে রয়েছে। তারা সমাজের একপ্রান্তে বাস করত এবং শিকার, তাঁত বোনা, নৌকা বাওয়া, মদ চোলাই করা ইত্যাদি পেশার সাথে জড়িত ছিল। উঁচু-নিচু শ্রেণির ভেদাভেদ এবং দরিদ্রতার চিত্র চর্যাপদে অত্যন্ত স্পষ্ট।
ধর্মীয় অবস্থা: চর্যাপদের মূল উপজীব্য হলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা। এই সাধকদের মূল লক্ষ্য ছিল ‘মহাসুখ’ লাভ করা। তারা প্রচলিত হিন্দু বা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ এবং কঠোর তপস্যার বিরোধী ছিলেন। তাদের মতে, ঈশ্বর বা মহাসুখ কোনো বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানে নেই, বরং এটি মানুষের দেহের ভেতরেই নিহিত রয়েছে (কায়া সাধনা)। গুরুবাদ বা গুরুর প্রতি ভক্তি এই ধর্মে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
অথবা,
(খ) টীকা লেখো: (i) চন্ডীদাস (ii) হানিফা-কয়রাপড়ী
(i) চন্ডীদাস: চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বাংলা সাহিত্যে চণ্ডীদাস একটি রহস্যময় নাম, কারণ বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস ও দীন চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে তাঁর রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর বিখ্যাত একটি উক্তি হলো— “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”, যা বাংলার মানবতাবাদী দর্শনের এক অসামান্য দলিল। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের আধ্যাত্মিক এবং মানবিক রূপায়ণে তিনি অদ্বিতীয় ছিলেন।
(ii) হানিফা-কয়রাপড়ী: ‘হানিফা ও কয়রাপরী’ মধ্যযুগের বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান এবং পুঁথি সাহিত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাব্য। কবি সাবিরিদ খান এই কাব্যটি রচনা করেন। হযরত আলী (রা.) এর পুত্র মুহাম্মদ বিন হানাফিয়ার বীরত্ব এবং কয়রাপরীর সাথে তাঁর কাল্পনিক প্রেম ও সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে এই কাব্য রচিত। মধ্যযুগের মুসলিম কবিরা কীভাবে ইসলামি ঐতিহ্য ও বীরত্বগাথার সাথে দেশজ রোমান্টিকতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন, এটি তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
২। (ক) “কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরেই ধর্ম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার মহামিলন ঘটেছে” —যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু দ্রোহের কবিই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী দর্শনের প্রবক্তা। তাঁর সাহিত্যকর্মে ইসলামি সাম্যবাদ, হিন্দু পুরাণ এবং সুফিবাদের আধ্যাত্মিকতা এক অপূর্ব মহামিলনে রূপ পেয়েছে।
ধর্মের মহামিলন: নজরুল একই সাথে রচনা করেছেন অসংখ্য ইসলামি গজল, হামদ ও নাত, যা বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ভাবধারাকে এক নতুন উচ্চতা দিয়েছে। আবার তিনিই সমান্তরালভাবে রচনা করেছেন শ্যামাসংগীত ও কীর্তন। তাঁর কাছে ধর্ম কোনো বিভেদের প্রাচীর ছিল না; বরং তা ছিল মানবিকতার সোপান।
দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা: নজরুলের দর্শন ছিল ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’। তিনি সুফি ও বাউল দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যেখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রেমময় সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনায় বাহ্যিক রীতিনীতির চেয়ে আত্মিক পবিত্রতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই বলা যায়, তাঁর সাহিত্যকর্মেই সকল ধর্মের নির্যাস, সাম্যের দর্শন এবং আধ্যাত্মিকতার এক অভূতপূর্ব মহামিলন ঘটেছে।
অথবা,
(খ) বাংলা গদ্য বিকাশে সমসাময়িক মুসলিম সাহিত্যিকদের সম্পাদিত পত্রিকার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উনিশ শতকের শেষার্ধ এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে এবং মুসলিম সমাজকে আধুনিক মনস্ক করে তুলতে সমসাময়িক মুসলিম সাহিত্যিকদের সম্পাদিত পত্র-পত্রিকার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
শিখা পত্রিকা: আবুল হুসেন এবং কাজী আবদুল ওদুদ পরিচালিত ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ এর মুখপত্র ছিল ‘শিখা’ পত্রিকা। ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং গদ্যে যুক্তিনির্ভর আধুনিকতা আনতে এই পত্রিকা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।
সওগাত পত্রিকা: মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সম্পাদিত ‘সওগাত’ পত্রিকা মুসলিম সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণ এবং নারী জাগরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে বেগম রোকেয়া পর্যন্ত অনেকেই এই পত্রিকায় লিখেছেন।
মাসিক মোহাম্মদী: মওলানা আকরাম খাঁ সম্পাদিত এই পত্রিকা ইসলামি মূল্যবোধ বজায় রেখে উন্নত মানের গদ্য চর্চার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।
এসব পত্রিকার মাধ্যমেই মুসলিম সাহিত্যিকরা নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে বাংলা গদ্যে এক নতুন, প্রাঞ্জল ও যুক্তিবাদী ধারার সূচনা করেছিলেন।
খ বিভাগ
মান—১০×২=২০
৩। (ক) “সত্যের তরে খোঁজ সব ঠাঁই / পূর্ব পশ্চিম কোনো ভেদ নাই।” —লেখকের উক্ত ভাবনার তাৎপর্য তুলে ধরো।
উক্ত পঙ্ক্তিটিতে লেখকের জ্ঞান ও সত্য অনুসন্ধানের এক বিশ্বজনীন ও মুক্ত মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। জ্ঞান ও সত্য কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডি, দেশ বা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সম্পত্তি নয়।
তাৎপর্য: মানবসভ্যতার বিকাশে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় গোলার্ধেরই অবদান রয়েছে। সত্য যেখানেই থাকুক না কেন, তাকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা উচিত। ইসলাম ধর্মেও বলা হয়েছে, “জ্ঞান অর্জন করতে হলে প্রয়োজনে সুদূর চীনে যাও।” লেখক এখানে কূপমণ্ডূকতা ও অন্ধ গোঁড়ামিকে পরিহার করে বিশ্বনাগরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতা এবং পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—এই উভয়ের সমন্বয়েই যে প্রকৃত সত্য ও জ্ঞানের পূর্ণতা আসে, আলোচ্য চরণে সেই গভীর তাৎপর্যই ফুটে উঠেছে।
অথবা,
(খ) “যে তৈল দিতে পারিবে তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসর হইতে পারে”—লেখকের এ উক্তির আলোকে আমাদের সমাজ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরো।
প্রাবন্ধিক হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বিখ্যাত ‘তৈল’ প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত এই উক্তিটি আমাদের সমাজের এক নিদারুণ ও রূঢ় বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। এখানে ‘তৈল’ বলতে তোষামোদ বা চাটুকারিতাকে বোঝানো হয়েছে।
সমাজ বাস্তবতার চিত্র: আমাদের বর্তমান সমাজে যোগ্যতা, মেধা এবং সততার চেয়ে চাটুকারিতার কদর অনেক বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, যার কোনো প্রকৃত বিদ্যা বা যোগ্যতা নেই, সে কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের তোষামোদ করে সমাজে উচ্চপদ বা মর্যাদা দখল করে নিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকৃত মেধাবী ও সৎ মানুষ তোষামোদ করতে না পারার কারণে পিছিয়ে পড়ছেন। প্রাবন্ধিক ব্যঙ্গাত্মকভাবে বুঝিয়েছেন যে, সমাজে সফলতা লাভের জন্য বিদ্যার চেয়ে যেন ‘তৈল মর্দন’ বা চাটুকারিতাই প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ।
৪। (ক) ‘সমাপ্তি’ গল্পের নায়িকা মৃণ্ময়ী চরিত্র বিকাশে প্রকৃতির ভূমিকা তুলে ধরো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ গল্পের নায়িকা মৃণ্ময়ী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এক অনবদ্য চরিত্র। মৃণ্ময়ীর চরিত্র বিকাশে এবং তার মানসিক বিবর্তনে নিসর্গ বা প্রকৃতি এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
গল্পের শুরুতে মৃণ্ময়ীকে আমরা দেখি এক বন্য, দুরন্ত ও স্বাধীন প্রকৃতির মেয়ে হিসেবে। গ্রামের নদী, গাছপালা, মুক্ত প্রান্তর ছিল তার সঙ্গী। প্রকৃতির মতোই সে ছিল বাধাহীন ও সংস্কারমুক্ত। সমাজের কৃত্রিম নিয়মকানুন তাকে বাঁধতে পারেনি। কিন্তু বিবাহের পর যখন তাকে আবদ্ধ জীবনে প্রবেশ করতে হয়, তখন সে প্রকৃতির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক গভীর মানসিক সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে স্বামী অপূর্বের কাছ থেকে দূরে থাকার বিরহ এবং প্রকৃতির মাঝেই তার নিজের অন্তরের প্রেম ও পরিণতিবোধ জাগ্রত হয়। প্রকৃতি তাকে যেমন বন্য ও স্বাধীন হতে শিখিয়েছিল, তেমনি আবার প্রকৃতির বুকেই তার নারীসত্তার পূর্ণতা এবং প্রেমের ‘সমাপ্তি’ বা সার্থকতা ঘটে।
অথবা,
(খ) “‘পয়মন্ত’ গল্পের পণ্ডিত মশাই বর্তমান ক্ষয়েষ্ণু সমাজের যোগ্য প্রতিনিধি”—তোমার মতামতসহ বিশ্লেষণ করো।
‘পয়মন্ত’ গল্পের পণ্ডিত মশাই চরিত্রটি আমাদের গ্রামীণ ক্ষয়িষ্ণু সমাজের এক প্রতীকী এবং বাস্তবসম্মত রূপ। একসময় যারা সমাজে শিক্ষা, নৈতিকতা এবং আদর্শের বাতিঘর ছিলেন, আর্থসামাজিক অবক্ষয় ও চরম দারিদ্র্যের কশাঘাতে তাদের নৈতিক স্খলন কীভাবে ঘটে, পণ্ডিত মশাই তারই এক করুণ প্রতিনিধি।
বিশ্লেষণ: বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম এবং আধুনিকতার আগ্রাসনে গ্রামীণ সহজ-সরল জীবন ব্যবস্থা যখন বিপর্যস্ত, তখন পণ্ডিত মশাইয়ের মতো মানুষেরা নিজেদের আদর্শ ধরে রাখতে পারেন না। পেটের দায়ে বা সামাজিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাদের অনেক সময় সংস্কারাচ্ছন্ন বা কপট পথ বেছে নিতে হয়। সমাজে টিকে থাকার জন্য তাদের বিদ্যার চেয়ে আপসকামী মনোভাবই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখিয়েছেন যে, দারিদ্র্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয় কীভাবে একটি সমাজের শিক্ষিত শ্রেণিকে অসহায় ও অন্তঃসারশূন্য করে তোলে। তাই পণ্ডিত মশাই চরিত্রটি বর্তমান ক্ষয়িষ্ণু সমাজের এক অমোঘ প্রতিচ্ছবি।
গ বিভাগ
মান—১০×২=২০
৫। (ক) শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার আলোকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি বাঙালি জাতির কাছে স্বাধীনতার এক অনুপম সংজ্ঞা ও স্বরূপ তুলে ধরে। এ কবিতায় স্বাধীনতা কোনো কেবল রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক বিজয় নয়, বরং তা বাঙালির জীবন, সংস্কৃতি ও আত্মার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
স্বাধীনতার স্বরূপ: কবি স্বাধীনতাকে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় অনুষঙ্গের সাথে তুলনা করেছেন। স্বাধীনতা হলো ‘রবিঠাকুরের অজর কবিতা’, ‘কাজী নজরুলের ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ’, এবং ‘বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর শাণিত কথার ঝলসানি’। স্বাধীনতা মানে কৃষকের স্বাধীন হাসি, মজুরের ঘাম, এবং শহীদ মিনার। অর্থাৎ, বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা, বাকস্বাধীনতা, নিজের দেশে নির্ভয়ে চলাফেরা এবং স্বকীয়তাকে বাঁচিয়ে রাখাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হলেও এর স্বরূপ হলো বাংলার চিরায়ত সৌন্দর্য ও মুক্ত জীবনের অধিকার।
অথবা,
(খ) “কবি জীবনানন্দ দাশ প্রেম ও প্রকৃতির কবি”—’বনলতা সেন’ কবিতার আলোকে আলোচনা করো।
কবি জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’। তাঁর ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি একই সাথে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং প্রেমের চিরন্তন তৃষ্ণার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
এই কবিতায় প্রেমিকা বনলতা সেন কোনো রক্তমাংসের সাধারণ নারী নন, বরং তিনি যেন প্রকৃতির এক প্রশান্তির রূপক। কবি যখন হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে হেঁটে ক্লান্ত, তখন বনলতা সেন তাঁকে দু’দণ্ড শান্তি দিয়েছিলেন। কবির বর্ণনায় প্রেমের সাথে প্রকৃতির উপমা লক্ষ্যণীয়: “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা / মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য।” এখানে নারীর সৌন্দর্যকে প্রাচীন নগরীর অন্ধকার রাত্রি এবং নিখুঁত স্থাপত্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। পাখির নীড়ের মতো চোখ নিয়ে সে যখন তাকায়, তখন প্রেম ও প্রকৃতির এক শান্ত স্নিগ্ধতা কবির হৃদয়কে ভরিয়ে তোলে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, জীবনানন্দ দাশ প্রেম ও প্রকৃতিকে এক সুতোয় গেঁথেছেন এই কবিতায়।
৬। (ক) “‘বলাকা’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মিক ও দার্শনিক তত্ত্বের চমকপ্রদ সংযোগ ঘটেছে”—যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা ‘বলাকা’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক কবিতা। এই কবিতায় কবির গতিবাদ বা ‘Philosophy of Motion’ এর সাথে তাঁর গভীর আত্মিক চেতনার এক চমৎকার সংযোগ ঘটেছে।
বিশ্লেষণ: সন্ধ্যাকাশে উড়ে যাওয়া একঝাঁক সাদা বলাকা বা হাঁসের পাখা ঝাপটানোর শব্দ কবির মনে এক দার্শনিক উপলব্ধির জন্ম দেয়। তিনি অনুভব করেন, এই জগত স্থির বা স্থবির নয়; সবকিছুই এক অসীম গতির দিকে ছুটে চলেছে। “হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোন্খানে”—এই শাশ্বত বাণী মানুষের আত্মার অনন্ত যাত্রার কথা বলে। কবি মনে করেন, এই গতিই হলো জীবনের ধর্ম। স্থবিরতা মানেই মৃত্যু। বলাকার উড়ে যাওয়া কবির আত্মাকে জাগিয়ে তোলে এবং তিনি অনুভব করেন যে, জড় বস্তুর মধ্যেও এক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে। এই আধ্যাত্মিক মুক্তির আকুলতা এবং গতির দর্শনের কারণেই কবিতাটি এক অনন্য মাত্রা লাভ করেছে।
অথবা,
(খ) ‘ওমর ফারুক’ কবিতা অবলম্বনে হযরত ওমরের সাম্য ও মানবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরো।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ওমর ফারুক’ কবিতায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচার, সাম্য এবং প্রগাঢ় মানবতার এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে উঠেছে।
সাম্য ও মানবতার দিকসমূহ:
১. দাস ও প্রভুর সাম্য: জেরুজালেম বিজয়ের পর যখন তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন, তখন একটিমাত্র উট থাকায় তিনি তাঁর ভৃত্যের সাথে পালাক্রমে উটে চড়ার ব্যবস্থা করেন। নিজের পালা শেষ হলে ভৃত্যকে উটে চড়িয়ে নিজে উটের রশি ধরে টেনেছেন। এটি মানবতার ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
২. ন্যায়বিচার: নিজের পুত্রের অপরাধের ক্ষেত্রেও তিনি কোনো ছাড় দেননি। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, এই নীতি তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।
৩. সরল জীবনযাপন: অর্ধ-পৃথিবীর শাসক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিলাসবহুল জীবন পরিহার করেছিলেন। ছেঁড়া পোশাক পরা এবং খেজুর পাতায় ঘুমানো তাঁর সরলতার প্রমাণ।
৪. জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ: রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে ঘুরে ঘুরে তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের খোঁজ নিতেন এবং নিজের কাঁধে আটার বস্তা বয়ে নিয়ে তাদের ঘরে পৌঁছে দিতেন।
ঘ বিভাগ
মান—৫×৪=২০
৭। যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
(ক) বাংলা ভাষা কাকে বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করো।
বাংলা ভাষার সংজ্ঞা: বাঙালি জাতি মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তাকে বাংলা ভাষা বলে। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ভাষা।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব: ইসলামে ভাষাকে মহান আল্লাহর এক অপূর্ব দান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রাহমানে আল্লাহ বলেছেন, “তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন” (আয়াত ৩-৪)। সূরা রুমে আল্লাহ তাআলা মানুষের বর্ণ ও ভাষার বৈচিত্র্যকে তাঁর অন্যতম নিদর্শন (নিদর্শনাবলি) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নবী-রাসূলগণকে আল্লাহ তাঁদের নিজ নিজ কওমের ভাষায় কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, যাতে মানুষ সহজে দ্বীনের দাওয়াত বুঝতে পারে। সুতরাং ইসলামে মাতৃভাষার সম্মান ও গুরুত্ব অপরিসীম।
(খ) ভাষার রূপতাত্ত্বিক শ্রেণিবিণ্যাস বলতে কী বুঝ? উদাহরণসহ বর্ণনা করো।
ভাষার রূপতাত্ত্বিক (Morphological) শ্রেণিবিণ্যাস বলতে ভাষার অন্তর্গত শব্দগুলোর গঠনপ্রকৃতি এবং পদ গঠনের রীতির ওপর ভিত্তি করে ভাষাসমূহকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করাকে বোঝায়। রূপতাত্ত্বিক দিক থেকে পৃথিবীর ভাষাসমূহকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. অসমাসবদ্ধ বা বিচ্ছিন্ন ভাষা (Isolating): এ ভাষার শব্দগুলোতে কোনো বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত হয় না। শব্দের অবস্থান দিয়ে অর্থ নির্ধারিত হয়। উদাহরণ: চীনা ভাষা।
২. সমন্বয়ী বা জোড়কলম ভাষা (Agglutinative): এ ভাষায় মূল শব্দের সাথে প্রত্যয় বা বিভক্তি এমনভাবে যুক্ত হয় যে, মূল শব্দ এবং প্রত্যয় দুটোরই আলাদা অস্তিত্ব বোঝা যায়। উদাহরণ: তুর্কি ভাষা।
৩. বিভক্তিমূলক ভাষা (Inflectional): এই ভাষায় প্রকৃতি ও প্রত্যয় এমনভাবে মিশে যায় যে তাদের আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। উদাহরণ: বাংলা, আরবি, ইংরেজি।
৪. বহুসমন্বয়ী ভাষা (Polysynthetic): এ ভাষায় অনেকগুলো শব্দাংশ একত্রে মিলে একটি দীর্ঘ বাক্য তৈরি করে, যা দেখতে একটিমাত্র শব্দের মতো মনে হয়। উদাহরণ: আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদের ভাষা।
(গ) প্রমিত বাংলা বানানে অতৎসম শব্দের ৪টি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানে অতৎসম (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি) শব্দের ৪টি নিয়ম হলো:
১. ই-কার ব্যবহার: সকল অতৎসম শব্দে কেবল হ্রস্ব-ই বা ই-কার (ি) ব্যবহৃত হবে, ঈ-কার (ী) নয়। উদাহরণ: সরকারি, বিদেশি, দাবি।
২. ণ-ত্ব বিধানের প্রয়োগ নেই: অতৎসম শব্দে মূর্ধন্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হবে না, সর্বদা দন্ত্য ‘ন’ হবে। উদাহরণ: হর্ন, কোরআন, পরগনা।
৩. ষ-ত্ব বিধানের প্রয়োগ নেই: অতৎসম শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হবে না। ইংরেজি ‘s’ ধ্বনির জন্য ‘স’ এবং ‘sh’ ধ্বনির জন্য ‘শ’ ব্যবহৃত হবে। উদাহরণ: স্টল, মাস্টার, শার্ট।
৪. উ-কার ব্যবহার: অতৎসম শব্দে সর্বদা হ্রস্ব-উ বা উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে, দীর্ঘ-ঊ (ূ) নয়। উদাহরণ: মুলো, চুন, বুট।
(ঘ) বিরামচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ না ঘটলে কীভাবে বাক্যের অর্থ বদলে যায় দেখাও।
বাক্যে বিরামচিহ্ন (যেমন: কমা, দাঁড়ি ইত্যাদি) সঠিক স্থানে ব্যবহৃত না হলে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ বিপরীত বা বিকৃত হয়ে যেতে পারে। নিচে উদাহরণসহ দেখানো হলো:
উদাহরণ ১:
সঠিক প্রয়োগ: “এখানে গাড়ি পার্ক করবেন না, করলে জরিমানা হবে।” (গাড়ি পার্ক করা নিষেধ)
ভুল প্রয়োগ: “এখানে গাড়ি পার্ক করবেন, না করলে জরিমানা হবে।” (গাড়ি পার্ক করা বাধ্যতামূলক)
উদাহরণ ২:
সঠিক প্রয়োগ: “মারামারি করো না, করলে শাস্তি পাবে।”
ভুল প্রয়োগ: “মারামারি করো, না করলে শাস্তি পাবে।”
উপরোক্ত উদাহরণগুলোতে শুধুমাত্র একটি কমা (,) এর স্থান পরিবর্তনের কারণে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। তাই ভাব সুস্পষ্ট করার জন্য বিরামচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য।
(ঙ) নিচের শব্দগুলোর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ করো। (পাঁচটি): মরূদ্যান, দুর্ঘটনা, প্রত্যুষ, দর্শক, অন্বেষণ, মনোরম, কুলটা।
* মরূদ্যান = মরু + উদ্যান
* দুর্ঘটনা = দুঃ + ঘটনা
* প্রত্যুষ = প্রতি + ঊষ
* দর্শক = দৃশ + অক
* অন্বেষণ = অনু + এষণ
* মনোরম = মনঃ + রম
* কুলটা = কুল + অটা
(চ) নিচের শব্দগুলো ভুল হলে শুদ্ধরূপ লেখো: পৈত্রিক, মরীচীকা, নূন্যতম, মনিষী, অহরাত্রি, বিভিষিকা, মূহুর্ত, প্রাণীবিদ্যা, সত্ত্বা, ইতিমধ্যে।
অশুদ্ধ → শুদ্ধরূপ
* পৈত্রিক → পৈতৃক
* মরীচীকা → মরীচিকা
* নূন্যতম → ন্যূনতম
* মনিষী → মনীষী
* অহরাত্রি → অহোরাত্র
* বিভিষিকা → বিভীষিকা
* মূহুর্ত → মুহূর্ত
* প্রাণীবিদ্যা → প্রাণিবিদ্যা
* সত্ত্বা → সত্তা
* ইতিমধ্যে → ইতোমধ্যে
(ছ) ভাবসম্প্রসারণ করো : স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।
মূলভাব: স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। কঠোর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করা যায়, কিন্তু তা স্থায়ী করা এবং এর সুফল ভোগ করা আরও বেশি কঠিন ও সাধনাসাপেক্ষ।
সম্প্রসারিত ভাব: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার জন্য মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন প্রবল শত্রুকেও পরাজিত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। এ সময় দেশ গড়ার কাজ, অর্থনীতি মজবুত করা এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। স্বাধীন দেশে অনেক সময় ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার লোভ এবং দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাছাড়া, পরাজিত শত্রুরা এবং বহিঃশত্রুরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে দেশের ক্ষতি করার জন্য। তখন দেশপ্রেম ও একতার অভাব হলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে। তাই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেমন দরকার বীরত্ব ও সংগ্রাম, তেমনি তা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক সতর্কতা, প্রখর দেশপ্রেম, সততা এবং সুশাসন।
মন্তব্য: তাই বলা যায়, স্বাধীনতা লাভ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং স্বাধীনতাকে অর্থবহ ও সুরক্ষিত করতে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া দেশবাসীর পবিত্র দায়িত্ব।
(জ) তোমার মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদনপত্র লেখো।
তারিখ: ১৬ মে ২০২৬
বরাবর,
অধ্যক্ষ মহোদয়,
[মাদ্রাসার নাম],
[মাদ্রাসার ঠিকানা]
বিষয়: মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা (স্পোকেন অ্যারাবিক) কোর্স চালু করার জন্য আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা আপনার মাদ্রাসার ফাযিল শ্রেণির শিক্ষার্থীবৃন্দ। আমাদের মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। আমরা পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ফিকহ অধ্যয়ন করি, কিন্তু ব্যবহারিক ও কথ্য আরবি ভাষার চর্চা না থাকায় আমরা অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আরবিতে কথা বলতে বা আধুনিক আরবি সাহিত্য বুঝতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বদরবারে ইসলামি স্কলার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অত্যন্ত জরুরি। তাই আমাদের মাদ্রাসায় একটি ‘আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স’ বা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
অতএব, বিনীত প্রার্থনা, শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে মাদ্রাসায় একটি আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার মর্জি হয়।
বিনীত নিবেদক,
মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে,
[আপনার নাম/রোল]
ফাযিল ১ম বর্ষ।






