Ilmul Balaghah (Code: 201206) – ২০২১ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের علم البلاغة (ইলমুল বালাগাহ বা অলংকার শাস্ত্র) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের ক ও খ উভয় বিভাগের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
مجموعة (أ) [ক-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্ন]
[১. علم البلاغة এর সংজ্ঞা, উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, লক্ষ্য ও علم البلاغة পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
تعريف علم البلاغة (ইলমুল বালাগাহ-এর পরিচয়):
‘বালাগাহ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পৌঁছানো, গন্তব্যে উপনীত হওয়া বা অলংকারপূর্ণ হওয়া। পরিভাষায়: ইলমুল বালাগাহ হলো এমন একটি শাস্ত্র বা নিয়মকানুনের সমষ্টি, যার মাধ্যমে শ্রোতার অবস্থা ও পরিস্থিতি (مقتضى الحال) অনুযায়ী অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ, সাবলীল, প্রাঞ্জল ও ব্যাকরণগতভাবে নির্ভুল আরবি বাক্য প্রয়োগ করা যায়।
نشأته وتطوره (উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ):
বালাগাহ শাস্ত্রের বীজ মূলত আরবের জাহিলি যুগের কবিদের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। তাঁরা স্বভাবগতভাবেই অলংকারপূর্ণ আরবি বলতেন। কিন্তু এটি একটি সুসংগঠিত শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ইসলামি যুগে, পবিত্র কুরআনের সাহিত্যিক মুজিজা (إعجاز القرآن) রক্ষা ও অনুধাবনের উদ্দেশ্যে।
আবু উবাইদা (মৃ: ২১০ হি.) ‘مجاز القرآن’ লিখে এর প্রাথমিক সূচনা করেন। পরবর্তীতে আল-জাহিয ‘البيان والتبيين’ এবং ইবনুল মুতাজ ‘البديع’ গ্রন্থ রচনা করে এটিকে আরও সমৃদ্ধ করেন। পরিশেষে, আব্দুল কাহের আল-জুরজاني ‘دلائل الإعجاز’ ও ‘أسرار البلاغة’ রচনা করে এই শাস্ত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র শাস্ত্রের রূপ দান করেন। পরবর্তীতে আল্লামা সাক্কাকি এর তিনটি প্রধান শাখা (মাআনী, বয়ান, বাদী’) সুনির্দিষ্ট করেন।
غايته (লক্ষ্য):
ইলমুল বালাগাহর মূল লক্ষ্য হলো আরবি ভাষার সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও অলংকারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং ভাষার ত্রুটিপূর্ণ বা বেমানান প্রয়োগ থেকে বেঁচে থাকা।
أهمية دراسته (পাঠের গুরুত্ব):
১. পবিত্র কুরআনের সাহিত্যিক মুজিজা ও এর গভীর রহস্য অনুধাবন করার জন্য বালাগাহ পাঠ অপরিহার্য।
২. রাসুল (সা.)-এর জাওয়ামিউল কালিম বা হাদিসের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও সঠিক মর্মার্থ বুঝতে সাহায্য করে।
৩. একজন লেখক বা বক্তাকে বিশুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও শ্রোতার মনন অনুযায়ী আরবি সাহিত্য রচনায় পারদর্শী করে তোলে।
[২. الأمر কাকে বলে? এর ছীগাহ কয়টি? الأمر যে সব অর্থে ব্যবহৃত হয় তা উদাহরণসহ আলোচনা কর।]
ما الأمر (الأمر এর সংজ্ঞা):
‘আমর’ (الأمر) শব্দের আভিধানিক অর্থ আদেশ করা, নির্দেশ দেওয়া বা কাজ। ইলমুল মাআনী-এর পরিভাষায়: উচ্চপদস্থ কেউ নিম্নপদস্থ কাউকে (علو واستعلاء) কোনো কাজ করার জন্য বাধ্যবাধকতার সাথে আদেশ বা নির্দেশ দেওয়াকে ‘আমর’ বলা হয়।
صيغ الأمر (আমরের ছীগাহ বা রূপসমূহ):
امر গঠনের জন্য মূলত ৪টি ছীগাহ বা রূপ ব্যবহৃত হয়:
১. فعل الأمر: যেমন- اِفْعَلْ (তুমি করো), أَقِيمُوا الصَّلَاةَ (তোমরা নামাজ কায়েম করো)।
২. المضارع المقرون بلام الأمر: (লামে আমর যুক্ত মুজারে)। যেমন- لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ (সামর্থ্যবান ব্যক্তি যেন ব্যয় করে)।
৩. اسم فعل الأمر: (ফেল এর অর্থ প্রদানকারী ইসম)। যেমন- حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ (নামাজের দিকে আসো), عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ (তোমরা নিজেদের সামলাও)।
৪. المصدر النائب عن فعل الأمر: (ফেল-এর স্থলাভিষিক্ত মাসদার)। যেমন- وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا (পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো)।
المعاني المجازية للأمر (যেসব রূপক অর্থে الأمر ব্যবহৃত হয়):
আমর কখনো কখনো তার মূল অর্থ (বাধ্যতামূলক আদেশ) থেকে বের হয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে অন্যান্য রূপক (মাজাযি) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো:
১. الدعاء (দোয়া বা প্রার্থনা): যখন নিচু স্তর থেকে ওপরের স্তরে (আল্লাহর কাছে) আদেশবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন- رَبِّ اغْفِرْ لِي (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন)।
২. الالتماس (অনুরোধ): যখন সমান স্তরের বা সমমনা কারো কাছে কিছু চাওয়া হয়। যেমন বন্ধুকে বলা: يَا أَخِي أَعْطِنِي قَلَمَكَ (ভাই, তোমার কলমটি দাও)।
৩. التعجيز (অক্ষম প্রমাণ করা): কাউকে কোনো কাজে চ্যালেঞ্জ করে তার অক্ষমতা প্রমাণের জন্য। যেমন আল্লাহ বলেন: فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ (পারলে এর মতো একটি সুরা নিয়ে আসো)।
৪. الإرشاد (উপদেশ বা দিকনির্দেশনা): মঙ্গলের জন্য উপদেশ দেওয়া। যেমন: إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ… فَاكْتُبُوهُ (ধারদেনা করলে তা লিখে রেখো)।
[৩. التشبيه এর সংজ্ঞা দাও। তার রুকন, প্রকারভেদ ও উদ্দেশ্যবলি বিস্তারিত লেখ।]
التشبيه (তাশবীহ) এর সংজ্ঞা:
‘তাশবীহ’ শব্দের অর্থ তুলনা করা বা সদৃশ করা। ইলমুল বয়ান-এর পরিভাষায়: কোনো একটি অভিন্ন গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কারণে একটি বস্তুকে (যা ওই গুণটিতে দুর্বল) অপর একটি বস্তুর (যা ওই গুণটিতে শক্তিশালী) সাথে নির্দিষ্ট কোনো অব্যয়ের (حرف التشبيه) মাধ্যমে তুলনা করাকে তাশবীহ বলে।
যেমন- زَيْدٌ كَالْأَسَدِ فِي الشَّجَاعَةِ (যায়েদ সাহসিকতায় সিংহের মতো)।
أركان التشبيه (তাশবীহের রুকন বা অঙ্গসমূহ):
তাশবীহের মোট ৪টি রুকন রয়েছে:
১. المشبَّه (যাকে তুলনা করা হয়): ওপরের উদাহরণে ‘زَيْدٌ’ (যায়েদ)।
২. المشبَّه به (যার সাথে তুলনা করা হয়): ওপরের উদাহরণে ‘الْأَسَدِ’ (সিংহ)।
৩. أداة التشبيه (তুলনার অব্যয় বা টুলস): যা দিয়ে তুলনা করা হয়। যেমন- الكاف, كأنّ, مِثْل ইত্যাদি।
৪. وجه الشبه (তুলনার সাধারণ গুণ): যে গুণের কারণে তুলনা করা হয়েছে। যেমন- ‘الشَّجَاعَةِ’ (সাহসিকতা)।
أقسام التشبيه (তাশবীহের প্রকারভেদ):
রুকনগুলোর উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তাশবীহ ৫ প্রকার:
১. التشبيه المرسل: যাতে أداة التشبيه (অব্যয়) উল্লেখ থাকে। (যেমন- যায়েদ সিংহের মতো)।
২. التشبيه المؤكد: যাতে أداة التشبيه বাদ দেওয়া হয়। (যেমন- যায়েদ সিংহ সাহসিকতায়)।
৩. التشبيه المفصل: যাতে وجه الشبه (সাধারণ গুণ) উল্লেখ থাকে। (যেমন- যায়েদ সিংহের মতো সাহসিকতায়)।
৪. التشبيه المجمل: যাতে وجه الشبه বাদ দেওয়া হয়। (যেমন- যায়েদ সিংহের মতো)।
٥. التشبيه البليغ: যাতে أداة التشبيه ও وجه الشبه উভয়ই বাদ দেওয়া হয়। এটি তাশবীহের সর্বোচ্চ স্তর। (যেমন- زَيْدٌ أَسَدٌ – যায়েদ সিংহ)।
أغراض التشبيه (তাশবীহের উদ্দেশ্যবলি):
বক্তা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে তাশবীহ ব্যবহার করেন:
১. মুশাব্বাহ-এর অবস্থা বা পরিচিতি সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করা।
২. মুশাব্বাহ-এর গুণের পরিমাণ বা মাত্রা (مقدار) বোঝানো।
৩. মুশাব্বাহ-কে সৌন্দর্যমণ্ডিত (تحسين) বা কুৎসিত (تقبيح) রূপে শ্রোতার সামনে উপস্থাপন করা।
[৪. الاستفهام কাকে বলে? তার أدوات কয়টি ও কী কী? ألفاظ الاستفهام তার মূল অর্থ ছাড়া যে সব অর্থে ব্যবহৃত হয় তা উদাহরণসহ লেখ।]
الاستفهام (ইস্তিফহাম) এর সংজ্ঞা:
‘ইস্তিফহাম’ শব্দের অর্থ প্রশ্ন করা, জিজ্ঞাসা করা বা জানতে চাওয়া। পরিভাষায়: কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট প্রশ্নবোধক অব্যয় ব্যবহার করে বক্তার নতুন কিছু জানতে চাওয়াকে ‘ইস্তিফহাম’ বলে।
أدوات الاستفهام (ইস্তিফহামের অব্যয়সমূহ):
ইস্তিফহামের জন্য আরবিতে মোট ১১টি أدوات (অব্যয় বা টুলস) ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো:
১. الهمزة (أ) – কী?, ২. هَلْ – কী?, ৩. مَنْ – কে?, ۴. مَا – কী?, ۵. مَتَى – কখন?, ۶. أَيَّانَ – কখন (ভবিষ্যতের জন্য)?, ۷. كَيْفَ – কীভাবে/কেমন?, ۸. أَيْنَ – কোথায়?, ۹. أَنَّى – কোথা থেকে/কীভাবে?, ۱۰. كَمْ – কত?, ۱۱. أَيٌّ – কোনটি?
المعاني المجازية للاستفهام (ইস্তিফহামের মূল অর্থ ছাড়া অন্যান্য অর্থসমূহ):
অনেক সময় ইস্তিফহাম তার মূল অর্থ (অজানা কিছু জানতে চাওয়া) বাদ দিয়ে আলংকারিক কারণে অন্যান্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন:
১. التقرير (স্বীকৃতি আদায়): কাউকে দিয়ে কোনো কিছু স্বীকার করিয়ে নেওয়ার জন্য। যেমন আল্লাহ বলেন: ﴿أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ؟﴾ (আমি কি তোমাদের রব নই?)।
২. النفي (অস্বীকার বা না-বোধক অর্থ): প্রশ্নবোধক শব্দ দিয়ে ‘না’ অর্থ বোঝানো। যেমন: ﴿هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ﴾ (উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে? অর্থাৎ, উত্তম ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না)।
৩. الإنكار أو التوبيخ (তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করা): কোনো খারাপ কাজের জন্য তিরস্কার করা। যেমন: ﴿أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ﴾ (তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দাও আর নিজেদের ভুলে যাও?)。
۴. التعظيم (সম্মান প্রদর্শন বা বড়ত্ব বোঝানো): যেমন: ﴿مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ﴾ (কে আছে এমন মহান যে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে?)。
[৫. الحقيقة ও المجاز এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
الحقيقة (হাকিকত) এর সংজ্ঞা:
‘হাকিকত’ অর্থ প্রকৃত বা বাস্তব। পরিভাষায়: যে শব্দকে তার আসল বা মূল আভিধানিক অর্থে (যাতে তার জন্ম হয়েছে) ব্যবহার করা হয়, তাকে الحقيقة বলে।
উদাহরণ: رَأَيْتُ أَسَدًا فِي الْغَابَةِ (আমি জঙ্গলে একটি সিংহ দেখেছি)। এখানে ‘সিংহ’ শব্দটি তার আসল অর্থ পশু হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।
المجاز (মাজায) এর সংজ্ঞা:
‘মাজায’ অর্থ রূপক বা আলংকারিক। পরিভাষায়: যে শব্দকে তার আসল বা আভিধানিক অর্থে ব্যবহার না করে, এর সাথে সম্পর্কযুক্ত (علاقة) অন্য কোনো রূপক বা আলংকারিক অর্থে ব্যবহার করা হয়, তাকে المجاز বলে।
উদাহরণ: رَأَيْتُ أَسَدًا يَرْمِي (আমি একটি সিংহকে তীর ছুঁড়তে দেখলাম)। এখানে ‘সিংহ’ দ্বারা পশু না বুঝিয়ে ‘বীর পুরুষ’ বোঝানো হয়েছে।
أقسامهما (এদের প্রকারভেদ):
ব্যবহারের ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে হাকিকত ও মাজায উভয়েই ৪ প্রকার:
১. لغوية (আভিধানিক): যেমন- ‘সালাত’ এর হাকিকি অর্থ দোয়া, আর মাজাযি অর্থ নামাজ।
২. شرعية (শরিয়তভিত্তিক): যেমন- ‘সালাত’ এর শরয়ী হাকিকি অর্থ হলো রুকু-সিজদাহ বিশিষ্ট ইবাদত।
৩. عرفية عامة (সাধারণ প্রথাগত): যেমন- ‘দাব্বাহ’ এর হাকিকি অর্থ বিচরণশীল প্রাণী, কিন্তু প্রথাগতভাবে তা কেবল চারপেয়ে জন্তুকে বোঝায়।
৪. عرفية خاصة (বিশেষ প্রথাগত): নির্দিষ্ট পণ্ডিতদের পরিভাষা।
এছাড়া, ইলমুল বয়ান-এর পরিভাষায় المجاز (মাজায) প্রধানত ২ প্রকার:
১. المجاز اللغوي (মাজাযে লুগাভী): এটি শব্দের ব্যবহারগত মাজায। এটি আবার ২ প্রকার- الاستعارة (ইস্তিআরা) এবং المجاز المرسل (মাজাজে মুরসাল)।
২. المجاز العقلي (মাজাযে আকলি): এটি বাক্য বা ক্রিয়ার সম্বন্ধগত মাজায।
[৬. المساواة ও الإطناب এর সংজ্ঞা দাও। الإطناب এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ আলোচনা কর।]
المساواة (মুসাওয়াত) এর সংজ্ঞা:
মুসাওয়াত অর্থ সমতা বিধান। পরিভাষায়: যখন বাক্যের শব্দের পরিমাণ এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থের পরিমাণ একেবারে সমান সমান হয় (অর্থাৎ অর্থ বোঝাতে শব্দ একটু বেশিও হয় না, আবার কমও হয় না), তাকে মুসাওয়াত বলে।
যেমন- وَلَا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِ (খারাপ ষড়যন্ত্র তার উদ্যোক্তাকে ही ঘিরে ধরে)।
الإطناب (ইতনাব) এর সংজ্ঞা:
ইতনাব অর্থ বৃদ্ধি করা বা লম্বা করা। পরিভাষায়: যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে (যেমন- তাকীদ, গুরুত্ব বাড়ানো বা স্পষ্ট করার জন্য) কাঙ্ক্ষিত অর্থের তুলনায় শব্দের পরিমাণ একটু বেশি ব্যবহার করা হয়, তাকে ইতনাব বলে।
أقسام الإطناب (الإطناب এর প্রকারগুলো):
ইতনাব অনেক ধরনের হতে পারে, নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার উদাহরণসহ দেওয়া হলো:
১. ذكر الخاص بعد العام (ব্যাপক কথার পর নির্দিষ্ট করে বলা): এটি করা হয় নির্দিষ্ট জিনিসটির বিশেষ মর্যাদা বোঝাতে।
যেমন- حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى (তোমরা নামাজগুলোর হিফাজত করো এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের)। এখানে সব নামাজ বলার পরও আসরকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
২. ذكر العام بعد الخاص (নির্দিষ্ট কথার পর ব্যাপক করে বলা): এটি করা হয় সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।
যেমন- رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ (প্রথমে নিজের ও পিতা-মাতার কথা নির্দিষ্ট করে বলে পরে সব মুমিনের কথা ব্যাপকভাবে বলা হয়েছে)।
৩. التكرار (একই কথার পুনরাবৃত্তি): তাকীদ বা জোর দেওয়ার জন্য।
যেমন- فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۞ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে)।
৪. الاعتراض (প্রাসঙ্গিক বাক্য): মূল বাক্যের মাঝে দোয়া বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে প্রাসঙ্গিক বাক্য আনা।
যেমন- قَالَ أَبُو بَكْرٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ- كَذَا (এখানে ‘রাযিয়াল্লাহু আনহু’ হলো জুমলা মু’তারিযাহ বা ইতনাব)।
مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]
[৭. الإنشاء এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
الإنشاء (ইনশা) এর সংজ্ঞা:
ইলমুল বালাগাহর পরিভাষায়, যে বাক্যের বক্তাকে তার কথা বলার কারণে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায় না, তাকে الإنشاء বা ইনশা বলে। কারণ এ ধরনের বাক্যের কোনো পূর্ববর্তী বাস্তব অস্তিত্ব থাকে না যে তার সাথে মিলিয়ে একে সত্য বা মিথ্যা বলা যাবে। (যেমন- আদেশ, নিষেধ বা প্রশ্ন)।
أقسامه (ইনশা এর প্রকারভেদ):
الإنشاء প্রধানত ২ প্রকার:
১. الإنشاء الطلبي (চাহিদাবাচক ইনশা): যে বাক্যের মাধ্যমে বক্তا শ্রোতার কাছে কোনো কিছু দাবি বা কামনা করে। এটি ৫ প্রকার:
* الأمر (আদেশ): যেমন- اِقْرَأْ كِتَابَكَ (তোমার বই পড়ো)।
* النهي (নিষেধ): যেমন- لَا تَكْتُبْ (তুমি লিখো না)।
* الاستفهام (প্রশ্ন): যেমন- هَلْ جَاءَ زَيْدٌ؟ (যায়েদ কি এসেছে?)。
* التمني (আকাঙ্ক্ষা): যেমন- لَيْتَ الشَّبَابَ يَعُودُ (হায়! যৌবন যদি ফিরে আসত)।
* النداء (আহ্বান): যেমন- يَا زَيْدُ (হে যায়েদ)।
২. الإنشاء غير الطلبي (চাহিদা ব্যতীত ইনশা): যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কিছু দাবি করা হয় না, বরং মনের ভাব প্রকাশ করা হয়। এটি কয়েক প্রকার:
* التعجب (বিস্ময়): যেমন- مَا أَحْسَنَهُ (সে কতই না সুন্দর!)。
* القسم (শপথ): যেমন- وَاللَّهِ لَأَفْعَلَنَّ كَذَا (আল্লাহর কসম, আমি এটি করব)।
* صيغ المدح والذم (প্রশংসা ও নিন্দা): যেমন- نِعْمَ الرَّجُلُ (কতই না উত্তম লোক)।
[৮. الاستعارة বলতে কী বুঝ? এর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।]
الاستعارة (ইস্তিআরা) বলতে যা বুঝি:
‘ইস্তিআরা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ধার নেওয়া। পরিভাষায়: এটি হলো এমন একটি সংক্ষেপিত ‘তাশবীহ’, যার একটি প্রধান রুকন (হয় মুশাব্বাহ অথবা মুশাব্বাহ বিহি) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শব্দটিকে তার আসল অর্থ থেকে সরিয়ে রূপক (মাজাযি) অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
যেমন- رَأَيْتُ أَسَدًا يَخْطُبُ (আমি একটি সিংহকে ভাষণ দিতে দেখলাম)। এখানে বীর পুরুষকে (মুশাব্বাহ) সিংহের (মুশাব্বাহ বিহি) সাথে তুলনা করে ‘বীর পুরুষ’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘সিংহ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
أقسام الاستعارة (ইস্তিআরা এর প্রকারভেদ):
طرفين (দুই প্রান্ত) উল্লেখ করার ওপর ভিত্তি করে ইস্তিআরা প্রধানত ২ প্রকার:
১. الاستعارة التصريحية (তাসরীহিয়্যাহ): যে ইস্তিআরায় ‘মুশাব্বাহ’ (যাকে তুলনা করা হয়) বাদ দিয়ে স্পষ্টভাবে ‘মুশাব্বাহ বিহি’ (যাঁর সাথে তুলনা করা হয়) উল্লেখ করা হয়।
যেমন- আল্লাহ বলেন: ﴿لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ﴾ (যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন)। এখানে কুফরকে অন্ধকারের সাথে এবং ঈমানকে আলোর সাথে তুলনা করে কুফর ও ঈমানকে বাদ দিয়ে শুধু অন্ধকার ও আলো (মুশাব্বাহ বিহি) উল্লেখ করা হয়েছে।
২. الاستعارة المكنية (মাকনিয়্যাহ): যে ইস্তিআরায় ‘মুশাব্বাহ বিহি’ বাদ দিয়ে শুধু তার কোনো একটি বৈশিষ্ট্য বা গুণ উল্লেখ করে ইশারা করা হয়।
যেমন- আল্লাহ বলেন: ﴿وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا﴾ (আর বার্ধক্য দ্বারা মাথা প্রজ্জ্বলিত হয়েছে)। এখানে বার্ধক্যকে আগুনের সাথে তুলনা করে আগুনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আগুনের একটি গুণ (اشتعال বা প্রজ্জ্বলিত হওয়া) উল্লেখ করা হয়েছে।
[৯. المحسنات اللفظية এর সংজ্ঞা উদাহরণসহ লেখ।]
المحسنات اللفظية (শব্দগত অলংকার) এর সংজ্ঞা:
ইলমুল বালাগাহর যে অংশে (ইলমুল বাদী’) এমন অলংকার নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা দ্বারা বাক্যের ‘শব্দের’ (لفظ) বাহ্যিক সৌন্দর্য, মাধুর্য ও লালিত্য বৃদ্ধি পায়, তাকে المحسنات اللفظية বা শব্দগত অলংকার বলা হয়। (অর্থাৎ, এগুলোতে মূল সৌন্দর্যটা শব্দের শ্রুতিমধুরতার মধ্যে থাকে, অন্তর্নিহিত অর্থের মধ্যে নয়)।
প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
এর বেশ কয়েকটি প্রকার রয়েছে, যেমন- الجناس (জিনাস- সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ), السجع (সাজ’- বাক্যের শেষে অন্ত্যমিল)।
الجناس (জিনাস) এর উদাহরণ: আল্লাহ তায়ালা বলেন:
﴿يَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ﴾
(যেদিন ‘সায়াহ’ তথা কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে তারা এক ‘সায়াহ’ তথা এক ঘণ্টার বেশি দুনিয়ায় অবস্থান করেনি)।
এখানে দুটি سَاعَةٍ শব্দ দেখতে ও উচ্চারণে হুবহু এক হওয়ায় বাক্যে চমৎকার ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এদের অর্থ ভিন্ন। এটিই المحسنات اللفظية।
[১০. مجاز المرسل এর علاقة গুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
المجاز المرسل এবং এর علاقة (সম্পর্কসমূহ):
মাজাজে মুরসাল হলো এমন মাজায, যার হাকিকি (আসল) ও মাজাযি (রূপক) অর্থের মাঝে ‘তাশবীহ’ বা তুলনার সম্পর্ক থাকে না, বরং তাশবীহ ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক বা علاقة থাকে। এর অনেকগুলো علاقة রয়েছে, তন্মধ্যে প্রধান কয়েকটি নিচে উদাহরণসহ দেওয়া হলো:
- السببية (কারণ উল্লেখ করে কার্য বা ফলাফল বোঝানো):
যেমন- رَعَيْنَا الْغَيْثَ (আমরা বৃষ্টি চরালাম)। এখানে বৃষ্টি চরা যায় না, ঘাস চরা হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলো ঘাস জন্মানোর কারণ, তাই কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। - المسببية (কার্য বা ফলাফল উল্লেখ করে কারণ বোঝানো):
যেমন- وَيُنَزِّلُ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ رِزْقًا (তিনি আসমান থেকে তোমাদের জন্য রিজিক নাজিল করেন)। আসমান থেকে বৃষ্টি নাজিল হয়, যা রিজিকের কারণ। এখানে ফলাফল (রিজিক) উল্লেখ করা হয়েছে। - الكلية (সমগ্র উল্লেখ করে অংশ বোঝানো):
যেমন- يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ (তারা তাদের আঙুলগুলো কানে ঢুকিয়ে দেয়)। পুরো আঙুল কানে ঢোকানো যায় না, এখানে আঙুলের ডগা (অংশ) বোঝানো হয়েছে। - الجزئية (অংশ উল্লেখ করে সমগ্র বোঝানো):
যেমন- فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ (একটি গর্দান মুক্ত করা)। শুধু গর্দান মুক্ত করা যায় না, বরং পুরো দাসকে মুক্ত করা বোঝানো হয়েছে। - اعتبار ما كان (অতীত অবস্থার বিবেচনা):
যেমন- وَآتُوا الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ (ইয়াতিমদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও)। সম্পদ দিতে হয় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর, তখন সে আর ইয়াতিম থাকে না। কিন্তু তার অতীত অবস্থা বিবেচনা করে ইয়াতিম বলা হয়েছে।
[১১. الكلام এর প্রকার উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]
تقسيم الكلام (কালাম বা বাক্যের প্রকারভেদ):
ইলমুল বালাগাহর পরিভাষায়, الكلام (কালাম) প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
- الخبر (খবর / বর্ণনামূলক বাক্য):
যে বাক্যের বক্তাকে তার কথা বলার কারণে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায়, তাকে ‘খবর’ বলে। কারণ এই বাক্যটি বাস্তবতার সাথে মিলতেও পারে, আবার নাও মিলতে পারে।
উদাহরণ: جَاءَ زَيْدٌ إِلَى الْمَدْرَسَةِ (যায়েদ মাদ্রাসায় এসেছে)। যদি সত্যিই সে এসে থাকে তবে বাক্যটি সত্য, আর না আসলে মিথ্যা। - الإنشاء (ইনশা / চাহিদাবাচক বাক্য):
যে বাক্যের বক্তাকে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায় না, তাকে ‘ইনশা’ বলে। কারণ এই বাক্যটি বলার আগ পর্যন্ত এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব থাকে না।
উদাহরণ: اِقْرَأْ كِتَابَكَ (তোমার বই পড়ো)। অথবা, هَلْ جَاءَ زَيْدٌ؟ (যায়েদ কি এসেছে?)। এই আদেশ বা প্রশ্নকে সত্য বা মিথ্যা বলার কোনো সুযোগ নেই।
[১২. النداء এর সংজ্ঞা দাও। এর أدوات গুলো লেখ।]
النداء (নিদা) এর সংজ্ঞা:
‘নিদা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ডাকা বা আহ্বান করা। ইলমুল মাআনী-এর পরিভাষায়: ‘নিদা’ হলো এমন কিছু নির্দিষ্ট অব্যয় (أدوات النداء) ব্যবহার করে কাউকে নিজের দিকে متوجه (মনোযোগী) করার জন্য আহ্বান করা বা ডাকা, যা মূলত ‘أدعو’ (আমি ডাকছি) ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করে।
যেমন- يَا خَالِدُ (হে খালিদ! আমার দিকে তাকাও)।
أدوات النداء (আহ্বানের অব্যয়সমূহ):
কাউকে ডাকার জন্য আরবিতে মোট ৮টি أدوات (অব্যয় বা হরফ) ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো:
১. يَا (ইয়া) – এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি কাছের এবং দূরের উভয় ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২. الْهَمْزَةُ / أ (হামযা) – এটি শুধু কাছের ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩. أَيْ (আই) – এটিও কাছের ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. آ (আ) – এটি দূরের ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৫. آي (আয়) – এটি দূরের ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৬. أَيَا (আয়া) – এটি দূরের ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৭. هَيَا (হায়া) – এটি দূরের ব্যক্তিকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৮. وَا (ওয়া) – এটি মূলত বিলাপ, দুঃখ বা শোক প্রকাশের জন্য (الندبة) ব্যবহৃত হয়।






