As-Sirah An-Nabawiyyah (আস-সীরাহ আন-নাববীয়্যাহ) 201204 – Fazil Hons Al Quran 2nd Year 2021 QnA

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
as sirah an nabawiyyah 201204 fazil hons al quran 2nd year 2021 qna
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

As-Sirah An-Nabawiyyah (Code: 201204) – ২০২১ প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের السيرة النبوية (আস-সীরাহ আন-নাববীয়্যাহ) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।

বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের ক ও খ উভয় বিভাগের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।

مجموعة (أ) [ক-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্ন]

١- ماذا تعرف عن الأيام الجاهلية ثم بين الحالات الاجتماعية والدينية والخلقية للعرب الجاهلية-

[১. আইয়্যামে জাহেলিয়্যাহ বলতে তুমি কী বুঝ? জাহিলী যুগে আরবের সামাজিক, ধর্মীয় ও চারিত্রিক অবস্থা বর্ণনা কর।]

الأيام الجاهلية (আইয়্যামে জাহেলিয়্যাহ) এর পরিচয়:
‘আইয়্যাম’ অর্থ দিন বা যুগ, আর ‘জাহেলিয়্যাহ’ অর্থ মূর্খতা ও অজ্ঞতা। সুতরাং ‘আইয়্যামে জাহেলিয়্যাহ’ অর্থ মূর্খতা বা অন্ধকারের যুগ। ঐতিহাসিকদের মতে, ইসলামপূর্ব আরবে মহানবী (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির আগের প্রায় ১০০ বা ২০০ বছরের সময়কালকে, যখন মানুষ একত্ববাদ ভুলে শিরক, কুসংস্কার ও ঘোর অন্ধকারের মধ্যে লিপ্ত ছিল, তাকেই আইয়্যামে জাহেলিয়্যাহ বলা হয়।

জাহিলি যুগে আরবের অবস্থা:

  1. সামাজিক অবস্থা (الحالة الاجتماعية):
    তৎকালীন আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল চরম অবক্ষয়গ্রস্ত। সমাজে কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়াকে চরম অপমানজনক মনে করা হতো এবং অনেক পাষণ্ড পিতা কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। নারীর কোনো সম্মান বা অধিকার ছিল না, তাদেরকে ভোগ্যপণ্য ও উত্তরাধিকার সম্পত্তি মনে করা হতো। দাসপ্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং দাস-দাসীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোত্রীয় যুদ্ধ বছরের পর বছর (যেমন- বুয়াস ও ফিজার যুদ্ধ) চলত।
  2. ধর্মীয় অবস্থা (الحالة الدينية):
    তারা হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর একত্ববাদের ধর্ম ভুলে গিয়ে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছিল। পবিত্র কাবা ঘরে তারা ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করেছিল (যেমন- হুবাল, লাত, মানাত, উযযা)। তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করলেও মূর্তিকে আল্লাহর অংশীদার বা মাধ্যম বানিয়েছিল। পরকাল, কিয়ামত এবং জান্নাত-জাহান্নামে তাদের কোনো বিশ্বাস ছিল না। এর পাশাপাশি গাছ, পাথর ও নক্ষত্রের পূজাও প্রচলিত ছিল।
  3. চারিত্রিক অবস্থা (الحالة الخلقية):
    জুয়া খেলা, মদ্যপান, ব্যভিচার ও লুটতরাজ ছিল তাদের দৈনন্দিন কাজ। সুদ প্রথা চরম আকার ধারণ করেছিল। তবে এতসব খারাপ গুণের পাশাপাশি তাদের মধ্যে কিছু ভালো গুণও ছিল; যেমন- চরম অতিথি পরায়ণতা, ওয়াদা রক্ষা করা, বীরত্ব, সাহসিকতা এবং অনর্গল কবিতা রচনার অদ্ভুত প্রতিভা।

٢- حرّر عن أهمّ الواقعات التي وقعت قبل وبعد مولد النبيّ صلّى الله عليه وسلّم-

[২. نবি (স) এর জন্মের পূর্বে ও পরে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ লেখ।]

জন্মের পূর্বে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ:
১. আসহাবুল ফীলের ঘটনা: নবীজির (সা.) জন্মের মাত্র ৫০ দিন (মতান্তরে ৫৫ দিন) পূর্বে ইয়েমেনের খ্রিষ্টান শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা ঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি পাঠিয়ে পাথর বর্ষণের মাধ্যমে সেই বিশাল বাহিনীকে সমূলে ধ্বংস করে দেন। যে বছর এ ঘটনা ঘটে, তাকে ‘আমুল ফীল’ (হাতির বছর) বলা হয়।
২. পিতার ইন্তেকাল: নবীজি (সা.) তখনো মাতৃগর্ভে (সম্ভবত ২ বা ৬ মাস বয়স), এমতাবস্থায় তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ সিরিয়া থেকে ব্যবসার কাজে ফেরার পথে মদিনায় অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেন। ফলে নবীজি (সা.) এতিম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন।

জন্মের পরে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ:
১. পবিত্র জন্ম ও অলৌকিকতা: ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল (সোমবার) প্রত্যুষে বিশ্বনবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের সাথে সাথে পারস্যের অগ্নিপূজকদের হাজার বছর ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিভে যায় এবং পারস্য সম্রাট কিসরার রাজপ্রাসাদে ভূমিকম্প হয়ে ১৪টি চূড়া ভেঙে পড়ে, যা ছিল নবীর আগমনের সুসংবাদ।
২. হালিমা সাদিয়ার গৃহে লালন-পালন: জন্মের কিছুদিন পর বনু সাদ গোত্রের ধাত্রী মা হালিমা সাদিয়া তাঁকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। নবীজির আগমনে হালিমার দরিদ্র সংসারে অভাবনীয় বরকত ও প্রাচুর্য নেমে আসে।
৩. বক্ষ বিদারণ (শাক্কে সদর): হালিমা সাদিয়ার গৃহে অবস্থানকালে (নবীজির ৪/৫ বছর বয়সে) একদিন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসে শিশু নবীর বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করেন এবং জমজমের পানি দিয়ে কলব (হৃদয়) ধুয়ে তা থেকে শয়তানের অংশ বের করে পবিত্র করে দেন।
৪. মাতা ও দাদার ইন্তেকাল: নবীজির বয়স যখন ৬ বছর, তখন তাঁর মাতা আমিনা ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব লালন-পালন করেন, কিন্তু ৮ বছর বয়সে দাদাও ইন্তেকাল করলে চাচা আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

٣- ما معنى الهجرة ثم بين سبب هجرة النبيّ صلّى الله عليه وسلّم من مكة إلى المدينة مع بيان واقعة الهجرة-

[৩. ہিজরত অর্থ কী? نবি (স) মক্কা হতে মদিনায় হিজরতের কারণ উল্লেখপূর্বক হিজরতের ঘটনা বর্ণনা কর।]

الهجرة (হিজরত) এর অর্থ:
হিজরত শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্পর্ক ছিন্ন করা, দেশ ত্যাগ করা বা এক স্থান ছেড়ে অন্য স্থানে যাওয়া। ইসলামি পরিভাষায়: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও দ্বীনকে রক্ষা এবং প্রচারের উদ্দেশ্যে কুফরের দেশ (মক্কা) ছেড়ে ইসলামের নিরাপদ স্থানে (মদিনায়) স্থানান্তর হওয়াকে হিজরত বলা হয়।

মক্কা হতে মদিনায় হিজরতের কারণ:
১. মক্কায় অবর্ণনীয় নির্যাতন: নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের ওপর মক্কার কুরাইশরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অবর্ণনীয় শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন চালায়, যা সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
২. তায়েফ ও মক্কায় ইসলাম প্রচারে বাধা: মক্কায় কেউ আর ইসলাম গ্রহণ করছিল না, তায়েফে গিয়েও নবীজি রক্তাত হয়ে ফিরেছিলেন। তাই দ্বীন প্রচারের জন্য নতুন ও নিরাপদ ভূমির প্রয়োজন ছিল।
৩. মদিনাবাসীর আমন্ত্রণ: মদিনা থেকে আগত লোকেরা আকাবার বায়আতের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করে এবং নবীজিকে মদিনায় গিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের আমন্ত্রণ জানায়।
৪. হত্যার ষড়যন্ত্র (প্রধান কারণ): সবশেষে, কুরাইশ নেতারা ‘দারুন নদওয়া’-তে বৈঠক করে নবীজিকে (সা.) সম্মিলিতভাবে হত্যা করার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র করে। তখন আল্লাহ তায়ালা ওহীর মাধ্যমে নবীজিকে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দেন।

হিজরতের ঘটনা:
কুরাইশরা যখন নবীজির ঘর ঘেরাও করে রাখে, তখন তিনি নিজের বিছানায় হযরত আলী (রা.)-কে শুইয়ে দিয়ে সুরা ইয়াসীনের আয়াত পড়ে কুরাইশদের চোখে ধুলো দিয়ে নিরাপদে বের হয়ে যান। তিনি হযরত আবু বকর (রা.)-কে সাথে নিয়ে মদিনার বিপরীত দিকে ‘সাওর’ পর্বতের গুহায় গিয়ে তিন দিন লুকিয়ে থাকেন। এরপর অত্যন্ত দুর্গম ও ভিন্ন পথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ সফর শেষে মদিনার নিকটবর্তী কুবায় পৌঁছান। সেখানে তিনি কয়েক দিন অবস্থান করে ইসলামের প্রথম মসজিদ (মসজিদে কুবা) নির্মাণ করেন। অবশেষে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে মদিনা শহরে প্রবেশ করেন, যেখানে মদিনাবাসী তাঁকে বিপুল আনন্দ ও সংবর্ধনার সাথে বরণ করে নেয়।

٤- تحدّث عن وثيقة المدينة مع بيان خمسة عشر مبدًا مهمًا منها بالتفصيل-

[৪. মদিনا সনদের পনেরটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাসহ এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]

وثيقة المدينة (মদিনা সনদ) সম্পর্কে আলোচনা:
হিজরতের পর মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন গোত্রের (মুহাজির, আনসার, ইহুদি এবং অন্যান্য পৌত্তলিক গোত্র) মাঝে পারস্পরিক শান্তি, সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং একটি সুশৃঙ্খল ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে মহানবী (সা.) যে ঐতিহাসিক লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, তাকে ‘মদিনা সনদ’ বলা হয়। ৪৭টি ধারা সংবলিত এই সনদটি পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত।

মদিনা সনদের ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ধারা (مبادئ مهمة):

  1. একক রাষ্ট্র গঠন: চুক্তিবদ্ধ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সম্প্রদায় মিলে মদিনায় একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করবে।
  2. রাষ্ট্রপ্রধান: এই স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক এবং সর্বোচ্চ বিচারক হবেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
  3. কুরাইশদের বর্জন: মক্কার কুরাইশ বা তাদের কোনো মিত্রকে মদিনায় আশ্রয় বা সাহায্য দেওয়া যাবে না।
  4. পবিত্র নগরী: মদিনা শহরকে পবিত্র (হারাম) ঘোষণা করা হলো। এর ভেতরে কোনো প্রকার রক্তপাত বা দাঙ্গাহাঙ্গামা করা নিষিদ্ধ।
  5. ধর্মীয় স্বাধীনতা: প্রত্যেক গোত্র স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করবে না।
  6. মিত্রদের অধিকার: ইহুদি বা মুসলিমদের সাথে চুক্তিবদ্ধ অন্য মিত্ররাও সমান সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা লাভ করবে।
  7. বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ: মদিনার ওপর বাইরের কোনো শত্রু আক্রমণ করলে চুক্তিবদ্ধ সকল গোত্র সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করবে।
  8. যুদ্ধ ও শান্তি: কোনো গোত্র প্রধানের অনুমতি ছাড়া আলাদাভাবে কারো সাথে যুদ্ধ বা শান্তি চুক্তি করতে পারবে না।
  9. বিরোধ নিষ্পত্তি: নিজেদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং তাঁর ফয়সালাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
  10. অপরাধীর শাস্তি: অপরাধীর অপরাধ ব্যক্তিগত বলে গণ্য হবে। এর জন্য তার গোত্র বা পরিবারকে দায়ী করা যাবে না।
  11. আশ্রয় নিষিদ্ধ: কোনো খুনি, চোর বা অপরাধীকে কেউ কোনো প্রকার আশ্রয় বা প্রশ্রয় দিতে পারবে না।
  12. যুদ্ধের ব্যয়ভার: রাষ্ট্রের সুরক্ষায় যুদ্ধ সংঘটিত হলে সকল গোত্র আনুপাতিক হারে এর ব্যয়ভার বহন করবে।
  13. দুর্বলদের অধিকার: সমাজে যারা দুর্বল, এতিম ও অসহায়, রাষ্ট্র তাদের সাহায্য ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।
  14. অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা: মদিনার ভেতরের কেউ কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা বিদ্রোহ করলে সকলে মিলে তাকে দমন করবে।
  15. ভ্রাতৃত্ববোধ: সকল মুসলিম একে অপরের ভাই হিসেবে গণ্য হবে এবং বিপদে একে অপরের সাহায্যকারী হবে।

٥- عرّف الغزوة ثم تحدّث عن غزوة أحد مع ذكر العبر التي تعلمها المسلمون من هذه الغزوة-

[৫. غزوة এর পরিচয় দাও। অতঃপর أحد غزوة সম্পর্কে আলোচনাপূর্বক এ غزوة হতে মুসলমানদের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো উল্লেখ কর।]

الغزوة (গাযওয়া) এর পরিচয়:
‘গাযওয়া’ শব্দের আভিধানিক অর্থ যুদ্ধ বা অভিযান। ইসলামি পরিভাষায়- ইসলামের প্রতিরক্ষায় যে যুদ্ধে রাসুল (সা.) স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নিজে সেনাপতিত্ব বা সৈন্য পরিচালনা করেছেন, তাকে গাযওয়া বলা হয়। (যেমন- গাযওয়ায়ে বদর, উহুদ, খন্দক ইত্যাদি)।

غزوة أحد (উহুদ যুদ্ধ) সম্পর্কে আলোচনা:
বদরের যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর মক্কার কুরাইশরা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল। অবশেষে ৩য় হিজরির শাওয়াল মাসে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে তিন হাজার সুসজ্জিত কাফির সৈন্য মদিনা আক্রমণ করে এবং উহুদ পাহাড়ের প্রান্তরে শিবির স্থাপন করে। মহানবী (সা.) এক হাজার সাহাবি নিয়ে উহুদের দিকে রওনা হন, কিন্তু পথিমধ্যে মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তার ৩০০ লোক নিয়ে ফিরে যায়। ফলে মাত্র ৭০০ সাহাবি নিয়ে নবীজি উহুদ প্রান্তরে কাফিরদের মোকাবিলা করেন।
নবীজি (সা.) পেছন দিক সুরক্ষিত রাখার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজকে পাহাড়ের একটি ঘাঁটিতে নিযুক্ত করেন এবং নির্দেশ দেন- “আমরা জয়ী হই বা পরাজিত হই, কোনো অবস্থাতেই তোমরা আমার নির্দেশ ছাড়া এ স্থান ত্যাগ করবে না।” যুদ্ধ শুরু হলে মুসলিমদের বীরত্বে কাফিররা পালাতে শুরু করে। তা দেখে তীরন্দাজদের বড় অংশ মনে করল যুদ্ধ শেষ, তাই তারা গনিমত কুড়ানোর জন্য ঘাঁটির স্থান ত্যাগ করে নিচে নেমে আসে। এই সুযোগে খালিদ বিন ওয়ালিদের (যিনি তখনো মুসলিম হননি) নেতৃত্বে কাফির অশ্বারোহী বাহিনী পেছন দিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ করে। ফলে মুসলিমরা চরম বিপর্যয়ে পড়ে। এই যুদ্ধে নবীজির (সা.) দান্দান মোবারক (দাঁত) শহীদ হয় এবং হযরত হামজা (রা.) সহ ৭০ জন শ্রেষ্ঠ সাহাবি শহীদ হন।

উহুদ গাযওয়া থেকে শিক্ষণীয় বিষয় (العبر):
১. নেতৃত্বের আনুগত্য: নেতার (রাসুল সা.) নির্দেশের সামান্যতম অবাধ্যতা বা অমান্য করার পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে, তা এ যুদ্ধ থেকে শিক্ষণীয়।
২. দুনিয়ার মোহ ত্যাগ: দুনিয়ার সম্পদের (গনিমতের) প্রতি মোহ থাকা মুমিনের জন্য ক্ষতিকর, এটি জয়ের পথ রুদ্ধ করে দেয়।
৩. সবর ও পরীক্ষা: পরাজয় বা চরম বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য (সবর) ধারণ করতে হয়। আল্লাহ মুমিনদের ঈমানের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন।
৪. মুনাফিকদের চক্রান্ত: সমাজের ভেতরে থাকা মুনাফিকদের (যেমন- ইবনে উবাই) ধোঁকাবাজি সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে, তারা সুসময়ের বন্ধু কিন্তু দুঃসময়ে পিঠ দেখায়।

٦- تحدّث عن فتح خيبر بالتفصيل-

[৬. খায়বার বিজয় সম্পর্কে বিস্তারিত লেখ।]

فتح خيبر (খায়বার বিজয়) এর বিস্তারিত আলোচনা:

খায়বারের পরিচয় ও পটভূমি:
মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল উত্তরে অবস্থিত একটি উর্বর ও সুরক্ষিত কৃষিপ্রধান অঞ্চল ছিল ‘খায়বার’। মদিনা থেকে বিতাড়িত ইহুদিরা এবং খায়বারের নিজস্ব ইহুদিরা মিলে এটি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল। খন্দক যুদ্ধসহ সব ষড়যন্ত্রে তারা মক্কার কুরাইশদের ইন্ধন জোগাত। ৭ম হিজরিতে ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’র পর কুরাইশদের দিক থেকে কিছুটা নিরাপদ হয়ে নবীজি (সা.) খায়বারের ইহুদিদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অবরোধ ও যুদ্ধ:
নবীজি (সা.) মাত্র ১৬০০ সাহাবি (যাঁরা হুদায়বিয়ায় ছিলেন) নিয়ে খায়বারের দিকে রওনা হন এবং আকস্মিকভাবে তা অবরোধ করেন। খায়বারে ইহুদিদের ৬-৭টি অত্যন্ত মজবুত ও শক্তিশালী দুর্গ ছিল। মুসলিমরা ২০ দিন ধরে অবরোধ বজায় রাখেন এবং বীরত্বের সাথে আক্রমণ করে একে একে ‘নায়েম’, ‘সায়াব’, ‘শেক’ ইত্যাদি দুর্গগুলো জয় করতে থাকেন।

কামুস দুর্গ বিজয় ও হযরত আলীর (রা.) বীরত্ব:
খায়বারের সবচেয়ে বড় ও দুর্ভেদ্য দুর্গটির নাম ছিল ‘কামুস’। এটি কোনোভাবেই জয় করা যাচ্ছিল না। তখন নবীজি (সা.) ঘোষণা দিলেন, “আগামীকাল আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দেব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তার হাতেই বিজয় দান করবেন।” পরদিন নবীজি (সা.) হযরত আলী (রা.)-কে ডেকে তাঁর হাতে পতাকা তুলে দেন। হযরত আলী (রা.) অসীম সাহসিকতার সাথে আক্রমণ করেন। ইহুদিদের সবচেয়ে বড় ও ভয়ঙ্কর বীর ‘মারহাব’ দ্বৈরথ যুদ্ধের আহ্বান জানালে হযরত আলী (রা.) জুলফিকার নামক তরবারি দিয়ে এক কোপে তাকে দ্বিখণ্ডিত করে দেন। এরপর তিনি দুর্গের বিশাল দরজা নিজের হাতে উপড়ে ফেলে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন এবং মুসলিমরা দুর্গে প্রবেশ করে তা জয় করে নেয়।

ফলাফল ও সন্ধি:
কামুস দুর্গের পতনের পর ইহুদিদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং তারা প্রাণভিক্ষা চেয়ে সন্ধির প্রস্তাব দেয়। নবীজি (সা.) তাদের এই শর্তে সেখানে থাকার অনুমতি দেন যে, তারা খায়বারের জমি চাষাবাদ করবে এবং উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক মদিনায় মুসলিমদের বুঝিয়ে দেবে। খায়বার বিজয়ের মাধ্যমে আরবে ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটন হয় এবং মুসলিম সাম্রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে চরম সমৃদ্ধি লাভ করে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]

٧- اكتب نتائج غزوة بدر بالاختصار-

[৭. بدر غزوة এর ফলাফল সংক্ষেপে লেখ।]

বদর যুদ্ধের ফলাফল (نتائج غزوة بدر):
২য় হিজরির ১৭ রমজান সংঘটিত ইসলামের প্রথম সশস্ত্র ও নির্ধারক যুদ্ধ ‘গাযওয়ায়ে বদর’ এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী:
১. চূড়ান্ত বিজয়: মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র মুজাহিদ আল্লাহর সাহায্যে ১০০০ জন সুসজ্জিত কাফির সেনাকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে।
২. নেতৃত্বের পতন: মক্কার কুরাইশদের বড় বড় সর্দার যেমন- আবু জাহল, উতবা, শায়বাসহ ৭০ জন কাফির নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে মাত্র ১৪ জন মুসলিম শহীদ হন।
৩. শক্তির উত্থান: এই অভাবনীয় বিজয়ের ফলে মদিনায় মুসলিমদের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আরবে মুসলমানদের এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৪. ঈমানের প্রেরণা: বদরের বিজয় মুসলিমদের ঈমান ও মনোবলকে সুদৃঢ় করে এবং প্রমাণ করে যে, সত্যের পথে সংখ্যা বা অস্ত্র নয়, আল্লাহর সাহায্যই বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।

٨- تحدث عن حلف الفضول-

[৮. حلف الفضول সম্পর্কে আলোচনা কর।]

حلف الفضول (হিলফুল ফুজুল):
নবীজির (সা.) বয়স যখন ১৫ (মতান্তরে ২০) বছর, তখন মক্কায় ‘হারবুল ফিজার’ বা ফিজার নামক এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা দীর্ঘ ৫ বছর স্থায়ী ছিল। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং মক্কায় আগত ভিনদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর চরম অন্যায়-অবিচার দেখে নবীজি (সা.) গভীরভাবে ব্যথিত হন。
তখন তিনি মক্কার শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করা এবং মজলুমকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে একটি সেবামূলক সংগঠন তৈরি করেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘হিলফুল ফুজুল’ (কল্যাণকামী জোট)।
এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো ছিল: ১. দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ২. দুর্বল ও মজলুমের সাহায্য করা, ৩. ظালিমকে (অত্যাচারী) প্রতিহত করা, এবং ৪. মক্কায় আগত বিদেশি ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নবীজি (সা.) আজীবন এই সংগঠনের মহৎ কাজ নিয়ে গর্ব করতেন।

٩- تحدّث عن الهجرة الأولى إلى الحبشة-

[৯. আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত সম্পর্কে আলোচনা কর।]

الهجرة الأولى إلى الحبشة (আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত):
ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে মক্কায় যখন নওমুসলিমদের ওপর কুরাইশদের অমানবিক নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে, তখন তাদের জীবন ও ধর্ম রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন নবুয়তের ৫ম বর্ষে (৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে) নবীজি (সা.) এর নির্দেশে একটি ছোট কাফেলা আবিসিনিয়ায় (বর্তমান ইথিওপিয়া/হাবশা) হিজরত করেন।
কারণ: আবিসিনিয়ার তৎকালীন খ্রিষ্টান রাজা ‘নাজ্জাশি’ ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু শাসক। নবীজি জানতেন সেখানে গেলে মুসলিমরা নিরাপদে ধর্ম পালন করতে পারবে।
কাফেলার সদস্য: এই কাফেলায় মোট ১৫ জন সাহাবি ছিলেন (১১ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী)। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হযরত উসমান (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী, নবীজির কন্যা হযরত রুকাইয়া (রা.)। এটিই ছিল ইসলামের ইতিহাসে ঈমান রক্ষার জন্য সংঘটিত প্রথম হিজরত।

١٠- تحدّث عن أهل بيت النبيّ صلّى الله عليه وسلّم وأولاده-

[১০. নবি (স) এর পরিবার ও সন্তানাদি সম্পর্কে আলোচনা কর।]

أهل بيت النبي وأولاده (নবীজির পরিবার ও সন্তানাদি):
স্ত্রীগণ (উম্মাহাতুল মুমিনিন): নবীজির (সা.) সম্মানিত স্ত্রীগণকে ‘উম্মাহাতুল মুমিনিন’ (মুমিনদের মাতা) বলা হয়। তাঁর জীবনে মোট ১১ জন স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- হযরত খাদিজা, হযরত সাওদা, হযরত আয়েশা, হযরত হাফসা, হযরত উম্মে সালামা, হযরত জয়নব বিনতে জাহশ (রা.) প্রমুখ। ইন্তেকালের সময় তাঁর ৯ জন স্ত্রী জীবিত ছিলেন।
সন্তানাদি (أولاده): নবীজির (সা.) মোট ৭ জন সন্তান ছিলেন- ৩ জন ছেলে এবং ৪ জন মেয়ে।
* ছেলে ৩ জন: কাসিম, আব্দুল্লাহ (উপাধি- তৈয়ব ও তাহের) এবং ইবরাহিম। আল্লাহর হুকুমে তাঁর সব ছেলে শিশু বয়সেই ইন্তেকাল করেন।
* মেয়ে ৪ জন: জয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা (রা.)।
নবীজির সর্বকনিষ্ঠ ছেলে ইবরাহিম (মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে) ছাড়া তাঁর বাকি ৬ জন সন্তানই প্রথমা স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.)-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। নবীজির ইন্তেকালের পর তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেবল হযরত ফাতিমা (রা.) ছয় মাস জীবিত ছিলেন।

١١- تحدّث عن بيعة العقبة-

[১১. بيعة عقبة সম্পর্কে আলোচনা কর।]

بيعة العقبة (আকাবার বায়আত):
নবুয়তের একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ বর্ষে হজের মৌসুমে মদিনা (তৎকালীন ইয়াসরিব) থেকে আগত কিছু তীর্থযাত্রী মক্কার অদূরে মিনার ‘আকাবা’ নামক একটি নির্জন ঘাঁটিতে গোপনে নবীজির (সা.) সাথে সাক্ষাৎ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ বা বায়আত নেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই ‘আকাবার বায়আত’ নামে পরিচিত।
এটি প্রধানত দুটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়:
১. প্রথম আকাবার বায়আত (নবুয়তের ১২তম বর্ষে): মদিনার ১২ জন লোক নবীজির কাছে এসে চুরি, ব্যভিচার, সন্তান হত্যা না করা ইত্যাদির শপথ নেন।
২. দ্বিতীয় আকাবার বায়আত (নবুয়তের ১৩তম বর্ষে): মদিনার ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী গোপনে নবীজির সাথে মিলিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁরা নবীজিকে মদিনায় হিজরতের আমন্ত্রণ জানান এবং নিজেদের স্ত্রী-সন্তানের মতো নিজেদের জীবনের বিনিময়ে নবীজিকে মদিনায় সর্বাত্মক সুরক্ষা দেওয়ার রক্তশপথ গ্রহণ করেন। এই বায়আতই মূলত হিজরতের পথ সুগম করেছিল।

١٢- تحدث عن حجة الوداع-

[১২. বিদায় হজ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

حجة الوداع (বিদায় হজ):
১০ম হিজরিতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের শেষ এবং একমাত্র হজ পালন করেন। এরপর তিনি আর হজ করার সুযোগ পাননি এবং এই হজেই তিনি উপস্থিত উম্মতের কাছ থেকে একপ্রকার চিরবিদায় নেন। তাই ইতিহাসে এটি ‘হাজ্জাতুল বিদা’ বা বিদায় হজ নামে পরিচিত।
এই ঐতিহাসিক হজে প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার (বা ১ লক্ষ ৪৪ হাজার) সাহাবি অংশগ্রহণ করেন। ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে জাবালে রহমতের পাদদেশে দাঁড়িয়ে নবীজি (সা.) তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ এবং কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেন (খুতবাতুল বিদা)।
এই ভাষণে তিনি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর অধিকার ও সম্মান নিশ্চিতকরণ, জাহিলি যুগের সব কুসংস্কার ও রক্তের বদলা বাতিল, সুদ প্রথা চিরতরে হারাম ঘোষণা এবং মুসলমানের জান-মালের পবিত্রতা ঘোষণা করেন। পরিশেষে তিনি উম্মতের হেদায়েতের জন্য আল-কুরআন ও তাঁর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়ে তাঁর দ্বীন প্রচারের দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now