Computer Literacy (Code: 201207) – ২০২০ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের Computer Literacy (কম্পিউটার লিটারেসি) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
ক বিভাগ – রচনামূলক প্রশ্ন
[What is computer? Discuss the classification of personal computer with example.]
কম্পিউটার কী:
‘Computer’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Computare’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হিসাব করা বা গণনা করা। আভিধানিক অর্থে কম্পিউটার হলো একটি গণনাকারী যন্ত্র। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার শুধু গণনাকারী যন্ত্র নয়; এটি এমন একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর দেওয়া উপাত্ত বা তথ্য (Data) ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে, মেমোরিতে সংরক্ষণ করে, গাণিতিক ও যুক্তিমূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা প্রক্রিয়াজাত (Process) করে এবং অতি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল (Output) প্রদান করে।
পার্সোনাল কম্পিউটারের (PC) প্রকারভেদ:
যে কম্পিউটার সাধারণত একজন ব্যক্তির একক ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়, তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি (Personal Computer) বলে। এটি প্রধানত নিম্নলিখিত প্রকারের হয়ে থাকে:
- ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer): এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে একটি ডেস্ক বা টেবিলের ওপর রেখে স্থায়ীভাবে ব্যবহার করা যায়। এর মনিটর, কীবোর্ড, মাউস এবং সিস্টেম ইউনিট আলাদা থাকে। উদাহরণ: সাধারণ অফিস বা বাসায় ব্যবহৃত কম্পিউটার।
- ল্যাপটপ (Laptop): এটি আকারে ছোট, হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য একটি পার্সোনাল কম্পিউটার। এর মনিটর, কীবোর্ড এবং টাচপ্যাড একই ইউনিটের সাথে যুক্ত থাকে এবং এটি ব্যাটারির সাহায্যে চলতে পারে।
- নোটবুক (Notebook): এটি ল্যাপটপের মতোই, তবে আকারে ল্যাপটপের চেয়েও ছোট এবং ওজনে আরও হালকা। মূলত ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং ছোটখাটো কাজের জন্য এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
- ট্যাবলেট পিসি (Tablet PC): এটি বই বা স্লেটের আকৃতির স্পর্শকাতর স্ক্রিন (Touch Screen) বিশিষ্ট একটি পিসি। এতে সাধারণত কোনো বাহ্যিক কীবোর্ড থাকে না, অন-স্ক্রিন কীবোর্ড ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ: Apple iPad, Samsung Galaxy Tab।
- স্মার্টফোন (Smartphone): আধুনিক স্মার্টফোনগুলোও এক প্রকার মিনি পার্সোনাল কম্পিউটার। এতে সাধারণ কলের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, ছবি তোলা ও নানা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যায়।
[Write down about OCR, OMR and Printer in brief.]
OCR (Optical Character Reader):
এটি একটি বিশেষ ধরনের ইনপুট ডিভাইস, যা মুদ্রিত বা হাতে লেখা অক্ষর (Character) অপটিক্যাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পড়তে পারে এবং তা কম্পিউটারের বোধগম্য ডিজিটাল বা এডিটযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করে। এর মাধ্যমে যেকোনো বইয়ের পাতা বা দলিল স্ক্যান করে তা টেক্সট ফাইল হিসেবে সংরক্ষণ করা যায় এবং পরে তা এমএস ওয়ার্ডে এডিট করা যায়।
OMR (Optical Mark Reader):
এটি এমন একটি জনপ্রিয় ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজে পেন্সিল বা কালির সাহায্যে ভরাট করা বৃত্তাকার বা ডিম্বাকার দাগগুলো স্ক্যান করে পড়তে পারে। ওএমআর মেশিন আলোর প্রতিফলনের নীতি ব্যবহার করে কাজ করে। এটি মূলত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) এর উত্তরপত্র দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
Printer (প্রিন্টার):
প্রিন্টার হলো কম্পিউটারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আউটপুট ডিভাইস। এর সাহায্যে কম্পিউটারে প্রক্রিয়াজাত ফলাফল, টেক্সট, গ্রাফিক্স বা ছবি কাগজের ওপর স্থায়ীভাবে ছাপানো (Hard copy) হয়। প্রিন্টার প্রধানত দুই প্রকার: ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার (যেমন- ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার, যা কাগজে আঘাত করে ছাপায়) এবং নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার (যেমন- ইঙ্কজেট ও লেজার প্রিন্টার, যা শব্দহীনভাবে কালির স্প্রে বা লেজার রশ্মির মাধ্যমে ছাপায়)।
[What do you mean by device? Write what you know about the input device.]
ডিভাইস কী:
কম্পিউটার সিস্টেমে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্র বা যন্ত্রাংশকে ডিভাইস (Device) বলা হয়। ডিভাইসগুলোর মাধ্যমেই ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং কম্পিউটারের ভেতরে ও বাইরে তথ্য আদান-প্রদান করে।
ইনপুট ডিভাইস:
যে সকল যন্ত্রপাতির সাহায্যে ব্যবহারকারী কম্পিউটারে কোনো উপাত্ত (Data) বা নির্দেশ (Instruction) প্রবেশ করায়, তাদেরকে ইনপুট ডিভাইস বলে। ইনপুট ডিভাইসগুলো মানুষের বোধগম্য ভাষাকে কম্পিউটারের বোধগম্য (মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ) ভাষায় রূপান্তর করে সিপিইউ-তে পাঠায়।
কয়েকটি প্রধান ইনপুট ডিভাইসের বর্ণনা:
- কীবোর্ড (Keyboard): এটি কম্পিউটারের সবচেয়ে সাধারণ ও বহুল ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইস। এর বোতামগুলো চেপে কম্পিউটারে টেক্সট টাইপ করা হয় এবং নানা নির্দেশ দেওয়া হয়।
- মাউস (Mouse): এটি একটি পয়েন্টিং ডিভাইস। স্ক্রিনে কার্সর নাড়াচাড়া করে কোনো মেনু বা আইকন নির্বাচন করতে এবং নির্দেশ দিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
- স্ক্যানার (Scanner): এটি যেকোনো ছবি বা মুদ্রিত ডকুমেন্টকে স্ক্যান করে হুবহু ডিজিটাল কপিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।
- মাইক্রোফোন (Microphone): এর সাহায্যে শব্দ বা ভয়েসকে ডিজিটাল অডিও ইনপুট হিসেবে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো যায়।
- বারকোড রিডার (Barcode Reader): এটি বিভিন্ন পণ্যের গায়ে থাকা বারকোড (কালো দাগ) স্ক্যান করে পণ্যের তথ্য কম্পিউটারে পাঠায়, যা সুপারশপে বেশি ব্যবহৃত হয়।
[What is worksheet? Describe how to make a worksheet.]
ওয়ার্কশীট কী:
মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) বা স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের যে বিশাল পৃষ্ঠায় সারি (Row) এবং কলাম (Column)-এর সমন্বয়ে গঠিত অসংখ্য ছোট ছোট ঘর (Cell) থাকে এবং যেখানে গাণিতিক হিসাব-নিকাশ বা তথ্য বিন্যাস করা হয়, তাকে ওয়ার্কশীট (Worksheet) বলে। একটি এক্সেল ফাইলে বা ওয়ার্কবুকে ডিফল্টভাবে একাধিক ওয়ার্কশীট থাকতে পারে।
কীভাবে একটি ওয়ার্কশীট তৈরি করা যায়:
একটি নতুন ওয়ার্কশীট তৈরি করার পদ্ধতি নিচে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:
- প্রথমে কম্পিউটারের ‘Start’ মেনু থেকে ‘Microsoft Excel’ প্রোগ্রামটি চালু করতে হবে।
- এক্সেল চালু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নতুন ‘Blank Workbook’ বা ওয়ার্কবুক তৈরি হয়। এর নিচের দিকে ডিফল্টভাবে ‘Sheet1’ নামে একটি ওয়ার্কশীট থাকে।
- একটি নতুন ওয়ার্কশীট তৈরি করতে চাইলে, নিচে থাকা ‘Sheet1’ ট্যাবের ডানপাশের প্লাস (+) আইকনে (অথবা Insert Worksheet বাটনে) ক্লিক করতে হবে।
- সাথে সাথে ‘Sheet2’ নামে একটি নতুন খালি ওয়ার্কশীট যুক্ত হবে।
- ওয়ার্কশীটের নাম পরিবর্তন করতে চাইলে ‘Sheet2’ ট্যাবের ওপর রাইট-ক্লিক করে ‘Rename’ নির্বাচন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নতুন নাম টাইপ করে এন্টার চাপতে হবে।
- এরপর কলাম (A, B, C…) ও সারির (1, 2, 3…) সমন্বয়ে গঠিত সেলগুলোতে (যেমন- A1, B2) প্রয়োজনীয় ডেটা বা সূত্র (Formula) টাইপ করে হিসাব-নিকাশের কাজ শুরু করা যায়।
[What do you mean by the base of number system? Discuss in detail with example.]
সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি (Base of Number System):
কোনো একটি সংখ্যা পদ্ধতিতে সংখ্যা গণনার জন্য ব্যবহৃত মোট মৌলিক অঙ্ক (Digit) বা প্রতীকসমূহের সমষ্টিকে ওই সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বা বেস (Base) বলা হয়। বেস দেখে সহজেই বোঝা যায় একটি সংখ্যা কোন পদ্ধতির অন্তর্গত। বেসকে সাধারণত সংখ্যাটির ডানপাশে নিচে সাবস্ক্রিপ্ট আকারে লেখা হয়।
উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা:
কম্পিউটার বিজ্ঞানে প্রধানত চার ধরনের সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। নিচে এদের ভিত্তিসহ আলোচনা করা হলো:
- দশমিক (Decimal) সংখ্যা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ মোট ১০টি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়। তাই এর ভিত্তি হলো ১০। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গণনার পদ্ধতি। উদাহরণ: (১২৫)১০।
- বাইনারি (Binary) সংখ্যা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে কেবল ০ এবং ১- এই ২টি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়। তাই এর ভিত্তি হলো ২। কম্পিউটার অভ্যন্তরীণ সব কাজ এই বাইনারি পদ্ধতিতেই করে। উদাহরণ: (১০১০১)২।
- অক্টাল (Octal) সংখ্যা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত মোট ৮টি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়। তাই এর ভিত্তি হলো ৮। উদাহরণ: (৪৫৭)৮।
- হেক্সাডেসিমাল (Hexadecimal) সংখ্যা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত ১০টি অঙ্ক এবং A, B, C, D, E, F মোট ৬টি ইংরেজি বর্ণ- সর্বমোট ১৬টি প্রতীক ব্যবহার করা হয়। তাই এর ভিত্তি হলো ১৬। এখানে A=১০, B=১১, C=১২ ইত্যাদি। উদাহরণ: (3A9F)১৬।
[What is e-mail address? Describe the process of making e-mail.]
ই-মেইল এ্যাড্রেস কী:
ই-মেইল (E-mail) এর পূর্ণরূপ হলো Electronic Mail বা ইলেকট্রনিক চিঠি। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ডিজিটাল চিঠি আদান-প্রদান করার জন্য ব্যবহারকারীর যে একটি নির্দিষ্ট ও অদ্বিতীয় ঠিকানা থাকে, তাকে ই-মেইল অ্যাড্রেস বলে। একটি ই-মেইল অ্যাড্রেসের দুটি অংশ থাকে, যা ‘@’ (অ্যাট) চিহ্ন দ্বারা যুক্ত থাকে। যেমন: example@gmail.com। এখানে ‘example’ হলো ইউজার নেম এবং ‘gmail.com’ হলো ডোমেইন নেম।
ই-মেইল করার পদ্ধতি:
কম্পিউটার থেকে একটি ই-মেইল পাঠানোর পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:
- প্রথমে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে একটি ওয়েব ব্রাউজার (যেমন- Google Chrome) চালু করতে হবে।
- ই-মেইল সেবাদানকারী ওয়েবসাইটে (যেমন- www.gmail.com) গিয়ে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে ‘Log in’ করতে হবে।
- লগইন করার পর নতুন ই-মেইল লেখার জন্য স্ক্রিনের বাম পাশে থাকা ‘Compose’ বা ‘New Mail’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
- একটি নতুন উইন্ডো খুলবে। এর ‘To’ ঘরে প্রাপকের (যাকে মেইল পাঠানো হবে তার) সঠিক ই-মেইল অ্যাড্রেসটি টাইপ করতে হবে।
- ‘Subject’ ঘরে ই-মেইলের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে এক লাইনে লিখতে হবে।
- নিচের বড় ফাঁকা টেক্সট বক্সে ই-মেইলের মূল মেসেজ বা বিস্তারিত বার্তাটি লিখতে হবে।
- যদি বার্তার সাথে কোনো ছবি বা ফাইল পাঠাতে হয়, তবে নিচে থাকা ‘Attach File’ (পেপারক্লিপ আইকন) এ ক্লিক করে কম্পিউটার থেকে ফাইলটি যুক্ত করতে হবে।
- সবকিছু লেখা ও যুক্ত করা শেষ হলে নীল রঙের ‘Send’ বাটনে ক্লিক করলেই ই-মেইলটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রাপকের কাছে পৌঁছে যাবে।
খ বিভাগ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
[What are the differences between hardware and software?]
হার্ডওয়্যার:
কম্পিউটারের যে সকল ভৌত বা ফিজিক্যাল যন্ত্রপাতি চোখে দেখা যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়, তাকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন- কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি। হার্ডওয়্যার নিজে নিজে কোনো কাজ করতে পারে না। সফটওয়্যারের নির্দেশ ছাড়া হার্ডওয়্যার একটি প্রাণহীন মৃত দেহের মতো। এটি তৈরির উপাদান হলো বিভিন্ন মেটাল, প্লাস্টিক ও সার্কিট।
সফটওয়্যার:
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সচল ও কার্যোপযোগী করার জন্য যে সকল প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টি ব্যবহার করা হয়, তাকে সফটওয়্যার বলে। যেমন- উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, এমএস ওয়ার্ড, ফটোশপ ইত্যাদি। সফটওয়্যার চোখে দেখা যায় না বা হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না, তবে কাজ অনুভব করা যায়। সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণ। এটি তৈরির উপাদান হলো বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা ও কোড।
[Narrate the functions of CPU.]
CPU (Central Processing Unit) বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক। কম্পিউটারের যাবতীয় কার্যাবলি সিপিইউ নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
- ইনপুট ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত বা ডেটা গ্রহণ করা।
- মেমোরি থেকে নির্দেশাবলি (Instructions) সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ বা ডিকোড করা।
- গাণিতিক যুক্তি অংশের (ALU) মাধ্যমে সব ধরনের গাণিতিক (যোগ, বিয়োগ ইত্যাদি) ও যুক্তিমূলক (তুলনামূলক) কাজ সম্পন্ন করা।
- প্রক্রিয়াজাত ফলাফলকে মেমোরিতে সংরক্ষণ করা বা আউটপুট ডিভাইসে পাঠানো।
- কম্পিউটারের অন্যান্য সকল হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ করা।
[Describe the method of document printing.]
কম্পিউটারে তৈরিকৃত কোনো ডকুমেন্টকে প্রিন্টারের সাহায্যে কাগজে ছাপানোর (মুদ্রণ) পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
- প্রথমে কম্পিউটারের সাথে প্রিন্টারের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে, প্রিন্টার অন করতে হবে এবং প্রিন্টারে কাগজ দিতে হবে।
- এমএস ওয়ার্ড বা অন্য কোনো প্রোগ্রামে যে ডকুমেন্টটি প্রিন্ট করতে হবে, তা খুলতে হবে।
- উইন্ডোর ওপরের ফাইল (File) মেনু থেকে ‘Print’ অপশনে ক্লিক করতে হবে (অথবা শর্টকাট হিসেবে কীবোর্ডে Ctrl + P চাপতে হবে)।
- স্ক্রিনে একটি Print ডায়ালগ বক্স আসবে। সেখান থেকে সংযুক্ত প্রিন্টারের নাম নির্বাচন করতে হবে।
- কতগুলো কপি লাগবে (Copies) এবং কোন কোন পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে হবে (All, Current Page, বা নির্দিষ্ট Pages), তা নির্ধারণ করতে হবে।
- সবশেষে ডায়ালগ বক্সের ‘Print’ বা ‘OK’ বাটনে ক্লিক করলেই প্রিন্টার ডকুমেন্টটি ছাপানো শুরু করবে।
[What is hard disk? Describe its functions.]
হার্ড ডিস্ক (Hard Disk):
হার্ড ডিস্ক হলো কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান স্থায়ী স্টোরেজ ডিভাইস (Secondary Memory)। এটি একটি চুম্বকীয় চাকতি (Platter)-এর সমন্বয়ে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের বাক্স, যা বিপুল পরিমাণ ডেটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে পারে। কম্পিউটার বন্ধ করলে বা বিদ্যুৎ চলে গেলেও এর ভেতরের ডেটা মুছে যায় না।
কার্যাবলি:
- অপারেটিং সিস্টেম (যেমন- উইন্ডোজ) এবং কম্পিউটারের অন্যান্য সকল সফটওয়্যার হার্ড ডিস্কেই ইন্সটল করা থাকে।
- ব্যবহারকারীর তৈরিকৃত সকল ফাইল, ডকুমেন্ট, অডিও, ভিডিও, গেমস ইত্যাদি স্থায়ীভাবে জমা রাখে।
- এটি ভার্চুয়াল মেমোরি হিসেবেও কাজ করে এবং প্রয়োজনে কম্পিউটারকে (র্যামকে) দ্রুত ডেটা সরবরাহ করে কাজের গতি বাড়ায়।
[What is Laptop computer? Write its five characteristics.]
ল্যাপটপ (Laptop):
ল্যাপটপ হলো একটি ছোট, হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য পার্সোনাল কম্পিউটার, যা সাধারণত কোলের ওপর (Lap) রেখে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এতে ডেস্কটপের মতো আলাদা মনিটর বা কীবোর্ড থাকে না, সবকিছু একটি ভাঁজযোগ্য ইউনিটে থাকে।
ল্যাপটপের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য:
- এটি ওজনে হালকা এবং আকারে ছোট হওয়ায় সহজেই ব্যাগে করে যেকোনো স্থানে বহন করা যায়।
- এতে রিচার্জেবল ব্যাটারি যুক্ত থাকে, ফলে সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও দীর্ঘক্ষণ কাজ করা যায়।
- এর মনিটর, কীবোর্ড, টাচপ্যাড (মাউসের বিকল্প), স্পিকার এবং ওয়েবক্যাম একই কাঠামোর সাথে যুক্ত থাকে।
- ডেস্কটপের তুলনায় এটি অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
- ভ্রমণরত অবস্থায় বা বৈদ্যুতিক সংযোগহীন যেকোনো স্থানে বসে ব্যক্তিগত বা অফিশিয়াল কাজ করার জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।
[Write down about keyboard port.]
কীবোর্ড পোর্ট:
কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের সাথে কীবোর্ডকে সংযুক্ত করার জন্য সিস্টেম ইউনিটের পেছনে বা পাশে যে নির্দিষ্ট সকেট বা কানেক্টর থাকে, তাকে কীবোর্ড পোর্ট বলে। এই পোর্টের মাধ্যমেই কীবোর্ডের সিগন্যাল কম্পিউটারে পৌঁছায়।
পোর্টের ধরন:
- PS/2 পোর্ট: এটি পুরোনো মডেলের কম্পিউটারে ব্যবহৃত হতো। এটি সাধারণত গোলাকার এবং ৬-পিনের হয়ে থাকে। কীবোর্ডের জন্য এই পোর্টের রঙ সাধারণত বেগুনি (Purple) হয়।
- USB পোর্ট: বর্তমানে প্রায় সব কীবোর্ডই USB (Universal Serial Bus) পোর্টের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। এটি আয়তাকার এবং ডেটা ট্রান্সফারে দ্রুতগতি সম্পন্ন।
- ওয়্যারলেস/ব্লুটুথ পোর্ট: তারবিহীন কীবোর্ড যুক্ত করতে USB পোর্টে একটি ছোট ব্লুটুথ রিসিভার বা ডঙ্গল লাগানো হয়, যা কীবোর্ডের সিগন্যাল গ্রহণ করে।






