[ফাযিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি
বিষয় কোড: ২ ० ১ ১ ० ৬
সময়—৪ ঘণ্টা
পূর্ণমান—৮০
[দ্রষ্টব্য: ডান পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]
ক বিভাগ—রচনামূলক প্রশ্ন
মান—১৫×৪=৬০
১। অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? অর্থনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তু বর্ণনা কর।
[What do you mean by Economics? Discuss the scope and subject-matter of Economics.]
অর্থনীতির ধারণা: অর্থনীতি (Economics) হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে। অধ্যাপক এল. রবিন্স-এর মতে, “অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য সম্পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মানবীয় আচরণকে বিশ্লেষণ করে।”
অর্থনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তু:
অর্থনীতির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যাবলি থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা এর অন্তর্ভুক্ত। এর প্রধান বিষয়বস্তুসমূহ হলো:
১. উৎপাদন (Production): কীভাবে এবং কী পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করা হবে তা নিয়ে আলোচনা।
২. বিনিময় (Exchange): উৎপাদিত দ্রব্য কীভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে অর্থের মাধ্যমে হাতবদল হয় তার বিশ্লেষণ।
৩. বণ্টন (Distribution): উৎপাদনে অংশগ্রহণকারী উপাদানগুলোর (ভূমি, শ্রম, মূলধন, সংগঠন) মধ্যে আয় কীভাবে বণ্টিত হবে (খাজনা, মজুরি, সুদ, মুনাফা) তার আলোচনা।
৪. ভোগ (Consumption): মানুষের অভাব পূরণের জন্য দ্রব্য ও সেবার উপযোগ নিঃশেষ করার প্রক্রিয়া।
৫. রাজস্ব বা সরকারি অর্থব্যবস্থা (Public Finance): সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ নীতি নিয়ে আলোচনা।
এছাড়া আধুনিক অর্থনীতিতে ব্যষ্টিক (Micro) ও সামষ্টিক (Macro) অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এবং উন্নয়ন অর্থনীতিও এর গুরুত্বপূর্ণ পরিধির অংশ।
২। চাহিদা ও যোগান কী? চাহিদা ও যোগানের সনাতন তত্ত্বটি বর্ণনা কর।
[What is demand and supply? Discuss the conventional theory of demand and supply.]
চাহিদা (Demand): অর্থনীতিতে চাহিদা বলতে শুধু কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায় না; বরং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট দামে, ক্রেতার কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, তা ক্রয়ের সামর্থ্য এবং অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছাকে একত্রে চাহিদা বলা হয়।
যোগান (Supply): একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতারা কোনো দ্রব্যের যে পরিমাণ বাজারে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত থাকে, তাকে ওই দ্রব্যের যোগান বলে।
চাহিদা ও যোগানের সনাতন তত্ত্ব:
১. চাহিদা বিধি (Law of Demand): অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে তার চাহিদা কমে এবং দাম কমলে তার চাহিদা বাড়ে। অর্থাৎ, দাম ও চাহিদার মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
২. যোগান বিধি (Law of Supply): অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে যোগান বাড়ে এবং দাম কমলে যোগান কমে। অর্থাৎ, দাম ও যোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
৩. ভারসাম্য (Equilibrium): বাজারে ক্রেতার চাহিদা এবং বিক্রেতার যোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে এমন একটি অবস্থা তৈরি হয় যেখানে একটি নির্দিষ্ট দামে দ্রব্যের চাহিদা ও যোগানের পরিমাণ সমান হয়। একেই ভারসাম্য দাম ও ভারসাম্য পরিমাণ বলা হয়। এই তত্ত্বই মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে দাম নির্ধারণের মূল ভিত্তি।
৩। উৎপাদন কাকে বলে? উৎপাদনের উপকরণসমূহের বর্ণনা দাও।
[What is production? Describe the factors of production.]
উৎপাদন (Production): সাধারণ অর্থে উৎপাদন বলতে কোনো কিছু সৃষ্টি করাকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে মানুষ কোনো কিছু সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারে না; মানুষ কেবল প্রকৃতির দেওয়া বস্তুর রূপ, স্থান বা সময়গত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে। অতএব, অর্থনীতিতে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকেই উৎপাদন বলে।
উৎপাদনের উপকরণসমূহ: উৎপাদনের জন্য প্রধানত চারটি উপকরণের প্রয়োজন হয়:
১. ভূমি (Land): অর্থনীতিতে ‘ভূমি’ বলতে শুধু পৃথিবীর উপরিভাগকে বোঝায় না; বরং উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত সকল প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন— মাটি, পানি, জলবায়ু, খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ ইত্যাদিকে ভূমি বলে। এর পারিশ্রমিক হলো ‘খাজনা’।
২. শ্রম (Labor): উৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের শারীরিক ও মানসিক সকল প্রকার পরিশ্রমকে শ্রম বলা হয়। এর পারিশ্রমিক হলো ‘মজুরি’।
৩. মূলধন (Capital): মূলধন হলো মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের সেই অংশ, যা সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় অধিকতর উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় (যেমন: যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কারখানা)। এর পারিশ্রমিক হলো ‘সুদ’।
৪. সংগঠন (Organization): ভূমি, শ্রম ও মূলধন—এই তিনটি উপকরণকে একত্রিত করে সুশৃঙ্খলভাবে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করা এবং ঝুঁকি বহন করার প্রক্রিয়াকে সংগঠন বলে। যিনি এই কাজটি করেন তাকে সংগঠক বা উদ্যোক্তা বলা হয়। এর পারিশ্রমিক হলো ‘মুনাফা’।
৪। বাজার কাকে বলে? একচেটিয়া বাজার ও পূর্ণপ্রतियोगিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
[What is Market? Discuss the characteristics of monopoly market and perfect competitive market.]
বাজার (Market): সাধারণ অর্থে বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায় যেখানে দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় হয়। কিন্তু অর্থনীতিতে ‘বাজার’ বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায় না; বরং এক বা একাধিক দ্রব্যকে বোঝায় যা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য:
১. বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকে।
২. উৎপাদিত দ্রব্যসমূহ সম্পূর্ণ সমজাতীয় (Homogeneous) হয়।
৩. বাজারে নতুন ফার্মের প্রবেশ এবং পুরোনো ফার্মের প্রস্থানের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।
৪. বাজার সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতার পূর্ণ জ্ঞান থাকে।
৫. বিক্রেতা বা ফার্ম ‘দাম গ্রহীতা’ (Price Taker) হিসেবে কাজ করে, দাম নির্ধারণ করতে পারে না।
একচেটিয়া (Monopoly) বাজারের বৈশিষ্ট্য:
১. বাজারে কেবল একজন মাত্র বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী থাকে, কিন্তু ক্রেতা অসংখ্য।
২. উৎপাদিত দ্রব্যের কোনো নিকট-বিকল্প (Close substitute) দ্রব্য থাকে না।
৩. বাজারে নতুন কোনো ফার্মের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বাধা থাকে।
৪. বিক্রেতা নিজে দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করতে পারে, অর্থাৎ সে ‘দাম প্রণেতা’ (Price Maker)।
৫. বিক্রেতার মূল লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা।
৫। আধুনিক অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক বর্ণনা কর।
[Discuss a comparative study between Islamic economic system and modern economic system.]
আধুনিক অর্থব্যবস্থা (প্রধানত ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী) এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক দর্শনগত এবং প্রায়োগিক পার্থক্য বিদ্যমান:
১. মালিকানার ধারণা: আধুনিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের নিরঙ্কুশ ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয়, মানুষই সম্পদের চরম অধিকারী। কিন্তু ইসলামি অর্থনীতিতে সব সম্পদের চূড়ান্ত মালিকানা মহান আল্লাহর। মানুষ কেবল আল্লাহর প্রতিনিধি বা ট্রাস্টি হিসেবে শরিয়তের বিধান মেনে সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার রাখে।
২. সম্পদ উপার্জন ও ভোগ: আধুনিক অর্থনীতিতে যেকোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন এবং যথেচ্ছ ভোগের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু ইসলামে উপার্জন এবং ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে; মদ, জুয়া, সুদ ইত্যাদি হারাম।
৩. সুদ (Interest) বনাম মুনাফা (Profit): আধুনিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো সুদভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা। অন্যদিকে, ইসলামি অর্থনীতি সুদকে (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেছে এবং এর বিকল্প হিসেবে লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (মুদারাবা, মুশারাকা) ব্যবসাকে উৎসাহিত করেছে।
৪. সম্পদ বণ্টন ও যাকাত: আধুনিক অর্থনীতিতে সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হওয়ার প্রবণতা থাকে, যার ফলে ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ে। ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদ যেন কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়, সেজন্য ‘যাকাত’, ফিতরা ও সদকার মতো বাধ্যতামূলক ও ঐচ্ছিক বণ্টন ব্যবস্থা রয়েছে।
৫. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: আধুনিক অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হলো মুনাফা সর্বোচ্চকরণ এবং বস্তুগত কল্যাণ সাধন। আর ইসলামি অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হলো মানবকল্যাণ, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে ফালাহ (সাফল্য) অর্জন করা।
৬। ভোগ বলতে কী বুঝ? ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা কর।
[What do you mean by consumption? Discuss the views of Islamic Economics regarding consumption.]
ভোগ (Consumption): অর্থনীতিতে ‘ভোগ’ বলতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ ব্যবহার বা নিঃশেষ করাকে বোঝায়। যেমন: ক্ষুধা নিবারণের জন্য ভাত খাওয়া, কিংবা পরার জন্য জামা ব্যবহার করা।
ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি:
ইসলামি অর্থনীতিতে ভোগের ধারণা সম্পূর্ণ বস্তুগত নয়, বরং এটি শরিয়তের নিয়মনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর মূল নীতিগুলো হলো:
১. হালাল ও হারামের বিধান: ইসলামে শুধুমাত্র পবিত্র ও হালাল দ্রব্য (যেমন: বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা খাদ্য, পানীয়) ভোগের অনুমতি রয়েছে। মদ, শূকরের মাংস, হারাম উপার্জনে প্রাপ্ত দ্রব্য ভোগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
২. অপচয় ও কৃপণতা রোধ: ইসলামে ভোগের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় বা অপচয় (ইসরাফ ও তাবযীর) করাকে শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। আবার অতিমাত্রায় কৃপণতা করাও নিন্দনীয়।
৩. নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব: ইসলামি অর্থনীতিতে ভোগের সময় সমাজের গরিব-দুঃখী ও প্রতিবেশীদের অধিকারের কথা স্মরণ রাখতে বলা হয়েছে। শুধু নিজে ভোগ না করে অন্যকে দান করার মানসিকতা উৎসাহিত করা হয়েছে।
৪. আখিরাতের জবাবদিহিতা: ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ভোগকারী এই বিশ্বাস রাখে যে, তার উপার্জিত ও ভোগকৃত প্রতিটি সম্পদের হিসাব কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। তাই তার ভোগ আচরণ হয় সংযত ও কল্যাণমুখী।
৭। ইসলামি ব্যাংক কী? ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি বর্ণনা কর।
[What is Islamic Bank? Discuss the functions of Islamic Bank.]
ইসলামি ব্যাংক: ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যার সমস্ত কার্যাবলি, আমানত গ্রহণ, বিনিয়োগ এবং লেনদেন সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়তের নীতি (বিশেষ করে সুদ বা রিবা বর্জন) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ওআইসি (OIC)-এর সংজ্ঞানুযায়ী, “ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি ব্যাংক যা তার গঠনতন্ত্র ও কার্যবিধিতে শরিয়তের নীতিমালা মেনে চলে এবং সুদ আদান-প্রদান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে।”
ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি:
১. আমানত গ্রহণ: ইসলামি ব্যাংক চলতি (আল-ওয়াদিয়াহ) এবং মুদারাবা (লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব) নীতির ভিত্তিতে সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে।
২. বিনিয়োগ ও অর্থায়ন: সুদী ঋণের পরিবর্তে ইসলামি ব্যাংক মুদারাবা, মুশারাকা (অংশীদারি কারবার), মুরাবাহা (ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি), বাই-মুয়াজ্জাল, ইজারা (ভাড়া বা লিজিং) ইত্যাদি শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে অর্থায়ন করে থাকে।
৩. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: লেটার অব ক্রেডিট (L/C) খোলা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইসলামি নীতি মেনে সহায়তা প্রদান করে।
৪. জনকল্যাণমূলক কাজ: ইসলামি ব্যাংকগুলো কারজে হাসানা (বিনাসুদে ঋণ) প্রদান, যাকাত তহবিল গঠন ও সুষ্ঠু বণ্টন এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক ট্রাস্ট পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৮। তাকাফুল কী? প্রচলিত বিমা ও ইসলামি বিমার মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।
[What is Takaful? Discuss the difference between conventional insurance and Islamic insurance.]
তাকাফুল (Takaful): ‘তাকাফুল’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পারস্পরিক গ্যারান্টি বা যৌথ নিশ্চয়তা। ইসলামি বিমাকে তাকাফুল বলা হয়। এটি এমন একটি শরিয়তসম্মত ব্যবস্থা যেখানে অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছায় একটি তহবিলে অনুদান (তাবাররু) প্রদান করে এবং একে অপরের সম্ভাব্য বিপদ বা আর্থিক ক্ষতিতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
প্রচলিত বিমা ও ইসলামি বিমার (তাকাফুল) পার্থক্য:
১. সুদ (Riba): প্রচলিত বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সংগৃহীত তহবিল সুদী ব্যাংকে বা সুদী বন্ডে বিনিয়োগ করে। অন্যদিকে, তাকাফুল সুদভিত্তিক বিনিয়োগ সম্পূর্ণ পরিহার করে এবং শরিয়তসম্মত খাতে বিনিয়োগ করে।
২. ধোঁকা বা অনিশ্চয়তা (Gharar): প্রচলিত বিমায় চুক্তির মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা (গারার) থাকে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। তাকাফুলে অনুদান (তাবাররু) ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তার দোষ দূর করা হয়।
৩. জুয়া (Maysir): প্রচলিত বিমায় পলিসিহোল্ডার সামান্য প্রিমিয়াম দিয়ে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেতে পারে বা কোনো ক্ষতি না হলে সব টাকা হারাতে পারে, যা জুয়ার সমতুল্য। তাকাফুল হলো পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতামূলক ফান্ড, এখানে জুয়ার অস্তিত্ব নেই।
৪. তহবিলের মালিকানা: প্রচলিত বিমায় প্রিমিয়ামের টাকা কোম্পানির নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়। তাকাফুলে তহবিলের মূল মালিক অংশগ্রহণকারীরাই থাকেন, তাকাফুল কোম্পানি কেবল মুদারিব (ব্যবস্থাপক) হিসেবে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে তা পরিচালনা করে।
খ বিভাগ—সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (বিশদ রূপ)
মান—৫×৪=২০
৯। ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।
[Discuss the difference between micro and macro Economics.]
‘ব্যষ্টিক’ (Micro) শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Mikros’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ক্ষুদ্র। অন্যদিকে ‘সামষ্টিক’ (Macro) শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Makros’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বৃহৎ বা সামগ্রিক। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ হলো:
১. সংজ্ঞা ও পরিধি: ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে সমগ্র অর্থনীতিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে প্রতিটি অংশের ব্যক্তিগত বা একক আচরণ বিশ্লেষণ করা হয় (যেমন: একজন ভোক্তার চাহিদা, একটি ফার্মের উৎপাদন)। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনীতিতে সমগ্র অর্থনীতিকে একটি অখণ্ড সত্তা হিসেবে বিবেচনা করে তার সামগ্রিক আচরণ বিশ্লেষণ করা হয় (যেমন: দেশের মোট জাতীয় আয়, মোট ভোগ, মোট কর্মসংস্থান)।
২. মূল আলোচ্য বিষয়: ব্যষ্টিক অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় হলো বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রব্যের ‘দাম নির্ধারণ তত্ত্ব’। সামষ্টিক অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় হলো সামগ্রিক ‘আয় ও কর্মসংস্থান তত্ত্ব’।
৩. বিশ্লেষণ পদ্ধতি: ব্যষ্টিক অর্থনীতি আংশিক ভারসাম্য বিশ্লেষণের (Partial Equilibrium Analysis) ওপর নির্ভরশীল। আর সামষ্টিক অর্থনীতি সামগ্রিক ভারসাম্য বিশ্লেষণের (General Equilibrium Analysis) ওপর নির্ভরশীল।
৪. প্রয়োগক্ষেত্র: ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ফার্মের মুনাফা সর্বোচ্চকরণে ব্যষ্টিক অর্থনীতি ব্যবহৃত হয়। আর সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন, বাজেট তৈরি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবহৃত হয়।
১০। নিরপেক্ষ রেখা কী?
[What is Indifference Curve?]
সংজ্ঞা: নিরপেক্ষ রেখা (Indifference Curve) হলো এমন একটি জ্যামিতিক রেখা, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে দুটি বিকল্প দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায় এবং প্রতিটি সংমিশ্রণ থেকে ভোক্তা সমান পরিমাণ তৃপ্তি বা উপযোগ লাভ করে।
বিশ্লেষণ: যেহেতু এই রেখার যেকোনো বিন্দুতে ভোক্তার তৃপ্তির স্তর একদম সমান থাকে, তাই ভোক্তা কোন বিন্দুটি (বা সংমিশ্রণটি) বেছে নেবে সে বিষয়ে সে উদাসীন বা ‘নিরপেক্ষ’ থাকে। এজন্যই একে নিরপেক্ষ রেখা বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
১. নিরপেক্ষ রেখা সাধারণত বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
২. এটি মূল বিন্দুর দিকে উত্তল (Convex to the origin) হয়।
৩. দুটি নিরপেক্ষ রেখা কখনোই পরস্পরকে ছেদ করতে পারে না।
৪. একটি নিরপেক্ষ মানচিত্রে (Indifference Map) উপরের দিকের নিরপেক্ষ রেখা সবসময় অধিকতর তৃপ্তির স্তর নির্দেশ করে এবং নিচের দিকের রেখা কম তৃপ্তি নির্দেশ করে।
১১। ভোক্তার উদ্বৃত্ত বলতে কী বুঝ?
[What do you mean by consumer surplus?]
সংজ্ঞা: ভোক্তার উদ্বৃত্ত (Consumer Surplus) ধারণাটি প্রথম ফরাসি প্রকৌশলী ডুইপুইট দিলেও অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষণ করেন। কোনো একটি দ্রব্য না কিনে এর অভাব ভোগ করার চেয়ে, একজন ভোক্তা ওই দ্রব্যের জন্য সর্বোচ্চ যে দাম দিতে প্রস্তুত থাকে এবং বাস্তবে বাজার অনুযায়ী সে যে দাম দেয়—এই দুইয়ের পার্থক্যকেই ভোক্তার উদ্বৃত্ত বলা হয়।
সূত্র: ভোক্তার উদ্বৃত্ত = (ভোক্তার সম্ভাব্য দাম বা উপযোগ) – (প্রকৃত বাজার দাম)।
উদাহরণ: মনে করুন, আপনি তীব্র তৃষ্ণার্ত অবস্থায় এক বোতল পানির জন্য ৫০ টাকা দিতেও প্রস্তুত আছেন। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখলেন পানির দাম মাত্র ২০ টাকা। এখানে আপনার ভোক্তার উদ্বৃত্ত হলো (৫০ – ২০) = ৩০ টাকার সমান উপযোগ বা মানসিক তৃপ্তি।
গুরুত্ব: সরকারি কর নির্ধারণ, একচেটিয়া কারবারির দাম নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণে ভোক্তার উদ্বৃত্তের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১২। অর্থ বলতে কী বুঝ?
[What do you mean by Money?]
সংজ্ঞা: অর্থনীতিতে ‘অর্থ’ বা মুদ্রা (Money) বলতে এমন একটি সর্বজনগ্রাহ্য বস্তুকে বোঝায় যা বিনিময়ের সাধারণ মাধ্যম হিসেবে সকলের নিকট বিনা দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য এবং যা মূল্যের পরিমাপক ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে কাজ করে। অর্থনীতিবিদ ক্রোথারের ভাষায়, “অর্থ হলো এমন একটি বস্তু, যা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য এবং একই সাথে যা মূল্যের পরিমাপক ও সঞ্চয়ের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।”
অর্থের কার্যাবলি: অর্থের প্রধান কার্যাবলি ৪টি:
১. বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange): এর সাহায্যে যেকোনো দ্রব্য সহজে কেনাবেচা যায়, ফলে দ্রব্যের বিনিময়ে দ্রব্য (Barter system) প্রথার অসুবিধা দূর হয়।
২. মূল্যের পরিমাপক (Measure of Value): সকল দ্রব্যের দাম অর্থে প্রকাশ করা হয়।
৩. সঞ্চয়ের বাহন (Store of Value): ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ সংরক্ষণের উৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো অর্থ।
৪. স্থগিত লেনদেনের মান (Standard of Deferred Payments): ভবিষ্যৎ দেনা-পাওনা মেটানোর জন্য অর্থ ব্যবহার করা হয়।
১৩। শ্রম বিভাগ কী?
[What is division of labour?]
সংজ্ঞা: শ্রম বিভাগ (Division of Labour) বলতে কোনো একটি দ্রব্যের সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও পৃথক অংশে বিভক্ত করে, প্রত্যেকটি অংশের কাজ ভিন্ন ভিন্ন শ্রমিকের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়াকে বোঝায়।
উদাহরণ: তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্পে একজন শ্রমিক কাপড় কাটে, অন্যজন সেলাই করে, আরেকজন বোতাম লাগায় এবং আরেকজন ইস্ত্রি করে। এটিই হলো শ্রমবিভাগ।
সুবিধা: শ্রমবিভাগের ফলে একজন শ্রমিক একই কাজ বারবার করায় তার কাজের দক্ষতা বাড়ে, সময় বাঁচে এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এর ফলে নতুন নতুন যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন সহজ হয়।
অসুবিধা: ক্রমাগত একই কাজ করতে থাকলে শ্রমিকের মধ্যে কাজের একঘেয়েমি আসে। এছাড়া শ্রমিকরা একটি মাত্র কাজে পারদর্শী হওয়ার কারণে কোনো কারণে চাকরি হারালে বেকারত্বের চরম ঝুঁকিতে পড়ে।
১৪। কর ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য কর।
[Distinguish between Tax and Zakat.]
কর (Tax) এবং যাকাত (Zakat) উভয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোষাগারে অর্থ জমা হলেও এদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে:
১. ভিত্তি ও প্রকৃতি: কর হলো রাষ্ট্রের আইন দ্বারা আরোপিত বাধ্যতামূলক আর্থিক দায়বদ্ধতা, যা না দিলে আইনি শাস্তি পেতে হয়। অন্যদিকে, যাকাত হলো ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক ফরজ ইবাদত এবং ধনী মুসলমানদের উপর আল্লাহর দেওয়া অবশ্য পালনীয় বিধান।
২. উদ্দেশ্য: কর আদায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্র পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি ব্যয় মেটানো। যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধি, গরিব-অসহায়দের অধিকার আদায় এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা।
৩. হার (Rate): করের হার পরিবর্তনশীল; সরকার বাজেট অনুযায়ী এর হার বাড়াতে বা কমাতে পারে। কিন্তু যাকাতের হার সুনির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনশীল (সাধারণত ২.৫%), যা স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স.) নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
৪. ব্যয়ের খাত: করের টাকা সরকার যেকোনো উন্নয়নমূলক বা প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করতে পারে। কিন্তু যাকাতের টাকা কেবল পবিত্র কুরআনে (সূরা তাওবার ৬০ নং আয়াতে) বর্ণিত ৮টি নির্দিষ্ট খাতেই ব্যয় করতে হয়।
১৫। ইসলামে ব্যক্তি মালিকানা বলতে কী বুঝায়?
[What is the sense of ownership in Islam?]
ইসলামি অর্থনীতিতে মালিকানার ধারণা ধনতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
১. চূড়ান্ত মালিকানা: ইসলামে নিখাদ, শর্তহীন ও চূড়ান্ত ব্যক্তিমালিকানা বলে কিছু নেই। সমস্ত আসমান, জমিন ও এর মধ্যকার সবকিছুর চূড়ান্ত এবং একচ্ছত্র মালিক কেবল মহান আল্লাহ তায়ালা।
২. ট্রাস্টি বা প্রতিনিধিত্ব: ইসলামে ব্যক্তি মালিকানাকে মূলত ‘আমানত’ বা ট্রাস্ট হিসেবে দেখা হয়। মানুষ হলো পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। আল্লাহ মানুষকে দয়া করে সাময়িকভাবে সম্পদ অর্জন, ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার দিয়েছেন।
৩. অর্জনের স্বাধীনতা ও সীমা: ইসলাম মানুষকে সম্পদ উপার্জনের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, তবে তা অবশ্যই শরিয়ত নির্দেশিত হালাল পন্থায় হতে হবে। চুরি, ডাকাতি, সুদ, ঘুষ, জুয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের মালিকানা ইসলাম স্বীকার করে না।
৪. ভোগের বিধিনিষেধ: সম্পদের মালিক হলেও একজন ব্যক্তি তার সম্পদ যথেচ্ছভাবে অপচয় করতে পারে না বা হারাম কাজে ব্যয় করতে পারে না। তার সম্পদের উপর গরিব-দুঃখীর অধিকার (যাকাত, উশর, সদকা) রয়েছে যা আদায় করা তার জন্য বাধ্যতামূলক।
১৬। মুদারাবা কী?
[What is ‘Mudaraba’?]
সংজ্ঞা: মুদারাবা (Mudaraba) হলো ইসলামি অর্থায়ন ব্যবস্থা ও ব্যাংকিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়িক চুক্তি বা অংশীদারি কারবার। এটি এমন একটি চুক্তি যেখানে একপক্ষ সম্পূর্ণ মূলধন সরবরাহ করে এবং অপরপক্ষ নিজের মেধা, শ্রম, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে।
পক্ষসমূহ: যিনি মূলধন সরবরাহ করেন তাঁকে বলা হয় ‘রাব্বুল মাল’ (সাহেবে মাল বা মূলধনের মালিক)। আর যিনি শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাঁকে বলা হয় ‘মুদারিব’ (উদ্যোক্তা বা ব্যবস্থাপক)।
মুনাফা বণ্টন: এই ব্যবসায় অর্জিত মুনাফা পূর্বনির্ধারিত চুক্তির অনুপাতে (যেমন: ৫০:৫০ বা ৬০:৪০) উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হয়। মুনাফার বণ্টন কখনোই নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের (Fixed percentage on capital) ভিত্তিতে হতে পারে না।
ক্ষতির দায়ভার: যদি ব্যবসায় কোনো আর্থিক ক্ষতি (Loss) হয়, তবে তা সম্পূর্ণভাবে ‘রাব্বুল মাল’ বা মূলধন সরবরাহকারী বহন করবেন (যেহেতু মুদারিব ইতিমধ্যেই তার শ্রমের ক্ষতি স্বীকার করেছেন)। তবে যদি প্রমাণিত হয় যে ক্ষতিটি মুদারিবের অবহেলা বা চুক্তিভঙ্গের কারণে হয়েছে, তবে সেই ক্ষতির দায়ভার মুদারিবকেই বহন করতে হবে।






