Dakhil 2026 Hadith Sharif Question Paper with Answers | দাখিল ২০২৬ হাদিস শরিফ প্রশ্ন ও সমাধান

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
abswer cover 1778491974275
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

১৩৯

দাখিল পরীক্ষা, ২০২৬

হাদিস শরিফ

[নিয়মিত]

বিষয় কোড: ১ ০ ২

সময়—৩ ঘণ্টা
পূর্ণমান—১০০

[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

ক বিভাগ

মান—৪০

১। সঠিক উত্তরটি খাতায় লেখ: ১x৪০=৪০

  1. হাদিস সংকলনের ফরমান সর্বপ্রথম কে জারি করেন?
    (ক) হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা)
    (খ) হজরত ওমর ফারুক (রা)
    (গ) হজরত আমির মুয়াবিয়া (রা)
    (ঘ) হজরত ওমর ইবনু আব্দুল আজিজ (রহ)
    উত্তর: (ঘ) হজরত ওমর ইবনু আব্দুল আজিজ (রহ)
  2. الحديث শব্দটির বহুবচন কোনটি?
    (ক) الحديثون
    (খ) الحديثات
    (গ) الأحاديث
    (ঘ) الحديثة
    উত্তর: (গ) الأحاديث
  3. ইমাম মালেক (রহ) রচিত হাদিস গ্রন্থের নাম কী?
    (ক) মুসনাদ
    (খ) মুয়াত্তা
    (গ) জামি’
    (ঘ) সুনান
    উত্তর: (খ) মুয়াত্তা
  4. السنة অর্থ কী?
    (ক) পথ
    (খ) কথা
    (গ) ঘটনা
    (ঘ) উপদেশ
    উত্তর: (ক) পথ
  5. কোনটি احاد এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
    (ক) الخبر المشهور
    (খ) الخبر العزيز
    (গ) الخبر المتواتر
    (ঘ) الخبر الغريب
    উত্তর: (গ) الخبر المتواتر
  6. একজন মুমিনের জন্য অন্য মুমিনের প্রতি কয়টি কর্তব্য আছে?
    (ক) ৫টি
    (খ) ৬টি
    (গ) ১০টি
    (ঘ) ১২টি
    উত্তর: (খ) ৬টি
  7. সালাম দেয়ার বিধান কী?
    (ক) সুন্নাত
    (খ) মুস্তাহাব
    (গ) ওয়াজিব
    (ঘ) ফরজ
    উত্তর: (ক) সুন্নাত
  8. অনুমতি প্রার্থনার (الاستئذان) হুকুম কী?
    (ক) ফরজ
    (খ) ওয়াজিব
    (গ) সুন্নাত
    (ঘ) মুস্তাহাব
    উত্তর: (খ) ওয়াজিব
  9. المصافحة শব্দটি কোন বাবের মাসদার?
    (ক) باب إفعال
    (খ) باب تفعيل
    (গ) باب مفاعلة
    (ঘ) باب تفاعل
    উত্তর: (গ) باب مفاعلة
  10. المعانقة অর্থ কী?
    (ক) করমর্দন করা
    (খ) ভাব বিনিময় করা
    (গ) কোলাকুলি করা
    (ঘ) ক্ষমা করা
    উত্তর: (গ) কোলাকুলি করা
  11. التثاؤب শব্দের অর্থ কী?
    (ক) হাসি দেয়া
    (খ) হাঁচি দেয়া
    (গ) ক্রন্দন করা
    (ঘ) হাই তোলা
    উত্তর: (ঘ) হাই তোলা
  12. নামাজের মধ্যে কোন প্রকার হাসিতে অজু ও নামাজ উভয়টি নষ্ট হয়?
    (ক) الضحك
    (খ) القهقهة
    (গ) التبسم
    (ঘ) التكلم
    উত্তর: (খ) القهقهة
  13. আল্লাহ তাআলার অতিশয় সুন্দর নাম কয়টি?
    (ক) ৯০টি
    (খ) ৯৯টি
    (গ) ১০১টি
    (ঘ) ১১৩টি
    উত্তর: (খ) ৯৯টি
  14. إسم শব্দের অর্থ কী?
    (ক) নাম
    (খ) পদবি
    (গ) উপাধি
    (ঘ) উপনাম
    উত্তর: (ক) নাম
  15. কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া কী?
    (ক) ফাসেকী
    (খ) গর্হিত
    (গ) মাকরূহ
    (ঘ) অনুচিত
    উত্তর: (ক) ফাসেকী
  16. ما بين لحييه বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
    (ক) দাঁত
    (খ) জিহ্বা
    (গ) তালু
    (ঘ) লালা
    উত্তর: (খ) জিহ্বা
  17. যে অঙ্গীকার পূর্ণ করে না তার কী নেই?
    (ক) দ্বীনদারিতা
    (খ) সততা
    (গ) নিষ্ঠা
    (ঘ) আমানতদারিতা
    উত্তর: (ক) দ্বীনদারিতা
  18. يَلْعَبُ শব্দের বাহাছ কী?
    (ক) ماضی مثبت معروف
    (খ) مضارع مثبت معروف
    (গ) امر حاضر معروف
    (ঘ) نهى حاضر معروف
    উত্তর: (খ) مضارع مثبت معروف
  19. حق শব্দের বহুবচন কী?
    (ক) حقوق
    (খ) احق
    (গ) حقة
    (ঘ) حقات
    উত্তর: (ক) حقوق
  20. খলিলুল্লাহ কোন নবির উপাধি?
    (ক) হজরত আদম (আ)
    (খ) হজরত ইবরাহিম (আ)
    (গ) হজরত মুসা (আ)
    (ঘ) হজরত মুহাম্মদ (স)
    উত্তর: (খ) হজরত ইবরাহিম (আ)
  21. খ্রিষ্টানরা ঈসা (আ) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করে তাঁকে কী বলে থাকে?
    (ক) আল্লাহর বন্ধু
    (খ) আল্লাহর নবি
    (গ) আল্লাহর পুত্র
    (ঘ) আল্লাহর বান্দা
    উত্তর: (গ) আল্লাহর পুত্র
  22. সবচেয়ে বেশি সদাচার পাওয়ার অধিকারী কে?
    (ক) মাতা
    (খ) পিতা
    (গ) দাদা
    (ঘ) দাদী
    উত্তর: (ক) মাতা
  23. ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে কীসে?
    (ক) নামাজে
    (খ) রোজায়
    (গ) যাকাতে
    (ঘ) দোয়ায়
    উত্তর: (ঘ) দোয়ায়
  24. اُنْصُرْ এর ছিগাহ কোনটি?
    (ক) واحد مذكر غائب
    (খ) واحد مذكر حاضر
    (গ) واحد مؤنث غائب
    (ঘ) واحد مؤنث حاضر
    উত্তর: (খ) واحد مذكر حاضر
  25. الشفقة শব্দের অর্থ কী?
    (ক) দয়া-অনুগ্রহ করা
    (খ) ঘৃণা করা
    (গ) দেখাশুনা করা
    (ঘ) পরিচর্যা করা
    উত্তর: (ক) দয়া-অনুগ্রহ করা
  26. হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) কত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন?
    (ক) ১৭
    (খ) ১৮
    (গ) ১৯
    (ঘ) ২০
    উত্তর: (খ) ১৮
  27. أكذب الحديث কী?
    (ক) الظن
    (খ) الغيبة
    (গ) البهتان
    (ঘ) الخداع
    উত্তর: (ক) الظن
  28. العجلة من الشيطان এর মর্মার্থ কী?
    (ক) তাড়াহুড়া করা শয়তানি কাজ
    (খ) শয়তান নিজে তাড়াহুড়া করে
    (গ) তাড়াহুড়াকারীর সাথে শয়তান থাকে
    (ঘ) কাজে তাড়াহুড়া শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে হয়
    উত্তর: (ক) তাড়াহুড়া করা শয়তানি কাজ
  29. يعظ শব্দটির মূল অক্ষর কী?
    (ক) ظ – ع – ى
    (খ) و – ع – ظ
    (গ) ظ – و – ع
    (ঘ) ظ – ى – ع
    উত্তর: (খ) و – ع – ظ
  30. যা শস্য পরিমাণ থাকলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না।
    (ক) শত্রুতা
    (খ) অহংকার
    (গ) আত্মতুষ্টি
    (ঘ) কপটতা
    উত্তর: (খ) অহংকার
  31. সবচেয়ে বড় জুলুম কী?
    (ক) চুরি করা
    (খ) ডাকাতি করা
    (গ) ব্যভিচার করা
    (ঘ) শিরক করা
    উত্তর: (ঘ) শিরক করা
  32. শিরক কয় প্রকার?
    (ক) দুই
    (খ) তিন
    (গ) চার
    (ঘ) পাঁচ
    উত্তর: (ক) দুই
  33. মন্দ কাজে বাধা দেয়ার বিধান কী?
    (ক) ফরযে আইন
    (খ) ফরযে কিফায়া
    (গ) ওয়াজিবে আইন
    (ঘ) ওয়াজিবে কিফায়াহ
    উত্তর: (ক) ফরযে আইন
  34. পুরুষদের মাঝে সর্বপ্রথম কে ইসলাম কবুল করেন?
    (ক) হজরত আবু বকর (রা)
    (খ) হজরত ওমর (রা)
    (গ) হজরত উসমান (রা)
    (ঘ) হজরত আলি (রা)
    উত্তর: (ক) হজরত আবু বকর (রা)
  35. রাসুলুল্লাহ (স) এর প্রিয় খাদ্য কোনটি?
    (ক) ছারিদ
    (খ) খুবয
    (গ) গোশত
    (ঘ) তালবিনা
    উত্তর: (ক) ছারিদ
  36. العسل শব্দের অর্থ কী?
    (ক) চিনি
    (খ) গুড়
    (গ) মধু
    (ঘ) মিষ্টি
    উত্তর: (গ) মধু
  37. দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত কী?
    (ক) হালাল রুজি
    (খ) ইসতিগফার
    (গ) কিবলামুখী হওয়া
    (ঘ) কুরআন তেলাওয়াত করা
    উত্তর: (ক) হালাল রুজি
  38. মদ কীভাবে হারাম হয়েছে?
    (ক) একবারে
    (খ) বারে বারে
    (গ) পর্যায়ক্রমে
    (ঘ) শুধু নামাজের সময়
    উত্তর: (গ) পর্যায়ক্রমে
  39. ফিতনা কীসের চেয়ে জঘন্য?
    (ক) চুরি করার
    (খ) ব্যভিচার করার
    (গ) কাউকে গালি দেয়ার
    (ঘ) হত্যা করার
    উত্তর: (ঘ) হত্যা করার
  40. অশ্লীলতা কী কমায়?
    (ক) জ্ঞান
    (খ) লজ্জা
    (গ) মর্যাদা
    (ঘ) ধন-সম্পদ
    উত্তর: (খ) লজ্জা

খ বিভাগ

(যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান—১০x৫=৫০

১। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه أن رجل سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم : أى الإسلام خير؟ قال تطعم الطعام وتقرأ السلام على من عرفت ومن لم تعرف- (متفق عليه)
عن أبى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا تدخلون الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أولا أدلكم على شىء إذا فعلتموه تحاببتم أفشوا السلام بينكم- (رواه مسلم)

(অনুবাদ): আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, “তুমি খাদ্য খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দেবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না মুমিন হও, আর তোমরা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।” (মুসলিম)

(খ) উত্তর দাও:

  1. تطعم الطعام (তুতয়িমুত্তোয়াম – খাদ্য খাওয়ানো) এর তাৎপর্য লেখ।
    উত্তর: ইসলামে ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এর তাৎপর্য হলো সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা। রাসূল (সা.) এটিকে সর্বোত্তম ইসলামী আমল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা জান্নাতে প্রবেশের পথ সুগম করে এবং মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): سأل, تطعم, الجنة, لم تعرف
    উত্তর:
    ১. سأل (সাআ’লা): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: ইসবাত ফিয়েলে মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: ফাতাহা-ইয়াফতাহু, মাদ্দাহ: س أ ل, অর্থ: সে জিজ্ঞাসা করল।
    ২. تطعم (তুতয়িমু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: ইসবাত ফিয়েলে মুজারে মারুফ, বাব: ইফ’আল, মাদ্দাহ: ط ع م, অর্থ: তুমি খাওয়াবে।
    ৩. الجنة (আল-জান্নাতু): ইসম বা বিশেষ্য, ওয়াহেদ, মাদ্দাহ: ج ن ن, অর্থ: বাগান বা জান্নাত।
    ৪. لم تعرف (লাম তা’রিফ): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: নফি ফিয়েলে জাহাদ বালাম মারুফ, বাব: যারাবা-ইয়াজরিবু, মাদ্দাহ: ع ر ف, অর্থ: তুমি চেনো না।

২। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن قتادة رضى الله تعالى عنه قال قلت لأنس رضى الله تعالى عنه أكانت المصافحة فى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال نعم- (رواه البخارى)
عن أبى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم الحسن بن على وعنده الأقرع بن حابس فقال الأقرع أن لى عشرة من الولد ما قبلت منهم أحداً فنظر إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال من لا يرحم لا يرحم- (متفق عليه)

(অনুবাদ): কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে কি মুসাফাহার (করমর্দন) প্রচলন ছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (বুখারী)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান ইবনে আলী (রা.)-কে চুম্বন করলেন। এ সময় তাঁর কাছে আকরা ইবনে হাবিস (রা.) উপস্থিত ছিলেন। আকরা বললেন, আমার দশটি সন্তান রয়েছে, আমি তাদের কাউকেই কখনো চুম্বন করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।” (বুখারী ও মুসলিম)

(খ) উত্তর দাও:

  1. المصافحة والمعانقة (মুসাফাহা ও মুআনাকা) এর পরিচয় দাও।
    উত্তর: ‘মুসাফাহা’ অর্থ করমর্দন করা বা হাত মেলানো। সাক্ষাতের সময় ডান হাত মিলিয়ে সালাম বিনিময় করা সুন্নাত। এতে পারস্পরিক গুনাহ মাফ হয়। আর ‘মুআনাকা’ অর্থ কোলাকুলি করা বা গলা মেলানো। দীর্ঘ দিন পর সাক্ষাত হলে বা বিশেষ আনন্দের মুহূর্তে মুআনাকা করা ইসলামী সংস্কৃতির অংশ, যা ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): نظر, قبل, لا يرحم, رضى
    উত্তর:
    ১. نظر (নাজারা): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: নাসারা-ইয়ানসুরু, অর্থ: সে তাকাল।
    ২. قبل (ক্বাব্বালা): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: তাফয়িল, অর্থ: সে চুম্বন করল।
    ৩. لا يرحم (লা ইয়ারহামু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: নফি ফিয়েলে মুজারে মারুফ (পরেরটি মাজহুল অর্থে), বাব: সামি’আ-ইয়াশমাউ, অর্থ: সে দয়া করে না / তাকে দয়া করা হয় না।

৩। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت ما رأيت النبى صلى الله عليه وسلم مستجمعا ضاحكا حتى أرى منه لهواته إنما كان يتبسم- (رواه البخارى)
عن عبد الله بن الحارث بن جزء رضى الله تعالى عنه قال ما رأيت أحداً أكثر تبسما من رسول الله صلى الله عليه وسلم- (رواه الترمذى)

(অনুবাদ): আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা.)-কে কখনো এমনভাবে অট্টহাসি হাসতে দেখিনি যে তাঁর আলজিহ্বা দেখা যায়। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন। (বুখারী)
আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জাযউ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (তিরমিযী)

(খ) উত্তর দাও:

  1. تبسم (তাবাসসুম) ও ضحك (দাহক) এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।
    উত্তর: ‘তাবাসসুম’ হলো মুচকি হাসি, যেখানে কোনো শব্দ হয় না এবং দাঁত খুব বেশি প্রকাশিত হয় না। এটি নবীদের সুন্নাত এবং উত্তম আচরণ। অন্যদিকে ‘দাহক’ বা ‘কাহকাহা’ হলো শব্দ করে বা অট্টহাসি হাসা। ইসলামে অট্টহাসি অপছন্দনীয়, কারণ এতে গাম্ভীর্য নষ্ট হয় এবং অন্তর মরে যায়।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): يتبسم, أكثر, رأيت, مستجمعا
    উত্তর:
    ১. يتبسم (ইয়াতাবাসসামু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মুজারে মারুফ, বাব: তাফাউল, অর্থ: সে মুচকি হাসে।
    ২. أكثر (আকসারু): ইসমুত তাফজিল, ওয়াহেদ মুজাক্কার, অর্থ: অধিকতর বা সবচেয়ে বেশি।

৪। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن أبى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تجدون شر الناس يوم القيامة ذا الوجهين، الذى يأتى هؤلاء بوجه وهؤلاء بوجه- (متفق عليه)
عن حذيفة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : لا يدخل الجنة قتات- (متفق عليه وفى رواية مسلم نمام)

(অনুবাদ): আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে দ্বিমুখী স্বভাবের লোকদের দেখতে পাবে। যারা এদের কাছে এক রূপ নিয়ে আসে এবং ওদের কাছে অন্য রূপ নিয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)
হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: চোগলখোর (পরনিন্দাকারী) জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী ও মুসলিম, মুসলিমের বর্ণনায় ‘নাম্মাম’ শব্দ রয়েছে)

(খ) উত্তর দাও:

  1. لا يدخل الجنة قتات (লা ইয়াদখুলুল জান্নাতা ক্বাত্তাত) এর ব্যাখ্যা লেখ।
    উত্তর: ‘কাত্তাত’ বা ‘নাম্মাম’ অর্থ চোগলখোর, যে মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগায়। এটি একটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। হাদীসটির ব্যাখ্যা হলো, চোগলখোর ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তওবা না করে মারা গেলে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): لا يدخل, سمعت, قتات, نمام
    উত্তর:
    ১. لا يدخل (লা ইয়াদখুলু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: নফি মুজারে মারুফ, বাব: নাসারা, অর্থ: সে প্রবেশ করবে না।
    ২. سمعت (সামি’তু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম, বাহাস: মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: সামি’আ, অর্থ: আমি শুনেছি।

৫। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن أنس رضى الله تعالى عنه قال إن كان النبى صلى الله عليه وسلم ليخالطنا حتى يقول لأخ لى صغير يا أبا عمير ما فعل النغير كان له نغير يلعب به فمات- (متفق عليه)
عن أنس رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال لامرأة عجوز أنه لا تدخل الجنة عجوز فقالت وما لهن؟ “وكانت تقرأ القرآن فقال لها أما تقرئين القرآن؟ إنا أنشأنهن إنشاء فجعلنهن أبكارا”- (رواه رزين وفى شرح السنة بلفظ المصابيح)

(অনুবাদ): আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) আমাদের সাথে এত বেশি মিশতেন যে, আমার এক ছোট ভাইকে তিনি বলতেন, “হে আবু উমাইর! নুগাইর (পাখিটি) কী করছে?” তার একটি ছোট পাখি ছিল যা নিয়ে সে খেলত, পরে সেটি মারা যায়। (বুখারী ও মুসলিম)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) এক বৃদ্ধা মহিলাকে বলেছিলেন, “কোনো বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” মহিলাটি (অবাক হয়ে) জিজ্ঞেস করল, তাদের কী হবে? মহিলাটি কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তখন নবী (সা.) তাকে বললেন, “তুমি কি কুরআন পড়ো না? (আল্লাহ বলেছেন) ‘আমি তাদের (জান্নাতের রমণীদের) নতুনরূপে সৃষ্টি করব, অতঃপর তাদের কুমারী বানাব’।” (রাযীন, এবং শারহুস সুন্নাহ-তে মাসাবিহ-এর শব্দে)

(খ) উত্তর দাও:

  1. لا تدخل الجنة عجوز (লা তাদখুলুল জান্নাতা আজুজ) এর মর্মার্থ লেখ।
    উত্তর: এর শাব্দিক অর্থ হলো “কোনো বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না”। এটি রাসূল (সা.) এর একটি নির্দোষ রসিকতা ছিল। এর প্রকৃত মর্মার্থ হলো, জান্নাতে কেউ বৃদ্ধ বা বার্ধক্য অবস্থায় প্রবেশ করবে না। আল্লাহ তাআলা সকল বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে চিরযৌবন দান করবেন এবং তারা যুবক-যুবতী হিসেবেই জান্নাতের নেয়ামত উপভোগ করবে।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): يلعب, مات, يخالط, أبكار
    উত্তর:
    ১. يلعب (ইয়াল’আবু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মুজারে মারুফ, বাব: সামি’আ, অর্থ: সে খেলছে/খেলবে।
    ২. مات (মাতা): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: নাসারা (আজওয়ায়ে ওয়াওয়ী), অর্থ: সে মারা গেল।

[দ্রষ্টব্য: ৬ নং প্রশ্নটি প্রশ্নপত্রে অনুপস্থিত]

৭। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن أنس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : انصر أخاك ظالما أو مظلوما، فقال رجل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم! أنصره مظلوما فكيف أنصره ظالما؟ قال تمنعه من الظلم فذلك نصرك إياه- (متفق عليه)
عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ؛ ليس منا من لم يرحم صغيرنا ولم يوقر كبيرنا ويأمر بالمعروف وينه عن المنكر – (رواه الترمذى وقال هذا حديث غريب)

(অনুবাদ): আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক বা মাজলুম।” এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করব তা তো বুঝলাম, কিন্তু জালিমকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন, “তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে, আর এটাই হলো তাকে সাহায্য করা।” (বুখারী ও মুসলিম)
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না, আমাদের বড়দের সম্মান করে না এবং সৎকাজের আদেশ দেয় না ও অসৎকাজে বাধা দেয় না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (তিরমিযী, তিনি বলেছেন হাদিসটি গরীব)

(খ) উত্তর দাও:

  1. انصر اخاك ظالما او مظلوما এর ব্যাখ্যা কর।
    উত্তর: ইসলামে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত এখানে স্থাপিত হয়েছে। মাজলুম (অত্যাচারিত) ভাইকে সাহায্য করার অর্থ তাকে রক্ষা করা। আর জালিম (অত্যাচারী) ভাইকে সাহায্য করার অর্থ হলো, তাকে অন্যায় কাজ বা জুলুম থেকে জোরপূর্বক হলেও বিরত রাখা। কারণ তাকে পাপ থেকে বাঁচানোই তার জন্য প্রকৃত সাহায্য।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): انصر, ظالم, لم يرحم, المعروف
    উত্তর:
    ১. انصر (উনসুর): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: আমরে হাজির মারুফ, বাব: নাসারা, অর্থ: তুমি সাহায্য করো।
    ২. المعروف (আল-মা’রুফ): ইসমুল মাফউল, অর্থ: পরিচিত বা সৎকাজ।

৮। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا يدخل النار أحد فى قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان- ولا يدخل الجنة أحد فى قلبه مثقال حبة من خردل من كبر- (رواه مسلم)
عن أبى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : يقول الله تعالى الكبرياء ردائى والعظمة إزارى فمن نازعنى واحد منهما أدخلته النار- وفى رواية قذفته فى النار (رواه مسلم)

(অনুবাদ): ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে, সে (চিরস্থায়ীভাবে) জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মুসলিম)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেন: অহংকার আমার চাদর এবং মহত্ত্ব আমার পরিধেয় বস্ত্র (লুঙ্গি)। অতএব যে ব্যক্তি এ দুটির কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে, “আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।” (মুসলিম)

(খ) উত্তর দাও:

  1. الكبرياء ردائي والعظمة إزارى এর ব্যাখ্যা লেখ।
    উত্তর: এটি একটি হাদিসে কুদসি। এর ব্যাখ্যা হলো, বড়ত্ব, অহংকার ও মহত্ত্ব একমাত্র সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহরই সাজে। রূপকভাবে এগুলোকে আল্লাহর পোশাক বলা হয়েছে। মানুষ সৃষ্টির দিক থেকে দুর্বল ও মুখাপেক্ষী, তাই অহংকার করা মানুষের জন্য মানানসই নয়। যে মানুষ অহংকার করে, সে মূলত আল্লাহর খাস গুণাবলিতে ভাগ বসাতে চায়, যা মারাত্মক অপরাধ এবং এর পরিণতি জাহান্নাম।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): النار, أدخلت, يقول, رداء
    উত্তর:
    ১. يقول (ইয়াকুলু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মুজারে মারুফ, বাব: নাসারা, অর্থ: সে বলে।
    ২. أدخلت (আদখালতু): সীগাহ: ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম, বাহাস: মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: ইফ’আল, অর্থ: আমি প্রবেশ করিয়েছি/করাব।

৯। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن عمر بن أبى سلمة رضى الله تعالى عنه قال كنت غلاما فى حجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت يدى تطيش فى الصفحة فقال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم : “سم الله وكل بيمينك وكل مما يليك” – (متفق عليه)
عن جابر رضى الله تعالى عنه أن النبى صلى الله عليه وسلم أمر بلعق الأصابع والصفحة وقال إنكم لا تدرون فى أية البركة؟ (رواه مسلم)

(অনুবাদ): উমর ইবনে আবি সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে একজন বালক ছিলাম। খাবার পাত্রে আমার হাত এদিক-সেদিক ঘুরতো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, “বিসমিল্লাহ বলো, ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনের দিক থেকে খাও।” (বুখারী ও মুসলিম)
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) আঙুল ও পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, “তোমরা জানো না খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।” (মুসলিম)

(খ) উত্তর দাও:

  1. كل مما يليك (কুল মিম্মা ইয়ালিক) এর মর্মার্থ লেখ।
    উত্তর: এর অর্থ হলো “তোমার নিকটবর্তী অংশ থেকে খাও”। একত্রে খাবার খাওয়ার সময় পাত্রের এদিক-সেদিক হাত দেওয়া বা অন্যের সামনের খাবার তুলে নেওয়া শিষ্টাচার পরিপন্থি। ইসলামী আদব হলো, পাত্রের নিজের দিকের অংশ থেকে খাওয়া। এতে অন্যের রুচিতে বাঁধে না এবং খাবারের শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): سم, كل, أمر, الأصابع
    উত্তর:
    ১. كل (কুল): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার হাজির, বাহাস: আমরে হাজির মারুফ, বাব: নাসারা, অর্থ: তুমি খাও।
    ২. الأصابع (আল-আসাবিউ): ইসম বা বিশেষ্য, বহুবচন (জমা), ওয়াহেদ: اصبع, অর্থ: আঙুলসমূহ।

১০। (ক) বাংলায় অনুবাদ কর:

عن ابن عمر رضى الله تعالى عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “كل مسكر خمر وكل مسكر حرام ومن شرب الخمر فى الدنيا فمات وهو يدمنها لم يتب لم يشربها فى الآخرة “- (رواه مسلم)
عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول عام الفتح وهو بمكة “إن الله ورسوله حرم بيع الخمر” – (رواه البخارى)

(অনুবাদ): ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই খামর (মদ) এবং প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করে এবং তওবা না করে মদ্যপ অবস্থায় মারা যায়, সে আখিরাতে তা (জান্নাতের পবিত্র মদ) পান করতে পারবে না।” (মুসলিম)
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের বছর তিনি মক্কায় থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদের ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন।” (বুখারী)

(খ) উত্তর দাও:

  1. ইসলামে মদ পানের বিধান কী? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বর্ণনা কর।
    উত্তর: ইসলামে মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করা সম্পূর্ণ হারাম এবং এটি কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনে সূরা আল-মায়েদায় (আয়াত ৯০) মদকে ‘শয়তানের কাজ’ এবং ‘অপবিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বর্জন করতে বলা হয়েছে। সুন্নাহর আলোকে, রাসূল (সা.) বলেছেন, যা বেশি খেলে নেশা হয়, তার সামান্য পরিমাণও হারাম। মদ পানকারীর জন্য দুনিয়ায় শাস্তি (হদ) নির্ধারিত এবং পরকালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
  2. তাহকিক কর (যে কোনো দুটি): مسكر, يدمن, سمع, حرم
    উত্তর:
    ১. حرم (হাররামা): সীগাহ: ওয়াহেদ মুজাক্কার গায়েব, বাহাস: মাজি মুতলাক মারুফ, বাব: তাফয়িল, অর্থ: তিনি হারাম করেছেন।
    ২. مسكر (মুসকিরুন): ইসমে ফায়েল, অর্থ: নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য।

গ বিভাগ

(১৩নং প্রশ্নসহ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান—৫x২=১০

  1. হাদিস কাকে বলে? উহার আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য লেখ।
    উত্তর: ‘হাদিস’ (حديث) শব্দের আভিধানিক অর্থ কথা, বাণী বা সংবাদ। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতিকে হাদিস বলে। সাহাবীদের কথা ও কাজকেও অনেক সময় হাদিস (মাওকুফ) বলা হয়।
    আলোচ্য বিষয়: ইলমে হাদিসের আলোচ্য বিষয় হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সত্তা, তাঁর সুন্নাত, আমল এবং রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) অবস্থা ও বিশ্বস্ততা।
    উদ্দেশ্য: এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কুরআনুল কারীমের সঠিক ব্যাখ্যা অনুধাবন করা, শরীয়তের বিধানাবলি জানা এবং রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
  2. মতন অনুসারে হাদিসের প্রকারসমূহ সংজ্ঞাসহ লেখ।
    উত্তর: মতন বা মূল পাঠের দিক থেকে হাদিস প্রধানত তিন প্রকার:
    ১. কওলী হাদিস (الحديث القولي): রাসূলুল্লাহ (সা.) মুখনিঃসৃত যে সব বাণী বা কথা বর্ণনা করেছেন, তাকে কওলী হাদিস বলে।
    ২. ফিয়েলী হাদিস (الحديث الفعلي): রাসূলুল্লাহ (সা.) যে সব কাজ নিজে করেছেন বা সাহাবায়ে কেরাম তাঁর যে সব কাজের বিবরণ দিয়েছেন, তাকে ফিয়েলী বা কর্মগত হাদিস বলে।
    ৩. তাকরিরী হাদিস (الحديث التقريري): সাহাবায়ে কেরাম কোনো কাজ করেছেন বা কথা বলেছেন আর রাসূলুল্লাহ (সা.) তা দেখেছেন বা শুনেছেন, কিন্তু বাধা দেননি বরং মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাকে তাকরিরী বা সম্মতিসূচক হাদিস বলে।
  3. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত হাদিসগুলো ব্যতিত সিলেবাসের মধ্য হতে একটি হাদিস রাবীর নামসহ হরকত দিয়ে লেখ।
    উত্তর:

    عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ. (متفق عليه)

    অনুবাদ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে কোনো আমানত রাখা হয়, সে তার খেয়ানত করে। (বুখারী ও মুসলিম)

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now